নিগৃহীতা
পর্ব-৩
সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)
অনন্যা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েই আছে। আজ সতেরো রমজান, বাকী ষোলো দিন সে রোজা রেখেছে কি না এটা নিয়ে নানান কথা বলতে লাগলো রাসেলের মা। অনন্যা মিনমিন করে শুধু বলল,
“আম্মা আমার মাসি……
” চুপ থাকো বেয়াদব মেয়ে।এই রুনু কল দিয়েছিস?”
রাসেলের বোন সত্যি কল দিয়ে অনন্যার বাবা মাকে ডাকলো। মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে কল পেয়ে ছুটে এলেন। অনন্যা তখনো মাথা নিচু করে সবার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কুশলাদি বিনিময় করার প্রয়োজনবোধ করলেন না রাসেলের পরিবার।
“আপনার মেয়ে আপনারা নিয়ে যান।রোজার দিনে ঘরে বসে চুরি করে খাবার খাচ্ছিলো।মেয়েকে নিয়ে ইচ্ছে মতো গিলিয়ে তারপর আমার বাড়ি পাঠাবেন।”
অনন্যার মা বাবা মেয়ের দিকে তাকালেন।লজ্জায় নিচু হয়ে থাকা মেয়েটার মুখে তখন এক আকাশ অভিমান এসে জমলো।অনন্যার মা তাকে ডেকে বললেন,
“কি হয়েছে অনন্যা?তুমি কি খাবার খেয়েছো?”
অনন্যার চুপ থাকাটা সবাই বেশ বুঝতে পারলো।এরপর শুরু হলো তার নামে নানান বিষয়ে নালিশ দেওয়া।রাতে রাইস কুকারে ভাত বসিয়েছিল সেটাও কারণ সে বউ মানুষ হয়েও এক বেলা ভাত রান্না করতে এতো কেন অনীহা তার?
সকল অভিযোগ শুনে অনন্যার ভাই এবার বলল,
“আচ্ছা ঠিক আছে আমার বোনের দোষ। সব শুনলাম এবার বলুন আপনারা কি চাইছেন?রাসেল কোথায়?যার বউকে নিয়ে মা বোনেরা শালিসি করছে সে কোথায়?”
“আমার ছেলে তোমার বোনের মতো গান্ডেপিন্ডে গেলে না।এই রাক্ষস পালতে গেলেও টাকা কামাইতে হয়।”
“আমার বোন ঠিক কি খাচ্ছিলো?”
“রুটি খাচ্ছিলো।”
“রুটি না মা। ডাল পরোটা।” শুধরে দেয় রাসেলের বোন। সেটা দেখে স্মিত হাসলো অনিক।অনন্যার হাত ধরে বলল,
“তোমার কি মাসের সেই দিনগুলো চলছে?রাসেল জানে?”
অনন্যা মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলো।অনিক কিছু বলার আগেই রাসেল ভিতরে প্রবেশ করলো।হাত ভর্তি ইফতারি আর রাতের খাবার নিয়ে। বোনেরা আসবে সে জানতো কিন্তু শ্বশুর বাড়ির লোকজন হুট করে? কিছু বলার আগেই রাসেলের মা আবারো যা ইচ্ছা বলা শুরু করলো।কথায় কথায় এটাও বলে ফেলল এই মেয়েকে আজকেই তালাক দিয়ে দিতে।তার বড় বোনের মেয়েটাকেই আনবে। রাসেলের তো আগে থেকেই খালাতো বোনকে পছন্দ ছিল। মাঝখানে দেখে শুনে নিজেই এই মেয়ে এনেছিল। কে জানতো দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পুষছে? এখনো বোন নিজের মেয়েটাকে দিতে রাজি আছে। রাসেলের বিয়ে নিয়ে তো আপত্তি নেইই উপরন্তু একটা ফ্ল্যাট ও দিবে বলেছে। অনন্যা কিছুই বলতে পারছে না।শক্ত করে ভাইয়ের হাত ধরে রইল।বাবা মাও চুপচাপ বসে আছে। অনন্যা জীবনের সবচেয়ে বড় ভয়টা পাচ্ছে।তাকে যদি আজ এই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় তাহলে সে কোথায় যাবে? মনে পড়ে গেল বাবার বলা বিয়ের আগের কথাগুলো।বাবা তাকে মাঝেমধ্যেই বলতো
“হোক না বিয়ে, বিয়ের পর প্রতিদিন শালিস বসবে। দুই দিন পর এনে ফেরত দিয়ে যাবে।”
সত্যিই আজ তাকে নিয়ে বিচার বসেছে, তালাকের কথাও চলছে।এই কথার ভয়েই সে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করে নিয়েছে।অনেকে বলে এই যুগে এসে কে এসব সহ্য করে? কিন্তু অনন্যাকে করতে হচ্ছে।বিয়ের আগে চাকরিতে ঢুকেছিল কিন্তু সেখানেও তো নানান পরিস্থিতি ছিল।ছেলে কলিগদের অধিকাংশ কথা ছিল মেয়েদের চাকরি কেন করতে হবে? কিন্তু তারা বুঝতে চায়না যে চাকরিটা কেউ শখ করে করে না। নানান কথার মাঝে রাসেলের মায়ের আরেকটা কথা তার কানে বাজলো,
“মেয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যান। আমার ছেলের দেওয়া গয়নাগাটি খুলে রেখে যান।”
রাসেল মাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে কিন্তু লাভ হচ্ছে না।রাসেলের বাবার কোনো উপায় নেই।সে যদি ছেলের বউয়ের পক্ষে কথা বলে তাহলে রাসেলের মা এক মুহুর্তে তাদের সম্পর্ককে নোংরা করে ফেলবে। তাই বাধ্য হয়ে চুপ রইল।রাসেল দীর্ঘশ্বাস ফেলে অনিককে বলল,
“ভাইয়া একটু এদিকে আসুন।”
মিনিট দশেক পর অনিক এবং রাসেল ফিরে এলো।তখনো তর্ক বির্তক চলছেই।অনন্যা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। কই যাবে সেটাই হয়তো ভাবছিল।বাড়ি ফিরলে বাবার কথা, সমাজের কথা শুনতে হবে।বেঁচে থাকতে পারবে না। তারচেয়ে রাসেলের মায়ের পায়ে ধরে মাফ চেয়ে নিবে না হয়।আর কোনো দিনও রোজার মধ্যে সে কিছুই খাবে না। জীবন যদি না থাকে মান সম্মান দিয়ে কি করবে? ভাবতে ভাবতেই অনিক এসে বলল,
“আন্টি আর চেল্লাচিল্লি করবেন না।ওকে আমরা নিয়ে যাচ্ছি।”
অনন্যা তার ভাইয়ের দিকে তাকালো।সে ভাইকে ডেকে বলল,”এক মিনিট শুনবে ভাইয়া?”
অনিককে খানিকটা দূরে ডেকে নিয়ে সবটা বলল।রাসেল কীভাবে আড়ালে সাপোর্ট দেয় সবকিছুই বলল।অনিক ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে বোনের দিকে।তার বোন তাকে এটাও বলল সে পায়ে ধরে মাফ চেয়ে নিবে। এরপর ওরা যা বলবে তাই শুনবে।
“তবুও বাড়ি যাবি না?”
“বাবা যদি বকে?তুমি তো জানো আমার এসব কথা নিয়ে আবার যদি মা-বাবার ঝগড়া হয়?আজ গেলে যদি ওরা সত্যি তালাক দিয়ে দেয়?আমি মাফ চেয়ে নিবো ভাইয়া।রাসেল অনেক ভালো।”
“আর যদি বলি সে নিজেই তোকে নিয়ে যেতে বলেছে?তাহলে?আমি তাকে বুঝাচ্ছিলাম তোকে সাপোর্ট করতে আর যদি বলি সেই বলল ” ভাই আপনার বোনকে নিয়ে যান এই মুহুর্তে। তখন বিশ্বাস করবি?”
চলবে (আগামী পর্বে পাক্কা শেষ করে দিবো।)
Share On:
TAGS: নিগৃহীতা, সাদিয়া খান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিগৃহীতা পর্ব ১
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৯
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৭
-
নিগৃহীতা পর্ব ২
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৮
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৬
-
নিগৃহীতা গল্পের লিংক
-
বি মাই লাভার পর্ব ২০
-
ও ফুল গল্পের লিংক
-
ও ফুল পর্ব ১