নিগৃহীতা
পর্ব-২
সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)
ক্ষুধা পেটে নিয়ে অনন্যা নিজের রুমে ফিরে এলো।বিছানায় রাসেল ঘুমিয়ে আছে। পাশে গা এলিয়ে দিতেই ওর উপর দিয়ে হাত রেখে বলল,
“এতো রাতে কই গিয়েছিলে?”
“রান্নাঘরে ছিলাম।”
আর কোনো কিছু না বলে ঘুমিয়ে গেল রাসেল।কিন্তু ঘুম এলো না অনন্যার। আবার ঘন্টা দুই পর শাশুড়ির ডাক পড়তেই রাসেল বলল,
“মা ও তো মাত্র ঘুমালো।”
রাসেলের মা কোনো জবাব না দিয়ে রান্নাঘরে গেলেন গজগজ করতে করতে।চোখ উপচে পানি আসছে।এই ছেলে তার বউয়ের হয়ে কথা বলল? এখন রাতের রান্নাটা সে করবে? রান্নাঘরের তালা খুলে অবাক হলেন। অনন্যা সব করেই তবে ঘুমিয়েছিল? পাতিলে গরুর মাংস রান্না করা, দুধ জ্বাল দেওয়াও আছে।কেবল ভাত রান্না করলেই হবে। তবুও এই মুহুর্তে চাল ধুবে কে? নবাবের বেটি ঘুমাবে আর তাকে ভাত রেঁধে খাওয়াবে কে? রাইস কুকারে হাত দিতেই দেখলো ভাতটাও রান্না করা আছে।এক ঘন্টা পর খেলেও গরম থাকবে।
অপর দিকে হাত বাড়িয়ে এলার্ম ঘড়িটা বন্ধ করলো রাসেল।আর ঘন্টা খানেক সময় আছে।আস্তে আস্তে অনন্যাকে ডেকে বলল,
“উঠো অনন্যা।মা না হলে রাগ করবে।”
অনন্যা উঠে ঘড়ি দেখে তড়িঘড়ি করে বের হলো। রাতে নামাজ পড়ে রান্নাঘরে পা দিতেই পারেনি।তার আগেই সেখানে তালা দিয়েছে, এখন এই এক ঘন্টায় কি করবে সে? কান্নায় হাত পা অসাড় হয়ে আসছে তার। শাশুড়ির দরজায় ধীরে ধীরে আঘাত করে চাবি চাইলো সে। রাসেলের মা খানিকটা বিরক্তি নিয়ে চাবি হাতে দিয়ে বলল,
“বউ মানুষের এতো সুখ ভালো না।রাতে না ঘুমালে কি হয়?আমরা না ঘুমিয়ে রোজায় রান্না করিনি?”
অনন্যা কথা না বাড়িয়ে দ্রুত চলে গেল রান্নাঘরে। চাবি দিয়ে তালা খুলে অবাক হয়ে গেল।সব গোছানো অবস্থায় আছে।রান্নাও করা আছে। সে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল খানিক সময়। তারপর চুলোয় তরকারি, দুধ গরম করে টেবিলে খাবার দিলো।সেহেরী খাওয়ার পর টেবিল গোছাতে গোছাতেই রাসেল এসে তার মায়ের সামনে অনন্যাকে বলল,
“আমার ভীষণ মাথা ব্যথা। মাথা টিপে দিবে আসো। না হলে সারাদিন কাজ করতে পারবো না।”
রাসেলের মা ছেলের কথা শুনে বলল,
“আয় বাবা আমি দিচ্ছি।অনেক ব্যথা?”
“মা তুমি তো জানো ব্যথা হলে ঘন্টা দুই মাথা টিপে না দিলে ঠিক হবে না।তুমি বিশ্রাম নাও।”
অনন্যা কাজ ওভাবেই রেখে ঘরে এলো।রাসেল বিছানায় শুয়ে আছে। পাশে বসে মাথায় হাত দিতেই বলল,
“শুয়ে পড়ো অনন্যা।”
“আপনার না মাথা ব্যথা?”
রাসেল হাত ধরে তাকে পাশে শুইয়ে দিয়ে বলল,
“ঘুমাও মেয়ে।আমি যতটুক পারি আমাকে সেটুক করতে দাও।”
“রান্না আপনি করেছেন?এজন্য মায়ের ঘরের দরজা আটকে রেখেছিলেন?”
“এতো বেশি কথা বলে না মেয়ে।ঘুমাও এখন।সকালে আমি ডেকে দিবো।”
অনন্যার চোখের পানিতে বালিশ ভিজে গেল।কিন্তু এবার কষ্টে নয় স্বস্তিতে। প্রায় বেলা আটটার দিকে বিছানা ছাড়লো অনন্যা।তলপেট ধরে বসে পড়লো সাথে সাথেই। বুঝতে বাকী রইল না আগামী সাত দিন আর রোজা রাখাটা হবে না। রাসেল ফ্রেশ হয়ে অফিসে যাওয়ার সময় ওর দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবলো।অফিসে চলে যাওয়ার আগে একটা ব্যাগে করে কিছু খাবার রুমে এনে দিয়ে বলল,
“মাকে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। আজ রান্নাও করবে না।আমি বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসবো।”
“কিন্তু আম্মা.?”
“আমি ম্যানেজ করে নিবো।বিশ্রাম নাও।”
তবুও অনন্যা উঠে ধীরেধীরে প্লেট পরিষ্কার করে হাতের কাজ শেষ করলো।বেলা তখন দশটা,কেউ উঠেনি।এক গ্লাস পানি নিয়ে রুমে এলো।খাবার, ঔষধ খেয়ে চোখ বন্ধ করতেই ঘুম নেমে এলো চোখে।ঘুম ছাড়লো তখন যখন রাসেলের বোন এসেছে। তাদের বাচ্চাদের জন্য রান্নাবান্না করার ডাক পড়লো। ওদের জন্য নুডুলস রান্না করে ঘরে ফিরে এলো অনন্যা।ফোনে রাসেলের ম্যাসেজ
“দুপুরের খাবার খেয়ে নিও।ব্যথা কমেছে? শোনো মেয়ে তুমি খাবার না খেলে আবার সেটা ফেলে দিতেও কিন্তু আমাকেই যেতে হবে।আর আমার কিন্তু খাবার অপচয় পছন্দ নয়।”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে অনন্যা খাবার বের করে মুখে দিতেই বাইরে থেকে রাসেলের বড় বোনের মেয়ের কণ্ঠ শোনা গেল,
“নানু, নানু দেখো মামী রোজা রেখে ঘরে বসে খাচ্ছে।দেখে যাও।”
রাসেলের মা দৌড়ে রাসেলের রুমে প্রবেশ করলো।অনন্যার হাত থেকে খাবারের প্যাকেটটা নিয়ে বলল,
“রুনু ওর বাপ মারে খবর দে।এমন নাস্তিক মেয়েকে আমি আমার ঘরে আর রাখবো না।এক মুহুর্ত না।”
চলবে(আগামী পর্বে শেষ করে ফেলবো।)
Share On:
TAGS: নিগৃহীতা, সাদিয়া খান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৬
-
বি মাই লাভার পর্ব ২০
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৭
-
নিগৃহীতা পর্ব ১
-
ও ফুল পর্ব ১
-
ও ফুল গল্পের লিংক
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৯
-
নিগৃহীতা গল্পের লিংক
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৮
-
নিগৃহীতা পর্ব ৩