নয়নারএমপিসাহেব
পর্ব:- ৭
লেখনীতে:- Sanjana
সন্ধ্যা ছয়টা,,,,
ক্রমাগত হৃদয়ের ফোনে কল আসছে। স্ক্রিনে বারবার ভেসে উঠছে অনিমা বেগমের নাম। এতক্ষণে একশো বারেরও বেশি কল পড়ে গেছে হয়তো, কিন্তু হৃদয় একবারের জন্যও ফোনটা ধরেনি। উল্টো ঘুমানোর আগে তরীকেও কঠোর গলায় বলে দিয়েছে,,,
__কারোর ফোন ধরবি না।
ভয়ে তরী ফোনের দিকে তাকানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারলোনা।
ঘরের ভেতর তখন নিস্তব্ধতা,,,,
হৃদয় এখনও ঘুমিয়ে আছে। একেবারে গভীর ঘুম। দুপুরের পর থেকে একই ভঙ্গিতে পড়ে আছে সে, উঠবার কোনো লক্ষণ নেই। সেই সাথে তার মাথা কখন যে তরীর কোলের ওপর এসে ঠেকেছে, তরী নিজেও ঠিক বুঝতে পারেনি। তরী ভয়ে দুবার ডেকেছিল । কিন্তু দুবারই ঘুমের ঘোরে হৃদয় বিরক্ত কণ্ঠে ধমক দিয়েছে ওকে। তাই তরী ও আর সাহস করে ডাকতে যায়নি। সেই থেকে তরী চুপচাপ বসে আছে। এক হাতে হৃদয়ের মাথা, আরেক হাতে ধীরে ধীরে তার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তিন ঘণ্টা ধরে একই কাজ করে চলছে ও, অথচ আশ্চর্য জনিত ভাবে একটুও বিরক্তি নেই ওর মুখে। ক্লান্তি নেই, অস্থিরতাও নেই যেন এই কাজটাই তার আজকের একমাত্র দায়িত্ব। ও একইভাবে হৃদয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে যেতে লাগল।
সেই মুহূর্তে হৃদয় ঘুমের ভেতর আরও কাছে সরে আসলো ওর। তবে তরীর কোল আঁকড়ে ধরলো না, শুধু ভারী নিঃশ্বাস ছাড়লো। তরীর বুকের ভেতর কেমন একটা কেঁপে উঠলো। ভয়? না কি মায়া? নাকি অজানা কোনো টান? ও বুঝতে পারল না।
নিজের অজান্তেই আঙুলের স্পর্শ আরও কোমল করে তুলল। চোখে মুখে বিরক্তির লেশমাত্র নেই। বরং কোথাও একটা অদ্ভুত স্বাভাবিকতা। যেন এ কাজ ও আজীবন করে এসেছে। বোকা তরী বুঝতে পারলো না,,,
যেই মানুষটাকে ও এত অপছন্দ করে, যার নাম শুনলেই ভয়ে বুক শক্ত হয়ে যায়, তার প্রতি কেন এতটুকু বিরক্তি নেই ওর।
সেদিনের পর কেটে গেল আরও দুটো দিন আজ অনিমা বেগম আর ইব্রাহিম খানের একত্রিশতম বিবাহবার্ষিকী। তাই খান বাড়িটা আজ সেজে উঠেছে জৌলুসে । ভোরের আলো ফোটতেই বাড়ির ভেতরে ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে। বিশাল গেট থেকে শুরু করে ড্রইংরুম, সিঁড়ির রেলিং, বারান্দা , সব জায়গায় সাদা আর সোনালি ফুলের সাজ। ঝাড়বাতিগুলো ঝকঝক করছে, মেঝেতে কারুকার্য করা কার্পেট, বাতাসে মিশে আছে আতরের আর ফুলের মিষ্টি গন্ধ। যেন পুরো বাড়িটাই আজ উৎসবের সাজে সেজেছে। সেই সাথে সকাল সকালই হৃদয়দের সব এসে উপস্থিত হয়েছেন এই বাড়িতে।
কেউ লনে বসে গল্পে মেতেছে, কেউ আবার ভেতরে ঢুকে অনিমা বেগমকে ঘিরে ধরেছে। অনিমা বেগমের মুখেও হাসি লেগে আছে। সেই সাথে কিছুটা লজ্জা ভাব। ছেলে বাবার পাগলামোতে উনার লজ্জায় পড়তে হয় বারবার। বুড়ো বয়সে এসে এত ঘটা করে বিবাহবার্ষিকী পালন করার কোনো মানে হয়? কিন্তু উনার কথা কে শুনবে।
সন্ধ্যা সাতটা,,,
বাড়িতে আমন্ত্রিত সবাই আসতে শুরু করে দিয়েছে। অনিমা বেগম সবার সাথেই হেসে কথা বলছেন তবে সেই হাসির আড়ালে একটা অদৃশ্য অস্থিরতাও লুকিয়ে আছে যা ইব্রাহিম খান ঠিকই খেয়াল করলেন। অনিমা বেগমের চোখদুটো বারবার দরজার দিকে চলে যাচ্ছে। হৃদয়ের ব্যাপারে কেউ কিছু জিজ্ঞেস না করলেও, উনার বুকের ভেতরটা অস্থির অস্থির লাগছে। সেই দুপুর বেলা ছেলেটা কার সাথে যেন রেগে বন্দুক নিয়ে বেড়িয়েছে এখনও ফিরেনি। সেই দুপুর থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে আছেন উনি, একবার রিং যায় তো একবার স্ক্রিন নিভে যায়। কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া নেই।
এইদিকে ইব্রাহিম খান চুপচাপ বসে আছেন, সবার মাঝে থেকেও যেন একটু আলাদাভাব। রাজনীতির মঞ্চে যিনি অটল, আজ তিনি বাবার মতোই অস্থির। বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন, মাঝে মাঝে অনিমা বেগমের মুখের দিকে, সব বুঝেও কিছু বলছেন না।
অতঃপর অনিমা বেগম স্বামীর দিকে এগিয়ে আসলেন,,,,
__ ছেলেটা এখনো আসছে না কেন?
জবাবে ইব্রাহিম খান হালকা হেসে বললেন,,,
__আসবে। ও একটু কাজে ব্যস্ত। তুমি এত চিন্তা করো না। কিন্তু উনার কণ্ঠস্বরেই ধরা পড়ছে, এই আশ্বাসটা তিনি নিজেকেই বেশি করে দিচ্ছেন।
রাত আটটা হৃদয়ের রুমে,,,,,
__কাকে মেরে এসেছো তুমি আবার?
ইব্রাহিম খানের কণ্ঠটা গম্ভীর শোনালো। কিন্তু তবুও তার ভেতরে লুকোনো ছিল এক বাবার গভীর উদ্বেগ। অতিথিদের ভিড়, হাসিআনন্দ আর শুভেচ্ছার মাঝেই যখন দেখলেন ছেলে বাড়ি ফিরেছে। তিনিও ছেলের পিছু আসলেন।
সন্ধ্যায় উনি যখন সব গেস্টদের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত ছিলেন তখনই উনার কানে খবর আসে। হৃদয় দুজন লোককে শুট করেছে। যথাসম্ভব তারা বিপক্ষী দলের কেউ হবে। উনার কানে এই খবরটা পৌঁছাতেই, বুকের ভেতরটা অস্থির হয়ে ওঠে।ইলেকশন এগিয়ে ছেলের এই কর্মকাণ্ড ওনাকে বেশ চিন্তায় ফেলছেন।
হৃদয়ের জবাব না পেয়ে তিনি আবারও বললেন,,,
__তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করছি আমি হৃদয়। নাকি এখন জবাব দেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করছো না?
হৃদয় এইবার ধীরে ঘুরে তাকাল তার বাবার দিকে। ওর দৃষ্টিতে না আছে ভয়, না আছে অনুশোচনা, আছে শুধু এক অদম্য দৃঢ়তা।
অতঃপর সে নিম্নস্বরে বলল,,,,
__এইসব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না, আব্বু। আমি যা করেছি, জনস্বার্থেই করেছি।
ছেলের কথায় ইব্রাহিম খান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,,,
__সে না হয় বুঝলাম। কিন্তু ইলেকশন মাথার উপর! এখন এইসব করা কি ঠিক হচ্ছে? পরে হিতে বিপরীত হয়ে গেলে? অলরেডি তোমার নামে দুটো কেস চলছে। এখন এসব জানাজানি হলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। তার প্রভাব পড়বে ইলেকশনে।
জবাবে হৃদয় ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,,,
__কিছু হবে না। তুমি বৃথাই চিন্তা করছো। ইব্রাহিম খান হৃদয় কাঁচা কাজ করে না আব্বু। সালারা বেশি বেড়ে গিয়েছিল, তাই পাখাগুলো ছাঁটিয়ে দিলাম।
ছেলের মুখে এইরকম ভাষা শুনে ইব্রাহিম খানের কান ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগলো, উনার এত বছরের জীবনে উনি কখনোই নিজের বাবার সামনে অভদ্র ভাষায় কথা বলেনি, আর সেখানে তার ছেলে এইরকম অভদ্র কিভাবে হয়ে গেল উনি ভেবে পান না।
ইব্রাহিম খানের ভাবনার মাঝেই হৃদয় আবার বলে উঠলো,,,
__তোমার আর কিছু দরকার না থাকলে এখন যেতে পারো । আমি টায়ার্ড ।
__তুমি নিচে যাবে না? গেস্টরা সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।
পরমুহুর্তেই হৃদয় নির্লিপ্ত গলায় বলল,,,,
__তুমি যাও, আমি আসছি। আর নিচে গিয়ে বাঁদরছানাটাকে আমার রুমে পাঠিয়ে দিও। আর এক কাপ কফি যেন নিয়ে আসে সাথে।
বাঁদরছানা….
এই নামটা শুনেই ইব্রাহিম খান বুঝে গেলেন, হৃদয় কার কথা বলছে।
অতঃপর তিনি ভোঁতা মুখে বললেন,,,
__তরীমা এখন সবার সাথে আনন্দ করছে। এখন আসতে পারবে না হয়তো।
মুহুর্তেই হৃদয়ের চোখে হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠল।
সে ধাঁড়ালো গলায় বলে উঠলো,,,
__আনন্দ করছে? নাকি তোমার ভাইয়ের ছেলের পিছু পিছু ঘুরছে?
এবার ইব্রাহিম খান বিরক্ত হয়ে বললেন—
__তোমার মাথায় সমস্যা আছে। সাইকাট্রিস্ট দেখানো দরকার।
সাথে সাথেই হৃদয় ধীরে ভ্রু কুঁচকে তাকালো উনার দিকে।
__আমার দিকে এইভাবে তাকিয়ে লাভ নেই। আমি কিছু করতে পারবো না এই বিষয়ে। সবকিছুতেই জোরজবরদস্তি করতে তুমি উস্তাদ হয়ে গেছো।
জবাবে হৃদয় কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,,,
__তোমার ভাইয়ের ছেলেকে বলে দিও, আমার জিনিসে নজর দিতে এলে সেই চোখ আমি উপড়ে ফেলবো। এন্ড আই মিন ইট। তার কণ্ঠ ঠান্ডা, কিন্তু শব্দগুলো ছিল ছুড়ির মতো ধারালো।
পরপর হৃদয় আবারও বলল,,,
__তখন এই রক্তের সম্পর্কেরও তোয়াক্কা করবো না আমি। কারণ ইব্রাহিম খান হৃদয় তার জীবনে শুধুমাত্র একজন ছাড়া আর কারও ধার ধারে না।
ছেলের এমন কথা শুনে আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালেন না ইব্রাহিম খান। অতিষ্ঠ ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বেড়িয়ে গেলেন ছেলের ঘর থেকে। সোজা চললেন লিফ্টের দিকে । তিনি জানেন উনার এই ঘাড় তেড়া ছেলেকে কিছু বলে লাভ হবে না ।
ঝাড়বাতির আলোয় ঝলমল করছে বিশাল হলরুম। হাসি, গল্প, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, শুভেচ্ছার কোলাহলে খান বাড়ি যেন উৎসবের রাজ্য।
আজ হৃদয়দের বাড়িতে যেন পুরো খান বংশটাই হাজির। হৃদয়ের চার দাদার সন্তান, আবার তাদের সন্তানসহ সবাই । চৌদ্দ গুষ্টি বলতে যা বোঝায় তার সবই উপস্থিত আরকি। শুধু সিয়া আর কেয়ার পরিবার নেই। ওরা কানাডায় থাকায় আসতে পারেনি। সেই সাথে হৃদয়ের সব কাজিনকও আজ উপস্থিত। নোহান, আরিশা, ইয়ান, ইজাজ, প্লাবন, স্নেহা, ইনায়া কেউই বাদ নেই। এই বিশাল খান পরিবারে হৃদয় যেন অঘোষিত সম্রাট। প্লাবন ছাড়া বাকি সবাই একপ্রকার তার ভক্ত। হৃদয় যেভাবে বলে, তারা ঠিক সেভাবেই চলে। কোনো প্রশ্ন ছাড়া, কোনো দ্বিধা ছাড়া। তবে এক্ষেত্রে আরিশা আর নোহানের সাথে হৃদয়ের সম্পর্কটা সম্পূর্ণ আলাদা।
ওরা শুধু কাজিন নয়, একদম বন্ধুর মতো। হৃদয়ের রাগ, দুর্বলতা সবকিছু এই দুজন খুব ভালো করেই জানে। এইক্ষেত্রে বলা যায় হৃদয়ের বিশ্বস্ত লোকদের তালিকায় তার এসিস্ট্যান্ট তাহির, আর তার দুই ছায়াসঙ্গী শামিম আর দিশাসহ নোহান আর আরিশাও রয়েছে। তবে শামিম আর দিশা হল হৃদয়ের বাম হাত আর ডান হাত। ওরা যাই করে, তিনজন একসাথে করে।
কাজিনদের মধ্যে বড় ভাই হিসেবে হৃদয় সবাইকে ভালোবাসলেও। তার এবং প্লাবনের সম্পর্কটা ততটা ভালো না বললেও চলে। কেমন এক দ্বন্দ্ব যেন চলে সারাক্ষণ, তার সঠিক কারণ কেউ জানে না। তবে এটা পরিষ্কার , এই শীতল যুদ্ধটা মূলত প্লাবনের দিক থেকেই। হৃদয় প্লাবনকে নিয়ে একেবারেই আগ্রহী নয়, যেন তার অস্তিত্বই তেমন গুরুত্বহীন। অন্যদিকে নোহান প্লাবনের ঠিক উল্টো। হৃদয়ের প্রতিটা কথা তার কাছে যেন আদেশের মতো।
রাত নয়টা বাজতে চললো, সবাই হৃদয়ের অপেক্ষায়, তখনই ভারী পায়ের শব্দে সিঁড়ি মুখর হয়ে উঠল। হৃদয় ধুপধাপ পায়ে নিচে নামছে।
পরনে এমপিদের মতো স্মার্ট ফরমাল পোশাক।
তার হাঁটার স্টাইলেই ফুটে উঠছে তার কর্তৃত্ব।
মুহূর্তেই উপস্থিত সবার দৃষ্টি গিয়ে আটকে গেল তার ওপর। বিশেষ করে তরুণীদের চোখ চকচক করে উঠল। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেশিরভাগ তরুণীর একমাত্র ক্রাশ— এমপি ইব্রাহিম খান হৃদয়।
তবে বলে রাখা ভালো, এখানে উপস্থিত তরুনীদের গার্ডিয়ানরা হয় রাজনৈতিকভাবে ইব্রাহিম খানের পরিচিত, নয়তো ইব্রাহিম খানের বন্ধু।
ঠিক সেই সময় এই ভিড়ের মাঝে তরী একপলক তাকাল হৃদয়ের দিকে, মুহুর্তেই ওর দৃষ্টি হৃদয়ের দিকে আটকে গেল।
আর এদিকে হৃদয়ের দৃষ্টি? সিঁড়িতে পা রাখার পর থেকেই নিবদ্ধ ছিল শুধু তরীর ওপর। তরী দাঁড়িয়ে আছে একদম প্লাবনের কাছাকাছি। প্লাবন আসার পর থেকেই যেন তরী তার পিছু পিছু ঘুরছে, যা শামীম, দিশা , আরিশা এবং নোহানের পছন্দ হচ্ছে না।
হৃদয় নিচে নামতেই সবাই তাকে ঘিরে ধরতে চাইল। সকলেই হৃদয়ের সাথে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করলো। কিন্তু হৃদয়ের সেসবে খেয়াল নেই। তার চোখে তখন আগুন। আর সেই আগুনের কেন্দ্রবিন্দু হল তরী। তরী অবশ্য কিছুই বুঝতে পারছে না। ও শুধু অবাক হয়ে হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
আর এই দিকে প্লাবন হৃদয়ের দৃষ্টি বুঝে শয়তানি হাসি হেসে ধীরে ধীরে তরীর হাত ধরতে যাবে….
ঠিক তখনই…..
গর্জে উঠল হৃদয়ের কণ্ঠস্বর—
__নয়নননননন…..
মুহূর্তেই তরী ভড়কে গেল। ও আবার কি করলো? তরী দ্রুত চোখে একবার হৃদয়কে দেখছে তো একবার ইব্রাহিম খানকে।
পরের মুহুর্তেই হৃদয় কঠোর আদেশের স্বরে বলল,,,
__এখনি এইখানে এসে দাঁড়াবিইইই।
ধমক শুনে আর এক মুহূর্তও দেরি করল না তরী। ছুটে গেল সোজা হৃদয়ের দিকে। পেছন থেকে প্লাবন ওকে ডেকে চলেছে সেইদিকে ওর খেয়াল নেই।
চলবে।
Share On:
TAGS: নয়নার এমপি সাহেব, সঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৫
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৬
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ২
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৩
-
নয়নার এমপি সাহেব গল্পের লিংক
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৪