Golpo romantic golpo নয়নার এমপি সাহেব

নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৩০


নয়নারএমপিসাহেব

পর্ব:- ৩০
লেখনীতে:- Sanjana’s – গল্পঝুড়ি

__ নয়ন দরজা খোল।

দরজার ওপার থেকে হৃদয়ের কণ্ঠ ভেসে এল মুহুর্তেই। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই তরীর। ঘরের ভেতরে বিছানার উপর গুটিসুটি মেরে বসে আছে ও। মুখের উপর শক্ত করে বালিশ চেপে ধরে আছে , যেন কান্নার শব্দটুকুও বাইরে না যায়। আজকের এই ঘটনাটা ওর সংকীর্ণ হৃদয়টাকে যেন টুকরো টুকরো করে দিয়েছে।

ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত ওর আম্মু কখনো ওকে মারেনি। কিন্তু আজ? এতগুলো মানুষের সামনে নীলা চৌধুরী ওকে মেরেছে বিনা কোনো অপরাধে। তার থেকেও তরীর এইটা ভেবে কষ্ট হচ্ছে যে ওর আম্মু ওকে নয়, ঐ মিথ্যাবাদী প্লাবনকে বিশ্বাস করেছে‌।

মুহুর্তেই তরীর চোখ আবার জ্বালা করে উঠল। কান্নায় তার চোখ দুটো ইতিমধ্যেই লাল হয়ে ফুলে গেছে। যেহেতু ওর চোখে এলার্জি আছে, তাই একটু কান্নার করলেই ওর চোখগুলো লাল হয়ে ফুলে যায়।

একদিকে তরী মরিয়া হয়ে কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করছে। হৃদয় যেন কিছুতেই শুনতে না পারে।

অন্যদিকে হৃদয় কি এত সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার মানুষ? তার উপর দরজার ওপারের মানুষটা তার প্রিয় নারী , সেক্ষেত্রে তো আরও নয়।

অতঃপর হৃদয় আবারও দরজায় কড়া নেড়ে নরম গলায় বলল,

__ বাবুই দরজা খোল একবার, প্লিজ।
কিছুক্ষণ থেমে সে আবার বলতে লাগল এবার তার গলায় সত্যিকারের অনুতাপ।

__ আচ্ছা! মনির তরফ থেকে আমি সরি বলছি তোকে।আমার তোর প্রতি খেয়াল রাখা উচিত ছিল। তুই একবার জাস্ট দরজাটা খোল প্লিজ।
হৃদয়ের কণ্ঠ আরও নরম হয়ে এল এইবার, অতঃপর সে আবারও বলল,

__ আজকের এই দিনটায় অন্তত তুই নিজেকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে নিস না! একবার কথা বল আমার সাথে?

এইদিকে হৃদয়ের কথাগুলো যেন ধীরে ধীরে তরীর কানে গিয়ে লাগল। মুহুর্তেই ওর মাথার টনক নড়লো, এতকিছুর মধ্যে ও আসল ঘটনাটা ভুলতেই বসে ছিল।

অতঃপর বিছানায় বসে থাকা তরী ধীরে ধীরে বালিশটা মুখ থেকে সরাল। কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বসে থাকল। তারপর দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে, দুহাত দিয়ে তাড়াতাড়ি করে নিজের মুখটা মুছে নিল।
চোখের জল, ভেজা গাল , সব মুছে ফেলতে লাগল।
ও চাইছে হৃদয় যেন কিছুতেই বুঝতে না পারে যে ও কাঁদছিল। ঠিক তখনই আবার দরজার ওপার থেকে হৃদয়ের কণ্ঠ ভেসে এল,

__ জান! দরজাটা একবার খোল প্লিজ।

তরী জবাব দিল না কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল একই ভাবে। তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে গেল। দরজার সামনে এসে কয়েক সেকেন্ড থেমে গিয়ে শেষমেশ ধীরে ধীরে দরজাটা খুলে দিল। দরজা খুলতেই মুহুর্তেই দুজনের চোখাচোখি হল।


দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই হৃদয় প্রায় হুড়মুড় করে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ল। অতঃপর এক মুহূর্তও দেরি না করে সে তরীকে টেনে নিল নিজের বাহুডোরে। তরী মোটেও এটার জন্য প্রস্তুত ছিল না। ও ভেবেছিল হৃদয় হয়তো এসে রাম ধমক দিবে ওকে। কিন্তু না এমন কিছুই হল না এবং হঠাৎ এই শক্ত আলিঙ্গনে ও একেবারে হৃদয়ের বুকে গিয়ে ঠেকল।

কিছুক্ষণ এভাবে থাকার পর হৃদয় চোখ নামিয়ে তরীর মুখের দিকে তাকাল। মুহূর্তেই তার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। তরীর চোখ দুটো লাল হয়ে ফুলে গেছে। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ। ও যতই লুকাতে চেষ্টা করুক না কেন, কিন্তু কান্নার চিহ্নগুলো স্পষ্ট। হৃদয়ের বুকটা হঠাৎই ভারী হয়ে উঠলো। সে আলতো করে তরীর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ফিসফিস করে বলল,

__আই এম সরি! বাবুই। আমার খেয়াল রাখা উচিত ছিল। সব দোষ আমার।
হৃদয়ের এই আদুরে কণ্ঠস্বর শুনে তরীর পক্ষে আর নিজেকে সামলে রাখা সম্ভব হল না। ও তখনই হৃদয়ের বুকে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
যেন এতক্ষণ ধরে আটকে রাখা সমস্ত কান্না একসাথে বেরিয়ে এল। হৃদয় কিছু বলল না।
শুধু শক্ত করে ওকে জড়িয়ে ধরল বুকে। তার এক হাত তরীর পিঠে, আরেক হাত মাথার উপর। ধীরে ধীরে ওর চুলে হাত বুলাতে বুলাতে ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।

তরী তখনও হৃদয়ের বুকে মুখ গুঁজে কেঁদে চলেছে। কান্নার কারণে ওর ছোট্ট শরীরটাও কাঁপছে বারবার, যেন প্রতিটা নিঃশ্বাসের সঙ্গে বুকের ভেতরের কষ্টটা বেরিয়ে আসতে চাইছে। তখনই ও কাঁদতে কাঁদতে ভাঙা গলায় বলল,

__ আম্মু আমাকে মেরেছে! আম্মু আমাকে একটুও বিশ্বাস করেনি। আম্মু প্লাবন ভাইয়ার কথা বিশ্বাস করেছে, আমাকে করেনি! তাই তো আমাকে মেরেছে। বলতে বলতে তরীর আঙুলগুলো আরও শক্ত করে চেপে ধরল হৃদয়ের শার্ট। অতঃপর ও আবারও বলতে লাগল,

__ আম্মু আমাকে ভালোবাসে না! একদমই ভালোবাসে না। কথাগুলো বলার সময় ওর গলায় এমন এক শিশুসুলভ অভিমান ছিল, যা শুনে যে কারও বুকটা নরম হয়ে যায়।

হৃদয় ধীরে ধীরে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
অতঃপর শান্ত এবং কোমল কন্ঠে বলল,
__ না বাবুই এমন বলতে হয় না। মনি তোকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে। তাই আর কখনোই এমনটা বলবে না।
এতটুকু বলেই হৃদয় একটু ঝুঁকে তরীর কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। অতঃপর তরী একটু করে মাথা তুলল। ওর চোখ দুটো এখনও ভেজা, লাল। ও অসহায় দৃষ্টিতে হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

_ তাহলে আম্মু কেন আমাকে বিশ্বাস করেনি? কেন প্লাবন ভাইয়াকে বিশ্বাস করলো? কিছুটা থেমে ও আবার বলল, _আচ্ছা? আপনিও কি ভাবছেন যে আমিই প্লাবন ভাইয়াকে ঐখানে যেতে বলেছিলাম? বিশ্বাস করুন আমি একবারও ঐখানে যেতে চাইনি।

(তরী কথাগুলো তাড়াতাড়ি করে বলতে লাগল, যেন দেরি করলে হৃদয় ওর কথা শুনবে না।)

__ প্লাবন ভাইয়া বারবার আমাকে বলছিলেন। আমি তো বারবার না করছিলাম। আমি তাকে আপনার কথাও বলেছি যে আপনি বলেছেন ভার্সিটি শেষে সোজা বাড়ি চলে আসতে। তরী এবার একটু থেমে গিয়ে শ্বাস নিল। অতঃপর আবারও বলতে লাগল,

__ কিন্তু উনি বলেছিলেন আমার সাথে নাকি উনার খুব দরকারি কথা আছে। তাই আমি বাধ্য হয়ে উনার সাথে ঐখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন কেউ আমার কথা বিশ্বাস করছে না। সবাই ভাবছে আমি উনাকে জোর করে সেখানে নিয়ে গেছি। প্লাবন ভাইয়া যে এত নির্লজ্জভাবে মিথ্যা কথা বলতে পারে আমার জানা ছিল না। উনার মত মিথ্যাবাদী লোক আমি আগে দেখিনি।

মুহুর্তেই তরী রাগে ঠোঁট কামড়ে ধরল। ওর চোখে এবার কান্নার সাথে রাগও ফুটে উঠল।

__ জানেন উনি এত এত বাজে লোক! আমার ইচ্ছে করছে এই জগের সবগুলো পানি গিয়ে উনার মুখে ছুঁড়ে মারি! তাহলে যদি উনার আসল চেহারাটা বের হয় আসে সকালের সামনে। দুমুখী লোক কোথাকার। দাঁতে দাঁত চেপে বলল কথাগুলো তরী। ওর কথায় প্রকাশ পাচ্ছে প্লাবনের প্রতি ওর রাগের পরিমাপ।

এইদিকে হৃদয় এতক্ষণ চুপচাপ ওর সব কথা শুনছিল। অতঃপর সে ধীরে ধীরে তরীর মুখটা নিজের দুহাতের মাঝে নিল। তার চোখের দৃষ্টি গভীর, শান্ত,,,,

__ আমি জানি তুই মিথ্যে বলিসনি। অতঃপর সে তরীর হাত চেপে ধরে বলে উঠলো— চল।

__কোথায়?

__তোর মনের আশা পূর্ণ করতে।

__মানে?

__লেটস গো ওয়াইফি।

চলবে।

ছোট হয়েছে ছোট হয়েছে , লেখা সুন্দর হয়নি আমি জানি ‌ । আপনারা রাগ করবেন না প্লিজ ‌‌। আমার বাড়িতে আমার একজন ভাইয়ের ওয়াইফ এবং তার মেয়ে এসেছে। বেবিটার বয়স দশমাস। ও সারাদিন ঘুমায়না শুধু রাতে ঘুমায়। আর দিনের বেলা ওকে সারাদিন নিয়ে ঘুরতে হয়, এক মিনিটও ওকে নিয়ে বসা যায় না। আমি ওকে প্রায় সারাক্ষণই কোলে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করি‌‌ , এইসব কারণে আমি লেখার সময় পায় না। আমি যে কি কষ্ট করে লেখছি আমি জানি। লেখার জন্য অনেকটা টাইম প্রয়োজন, উপযোগী জায়গা প্রয়োজন ‌ যেটা এখন আমি পাচ্ছি না।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply