নয়নারএমপিসাহেব
পর্ব:- ২৫
লেখনীতে:- Sanjana’s – গল্পঝুড়ি
ভোরের আলো তখন ধীরে ধীরে আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। পূর্ব দিগন্তে হালকা গোলাপি আভা ফুটে উঠেছে।
ঠিক সাড়ে পাঁচটার দিকে হৃদয় তরীকে নিয়ে বাড়ি ফিরল। বাইক থামতেই তরী ধীরে নেমে দাঁড়াল।
__যা ভিতরে যা। আমি বাইকটা গেরাজে রেখে আসছি বলেই সে বাইকটা নিয়ে সোজা গ্যারেজের দিকে চলে গেল। কিন্তু তরী ভেতরে না গিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল একই জায়গায়। ভোরের ঠান্ডা বাতাসে ওর এলোমেলো চুলগুলো হালকা দুলছে।
কিছুক্ষণ পর হৃদয় বাইক রেখে ফিরে এসে। তরীকে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে দ্রুত পায়ে তরীর কাছে আসলো। তারপর ভ্রু উঁচু করে বলল,
__ এখনও দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
জবাবে তরী খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিল,
__ আপনি আসেননি তো, তাই আপনার জন্য ওয়েট করছিলাম।
তরীর কথাগুলো শুনে হৃদয়ের ঠোঁটে ধীরে ধীরে একটুখানি হাসি ফুটে উঠল। সে কিছুটা ঝুঁকে তরীর মুখের উপর পড়ে থাকা এলোমেলো চুলগুলো আলতো করে আঙুল দিয়ে কানের পাশে গুঁজে দিল। তারপর কোনো কথা না বলে খুব আদুরে ভঙ্গিতে তরীর কপালে একটা ছোট্ট চুমু খেল।
অতঃপর হৃদয় ভ্রু একটু উঁচু করে, হেসে মজার ছলে বলল,
__ এখন কি ম্যাডাম আমার সাথে আমার রুমে ঘুমাতে চাইছে? তরী মুহূর্তেই লজ্জায় লাল হয়ে গেল। ও ক্রমাগত মাথা নাড়তে লাগল। হৃদয় আবারও হেসে ফেলল শব্দ করে।
__ আমার কিন্তু কোনো আপত্তি নেই। তুই চাইলে সবই সম্ভব।
লজ্জায় তরী আর কিছু বলতে পারলো না। ওরনা আঁকড়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। ও মনে মনে ভাবছে, ওর এমপি সাহেবটা দিন দিন এত আদুরে হয়ে যাচ্ছে কেন? ইশ তরীর তো এখন হিংসে হয়, সব মেয়েরা ওর এমপি সাহেবকে দেখতে থাকে, আর বেচারি ইন্সিকিউরিটিতে ভুগতে থাকে। পাছে না হৃদয় অন্য কোনো সুন্দরী মেয়েকে পছন্দ করে নেয়। এই ভাবনাটুকুই ওর বুকটা হঠাৎ ভারী করে দিল। তরী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, আর হৃদয় তখনও ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে , যেন তরীর মনে কী চলছে, সবই বুঝতে পারছে।
এইদিকে তরী মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো, এখন থেকে ও নিজেকে সুন্দরী আবিষ্কার করবে, যাতে করে হৃদয় অন্য কোনো সুন্দরী মেয়ের চক্করে না পড়ে।
তরীর ভাবনার মাঝেই হৃদয় খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তরীর কাঁধে হাত রাখল। অতঃপর দুজনেই ধীরে ধীরে বাড়ির ভেতরের দিকে হাঁটতে লাগল।
তরী চুপচাপ ঘাড় উঁচু করে হৃদয়কে দেখে যাচ্ছে।
ভোরের আলোয় হৃদয়ের মুখটা আরও গম্ভীর, আরও আকর্ষণীয় লাগছে। এলোমেলো চুল, চোখে হালকা ক্লান্তি, তবুও তার মধ্যে এক অদ্ভুত ব্যক্তিত্ব।
তরীর বুকের ভেতরটা আবার ধকধক করতে লাগল। ও মনে মনে ভাবতে লাগল, কিভাবে হৃদয়কে নিজের অনুভূতি বুঝাবে? কি করলে হৃদয় সত্যিই ওর দিকে সেই নজরে তাকাবে! তরীর মাথায় তখন এইসব নিয়ে হাজারটা চিন্তা ঘুরতে লাগলো। অথচ ও জানতেই পারলো না, যাকে ও নিজের অনুভূতি বুঝানোর কথা ভাবছে! যার মনে নিজের জন্য অনুভূতি জাগানোর জন্য এত পরিকল্পনা করছে, সেই মানুষটা বহু আগেই তার কাছে হেরে বসে আছে। ওর যখন দশ এগারো বছর তখন থেকেই হৃদয় ওর প্রতি তীব্রভাবে আসক্ত। হৃদয়ের এই আসক্তি যা সময়ের সাথে সাথে আরও গভীর হয়ে উঠেছে। যা তরীর কল্পনারও বাইরে।
হৃদয় তরীকে নিয়ে দুতলার করিডোর ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে তারা পৌঁছে গেল তরীর রুমের সামনে। সেখান থেকে আরেকটু এগোলেই হৃদয়ের রুম। এখন আর সে চারতলায় যাবে না, দ্বিতীয় তলার রুমেই থাকবে। হৃদয় তরীকে রুমের সামনে দিয়ে কয়েক কদম এগিয়ে গিয়েছিল। তারপর হঠাৎ কী মনে করে পিছনে ফিরে তাকাল।
তৎপর দেখলো তরী এখনও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রুমে ঢোকেনি। মুহুর্তেই হৃদয়ের ভ্রুদ্বয় কুঁচকে গেল। সে আবার ফিরে এসে তরীর সামনে দাঁড়াল।
__কি হয়েছে? এখনও দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
তরী কোনো জবাব দিল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে আলতো করে হাত বাড়িয়ে হৃদয়ের হুডির এক কোণ টেনে ধরল। হঠাৎ মেয়েটার এমন আচরণে হৃদয়ের কপালের ভাঁজ আরও গভীর হয়ে উঠল।
সে একটু ঝুঁকে তরীর এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করে দিতে দিতে নরম, আদুরে গলায় বলল,
__ কি হয়েছে বাবুই?
হৃদয়ের সেই আদুরে ডাক শুনেই তরীর বুকটা হালকা কেঁপে উঠল। ও মাথা নিচু করে ফেলল।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে খুব আবেগী কণ্ঠে বলল,
__ইনায়া আপু তো আপনার রুমে যায়। সেটা আপনি তো পছন্দ করেন না?
জবাবে হৃদয় শান্ত স্বরে বলল,
__হুম, করি না তো।
তরী এবার মাথা তুলল। ওর বড় বড় চোখে তখন অদ্ভুত এক দ্বিধা। ও দ্বিধাগ্রস্ত কন্ঠে বলল,
__তাহলে….?
__তাহলে কি?
তরী এবার খুব আস্তে বলল,
__ তাহলে আপনি তাকে কিছু বলেন না কেন ?
কথাটা বলেই আবার মাথা নিচু করে ফেলল ও।
হৃদয় কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে তরীর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎই হালকা হাসল।
আস্তে করে তরীর থুতনিটা আঙুল দিয়ে তুলে বলল,
__আর ইউ জেলাস বাবুই?
তরী মুহূর্তেই অপ্রস্তুত হয়ে গেল। ও চোখ বড় বড় করে বলল,
__না! না! না তো!
হৃদয়ের হাসিটা এবার আরও একটু গভীর হল। সে আরও একটু ঝুঁকে খুব নিচু গলায় বলল,
__ আচ্ছা? তাহলে আমার বাঁদরছানা এখন কি চাইছে?
__ আপনি উনাকে বারণ করে দেন!
__ আমি বারণ করলে তুই খুশি হবি?
তরী আর কোনো জবাব দিল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। হৃদয় তখনও ওর দিকে তাকিয়ে আছে, একটা অদ্ভুত, গভীর দৃষ্টিতে।
চলবে।
ছোট হয়েছে তবে আজকে কিন্তু দুইটা পর্ব দিয়েছি।
Share On:
TAGS: নয়নার এমপি সাহেব, সঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১৬
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১৭
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৮
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ২২
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৪
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১৩
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ১১
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ২
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ২৩
-
নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ৭