Golpo romantic golpo নয়নার এমপি সাহেব

নয়নার এমপি সাহেব পর্ব ২০


নয়নারএমপিসাহেব

পর্ব:- ২০
লেখনীতে:- Sanjana’s – গল্পঝুড়ি

__নয়ন… দরজা খোল বলছি! নয়তো আমি যদি একবার ভেতরে ঢুকতে পারি, তোর খবর করে ছাড়ব। দ্রুত দরজা খোল!

হৃদয়ের কণ্ঠে ধমক, দরজায় তার কড়া নাড়ার শব্দ ঘরের নিস্তব্ধতা কাঁপিয়ে তুলছে। ধুপধাপ আঘাতে দরজাটা কেঁপে উঠছে বারবার। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই। কিভাবে থাকবে? বেচারি তরী তো গভীর ঘুমে ডুবে আছে। এমন ঘুম, যেখানে বাইরের পৃথিবীটাও অস্তিত্বহীন। হৃদয় যে কতক্ষণ ধরে ওকে ডাকছে, হুমকি দিচ্ছে, দরজায় ধাক্কা মারছে তার কোনো খবরই নেই তরীর। ওর স্বভাবটাই এমন। একবার ঘুমিয়ে পড়লে দিনদুনিয়া ভুলে যায়। তখন মনে হয় ঘুমের রাজ্যটাই ওর আসল ঠিকানা। কেউ যদি ঘুমের ভেতর থেকে ওকে চুরি করে নিয়ে যায়, তবুও হয়তো ও টের পাবে না।


দুপুর গড়িয়ে এখন বিকেল চারটা। না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিল তরী। নীলা চৌধুরী আর অনিমা বেগম কতবার এসে ডেকে গেছেন।
কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি। আজ অদ্ভুতভাবে দরজাটাও ভেতর থেকে আটকিয়ে দিয়েছে ও। তরী সাধারণত দরজা লাগিয়ে ঘুমায় না। কে জানে আজ কি মনে করে খিল এঁটে দিয়েছিল!


এদিকে বাইরে দাঁড়িয়ে হৃদয়ের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে ক্রমাগত। ওর হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে দরজাটা বোধ হয় ভেঙে দেবে আজ। হৃদয়ের কণ্ঠ এবার আরও কঠোর হয়ে উঠল,

__নয়ন! শেষবারের মতো বলছি, দরজা খোল!

এক মিনিট! দুই মিনিট! তিন মিনিট! না কোনো সাড়াশব্দ নেই। হৃদয় আবারও গর্জে উঠল,

__ তুই দরজা খুলবি, নাকি আমি ভেঙে দেবো দরজাটা? কথা শেষ হতেই সে সজোরে দরজায় ধাক্কা মারল। কাঠের দরজাটা কেঁপে উঠল শব্দ করে। তার রাগী কণ্ঠস্বর শোনা গেল নিচে ড্রয়িং রুম পর্যন্ত।

নীলা চৌধুরী মাথা নেড়ে বিরক্ত স্বরে বললেন,

__মেয়েটা দিন দিন ভীষণ জেদী হয়ে যাচ্ছে। দুপুর থেকে কত ডাকাডাকি করলাম, একবারও দরজা খুলল না। এখন দেখব, কিভাবে না খুলে!

উপরে আবারও দরজায় কড়াঘাত পড়ল ধুপ ধুপ ধুপ শব্দে। এই প্রবল শব্দে অবশেষে তরীর গভীর ঘুমে চিড় ধরল। চোখের পাতা কাঁপল হালকা করে। আধো ঘুমে পিটপিট করে চোখ মেলতেই আবার সেই তীব্র ধাক্কা। তার সঙ্গে ভেসে এল হৃদয়ের রাগী কণ্ঠ,
__ নয়ননননন!

হৃদয়ের কণ্ঠস্বর কানে যেতেই তরী যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলো। লাফিয়ে উঠে বসল বিছানায়। বুকের ভেতর ধক করে উঠল একমুহুর্তে। হৃদয় তাকে ডাকছে? তাও এমন রাগ নিয়ে?

তরী বাচ্চাদের মত ঠোঁট উল্টিয়ে বলে উঠলো,
__ আমি আবার কি করলাম!

অতঃপর ও আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। লং স্কার্টটা হাতে সামান্য তুলে দ্রুত পায়ে ছুটল দরজার দিকে। হৃদয় আবার ডাক দেবে তার আগেই কাঁপা হাতে খিল সরিয়ে শব্দ করে দরজা খুলে দিল ও। দরজা খুলতেই মুহুর্তেই দুজনের চোখাচোখি হল। তরীর চোখে এখনও ঘুমের রেশ। চুল এলোমেলো, মুখে অপ্রস্তুত ভাব। বড় বড় চোখ তুলে মিনমিনে স্বরে বলল,

__কি হয়েছে?

ওর মুখের নিষ্পাপ বিস্ময় দেখেই বোঝা যায়, দুপুর থেকে সারা বাড়িতে ওকে নিয়ে যে তোলপাড় চলেছে, তার বিন্দুমাত্র খবরও নেই ওর।

অন্যদিকে হৃদয় দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। কপাল কুঁচকে আছে, চোখ দুটো কঠোর। যেন রাগ আর অস্বস্তি মিলেমিশে জমাট বেঁধে আছে তার দৃষ্টিতে। সামনের এই ঘুমভাঙা মুখটার দিকে তাকিয়ে সে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলো।
নীরবতার ভেতর শুধু দুজনের দ্রুত ওঠানামা করা নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা গেল। হৃদয় নিজের রাগটা ধরে রাখতে চাইছে, কিন্তু পারছে না। তরীর এই ঘুমজড়ানো, নিষ্পাপ মুখটা যেন হৃদয়ের রাগের ওপর আস্তে আস্তে পানি ঢেলে দিচ্ছিল। তরীর ঠোঁটের কোণে অন্যমনস্কতা দৃশ্যটা এমন, যেন সদ্য ঘুম থেকে ওঠা কোনো বাচ্চা মেয়ে অপরাধ না বুঝেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ।

এইদিকে তরী ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে হৃদয়ের দিকে। আসলে ঠিক কি ঘটেছে, কিছুই বুঝতে পারছে না ও।

তখনই পেছন থেকে হৃদি সন্দিহান চোখে এগিয়ে এল।
__ তুই কি এতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলি?

তরী এবার বোকা বোকা হেসে বলল,
__আসলে কখন যে চোখ লেগে গেছে বুঝতেই পারিনি। কিন্তু কেন? কিছু হয়েছে?

হৃদি বিরক্তিতে ফুঁসে উঠল মুহুর্তেই,
__ উফফ! তুই মরার মতো ঘুমাচ্ছিলিস! আর বাড়িতে তোকে নিয়ে যে কত হুলুস্থূল বেঁধে গেছে , সেই খবর আছে তোর?

তরী আরও বিভ্রান্ত হয়ে গেল।
__ কি হয়েছে? আমি কি করলাম?

__ কি করিসনি বল! দুপুর থেকে আম্মু, মনি তোকে কতবার ডাকল তুই দরজা খুলিসনি, কিছু খাসওনি। তাই আমরা ভাবলাম তুই হয়তো কোনো কিছু নিয়ে অভিমান করে দরজা আটকে বসে আছিস। কিন্তু বিকেল পর্যন্তও যখন দরজা খুলিসনি, মনি বাধ্য হয়ে দাভাইকে জানাল যে তুই সারাদিন দরজা খুলিসনি, কারও সাথে কথা বলছিস না, কিছু খাসওনি। তাই দাভাই নিজের সব কাজ ফেলে ছুটে এসেছে তোর জন্য। আর এখন তুই বলছিস তুই ঘুমাচ্ছিলিস? সিরিয়াসলি? এত ঘুম কোথা থেকে আসে তোর?

হৃদির কথায় তরী একবার হৃদয়ের দিকে তো একবার হৃদির দিকে তাকাচ্ছে বড় বড় চোখ করে। ওকে নিয়ে এত কিছু ঘটে গেছে আর ও কিছুই জানে না! মুহূর্তেই নিজের মায়ের ওপর ভীষণ অভিমান হলো ওর। এত ছোট একটা বিষয়কে এমন বড় করে ফেলতে হলো? আর কাউকে ফোন করতে পারল না? এই লোককেই করতে হলো?
এখন যে এই লোক ওর মাথায় উঠে তান্ডব করবে, তার বেলা? সবাই ওকে শুধু ফাঁসাতে চাই। হৃদয় যে এখন ওকে কি শাস্তি দিবে কে জানে।
এইসব ভেবে ভয়ে ফাঁকা ঢোক গিলল ও। ভয়ে বেচারির এতদিনের অনুভূতি সব ফিঁকে হয়ে গেছে বোধহয়।

হৃদি ইতিমধ্যে হাসতে হাসতে করিডোর পেরিয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই ঘটনা ও নিশ্চয়ই সবার কাছে বলে বেড়াবে। হৃদয় এখানে দাঁড়িয়ে আছে বলে তরী কিছু বলতেও পারছে না। অগত্যা আবারও এক হ্যাবলার মতো হাসি দিল ও, একটা অতি অসহায়, ক্ষমাপ্রার্থনামিশ্রিত হাসি।
হৃদয়ের কপাল এবার আরও গভীরভাবে কুঁচকে গেল। এক মুহূর্ত দৃষ্টিটা স্থির রেখে হঠাৎই গটগট পায়ে নিজের রুমের দিকে হাঁটা দিল সে। পেছনে তরী তম মেরে দাঁড়িয়ে আছে তখনও।

নিজের রুমের দরজার কাছে পৌঁছে গিয়ে থামল হৃদয়। ফিরে না তাকিয়েই গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

__ পাঁচ মিনিটের মধ্যে তোকে আমি ডাইনিং টেবিলে দেখতে চাই। এক সেকেন্ডও যেন দেরি না হয়। কথাটা বলে সে ভেতরে ঢুকে দরজা টেনে দিল। তরী স্থির দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। বুকের ভেতর ধকধক শব্দটা বাড়ছে।

চলবে।

কেমন যেন খাপছাড়া হয়েছে লেখাটা । মনযোগ দিতে পারছি না।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply