নবরূপা
পর্ব_৬
কলমেঅনামিকাতাহসিন_রোজা
সকাল সকাল কবির মহলে ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। উপরের ঘর থেকে ইয়াহিয়া কবির আর আয়শা বেগমের তর্কাতর্কির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, তাদের ঝগড়ার মূল বিষয়বস্তু – শপিং মলে কে ইনায়াকে কোলে নিয়ে থাকবে। ইয়াহিয়া কবির বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে শপিং মলে তো সব কাজ আর পছন্দ করার কাজটাও আয়শা বেগমকে করতে হবে। তাই এসবের মধ্যে ইনায়াকে তিনিই বরং কোলে নিয়ে থাকবে। অথচ ভদ্রমহিলা মানতে নারাজ। এদিকে বসার ঘরে সোফায় বসে ইনায়াকে সুজি খাওয়াচ্ছেল তামান্না। ইরফানও অপর পাশের সোফায় বসে ল্যাপটপে কিছু একটা করছিল, হাতে কলম আর পাশে এক বান্ডিল কলেজ সিটি পরীক্ষার খাতা। সেসব কাটতে গিয়েই মেজাজ বারবার বিগড়ে গেছে ইরফানের। রীতিমতো যা তা লিখে রেখেছে ছেলেপেলে গুলো।
বাংলা খাতা হাতে নিয়েই ইরফানের কপালে ভাঁজ পড়ে গেছিল। প্রথম খাতা খুলে এক লাইনের উত্তর দেখে সে এক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিল। নিজেকে শান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা। ইরফানের মন চাইলো স্টুডেন্টের নাম্বারে কল দিয়ে তাকে গালাগালি করে উড়িয়ে দিতে। পুরোপুরি মেজাজ খারাপ হয়েছে তার। হবেই বা না কেনো! “পদ কাকে বলে ” এই প্রশ্নে এক মহান স্টুডেন্ট উত্তরে লিখেছে, ” আমরা যেটা দিয়ে হাঁটাহাঁটি করি, তাই হলো পদ! “
ইরফান কলমটা দাঁতে চেপে ধরল। মনে মনে নিজেকে বলল—শান্ত হ ইরফান। তুই একজন টিচার। তুই সৎ মানুষ। তুই কাউকে এভাবে গলা টিপে মারতে পারিস না। নিজেকে শান্ত করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল ইরফান। তারপর পাতার নিচে বিশেষ দ্রষ্টব্য পড়ে চোখ দুটো কপালে উঠে গেল,
” কুয়েশ্চনে বানান ভুল আছে। পদ নয়, পথ হবে।”
ইরফান ল্যাপটপ বন্ধ করে রাখল। কলম নামিয়ে সোফার পেছনে হেলান দিল। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, হয়তো বাংলা ভাষার সাথে ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নিয়ে বসে আছে এই ছাত্রছাত্রীরা। নিজেকে বুঝিয়ে পরের খাতা খুলতেই সে দেখলো, আরেকজন মহান প্রতিভা লিখেছে,
” বিশেষণ কাকে বলে?”
উত্তর: “যেটা বিশেষ, সেটাই বিশেষণ।”
এর নিচে আবার আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য—
“স্যার, সহজ করে লিখেছি যাতে বুঝতে পারেন।”
ইরফানের কপালের শিরা ফুলে উঠল। বিড়বিড় করে বলল, – ইডিয়ট! বলদের দল!’ পাশে বসে থাকা তামান্না সুজি খাওয়াতে খাওয়াতে আড়চোখে তাকাল ইরফানের দিকে। মুখে কিছু বলল না, কিন্তু চোখের ভাষায় স্পষ্ট, এখন কিছু বলা ঠিক হবে না। লোকটা রেগে আছে। ইনায়া সোফার উপরে বসে বসে বার্বিডল নিয়ে খেলা করছে। খেলনা পেলে সে খুব শান্ত থাকে, তার উপর খিদের চোটে লাফালাফিও করছে না। শান্তমত তামান্নার হাতে সুজি খেয়ে নিচ্ছে।
ইরফান কিছুক্ষণ চুপচাপ হয়ে তাকিয়ে রইলো ইনায়ার দিকে। তামান্না চামচে সুজি তুলে আবারো ইনায়ার মুখে দিতে গেলে ভ্রু কুঁচকালো ইরফান। জিজ্ঞেস করলো,
—” সুজি টা এমন কেনো?”
তামান্না প্রথমে ভয় পেলো। পরীক্ষার খাতায় আজগুবি জিনিস লেখা স্টুডেন্ট দের রাগটা আবার তার উপর ঝারবে না তো! যদিও এমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই ইরফান কবিরের। তামান্না কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
—” সুজিতে আপেলের ছোট টুকরো, কিশমিশ, গুড় আর অল্প একটু বেবি নুডলস দেয়া তো। তাই এমন হয়েছে!”
—’আপেলের সাইজ ঠিক করে দিয়েছো? গলায় আটকাবে না তো!”
—” জ্বি ঠিক করে দিয়েছি। “
ইরফান মাথা নাড়ালো। ইনায়া অবশ্য এভাবেই সুজি পায়েশ খায়।
—” চিনি দিয়েছো নাকি?”
আঁতকে উঠলো তামান্না,
—” না না ইরফান ভাই। কী যে বলেন। ঐদিনের পর থেকে আর চিনির ধারের কাছেও যাইনি।”
মাথা নাড়লো ইরফান। বলল
—” গুড। চিনির বদলে সবসময় গুড় ইউজ করবে।’
তামান্না মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো। কয়েকমাস আগে ভুলে একবার ইনায়ার খাবারে চিনি দিয়েছিল তামান্না। সেদিন ইরফানের রামধমকের কথা সে কোনোদিনও ভুলবেনা।
ইনায়াকে হাসতে খেলতে দেখে একটুখানি মন ভালো হলো ইরফানের। আবারো বিসমিল্লাহ করে খাতা খুলে বসলো। আবারো মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো। কারন, কোনো এক মুরগিরডিম ‘সমাস কাকে বলে?’ এর উত্তরে, ‘যখন দুইজন মানুষ একসাথে বাস করে, তখন তাকে সমাস বলে!” লিখেছে। ইরফান চোখ তুলে ছাদের দিকে তাকাল। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল—আজ সে কাউকে কল দেবে না। আজ সে গালিও দেবে না। আজ সে শুধু নম্বর কেটে যাবে। নির্বাকভাবে। সবাইকে লাগাতার শূন্য দিয়ে দেবে। তবে এত ভালো প্রতিষ্ঠানের স্টুডেন্ট কীভাবে এসব লিখতে পারে তা ভেবে পেলো না ইরফান। এসব কী হচ্ছে? এরাও স্টুডেন্ট! এজন্যই তো দেশের এই অবস্থা।
হার মেনে বাংলা খাতা একপাশে ঠেলে রেখে ইরফান ফিজিক্সের খাতা টানল। তবে এবারে সে দেখলো, স্টুডেন্ট রা নিজেদের ব্রেন ইউজ করে মনের মাধুরি মিশিয়ে সংজ্ঞা ও সূত্র আবিষ্কার করেছে। ঠিকই তো আছে। ব্রেন থাকতে কেনো তারা আইনস্টাইন, হুন্ড, ওহমের সূত্র পড়তে যাবে। নিজেরাই আবিষ্কার করে ব্যবহার করবে। ইরফান কলমের মাথা টেবিলে ঠুকল। শব্দটা এত জোরে হলো যে তামান্না চমকে তাকিয়ে রইল। ইরফান মুখ শক্ত করে আবার খাতায় তাকাল।
পরের প্রশ্নে কেউ লিখেছে— ওহমের সূত্র বলতে ওহম কতৃক তৈরী সূত্রকে বোঝায়। আর কিছু বলার নেই। একদমই নেই। শেষে বায়োলজির খাতা খুলতেই ইরফান একটু আশা পেয়েছিল। জীববিজ্ঞান—কমন সেন্স থাকলেই চলার কথা। কিন্তু প্রথম উত্তর দেখেই সেই আশা আত্মহত্যা করল।
” হৃদপিণ্ডের কাজ কী?”
উত্তর দিয়েছে “হৃদপিণ্ড আমাদের ভালোবাসা বোঝায়।”
কেবলই গরম কফিটা মুখে তুলেছিল ইরফান। কিন্তু কোনো প্রেমিক স্টুডেন্টের এমন আনসার দেখে সাথে সাথে বিষম খেলো বেচারা ইরফান। খুক খুক করে কেশে উঠলো তৎক্ষনাৎ। ইনায়া চোখ বড় করে বোঝার চেষ্টা করলো বাবার কী হয়েছে। তামান্না দেরি না করে দৌঁড়ে টেবিল থেকে পানি গ্লাসে ঢেলে নিয়ে এলো, আর ইরফানের হাতে দিলো। ইরফান পানি খেলো ঢকঢক করে। তামান্নার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে বলল,
—” বলোতো, হৃদপিণ্ডের কাজ কী?’
তামান্না চমকালো। মাঝে মাঝে ইরফানের কথার মধ্যে শিক্ষক ভাবটা বেশ বিমোহিত করে তাকে। যেমন মাত্রই করলো। ইরফানের ছোঁড়া প্রশ্নের জবাবে কিছুক্ষণ ভেবে সে উত্তর দিলো,
—” উম, শ্বাসপ্রশ্বাসে সাহায্য করা?”
ইরফান দু’দিকে মাথা নাড়লো,
—” হয়নি, কিন্তু কাছাকাছি গিয়েছে। আবুলের দল যদি এটাও লিখতো, তবুও মানতাম। তাই বলে এইসব কী?”
বলেই খাতা টেবিলের ওপাশে তামান্নার দিকে ঠেলে দিলো ইরফান। তামান্না বাম হাতে বাটিটা ধরে ডান হাতটা শাড়িতে মুছে নিলো, এরপর খাতাটা হাতে নিলো। ইরফান বলল
—” চার নাম্বার ক এর উত্তর টা পড়ো!”
তামান্না ধীরগতিতে বলতে থাকলো,
—” হৃদপিণ্ডের কাজ কী? হৃদপিন্ড আমাদের ভালোবাসা বোঝায়।”
বলেই মুখ কুঁচকে তাকালো তামান্না। ইরফানও চোখমুখ কুঁচকে তাকিয়ে রয়েছে। কিছুক্ষণ বেআক্কলের মত তাকিয়ে থেকে তামান্না হো হো করে হেসে ফেলল। হাসতে হাসতে বলল,
—” আপনার স্টুডেন্টের এই অবস্থা কেনো ইরফান ভাই?”
ইরফান চোখ গরম করে তাকালো। বলল,
—” আমার স্টুডেন্ট না। স্কুল ডিপার্টমেন্টের খাতা, ক্লাস টেনের। আমাকে কাটতে দিয়েছে।”
তামান্না বলল,
—” নির্ঘাত ব্যাকবেঞ্চার!”
ইরফান মাথা নেড়ে শেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এরপর সুতো দিয়ে খাতার বান্ডিল টা বেঁধে নিলো।
—” এইসব আহাম্মকের খাতা দেখে ইহকাল ত্যাগ করার ইচ্ছে নেই আমার। ফেরত দিয়ে আসব এগুলো।”
এই বলে সে সব খাতা একসাথে গুছিয়ে ফেলল। তখনি উপর থেকে তামান্নার ডাক পড়লো আয়শা বেগমের ঘরে। ইরফান শুনে তামান্নার থেকে সুজির বাটিটা নিজেই নিয়ে নিলো, এরপর বলল,
—” যাও তুমি। আর দ্রুত তৈরী হতে বলো সবাইকে। শপিংটপিং আজকেই যেন শেষ হয়। দুদিন সময় নেয়া যাবে না।”
তামান্না অনেকদিন পর একটু হাসলো। সেই রেশ ধরেই মুচকি হেসে মাথা নেড়ে সে উপরের ঘরে চলে গেলো। মেজাজ খারাপ থাকলেও ঠোঁটের কোণে একটা চাপা হাসি দেখা গেল ইরফানের। কারন হলো, আজ আবারো নীহারিকার সাথে দেখা হবে তার।
তামান্না উপরের ঘরে পৌঁছাতেই শুনতে পেলো,তখনো ইয়াহিয়া কবির আর আয়শা বেগমের তর্ক চলছেই,
—”আমি কোলে নেব।”
—”না, আমি নেব।”
তামান্না ফিক করে হেসে ফেলল। এরপর ঘরে হুট করে ঢুকে গিয়ে বলে উঠলো,
—” তোমাদের কারো নিতে হবে তো খালামনি! ইনামনি আমার কাছে থাকবে।”
ইনায়া কে মাঝে মাঝে আদর করে ইনামনি ডাকে তামান্না। নামটা তার একান্ত ব্যাক্তিগত। আজ পর্যন্ত কেও আর এ নামে ডাকে নি বা ডাকতে পারেনি। তামান্নার কথা শুনে ইয়াহিয়া কবির কোট থেকে টিস্যু বের করে চশমা মুছে বললেন,
—” তুই আর বেশি মাতব্বরি করিস না তামান্না। নিজেও তো শপিং করবি তুই। শাড়ি চাদর যা ভালো লাগে সব নিস আজই।”
তামান্না এক মুহুর্তের জন্য হাসি নিভিয়ে জিজ্ঞেস করল,
—” আমি কেনো এসব…!”
আয়শা বেগম কথা কেড়ে নিয়ে বললেন,
—” ওমা! আমি কেনো এসব মানে কী? ইরফানের বিয়ে, শপিং করবি না? কী আশ্চর্য কথা! শাড়িটাড়ি অনেক কিছু কিনতে হবে তো।”
তামান্না ঠোঁট চেপে হাসলো। ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
—” আমি কিছু কিনব না খালামনি। গত মাসেই তো নতুন শাড়ি কিনে দিলে তুমি। আবার সেই শুক্রবারে ইরফান ভাই শপিং করে দিয়েছিল আমায়। নতুন নতুন অনেক জামাকাপড় আছে। ওসব দিয়েই চলবে। তুমি বরং নতুন ভাবির জন্য কেনাকাটা করিও। আমিও হেল্প করব।”
তামান্নার শেষ কথাটায় হালকা একটা খটকা লাগলো আয়শা বেগমের মনে। “নতুন ভাবি”— তামান্নার মুখে শব্দটা শুনে কেন যেন আনন্দটা ঠিক জমলো না। হঠাৎই আয়শা বেগমের চোখ গেল তামান্নার দিকে। মেয়েটা হাসছে ঠিকই, কিন্তু সেই হাসিটা যেন ঠোঁট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। চোখে নেই। চোখ দুটো অদ্ভুত রকম শান্ত—আর সেই শান্তির ভেতরেই লুকিয়ে আছে চাপা ক্লান্তি। আয়শা বেগম গলা নরম করে জিজ্ঞেস করলেন,
—”তোর কিছু হয়েছে তামান্না?”
তামান্না চমকে উঠলো। নতুন বউ বাড়িতে আসার আগেই কি সে ঝামেলা করে ফেলছে? খুব দ্রুত মাথা নেড়ে বলল,
—”না খালামনি, কী হবে আমার?”
বলেই সে এক ঝলক হাসলো। আয়শা বেগম সন্তুষ্ট হলেন না। তিনি বহু বছর সংসার করেছেন, মানুষের চোখ পড়তে শিখেছেন। এই ‘কিছু হয়নি’ বলা চোখগুলো ঠিক স্বাভাবিক নয়।
—”তাহলে এমন মুখ করে আছিস কেন?”
তামান্না এবার আর চোখ তুলে তাকালো না। শাড়ির আঁচলটা আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে বলল,
—”কোন মুখ? আমি তো এমনিই আছি।”
ইয়াহিয়া কবির এতক্ষণ চুপচাপ ছিলেন। এবার তিনি হালকা গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,
—” এই বয়সে ‘এমনিই’ খুব কম মানুষ থাকে তামান্না। কিছু না কিছু থাকেই। অসুস্থ নাকি তুমি?”
তামান্না ঠোঁট কামড়ে ধরলো। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, বুঝি এবার কিছু বলেই ফেলবে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার সেই চেনা হাসি টেনে আনলো মুখে।
—”আরে না খালু, সত্যিই কিছু না। একটু ঘুম কম হয়েছে, তাই হয়তো। আমি কি কখনো অসুস্থ হই বলো?’
আয়শা বেগম আর কিছু বললেন না। নিচ থেকে ইরফানের ডাক পড়তেই সবাই তাড়া শুরু করলো। তামান্নাও দৌঁড়ে নিজের ঘরে গেলো। তৈরী হতে হবে দ্রুত। এরপর ইনায়াকেও তৈরী করাতে হবে। তামান্নার যাওয়ার পথে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন আয়শা বেগম। এরপর ইয়াহিয়া কবিরের দিকে তাকিয়ে বললেন
—” তোমার কি মনে হয় না ওর বিয়ে দেয়া উচিত এবার। আর কতদিন এভাবে থাকবে।’
ইয়াহিয়া কবির দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
—” আগে বউমা আসুক বাড়িতে। সংসার টার হাল ধরুক৷ ইনায়া নিজের মা কে চিনুক। সবকিছু ঠিক হোক। তারপর তামান্নারও সংসার করার ব্যবস্থা করে দেব। কারন এখন অন্তত ইনায়াকে দেখভাল করার জন্য হলেও তামান্নাকে দরকার!”
এক মুহুর্তের জন্য আয়শা বেগমের মাতৃমন হাহাকার করে উঠলো। এক মুহুর্তের জন্য এও মনে হলো তামান্নাকে তারা স্বার্থের জন্য এ বাড়িতে রাখছে, আবার স্বার্থ হাসিল হওয়ার পর তাকে বের করে দেয়ারও চিন্তা করছে। ইশ! কি নির্মম চিন্তা! কি অসম্ভব ভয়ানক ভাবনা। কিন্তু বাস্তবতা বোধহয় এমনই। মানুষ প্রয়োজনেই মানুষকে দাম দেয়৷ প্রয়োজন শেষ হলে, স্বার্থ শেষ হলে মানুষ হয়ে যায় অপ্রয়োজনীয়। তবে আয়শা বেগম মনে মনে ভাবলেন, তামান্নার উপর কোনো চাপ দেবেন না। সে বিয়ে করতে চাইলে বিয়ে দেবেন, আর যদি সারাজীবন এ বাড়িতেও থাকতে চায়, তবে সেটাও উনি মানবেন।
চলবে…
✨ রিচে ধ্বস নেমেছে। এমন চলতে থাকলে এই গল্প আমি ফেসবুকে দেব না, ইবুক আর না হয় বই নিয়ে আসব। সবাই খারাপ মন্তব্য করতে পারেন, কিন্তু আসলে এত ভালো একটা প্লটে রেসপন্স না পেলে সঠিক দাম না দিলে এটা আমি দেব না। অন্য গল্প শুরু করব। সিদ্ধান্ত আপনাদের। কেমন হয়েছে জানাবেন।
Share On:
TAGS: অনামিকা তাহসিন রোজা, নবরূপা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নবরূপা পর্ব ৩
-
নবরূপা পর্ব ৪
-
নবরূপা পর্ব ৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
নবরূপা গল্পের লিংক
-
নবরূপা পর্ব ২
-
নবরূপা পর্ব ৮
-
নবরূপা পর্ব ১
-
নবরূপা পর্ব ৭