নবরূপা
পর্ব_২৬
কলমেঅনামিকাতাহসিন_রোজা
সকাল সকাল নীহারিকার ডাকে উঠে পড়লো ইনায়া। ঘুমু ঘুমু চোখে জড়িয়ে ধরল নীহারিকা কে। আজ বিশেষ দিন বলা চলে। অনেকদিন পর বাড়ির পরিবেশ স্বাভাবিক। নীহারিকা দ্রুত ইনায়াকে ব্রাশ করিয়ে মুখহাত ধুয়ে দিল, এরপর কোলে নিয়ে নিচে চলে এলো। আয়েশা বেগম রান্নাঘরে চা তৈরী করছিলেন। নীহারিকা কে দেখে কাছে ডাকলেন। ইয়াহিয়া কবির ইনায়াকে দেখামাত্রই সদ্য হাতে নেয়া পেপার টা ছুঁড়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন,
—”আমার দাদুমণি ঘুম থেকে উঠে গেছে হুম? এসো কোলে এসো। আমাকে দাও বউমা।”
নীহারিকা হেসে ইনায়াকে ইয়াহিয়া কবিরের কোলে দিয়ে রান্নাঘরে গেলো। আয়েশা বেগম এবারে কাছে এসে বললেন,
—” নীহা, একটা কথা বলব? যদিও সকাল সকাল বলা উচিত না। কিন্তু আমি দমিয়ে রাখতে পারছি না। কিছু মনে করবি না তো?”
নীহারিকা শোকেস থেকে চায়ের কাপ বের করতে করতে হেসে বলল,
—” না মা, বলুন না। সমস্যা নেই! “
আয়েশা বেগম একটুখানি ইতস্তত করে বললেন,
—” ইনায়াকে তো আগে তাও ওই তামান্নার নামে থাকা অনন্যা দেখাশোনা করতো। তুই একা একা ওর খেয়াল রাখতে পারবি? নাকি আমি গ্রাম থেকে কাওকে নিয়ে আসব বল তো।”
নীহারিকা মুচকি হেসে বলল,
—” দরকার হবেনা মা। আমার তো আর কাজ নেই। বাড়িতে থেকে করবোই বা টা কী বলুন! ইনায়া ছাড়া আর তো কোনো দায়িত্ব দেখি না।”
আয়েশা বেগম ভ্রু কুঁচকে হেসে ফেললেন।
—” এভাবে বলছিস কেন? আমার ছেলে কি বানের জলে ভেসে এসেছে? সংসার কি শুধু ইনায়াকে নিয়ে নাকি?”
নীহারিকা বড় বড় চোখ করে বলল,
—” আপনার ছেলে ছোট বাচ্চা নাকি? উনারও আবার দেখাশোনা করতে হবে?”
আয়েশা বেগম হো হো করে হেসে ফেললেন। বললেন,
—” না আমি তা বলিনি। কিন্তু বিয়ের পর থেকে তো…যতই হোক না কেনো, নতুন বিয়ে হয়েছে। দেখে তো মনেই হয়না। কতবার করে ইরফান কে বললাম বউমাকে নিয়ে ঘুরে আয়, একটু সময় কাটিয়ে আয়। ওইযে হানিমুন যাকে বলে। কথাই তো শুনলো না।”
চিনির বক্স হাতে নিয়ে অন্যমনস্ক হলো নীহারিকা। ঘুরতে যাওয়ার কথা আয়েশা বেগম বলেছেন? কই ইরফান তো তাকে কিছু বলেনি! একবারো তো জিজ্ঞেসও করেনি এ বিষয়ে। হয়তো ইরফান চায় না। ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলল নীহারিকা,
—” লাগবেনা মা। সবকিছু তো সবার ভাগ্যে জোটে না। আর তাছাড়া এসব ঘোরাঘুরি আমারো পছন্দ না। শুনলাম ইনায়ার কয়েকদিন পর জন্মদিন। তখন না হয় ছোটখাটো অনুষ্ঠান করে বাইরে থেকে ঘুরেও আসা যাবে। আপনারাও থাকলেন। সবাই মিলে মজা করব।”
আয়েশা বেগম বুক চাপা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কিছু বললেন না। ইনায়ার কথা মনে করে মুচকি হাসলেন। চার বছর হয়ে যাচ্ছে মেয়েটার। বড় হয়ে গেলো চোখের পলকে। এখন আরো অনেক কথা বলতে পারে। হাঁটতে পারে। নীহারিকার সাথেও বেশ ভালো করে মিশেছে। আয়েশা বেগম অন্যমনস্ক থাকায় নীহারিকা চুলোয় থাকা চা টা নিজেই নামিয়ে নিল। কাপে ঢালতে ঢালতে বলল,
—” আপনি সোফায় বসুন মা। আমি চা নিয়ে আসছি।”
আয়েশা বেগম মুচকি হেসে বললেন,
—” ঠিক আছে।”
আয়েশা বেগম সোফায় এসে বসলেন। ইয়াহিয়া কবির তখনও ইনায়াকে কোলে নিয়ে গল্প করছেন।
—” আমার দাদুমণি আজ কী খাবে বলো তো? ডিম ভাজি? না কি প্যানকেক?”
ইনায়া ছোট্ট করে আধোস্বরে বলল,
—” প্যানকেক!”
—” ওহো! প্যানকেক! দেখি কে বানাবে এখন!”
ঠিক তখনই ট্রে হাতে নীহারিকা এসে দাঁড়াল। মুচকি হেসে বলল,
—” বানিয়ে দেবো বাবা। তবে খেতে হবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত। অর্ধেক রেখে পালানো যাবে না। আপনার নাতনি কাল অর্ধেক নুডলস খেয়ে পগারপার। পুরোটা তখন আমাকে খেতে হয়েছে।”
ইনায়া খিলখিল করে হেসে উঠল। ইয়াহিয়া কবিরও হাসলো। নীহারিকা ট্রেটা টেবিলে রেখে সবার সামনে চায়ের কাপ এগিয়ে দিল। আয়েশা বেগম কাপ হাতে নিয়ে এক চুমুক দিয়ে বললেন,
—” আহা! ঠিক আমার মনের মত হয়েছে।”
নীহারিকা হালকা হেসে বলল,
—” আপনিই বানিয়েছেন, আমি শুধু নামিয়েছি।”
—” তা হলেও হাতের ছোঁয়া লাগে মা,”
মমতা ভরা চোখে তাকালেন আয়েশা বেগম। ইয়াহিয়া কবির হঠাৎ বললেন,
—” বউমা, তুমি না থাকলে এই বাড়িটা কেমন জানি ফাঁকা ফাঁকা লাগতো। এখন আবার আগের মত হাসি-খুশি লাগছে। মনে হচ্ছে পরিপূর্ণ!”
নীহারিকা একটু থমকাল। তারপর মৃদু স্বরে বলল,
—” আসলেই পরিপূর্ণ লাগছে বাবা।”
ইয়াহিয়া কবির চায়ের কাপ টা হাতে নিলেন। আয়েশা বেগম তখন হালকা গম্ভীর হয়ে বললেন,
—” একটা কথা বলি? আজ দুপুরে একটু ভালো কিছু রান্না করি? অনেকদিন পর সবাই একসাথে বসে খাওয়া হবে।”
ইয়াহিয়া কবির সায় দিলেন,
—” হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক কথা। আজকে একটা ছোটখাটো পারিবারিক দিন হোক।”
নীহারিকা মাথা নাড়িয়ে বলল,
—” আমি রান্না করবো। আপনি বসে থাকবেন মা। আজ আমি সামলাবো সব।”
—” একা পারবি?”
—” চেষ্টা তো করতে পারি,”
হালকা হাসল নীহারিকা।
ওদিকে কৌতূহলী চোখে ইয়াহিয়া কবিরের হাতের কাপটার দিকে তাকিয়ে থাকা ইনায়া ছোট্ট করে আঙুল বাড়িয়ে দিল। কেউ বুঝে ওঠার আগেই সে চায়ের ভেতর টুপ করে আঙুল ঢুকিয়ে ফেলল। পরের মুহূর্তেই চমকে উঠে হাত টেনে নিল সে। গরমে ছ্যাকা লেগে গেছে। তারপরই সে কেঁদে উঠল জোরে।
—” আম্মুউউ….!” বলে কেঁদে উঠলো। ছলছল নয়নে তাকালো নীহারিকার দিকে। শব্দটা যেন পুরো ঘরটাকে থামিয়ে দিল। সবাই স্থির। সময় যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। নীহারিকার শরীরটা কেঁপে উঠল হালকা করে। চোখদুটো বড় হয়ে গেল। সে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না—এই ডাকটা সত্যি! আয়েশা বেগম ও ইয়াহিয়া কবিরও ঠোঁটের কাছের কাপটা ধরে স্তব্ধ হয়ে এক অপরের দিকে তাকালেন।
এদিকে ইনায়া কাঁদতে থাকলেও কারো হুশ নেই। বিশেষ করে নীহারিকার। সে স্তব্ধ নয়নে বড় চোখ করে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। আম্মু? ইনায়া তাকে আম্মু ডেকেছে? আধো স্বরে আম্মু ডেকেছে তাকে? হ্যাঁ! তার দিকেই তো তাকিয়ে কাঁদছে। অজান্তেই নীহারিকার চোখে পানি এসে টইটম্বুর হলো। জীবনে প্রথমবার। অবশেষে! তার দিকে তাকিয়ে, তার নাম ধরে নয়, তার পরিচয়ে ডাকল কেউ। তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ করে ভারী হয়ে উঠল। আয়েশা বেগম আর ইয়াহিয়া কবির দুজনেই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তাদের চোখে বিস্ময়, তারপর ধীরে ধীরে সেই বিস্ময় গলে গিয়ে জায়গা নিল এক অদ্ভুত আনন্দে। ইনায়া কাঁদতেই থাকল। ছোট্ট হাতটা সামনে বাড়িয়ে দিয়েছে, লাল হয়ে গেছে আঙুলটা।
—” আম্মু.. ব্যাথা…চা।”
আর দেরি করল না নীহারিকা। তাড়াহুড়ো করে চোখের পানি লুকিয়ে ফেলল শ্বশুর শ্বাশুড়ির সামনে।কয়েক সেকেন্ডের স্তব্ধতা ভেঙে দ্রুত এগিয়ে এসে ইনায়াকে নিজের বুকে টেনে নিল।
—” মা আমার! আরে আরে..দেখি আঙুলটা…
তার কণ্ঠ কেঁপে গেল। সে দ্রুত ইনায়ার আঙুলটা নিজের মুখের কাছে নিয়ে ফুঁ দিতে লাগল,
—” কিচ্ছু হয়নি… কিচ্ছু হয়নি…!”
কিন্তু তার নিজের চোখে তখন পানি টলমল করছে। মাথা নিচু করে ফেলল সে, যেন কেউ দেখে না ফেলে। এক হাতে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে ইনায়াকে, যেন এই মুহূর্তটা, এই ডাকটা, সে হারাতে চায় না কোনোভাবেই। মা ডাকটা এত মধুর কেনো? এত সুন্দর কেনো? নীহারিকা কখনো ভাবতে পারেনি ইনায়ার মুখে মা ডাক শুনে তার চোখে পানি আসতে পারে? কিন্তু আসছে। বেইমান চোখদুটো অজান্তেই অশ্রু ঝরাচ্ছে। কি আশ্চর্য! নীহারিকা বুঝলো এখানে থাকলে সে বুকের ব্যাথা প্রকাশ করতে পারবেনা। তাই দ্রুত ইনায়াকে চেপে ধরে উঠে কোনোমতে আয়েশা বেগম কে বলল,
—” মা আমি ওর আঙুলে বরফ লাগিয়ে আসছি। আপনারা চা খেয়ে নিন।”
তড়িঘড়ি করে বলে নীহারিকা ছুট লাগালো রান্নাঘরে। আয়েশা বেগম ধীরে ধীরে চোখ মুছলেন। মুখে এক তৃপ্তির হাসি।
ইয়াহিয়া কবিরও মুচকি হাসলেন। বললেন,
—” জন্মদাত্রী ও জননীর মধ্যে কি তফাত আছে আয়েশা?”
আয়েশা বেগম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। চোখদুটো এখনও ভেজা। ঠোঁট কাঁপল হালকা। যেন ভেতরে জমে থাকা অনেক বছরের অনুভূতি একসাথে গলা দিয়ে উঠে আসতে চাইছে। ধীরে ধীরে চায়ের কাপটা নামিয়ে রাখলেন তিনি। তারপর খুব শান্ত, গভীর কন্ঠে বললেন,
—” তফাৎ তো আছে। অবশ্যই আছে। জন্মদাত্রী রক্ত দেয়, শরীর দেয়, দুনিয়ায় আনে। কিন্তু জননী…
একটু থামলেন তিনি। দূরে তাকালেন, বললেন,
—” জননী মন দেয়। মায়া দেয়। বুক দিয়ে আগলে রাখে। রাত জেগে সন্তানের জ্বর দেখে, কাঁদলে বুকের ভেতরটা ফেটে যায়। নিজের সুখ, নিজের ইচ্ছা, সবকিছু চুপচাপ সরিয়ে রাখে সন্তানের জন্য।”
ইয়াহিয়া কবির চুপ করে শুনছেন। তার চোখেও মুগ্ধতা। আয়েশা বেগম আবার বললেন,
—” জন্ম দেওয়া সহজ না, ঠিকই। কিন্তু মা হয়ে ওঠা, সেটা আরও কঠিন। সবাই পারে না।”
তার গলায় এবার আবেগ আরও ঘন হয়ে উঠল। তিনি রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে বললেন,
—” অনেক সময় জন্মদাত্রী হয়েও কেউ মা হতে পারে না। আবার কেউ রক্তের সম্পর্ক না হয়েও এমনভাবে ভালোবাসে, যেন সেই সন্তানের জন্যই জন্মেছে। ইনায়া আজ যাকে ‘আম্মু’ বলে ডাকলো, সে জন্মদাত্রী না। কিন্তু আমি চোখ বন্ধ করে বলতে পারি, ওই মেয়েটা জননী হয়ে গেছে। পুরোপুরি।”
ইয়াহিয়া কবির ধীরে মাথা নাড়লেন। মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।
—” ঠিকই বলেছো আয়েশা। আল্লাহ যার মনে মা হওয়ার ক্ষমতা দেন, সে-ই আসল মা। রক্ত না, ভালোবাসাই আসল। ইনায়া ভাগ্যবতী।”
রান্নাঘরের দিকে ছুটে গিয়ে দরজার আড়ালে দাঁড়াতেই যেন নীহারিকার বুকের ভেতর জমে থাকা সব অনুভূতি একসাথে বেরিয়ে আসতে চাইলো। ইনায়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সে দ্রুত ফ্রিজ খুলে বরফ বের করল। কাঁপা হাতে বরফটা কাপড়ে মুড়িয়ে আলতো করে ইনায়ার ছোট্ট আঙুলে চেপে ধরল।
—” এইতো…এইতো…আমার মা.. কিচ্ছু হয়নি..
ইনায়া কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি তুলছে, কিন্তু তার চোখ দুটো আটকে আছে নীহারিকার মুখে। ছোট্ট আঙুলটা নীহারিকার দিকে তুলে আবারও ফিসফিস করে বলল, —” আম্মু…”
শব্দটা আবারও বাজলো কানে। নীহারিকার বুকটা কেঁপে উঠল তীব্রভাবে। সে ঠোঁট কামড়ে ধরল, যেন কান্নাটা বেরিয়ে না আসে। কিন্তু পারল না। একফোঁটা, দুইফোঁটা, অশ্রু গড়িয়ে পড়ল গালে। সে দ্রুত মুখ নামিয়ে ইনায়ার কপালে চুমু খেলো।
—” আমি আছি মা…আমি আছি..চায়ের ঘ্রাণ এত পছন্দ তোর হুম? বড় হয়ে চায়ের বাগান করে দেব তোকে।”
তার গলার স্বরটা কেমন ভেঙে গেল। কিছুক্ষণ পর ইনায়ার কান্না ধীরে ধীরে থেমে এলো। বরফের ঠান্ডা ছোঁয়ায় ব্যথাটাও কমে এসেছে। নীহারিকা আলতো করে ওর আঙুলে ফুঁ দিল, যেন ব্যথাটুকুও উড়িয়ে দিতে চায়।
—” সাহসী মেয়েরা কাঁদে না, তাই না?”
ইনায়া কী বুঝলো কে জানে, কিন্তু নাক টেনে ঠিকই মাথা নাড়ল হালকা করে। তারপর আবার মাথা গুঁজে দিল নীহারিকার বুকে।
নীহারিকার বুকটা আবার মোচড় দিয়ে উঠল। সে ধীরে ইনায়ার কপালে চুমু খেলো। চোখ বুঁজে ফিসফিস করে বলল,
—” আমি পাগল হয়ে যাব। হুট করে এভাবে ঝটকা দিলে কি হয়? তোরা দুটো বাপ বেটিই সমান। একদম চমকে দিস আমাকে।”
তার গাল বেয়ে আবারো নীরব অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
কিন্তু এবার সেই কান্নায় কষ্টের চেয়ে বেশি ছিল, একটা অদ্ভুত পূর্ণতা। রক্তের সম্পর্ক থাকলেই মা হওয়া যায় না, মনের সম্পর্ক লাগে- আর এর বাস্তব প্রমাণ হয়তো নীহারিকা। একটা অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এসেছে চারপাশে। কিছুক্ষণ পর কান্না থেমে গেল ইনায়ার। সে নীহারিকা কোলে তার গলা জড়িয়ে ধরে মাথা এলিয়ে দিয়ে রয়েছে। নীহারিকা এবারে মাথা তুলল ইনায়ার। এরপর চুলোর কাছে গিয়ে ইরফানের জন্য রাখা অবশিষ্ট চা টুকু থেকে একটা ছোট্ট চামচে করে অল্প একটু চা নিল। এরপর ফু দিয়ে ঠান্ডা করে নিয়ে ইনায়ার মুখে দিল। ইনায়া খুশি হয়ে চামচ থেকে চাটুকু খেয়ে নিল। হেসে ফেলল নীহারিকা। ও আগেও খেয়াল করেছে এই মেয়ের দুধ চায়ের প্রতি খুব ঝোঁক। ঘ্রাণও পছন্দ করে ভীষণ। বড় হয়ে ইনায়া যে একজন বড়সড় চাখোর হবে তা বুঝে গেলো নীহারিকা।
ইনায়ার কপালে চুমু খেয়ে বাকি চা টুকু কাপে ঢেলে নিল নীহারিকা। বলল,
—” চায়ে আর ভাগ বসানো যাবেনা সোনা। এটা তোর বাপের ভাগ। একটু কম হলে লোকটা আবার কষ্ট পাবে। তোর মতই চা-খোর কিনা!”
ইনায়া কী বুঝলো কে জানে। কিন্তু সে আবারো নীহারিকার হাত ধরে চায়ের দিকে বাড়িয়ে দিল, যার অর্থ সে আরো খেতে চায়। নীহারিকা বড় চোখে তাকালো।
—” আয়হায়! তুই তো বেশ ভালোই চায়ের জন্য পাগল। উহুঁ আর দেয়া যাবে না। আরেকটু বড় হ। তখন খাস!”
ইরফানের জন্য কাপটা নিয়ে নীহারিকা ইনায়াকে ভালো করে কোলে নিয়ে নিল। এরপর বসার ঘরে এসে দেখলো আয়েশা বেগম কাপ গুছিয়ে নিচ্ছে। ইয়াহিয়া কবির চলে গিয়েছেন ঘরে। নীহারিকা বলল,
—’ মা আপনি রাখুন। আমি এসে গুছিয়ে নেব। উনাকে চা দিয়ে আসছি।”
আয়েশা বেগম হেসে বললেন,
—” হ্যাঁ হ্যাঁ তুই যা। আমি পারব তো। যা তাড়াতাড়ি।”
চলবে…
✨ পরবর্তী পর্ব পরশু দিন আসবে ইনশাআল্লাহ। আমি কাল বিজি থাকব।
Share On:
TAGS: অনামিকা তাহসিন রোজা, নবরূপা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নবরূপা পর্ব ২৫
-
নবরূপা পর্ব ৯
-
নবরূপা পর্ব ১৩
-
নবরূপা পর্ব ২০
-
নবরূপা পর্ব ২৩
-
নবরূপা পর্ব ১০
-
নবরূপা পর্ব ২৭
-
নবরূপা পর্ব ৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
নবরূপা গল্পের লিংক
-
নবরূপা পর্ব ১৯