Golpo romantic golpo নবরূপা

নবরূপা পর্ব ২৫


নবরূপা

পর্ব_২৫

কলমেঅনামিকাতাহসিন_রোজা

নীহারিকা বলেছিল ইরফান যেন দশ ঘন্টা ঘুমিয়ে নেয়। অথচ ইরফানের চোখে আজ ঘুমই নেই। একটুও নেই। চিন্তার রেখা পড়েছে তার কপালের ভাঁজে। বিছানায় সটান হয়ে শুয়ে ইরফান দৃষ্টি রেখেছে সিলিং ফ্যানের দিকে। চোখজোড়া স্বাভাবিক ভাবে খোলা, কিন্তু মলিনতা স্পষ্ট। ঘরটা অন্ধকার। ঘড়ির কাঁটা এগারোটায় এসে ঠেকেছে। নীহারিকা ইনায়াকে ঘুম পারিয়ে রেখে আসবে বলে সেই নয়টায় ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে, এখনো আসেনি। অথচ ইরফান তার জন্যেই অপেক্ষা করছে। নীহারিকার সাথে কথা রয়েছে তার। কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘুম আসবে বলে মনে হয় না।

আরো মিনিট দশেক পর দরজা খোলার আওয়াজে ইরফান শোয়া থেকে ঝট করে উঠে বসলো। পা টিপে টিপে সাবধানে ঘরে সদ্য প্রবেশ করা নীহা চমকে তাকিয়ে চোখ বড় করে বলল,
—” কি আশ্চর্য। আপনি এখনো ঘুমোন নি? আমি তো আপনাকে ভালোমত ঘুমোতে দেয়ার জন্যেই এতক্ষণ ঘরে আসিনি। আর আপনি চোখই বন্ধ করেন নি।”

ইরফানের মধ্যে কোনো রকম ঘুমোনোর উদ্বেগ দেখা গেল না। সে চিন্তিত সুরেই বলল,
—” ঘুম আসছে না। তোমার সাথে কথা আছে।”

নীহারিকা ঘরে ইতোমধ্যে প্রবেশ করে পরনের শাড়ির আঁচল কোঁমড়ে গুঁজে নিয়েছে। কাবার্ডের কাছে গিয়ে কিছু একটা খুঁজতে খুঁজতে বলল
—” আচ্ছা, একটু অপেক্ষা করুন। আমি চেন্জ করে আসছি।”

সারাদিন শাড়ি পড়ে থাকলেও রাতে ঘুমোনোর আগে নীহারিকা পাতলা এবং আরামদায়ক সালোয়ার কামিজ পড়ে নেয়। নাহলে ঘুমোতে পারেনা মেয়েটা। বিয়ের কয়েকদিন পর বিষয়টা অনেক অস্বস্তি নিয়ে ইরফানকে জানালে সে হেসে বলেছিল- “ঘরে তোমার যা খুশি তুমি তাই পড়তে পারো নীহা। তুমি চাইলে দিনেও সালোয়ার কামিজ পড়তে পারো। মা তো জোর করবেনা শাড়ি পড়তে। এটা ম্যন্ডাটরি না।”

কিন্তু নীহারিকা শোনে না। ঠিকই সে দিনে শাড়ি পড়েই থাকে। শুধু রাতে ঘুমটা মনের মত হওয়ার জন্য ইরফানের অনুমতি নিয়ে সালোয়ার কামিজ পড়া শুরু করেছে। ইরফান যেদিন প্রথম সেই রূপে দেখেছিল নীহারিকা কে। সেদিন অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছিল, এই পোশাকে নীহারিকা কে বেশ বাচ্চা বাচ্চা লাগে। সদ্য আঠেরোতে পা দেয়া নারীর মত স্নিগ্ধ মনে হয়। তাই এই রূপটা একটু বিশেষ ইরফানের জন্য। সে-ই তো একমাত্র নীহারিকা কে এই পোশাকে দেখতে পায়, তাও আবার রাতে। যখন পুরো পৃথিবী ঘুমিয়ে।

নীহারিকা সালোয়ার কামিজ নিয়ে ওয়াশরুমে গেলে ইরফান নিজেও বিছানা থেকে উঠে পড়ে। পরনের শার্ট টা খুলে বারান্দায় রেখে আসে। আর কাবার্ডে হাত রেখে নিজের টি শার্ট খুঁজতে থাকে। কিন্তু আশ্চর্যকর কথা হলো, এতগুলো টি শার্ট থাকা সত্ত্বেও এখন একটা টি শার্টও খুঁজে পায়না ইরফান। অনেকক্ষন খুঁজেও লাভ হয়না। সে এবারে একটু জোরে ডাকে নীহারিকা কে,
—” নীহা, আমার টি শার্ট সব কোথায়?”

নীহারিকা ওয়াশরুম থেকে স্পষ্ট কথা শুনতে পায়না। সে চেঁচিয়ে বলে,
—” শুনতে পাচ্ছি না। কী বললেন?”

ইরফান আবারো চেঁচিয়ে বললেও সেই মুহূর্তে ওয়াশরুমের ভেতর থেকে হঠাৎ করেই একটা চাপা চিৎকার ভেসে এলো। নীহারিকা কে চেঁচাতে শুনে ইরফানের বুক ধক করে উঠলো। এক সেকেন্ডও দেরি না করে সে দৌড়ে গেল দরজার কাছে। দরজাটা খোলাই ছিল। ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই যা দেখল, তাতে তার নিঃশ্বাস এক মুহূর্তের জন্য আটকে গেল। মেঝেতে পড়ে আছে নীহারিকা। ভেজা টাইলসে পিছলে পড়ে গেছে সে। তার এক হাত কোমরের কাছে চেপে ধরা, মুখে যন্ত্রণার ছাপ। ভেজা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গালে লেগে আছে। কয়েক ফোঁটা পানি এখনো গড়িয়ে পড়ছে তার কপাল বেয়ে।

ইরফানের বুঝতে সময় লাগলো না বেচারি পিছলে পড়ে গেছে।
—”নীহা!”
ইরফান ছুটে গিয়ে তার পাশে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। বাহু আঁকড়ে ধরে নিল,
—” লেগেছে? দেখি, ঠিক আছো?”

নীহারিকা চোখমুখ কুঁচকে বলল,
—” ওয়াশরুম এত পিচ্ছিল হলো কেনো শিট!”

ইরফান এবারে ধমকে উঠলো কিছুটা,
—” ওয়াশরুমে কি লুডু-ক্যারাম খেলছিলে? পড়লে কীভাবে?”

নীহারিকাও ভ্রু কুঁচকে মাথা নিচু রেখেই বলল,
—” লুডু-ক্যারাম খেলতে গেলেও অন্তত দুজনকে লাগে। আপনি থাকলে তো খেলতে পারতামই। এখানে কি ভূতের সাথে খেলব?”

ইরফান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে ফিক করে হেসে ফেলল। —” দেখি, কোথায় লেগেছে?”

নীহারিকা কাতর স্বরে বলল,
—”কোমরে… আর পায়ে…”

কথা বলতে বলতে সে মাথা তুলল—আর ঠিক তখনই থমকে গেল। তার চোখ গিয়ে আটকালো ইরফানের দিকে। এ কেমন ভয়ানক দৃশ্য! ইরফানের উন্মুক্ত শরীর দেখে নীহারিকার কি যে লজ্জা লাগলো। খালি গা, ভেজা বাষ্পে তার ত্বকটা আরও উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। বুকের পেশিগুলো স্পষ্ট, শ্বাসের ওঠানামায় নড়ছে। কাঁধ থেকে পানি ঝরছে হালকা করে। তার মুখে চিন্তা, আতঙ্ক, কিন্তু সেই দৃশ্যটা নীহারিকার চোখে যেন অন্যরকমভাবে ধরা দিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ব্যাথা ভুলে হঠাৎ করেই নীহারিকার গাল লাল হয়ে উঠল। সে তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিল। ঠোঁট কাঁপছে হালকা করে।
—”আপনি…আপনি একটু…দাঁড়ান বাইরে…”

ইরফান ভ্রু কুঁচকে বলল,
—” তুমি তো উঠতেই পারছো না। চেন্জ তো করেই ফেলেছো। এখন বাইরে যাব কেনো? ওঠো তুমি। নিয়ে যাই।”

—”না মানে… আমি ঠিক আছি… আপনি…!”
কথাগুলো জড়িয়ে গেল। সে নিজেই বুঝতে পারছে না কী বলছে।

ইরফান কিছুক্ষণ অস্বস্তিতে লাজুক লালিমায় ছেয়ে যাওয়া স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রইলো। বেশ খানিকটা সময় পর বুঝে গেলো কেনো তার বউ এমন করছে।একটা হালকা নিঃশ্বাস ফেলল সে। ঠোঁটের কোণে খুব ক্ষীণ একটা হাসি ফুটে উঠল—কিন্তু সেটা চেপে রাখল। নরম স্বরে বলল,
—” নিজে হেঁটে এসো তাহলে। গেলাম আমি।’

কথাটা এতটাই স্বাভাবিক, এতটাই শান্ত ছিল—যে নীহারিকা আর কিছু বলতে পারল না। চোখ নামিয়েই রইল। ইরফান ধীরে ধীরে উঠে বেরিয়ে গেলো। নীহারিকা সাথে সাথে দম ফেলল। অনেকক্ষণ যাবৎ মনে হয় শ্বাস আটকে রেখেছিল। কি আশ্চর্য! লোকটা হুট করে এভাবে নিজের বডি শো অফ করতে এসেছিল কেনো? সে কি দেখাতে এসেছে যে তার নায়কের মত ফিট বডি আছে? কেনো? শো অফ এর কি আছে এতে? জামাকাপড়ের কি অভাব হয়েছে? নাকি লজ্জা শরম নেই? ছি ছি কিসব বাজে অবস্থা!

নীহারিকা নিজেই লজ্জায় মূর্ছা গেলেও ইরফানের মাঝে কোনো লজ্জা নেই। সে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে আবারো সেই শার্ট গায়ে জড়াতে জড়াতে বিড়বিড় করে নিজের স্ত্রীর উদ্দেশ্যে হতাশ গলায় বলল,
—” এমন করছে যেন আগে কখনো দেখেনি, ছোঁয়নি, কিছুই করেনি। বিড়ালের মত কাঁমড়-আঁচড় তো ভূতে দিয়ে গেছিল মনে হয়। হাহ! দেখাদেখি, ছোঁয়াছুঁয়ি, কামড়াকামড়ি সব চুকিয়ে এখন লজ্জায় মরে যাচ্ছে মেয়েটা! নাটক দেখে ঘুম পেয়ে গেল আমার।”

নীহারিকা অনেকক্ষণ বসে থেকে ব্যাথাটা সয়ে নিল। এরপর ধীরে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল। কিন্তু দুঃখের কথা ও কোনোভাবেই দাঁড়াতে পারল না। পায়ের ব্যাথাটা মনে হচ্ছে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেই বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাথা টা পুরো ব্রেনে গিয়ে আঘাত করছে নীহারিকার। সে বেশ বুঝলো পা টা মচকে গেছে। কিন্তু এখন কি সে এভাবেই বসে থাকবে নাকি সারারাত। শেষে সব কিছু ভুলে নীহারিকা ভীষণ মিষ্টি করে ডাক ছুঁড়লো,
—” মিস্টার কবির…মিস্টার কবির..”

ইরফান জানতো তার ডাক পড়বে। সেই অপেক্ষায় ওয়াশরুমের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ইরফান ফট করে ঢুকে গিয়ে বেশ ভাব নিয়ে কলার ঝেড়ে জিজ্ঞেস করল,
—” ইয়েস মিসেস কবির, হাও ক্যান আই হেল্প ইউ?”

নীহারিকা মেকি হাসলো। নিজের পায়ের দিকে ইশারা করে বলল,
—” পা টা বেজায়গায় ফেঁসে গেছে। দাঁড়াতে পারছি না। হয় পা টা ঠিক করে দিন, আর না হয় প্লিজ ক্যারি মি…
বলেই দু হাত বাড়িয়ে তাকে কোলে নিতে বলল নীহারিকা। ইরফানের মধ্যে কোনো ভাব দেখা গেলো না। মনে মনে হাসলেও এখন সে বেশ গম্ভীর ভাবে বলল,
—” ৫৮ কেজি ওজন তোমার। কোলে নিতে পারবনা। আমার হাত ব্যাথা করবে।”

নীহারিকা চোখ সরু করে তাকালো। বিড়বিড় করে বলল,- আপনার এই জাদুটোনা সরাতে গিয়ে আমার ওজন এখন ৫৬ তে নেমেছে। তবুও মুখে আনতে পারলো না সে। বেশ বুঝলো ইরফান ইচ্ছে করে টিজ করছে। তাই নীহারিকা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কঠিন বাস্তবটা বলেই দিল,
—” আপনার ওজনও ৭২ কেজি। প্রয়োজনীয় সময়ে এটা অবশ্যই মনে রেখে আমার সাথে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখবেন।’

খুক খুক করে কেশে বৃহৎ নয়নে তাকালো ইরফান। সে মোটেও এমন কিছু আশা করেনি। বুদ্ধিমান সে। অবশ্যই নীহারিকার কথার মানে বুঝেছে। তবুও এবারে সে নিজেকে সামলে এগিয়ে এলো। নীহারিকাকে ধরে কোলে তুলে নিল এক ঝটকায়। এক হাত তার পিঠে, আরেক হাত হাঁটুর নিচে। খুব সাবধানে তুলে নিল কোলে। ফট করে বেফাঁস কথা বলার পরেও নীহারিকার নিঃশ্বাস আটকে গেল হালকা করে। এত কাছ থেকে, এতটা নির্ভরতায়, তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন হয়ে উঠল।

মেয়েটাকে বিছানায় এনে খুব সাবধানে বসিয়ে দিল ইরফান। তারপর নিচু হয়ে নীহারিকার পায়ের দিকে তাকাল।
—”কোথায় লেগেছে দেখাও।”

নীহারিকা মাথা নাড়ল,
—” ঠিক হয়ে যাবে। আপনি সরুন। পায়ে হাত দেবেন না।”

ইরফান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। চাপা কন্ঠে বলল,
—” এমনিতেই নিজের জবানের তালা খুলে ফেলেছো একটু আগে। এখন আমারো মুখ খুলতে বাধ্য কোরো না। পায়ে কি শুধু হাত দেয়া বাকি আছে আমার? এটা কি প্রথম?”

ইঙ্গিত বারবার একই দিকে যাচ্ছে দেখে নীহারিকা চোখ বড় করে তাকালে ইরফান নিজেই পা টেনে নিল। নীহারিকা এবারে আর্তনাদ করে উঠলো ব্যাথায়,
—” আস্তে…

ইরফান খুব সাবধানে আলতো করে পা টা ধরে দেখল। আঙুলের ছোঁয়া খুবই সাবধানী—যেন সে ভেঙে যাবে। নীহারিকার চোখ আবারও আটকে গেল তার উপর। এই মানুষটা, যে মানুষটা বলেছিল সে তাকে ভালোবাসে না। অথচ সেই মানুষটার স্পর্শে এত যত্ন, এত ভালোবাসা কেন টের পাওয়া যায়? যেন লোকটার মধ্যে তাকে হারানোর ভয় লুকিয়ে আছে।

নীহারিকার বুকটা হালকা কেঁপে উঠল। সে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিল। চোখের কোণে জমে ওঠা অদৃশ্য এক অনুভূতিকে লুকিয়ে। ইরফান অনেকটা সময় ধরে পায়ে হাত বুলিয়ে দেখে বলল,
—” এখানে বোসো। আমি মলম আনছি। শক্ত হাতে একটু মাসাজ করে দিলে সকালে ঠিক হয়ে যাবে।”

নীহারিকা বাঁধা দিল না। ইরফান মলম আনতে গেলে হুট করেই নীহারিকার মাথায় কিছু একটা উদয় হয়। সাথে সাথে ও কিছুক্ষণ আগের স্মৃতিচারণ করে এসে থমকে গিয়ে ইরফানকে ডাকতে শুরু করে,
—” ইরফান! ইরফান! এদিকে আসুন তো।!”
মুখে হাসি উপচে পড়ছে নীহারিকার। কিছু একটা খুশির খবর মনে হয় সে জানতে পেরেছে বা আবিষ্কার করতে পেরেছে।

ড্রয়ারে মাত্র পাওয়া মলমটা হাতে নিয়ে ইরফান ভ্রু কুঁচকে তাকালো। মেয়েটা কি আজকে পাগল হয়ে গেছে? তখন থেকে কি শুরু করেছে। মনের কথা মনেই দাফন করে ইরফান হাতে মলম নিয়ে এগিয়ে এলো। কিন্তু এসে বিছানায় বসামাত্রই তার উপর যেন হামলা হলো। নীহারিকা যত দ্রুত সম্ভব খুব তাড়াহুড়ো করে ইরফানের শার্টের বোতাম খোলাতে উদ্যোত হলে চমকে গিয়ে ছিটকে যায় ইরফান।
—” আরে আরে কী করছো?”
—” আহহা! সমস্যা কি আপনার? এদিকে আসুন। শার্টটা খুলুন তো। দ্রুত। খুলুন বলছি ফাস্ট।”
বলতে বলতে নিজেই বোতামের দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে নীহারিকা।

ইরফান রীতিমতো চমক খেলো। আহাম্মকের মত তাকিয়ে রইলো সে। তার মনে হলো নীহারিকা আসলেই পাগল হয়ে গেছে। সে অবাক হয়ে বিড়বিড় করতে বাধ্য হলো,
—’ যেই মেয়ে একটু আগে আমাকে খালি গায়ে দেখে লজ্জায় টমেটো হয়ে যাচ্ছিল, সে নিজেই এখন জবরদস্তি করে শার্ট খোলাতে চাইছে কেনো? হচ্ছে টা কি এসব?”

ইরফানের ভাবনাতে এক বালতি নিরাশার পানি ফেলে নীহারিকা আরো বেশি এগিয়ে এসে ইরফানের শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করল। সে খুবই আগ্রহী কিছু একটা দেখার জন্য। ইরফান নিজেও এবার চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে স্ত্রীকে সহায়তা করল কাজটা শেষ করতে। না জানি কী দেখার জন্য এমন করছে মেয়েটা।

পুরোপুরি শার্টটা খুলে বিছানার পাশে অযত্নে ফেলে দিলে নীহারিকার চোখ টলমল করে ওঠে। হুট করে উচ্ছ্বসিত বউয়ের চোখে পানি জমতে দেখে ইরফানও অবাক হয়। সতর্কও হয় একটু। সে অবলীলায় তাকিয়ে থাকে নীহারিকার দিকে, যেই মেয়ে কিনা এখন খুব আবেগী চোখে ইরফানের বুকের দিকে তাকিয়ে আছে। সে আস্তে করে ইরফানের শার্টহীন বুকে হাত রাখল। স্পর্শটা লাগতেই যেন শরীর দিয়ে এক অদ্ভুত স্রোত বয়ে গেল ইরফানের। তবে হাত সরিয়ে নিল না মেয়েটা। ইরফান কিছু বলল না। শুধু নিজেকে সামলিয়ে তাকিয়ে রইলো নীহারিকার দিকে। মেয়েটা কি তাকে মে”রে ফেলতে চাইছে?

কয়েক সেকেন্ড পর নীহারিকা চোখে পানি নিয়েই হেসে ইরফানের দিকে তাকিয়ে বলল,
—” ইরফান দেখুন, আপনার শরীরের দাগগুলো এখন নেই। একদম ভ্যানিশ হয়ে গেছে। একটুও দাগ নেই। বুকের কাটা দাগটাও নেই। কালচে দাগগুলোও নেই। কিচ্ছু নেই। কিচ্ছু না। দেখুন। “

ইরফান নিজেও খেয়াল করেনি এতক্ষণ। নীহারিকার কথা শুনে সেও যেন স্তব্ধ হলো। নিজের দিকে তাকিয়ে অবাক হলো। আসলেই কোনো দাগ নেই। একদম উধাও হয়ে গেছে সব। মনে হচ্ছে কিছু ছিলই না এখানে। তারমানে নীহারিকা ওয়াশরুমে তখন বিষয়টা দেখেও খেয়াল করতে পারেনি, পরে মনে পড়লে বুঝতে পারে, উপলব্ধি করার পরই উদগ্রীব হয়ে যায়। ইরফান এবারে নীহারিকার দিকে তাকালো। নীহারিকার ঠোঁটে হাসি, মন ঝরানো হাসি, বুকে ব্যথা বাড়িয়ে দেয়ার মত হাসি। সামান্য এটুকুতেই মেয়েটা এত খুশি! এতটা! ইরফান অবাক হয় নীহারিকার এমন আনন্দ দেখে। সে উপলব্ধি করতে পারে নীহারিকা নিজের কিছুর থেকে অন্যের আনন্দে বেশি খুশি হয়।

নীহারিকা এবারে থেমে থাকলো না। ইরফানের কাঁধে হাত রেখে উঁকি মেরে একবার পিঠ থেকেও নজর বুলিয়ে এনে রীতিমতো চেঁচিয়ে বলল,
—” পিঠেও দাগ নেই ইরফান। কিচ্ছু নেই। আপনি ঠিক হয়ে গেছেন। একদম ঠিক হয়ে গেছেন। আর কিচ্ছু হবেনা। আপনার কিচ্ছু হবেনা আর।”

ইরফানের বুকটা যেন হালকা কেঁপে উঠল। সে নিজের দিকে তাকিয়ে আবার নীহারিকার দিকে তাকালো। মেয়েটার চোখে যে আনন্দ, ওটা কৃত্রিম না, কোনো অভিনয় না। নিখাদ, নির্মল- একেবারে অন্তর থেকে উঠে আসা। এতদিন ধরে নিজের শরীরের এই দাগগুলো যেন তার জীবনের অভিশাপ ছিল। প্রতিটা দাগ একটা করে স্মৃতি, একটা করে ভয়, একটা করে অন্ধকার। আর আজ—সব উধাও। কিন্তু তার চেয়েও বেশি অবাক করল নীহারিকাকে। সে এতটা খুশি, যেন এই মুক্তিটা তার নিজের।

নীহারিকা ইরফানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিভে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
—” কী ব্যাপার? আপনি খুশি হন নি?”
—” হয়েছি তো।”
—” তবে হাসছেন না যে।”

ইরফান তবুও হাসলো না। এগিয়ে গিয়ে নীহারিকার কপালে চুমু খেয়ে নিল সময় নিয়ে। মাথা নামিয়ে নীহারিকার চোখে চোখ রেখে বলল,
—” সব আনন্দেই হাসতে নেই, কিছু আনন্দে কাঁদতেও হয়।”

নীহারিকা আবারো হেসে চোখের পানি মুছলো,
—” তবে আমার মত কাঁদতে কাঁদতে হাসুন।”

ইরফান ধীরে বলল,
—” তুমি কাঁদছো কেনো?”

নীহারিকা চোখ ভেজা অবস্থাতেই মাথা নাড়ল,
—” ওই রাতে যখন দাগ গুলো দেখেছিলাম, তখনই বুকটা ধ্বক করে উঠেছিল আমার। সুস্থ স্বাভাবিক ইরফান কবিরকে দেখার বড়ই তৃষ্ণা পেয়েছিল। এভাবে আপনাকে দেখাটা স্বপ্ন ছিল। আমি ভাবতেই পারিনি দাগগুলো এত জলদি একদম ভ্যানিশ হয়ে যাবে জাদুর মত। তাই খুশি হয়েছি, আবার কান্নাও পাচ্ছে। এটাকে স্পেশাল আনন্দ বলে। আপনি বুঝবেন না।”

ইরফান ফিক করে হেসে উঠলো। নীহারিকা কে এই মুহুর্তে তার মোটেই সেই শক্ত সবল, সাহসী, লড়াকু নীহারিকা মনে হচ্ছে না। একটা মিষ্টি, আদুরে, পুতুলের মত বউ মনে হচ্ছে৷ হঠাৎ করেই নীহারিকা আর নিজেকে সামলাতে পারল না। দ্রুত এগিয়ে এসে ইরফানকে জড়িয়ে ধরল।
—” আলহামদুলিল্লাহ!”
শব্দটা খুব আস্তে বের হলো তার ঠোঁট থেকে। কিন্তু তাতে এমন এক কাঁপা অনুভূতি মিশে ছিল—যেটা সরাসরি গিয়ে লাগল ইরফানের বুকের ভেতর। ইরফান থমকে গেল প্রথমে। তারপর খুব ধীরে, খুব সাবধানে, সেও হাত তুলে নীহারিকার পিঠে রাখল।

কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলল না। শুধু দুজনের নিঃশ্বাস আর নীরব একটা শান্তি। এরপর নীহারিকা ধীরে সরে এলো। চোখ মুছে নিয়ে একটু লজ্জা মেশানো হাসি দিল,
—” আমি একটু বেশি এক্সাইটেড হয়ে গিয়েছিলাম..!”
ইরফান তাকিয়ে রইল তার দিকে। কিছু একটা বলতে চাইল। কিন্তু থেমে গেল। তার বদলে ধীরে বলল,
—” তুমি না থাকলে, আমি বোধহয় আজও ওই দাগগুলোর সাথে বেঁচে থাকতাম।”

নীহারিকা মাথা নাড়ল,
—” না। আপনি মুক্ত হতেনই। শুধু সময়টা একটু বদলে যেত।”

ইরফান হালকা হেসে বলল,
—” তুমি সবকিছুকে এত সহজ করে বলো কেন?”
—” কারণ কঠিন করে ভাবলে ভয় পেয়ে যাই।”
খুব শান্তভাবে বলল নীহারিকা। আবার কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইরফান মলমটা তুলে নিয়ে বলল,
—” এখন পা-টা দাও। আমার দাগ সারিয়েছো, এখন আমি তোমার ব্যাথা সারিয়ে দিই।”

নীহারিকা ফিক করে হেসে ফেলল। তবে হালকা ভ্রু কুঁচকে বলল,
—” দরকার নেই মনে হয়। ব্যাথা নেই আমার। চলে গেছে।”

—” হুম। বললেই হলো তাই না? অবাধ্য হবেনা নীহা! আমি কিন্তু সবসময় ভালো স্বামী নই।”

নীহারিকা আবারো হাসলো,
—” ভয় পাই নাকি? হুহ! একটুও না।”

ইরফান এক ঝটকায় নীহারিকার পা টেনে মলম লাগানো শুরু করে বলল,
—” ভয় পাও না ভালো কথা। ভবিষ্যতেও যে পাবেনা তার গ্যারান্টি কই?”

ইরফান খুব মন দিয়ে মলম লাগাতে লাগল। আলতো করে, যত্ন করে। যেন সামান্য ব্যথাটাও সে নিজের হাতে কমিয়ে দিতে চায়। নীহারিকা তাকিয়ে রইল তার দিকে। এই মানুষটা বলে সে ভালোবাসে না। কিন্তু এই স্পর্শ… এই যত্ন… এই ভয়…এসব কিছুর নাম কি? তার বুকের ভেতর আবারও কেমন যেন হয়ে উঠল। সে ধীরে চোখ নামিয়ে ফেলল। আর ঘরের ভেতর সবকিছু ঠিক হয়ে যাওয়ার পরও, নতুন কিছু খুব নিঃশব্দে শুরু হয়ে গেল।

মলম লাগানো শেষ হলে নীহারিকা হেসে লাফিয়ে ঘুমোনোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করতে চায়। ইরফান সেখানেই বসে মলমটা প্যাকেটে ঢুকিয়ে রাখতে রাখতে কিছু একটা ভাবে। নীহারিকা আজ তাকে অনেকবার অস্বস্তি তে ফেলেছে। ইচ্ছে কে টিজ করেছে। সেও তো কম যায়না। চাইলে এখনই করতে পারে। যেই ভাবনা সেই কাজ। ইরফান এবারে মলমটা বেড সাইড টেবিলে রেখে হুট করেই ঝুঁকে এলো নীহারিকার দিকে। হাসিখুশি থাকা নীহারিকা হুট করেই শ্বাস আটকে যাওয়ার মত করে বালিশের দিকে হেলে গেলো একটু। আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল,-
—” ক-কী হয়েছে?”

এরমধ্যেই ইরফান আরো কাছে চলে এলো। আধশোয়া হয়ে পড়লো নীহারিকার উপর। তার দুই পাশে দুই হাতে ভর দিয়ে ঝুঁকে যেতে থাকলো একটু একটু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে তার সাথে তাল মিলিয়ে নীহারিকাও একটু একটু করে পেছাতে থাকলো। লোকটা এভাবে কাছে আসছে কেনো? তাও আবার উদাম গায়ে। কী চাচ্ছে এখন? এমন তো হওয়ার কথা না। উনি না জেন্টালম্যান!

নীহারিকা নিজের বালিশের ছুঁইছুঁই হওয়াতে জিজ্ঞেস করল কাঁপা কন্ঠে,
—” ক-কী হ-হচ্ছে এসব?”

ইরফান হাসি চেপে রাখার চেষ্টায় থেকে গম্ভীর কিন্তু নেশালো কন্ঠে বলল
—” ভাবছি…”

—” ক-কী ভাবছেন?”
কাঁপা কন্ঠ নীহারিকার।’

—” ভাবছি শার্টটা যখন খুলিয়েই ছাড়লে, তখন শুধু শুধু তো আর ছেড়ে দেয়া যায়না। আমি আবার কোনো কিছুতেই লস প্রজেক্ট পছন্দ করিনা। তাই ওটা নিয়েই নিই।”

নীহারিকা চোখ পিটপিট করে তাকালো। তার বলতে ইচ্ছে করল, —” আপনাকে শার্ট পুনরায় পরিধান করতে মানা করেছে কোন বাঁদরে? পড়ে নিন। কে ধরে রেখেছে? ” কিন্তু কথা মুখে আনতে না পেরে নায়িকাদের মত করে কাঁপা কন্ঠে বলল,
—” মা–মানে?’

ইরফান আরো ঝুঁকতে থাকলো,
—” মানে….

—” মানে কী?”

ফিসফিস কন্ঠ ইরফানের,
—” মানে হলো…

—” ক–কী?”

—” মানে… একটা জিনিস…খুব দরকার।’

—’ ক– কী দরকার?”
বলেই নীহারিকা যখন বাস্তবতা মেনে নিয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলল, তখন ইরফান নীহারিকার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,

—” একটা টি-শার্ট দরকার। আই মিন, যখন শার্টটা খুলেই ফেলেছি, তাহলে টি-শার্ট পড়ে নেয়া বেটার। তখন থেকে একটাও খুঁজে পাচ্ছি না। কোথায় রেখেছো? একটু খুঁজে দাও। আমি তো এভাবে উদাম হয়ে থাকতে পারিনা। লজ্জা লাগে।”

কিছু মুহুর্তের জন্য পুরো ঘর নিস্তব্ধ রইলো। তারপর, নীহারিকার চোখ দুটো হঠাৎ করেই খুলে গেল। সে কয়েক মুহূর্ত ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ইরফানের দিকে। তারপর ধীরে ধীরে তার মুখের অভিব্যক্তি বদলাতে লাগল। আতঙ্ক এরপর অবিশ্বাস, তারপর রীতিমতো নাকমুখ কুঁচকে সে ক্ষোভ চেঁচিয়ে উঠলো,
—” কীইই??”
এক ঝটকায় সে উঠে বসে পড়ল। মুখটা লাল হয়ে গেছে। লজ্জায়, রাগে, অপমানে সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অবস্থা।
—” আপনি…আপনি সিরিয়াসলি… এইজন্য??”

ইরফান এবার আর ধরে রাখতে পারল না। ফিক করে হেসে ফেলল।
—” হ্যাঁ। এতক্ষণ ধরে খুঁজছি, একটা টি শার্টও পাচ্ছি না। তাই আর কি।”
—” তাই বলে… এইভাবে?ো
নীহারিকা রীতিমতো হাঁ করে তাকিয়ে আছে।
—” আমি তো ভাবলাম…
কথাটা শেষ করার আগেই সে থেমে গেল।

ইরফান ভ্রু তুলে তাকাল, ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি,
—” কী ভাবলে?”
—” কিচ্ছু না!”
ঝট করে মুখ ফিরিয়ে নিল নীহারিকা। ইরফান একটু ঝুঁকে আবারও বলল,
—” না না, বলো না…কী ভাবলে?”
—” আপনার মাথা।”
—” তারপর?’
—” উফ! কিছুই ভাবিনি বলেছি তো!”
—” তাহলে চোখ বন্ধ করে আত্মসমর্পণ করলে কেনো?’
এই কথাটা শোনার সাথে সাথে নীহারিকার গাল একেবারে টকটকে লাল হয়ে গেল। সে ধাক্কা দিল লোকটাকে,
—” ইরফান!”
রাগে বালিশ তুলে সরাসরি ছুঁড়ে মারল ইরফানের দিকে।
—” আপনি একটা… একটা..
—” কী?”
—” বিরক্তিকর মানুষ!”
ইরফান হেসে বালিশটা সরিয়ে রেখে বলল,
—” আচ্ছা ঠিক আছে, রাগ কোরো না। সত্যিই দরকার ছিল। আমি শার্ট পড়ে ঘুমোতে পারবনা। টি শার্ট খুঁজে দাও।”

নীহারিকা মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। কয়েক সেকেন্ড কিছু বলল না। তারপর হঠাৎ করেই উঠে দাঁড়িয়ে কাবার্ডের দিকে গেল। জোরে দরজা খুলে কোথ থেকে যেন একটা টি শার্ট টেনে বের করে এনে ইরফানের দিকে ছুঁড়ে দিল।
—” নিন! পড়ুন! আর আমার সামনে এমন নাটক করবেন না। “

ইরফান টি শার্টটা হাতে নিয়ে একটু হাসল। কি আশ্চর্য! সে খুঁজলো তখন পেলো না। অথচ নীহা গেলো আর নিয়ে এলো। নীহারিকার কথা শুনে ইরফান বলল,
—” নাটকটা কিন্তু তুমি আগে শুরু করেছিলে, শার্ট খুলে দিয়ে।”
—” চুপ!”
নীহারিকা এবার সত্যিই লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে চাইলো। সে তাড়াতাড়ি বিছানায় উঠে কম্বল টেনে নিল নিজের উপর।
—” লাইট অফ করুন আর ঘুমান!”

ইরফান টি শার্ট পরে নিল ধীরে ধীরে। তারপর লাইট অফ করে বিছানায় এসে শুয়ে পড়ল। ঘর অন্ধকার। কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা। তারপর অন্ধকারেই খুব আস্তে ইরফানের গলা শোনা গেল,
—” নীহা…!”
—” কী?”
—” তুমি কিন্তু সত্যিই ভেবেছিলে.. আমি..!”
—” একদম চুপ থাকবেন!”
এইবার সত্যিই রেগে গেল নীহারিকা। ইরফান হালকা হেসে চুপ করে গেল। মেয়েটাকে জ্বালাতে ভালো লাগলো। কেমন করে লাল হয়ে গেল মুহুর্তেই। কিন্তু অন্ধকারের আড়ালে, নীহারিকার ঠোঁটের কোণে খুব ছোট্ট একটা হাসি ফুটে উঠল। লজ্জা, রাগ, আর অদ্ভুত এক মিষ্টি অনুভূতি মিশে, আজকের রাতটা একটু আলাদা হয়ে গেলো বোধহয়। অনেকদিন পর একটা স্বাভাবিক রাত পেলো, একটা নিশ্চিন্তের নিদ্রার সুযোগ পেল।

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply