Golpo romantic golpo নবরূপা

নবরূপা পর্ব ১৫


নবরূপা

পর্ব_১৫ ( সত্য উপলব্ধি 🔥)

কলমেঅনামিকাতাহসিন_রোজা

পিচঢালা রাস্তায় পুরোদমে চলছে ইরফানের গাড়ি। হাতে কোল্ড ড্রিংকের একটা ক্যান নিয়ে আরেক হাত দিয়ে অনায়াসে ড্রাইভ করছে সে। দৃষ্টি নিবদ্ধ সামনের রাস্তায়। এমন একটা ভাবে আছে যেন আশেপাশে কেও নেই। অথচ ড্রাইভিং সিটের পাশেই বসে রয়েছে তামান্না। পরনে মেরুন রঙের বোরকা,হিজাব বেঁধেছে আলগা করে। দৃষ্টি আড়চোখে মাঝে মাঝে ইরফানের দিকে যাচ্ছে। এক হাতে ড্রাইভ করার মত সুন্দর আকর্ষণীয় দৃশ্যটা সে কোনোভাবেই মিস করতে চাইছে না। মানুষের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কার্যকর সর্বদা। ইরফান তাই পাশে না তাকিয়েই বুঝতে পারলো তামান্না তাকেই দেখছে। কিছু বলল না সে। তবে মনে মনে একটু অস্বস্তি বোধ করলো। পরিবেশ স্বাভাবিক ও নিজের অস্থিরতা দূর করতে সে নিজেই বলে উঠলো,
—” এবারে কতদিনের জন্য যাবে?”
তামান্না অবাক হলো না। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
—” সাত দিনের মত।”
ইরফান মাথা নেড়ে বলল,
—” এবার হঠাৎ এত কম দিন কেনো? আগে তো ১০-১৫ দিনের আগে ফিরতে না।”
তামান্না মলিন হেসে গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো। বলল না কিছুই। একটু পর ইরফানের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
—” একটা কথা জিজ্ঞেস করব ইরফান ভাই?”
—” বলো!” ছোট করে জবাব দিলো ইরফান।

তামান্না নিজের ঠোঁট ভিজিয়ে জিজ্ঞেস করল,
—” ভাবি কি…মানে আমার মাঝে মাঝে ভাবিকে খুব অদ্ভুত লাগে। কেমন যেন অদ্ভুত ব্যবহার করে আমার সাথে। আপনার কাছে কী মনে হয়?”

ইরফান চট করে তাকালো তামান্নার দিকে। তৎক্ষনাৎ গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে ঠান্ডা দৃষ্টি ফেলে বরফের মত কন্ঠে থেমে থেমে বলল,
—” খবরদার তামান্না! I warn you! Don’t try to wash my brain! Don’t do that f’u’c’king mistake again!”

তামান্না কেমন করে যেন হাসলো। ঠোঁট ভিজিয়ে হাসিটা আরো দীর্ঘ করে একটুখানি নিচু স্বরে বলল,
—” কেনো ইরফান ভাই? একই ভুল আবারো করার ভয় পাচ্ছেন?”

ইরফান শান্ত ভঙ্গিতে তাকালো। চোখে আগুন ঝরছে। কোনো কারনে দৃষ্টি একদম ঝাপসা হয়ে গিয়েছে তার। সেভাবেই কোনোমতে বলল,
—” সেই ভয় পেলে তোমাকে কবেই আজিমপুর কবরস্থানে রেখে আসতাম! সেই ভয় পাইনা বলেই এখনো এই শ্বাস চলছে! এই জবান চলছে।”

তামান্না মলিন হেসে দৃষ্টি কাতর করে মাথা নিচু করলো। এরপর আবারো আগের ন্যয় মিইয়ে গিয়ে টেনে টেনে বলল,
—” এই জবান তো এমনি এমনি চলছে না ইরফান ভাই। একটা জিনিস তো আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। আপনার সংসার, আপনার স্ত্রী – সবই আমার হাতের মুঠোয়।”
ইরফান ঘৃণ্য দৃষ্টি ফেললে তামান্না ফিক করে হেসে বলে,
—” পরোক্ষভাবে। আপনার থেকে ভালো আর কে জানে?”

ইরফান এবারে স্টিয়ারিং এ রাখা হাতটা একদম শক্ত করলো। ধীর গলায় ঘৃণা মিশিয়ে দাঁত খিঁচে বলল,
—” এবার গিয়ে আর ফিরে এসো না তুমি। দোয়া করব যেন আর ফিরে আসতে না হয় তোমাকে। হয় চলে যাও, হারিয়ে যাও আর নাহয় — মরে যাও!”

বলেই আর দেরি করলো না ইরফান। বিরক্তিকর ভঙ্গিতে দ্রুত গাড়ি স্টার্ট করে আগের থেকেও বেশি স্পিডে গাড়ি চালাতে শুরু করলো। এই বিপদকে যতক্ষণ না পর্যন্ত নিজের কাছ থেকে সরাতে পারছে ততক্ষণ শান্তি পাবে না ইরফান। তামান্না শুকনো ঢোক গিলে তাকিয়ে রইলো ইরফানের শক্ত চোয়ালের দিকে। দৃষ্টিটা এবারে কঠিন নয়, কোমল ও কাতর! আফসোসে ভরা দৃষ্টি!


বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যয়ার আভা আকাশে ছড়িয়ে পড়তেই ইয়াশা কোচিং থেকে ফিরে এসে নীহারিকা কে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য একটু আড্ডা দেয়া। ইয়াশা রীতিমতো জোরপূর্বক নীহারিকা কে নিজের বিছানায় বসিয়ে রেখে ওয়াশরুমে গিয়েছে। যাওয়ার সময় ইয়াশা পাশের ঘর থেকে এনে নীহারিকার হাতে ফ্যামিলি অ্যালবাম টা দিয়ে বলেছে,
—” নাও ভাবি। তুমি আমাদের ফ্যামিলি অ্যালবাম টা দেখতে থাকো। আমি ফট করে গিয়ে চট করে গোসলটা সেড়ে আসি। এরপরই গল্প করব।”

নীহারিকা জবাবে হেসে সম্মতি দিলে ইয়াশা দ্রুত গোসল করতে চলে যায়। নীহারিকা কিছুক্ষণ বসে পুরো ঘরটা দেখে অ্যালবামটা হাতে নেয়। দেখেই মনে হলো খুব একটা পুরোনো অ্যালবাম নয়। আবার হতেও পারে। নীহারিকা এটা ভেবেছে অ্যলবামটা এতটা ঝকঝকে পরিষ্কার দেখে। অ্যালবাম খুলতেই প্রথম ছবিটাতে আয়েশা বেগম ও ইয়াহিয়া কবিরের বিয়ের ছবি চোখে পড়ে নীহারিকার। সাথে সাথে মুচকি হাসে সে। কি সুন্দর লাগছে দুজনকে এখানে! একদম পারফেক্ট জুটি! সেই কালে তাহলে এত সুন্দর জুটি ছিল তারা?

নীহারিকা হেসে একটার পর একটা পাতা উল্টাতে থাকলো। ইয়াহিয়া কবির এবং আয়েশা বেগমের বিয়ের ছবি থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ইরফানের ছোটবেলার ছবিও দেখতে পেল সে। সাথে সাথে দুষ্টু হাসিতে ভরে গেল নীহারিকার ঠোঁট। একটা ছবি সে অ্যালবামের পাশ থেকে বের করে দেখতে থাকলো খুব কাছ থেকে। মানতেই হবে ইরফান কবির ছোটবেলাতে একদম মিষ্টি টমেটোর মত ছিল! কি সুন্দর ফর্সা লাল গাল দুটো! নীহারিকার মন চাইলো গাল দুটো টেনে দিতে, কিন্তু এখন তো এই গাল আনতে গেলে তাকে বহুত ঝড়ঝাপটা পার করতে হবে। আর সেই গাল যে এখন আগের মত নরম আছে তারও তো কোন গ্যারান্টি নেই। ফিক করে হেসে ফেলল নীহারিকা।

এরপরে ধীরে ধীরে পাতা উল্টাতে থাকলো। ইয়াশারও ছোটবেলার ছবি দেখে সে হতবাক না হয়ে পারলো না। ইনায়া তবে ইয়াশারই কার্বন কপি হয়েছে! একদম ফুফুর চেহারা পেয়েছে! কি মিষ্টি! নীহারিকা আবেশে হেসে ফেলল।

তবে হুট করে একটা ছবিতে এসে থেমে গেল তার দৃষ্টি। হাসি নিভে গেল। আঙ্গুল বাড়িয়ে সে অ্যালবামের ছবিটিতে ছুঁয়ে দিল। ছবিটাতে ইরফান কবিরকে বর সাজা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, কিন্তু পাশে বউ নেই অর্থাৎ ছবিটা ছিঁড়ে ফেলেছে কেও। দেখেই বোঝা গেল বিয়ে পড়ানোর সময় ছবিটা তোলা হয়েছে। কিন্তু ছবিটা অর্ধেক ছেঁড়া কেন? বউয়ের ছবি দেখা গেল না কেন? হুট করে নীহারিকার মনে পড়ে গেল সে এখন পর্যন্ত ইরফানের প্রথম স্ত্রী তাহিয়ার ছবি দেখেনি। শুধু তাই নয়! এ বাড়ির কোনো জায়গায়, কোনো কোণাতেও তাহিয়ার কোনো স্মৃতি নেই, এমনকি নীহারিকা ইরফানের ঘরে, ইরফানের আলমারিতে, ফোনে কোথাও কোনো কিছুই দেখেনি। ছিটেফোঁটাও নেই তার স্মৃতির! নীহারিকা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থেকে ছবিটা আগের জায়গায় রেখে দিল।

দেখতে থাকলো আবারও। কিন্তু এবারে তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিল। ধীরে ধীরে তার চোখ এমন হলো যে সে পাগলের মত প্রত্যেকটা পাতা উল্টাতে থাকলো এবং দেখতে থাকলো। কিন্তু প্রত্যেকবারই হতাশ হয়ে খেয়াল করলো, একটা ছবি তেও তাহিয়ার চেহারা নেই। যেখানেই তাহিয়ার ছবি থাকার কথা, সেই জায়গাগুলোতেই ছেঁড়া, এমনকি ইনায়ার জন্মের সময় হসপিটালে একটা ছবিতেও তাহিয়ার ছবিটা কেটে দেওয়া, শুধু ইনায়াকে এবং ইরফান কে দেখা যাচ্ছে। কয়েকটা পাতা পর একটা ছবিতে নীহারিকা লক্ষ্য করলো ছবিটা কেমন যেন ফ্যাকাসে আর লাল রঙের কিছু একটা লেগে আছে। রীতিমতো বিষয়টা ভৌতিক মনে হলো নীহারিকার কাছে। সে ফট করে অ্যালবামটা বন্ধ করে বসে রইলো। চোখ বন্ধ করে ভাবতে শুরু করলো কিছু একটা। নীহারিকা ছোট থেকেই ভীষণ বুদ্ধিমতী। ভাবতে পছন্দ করে সে। আর ভাবনাতে অনেক সময় খুব কম সময়ে হিসেব করে এমন কিছু ধরে ফেলতে পারে যা সাধারন মানুষ বর্ননা ছাড়া ধরতে পারে না।

নীহারিকা চোখ খুললো চট করে। দেরি না করে দ্রুত হাতিয়ে নিজের ফোন টা নিলো, কল করলো ইরফানের নম্বরে। প্রথম বারে কল ধরল না ইরফান। দ্বিতীয় বারে কল ধরে প্রথমেই তাড়াহুড়ো করে বলল,
—” আ’ম সরি নীহা। ফোন সাইলেন্টে ছিল তাই…

ইরফানের কথা শেষ না হতেই নীহারিকা এবারে তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো,
—”আপনি কোথায়? তামান্না কে কি ড্রপ করে দিয়েছেন?’

ইরফান বলল,
—” হ্যাঁ, সে তো অনেকক্ষণ আগেই ওকে নামিয়ে দিয়ে এসেছি। আমি একটু লাইব্রেরিতে এসেছি, ক’টা বই নিতে হবে। কেনো নীহা? কিছু হয়েছে?”

নীহারিকা ঠোঁট ভিজিয়ে ধাতস্থ করলো নিজেকে। কিছু একটা চিন্তা করে শান্ত ভঙ্গিতে বলল,
—” নাহ, কিছু হয়নি। আসার সময় একটা মোমবাতি আর আমার জন্য বেলী ফুল আনবেন।”

ইরফান হাসলো ওপাশ থেকে। খুব মুগ্ধকর হাসিটা শুনে নীহারিকা শুকনো ঢোক গিলল। ইরফান বলল,
—” ঠিক আছে ম্যাডাম। তবে, মোমবাতি কীসের জন্য? জাদু করবেন বুঝি?”

কথাটা নিতান্তই দুষ্টুমি করে বলেছে ইরফান। অথচ এদিকে চিন্তিত নীহারিকার যেন চোখ দুটোই খুলে গেলো। সে জ্বলজ্বল করা দৃষ্টিতে তাকিয়ে তড়িঘড়ি করে ভাবলো, এরপর সেই দুষ্টুমির আবেশ ধরে স্বামীর সাথে তাল মিলিয়ে বলল,
—” হ্যাঁ হ্যাঁ। আপনাকে জাদু করব স্যার। বশ করে নিতে হবে তো আপনাকে। নইলে কাঙ্খিত জিনিসটা পাব কীভাবে?”

ইরফান ফিক করে হেসে টেনে টেনে বলল,
—” কী সেই কাঙ্খিত জিনিস?’

—” তা তো সিক্রেট। বলা যাবে না।”

ইরফান চোখ বড় করে তাকিয়ে ফোনটাকে কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
—” আমার ডায়লগ আমার উপরেই খাটানো হচ্ছে বুঝি? আপনি তো বড্ড চালাক মিসেস কবির।”

নীহারিকা এবারে ঠান্ডা কন্ঠে বলল,
—” আই উইশ, এটা সবাই বুঝতে পারতো। যাকগে, আপনি দ্রুত বাড়িতে আসুন। আপনার মেয়ে ঘুমিয়ে যাওয়ার আগেই আসুন। “

ইরফান৷ ঠোঁট কামঁড়ে দুষ্টুমি করে বলল,
—” কিন্তু মেয়ে না ঘুমালে কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পাব কীভাবে নীহা? মেয়ের সামনেই..?”

নীহারিকা হাঁসফাঁস করে উঠলো
—” উফ! বড্ড অশভ্য লোক তো আপনি। সবসময় উল্টোপাল্টা চিন্তা! আশেপাশে মানুষ নেই?’

ইরফান হেসে বলল,
—”নাহ!”

—” আর আপনার লজ্জা-শরম? সেসব কোথায়?”

ইরফান ভাবুক ভঙ্গিতে বলল,
—” বিয়ে হওয়ার পর পালিয়ে গেছে। খুঁজে পাচ্ছি না। আজ রাতে খুঁজে দিও, আর নাহলে তোমার গুলো আমায় দিও!”

নীহারিকা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল
—” কী দেব?”

—” ওইযে…লজ্জা- শরম..! যেহেতু আমার নেই, তাই তোমার গুলোই দিও।”
বলেই হেসে ফেলল ইরফান।

কথার মানে বুঝতে কিছুক্ষণ লাগলো নীহারিকার। বোঝার সাথে সাথে কান গরম হলো তার।
—” ছিহ! নাউজুবিল্লাহ। আপনি কবে থেকে এত ভন্ড হলেন মিস্টার কবির। বাড়িতে আসুন ফাস্ট!”

—” ঠিক আছে মিসেস কবির। গিভ মি টুয়েন্টি মিনিটস!”

কল কেটে নীহারিকা এবারে অ্যালবামটা বেড-সাইড টেবিলে রেখে দিলো। তখনি ইয়াশা ওয়াশরুম থেকে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে এলো।,
—” ওহ, সরি ভাবি। শ্যাম্পু করতে লেট হয়ে গেলো। আরেহ, অ্যালবাম দেখছো না কেনো? দেখা শেষ?”

নীহারিকা ইয়াশার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলল,
—” হুম, দেখা শেষ।”
ইয়াশা চুল ঝাড়তে ঝাড়তে জিজ্ঞেস করল হেসে,
—” কী কী দেখলে?”
নীহারিকা শূন্যে তাকিয়ে ধীরকন্ঠে বলল,
—” আর কিছু দেখি আর না দেখি, যা দেখার দরকার ছিল তা-ই দেখেছি।”
ভ্রু কুঁচকে তাকালো ইয়াশা,
—” মানেহ?”
নীহারিকা হুঁশ ফিরে পেয়ে হেসে বলল,
—” মানে তোমার ভাইয়ার ছোটবেলার একটা গুলুমুলু ছবি দেখেছি। এটা নিয়ে আজ সারারাত খ্যাপাবো ওনাকে দেখো!”
ইয়াশা হো হো করে হাসতে শুরু করলো,
—” একদম। আমি তোমার সাথে আছি।”

নীহারিকা এবারে হাসি কমিয়ে ইয়াশার দিকে তাকিয়ে গুরুতর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
—” ইয়াশা…এই অ্যালবামটা কার কাছে থাকে? মানে কার ঘরে?”

ইয়াশা ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে বলল,
—” ঠিক নেই গো ভাবি। আমরা সবাই স্মৃতিচারণ করতে ভালোবাসি জানো তো। এই আমার ঘরে তো, এই মায়ের ঘরে, আবার মাঝে মাঝে ভাইয়ার কাছে। সবার কাছেই থাকে। তবে বেশিরভাগ সময়….

ইয়াশা কথাটা শেষ করার আগেই নীহারিকা ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠলো,
—”তামান্নার কাছে থাকে, তাইতো?”

ইয়াশা আয়নার মধ্য দিয়ে নীহারিকার দিকে তাকালো। নীহারিকার চোখ একদম স্থির, কঠিন এবং পাথরের মত হয়ে রয়েছে। ভ্রু কুঁচকালো ইয়াশা,
—” ভাবি…তুমি কীভাবে..?”

নীহারিকা সাথে সাথে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ইয়াশার পাশে দাঁড়িয়ে বলল
—” আরেহ, তুমি তো মাত্রই অ্যালবামটা তামান্নার ঘর থেকেই নিয়ে এলে। এজন্যই গেস করলাম। গেস সঠিক হয়েছে?”

ইয়াশা মাথা নেড়ে জোরপূর্বক হেসে বলল
—” হ্যাঁ। আসলে তামান্না মাঝে মাঝেই খুব ডিপ্রেশড থাকে, তখন অ্যালবাম দেখে। পেছনের পাতায় ওর আব্বু-আম্মুরও ছবি রয়েছে।”

নীহারিকা হেসে বলল,
—” হুম বুঝেছি। এসব বাদ দাও, চলো বারান্দায় গিয়ে গল্প করি।”
ইয়াশা সাথে সাথে লাফিয়ে উঠলো।
—” হ্যাঁ হ্যাঁ চলো।”

চলবে…

🔥 কী? রহস্য গাঢ় হচ্ছে? নতুন কিছু লিখছি জনগন!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply