নতুনপ্রেমেরগান (০৮)
“আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই না নোরা। আপনি প্লিজ বোঝার চেষ্টা করুন এভাবে জোর করে বিয়ে করা যায় না।প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন।একটু দয়া করুন আমার উপর।আমি আপনার মতো বি’ষ মরিচ বিয়ে করে আমার সর্বাঙ্গ অঙ্গার করতে চাই না।প্লিজ নোরা , প্লিজ আমাকে মুক্তি দিন।”
সৌরভের আকুতি মিনতি নোরার মন গলাতে করতে পারে না। বরং তার আকুতি মিনতি নোরাকে আনন্দ দেয়। পৈশাচিক আনন্দ। নোরারঠোঁটের কোণে কটাক্ষের হাসি লক্ষ করা গেল।সে সৌরভের মুখে স্লাইড করে নেশালো কণ্ঠে বলল –
“ মুক্তি চাও বেব?”
সৌরভ উপর নিচ করে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।নোরা বক্র হেসে বলল–
“ তোমার কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না বেব।প্লিজ কবুল বলে দাও।আমি তোমার হাতের বাঁধন খুলে দিই।”
সৌরভের গলা দিয়ে আওয়াজ বের হতে চাইছে না। তবুও সৌরভ ফিসফিস করে বলে –
“ আমি আপনাকে বিয়ে করব না।কখনোই না।”
নোরার চোখে মুখে ক্রোধের আগুন জ্বলে ওঠে। সে সৌরভের গলায় রাম দা ঠেকিয়ে ক্রুদ্ধ গলায় বলে–
“ অনেকক্ষণ যাবত তোকে মণি সোনা বলে বুঝিয়েছি। কিন্তু আর না। তুই আমার ধৈর্য্যর বাঁধ ভেঙে দিয়েছিস। এবার বল কবুল বলবি না কি এক কো’পে তোর ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দিব?”
সৌরভ কাঁপতে থাকা গলায় বলে —” বলব কবুল। একশোবার বলব, হাজারবার বলব।”
নোরার এমন অগ্নিরূপ দেখে কাজি থরথর করে কাঁপতে থাকে।তিনি কাতর গলায় বলেন—
“ বাবাজি কবুল বললেও আমি কবুল বলব না ।
আমাকে ক্ষমা দিন।আমি চললাম।”
নোরা পেছন থেকে কাজির পাঞ্জাবির কলার টেনে ধরে। বিরক্ত গলায় বলে— “ বিয়ে না পড়িয়ে আপনি কই যাচ্ছেন?”
কাজি আবারো সেই একই কথা বলে–
“ আমি কবুল বলব না।আমাকে ক্ষমা দিন।”
“ চুপ শ্লা।বিয়ে তুই করবি না যে তোর কবুল বলতে হবে। চুপচাপ বিয়ে পড়া তুই। না হলে এই রাম দা তোর গলায় উঠবে।”
কাজি শুকনো ঢোল গিলে ভয়ে ভয়ে বিয়ের কার্যক্রম শুরু করে।বিয়ে পড়ানো শেষ হতেই কাজি পালাতে যায়। কিন্তু পালাতে পারে না।নোরা তার কলার চেপে ধরে।কাজি কাঁপা গলায় বলে–
“ মা জননী আপনাদের বিয়ে তো হয়ে গেছে। এবার আমাকে আসতে দিন।”
নোরা অবলীলায় বলে– “ বিয়ে পড়িয়েছেন, এবার আমাদের বাসরের ব্যবস্থা করুন। কোথায় করবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যপার।”
কাজি সাহেব নিজের বাড়িতে সৌরভ আর নোরার
বাসরের ব্যবস্থা করে।অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ একটা কক্ষ হয়ে উঠে দুজন মানুষের স্বপ্নের বাসর।
সৌরভ অন্য রুমে বসে ছিল।নোরা সৌরভের হাত ধরে টানতে টানতে বাসর ঘরে নিয়ে আসে। সৌরভ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে বিছানায় ফেলে দিয়ে বুকের উপর চেপে বসে। সৌরভের ঠোঁটের উপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দুষ্টু হাসে । ঠোঁট কামড়ে বলে–
“ কিস মি।”
বিষ্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় সৌরভের। সে জড়ানো গলায় বলে–
“ ছিঃ ছিঃ! কী বলছেন এসব?”
নোরা সৌরভের দিকে ঝুঁকে যায়।গাল চেপে ধরে বলে–
“ গোলামের পুত আমি কিস মি বলেছি। ফা’ক মি বলি নি।”
সৌরভ কিছু বলতে উদ্যত হয়, কিন্তু নোরা তাকে বলার সুযোগই দেয়না। সৌরভের পুরুষালী ঠোঁটজোড়া সে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেয়।
হঠাৎ প্রচন্ড গরম আর অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙ্গে যায় নোরার।সে তড়াক করে লাফিয়ে উঠে বেড সাইড
ল্যাম্প জ্বালিয়ে দেয়।নোরার কপাল ভিজে গেছে ঘামে। পরনের জামাটাও ঘেমে ভিজে একাকার হয়ে গেছে।কাপড়টা শরীরের সঙ্গে লেপ্টে আছে অস্বস্তিকরভাবে।নোরা একবার গভীর শ্বাস নিয়ে চেষ্টা করে শান্ত হতে, কিন্তু গরম আর ঘামের ঝাঁঝরা অনুভূতি তাকে আর নিঃশ্বাস নিতে দেয় না।সে চোখ বন্ধ করে ম’রার মতো পড়ে থাকে।আচানক স্বপ্নের কথা মনে পড়তেই সে ধড়ফড় করে উঠে বসে। কী ভয়ানক স্বপ্ন দেখেছে সে। সে দৌড়ে ওয়াশ রুমে চলে যায়। সৌরভের সাথে ঠোঁট মেলানোর দৃশ্য কিছুতেই ভুলতে পারছে না সে। যে মানুষটাও ছায়াকেও সে ঘৃণা করে, সেই মানুষটার ঠোঁট ওইভাবে … । ছিঃ!
নোরা কয়েক মুহূর্ত ওয়াশ রুমে দাঁড়িয়ে থাকে।
নিজের ঠোঁটের ওপর অবাঞ্ছিত স্বপ্নের প্রভাব এতটাই জোরালো যে তার গা গুলিয়ে বমি আসে। সে হাতের আঙুল ভিজিয়ে ঠোঁট ঘষতে ঘষতে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নেয়। মিনিট দশেক পর সে নিজের রুমে ফিরে আসে। কিন্তু মনকে কিছুতেই শান্ত করতে পারছে না। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এসেছে।বুকের ভেতর কেবল এক পশলা শান্তির খোঁজ চলছে।নোরা এগিয়ে যায় স্বস্তির এক চুমুকের আশায়। কিন্তু বিধিবাম!
বোটল খালি।এক ফোঁটা পানি নেই।নোরা রুম থেকে বেরিয়ে কী মনে করে সুপ্রভার রুমের দিকে উঁকি দেয়।দরজাটা সামান্য ভিড়িয়ে রাখা ছিল। নোরা হাত দিয়েই দরজাটা খুলে যায়।সে মন্থর পায়ে সুপ্রভার রুমে প্রবেশ করে। এদিক ওদিক নজর ঘুরায়। কিন্তু কোথাও সুপ্রভার দেখা মিলে না।নোরা মনে মনে খুশিই হয়।তার খুশি আরো দ্বিগুন বেড়ে যায় যখন সে সুপ্রভার লেখা চিরকুট খানা পায়। চিরকুট খানা পড়ে নোরার চোখ মুখ খুশিতে ঝলমল করে উঠে।নোরা ডেবিল হেসে বলে–
“ যাও সুপ্রভা যাও।আমি তো এটাই চেয়েছিলাম।
আমার পথের কাঁটা খাল্লাশ। এবারে শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার আমার হবে। শুধুই আমার।”
সুপ্রভা দুরুদুরু বুকে বাসে বসে রয়েছে। বাস ছাড়তে এখনো মিনিট দশেক বাকি।এই দশ মিনিট তার কাছে দশ বছরের মতো দীর্ঘ মনে হচ্ছে।সে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব এই শহর ছাড়তে চাইছে।সে চোখ নামিয়ে রাখে। হাতের আঙুলগুলো আঁচলের ভাঁজে জড়িয়ে শক্ত করে চেপে ধরে।হঠাৎ পাশের সিটে কেউ এসে বসে পড়ে।হালকা একটা ঝাঁকুনিতে সুপ্রভা চমকে ওঠে। চোখ তুলে তাকাতেই দেখে মাঝবয়সি এক পুরুষ, মুখে অচেনা দৃঢ়তা। চোখে কেমন যেন কৌতূহল মেশানো হিসাবি দৃষ্টি।লোকটা বসেই নির্বিকার গলায় বলে—
” একা যাচ্ছেন?”
সুপ্রভা কিছু বলে না। আঁচলের কোণটা আরও শক্ত করে মুঠোয় চেপে ধরে।তার বুকের ধুকপুকান যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়।
পুরুষটি একটু ঝুঁকে চারপাশ দেখে নিয়ে আবার বলে—
“একা যাচ্ছেন বুঝি? না কি হাজবেন্ড আছে সাথে?”
সুপ্রভা ঠোঁট কামড়ে ধরে।এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়, জোরে বলে উঠবে— আপনার কী দরকার?কিন্তু সে নিজেকে সামলে নেয়। সংযত গলায় বলে—
” জ্বি , একা।”
সুপ্রভা কথাটা বলতেই লোকটার ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি ফুটে উঠে।লোকটা প্রসন্ন গলায় বলে- ” আপনি আনম্যারিড বোধহয়।”
সুপ্রভা নিচু স্বরে বলে- ” জ্বি না।”
লোকটা অবাক গলায় বলে – ” বলছেন আনম্যারিড ।
আবার হাজবেন্ডও সাথে নেই। ঝগড়া হয়েছে না কি?”
সুপ্রভা বিরক্তি নিয়ে বলে- ” হাজবেন্ড মা’রা গিয়েছে।আমি বিধবা। উত্তর পেয়ে গেছেন? হয়েছে শান্তি?”
বিধবা শব্দটা শুনে খুশিতে ঝলমল করে উঠে লোকটা র মুখশ্রী। লোকটা উৎসাহের সহিত বলে – ” আমি মোতালেব। আমারও বউ নেই।আমাকে বিয়ে করবেন?”
সুপ্রভা কটমটে দৃষ্টিতে মোতালেবের পানে চায়। মোতালেব ত্বরিত চোখ নামিয়ে নেয়।কিয়ৎক্ষণ পর সুপ্রভার দিকে তাকিয়ে ফাটা বাঁশের গলায় গান গাইতে শুরু করে –
” তোমারও জামাই নাই আমারও বউ নাই।চলো দুইজন সংসার কইরা খাই।চলো দুইজন সংসার কইরা খাইইইইইইই।চলো দুইজন সংসার কইরা খাই।”
মোতালেবের অভিসন্ধি মোটেও ঠিক লাগছে না সুপ্রভার।সুপ্রভা বিরক্ত হয়ে সাতপাঁচ না ভেবেই বাস থেকে নেমে যায়। কিন্তু কোথায় যাবে কী করবে সে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। সে হাঁটতে হাঁটতে একটা নির্জন রাস্তায় চলে আসে। হঠাৎ মনে হলো কেউ যেনো তাকে ফলো করছে।সুপ্রভা পায়ের গতি কমিয়ে পেছনে বারকয়েক তাকায়। কিন্তু কাউকে দেখতে না পেয়ে আবারো পায়ের গতি বাড়িয়ে দেয়।কয়েক কদম পা বাড়াতেই ল্যাম্পপোস্ট এর আলোয় কতগুলো মানুষের ছায়া এসে সুপ্রভার সামনে পড়ে।।ভয়ে গলা শুকিয়ে আসে তার।সুপ্রভা নিজেকে শক্ত করে পিছনে তাকিয়ে দেখে পাঁচ থেকে ছয় টা ছেলে মদের বোতল হাতে নিয়ে তার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।যেনো তাকে চোখ দিয়েই গিলে ফেলবে।
সুপ্রভা এক নজর তাদের দিকে তাকিয়ে আবারো হাঁটা শুরু করে।সুপ্রভার পিছু পিছু ছেলেগুলো ও হাঁটতে শুরু করে।এক পর্যায়ে সুপ্রভা দৌড়াতে শুরু করে। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারে না। শাড়িতে পা পেঁচিয়ে নিচে পড়ে যায়।সুপ্রভা রাস্তায় পড়ে গিয়ে পার্স থেকে নিজের ফোন বের করে কাউকে কল দিতে যায়। কিন্তু তার আগেই ছেলেগুলো সুপ্রভার হাত থেকে ফোন কেড়ে নেয়। অশ্লীল ভঙ্গিতে বলে-
-” কাকে ফোন দিতে যাচ্ছো মামনি?শহরে নতুন নাকি মামনি?আগে কখনো এতো সুন্দর পাখি দেখি নি। এতো দিন তুমি কোথায় ছিলে পাখি।ও পাখি পাখি রে……
” দেখুন!”
-” দেখাও না মামনি ।আমরা তো দেখতেই চাই।এখন শুধু মাত্র তোমার দেখানোর অপেক্ষায় আছি। অবশ্য তুমি দেখাতে না চাইলেও আমরা ঠিকই দেখবো।তাই ভালো হয় পাখি নিজে থেকেই যদি খাঁচায় ধরা দেয়।ধরা দাও না পাখি।দেখবে পাখি কে অনেক আদর যত্ন করবো আমরা। একটুও কষ্ট দিবো না।”
সুপ্রভা ঘামতে শুরু করে। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে একদম জনমানবশূন্য হয়ে আছে।সুপ্রভা তাদের কাছে হাতজোড় করে বলে,
” প্লিজ আমাকে যেতে দিন।আমি তো আপনাদের কোনো ক্ষতি করি নি।প্লিজ আমি আপনাদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি।”
লোকগুলো সুপ্রভার এই অবস্থা দেখে পৈশাচিক আনন্দে মেতে ওঠে।তারা গোল হয়ে সুপ্রভার চারিপাশ দিয়ে হাসতে হাসতে সুপ্রভার গায়ে মদ ঢেলে দেয়।সুপ্রভা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা একে একে নিজেদের শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করে।ঠিক তখনই একটা পুরুষ অবয়ব এসে সুপ্রভার সামনে দাঁড়ায়।
চলবে???
[ পুরুষ অবয়ব টা কার বলে মনে হয় আপনাদের? লোকটা কি আদৌ সুপ্রভাকে বাঁচাবে নাকি খুবলে খাবে?]
® Nuzaifa Noon
Share On:
TAGS: নতুন প্রেমের গান, নুজাইফা নূন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৩
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ১
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৭+বোনাস
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ২
-
নতুন প্রেমের গান গল্পের লিংক
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৪
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৫
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৬