নতুনপ্রেমেরগান (০৬)
“ প্রফেসর শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার তোমাকে বিয়ে করতে চায়।তোমার খুব আনন্দ হচ্ছে তাই না ?অবশ্য আনন্দ হবারই কথা।আফটার অল তোমার প্ল্যান সাকসেসফুল হয়েছে। তুমি তো এটাই চেয়েছিলে বলো? যখনই দেখলে একটা হট, ড্যাশিং ছেলে তোমার সামনে বসে রয়েছে। তুমি ক্রুর হেসে মনে মনে ভাবলে আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।সেই প্ল্যান অনুযায়ী তুমি স্যারের সামনে নিজেকে পেজেন্ট করলে।ফাইনালি তুমি….”
বাকিটা বলার আগেই সপাটে চড় পড়ল নোরার গালে। নোরা দুই সেকেন্ড স্তব্ধ থাকে।তারপর হঠাৎ করেই মুখটা বিকৃত হয়ে ওঠে।রাগে ক্ষোভে চিৎকার করে উঠে সে–
“ ইউ রাবিশ…” শব্দ আঁটকে যায় নোরার ঠোঁটের কোণে। নোরার অপর গালে চড় পড়ে। পরপর দুই টা থাপ্পড় খেয়ে নোরা বাকহীন হয়ে যায়। সে গালে হাত দিয়ে সুপ্রভার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।
সুপ্রভা সেই দৃষ্টির পরোয়া করে করে। বরং শাসনের সুরে বলে—
“ সম্পর্কে তোমার বড় ভাবী হয় আমি। বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানো না? বেয়াদব মেয়ে একটা।সবাইকে নিজের মতো করো? আমি এতো দিন তোমার সব অপমান, সব অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করেছি। কিন্তু আমি ভুল করেছি। আমার উচিত ছিল তোমাকে চাপকে সিধে করে দেওয়ার।”
নোরার চোখ দুটো র’ক্তবর্ণ ধারণ করে। রাগ ক্ষোভ অপমানের তীব্রতায় তার সর্বাঙ্গে কাঁপন ধরে।
গালে ছুঁয়ে থাকা আঙুলটা নামিয়ে এনে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে নোরা। বিদ্রুপ কণ্ঠে বলে–
“বাহ্ সুপ্রভা, বাহ্! প্রফেসরের বউ হওয়ার আগেই এতো তেজ , এতো অহংকার? বউ হওয়ার পরে দেখা যাবে দম্ভে তোমার পা মাটিতে পড়ছেই না।”
নোরা একটু থেমে আবারও বলে – “ নির্লজ্জ মেয়ে একটা। এক পুরুষ ছেড়ে অন্য পুরুষের কাছে যাচ্ছে। ছিঃ ছিঃ ছিঃ।”
শব্দগুলো সুপ্রভার কানে উত্তপ্ত সিসা ঢাললো।
নোরা পৈশাচিক হাসি হেসে ঠোঁট বেঁকিয়ে বলে–
“ চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে,
কদম তলায় কে?
হাতি নাচছে ঘোড়া নাচছে
বিধবা সুপ্রভার বে।”
অপমানে সুপ্রভার চোখ বেয়ে আপনাআপনি নোনাজল গড়িয়ে পড়ে।সুপ্রভা এক মিনিটও বিলম্ব করে না। নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ফ্লোরে বসে পড়ে। কাঁদতে কাঁদতে বলে–
“ আমি আর নিতে পারছি না। এতো অপমান সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই।আমি মস্ত বড় একটা ভুল করতে যাচ্ছিলাম।নোরা চোখে আঙুল দিয়ে আমার অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছে।বাবা , মা , ভাইয়া যতোই বলুক , আমি এই বিয়েটা করতে পারব না। কিন্তু এই বাড়িতে থাকলে? না ! না ।আমাকে এই বাড়ি থেকে চলে যেতে হবে। কিন্তু কোথায় যাব আমি? বাবার বাড়িতেও যেতে পারব না।এখানেও থাকতে পারব না। কোথায় যাব আমি?”
সুপ্রভা মাথার চুল খামচে ধরে। চোখের জল ভিজিয়ে দিচ্ছে তার গলা , বুক।সে চোখ বন্ধ করে হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজে বসে থাকে। মিনিট দুয়েক পর কিছু একটা মনে পড়তেই তড়াক করে লাফিয়ে উঠে ফোনের খোঁজ চালায় সে। ঠিক সেই মূহুর্তেই কর্কশ শব্দে ফোন বেজে ওঠে তার। ফোনের স্ক্রিনে সিমি নামটা জ্বলজ্বল করতে দেখে খুশিতে ঝলমল করে উঠে সুপ্রভাব দু চোখ। সুপ্রভা কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে সুরেলা কণ্ঠে ভেসে আসে — “ কেমন আছিস প্রভা?”
সুপ্রভা নাক টেনে বলে – “ আমি ভালো নেই সিমি।বিধবারা যে চাইলেও ভালো থাকতে পারে না।”
“ তুই কি কান্না করছিস প্রভা? তোর গলার স্বর এমন লাগছে কেন? তোর কী হয়েছে প্রভা? তুই ঠিক আছিস তো?”
“ তোর কাছে আমাকে কটা দিন থাকতে দিবি সিমি? মাত্র কটা দিন।আমি তো অশিক্ষিত নই।আমি ঠিক একটা চাকরি জোগাড় করে আমার নিজের ব্যবস্থা করে নিব। ততোদিন তোর কাছে ঠাঁই দিবি আমাকে?”
সিমি অবাক গলায় বলে – “ তুই এভাবে বলছিস কেন প্রভা? তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড।তোর জন্য আমি আমার নিজের জীবনটাও উৎসর্গ করতে পারি। কিন্তু তোর কী হয়েছে?”
“ আমি পরে তোকে সবটা বুঝিয়ে বলব।এখন বলার মতো সময় নেই।আমি আজ রাতেই সিলেটের উদ্দেশ্য রওনা হচ্ছি।”
“ তুই একা আসতে পারবি প্রভা? আমি কি ভাইয়াকে পাঠাবো?”
সুপ্রভা গভীর শ্বাস নেয়।চোখের কোণে জমে থাকা জলটা মুছে ফেলে নিজেকেই বলে—
“জীবনের লড়াইটা যখন একাই লড়তে হবে,
তাহলে আজ থেকেই শুরু হোক সেই লড়াই।”
সুপ্রভার থেকে রেসপন্স না পেয়ে সিমি বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করে – “ কী হলো তোর? আমি কি ভাইয়াকে পাঠাবো?”
“ কাউকে পাঠাতে হবে না।আমি একাই আসবো।”
“ ঠিক আছে। সাবধানে আসিস।”
আচ্ছা।রাখছি এখন । বাই বলে ফোন রাখতেই দরজার অপর প্রান্ত থেকে ঈশিতা চৌধুরীর গলা শোনা যায় — “ সুভা মা ! হলো তার?”
সুপ্রভা চোখের জল মুছে গলা পরিষ্কার করে
বলে – “ আসছি মা?”
“ চটজলদি আয় মা?”
“ আপনি যান , আমি দু মিনিটে আসছি।”
সুপ্রভা ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে মুখে জলের ছিটা দিয়ে তড়িঘড়ি করে একটা ধূসর রঙের শাড়ি গায়ে জড়িয়ে নেয়।মুখে সামান্য একটু পাউডার লাগায় নিজের ক্রন্দনরত ফ্যাকাশে চেহারা লুকাতে।কী মনে করে আয়নায় একবার নিজের দিকে তাকায় সুপ্রভা।চেনা মুখ, অথচ আজ যেন অচেনা।চোখের কোণে জমে থাকা লবণাক্ত দুঃখটা ধূসর শাড়ির আঁচলে মুছে নেয় সে।গভীর একটা শ্বাস নিয়ে দরজার বাইরে পা রাখে।
ড্রইংরুমে ঢুকতেই ঈশিতা চৌধুরীর চোখ দুটো তার মুখের দিকে থমকে যায়।মায়ের চোখে সন্তানের কষ্টের ছায়া ঠিক স্পষ্ট হয়। তিনি উদগ্ৰীব কন্ঠে জিজ্ঞেস করেন –
“ কী হয়েছে রে মা?তোর চোখ মুখ এমন শুকনা লাগছে কেন?”
সুপ্রভা ঠোঁটে মিথ্যা হাসি ঝুলিয়ে বলে– “ কই কিছু হয়নি তো।”
“ সবার চোখ ফাঁকি দিতে পারলেও তুই মায়ের চোখ কখনোই ফাঁকি দিতে পারবি না সুভা।কান্না করছিস কেন বল? কী হয়েছে?”
“ কিছু হয়নি মা।আমি ঠিক আছি।”
“ তবে চল এবার কেক কাটি।”
সৌরভ কেক কেটে একে একে সবাইকে কেক খাইয়ে দেয়।নোরা সোফায় বসে অবলীলায় ফোন টিপছিল। সৌরভ ভয়ে ভয়ে নোরার দিকে এগিয়ে যায়। কাঁপা হাতে নোরার মুখের সামনে এক টুকরো কেক তুলে ধরে । সৌরভের অভিসন্ধি বুঝতে পেরে চিৎকার করে উঠে নোরা–
“ তুমি ভাবলে কী করে আমি তোমার মতো একটা কালা টাকির হাতের খাবার খাব? তোমাকে দেখলেই ঘৃণায় গা গুলিয়ে বমি আসে আমার।”
লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায় সৌরভের।চোখ দুটো ভিজে উঠেছে বোদহয়।সুপ্রভা নিজের অপমান সহ্য করতে পারলেও তার ভাইয়ের অপমান সহ্য করতে পারে না। সে নোরার দিকে এগিয়ে যায়।কিছু বলতে উদ্যত হতেই আচানক তার ফোন বেজে ওঠে। স্ক্রিনে আননোন নাম্বার দেখে সুপ্রভা কল কেটে দেয়। কিন্তু ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়ে একের পর এক কল করতেই থাকে। সুপ্রভা এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে কল রিসিভ করে। সাথে সাথেই অপর প্রান্ত থেকে নেশালো কণ্ঠে ভেসে আসে –
“ হেই লাল চমচম।”
চলবে ইনশাআল্লাহ।।
® Nuzaifa Noon
[ আমার পেজ, গ্ৰুপের জন্য দু তিন জন মডারেটর নিব।
যারা ভালো ভিডিও এডিট করতে পারেন এবং পেইজ সম্পর্কে বুঝেন তারা প্লিজ ইনবক্সে নক দিবেন আমায়।]
আমার আইডি : Nuzaifa Noon
Share On:
TAGS: নতুন প্রেমের গান, নুজাইফা নূন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৫
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৩
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ২
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ১
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৪
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৭+বোনাস
-
নতুন প্রেমের গান গল্পের লিংক