Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪৩


দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ

পর্ব : ৪৩

জাহিরুলইসলামমাহির

🌿

“সন্ধ্যা সাত টা ত্রিশ মিনিট। আদ্রিয়ানা আচার খাচ্ছে আর আদনান অফিসের কিছু ফাইল চেক করছে। হঠাৎ করেই আদনানের পেট গুলিয়ে বমির ভাব লাগে। আদনান ছুটে যায় ওয়াস রুমে। আদনানের পিছু পিছু আদ্রিয়ানা ও যায়। আদনান বমি করছে দেখে আদ্রিয়ানার মুখে হাঁসি ফুটে ওঠে। আদনানের কাছে এগিয়ে গিয়ে আদনানের পেটে কান পাতে। তাঁর পর আদনানের হাত ধরে বলে”…

“Congratulations মাই ডিয়ার পান্ডা সাহেব। আপনি মা থুক্কু বাবা হতে চলেছেন। এখন থেকে বেশি বেশি আচার খাবেন আর সাবধানে চলাফেরা করবেন।”

“আদনান কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে আবার বলে”…

“আমার সাথে আমার পান্ডা সাহেব ও প্রেগন্যান্ট। আমার ও বেবি হবে আমার জামাইয়ের ও বেবি হবে। উফস আমার যে কি খুশি লাগছে, আমি বলে বোঝাতে পারবো না।”

“আদ্রিয়ানার এমন কথা শুনে আদনান অবাক।”

“কি সব আজে বাজে কথা বলছো? ছেলেরা কি কখনো প্রেগন্যান্ট হয়?”

–“আপনি প্রেগন্যান্ট হন নিই?”

“আমি প্রেগন্যান্ট হতে যাবো কেনো আজব।”

“তাহলে আপনি যে এইমাত্র বমি করলেন। বমি করলে তো প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়।”

“ওরে আমার সাউয়া আমি প্রেগন্যান্ট না। আমার পেট খারাপ হয়েছে। আজকে সারাদিন সেমাই খাওয়া খাওয়ি খেলছি না তাই এমন টা হয়েছে।”

“সেমাই খাওয়া খাওয়ি করলে পেট খারাপ হয় না-কি?”

“ত্রিশ টা রোজা রাখার পর ঈদের দিন একটু বেশি খাইলে পেটে অশান্তি শুরু হয়ে যায় আমার।”

–“ওও আচ্ছা আচ্ছা।”

–“যাও এখন।”

–“কই যাবো?”

–“ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে রুমে যাও।

–“আপনি যাবেন না?”

“সাউয়াডা এতো কথা বলে কেনো বুঝি না বাল।”

“এই কথা বলে আদনান আদ্রিয়ানা কে ওয়াসরুম থেকে বের করে ভিতর থেকে ওয়াসরুমের দরজা লাগিয়ে দেয়।”

🌿

“ছাঁদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে আদ্রিজা। দৃষ্টি আকাশের মাঝে থাকা চাঁদের দিকে স্থির। পিছনে কারো উপস্থিত টের পেয়ে পিছনে ঘুরে তাকায় আদ্রিজা। জাবির এসেছে। জাবিরের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার দৃষ্টি স্থির করে আকাশের মাঝে থাকা চাঁদের দিকে।”

–“বেয়াইন কোন কারণে কি আপনার মন খারাপ?”

“আদ্রিজা ছোট করে বলে”..
–“হুম।

–“কি হয়েছে বেয়াইন ? কেনো মন খারাপ?”

“আমি নিজেও জানি না আমার কি হয়েছে, শুধু জানি আমার মন খারাপ।”

–“এটা কেমন কথা বেয়াইন?”

“এটাই কথা বেয়াই। বাই দা ওয়ে বেয়াই শুনলাম আপনি না-কি ভালো গান গাইতে পারেন, আমাকে একটা গান শুনাতে পারবেন?”

“কেনো নয় বেয়াইন। একটু ওয়েট করেন আমি গিটার টা নিয়ে আসি।”

“এই কথা বলে জাবির ছাঁদ থেকে চলে যায়। মিনিট পাঁচেক পর হাতে গিটার নিয়ে ফিরে আসে। আদ্রিজার পাশে গিয়ে রেলিং এর উপর বসে। গিটারে টুং টুং শব্দ তুলে জাবির গাইতে শুরু করে”…

“বোঝাবো কি করে তোকে কত আমি চাই।”
“তোর কথা মনে এলে নিজেকে হারাই।”
“তোকে মাথায় করে বেঁচে আছি তাই।”
“আমি তোকে মাথায় করে বেঁচে আছি তাই।”

–“আজ চুরিচুরি মন”
–“উড়ি উড়ি মন”
–“ঘুড়ি ঘুড়ি মন”

“ওও তিলে তিলে হল কি যে গেল ভিজে মন।”
“আগে তো এই শ্রাবণে ছিল না কারণ।”
“তোর সাথে দেখা হলে কোন নিরালায়।”
“নিজেকে উজার করে রেখে দেওয়া যায়।”

–“আজ চুরি চুরি মন।”
–” উড়ি উড়ি মন।”
–“ঘুরি ঘুরি মন।”

“জাবিরের গান শেষ হতেই আদ্রিজা হাতের তালি দেয়।”
–“বেয়াই আপনি তো দেখছি ভালোই গান গাইতে পারেন।”

–“ধন্যবাদ বেয়াইন।”

“আদ্রিজা মুচকি হাসে। জাবির আদ্রিজার দিকে কিছু টা ঝুঁকে বলে”..

–“তা বেয়াইনের মন টা কি ভালো হয়েছে?”

“একটু ভালো হয়েছে। যদি আমার বাবার সাথে দেখা করতে পারতাম তাহলে একদমই ভালো হয়ে যেতো।”

–“তাহলে চলেন যায়?”

—“চলেন।”

“জাবির আদ্রিজার হাত ধরে আদ্রিজা কে নিয়ে বের হয়ে যায় সাজেকের উদ্দেশ্যে।”

🌿
“ভোর চার টা ত্রিশ মিনিট। জাবির আর আদ্রিজা এইমাত্র সাজেকে এসে পৌঁছেছে। গাড়ি থেকে নেমে দুজনেই এগিয়ে যেতে থাকে থামতুয়ার ঘরের দিকে। কিছু দূর যেতেই কিছু পাহাড়ী লোকের কোবলে পড়ে জাবির আর আদ্রিজা। পাহাড়ী লোক গুলো জাবির আর আদ্রিজা কে তুলে নিয়ে যায় তাদের সরদারের কাছে। সর্দার বিচার শেষে রাই জানান।”

“আমাদের এখানে মেয়ে নিয়ে ফূর্তি চলবে না। শাস্তি স্বরূপ এদের দুজন কে বিয়ে পড়িয়ে দাও।”

“সর্দারের মুখে এমন কথা শুনে জাবির খুশি হলেও আদ্রিজা খুশি হয় না। আদ্রিজা সর্দারের রাইয়ের বিপক্ষে বলে উঠে”…

“মগের মুল্লুক পেয়েছেন না-কি? বিয়ে পড়িয়ে দাও বললেই বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

“আদ্রিজার কথা শুনে সর্দার রেগে যায়”
— “তুই জানিস তুই কার সাথে কথা বলছিস? আমি এই গ্রামের সর্দার। আমার কথা অমান্য করার সাহস তোর আছে?”

“জাবির আদ্রিজাকে থামানোর চেষ্টা করে”. “আদ্রিজা, চুপ করো। এটা তাদের গ্রাম, আমাদের কথা এরা শুনবে না।”

“আদ্রিজা জাবিরের দিকে তাকিয়ে বলে”..
–“বেয়াই আপনি চুপ করুন। ওদের সাথে আমি কথা বলছি।”

“জাবির কে এই কথা বলে আদ্রিজা সর্দার কে উদ্দেশ্য করে বলে”..
–“দেখুন আপনার ভুল হচ্ছে। আমরা এখানে ফূর্তি করতে আসেনিই আমরা এখানে এসেছি”…

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিজা তাঁর আগেই সর্দার বলে উঠে”…

“তোর সাহস আছে দেখছি। সাহস না থাকলে তো আর আমার মুখে মুখে কথা বলতে পারতি না।”

“আদ্রিজা কিছু বলতে যাবে তার আগেই জাবির আদ্রিজার মুখ চেপে ধরে বলে”..

“সর্দার আপনি আমার কথা শুনুন, আপনি আমাদের বিয়ে পড়িয়ে দেন। এই বিয়ে তে আমার কোন আপত্তি নেই।”

“জাবিরের মুখে এমন কথা শুনে অবাক দৃষ্টিতে জাবিরের দিকে তাকায় আদ্রিজা। তা দেখে জাবির বলে”..

“দেখুন বেয়াইন শুধু শুধু কথা বলে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। ওরা আমাদের বিয়ে না দিয়ে আমাদের কে ছাড়বে না। ওদের কথা মতো বিয়ে করে নেওয়া টাই ভালো হবে।”

“মিনিট দুয়েক সময় নিয়ে জাবিরের বলা কথা টা ভাবে আদ্রিজা। জাবিরের বলা কথায় যুক্তি আছে। আসলেই তো এরা বিয়ে না দিয়ে ছাড়বে না। হয় এরা বিয়ে দিবে না হয় মেরে ফেলবে।”

“আদ্রিজা চুপ হয়ে যায়। জাবির বিয়ের ব্যবস্থা করতে বলে। মুসলমানদের ধর্ম অনুযায়ী বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। কাজী আনা হয়। কাজী জাবির আর আদ্রিজার বিয়ে পড়িয়ে দেয়। আদ্রিজা চুপচাপ বসে থাকে, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। জাবির আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে থাকে, তার চোখে এক অন্যরকম আনন্দ। ভালোবাসার মানুষ কে নিজের করে পাওয়ার যে কি আনন্দ তা জাবিরের ফেইস দেখলেই বোঝা যায়।”

“সর্দার বলে, “এখন তোদের বিয়ে হয়ে গেছে। এখন তোরা একসাথে থাকবি।”

“জাবির বলে”…
—“ধন্যবাদ সর্দার।

“ঠিক আছে, তোরা যেতে পারিস। কিন্তু মনে রাখিস, তোদের বিয়ে হয়ে গেছে।”

জাবির আর আদ্রিজা সর্দারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়। আদ্রিজা এখনো চুপচাপ, কোনো কথা বলছে না। জাবির গাড়ি ড্রাইভ করছে আর মনের সুখে গান গাইছে”..

He Dibana Dil “
Amar Shopner Me File…
Kalo Mash Kara Chukh
Gale Tuk Tuki Til
Buk Jalani
Micro Mimi
Amay Niye
Chini Mini
Khelcho Tubo Thother Smiling..
Ling..Ling..Ling..Ling..Ling…..
Darling”
Oh Amar Darling..!!

ছোট পর্ব দেওয়ার জন্য দূঃখিত। কেনো ছোট পর্ব দিয়েছি তা তো আপনারা জানেন আশা করি নতুন করে বলতে হবে না।”

চলবে…

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply