Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪১


দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ

পর্ব : ৪১

jahirul_islam_mahir

🌿
“জাবির গাড়ি ড্রাইভ করছে আর একটু পর পর আদ্রিজার দিকে তাকাচ্ছে। যা আদ্রিজার চোখ এড়ায় নিই। জাবির কে বারবার নিজের দিকে তাকাতে দেখে বেশ বিরক্ত হয় আদ্রিজা‌। কপাল কুঁচকে বাহিরের দিকে তাকিয়ে থাকে সেই। আদ্রিজার বিরক্ত মাখা ফেইস দেখে জাবির গেয়ে উঠে”…

“একটা প্রেমের গান লিখেছি”..
“আর তাতে তোর নাম লিখেছি”..
“মাঝ রাতে বদনাম হয়েছে মন।”

“যেই না চোখের ইচ্ছে হলো”…
“তোর পাড়াতে থাকতে গেলো..
“ডাক নামে তোর ডাকতে গেল মন।”

“কি করি এমন অসুখে…
জমেছে মরণ এই বুকে।

“হো একটা প্রেমের গান লিখেছি”..
“আর তাতে তোর নাম লিখেছি”..
“মাঝ রাতে বদনাম হয়েছে মন।”

“জাবিরের গান এতোক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো আদ্রিজা। গান গাওয়া শেষ হতেই আদ্রিজা বলে”..

“বেয়াই তো দেখছি ভালোই গান গাইতে পারেন। আই অ্যাম ইমপ্রেস বেয়াই।”

“বেয়াইনননন, আমার গান শুনে কি আপনি সত্যি সত্যি ইমপ্রেস?”

“হুম বেয়াই অনেক খানি ইমপ্রেস।

“তাহলে প্রতিদিন একটা করে গান শুনার জন্য হলেও আমাকে আপনার করে নেন বেয়াইন।”

“আমাকে আপনার করে নেন মানে কি বেয়াই?”

“জাবির গাড়ি ব্রেক করে, আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে বলে”…

“দেখুন বেয়াইন আমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কথা বলতে পারি না, তাই সোজা ভাবেই আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।”

–“কি কথা বেয়াই?”

“আমি আপনাকে ভালোবাসি বেয়াইন।”

“জাবিরের মুখে এমন কথা শুনে অবাক দৃষ্টিতে জাবিরের দিকে তাকায় আদ্রিজা। মিনিট দুয়েক তাকিয়ে থেকে চোখ নামিয়ে ফেলে।”

“বেয়াই তাড়াতাড়ি বাসায় চলেন ক্লান্ত লাগছে আমার।”

“আমার উত্তর টা তো পেলাম না বেয়াইন।”

“আমি ভেবে তাঁর পর আপনাকে জানাবো।”

“এতো ভাবাভাবির কি আছে? উত্তর টা তো হ্যাঁ হবেই।”

“এতো কনফিডেন্স নিয়ে কি ভাবে বলছেন বেয়াই? উত্তর টা তো না ও হতে পারে।”

“নাহ হলেও সমস্যা নাই। নাহ কে কি করে হাঁ বানাতে হয় তা এই জাবিরের জানা আছে।”

🌿

“রাত এগারোটা। জঙ্গলের গভীরে থাকা পাতাল ঘরের সামনে এসে গাড়ি ব্রেক করে আদনান। গাড়ি থেকে নেমে পাতাল ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। পাতাল ঘরে পা রাখতেই কিছু গার্ড তা কে সালাম দেয়। আদনান সালামের উত্তর দিয়ে তাঁর জন্য বরাদ্দ করা চেয়ারে গিয়ে বসে। আদনান কে দেখে ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে আজিজ আর টিনা।”

“আদনান স্যার প্লীজ আমাদের কে ক্ষমা করে দেন। আমরা অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি….

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আজিজ তাঁর আগেই আদনান বলে উঠে”..

“তোরা ভুল করিস নিই, তোরা তো করছিস বেইমানি। আদনানের ডিকশনারি তে ভুলের ক্ষমা থাকলেও বেইমানির ক্ষমা নেই।”

“আজিজ আর টিনা বুঝতে পারে যে, তাদের আর রক্ষা নেই। আদনানের হাত থেকে আর বাঁচতে পারবে না। তাঁর পর ও বাঁচার জন্য আদনানের কাছে আকুতি মিনতি করছে আজিজ আর টিনা। ওদের আকুতি মিনতি যেনো আদনানের কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। আদনান হাতে থাকা সিগারেটে শেষ টান দিয়ে জলন্ত সিগারেট টা ছুঁড়ে মারে টিনার মুখে। জলন্ত সিগারেটের ভাব লাগতেই টিনা ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে উঠে।”

“আদনান হাতের ইশারায় দুইজন মহিলা গার্ড আর দুইজন পুরুষ গার্ড কে ডাকে। চার জন গার্ড আদনানের পিছনে এসে দাঁড়ায়।”

“দাঁড়িয়ে আছো যে? কি করতে হবে ভুলে গেছো না কি?”

“চারজন গার্ড এক সাথেই বলে উঠে”…
–“না স্যার। আমরা এক্ষুনি কাজে লেগে পড়ছি।”

“এই কথা বলে পুরুষ দুই গার্ড আজিজের দিকে এগিয়ে যায় আর মেয়ে দুই গার্ড টিনার দিকে এগিয়ে যায়। ওরা এখন তাদের দুইজনের সাথে কি করবে তা টিনা বুঝতে না পারলেও আজিজ ঠিকিই বুঝতে পেরেছে।”

“আদনান স্যার, এই বারের মতো আমাকে ক্ষমা করে দেন প্লীজ। আর কখনোই এমন হবে না।”

“আজিজের পরে টিনা ও কান্না করতে করতে আদনানের কাছে ক্ষমা চাইতে থাকে। কিন্তু তাদের কথা আদনান কানে ও নেয় না। আদনানের গার্ডরা ছুরি দিয়ে আজিজ আর টিনার পুরো শরীরে পোজ দিয়ে রক্তাক্ত করে দেয়। তাঁর পর কাঁটা স্থানে লবণ আর ঝাল মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দিতে থাকে। ব্যাথায় গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে আজিজ আর টিনা। ওদের কষ্টের চিৎকার আদনানের কাছে বেশ বিরক্ত লাগে। তাই পকেট থেকে বন্দুক টা বের করে হাতে নেয়। প্রথমে আজিজ কে সোড করে তাঁর পর টিনা কে সোড করে। মূহুর্তের মধ্যে দুইটি প্রাণ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে নেয়।”

“আদনান উঠে দাঁড়ায়। হাতে থাকা বন্দুক টা বাহাদুরের দিকে ছুঁড়ে মারে, বাহাদুর বন্দুক টা কেজ করে নেয়।”

“বাহাদুর এই বন্দুক টা সহ সব অস্ত্র জায়গা মতো রেখে দাও। কাল থেকে রমজান মাস শুরু হচ্ছে তাই এইসব খুন খারাপি কিছু দিনের জন্য অফ থাকবে।”

“এই কথা বলে আদনান চলে যায়। বাহাদুর কিছু গার্ড নিয়ে আজিজ আর টিনার লাশ গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় সমুদ্রের পাড়ে। লাশ গুলো গাড়ি থেকে নামিয়ে জাহাজে তুলা হয় এবং সাগরের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে লাশ গুলো কে ফেলে দেওয়া হয়।”

🌿
“ভোর রাত। ঘড়ির কাঁটা চার টার ঘর পেরিয়ে গেছে। এক গ্লাস পানি হাতে নিয়ে বেডের পাশে দাঁড়িয়ে আদনান কে ডাকছে আদ্রিয়ানা।

“সেহরির এখনো অনেক সময় আছে সানফ্লাওয়ার আর একটু ঘুমাই তাঁর পর উঠবো নিই।”

“দশ মিনিট ধরেই শুধু এই একটা কথাই বলে যাচ্ছে আদনান। আদ্রিয়ানা এইবার বেশ বিরক্ত হয়ে বলে”..

“মিস্টার পান্ডা সাহেব আপনাকে শেষ বারের মতো বলছি উঠে পড়ুন নয়তো গ্লাসে থাকা পানি আপনার মুখে উপর ঢেলে দিবো।”

“আদনান এখনো ঘুমাচ্ছে।”

“মিস্টার পান্ডা আপনি কি উঠবেন না কি”..

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা, তাঁর আগেই আদনান উঠে বসে। আদ্রিয়ানার দিকে তাকাতেই দেখে হাতে পানির গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে আদনান কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে”…

“পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে সেহেরি খেতে আসুন সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।”

“এই কথা বলে আদ্রিয়ানা চলে যায়। আদনান বেড থেকে নেমে ফ্রেশ হতে চলে যায়। মিনিট পাঁচেক মধ্যে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। টাওয়েল দিয়ে হাত মুখ মুছে নিচে চলে যায়। আদনান ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসলে জোবাইদা সবাই কে ভাত বেড়ে দেন। সবাই খাওয়া শুরু করে। মিনিট দশেকের মধ্যে সবার খাওয়া হয়ে যায়। খাওয়া শেষে রাহিম, আদনান আর জাবির মসজিদের উদ্দেশ্য বের হয়ে যায় আর জোবাইদা, আদ্রিয়ানা, আদ্রিজা মিলে সব কিছু ঠিকঠাক করে নেয়। ফজরের আযান হলে তিনজনেই নামাজ আদায় করে নেয়।”

🌿
“বিকেল পাঁচটা। জোবাইদা ইফতারি তৈরি করছে আর আদ্রিয়ানা, আদ্রিজা দুজনেই জোবাইদা কে হাতে হাতে সাহায্য করছে। আধা ঘন্টার মধ্যেই সব কিছু তৈরি করা হয়ে যায়। আদ্রিয়ানা আর আদ্রিজা মিলে সব ইফতার ডাইনিং টেবিলে নিয়ে যায়। আদনান, জাবির, রাহিম ও এসে হাজির হয়। সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে। মিনিট দশেক পর আজান দেওয়া হলে সবাই ইফতার খাওয়া শুরু করে। ইফতার শেষে যে যার রুমে গিয়ে নামাজ পড়ে নেয়।”

“পেটে হাত দিয়ে বেডের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে আদ্রিয়ানা। আদ্রিয়ানার এই অবস্থা দেখে আদনান বলে”…

“কি ব্যাপার সানফ্লাওয়ার? এইভাবে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে কেনো?”

–“অনেক উদ্দম লাগছে।”

“কেনো উদ্দম লাগছে যে?”

“আপনি জানেন না? ইফতারের সময় যে চেপে ধরে এত্ত গুলো খাবার খাওয়াইছেন তা কি ভুলে গেছেন? অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে উদ্দম লাগছে।”

“এত্ত কই খাওয়াইছি, সামান্য..

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদনান তাঁর আগেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে”..

“আপনার মতো পান্ডার কাছে ওই খাবার গুলো সামান্য হলেও আমার কাছে অনেক।”

“পুটি মাছের পেট বলে কথা অনেক তো লাগবেই।”

“জানেন যেহেতু সেহেতু পুঁটি মাছ কে বোয়াল মাছের মতো খাবার খাইয়েছেন কেনো?”

“পুঁটি মাছে কাঁটা বেশি খেতে কষ্ট লাগে তাই বেশি বেশি খাইয়ে বোয়াল মাছের মতো করতে চাইছিলাম, যাতে খাওয়া দাওয়া করতে কষ্ট না হয়।”

“সব সময় ডাবল টাইমিং কথা বলেন কেনো আপনি?”

“আদনান ঠোঁট কামড়ে হাসলো। আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা আবার বলে উঠে”…

“দেখুন পান্ডা সাহেব আর জ্বালাইতে আসছেন না এমনিতেই ইফতারের সময় বোয়াল মাছের মতো খাবার খেয়ে প্রচুর পরিমাণের উদ্দম লাগছে।”

“আদনান আর কিছু বলে না। আদ্রিয়ানার পাশেই শুয়ে পড়ে সেই।”

“ছোট পর্ব দেওয়ার জন্য দূঃখিত প্রিয়রা। আজ কয়দিন ধরে ব্যস্ত লিখার সময় পাচ্ছি না। যতটুকু লিখছি তাও তাড়াহুড়ো করে লিখছি। তাই আজকের পর্ব টা অগোছালো হয়ে গেছে। ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন ধন্যবাদ।

সময়ের অভাবে রিচেক দেওয়া হয় নিই।

চলবে

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply