দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ৪০
jahirul_islam_mahir
🌿
“বিকেল পাঁচটা। বাবা মায়ের রুমের সামনে গিয়ে দরজা নক করে জাবির। ভিতর থেকে রুমে যাওয়ার পারমিশন পেলে রুমে প্রবেশ করে সেই। বেডের দিকে এগিয়ে গিয়ে জোবাইদার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে জাবির। হঠাৎ জাবিরের এমন কান্ড দেখে বেশ অবাক হয় জোবাইদা।”
“কি ব্যাপার বল তো বাবা? হঠাৎ করে আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ার মানে কি? রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি মনে হচ্ছে?”
–“তেমন কিছু না আম্মু এমনি।”
“এমনি বলে তো মনে হচ্ছে না। সো এমনি এমনি না করে কি বলতে এসেছিস সেটা বলে ফেল।”
“না মানে আম্মু বলছিলাম যে, আমাকে কি বিয়ে টিয়ে দিবে না, না-কি? আমার যে বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে সেই খবর কি তোমাদের আছে ?”
–“তোর বয়স কত হয়েছে?”
–“সাতাশ বছর।”
“সবেমাত্র সাতাশ বছর? এতো ছোট বয়সে বিয়ে করতে নেই বাবা। তুই আর একটু বড় হ তাঁর পর তোকে বিয়ে টিয়ে দিবো নে।”
“সাতাশ বছরের বিয়ের যোগ্য একটা ছেলে কে তোমার কাছে ছোট মনে হচ্ছে?”
“সাতাশ কেনো তোর বয়স যদি সাইত্রিশ ও হয় তাহলে ও আমার ছোট মনে হবে।”
“আমার যা বুঝার তা আমি বুঝে গেছি।”
–“কি বুঝে গেছিস?”
“আদনান ভাইয়ার মতো আমাকে ও বিয়ে টা সেরে ফেলতে হবে।”
“আদনানের মতো বিয়ে টা সেরে ফেলবি মানে? পছন্দের কেউ আছে না কি?”
“জাবির জোবাইদার হাত ধরে বলে”..
–“আছে আম্মু।”
“কে সেই মেয়ে? যে আমার ছেলের মন চুরি করলো ?”
“আদনান ভাইয়ার শালি আদ্রিজা।”
“ওও আচ্ছা আচ্ছা।”
“হুম আম্মু, আদ্রিজার সাথে কথা বলে বিয়ে টা ঠিক করে ফেলো।”
“শুন জাবির, আদ্রিজা এখনো একটা শোকের মধ্যে আছে। এই সময়ে বিয়ের কথা বলা টা ঠিক হবে না।”
“এটা অবশ্য ঠিক বলছো।”
“তোকে ফ্রিতে একটা সাজেশন দিই শুন,
প্রথমে আদ্রিজা কে একটু জানার চেষ্টা কর, তার পছন্দ-অপছন্দ, হবি, ইনটারেস্ট কি কি ইত্যাদি। তারপর তার সাথে কমন টপিকে কথা বলা শুরু কর, ধীরে ধীরে তাকে একটু বেশি জানার চেষ্টা কর, তার সাথে সময় কাটা। যখন তোর মনে হবে যে তোর সাথে আদ্রিজার একটা ভালো কানেকশন তৈরি হয়েছে, তখন তাকে তুই তোর ফিলিংস, ভালোবাসা কথা টা বল। আদ্রিজা যদি তোকে এপসেট করে তাহলে তোর বিয়ে কনফর্ম।”
“ফ্রিতে এতো ভালো একটা সাজেশন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ আম্মু।”
🌿
“রাত আটটা। চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে বড় শপিং মল মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটির সামনে এসে গাড়ি ব্রেক করে জাবির। গাড়ি থেকে নেমে অপর পাশে এগিয়ে যায়। দরজা খুলে আদ্রিজার দিকে নিজের হাত টা বাড়িয়ে দিয়ে আদ্রিজা কে নামতে বলে। আদ্রিজা জাবিরের বাড়িয়ে দেওয়া হাত কে ইগনোর করে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়।”
“বেয়াইন সাহেব সবাই সামনে এইভাবে অপমান করে দিলেন?”
“আদ্রিজা জাবিরের কথার কোন উত্তর না দিয়ে নিজের কথা বলে”..
“আমাকে শপিং মলে কেন নিয়ে এসেছেন?”
“বেয়াইন কে শপিং করে দিবো বলে।”
“আপনার থেকে কি আমি শপিং চেয়েছি?”
“চাওয়া লাগবে কেনো? এমনি কি বেয়াই বেয়াইন কে শপিং করে দিতে পারে না?”
“আদ্রিজা কিছু বলে না। জাবির আদ্রিজার হাত ধরে আদ্রিজা কে নিয়ে শপিং মলের ভিতরে যায়। জাবির আদ্রিজাকে নিয়ে একটা প্রিমিয়াম বুটিকে ঢোকে।”
“বেয়াইন পছন্দ মতো যা ইচ্ছে তা নিয়ে নেন।”
“আদ্রিজা জাবিরের দিকে এক পলক তাকিয়ে ড্রেস দেখা শুরু করে। মিনিট দশেক পর দুই টা ড্রেস নিয়ে জাবিরের সামনে এসে দাঁড়ায়।”
“বেয়াই এই ড্রেস দুই টা সুন্দর না?”
“হুম সুন্দর কিন্তু মাত্র দুই টা নিলে যে , আরো কয়েকটা নাও।”
“বেয়াই আমি না কনফিউজ, আপনি কিছু ড্রেস চয়েস করে দেন না।”
“জাবির আদ্রিজা কে কিছু ড্রেস চয়েস করে দিতে থাকে। হালকা নীল রঙের একটা ড্রেসের উপর জাবিরের চোখ আটকে যায়। জাবির ড্রেস টা হাতে নিয়ে আদ্রিজার দিকে এগিয়ে দেয়।”
“বেয়াইন এই ড্রেস টা ট্রাইল দিয়ে দেখতে পারো। এই ড্রেস টা পড়লে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগবে।”
“আদ্রিজা জাবিরের দিকে এক পলক তাকিয়ে ড্রেস টা নিয়ে ট্রাইল রুম চলে যায়। মিনিট দশেক পর ড্রেস টা পড়ে বের হয়ে আসে। নীল রঙের ড্রেসে আদ্রিজা কে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। জাবির হা করে তাকিয়ে থাকে আদ্রিজার দিকে। আদ্রিজা জাবিরের দিকে এগিয়ে আসে।”
–“বেয়াই আমাকে কেমন লাগছে?”
“জাবিরের হুস নেয়। সেই এখনো আদ্রিজার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। জাবির কে নিজের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে আদ্রিজার কিছু টা অস্বস্তি বোধ হয়। আদ্রিজা হাতের তুরি বাজিয়ে বলে”..
“বেয়াই কোথায় হারিয়ে গেলেন?”
“বেয়াইন তোমার প্রেমের সাগরে।”
–“মানে?”
“আচ্ছা বেয়াইন আপনি এতো সুন্দর কেন বলেন তো?”
“কে বলছে আমি সুন্দর?”
“কাল রাতে পুরো সাজেক বাসী আমার কাছে এসে আমাকে বলে গেছে যে, জাবির, আমাদের সাজেক শহরের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে হচ্ছে আদ্রিজা। তুমি আদ্রিজা কে পটাও, ওর সাথে প্রেম করো, ও কে নিজের জীবন সঙ্গী বানিয়ে নাও। ওর সাথে তোমাকে ভালো মানাবে।”
“বেয়াই তো দেখছি ভালোই মেয়ে পটাতে পারেন? তা কয়টা গার্লফ্রেন্ড আছে হুম?”
–“বিশ্বাস করো একটা ও নেই।”
–“যে ছেলে এতো সুন্দর করে ফ্লার্টিং করতে পারে সেই ছেলের কি-না গার্লফ্রেন্ড নেই? বিষয় টা কেমন না?”
“সত্যি আমার কোন গার্লফ্রেন্ড নাই।”
–“ভালো তো।”
“বেয়াইন আমার গার্লফ্রেন্ড নেই শুনি কি তুমি খুশি হয়েছো?”
“এই কথা টা আমি কখন বললাম বেয়াই?”
“বলো নিই তবে মনে হলো আর কি!”
“আদ্রিজা কিছু বলে না। জাবিরের দিকে এক পলক তাকিয়ে ক্যাশ কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যায়। আদ্রিজার পিছু পিছু জাবির ও যায়।”
🌿
“বেডের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে আদনান। দৃষ্টি উপরে থাকা ফ্যানের উপর স্থির। মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা ভাবছে মনে হচ্ছে।”
“মিস্টার পান্ডা সাহেব এইভাবে কি ভাবছেন?”
“আদনান উঠে বসে। আদ্রিয়ানার হাত ধরে আদ্রিয়ানা কে নিজের কোলে বসায়।”
“ভাবছি রুম টা সাউন্ডপ্রুফিং করবো।”
“হঠাৎ করে রুম সাউন্ডপ্রুফিং করার কারণ কি?”
“এখন থেকে আমরা সবার সাথে এই বাড়িতে থাকবো তাই রুম টা সাউন্ডপ্রুফিং করবো।”
“সবার সাথে থাকতে হলে রুম সাউন্ডপ্রুফিং করা লাগবে কেনো?”
“রুম সাউন্ডপ্রুফিং না করলে রুমে হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের শব্দ তো সবাই শুনে ফেলবে।”
“রুমে কিসের ঘূর্ণিঝড় হবে শুনি ?”
“ডিএনএ সাপ্লাই দেওয়ার ঘূর্ণিঝড়।”
“দুষ্টু পান্ডা আপনি বাবা হতে চলেছেন এইবার অন্তত এইসব ডিস্টিং ডিস্টিং খেলা বাদ দেন।”
“সবেমাত্র প্রথম বারের মতো বাবা হতেই চলেছি, আরো দশ বারো টা বেবির বাবা হই , তাঁর পর না হয় এইসব ডিস্টিং ডিস্টিং খেলা বাদ দিবো।”
“দশ বারো টা কম হয়ে যায় না? আপনি তো আরো বেশি বেবি ডির্জাভ করেন।”
“আমার বৌ যদি দশ বারোটার বেশি বেবি নিতে পারে তাহলে আমার দিতে কিংবা ডির্জাভ করতে কোন সমস্যা নাই।”
“দূর নিজের কথায় নিজেই ফেঁসে যায়। আপনার সাথে কথায় পেরে ওঠা অসম্ভব।”
“আদনান হেঁসে উঠে। আদ্রিয়ানা কে নিজের একদমই কাছে টেনে নিয়ে বলে”..
“সানফ্লাওয়ার আমার না খুব করে চুমু খাওয়া শখ জাগছে, আমি কি একটা চুমু খেতে পারি?”
“আদ্রিয়ানা লজ্জা মিশ্রিত একটা হাঁসি দেয়। তা দেখে আদনান আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়।”
🌿
“জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে চেয়ারের সাথে বাঁধা অবস্থায় আবিষ্কার করে আজিজ আর টিনা। ওদের জ্ঞান ফিরেছে দেখে একটা গার্ড তাদের চোখের বাঁধন খুলে দেয়। চোখ খুলতেই চারদিকে চোখ বুলিয়ে নেয় দুইজনে। জায়গা টা চিনতে পেরে অবাকের দ্বিগুন পর্যায়ে যায় আজিজ আর টিনা। ভয়ে দুজনের ঘাম ছুটে যায়। কারণ জায়গা টা হচ্ছে আদনানের পাতাল ঘর।”
“কার আদেশে আমাদের কে এখানে নিয়ে এসেছিস?”
“আজিজের এমন প্রশ্নের জবাবে বাহাদুর বলে”…
“জায়গা টা দেখে বুঝতে পারছিস না যে তোদের বড় বাপের আদেশে তোদের কে এখানে নিয়ে এসেছি।”
“নাম কি তাঁর সেটা বল।”
“এতো তাড়াতাড়ি বাপের নাম টা ভুলে গেলি ? যাইহোক আমি মনে করিয়ে দিচ্ছি, জাহির আদনান চৌধুরী। চিনতে পেরেছিস তোর বড় বাপ কে ?”
“জাহির আদনান চৌধুরী নাম টা কানে আসতে ভয়ে টিনা আর আজিজের শরীর কাঁপতে শুরু করে। দুইজন দুইজনের দিকে এক পলক তাকায়। এটা কি করে সম্ভব? যে আদনান তাঁর চোখের সামনে খাদে পড়ে ব্লাস্ট হয়ে মারা গেছে সেই আদনান ফিরে আসলো কি করে? তাহলে কি আদনান মরে নিই, বেঁচে আছে? আদনান বেঁচে আছে কথা টা ভাবতেই আজিজ আর টিনার ভয় শতগুণ বেড়ে যায়।”
চলবে..
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব : ৩৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৯