দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ৩৭
Jahirul_islam_mahir
🌿
–“মিস্টার পান্ডা সাহেব এইবার তো থামেন আর কতো চুমু খাবেন?”
” মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার, তোমাকে একটা কথা বলি তা মন দিয়ে শুনো”..
“দুটি দেহ পরস্পর চুম্বকের মতো আকৃষ্ট করার প্রধান মাধ্যমই হলো চুমু। চুমু এক প্রকার পুষ্টি কর মেডিসিন। যা একে অন্যের মস্তিষ্ক কে ফ্রেশ রাখে। অদ্ভুত ভাবে পরস্পর কে কাছে আসার সহায়তা করে। চুমু হচ্ছে এক ভয়ংকর অনুভূতির নাম।”
–“বুঝলাম তাই বলে এতো চুমু খাবেন? আধা ঘন্টা ধরে তো শুধু চুমু খেয়ে চলেছেন।”
–“এতো কই খেলাম মাত্র তো হাজার খানেক চুমু খেলাম।”
–“অনেক চুমু খেয়েছেন এইবার থামেন।
–“লাখ খানেক চুমু খেয়েই থেমে পাবো পাখি।”
“মিস্টার পান্ডা আপনি ব্যাপার টা বুঝতে পারছেন না। আপনি যদি চুমু দেওয়া অফ না করেন তাহলে তো আপনাকে খুশির খবর টা দিতে পারবো না।”
“আদনান চুমু দেওয়া অফ করে আদ্রিয়ানার দিকে তাকায়। আদ্রিয়ানা আদনানের দুই গালে হাত রাখে। আদনানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে”..
“মিস্টার পান্ডা আপনাকে একটা খুশির সংবাদ দিতে চাই।”
“আদ্রিয়ানা আদনানের হাত নিজের পেটের ওপর রাখে। আদনানের মুখে দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ায়। আদ্রিয়ানার হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ানোর মানে বুঝতে পেরে আদনানের মুখে হাঁসি ফুটে ওঠে।”
“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার, আমি যা গেইস করছি তা কি সত্যি?”
“আদ্রিয়ানা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়িয়ে বলে”..
“হুম মিস্টার পান্ডা সত্যি। আপনি বাবা হতে চলেছেন।”
“আদনান আদ্রিয়ানার গালে, ঠোঁটে, নাকে, চোখে চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দেয়।”
“সানফ্লাওয়ার এটা কি সত্যি? আমি কি সত্যি বাবা হতে চলেছি?”
“হ্যাঁ, মিস্টার পান্ডা। আপনি সত্যি সত্যিই বাবা হতে চলেছেন।”
“আদনান আদ্রিয়ানাকে কোলে তুলে নিয়ে ঘুরতে থাকে। আদ্রিয়ানা হাসতে হাসতে বলে”
“মিস্টার পান্ডা সাহেব কি করছেন থামেন।”
“না, আমি থামবো না। আমি আজকে পুরো পৃথিবীকে জানিয়ে দেবো যে আমি বাবা হতে চলেছি।”
“ঠিক আছে, কিন্তু আগে আমাকে নামিয়ে দেন।”
“আদনান আদ্রিয়ানাকে নামিয়ে দিয়ে তার হাত ধরে বলে, “আদ্রিয়ানা, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। তোমাকে আর আমাদের বাচ্চাকে আমি সবসময় ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখবো।”
🌿
“বারান্দায় থাকা ইজি চেয়ারে বসে পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতির দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আদ্রিজা। তাঁর মাথায় হাজার ও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।”
” বর্তমানে আমি যার কাছে আছি, যাকে বাবা বলে ডাকছি, সেই কি আমার আসল বাবা ? উনি যদি আমার আসল বাবা না হয় তাহলে আমার আসল বাবা কে? “আমি কে ? আমার পরিচয় কি ? আমার বাবা মা কে ? আমার বাড়ি কোথায়? আর আদ্রিয়ানা মেয়েটাই বা দেখতে আমার মতো কেনো ? বা আমি দেখতে ওর মতো কেনো?”
“এই রকম হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আদ্রিজার মাথায়।”
–“আমি আদ্রিয়ানা মেয়েটার মুখোমুখি হবো, আমি আমার পরিচয় খুঁজে বের করবো। যে করেই হোক আমাকে আমার পরিচয় খুঁজে বের করতে হবে।”
“এই কথা বলে উঠে দাঁড়ায় আদ্রিজা। পা বাড়ায় থামতুয়ার রুমে দিকে। থামতুয়ার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আদ্রিজা।”
–“বাবা আসবো ?”
–“এসো।”
“আদ্রিজা থামতুয়ার রুমে প্রবেশ করে। থামতুয়ার সামনে গিয়ে বসে।”
“বাবা আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।”
–“বল কি কথা?”
“বাবা আমি কি সত্যি আপনার মেয়ে?”
“হঠাৎ আদ্রিজার এমন প্রশ্নে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় যায় থামতুয়া। মিনিট দুয়েক চুপ করে থেকে বলে”..
“কি সব বলছিস তুই ? তুই যদি আমার মেয়ে না হোস তাহলে আর কার মেয়ে হবি ? তুই আমার মেয়ে।”
“আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না বাবা। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ওই আদ্রিয়ানা মেয়েটার সাথে আমার কোন সম্পর্ক আছে।”
“কোন সম্পর্ক নেই। মেয়েটা দেখতে তোর মতো তো তাই ওর প্রতি একটু টান হয়ে গেছে তোর। এর থেকে আর কিছু না।”
“থামতুয়ার কথা আদ্রিজার বিশ্বাস হয় না। সেই থামতুয়ার হাত নিজের মাথায় রেখে বলে”..
“বাবা আমার মাথায় হাত রেখে বলুন তো আমি আপনার মেয়ে।”
“থামতুয়া এইবার একদমই চুপ হয়ে যায়।”
“কি হলো বাবা? আমার মাথায় হাত রেখে বলুন, আমি আপনার নিজের মেয়ে কি না।”
“থামতুয়া হাত সরিয়ে নেয়। মিনিট পাঁচেক চুপ করে থেকে বলে”..
“আদ্রিজা তুই আমার নিজের মেয়ে না। আজ থেকে আঠারো বছর আগের কথা। আমি আর আমার বৌ চট্টগ্রামে থাকতাম। আমার বৌ হসপিটালে নার্সের চাকরি করতো। আমাদের কোন কিছুর কমতি না থাকলে ও কমতি ছিল একটা সন্তানের।”
“দুই অক্টোবর তোর আর তোর বোনের জন্ম হয়। তোরা জমজ হওয়ায় এক জন কে তোর বাবা মায়ের কাছে রেখে আরেকজন কে আমার বৌ নিয়ে আসে। সেই দিন রাত এগারোটার দিকে তোকে সাথে নিয়ে হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরে আমার বৌ। তোকে না কি আমার বৌয়ের খুব পছন্দ হয়েছে তাই তোকে চুরি করে নিয়ে আসে হসপিটাল থেকে। তোকে পেয়ে আমাদের সন্তানের অভাব টা পূরণ হয়। পরের দিন সকালে তোকে নিয়ে আমি আর আমার স্ত্রী চট্টগ্রাম ছেড়ে সাজেকে চলে আসি। তাঁর পর তোকে নিয়ে আমি আর আমার স্ত্রী সুখে শান্তিতে সংসার করতে থাকি। তোর যখন পনেরো বছর বয়স তখন আমার বৌ আমাকে ছেড়ে পরপারে চলে যায়। বৌ চলে যাওয়ার পর তোকে ঘিরে আমার বেঁচে থাকা।”
“থামতুয়ার মুখে এমন কথা শুনে বেশ অবাক হয় আদ্রিজা।”
“তোমরা যদি আমার আসল বাবা মা না হও তাহলে আমার আসল বাবা মা কে ?”
“তা তো আমি জানি না। তবে আমার স্ত্রী আমাকে বলেছিল তোর না কি আরো একটা জমজ বোন আছে। আমার মনে হয় ওই আদ্রিয়ানা মেয়েটাই তোর জমজ বোন। আদ্রিয়ানার মুখোমুখি হলেই তুই তোর আসল বাবা মা কে খুঁজে পাবি।”
“আমি আদ্রিয়ানার মুখোমুখি হবো। আমাকে যে হতেই হবে। আমি আজকেই চট্টগ্রাম যাবো।”
“নিজের পরিবার কে পেয়ে এই বৃদ্ধ বাবা টা কে ভুলে যাস না মা।”
“আদ্রিজা থামতুয়ার হাত ধরে বলে”..
“আঠারো টা বছর আপনাকে বাবা বলে ডেকেছি না, সেই বাবা কে কি করে ভুলে যাবো বলেন। আপনাকে আমি কখনোই ভুলবো না।”
🌿
“সন্ধ্যা সাত। সারাদিন অফিস শেষে এইমাত্র বাসার সামনে এসে পৌঁছেছে জাবির। গাড়ি থেকে নেমে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় জাবির। বাড়ির মেন দরজা খুলা দেখে বেশ অবাক হয় জাবির। আর এক মুহূর্তও দেরি না করে ছুটে যায় আদ্রিয়ানার রুমে। আদ্রিয়ানা কে রুমে না পেয়ে আদ্রিয়ানা কে খুঁজতে খুঁজতে বারান্দায় চলে যায় জাবির। আদ্রিয়ানা বারান্দায় ও নেয়। জাবির বারান্দা থেকে রুমে আসতেই জাবিরের চোখ পড়ে ড্রেসিং টেবিলের উপরে থাকা খাবারের উপর। যে খাবার টা জাবির সকালে আদ্রিয়ানার জন্য রেখে গিয়েছিল। খাবার টা যেভাবে রেখে গিয়েছিল ঠিক সেই ভাবেই আছে। খাবারের পাশে অযত্নে পড়ে আছে জাবিরের লিখা সেই চিরকুট টা। জাবির চিরকুটের দিকে এক পলক তাকিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়।”
“একে একে বাড়ির প্রতিটি রুম খুঁজে দেখে জাবির। কোন রুমেই আদ্রিয়ানা কে খুঁজে পায় না। বাড়ির বাহিরে গিয়ে গ্যারেজে, বাগানে সব জায়গাতেই আদ্রিয়ানা কে খোঁজে কিন্তু কোথায় আদ্রিয়ানা কে খুঁজে পায় না সেই। শেষ মেষ গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যায় আদ্রিয়ানার খোঁজে।”
🌿
“চট্টগ্রামে পা রাখতেই কিছু বখাটে গুন্ডার কোবলে পড়ে আদ্রিজা। গুন্ডাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শরীরের সব শক্তি দিয়ে দৌড়াচ্ছে আদ্রিজা।”
“আদ্রিজা দৌড়াচ্ছে আর একটু পর পর পিছনে ঘুরে তাকাচ্ছে। গুন্ডা গুলো আদ্রিজার খুব নিকটে চলে এসেছে দেখে আদ্রিজা দৌড়ের গতি বাড়িয়ে দেয়। দৌড়াতে দৌড়াতে একটা গাড়ির সামনে গিয়ে পড়ে আদ্রিজা। গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে একটু দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে সেই। আদ্রিজার এই অবস্থা দেখে গুন্ডা গুলো পালিয়ে যায়। তা নিভু নিভু চোখে আদ্রিজা দেখতে পায়। গাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে গাড়ি থেকে একটা যুবক বের হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে আসছে। আদ্রিজা যুবকের দিকে সাহায্যের দৃষ্টিতে তাকায়। যুবক টা যখন আদ্রিজার নিকটে পৌঁছায় তখন আদ্রিজার চোখে অন্ধকার নেমে আসে।”
“যুবক টি আদ্রিজার পাশে এসে বসে এবং আদ্রিজার মুখের দিকে তাকায়। সেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। আদ্রিজা কে দেখে অবাকের দ্বিগুন পর্যায়ে যায় যুবক টি। তড়িঘড়ি করে আদ্রিজার পালস চেক করে এবং নিশ্চিত হয় যে সে বেঁচে আছে। যুবক টি আদ্রিজা কে কোলে তুলে নিয়ে গাড়িতে বসায় এবং হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
সময়ের অভাবে রিচেক দেওয়া হয় নিই।
চলবে…
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭