দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ৩৬
Jahirul_islam_Mahir
🌿
“যাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য এতো কিছু করলি, এতো নিচে নামলি, ফ্যামিলির বিরুদ্ধে গেলি। নিজের ভাই কে মেরে ফেললি তাকে পাওয়ার শেষ প্রান্তে এসে এই ভাবে হেরে যেতে পারিস না জাবির। মেরে ফেল আদনানের সন্তান কে। ও কে মেরে ফেললেই তুই খুব সহজে আদ্রিয়ানা কে পেয়ে যাবি।”
“জাবিরের মাথায় এই কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু তার মন কিছুতেই মানছে না। সে আদ্রিয়ানার ভালোবাসায় পাগল, কিন্তু আদনানের সন্তানকে মারার কথা ভাবতে গেলেই তার হৃদয় কেঁপে উঠে।”
“জাবিরের চোখে জল জমতে শুরু করে, আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে উঠে”..
“আদ্রিয়ানা, আমি হেরে গেলাম। তোমাকে পাওয়ার যুদ্ধে আমি হেরে গেলাম। ভালোবাসার যুদ্ধে আজ আমি পরাজিত।”
“তুমি শুধু আদনানের, তুমি শুধু আদনান কে ভালোবেসেছো আর আমি জাবির তোমাকে ভালোবেসেছি, আমি এক ব্যর্থ প্রেমিক।”
“আদনান তোমাকে পেয়েছে, তোমাকে ভালোবাসে, আর আমি শুধু তোমার ছায়া দেখে বেঁচে আছি।
আদ্রিয়ানা, কেন তুমি আমাকে ভালোবাসলে না?
“কথা টা বলে ফ্লারে বসে পড়ে জাবির, তার চোখ থেকে অঝোর ধারায় জল পড়ছে। ভালোবাসার যুদ্ধে নিজের হার মেনে নিয়েছে সেই। ছোট বেলা থেকেই যা চেয়েছে তাই পেয়েছে সেই, হোক সেটা আপোষে কিংবা জোর করে। কিন্তু আজ আদ্রিয়ানাকে চেয়ে না পাওয়ার বেদনা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।”
“জাবিরের হৃদয়টা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, সে আর সহ্য করতে পারছে না। তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছে। পাশ ফিরে তাকাতে দেখে তাঁর দূঃখের সঙ্গী গিটার টা অযত্নে তাঁর পাশেই পড়ে না। দুই দিনের জন্য আদ্রিয়ানা কে পেয়ে গিটারের কথা ভুলেই গিয়েছিল সেই। জাবির গিটার টা হাতে তুলে নেয়। গিটারের টুংটাং শব্দ তুলে জাবির গাইতে শুরু করে”….
“ভিতর কান্দে শখি আমার তোমার লাগি দেখলা না।”
“আর কতো কাল রাখবা তোমার মন ভিবাগী বুঝলাম।
“তোমার মনের মনি কোঠায় দাও না আমায় একটু ঠাঁই,
“তোমার মনের মনি কোঠায় দাও না আমায় একটু ঠাঁই, মন আর মানে না।”
“ভিতর কান্দে শখি আমার তোমার লাগি দেখলা না।”
“আর কতো কাল রাখবা তোমার মন ভিবাগী বুঝলাম।”
🌿
“আদ্রিয়ানা……
“চিৎকার দিয়ে হসপিটালের বেড থেকে উঠে বসে আদনান। হাত থেকে সেলাইন টা খুলে বেড থেকে নামতে যাবে ঠিক তখনি আদ্রিজা আদনানের সামনে এসে দাঁড়ায়। আদ্রিজা কে দেখে আদনান মুখে হাঁসি ফুটে উঠলেও সেই হাঁসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। মূহুর্তের মধ্যে আদনানের মুখের হাসি উধাও হয়ে যায়। কারণ আদনান বুঝতে পারে যে তাঁর সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে সেই তাঁর আদ্রিয়ানা নয়। শুধু ফেইস টাই আদ্রিয়ানার মতো।”
“আদ্রিজা আদনানের কাছে এসে আদনান কে স্পর্শ করতে যাবে ঠিক তখনি আদনান বলে উঠে”..
“Don’t teach me. আমাকে ভুলে ও Teach করার চেষ্টা করো না।”
“এই কথা বলে আদনান উঠে দাঁড়ায়। আদ্রিজার দিকে এক পলক তাকিয়ে সামনের দিকে পা বাড়াতে যাবে ঠিক তখনি সামির আদনানের সামনে এসে দাঁড়ায়।”
–“ভাইয়া আপনার অবস্থা তেমন ভালো না। এই মূহুর্তে আপনার রেস্টের প্রয়োজন। আপনি রেস্ট না নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন।”
–“আদনান কিছু বলে না। সামিরের দিকে এক পলক তাকিয়ে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করে। পিছন থেকে সামির বলে উঠে”…
–“ভাইয়া আদ্রিয়ানা ভাবী কে, কে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে এবং কোথায় নিয়ে গেছে তা আমি জানি।”
“সামিরের কথা কানে আসতেই আদনান থেমে যায়। পিছনে ঘুরে তাকিয়ে বলে”..
–“কে কিডন্যাপ করেছে?”..
–“আপনার ছোট ভাই জাবির। ও ছাড়া আর কেউ নয়।”
–“তুমি কি সিউর?”..
–“জ্বী ভাইয়া আমি একশো পার্সেন সিউর। রায়হানই আদ্রিয়ানা ভাবী কে কিডন্যাপ করেছে।”
–“কিডন্যাপ করে কোথায় নিয়ে যেতে”…
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদনান তাঁর আগেই সামির বলে উঠে”..
–“চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির পিছনে পাহাড়ের মাঝে জাবিরের একটা দুই তালা বাড়ি আছে। ওই বাড়িতে আদ্রিয়ানা ভাবী কে বন্দি করে রাখা হয়েছে।”
“আদনান আর এক মুহূর্তও দেরি না করে হসপিটাল থেকে বের হয়ে যায়। আদনানের যাওয়ার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আদ্রিজা আর থামতুয়া।”
🌿
“রাত তিনটা। কেউ জেগে নেই। পুরো শহর ঘুমাচ্ছে। ঘুম নেই শুধু আদ্রিয়ানার চোখে। বারান্দায় থাকা দুলনায় বসে পলকহীন দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানা। চোখের পলক পর্যন্ত ফেলছে না। চোখের পলক ফেললে বা চোখ বন্ধ করলেই আদনানের ফেইস টা ভেসে ওঠে। আদনানের সাথে কাটানো স্মৃতি গুলো ভেসে ওঠে।
” আদনানের হাসি, আদনানের কথা, আদনানের স্পর্শ… সবকিছুই যেন আদ্রিয়ানার চোখের সামনে ভাসছে। আদ্রিয়ানা নিজেকে সামলাতে পারছে না, চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।”
“হঠাৎ আদ্রিয়ানার মনে পড়ে যায় আদনানের সেই কথা”
“আদ্রিয়ানা, আমার সানফ্লাওয়ার আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না প্লীজ। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না। নিঃশ্বাস আটকে আসার মতো কষ্ট পেয়ে মরে যাবো। তুমি যে আমার সবকিছু।”
“আদ্রিয়ানার চোখের জল আরো বেশি করে গড়িয়ে পড়ে।”
“মিস্টার পান্ডা আপনি তো এই চাঁদ কে সাক্ষী রেখে কথা দিয়েছিলেন যে আমাকে ছেড়ে কখনো কোথাও যাবেন না। যদি যাওয়ার হয় তাহলে আমাকে সাথে নিয়ে যাবেন। কথা দিয়েও কথা রাখলেন না কেনো? একা একা কেন হারিয়ে গেলেন? আমাকে সাথে নিয়ে গেলেন না কেনো?”
“মিস্টার পান্ডা আপনি একদিন বলেছিলেন, আমি কান্না করলে না কি আপনি সহ্য করতে পারেন না। আপনার বুকের ভিতরে ভূমিকম্প শুরু হয়ে যায়। অথচ আপনিই আমাকে প্রতিনিয়ত কাঁদাচ্ছেন।”
“আদ্রিয়ানা এইবার আকাশের দিকে তাকিয়ে আর্তনাদ করে ওঠে”..
–“হে আল্লাহ আমার পান্ডা কে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও প্লীজ। আমার পান্ডার যদি হায়াত না থেকে থাকে তাহলে আমার অর্ধেক হায়াত আমার পান্ডার করে দাও। তাঁর পর ও আমার পান্ডা কে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। আমার পান্ডা কে ছাড়া আমার খুব খুব কষ্ট হচ্ছে।”
🌿
“সকাল আটটা। নাস্তার প্লেট হাতে নিয়ে আদ্রিয়ানার রুমে প্রবেশ করে জাবির। পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে দেখে আদ্রিয়ানা রুমে নেই। নাস্তার প্লেট টা ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে ছুটে যায় বারান্দায়।”
“বারান্দায় থাকা দুলনায় ঘুমিয়ে আছে আদ্রিয়ানা। জাবির আদ্রিয়ানা ঘুমন্ত ফেইসের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার রুমের ভিতরে চলে যায়। ড্রায়ার থেকে খাতা কলম বের করে একটা চিরকুট লিখে নেয়। চিরকুট টা সুন্দর করে ভাঁজ করে নাস্তার প্লেটের পাশে রেখে দেয়। বারান্দার দিকে উঁকি দিয়ে আদ্রিয়ানা কে আর এক পলক দেখে বের হয়ে যায় জাবির।”
🌿
“ছয় ঘণ্টা জার্নির পর জাবিরের বাড়ির সামনে এসে পৌঁছেছে আদনান। গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় আদনান। বাড়ির মেন দরজা লক করা দেখে আদনানের মাথায় রক্ত উঠে যায়। রাগে শরীরের সব শক্তি দিয়ে বাড়ির মেন দরজায় লাথি মারে আদনান। সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে যায়। আদনান বাড়ির ভিতরে ঢুকে যায়। ডাইনিং রুমের একদমই মাঝখানে দাঁড়িয়ে আদ্রিয়ানা কে ডাকে আদনান।”
“আদ্রিয়ানা, আমার সানফ্লাওয়ার তুমি কোথায়? তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো? নিচে এসে দেখো তোমার পান্ডা তোমাকে নিতে এসেছে।”
“এই কথা বলে আদনান সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে আর আদ্রিয়ানা কে ডাকতে থাকে।”
“বারান্দায় থাকা দুলনায় ঘুমিয়ে ছিলো আদ্রিয়ানা। আদনানের গলার শব্দ কানে আসতেই ঘুম ভেঙ্গে যায় আদ্রিয়ানার। আদ্রিয়ানা তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ায়।
“এটাতো, এটাতো আমার পান্ডা সাহেবের গলা।, তাহলে কি আমার পান্ডা সাহেব আমাকে নিতে এসেছে ?”
“মিস্টার পান্ডা আপনার সানফ্লাওয়ার এখানে।”
“কথা টা বলেই ছুটে যায় আদ্রিয়ানা। রুম থেকে বের হতেই দেখে আদনান তাকে ডাকতে ডাকতে বা দিকে যাচ্ছে।আদনান কে দেখে মিস্টার পান্ডা বলেই চিৎকার দেয় আদ্রিয়ানা। আদ্রিয়ানা চিৎকার শুনে পিছনে ঘুরে তাকায় আদনান। আদ্রিয়ানা তাঁর সানফ্লাওয়ার তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দুজনে একে অপরের দিকে তাকায়। দুজনেই চোখেই পানি টলটল করছে।”
“আদ্রিয়ানা পান্ডা সাহেব বলে ছুটে যেতে থাকে আদনানের দিকে। আদনান ও আমার সানফ্লাওয়ার বলে আদ্রিয়ানার দিকে ছুটে আসতে থাকে। আদ্রিয়ানা আদনানের কাছে এসে আদনানের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আদনান ও তাঁর সানফ্লাওয়ার কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আগলে নেয় নিজের বাহু ডুরে। দুজনেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে, আদ্রিয়ানার চোখে পানি তে আদনানের বুক ভিজে উঠে। আদনান আদ্রিয়ানার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।”
“কান্না করো না সানফ্লাওয়ার আমি এসে গেছি তো, তোমার পান্ডা তোমার কাছে এসে গেছে সানফ্লাওয়ার। আমি তোমাকে আর কখনো ছেড়ে যাবো না প্রমিজ করছি। এইবার অন্তত কান্না টা থামাও। তোমার কান্না যে তোমার পান্ডা সহ্য করতে পারে না।”
“আদ্রিয়ানা আদনানের বুকে মুখ গুঁজে দেয়”
–” আপনি আমার কান্না সহ্য করতে পারেন না বলেই তো এতো দিন আমাকে কাঁদিয়েছেন তাই না?
“আদনান কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা আদনানের ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়। আদ্রিয়ানার সাথে আদনান ও রেসপন্স করে। মিনিট পাঁচেক পর ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে আদনানের পুরো ফেইসে চুমু খাই আদ্রিয়ানা। আদনানের চোখের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার ও আদনানের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে অনুভব করতে থাকে একে অপরের ভালোবাসা।”
চলবে…
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ গল্পের লিংক
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১