Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩৫


দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ

পর্ব : ৩৫

লেখক_Jahirul_islam_Mahir

🌿
“আদনানের বুকের বা পাশে নিজের ছবি আর্ট করা দেখে চারশো বল্ডের একটা শখ খাই আদ্রিজা। আদ্রিজার সাথে আদ্রিজার বাবা থামতুয়া ও বেশ অবাক হয়।”

“মিনিট দুয়েক আগে আদনানের ক্ষত স্থানে জরিবুটি লাগানোর জন্য আদনানের পরণে থাকা শার্ট টার বোতাম খুলেছিলো আদ্রিজা। বোতাম খুলতেই বের হয়ে আসে জীম করা শক্ত পোক্ত সিক্স প্যাক। জীম করা বুকের বাঁ পাশে একটা মেয়ের ছবি আর্ট করা। আর্ট করা ছবি টা দেখতে একদমই আদ্রিজার মতো। ছবির নিচে ইংরেজি অক্ষরে আদ্রিয়ানা নামটা লিখা।”

–“বাবা এই ছেলের বুকে আমার ছবি আর্ট করা কেনো ? আমি তো আজকের আগে এই ছেলে কে কখনো দেখিনি তাহলে কেমনে কি?”.
–“আর্ট করা ছবি টা যদি আমার হয় তাহলে ছবির নিচে আদ্রিয়ানা লিখা কেনো? আর যদি আমার না হয় তাহলে এই আর্ট করা মেয়ে টা আমার মতো দেখতে কেনো ?”

“এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো এই ছেলে। উত্তর পেতে হলে আগে এই ছেলে কে সুস্থ করে তুলতে হবে।”

“বাবা আপনি ঠিক বলেছেন। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আগে এই যুবক কে সুস্থ করে তুলতে হবে।”

“তুই ওর ক্ষত স্থানে জরিবুটি গুলো ভালো করে লাগিয়ে দে। ততক্ষণে আমি একজন ডাক্তার নিয়ে আসি।”

“এই কথা বলে থামতুয়া বের হয়ে যায়। আদ্রিজা যত্ন সহকারে আদনানের ক্ষত স্থানে জরিবুটি লাগিয়ে দিতে থাকে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে জরিবুটি লাগানো হয়ে যায়। জরিবুটি লাগানো শেষে আদনানের মুখের দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আদ্রিজা।”

🌿
“সাজেক হানিমুনে এসেছে সামির আর তূবা। তাঁরা সাজেক এসেছে আজ দুই দিন হয়েছে। এই দুই দিনে সাজেকে থাকা বেশ কিছু জায়গা ঘুরে দেখেছে তাঁরা। আজকে তূবা কে নিয়ে লং ড্রাইভে বের হয়েছে সামির। হঠাৎ করেই লং ড্রাইভে যাওয়ার ইচ্ছা হয়েছে তূবার। তাও আবার পাহাড়ি রাস্তায়। সামির গাড়ি ড্রাইভ করছে আর একটু পর পর তূবার দিকে তাকাচ্ছে।”

“মিস্টার হাঁসের ডাক্তার সামনের দিকে তাকিয়ে মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভ করেন। এটা পাহাড়ী রাস্তা যেকোনো সময় এক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে।”

“সামির কিছু বলতে যাবে তার আগেই সামির দেখতে পায় এক বৃদ্ধ রাস্তার মাঝখানে চলে এসেছে। বৃদ্ধ কে দেখে সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি ব্রেক করে সামির। আর একটুর জন্য অঘটন টা ঘটে নিই। তবে বৃদ্ধ টা বেশ ভয় পেয়েছে তা বৃদ্ধর চেহারা দেখে বুঝা যাচ্ছে। সামির গাড়ি থেকে নেমে বৃদ্ধর দিকে এগিয়ে যায়। বৃদ্ধ সামিরের দিকে তাকায়। বৃদ্ধর শরীর কাঁপতে দেখে সামির বৃদ্ধ কে ধরে রাস্তার পাশে বসায়। গাড়িতে থাকা পানির বোতল এনে বৃদ্ধর হাতে দেয়। বৃদ্ধ ঢকঢক করে পুরোটাই খেয়ে নেয়।”

–“আংকেল আপনি ঠিক আছেন তো ?”..

–“নাহ বাবা, আমি ঠিক নেই, আমার শরীর কাঁপছে।”

–“আংকেল আপনি আপনার বাসার এড্রেস টা বলেন আমি আপনাকে বাসায় পৌঁছে দিবো।”

“একা বাসায় গেলে হবে না। সাথে একজন ডাক্তার নিয়ে যেতে হবে! নয়তো ছেলে টা কে বাঁচাতে পারবো না। ছেলেটার অবস্থা খুব খারাপ।”

–“কি হয়েছে আপনার ছেলের?”

–” আমার ছেলে না বাবা।”

–“তাহলে?”..

“বৃদ্ধ আদনানের ব্যাপারে সব কিছু সামির কে বলতে শুরু করে। আর হ্যাঁ বৃদ্ধ টা হচ্ছে থামতুয়া। থামতুয়ার মুখে সব শুনে সামির বলে”..

–“উনাকে ইমিডিয়েটলি হসপিটালে ভর্তি করতে হবে। নয়তো উনার অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে।”

“বৃদ্ধ সামিরের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে”..

“আমার পক্ষে তো এইসব সম্ভব নয় বাবা। আমি এই সবের কিছুই বুঝি না। তুমি কি একটু কষ্ট করে আমার সাথে যাবে?”

“সামির তূবার দিকে এক পলক তাকায়। মিনিট দুয়েক চুপ করে থেকে বলে “..

–“ঠিক আছে আংকেল চলুন।”

“সামির গাড়ির দরজা খুলে থামতুয়া কে গাড়িতে উঠতে বলে। থামতুয়া গাড়ি তে উঠলে সামির দরজা লাগিয়ে দিয়ে নিজেও গাড়ি তে উঠে বসে। তূবার দিকে এক পলক তাকিয়ে গাড়ি স্টাস্ট দেয় সামির।”

🌿
“থামতুয়ার কথা মতো গাড়ি ব্রক করে সামির। থামতুয়ার দিকে তাকাতেই থামতুয়া বলে”..

–“বাবা গাড়ি আর যাবে না। বাকিটুকু পথ হেঁটে যেতে হবে।”

“থামতুয়ার কথা শুনে সামির আর তূবা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়।”

–“বাবা আমার সাথে সাথে আসো।”

“এই কথা বলে থামতুয়া হাঁটা শুরু করে। থামতুয়ার পিছু পিছু সামির আর তূবা ও হাঁটা শুরু করে। বিশ মিনিট হাঁটার পর তাঁরা পৌঁছে যায় থামতুয়ার ঘরের সামনে।”

–“বাবা এটাই আমার ঘর। তোমরা ভিতরে এসো। ছেলেটা ভিতরে আছে।”

“সামির আর তূবা ঘরের ভিতর যায়। থামতুয়া তাদের কে আদনানের কাছে নিয়ে যায়। আদনান কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বেশ অবাক হয় সামির। আদনানের দিকে এগিয়ে গিয়ে আদনানের পাশে বসে। আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে বলে”..

–“ভাবী আদনান ভাইয়ার এই অবস্থা কীভাবে হলো ? আর আপনি আর আদনান ভাইয়া বা এখানেই কি করে এলেন?”

“সামিরের মুখে এমন কথা শুনে বেশ অবাক হয় আদ্রিজা।”

“আজব এইসব কি বলছেন আপনি? আপনার মাথা ঠিক আছে? কোন দিক দিয়ে আমি আপনার ভাবী লাগি?”

–“আপনি আদনান ভাইয়ার ওয়াইফ আদ্রিয়ানা না ?”..

“আজব আমি উনার ওয়াইফ হতে যাবো কেনো? আমি তো উনাকে চিনি ও না। আজকের আগে কখনো দেখিনি ও নিই। তাছাড়া আমি আদ্রিয়ানা না আমার নাম আদ্রিজা।”

“আপনি যদি আদনান ভাইয়ার ওয়াইফ আদ্রিয়ানা না হোন তাহলে আপনি আদ্রিয়ানার মতো দেখতে কেনো ?”

“আমার ও তো এই একি প্রশ্ন। আমি দেখতে উনার ওয়াইফের মতো কেনো ? আর উনার ওয়াইফই বা আমার মতো দেখতে কেনো ?”

“সামির মিনিট দুয়েক চুপ করে থেকে বলে”..
–“এখানে অনেক বড় রহস্য আছে মনে হচ্ছে।”

“সামিরের মুখে এমন কথা শুনে থামতুয়া বলে”..
–“বাবা আমার ও তাই মনে হয়।”

“এইবার সামির কিছু বলতে যাবে তার আগেই তূবা বলে উঠে”..

“রহস্য উদঘাটন পরেও করা যাবে আগে উনাকে হসপিটালে নিয়ে চলেন। নয়তো উনার অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে।”

“তূবার কথায় সবাই সাঁই জানাই।”

🌿
“ছাঁদে বসে একের পর এক সিগারেট পোড়াচ্ছে জাবির। বারবার শুধু আদ্রিয়ানা বলা কথা টা তাঁর কানে বাজছে। আদ্রিয়ানা বলা কথা গুলো জাবিরের বুকে তীরের মতো গেঁথেছে।

“আধা ঘন্টা আগের কথা। এক গুচ্ছ নীল রঙের গোলাপ নিয়ে আদ্রিয়ানার রুমে প্রবেশ করে জাবির।
জাবির রুমে ঢুকতেই আদ্রিয়ানা তার দিকে তাকায়। জাবিরের হাতে গোলাপের গুচ্ছ দেখে আদ্রিয়ানার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। জাবির আদ্রিয়ানার সামনে এসে দাঁড়ায়। একটা মুচকি হাসি দিয়ে আদ্রিয়ানার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে জাবির।”

“‘আদ্রিয়ানা, আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো না। কিন্তু আমি তোমাকে খুব খুব ভালোবাসি। তুমি আমার বড় ভাইয়ার বেবির মাম্মাম হতে চলেছো। তাঁতে আমার কোন সমস্যা নেই। আমি বেবি সহ তোমাকে গ্ৰহণ করতে চাই। কারণ আমার ভাইয়ের বেবি মানে আমার বেবি। আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি আমি বেবি কে নিজের পরিচয়ে বড় করবো। সেই আমার পরিচয়ে বড় হবে। আমি তোমার আর আমাদের বেবিকে আমার জীবন দিয়ে আগলে রাখতে চাই। তুমি কি আমাকে একটা সুযোগ দেবে?”

“আদ্রিয়ানা জাবিরের দিকে তাকায়। তার চোখে কোনো আবেগ নেই।”

“দেখুন মিস্টার জাবির আমি আপনাকে আগেও বলেছি এখন ও বলছি আমি আপনাকে ভালোবাসি না। আর আমাদের বেবির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আপনাকে কেউ বলেনি। আমি একাই আমাদের বেবি কে মানুষ করতে পারবো।”

“জাবিরের মুখটা হতাশায় নুয়ে যায়। ‘আদ্রিয়ানা, তুমি আমাকে এভাবে ফিরিয়ে দিচ্ছো? আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি।”

“আদ্রিয়ানা দৃঢ় কণ্ঠে বলে, “মিস্টার জাবির, আমি আমার উত্তর আপনাকে জানিয়ে দিয়েছি। আপনি এখন এখান থেকে যান।”

“জাবির উঠে দাঁড়ায়। হাত থেকে ফুল গুলো ফেলে দিয়ে আদ্রিয়ানা কে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলে”.

“‘আদ্রিয়ানা, একটা কথা তুমিও কান খুলে শুনে রাখো তুমি শুধু আমার হবে, আমারই থাকবে।”

“আদ্রিয়ানা জাবিরের হাত থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। ‘জাবির, ছাড়েন আমাকে। আপনি আমাকে এই ভাবে ভয় দেখাতে পারেন না।”

“জাবিরের চোখে রাগ ফুটে ওঠে। সেই আদ্রিয়ানা কে আরো শক্ত করে চেপে ধরে।”

“আদ্রিয়ানা জাবিরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে চিৎকার দিয়ে বলে উঠে”…

“তখন থেকে কি সব আজে বাজে বলে যাচ্ছেন হ্যাঁ? এক টা কথা কান খুলে শুনে রাখুন মিস্টার জাবির। এই আদ্রিয়ানা এই জন্মে শুধু একজন কে ভালোবেসেছে আর সেই হচ্ছে শুধু জাহির আদনান চৌধুরী। পরের জন্ম বলে যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে সেই জন্মেও আমি শুধু জাহির আদনান চৌধুরী কে ভালোবাসবো আর কাউকে না। আপনি যদি আমাকে মারতে মারতে মেরে ও ফেলেন তাঁর পর ও বলবো আমি শুধু জাহির আদনান চৌধুরী কে ভালোবাসি। যতক্ষণ এই দেহে প্রান আছে ততক্ষণ বলবো আমি শুধু আদনান কে ভালোবাসি। শুনতে পেয়েছেন আপনি।”

চলবে

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply