Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩৪


দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ

পর্ব : ৩৪

লেখক_Jahirul_islam_Mahir

🌿দুই তালা বিশিষ্ট একটা মাঝারি সাইজের ঘর। ঘরটা বাঁশের তৈরি, ছাদে পাতার আড়াল। পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত, সামনে ছোট্ট একটা বাগান যেখানে বিভিন্ন রঙের ফুল ফুটে থাকে। ঘরের ভেতর কাঠের মেঝে, দেয়ালে সুন্দর কারুকাজ করা। এক কোণে চুলা, যেখানে রান্না হয় সুস্বাদু পাহাড়ি খাবার। বাকি দুই রুমে দুই টা বিছানা, আর কিছু আসবাবপত্র। রুমের পাশেই রয়েছে বারান্দা, যেখানে বসে পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। প্রতি রুমেই রয়েছে ছোট ছোট জানালা, জানালা দিয়ে পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি দেখা যায়, সাথে পাখির গান। এমন ঘর পাহাড়ের বুকে এক টুকরো স্বর্গের মতো! এই ছোট্ট ঘরে বাস করে এক আধ বয়সী লোক আর তাঁর মেয়ে। আধ বয়সী লোকটার নাম থামতুয়া। আর তাঁর মেমের নাম আদ্রিজা।”

“চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বারান্দায় থাকা ইজি চেয়ারে বসে প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগ করছে আঠারো বছর বয়সী মেয়ে আদ্রিজা। হঠাৎ করেই পাহাড়ের গভীর থেকে একটা শব্দ ভেসে আসে তাঁর কানে। কিছু ব্লাস্ট হওয়ার শব্দ। মিনিট দুয়েক পর ধোঁয়া ওঠা শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জায়গা টা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আদ্রিজা বুঝতে পারে যে গাড়ি ব্লাস্ট হয়েছে। আদ্রিজা কি মনে করে সেই ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।”

“থামতুয়ার কথায় আদ্রিজা বাস্তবে ফিরে”…
–কিরে পাগলী চায়ের কাপ হাতে নিয়ে কোথায় হারিয়ে গেলি? চা টা তাড়াতাড়ি শেষ কর নয়তো ঠান্ডা হয়ে যাবে তো।”

–“বাবা আপনি কখন আসলেন?”.

–“মাত্রই এসেছি।”

–“বাবা পাহাড়ের ওই জায়গায় থেকে এতো ধোঁয়া উঠছে কেনো ? আবার কি নতুন কোনো গাড়ি খাদে পড়ে ব্লাস্ট হয়েছে।”

–“ধোঁয়া গুলো তো দেখে তাই মনে হচ্ছে।”

–“আচ্ছা বাবা গাড়িতে যে ছিল সে কি বেঁচে আছে ?

–“রাস্তা টা দেখ , ওই খান থেকে গাড়ি পড়লেই ব্লাস্ট হয়ে যায়। সেখানে গাড়ি ব্লাস্ট হয়ে যায় সেখানে গাড়িতে থাকা মানুষ বেঁচে থাকবে কি করে ?

–“তাঁর পর ও আমাদের একবার দেখে আসা উচিত। এমন ও তো হতে পারে যে বেঁচে আছে।”

–“ঠিক বলেছিস তুই, তাছাড়া আমাদের এখান থেকে তো বেশি দূরে মনে হচ্ছে না, চল গিয়ে দেখে আসি।”

“থামতুয়া আর তাঁর মেয়ে আদ্রিজা রওনা দেয় সেই ধোঁয়া ওঠা জায়গার উদ্দেশ্য। মিনিট বিশেকের মধ্যে তাঁরা পৌঁছে যায় সেই কাঙ্খিত জায়গায়।”

“একটা গাড়ি তে দাউ দাউ করে আগুন জ্বালছে। গাড়ি থেকে একটু দূরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এক যুবক। যার পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়ে আছে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা যুবক টা আর কেউ নয় সেই হচ্ছে মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরী। থামতুয়া আর আদ্রিজা সেই যুবকের দিকে এগিয়ে যায়। থামতুয়া যুবকের নিঃশ্বাস চেক করে দেখে নিঃশ্বাস চলছে।”

–“আদ্রিজা ছেলে টা বেঁচে আছে, ওর নিঃশ্বাস চলছে।”

–“নিঃশ্বাস যেহেতু চলছে সেহেতু উনাকে আমাদের ঘরে নিয়ে চলেন।”

“থামতুয়া আর আদ্রিজা যুবক টা কে ধরে নিজেদের ঘরে নিয়ে যায়।”

🌿
“মিস্টার পান্ডা আপনি একা একা কেনো হারিয়ে গেলেন? আমাকে সাথে নিয়ে গেলেন না কেনো? আপনি তো জানেন আপনাকে ছাড়া আপনার ঘরওয়ালী থাকতে পারে না। তাঁর পর ও একা একা কেন হারিয়ে গেলেন। আপনাকে ছাড়া বাঁচতে খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। প্লীজ ফিরে আসেন আমার কাছে, আপনার সানফ্লাওয়ারের কাছে ফিরে আসেন।”

“বন্ধ ঘরে ফ্লারে বসে আর্তনাদ করছে আদ্রিয়ানা। বারবার শুধু আদনানের কথা মনে পড়ছে। আদনানের সাথে কাটানো সময়গুলোর কথা মনে পড়ছে। ফলে হাউ মাউ করে কেঁদে চলেছে আদ্রিয়ানা।”

–“নাহ পারছি না, আপনাকে ছাড়া বাঁচা অসম্ভব।”

“কথা টা বলে উঠে দাঁড়ায় আদ্রিয়ানা। বেডের উপর উঠে গলা থেকে উড়না টা খুলে হাতে নেয়। রুমে থাকা ফ্যানের সাথে উড়না টা সেট করে গলায় পেঁচিয়ে নেয়। বেডের উপর থেকে সরে আসতে চেয়েও থেমে যায় আদ্রিয়ানা। পেটে হাত দিয়ে ধপ কে বেডের উপর বসে পড়ে।”

–“নাহ এটা করা যাবে না। বর্তমানে আমি একা নয়, আমার সাথে আমাদের ভালোবাসার চিহ্ন আছে। আর যাইহোক তা কে সেভ রাখতে হবে।”

“আদ্রিয়ানা পেটে হাত দিয়ে কান্না করতে করতে বলে”..

–তোমার আসার খবর টা যদি না পেতাম তাহলে এতোক্ষণে মাম্মাম ও এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতাম। কারণ তোমার মাম্মাম যে তোমার পাপা কে ছাড়া একদমই অসহায়। তোমার মাম্মামের অক্সিজেন হচ্ছে তোমার পাপা।”

“তুমি কোন চিন্তা করো না। তোমার মাম্মাম তোমার কিছুই হতে দিবে না। তোমাকে সেভ রাখবে তোমার মাম্মাম।”

🌿
“জাবির দুধ গরম করে গ্লাসে ঢেলে নেয়। পকেট থেকে একটা ঔষধ বের করে দুধের সাথে মিশিয়ে দেয়। গ্লাস টা টেইটে নিয়ে পা বাড়ায় আদ্রিয়ানার রুমের দিকে।”

“দরজা খুলার শব্দ পেয়ে দরজার দিকে তাকায় আদ্রিয়ানা। জাবির এসেছে। হাতে তার দুধের গ্লাস। বেডের দিকে এগিয়ে এসে গ্লাস টা আদ্রিয়ানা দিকে এগিয়ে দেয় জাবির।”

–“দুধ টুকু খেয়ে নাও।”

–“হঠাৎ করে এতো ভালো হয়ে গেলেন যে ব্যাপার কি ? দুধের সাথে কিছু মিশিয়ে নিয়ে আসেন নিই তো আবার?”..

–“আ…আরে দূর, কি যে বলো না। দুধের সাথে আবার কি মিশাবো! কিছুই মিশায় নিই।”

–“আপনাকে আমার বিশ্বাস হয় না। তাই আপনার দেওয়া দুধ টুকু আমি খাবো না ধন্যবাদ।”

–“আমি মানছি আমি অনেক বড় একটা ভুল করে ফেলেছি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে রক্তের টানে ছুটে এসেছি আমাদের বেবির কাছে। আদনান ভাইয়া তো চলে গেছে না ফিরার দেশে। রেখে গেছেন তার শেষ চিহ্ন টুকু। কান্না কাটি করলেই তো আর ফিরে আসবে না তাই না। নিজেকে শক্ত করো। নিজের কথা না ভাবো অনন্ত যে আসতে চলেছে তাঁর কথা টা ভাবো। আজ থেকে তোমার আর বেবির দায়িত্ব আমার। তুমি না করো না প্লীজ। বেবির দায়িত্ব নিয়ে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে দাও প্লীজ।”

“আদ্রিয়ানা অবাক দৃষ্টিতে জাবিরের দিকে তাকায়।”

–“দুধ টুকু খেয়ে নাও। বিকেলের দিকে তোমাকে আম্মুর কাছে দিয়ে আসবো।”

“আদ্রিয়ানা কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকে। জাবিরের বলা কথা গুলো ভাবে। বেশ কিছুক্ষণ ভাবার পর দুধের গ্লাস টা হাতে তুলে নেয়। জাবিরের দিকে এক পলক তাকিয়ে দুধের গ্লাসে চুমুক দিতে যাবে ঠিক তখনি জাবির দুধের গ্লাস টা ফেলে দেয়।”

–“এই দুধ খেতে হবে না। একটু ওয়েট করো আমি তোমার জন্য নতুন করে দুধ গরম করে নিয়ে আসছি।”

“এই কথা বলে জাবির রুম থেকে বের হয়ে যায়। জাবিরের যাওয়ার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আদ্রিয়ানা।”

“আদ্রিয়ানার চোখে জাবিরের চলে যাওয়ার দৃশ্য এখনো ভাসছে। সে বুঝতে পারলো না। জাবির হঠাৎ করে এমন আচরণ কেনো করলো।”

🌿
“নিজের রুমে এসে জিনিস পত্র ভাঙচুর করছে জাবির। ভাঙা কাচের টুকরো, ভাঙা ফুলদানি… সবকিছুই যেন তার মনের রাগের প্রতীক। শেষমেষ, সে ফ্লারে বসে পড়ে, হাঁপাতে হাঁপাতে।

“বেবির কথা মনে পড়তেই আমি এতো দূর্বল হয়ে পড়ছি কেনো?”

“জাবির নিজেকে প্রশ্ন করে। তার চোখে-মুখে একটা নেশা, বেবিকে মেরে ফেলার নেশা। কিন্তু সে জানে, বেবির কাছে গেলেই তার সব শক্তি হারিয়ে যায়।”

“জাবির উঠে দাঁড়ায়, আবার বসে পড়ে। তার মস্তিষ্ক বলছে, “আদনানের সাথে আদনানের শেষ চিহ্নটুকু ও শেষ করে দে। ও বেঁচে থাকলে তুই আদ্রিয়ানা কে নিজের করে কখনো পাবি না। মেরে ফেল, বেবিকে। রাস্তা ক্লিয়ার করে ফেল। কিন্তু তার পা যেন পাথর হয়ে গেছে, নড়ছে না। মন সাঁই দিচ্ছে না, বেবির কথা মনে পড়লে তার হৃদয় নরম হয়ে আসে।”

“জাবির চিৎকার করে বলে”..
“কেনো আমি ওকে মারতে পারছি না? ওর কথা মনে পড়লেই দূর্বল হয়ে যায় কেন? কিসের এতো টান ওর প্রতি? রক্তের টান না কি অন্য কিছু?”.

“জাবিরের চোখে জল আসে, সে আবার ভাঙচুর শুরু করে, কিন্তু এবার তার চোখে জল, আর মনে একটা অদ্ভুত শূন্যতা।”

“ছোট পর্ব দেওয়ার জন্য দূঃখিত। লিখার সময় হয়ে উঠে নিই। সারাদিন মোটেও ব্যস্ততার মাঝে ছিলাম না। শুয়ে বসে থেকেছি তাঁর পর ও লিখতে ইচ্ছে করে নিই।”
বাই দা ওয়ে আমি আবার ও বলছি গল্প টা ধয্য ধরে পড়তে থাকো। পরের পর্ব থেকে ভালো কিছু পাবা।”

চলবে

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply