Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩২


দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ

পর্ব : ৩২

লেখক_Jahirul_islam_Mahir

🌿রাত বারোটা। লাল, নীল আর হলুদ রঙের গোলাপ দিয়ে সাজানো বাসর ঘরে বৌ সেজে বসে আছে তূবা। সামিরের আসার অপেক্ষা করছে। কিন্তু সামিরের আসার কোনো নাম নেই। আরো মিনিট পাঁচেক পর তূবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রুমে প্রবেশ করে সামির। দরজা লক করে এগিয়ে যায় বেডের দিকে। তূবার সামনে বসে তূবার ঘোমটা টা সরাই সামির। তূবার থুতনি ধরে মুখটা একটু উপরে তুলে। তূবা সামিরের দিকে তাকিয়ে একটা লজ্জা মিশ্রিত হাঁসি দেয়। সামির বুকের বাঁ পাশে হাত দিয়ে বেডের উপর ফিট হয়ে পড়ে যায়।”

–“মিস্টার গরুর ডাক্তার আর ইউ ওকেই?”..

–“এতোক্ষণ ওকেই ছিলাম তবে এখন নট ওকেই। তুমি কি বললা আমি গরুর ডাক্তার?”

–“গরুর ডাক্তার বলে ক্রেডিট কি বেশি দিয়ে ফেলছি ? ওও সরি সরি ভুল শুধরে নিচ্ছি। আর ইউ ওকেই মিস্টার হাঁসের ডাক্তার?”…

–“কি সব আজে বাজে বকছো মাথা ঠিক আছে? আমি গরুর ডাক্তার আর হাঁসের ডাক্তার হতে যাবো কেনো? আমি তো মানুষের হার্টের ডাক্তার!”

–“মিছা কথা। আপনি যে হার্টের ডাক্তার তা তো দেখে মনে হয় না।

–“তাহলে কিসের ডাক্তার মনে হয়?”..

–“ওই যে একটু আগে বললাম হাঁসের ডাক্তার।”

–“বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে না?”..

–“বেশি হয়ে গেলে আজকের জন্য এই টপিক টা বাদ দেন।”

–“হুম।

“সামির তূবার হাত ধরে তূবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে”..

–“জানো আজকে আমি অনেক অনেক খুশি। আজকের দিন টা আমার জন্য বেস্ট একটা দিন। কারণ আজকের দিনে আমি তোমাকে, আমার ভালোবাসা কে সারা জীবনের জন্য নিজের করে পেয়েছি।”

১৪ ই ফ্রেব্রুয়ারি ২০২৬ । এই তারিখে আমি তোমাকে নিজের করে পেয়েছি। এই তারিখ টা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিন। এই দিনে তুমি আমার হয়ে গেছো, আমার ভালোবাসা, আমার সবকিছু।”

–“তূবা আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, তোমাকে সবসময় ভালোবাসবো, বিপদে আপদে সুখে দুঃখে তোমার পাশে থাকবো, তোমাকে সুখী রাখবো।”

“তূবা সামিরের দিকে তাকিয়ে বলে”.. “আমিও আপনাকে কথা দিচ্ছি, আপনাকে ভালোবাসবো, আপনার পাশে থাকবো।”

“সামির আর তূবা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসে, সামির তূবার একদম কাছে এগিয়ে যায়, তাদের ঠোঁট দুটো এক হয়ে যায়। রাতের নিস্তব্ধতায় শুধু তাদের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যায়। রুমে ডিম লাইটের আলো আর কিছু মোমবাতি জ্বালছে। এই আলোয় এক জোড়া পাখি একে অপরের মধ্যে হারিয়ে যায়, তাদের ভালোবাসার সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকে।”

🌿এক হাজার গার্ড লাগিয়ে দিয়ে পুরো চট্টগ্রাম শহর তোল পাড় করে আদ্রিয়ানা কে খুঁজে চলেছে মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরী। তবে এখনো বৌয়ের কোন খোঁজ পায় নিই। মাফিয়া কিং কিন্তু এখনো হতাশ হয় নিই। গার্ডের সাথে মাফিয়া কিং নিজেও খুঁজে চলেছে।চট্টগ্রাম পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে যায়। আদনান গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। হঠাৎ চাকা পাংচার হওয়ায় আদনানের মাথায় রক্ত উঠে যায়। রাগে সুজোরে লাত্থি মারে গাড়ির চাকায়।

“সাউয়ার চাকা সাউয়াগিরি করার আর সময় পেলি না, এখনই সাউয়াগিরি করতে হলো?”

“এই কথা বলে আবার ও গাড়ির চাকায় সুজুরে লাত্থি মারে আদনান।

“মিস্টার পান্ডা বলছিলাম যে আজকে যদি মসজিদে জিলাপি দেয়, তাহলে আমার জন্য নিয়ে আইসেন। যদি নিয়ে না আসেন তাহলে আপনার বন্দুক দিয়ে আপনাকে জয় বাংলা করে দিবো।”

“আদ্রিয়ানার বলা এই কথা টা মনে পড়তেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে আদনান। আকাশের দিকে তাকিয়ে আর্তনাদ করে ওঠে।”

–“আদ্রিয়ানা, সানফ্লাওয়ার আমার ঘরওয়ালী তুমি কোথায়? প্লীজ ফিরে এসো তোমার সাদা কালা পান্ডার কাছে। তোমাকে ছাড়া তোমার পান্ডার খুব খুব খুব কষ্ট হচ্ছে।”

“কাঁদে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে পিছনে ঘুরে তাকায় আদনান। তাঁর এসিস্ট্যান্ট আজিজ কে দেখে বসা থেকে উঠে বসে আদনান।

–“আজিজ আমার বৌয়ের কোন খোঁজ পেয়েছো?”..

–“নাহ স্যার। তবে চেষ্টা চলছে।

“আদনান বড় বড় করে নিশ্বাস নিচ্ছে। মনে হচ্ছে বুকের উপর অনেক বড় একটা পাথর রাখা হয়েছে তাই নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বুকের ভেতর টা জ্বলে যাচ্ছে। বুকের ভেতর ভূমিকম্প চলছে। এই মুহূর্তে আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো পেলে বুকের ভিতরে চলমান ভূমিকম্প টা শান্ত হয়ে যেতো।”

–“চেষ্টা চলছে মানে কি? প্রয়োজনের গার্ডেন সংখ্যা এক হাজার থেকে দশ হাজার করে দাও। গার্ডের সাথে পুলিশ থেকে শুরু করে সব ডিপার্টমেন্ট কে লাগিয়ে দাও। যে করেই হোক না কেনো আমার বৌ কে আমার চাই। তাও চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে।”

“ওকেই স্যার।”

“আজিজ ফোন নিয়ে একটু সাইডে চলে যায়। কল দেয় সব ডিপার্টমেন্টের প্রধান কে। প্রথম বার রিং হয়ে কেটে গেলেও দ্বিতীয় বার রিসিভ হয়। আজিজ তা কে সব কিছু বলে। সব শুনে তিনি কাজে লেগে পড়েন।”

“আজিজ ফিরে এসে দেখে আদনান আবার ও হাঁটু গেড়ে বসে আছে। এক দৃষ্টিতে তে তাকিয়ে আছে চাঁদের দিকে।

–“আদ্রিয়ানা আমার সানফ্লাওয়ার ,আমার ঘরওয়ালী, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের পাড়ে বসে এই চাঁদ কে সাক্ষী রেখেই তো কথা দিয়েছিলে। তুমি তোমার পান্ডা কে ছেড়ে কোথাও যাবে না যদি যাওয়ার হয় তাহলে তোমার পান্ডা কে সাথে নিয়ে যাবো তবে কেন নিয়ে গেলে না? তুমি তো জানো তোমাকে ছাড়া তোমার পান্ডা থাকতে পারে না। পাগলের মতো হয়ে যায়।”

“মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরীর মুখে আর্তনাদের চিৎকার মানাই না স্যার। মাফিয়া মানেই সাইকো। মাফিয়া মাফিয়া মানেই নিজের পছন্দের জিনিস নিজের করে নেওয়া হোক সেটা জোর করে কিংবা আপোষে। মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরীর দূর্বলতা ওই এক জায়গায় তা সূত্ররা ভালো করেই জানে তাই সেখানে হাত দিয়েছে। দূর্বলতায় হাত পড়ার পর যদি আপনি এভাবে ভেঙে পড়েন তাহলে তো সূত্ররা আরো শক্ত হয়ে যাবে। আপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করবে।”

–“তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে ম্য্যমের খোঁজ পাওয়া গেছে। ম্যাম কে সাজেক ভ্যালি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে ম্যাম ওই খানেই আছেন।”

“আজিজের মুখে এমন কথা শুনে আদনান উঠে দাঁড়ায়। আজিজ আদনানের দিকে গাড়ির চাবি এগিয়ে দেয়। আদনান চাবি টা নিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। গাড়ির ইঞ্জিন স্টাস্ট দিতেই গাড়ি টা মূহুর্তের মধ্যে হাওয়া হয়ে যায়।”

🌿 জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে অচেনা একটা জায়গায় আবিষ্কার করে আদ্রিয়ানা। শুয়া থেকে উঠে বসে চারদিকে চোখ বুলিয়ে নেয়। রুম টা বেশ পরিপাটি করে সাজানো। দেখে মনে হচ্ছে কেউ যত্ন সহকারে রুম টা সাজিয়েছে।”

“দরজা খুলার শব্দ পেয়ে দরজার দিকে তাকায় আদ্রিয়ানা। জাবির এসেছে হাতে খাবারের প্লেট। শরীরে ময়দা লেগে আছে।”

–“জান তোমার তো অনেক ক্ষুধা পেয়েছে তাই না? এই নাও খাবার। খেয়ে নাও। তোমার জন্য নিজের হাতে বানিয়ে নিয়ে এসেছি।”

–“আমি খাবো না।”

–“আমার কোন সমস্যা নেই। ক্ষুধা তোমার লাগবে আমার না।”

–“আমাকে এখানে কেনো নিয়ে এসেছেন?”..

–“নিজের করে নিবো বলে!”

–“মানে বুঝলাম না?

“মানে হচ্ছে তোমাকে বিয়ে করে সারা জীবনের জন্য নিজের নামে লিখে নিবো।”

–“আপনি হয়তো ভুলে গেছেন আমি যে বিবাহিত। আমার হাসব্যান্ড আ”…

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা তাঁর আগেই জাবির বলে উঠে”..

–“হাসব্যান্ড ছিল তবে এখন আর নেই। এতোক্ষণে মনে হয় ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি হির রাজিউন হয়ে গেছে।”

–“মানে ?”..

“মানে জাহির আদনান চৌধুরী শেষ। আমি ও কে মেরে ফেলছি।”

–“লাইক সিরিয়াসলি? জোক টা সেই ছিল। আপনার মতো বিড়াল বাঘ কে কেমনে মারতে পারে ?

“এই কথা বলে হো হো করে হেঁসে উঠে আদ্রিয়ানার।”
–“আপনার জোক শুনে মজা পেয়েছি। আরেকটা হয়ে যাক।”

–“তোমার কাছে মনে হচ্ছে আমি জোক বলছি ?

–“অবশ্যই।”

“জাবির কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি জাবিরের What’s app একাউন্টে দুই টা মেসেজ আসে। জাবির ফোন টা হাতে নিয়ে What’s app ওপেন করে। একটা ভিডিও আর একটা মেসেজ মেসেজ এসেছে। মেসেজে লিখা”…

–“মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরী শেষ। কিভাবে শেষ হয়েছে তা ভিডিও তে।”

“জাবির হো হো করে হেঁসে উঠে। হঠাৎ করে জাবির কে হাসতে দেখে আদ্রিয়ানা হতবাক হয়ে যায়।”

–“এখন আমি তোমাকে যা দেখাবো তা দেখে আই গেইস তুমি সারপ্রাইজ হয়ে যাবা জাননন।”

চলবে….

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply