Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩০


দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

পর্ব : ৩০

লেখক_Jahirul_islam_Mahir

🌿কেটে গেছে এক সপ্তাহ। আজ বৃহস্পতিবার তূবা আর সামিরের গায়ে হলুদ আর কালকে বিয়ে। চট্টগ্রামে শহরের সবচেয়ে বড় কমিউনিটি সেন্টারে হলুদের আয়োজন করা হয়েছে। হলুদের ডেকোরেশনটা রঙিন আর উৎসবমুখর! কমিউনিটি সেন্টারের ভিতরে হলুদ আর সাদা ফুলের মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে। হলুদ বেলুন আর লাইটিং দিয়ে পুরো জায়গাটা আলোকিত করা হবে। মঞ্চে সুন্দর একটা হলুদ ফ্লাওয়ার ডেকোরেশন করা হয়েছে, আর সেখানে বর-বধূর জন্য সুন্দর সিংহাসন সাজানো হয়েছে। চারপাশে সুন্দর লরকোরা আর ফুলের ডেকোরেশন। বেশ সুন্দর করেই সাজানো হয়েছে।”

“সামির আর তূবা কে স্টেজে নিয়ে আসা হয়েছে। সামির আর তূবা পাশাপাশি বসে আছে, দুজনেই মুখে হাসি লেগে আছে। তূবার বান্ধবীরা তাদের সামনে এসে হলুদের প্লেট নিয়ে দাঁড়িয়েছে। একে একে সবাই তাদের হলুদ ছুঁইয়ে দিচ্ছে, আর তূবা আর সামির হাসছে। হলুদের রঙে তাদের মুখগুলো সোনালী হয়ে উঠেছে।”

“তারপর শুরু হলো মেহেদির অনুষ্ঠান। তূবার হাতে সুন্দর মেহেদির ডিজাইন আঁকা হচ্ছে, মেহেদীর মাঝে সামিরের নাম লিখা হয়েছে। আর সামিরের হাতে তূবার নাম লেখা হচ্ছে। সবাই আনন্দে উল্লাস করছে, আর তূবা আর সামির একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসছে।

হলুদের অনুষ্ঠান শেষে, সবাই একসাথে খেতে বসেছে। তূবা আর সামিরের সাথে সবাই ছবি তুলছে, আর আনন্দ করছে। এই দিনটা তাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনগুলোর একটা হয়ে থাকবে।”

🌿
সকালের মিষ্টি রোদ জানলার পর্দার ফাঁক ফোক ভেদ করে আদ্রিয়ানার মুখে এসে পড়ছে। আদ্রিয়ানা বারবার চোখ পিটপিট করছে। বেলা বাড়তে লাগলো রোদের তীব্রতা ও বাড়তে থাকলো। আদ্রিয়ানা কপাল কুঁচকে চোখ খুললো। চোখ খুলতেই নিজেকে আবিষ্কার করলো আদনানের বুকে। মাথা টা একটু উপরে তুলে আদনানের মুখের দিকে তাকায় আদ্রিয়ানা। আদনান এখনো ঘুমাচ্ছে। আদ্রিয়ানা আস্তে আস্তে উঠে বসে। আদনান দিকে ঝুঁকে আদনানের পুরো ফেইসে চুমু খেতে থাকে। আদনানের ঠোঁটে ও আলতো করে চুমু খাই আদ্রিয়ানা। আদনান এখনো ঘুমাচ্ছে।

“আদ্রিয়ানা চাদর টা ভালো ভাবে শরীরে পেঁচিয়ে নিয়ে বেড থেকে নামতে যাবে ঠিক তখনি আদনান আদ্রিয়ানার হাত ধরে আদ্রিয়ানা কে কাছে টেনে নেয়। আদ্রিয়ানা কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। চোখ বন্ধ রেখেই বলে”…

–“ঘরওয়ালী ফ্রেশ হওয়ার আগে আরেকবার ডিস্টিং ডিস্টিং খেলতে দিবা প্লীজ?”..

–“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনার ঘরওয়ালী ক্লান্ত। আর সম্ভব নয়।”

–“but I am not tired.

–“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি এতো এনার্জি কই থেকে পান?”..

“আদনান আদ্রিয়ানার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলে”…
–“আমার বাহাত্ত লাখে থাকা হরমোন থেকে।”

–“অসভ্য বদমাইশ লুচ্চা পান্ডা।

–“বৌয়ের কাছে অসভ্য বদমাইশ লুচ্চা হতে হয়। নয়তো আব্বু ডাক শুনতে পাওয়া যায় না।”

–“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা। আপনি যতই অসভ্য হোন না কেনো এতো তাড়াতাড়ি আব্বু ডাক শুনতে পারবেন না। কারণ আপনার বৌ এখনো ছোট।”

–“ওও আচ্ছা আচ্ছা।”

–“হুম এইবার ছাড়েন।”

–“আগে হাজার খানেক চুমু দাও তাঁর পর ছাড়বো।”

–“পারবো না। চুমু দেওয়ার কথা শুনলেই আমার বমি আসে।

–“ওও তাই ? চুমুর কথা শুনলে তোমার বমি আসে ?”..

–“হুম। প্রচুর পরিমাণের বমি আসে।

–কে জানি একটু আগে আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে আমার পুরো মুখে চুমু দিয়েছিলো? ঘরওয়ালী তুমি না মনে হয়? হ্যাঁ তুমিই তো।”

–“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি মনে হয় স্বপ্ন দেখছেন।”

–“স্বপ্নেই যেভাবে চুম্মা চাটি করছো বাস্তবে করলে তো এতোক্ষণে কন্ট্রোললেস হয়ে ডিস্টিং ডিস্টিং খেলা শুরু করে দিতাম।”

–“অসভ্য বদমাইশ দুষ্টু পান্ডা শুধু দুষ্টু দুষ্টু কথা। ছাড়েন তো।”

“আদনান আদ্রিয়ানা কে ছেড়ে দেয়। আদ্রিয়ানা চাদর পেঁচিয়ে ওয়াসরুমে চলে যায়। আধা ঘন্টা পর ফ্রেশ হয়ে চাদর পেঁচিয়ে বের হয়ে আসে। গায়ে বিন্দু বিন্দু পানির কণা জমে আছে। হাঁটু পর্যন্ত লম্বা চুল থেকে টুপটুপ করে পানি পড়ছে।”

–“সুইটহার্ট এই ভাবে চাদর পেঁচিয়ে বের হওয়ার মানে কি? জামাই কে সিনারি টিনারি দেখানোর প্ল্যান করে বের হয়েছো না কি ? সিনারি টিনারি দেখানোর প্ল্যান থাকলে তাড়াতাড়ি দেখাও। সিনারি দেখার জন্য I am so excited “

–“অসভ্য বদমাইশ লুচ্চা পান্ডা।”

“আদ্রিয়ানা কাবাটের দিকে এগিয়ে যায়। কাবাট থেকে একটা থ্রিপিস নিয়ে আবার ও ওয়াস রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে যাবে ঠিক তখনি আদনান বলে উঠে”..

–“সুইটহার্টটটটট এখানে আমার সামনে চেঞ্জ করো না। যদি lucky হয়ে থাকি তাহলে একটু সিনারি টিনারি দেখতে পারতাম।”

“আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে”…
–“মিস্টার পান্ডা আপনি কি ঠিক আছেন? আজকে এতো দুষ্টু দুষ্টু কথা বলছেন কেনো?”…

–“তোমাকে দেখে উত্তেজিত হয়ে গেছি। তাই মুখ থেকে শুধু দুষ্টু দুষ্টু কথা বের হচ্ছে।

“এই কথা বলে আদ্রিয়ানার হাত ধরে আদ্রিয়ানা কে নিজের কাছে টেনে নিয়ে আদনান।

–“সুইটহার্ট নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারছি না। আর একবার হয়ে যাক প্লীজ। প্রমিজ লিমিটের মধ্যে থাকার চেষ্টা করবো।”

“এই কথা বলে আদনান আদ্রিয়ানা কে বেডের সাথে চেপে ধরে আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়। আদনানের সাথে আদ্রিয়ানা ও রেসপন্স করে। ফলে আদনানের উত্তেজনা আরো বেডে যায়। মিনিট দশেক পর ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে ঘাড়ে মুখ বসিয়ে দেয় আদনান। আদ্রিয়ানার পুরো শরীর কেঁপে উঠে। ভালোবাসার এক অজানা শিহরণ বয়ে যায় আদ্রিয়ানার শরীরে। আদনান তাঁর কাজ কনটিনিউ করতে থাকে। দুইজন কপথ কপথি একে অপরের মধ্যে ডুবে যেতে থাকে।”

🌿 দুপুর বারোটা দশ মিনিট। আদনান ক্লান্ত হয়ে আদ্রিয়ানার বুকের উপর মাথা রেখে আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। আদ্রিয়ানা আদনানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।”

–“মিস্টার পান্ডা আপনি কি ঘুমিয়ে পড়েছেন ?”..

–“নাহ বলো।”

–“আজকে তো শুক্রবার। নামাজে যাবেন না।”

–“হুম যাবো।

–“বারোটা পনেরো বেজে গেছে। এখন উঠে পড়েন।”

“আদনান আদ্রিয়ানা কপালে একটা চুমু দিয়ে উঠে বসে। বেডের এক পাশে পড়ে থাকা সর্ট প্যান্ট টা তুলে নিয়ে পড়ে নেয়। বারান্দায় থেকে টাওয়েল নিয়ে ওয়াসরুমে চলে যায়। মিনিট বিশেক পর ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। আদনানের পর আদ্রিয়ানা ফ্রেশ হতে যায়।”

“আদনান কাবাট থেকে পাঞ্জাবি পায়জামা বের করে পড়ে নেয়। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে চুল গুলো সেট করে টুপি পড়ে নেয়।”

” ততক্ষণে আদ্রিয়ানা ও ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। আদ্রিয়ানা কে দেখে আদনান বলে”…

–“বৌজান জায়নামাজ কই খুঁজে পাচ্ছি না তো।”

“আদ্রিয়ানা জায়নামাজ বের করে আদনানের হাতে দেয়। আদনান জায়নামাজ হাতে নিয়ে আদ্রিয়ানার কপালে একটা চুমু খাই।”

–“গেলাম তাহলে?”..

–“শুনেন না? বলছিলাম যে প্রতি শুক্রবারে তো মসজিদে কিছু না কিছু দেয়। আজকে যদি কিছু দেয় তাহলে আমার জন্য নিয়ে আইসেন।”

–“সরি মাই ডিয়ার বৌজান। এটা আমার ধারায় হবে না। মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরী লাইনে দাঁড়িয়ে জিলাপি নিতে পারবে না।

“আদ্রিয়ানা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদনান আবার বলে উঠে”..
–তবে মন খারাপ করার কোন প্রয়োজন নেই। আসার সময় দোকান থেকে কয়েক কেজি কিনে নিয়ে আসবো।”

–“দোকানের গুলো তো বাসার ফ্রিজে আছে। আমি দোকানের গুলো খাবো না। আমি মসজিদের গুলো খাবো।”

–“বুঝার চেষ্টা করো বৌ। মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরী লাইনে দাঁড়িয়ে কেমনে কি?”…

–“আমি এতো কিছু শুনতে চাই না। আজকে জিলাপি নিয়ে না আসলে আপনার খবর আছে বলে দিলাম।”

“আদনান কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা আবার বলে”..

–“নামাজের সময় হয়ে গেছে এখন যান।”

“আদনান কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে থেমে যায়। আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে “.

–“জিলাপি কি আনতেই হবে ?”..

“হুম। একবার যেহেতু বলছি সেহেতু আনতেই হবে।”

–“যদি দোকানের গুলো নিয়ে আসি ?”..

–“আপনার এসিস্ট্যান্ট ওই দিন আপনাকে একটা নতুন বন্দুক দিয়ে গেছে না ? ওই টা দিয়ে আপনাকে জয় বাংলা করে দিবো।”

–“এই ভাবে বলো কেনো বৌ। ভয় পায় তো।”

–“জিলাপি নিয়ে আসলে মিষ্টি করে ভালোবেসে বলবো।”

–“আচ্ছা ঠিক আছে।”

“আদনান মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়। আদনান কে বের হতে দেখে টিনা রান্না ঘর থেকে বের নিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। ফোন টা হাতে নিয়ে কল দেয় জাবির কে। প্রথম বার রিং হয়ে কেটে গেলেও দ্বিতীয় বার রিসিভ হয়।”

–“হ্যাঁলো স্যার। জাহির আদনান চৌধুরী নামাজে গেছে। কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে বাসায় ফিরবে না। আপনি চাইলে এই সুযোগ টা কাজে লাগাতে পারেন।”

–“ইনফরমেশন টা দেওয়ার জন্য তোকে ধন্যবাদ।”

“এই কথা বলে জাবির ফোন কেটে দেয়। ফোনের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেঁসে উঠে জাবির।”

প্রিয়রা ধয্য ধরে গল্প টা পড়তে থাকো। সামনে নতুন নতুন চমক পাবা।

চলবে…

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply