দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ২৮
লেখক_Jahirul_islam_mahir
🌿 সকাল দশটা এইমাত্র তূবার ঘুম ভেঙ্গেছে। চোখ ডলতে ডলতে বেড থেকে উঠে বসে তূবা। বালিশের নিচ থেকে ফোন টা হাতে নিয়ে দেখে ফোনে একটা চিরকুট পেঁচানো। তূবা চিরকুট টা হাতে নিয়ে খুলে পড়া শুরু করে।”
–“ম্যাডাম আপনার ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষা করতে করতে আমার হসপিটালে যাওয়ার সময় হয়ে গেছিলো। তাই আর আপনার সাথে কথা বলা হয় নিই। আমার নাম্বার দিয়ে গেলাম। ইচ্ছে হলে একটা মিসড কল দিয়েন। আমি ব্যাক করবো নে।
আর হ্যাঁ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিবেন। আর ঔষধ গুলো ও ঠিক ভাবে খেয়ে নিবেন।”
সামির।”
“চিরকুট টা পড়ে তূবা মুচকি হাসে। ফোন টা হাতে তুলে নিয়ে সামির কে কল দেয়। কিন্তু ফোন রিসিভ হয় না। তূবা পর পর আরো দুইবার কল দেয়। প্রতিবারই রিং হয়ে কেটে যায়। তূবা বুঝতে পারে যে সামির বিজি আছে।”
“চিরকুট টা বালিশের নিচে রেখে ফ্রেশ হতে চলে যায় তূবা। মিনিট দশেকের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। ওয়াসরুম থেকে বের হতেই দেখে তাঁর বাবা লিটন বেড গুছাচ্ছে। তূবা লিটনের দিকে এগিয়ে গিয়ে লিটন কে জড়িয়ে ধরে বলে”…
–“গুড মর্নিং বাবা।”
–“গুড মর্নিং পরে বলিস। আমি নাস্তা করে ঔষধ খেয়ে নে।”
“বাবার কথায় সাঁই জানিয়ে তূবা নাস্তা করে ঔষধ খেয়ে নেয়। খাওয়া দাওয়া শেষে লিটন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে”…
–“তূবা তোকে একটা কথা বলি?”…
–“একটা কেনো বাবা যত ইচ্ছে তত বলো না।”
–“বলছিলাম যে আমার তো বয়স হচ্ছে তাই না। কোন দিন হঠাৎ করে মহান আল্লাহ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে যায় তাঁর তো কোন ঠিক নেই। আমি বেঁচে থাকতে যদি তোর বিয়ে টা দিয়ে যেতে পারতাম, যদি তোর সুখ দেখে যেতে পারতাম তাহলে আমি মরেও শান্তি পেতাম।”
“তূবা বাবা কে জড়িয়ে ধরে বলে”…
–“বাবা কি সব আজে বাজে বলছো। আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। আমি বিয়ে টিয়ে করবো না।”
–“সব মেয়েকেই একদিন বিয়ে করে শুশুর বাড়ি যেতে হয় রে মা। তোর যদি পছন্দের কেউ থাকে তাহলে আমাকে বলতে পারিস।”
–“নাহ বাবা আমার পছন্দের কেউ নেই। আর আমি বলছি না আমি বিয়ে টিয়ে করবো না। তাঁর পর ও বারবার এক কথা বলছো কেনো?”..
“লিটন তূবা কে বুঝাতে থাকে। আধা ঘন্টা বুঝানোর পর লিটন সক্ষম হয়। তূবা বিয়েতে রাজি হয়। লিটন মেয়ের কথায় খুশি হয়।”
–“আমার একটা পছন্দের ছেলে আছে ছেলে টা দেখতে শুনতে মাশাআল্লাহ। আচার ব্যবহার ও অনেক ভালো। আমার মনে হয় তোর ও ছেলে টা পছন্দ হবে।”
–“কে সেই ছেলে?”…
–“সামির। সামির কে আমার খুব পছন্দ হয়েছে।”
–“বাবা তোমার পছন্দ হলে তো হবে না। উনি আমাকে বিয়ে করতে চায় কি না সেটাও তো দেখতে হবে তাই না।”
–“আমার মনে হয় সামির তোকে পছন্দ করে।”
–“দূর বাবা কি যে বলো না।”
“মেয়ের এমন কথা শুনে লিটন হেঁসে উঠে।”
🌿 রাত বারোটা। আদনান আদ্রিয়ানার কোমর জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানা কে নিজের কাছে টেনে নেয়। আদ্রিয়ানা আদনানের চোখে চোখ রাখে, তাদের চোখে মুখে প্রেমের জলছবি। আদনান আদ্রিয়ানার দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাদের ঠোঁট দুটো একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে। আদ্রিয়ানার হৃদয় দ্রুত ধুকধুক করছে, সে আদনানের চোখে তাকিয়ে আছে। আদনান একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়। মিনিট পাঁচেক পর ছেড়ে দিয়ে বলে”….
–“ঘরওয়ালী আজকে একটু আদর করতে দিবা প্লীজ। প্রমিজ করছি লিমিটের মধ্যে থাকার চেষ্টা করবো।”
–“মিস্টার পান্ডা আপনি এই কথা সব সময় বলেন কিন্তু শেষে দেখা যায়”…
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা তাঁর আগেই আদনান আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো আবার ও দখল করে নেয়। মিনিট পাঁচেক পর ছেড়ে দিয়ে আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নেয়। বেডের দিকে এগিয়ে গিয়ে আদ্রিয়ানা কে বেডের উপর শুইয়ে দেয়। পরনে থাকা টিশার্ট টা খুলে ছুড়ে মারে ফ্লারে। আদনান কে টিশার্ট খুলে ফেলতে দেখে আদ্রিয়ানা লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলে।”
–“ঘরওয়ালী এতো লজ্জা পেলে কৈতরি কে ডাউনলোড দিবো কেমনে বলো?”..
–“আদ্রিয়ানা কিছু বলে না। আদনান আদ্রিয়ানা দিকে ঝুঁকে আদ্রিয়ানার গলায় মুখ বসিয়ে দেয়। আদ্রিয়ানা কেঁপে উঠে আদনানের গলা জড়িয়ে। আদনান তাঁর কাজ কনটিনিউ করতে থাকে। রাত গভীর হতে থাকে আর দুজনে হারিয়ে যেতে থাকে ভালোবাসার রাজ্য।”
🌿 এদিকে জাবির তার রুমে বসে সিসি টিভি ফুটেজ দেখছে। সে আদনান আর আদ্রিয়ানার প্রতিটা মুহূর্ত দেখছে, তার চোখে মুখে রাগ আর হিংসা ফুটে উঠছে।
“আদনান আর আদ্রিয়ানার ভালোবাসা যত গভীর হচ্ছে জাবিরের রাগ ততই বাড়ছে। রাগে থরথর করে কাঁপছে জাবির। হাতে থাকা ড্রিঙ্কসের বোতলটা শক্ত করে ধরে সিসি টিভি ফুটেজের স্ক্রীনের দিকে তাক করে জাবির। তারপর এক ঝটকায় বোতলটা ছুঁড়ে মারে টিভির দিকে। বোতলটা টিভির স্ক্রীনে লেগে ভেঙে যায়, স্ক্রীনটা কেঁপে ওঠে।”
“টেবিলের উপর থেকে ফোন টা হাতে তুলে নেয় জাবির। কল দেয় আদনানের বাসায় কাজ করা সার্ভ টিনা কে। প্রথম বার রিং হয়ে কেটে গেলেও দ্বিতীয় বার ঠিকিই রিসিভ হয়।”
–“হ্যালো স্যার?”
–“সাউয়ার মাইয়া তোর সাউয়ার হ্যালো তোর কাছে রেখে আপডেট বল। জাহির আদনান চৌধুরী অফিসে কখন যায় ? আর কত ঘন্টা অফিসে থাকে?”
–“স্যার তো সপ্তাহে এক দিন অফিসে যায়। আজকে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু গেলো না কেনো বুঝলাম না।”
–“নেক্সাস্ট টাইম অফিসে গেলে আমাকে জানাবি ঠিক আছে?”..
–“ঠিক আছে স্যার।”
“জাবির ফোন কেটে দেয়। ফোন টা টেবিলের উপরে রেখে হাতে ড্রিঙ্কসের বোতল তুলে নেয়।”
🌿 সকাল দশটা। বাবা মায়ের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে জাবির। মুখে কোন কথা নেই তাঁর। জাবির কে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জোবাইদা বলে”….
–“জাহিরের বৌয়ের ছবি যত্ন সহকারে নিজের কাছে রাখার মানে কি জাবির?”…
–“আমি এই মেয়ে টা কে ভালোবাসি। তাই তাঁর ছবি যত্ন সহকারে নিজের কাছে রেখে দিয়েছি।”
–“এই মেয়ে টা তোর বড় ভাইয়ের বৌ। আর তোর ভাবী লাগে।”
–“ভাবী, ভাবী মাই ফুড। আমি মানি না এটা। আমি আদ্রিয়ানা কে ভালোবাসি মানে আদ্রিয়ানা শুধু আমার।”
“জোবাইদা জাবিরের গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিয়ে বলে”…
–“মাথা ঠিক আছে তোর ? কি সব আজে বাজে বলছিস?”..
–“আজে বাজে না আম্মু, আমি ঠিক বলছি।”
“জাবির কথা টা বলে শেষ করতে না করতেই জাবিরের গালে আবার ও থাপ্পড় এসে পড়ে।”
–“মারো যত ইচ্ছে তত মারো তাঁর পর ও বলবো আমি আদ্রিয়ানা কে ভালোবাসি। ভালোবাসি মানে ভালোবাসি। আর জাবির রায়হান চৌধুরী যে টা কে একবার ভালোবাসে সেটা কে সেই যেকোনো মূল্যে নিজের করে নেয়। হোক সেটা পূর্ণ, প্রোডাক্ট, বা মানুষ।”
“জোবাইদা আবার ও জাবিরের গালে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। রাগে গজগজ করছে জোবাইদা। জোবাইদার এই অবস্থা দেখে রাহিম বলে”…
–“ছেলে কে এইভাবে না মেরে বুঝিয়ে বললেই তো হয়।”
“রাহিমের মুখে এমন কথা শুনে জাবির বলে”….
–“আমাকে বুঝাতে এসে নিজের এনার্জি নষ্ট করো না বাবা। আমি যেহেতু বলে দিছি আমি আদ্রিয়ানা কে ভালোবাসি মানে ভালোবাসি। আর যেকোনো মূল্যে আদ্রিয়ানা কে নিজের করে নিবো।”
“এই কথা বলে জাবির বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। জাবিরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হতাশা প্রকাশ করে জোবাইদা আর রাহিম। ছোট বেলা থেকেই জাবির এমন। যেটা একবার পছন্দ হয়ে যায় সেটা যেকোনো মূল্যে নিজের করে নিবেই নিবেই। হোক না সেটা প্রোডাক্ট বা মানুষ।”
“জাহিরের কথা ভেবে ও আতংকে ওঠে জোবাইদা। কারণ জাহির ও এমন। জাবিরের থেকে কম না বরং বেশি। এক মেয়ের জন্য এখন ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ শুরু হবে। কথা টা ভাবতেই জোবাইদার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে।”
“আমি হতাশ ভাই। যেখানে আগে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১.৭k রিয়েক্ট পূর্ণ হয়ে যেতো সেখানে এখন ৭ শো ও হয় না। প্রথমে ৫ হাজার পর্যন্ত রিয়েক্ট পড়তো। ভিউসের কথা না হয় বাদ দিলাম। হঠাৎ করে এই ৫ হাজার এরা কোথায় বিলিন হয়ে গেলো ? এরা কি পৃথিবীতে আছে না পরপারে চলে গেছে খুব জানতে ইচ্ছে করে।”
আশা করি আজকের পর্বে রেসপন্স পাবো। রেসপন্স ভালো পেলে পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দিবো। আর হ্যাঁ ধয্য ধরে গল্প টা পড়তে থাকো সামনে আরো নতুন নতুন চমক আসবে।”
চলবে”…..
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৫
-
দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৫