দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
পর্ব : ২৭
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
🌿”সকাল নয়টা। অফিসে যাওয়ার জন্য আদনান রেডি হচ্ছে। সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পড়ে নেয়। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে চুল গুলো সেট করে নেয়। পছন্দের পারফিউম টা স্প্রে করে নিজেকে শেষ বারের মতো দেখে নেয়। সব কিছু পারফেক্ট। বেডের উপর থেকে কালো রঙের ব্লেজার টা হাতে তুলে নিতেই রুমে আদ্রিয়ানা প্রবেশ করে।”
–“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি কোথায় যাচ্ছেন?”…
–“অফিসে বৌ। একটা জরুরী মিটিং আছে।”
“আদ্রিয়ানা আদনানের একদম কাছে এসে আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে বলে”..
–“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা জানেন? আজকে না আমার মন ভালো নেই।”
–“কেনো কি হয়েছে আমার রাঙা বৌয়ের ?”…
–“কি হয়েছে তা আমি নিজেও জানি না। শুধু জানি আজকে আমার মন টা ভালো নেই।”
–“কি করলে আমার বৌয়ের মন টা ভালো হবে জানতে পারি কি?”…
–“আপনাকে শাড়ি পড়াতে পারলে হয়তো মন টা ভালো হয়ে যেতো!”
–“মানে ?”..
–“মানে, আপনাকে শাড়ি পড়িয়ে সাজাতে পারলে আমার মন টা ভালো হয়ে যাবে।”
–“তাঁর মানে বৌয়ের মন ভালো করতে হলে মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরী কে এখন শাড়ি পড়তে হবে তাই তো?”..
–“হুম।”
–“ঠিক আছে তাহলে পড়াও শাড়ি।”
“আদনানের মুখে এমন কথা শুনে আদ্রিয়ানা মুখে হাসি ফুটে ওঠে। আদ্রিয়ানা আদনানের ডান গালে চুমু দিয়ে কাবাটের দিকে এগিয়ে যায়। কাবাট থেকে একটা শাড়ি বের করে বেডের উপরে রেখে ড্রেসিং টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়। ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে – ফাউন্ডেশন – কনসিলার – পাউডার – ব্লাশ – আইশ্যাডো – আইলাইনার – মাশকারা – লিপস্টিক সব কিছু বের করে নিয়ে আসে।”
–“বৌ তুমি তো বলছো শুধু শাড়ি পাড়াবা তাহলে এগুলো কি ?”…
–“এই গুলো মেকআপ আইটেম। শাড়ির সাথে এগুলো ও পড়াতে হয়।”
–“এগুলো না পড়ালে হয় না?”…
–“নাহ হয় না। এখন এদিকে আসুন শাড়ি পড়িয়ে দিই।”
“আদনান আদ্রিয়ানার দিকে এগিয়ে আসে। আদ্রিয়ানা শাড়ির এক পাস আদনানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে”…
–“মিস্টার পান্ডা এই টা আপনার প্যান্টে গুজুন।”
–“তুমি গুঁজে দাও না বৌ।”
–“আমি কেমনে গুঁজে দিবো?”..
–“যেভাবে শাড়ি পড়াবা সেই ভাবে।”
–“দুষ্টু পান্ডা, দুষ্টু কথা বলা বন্ধ করুন আর শাড়ি টা প্যান্টে গুজুন।”
“আদনান শাড়ির এক পাস প্যান্টে গুঁজে নেয়। আদ্রিয়ানা আদনানের চারদিকে ঘুরে ঘুরে আদনান কে শাড়িটা পড়িয়ে দিতে থাকে। মিনিট দশেকের মধ্যে শাড়ি পড়ানো হয়ে যায়।”
–“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা দেখুন, কত সুন্দর করে আপনাকে শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছি।”
“আদনান মিররের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে বলে”…
–“শাড়ি পড়িয়েছো না কি গাঁয়ে চাদর পেঁচিয়ে দিয়েছো?”…
–“শাড়ি পড়িয়েছি।”
–“এইভাবে কেউ কাউকে শাড়ি পড়ায়?”..
–“কেউ না পড়ালেও আপনার বৌ পড়ায়।”
–“ওও আচ্ছা আচ্ছা, তা জামাই কে তো শাড়ি পড়িয়েছো এইবার কি মন টা ভালো হয়েছে?”..
–“একটু ভালো হয়েছে। মেকআপ করাতে পারলে একদমই ভালো হয়ে যেতো।”
–“তাহলে দেরি করছো কেনো ময়দা মাখানো শুরু করো।”
–“বেডের উপরে আসেন।”
“আদনান পা বাড়াতে গিয়ে শাড়ির সাথে পেঁচিয়ে আদ্রিয়ানার গাঁয়ের উপর পড়ে যায়। আদনানের ভর সহ্য করতে না পেরে আদ্রিয়ানা ফ্লারে পড়ে যায়।”
–“গেলো রে গেলো আমার কোমর টা গেলো। এই মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি পড়ার জন্য আর কোনো জায়গায় পান নিই? আমার গাঁয়ের উপর কেনো পড়তে হলো?”..
“আদনান কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে”…
–“মিস্টার পান্ডা আপনার পান্ডার মতো শরীর নিয়ে আমার উপর থেকে উঠুন। আপনার ভর আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”
“আদনান উঠে দাঁড়ায়। আদনান উঠার পর আদ্রিয়ানা ও উঠে দাঁড়ায়।”
–“বৌ কোমরে কি বেশি ব্যাথা পেয়েছে ?”
–“গায়ের উপর যদি এতো বড় একটা পান্ডা পড়ে তাহলে ব্যাথা পাবো না তো কি সুখ পাবো?”..
–“তাঁর মানে বেশি ব্যাথা পেয়েছো তাই না বৌ?”..
“আদ্রিয়ানা কোমরে হাত দিয়ে আদনানের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়।”
–“আমাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে তাই না?”..
–“নাহ তো, মোটেও তোমাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে না।”
–“তা তো দেখছি পারছি।”
–“কি দেখে ফেলছো বৌ?”..
–“কিছু না। আপনি এদিকে আসেন তো আপনাকে মেকআপ করি দিই। আর হে সাবধানে আসবেন।”
“আদনান বেডের উপর এসে বসে। আদ্রিয়ানা নিজের গলা থেকে উড়না টা নিয়ে নিজের চোখ বেঁধে নেয়।”
–“বৌ তুমি চোখ বাঁধছো কেনো?”..
–“আপনাকে সাজাবো তাই।”
–“চোখ বেঁধে সাজাবা?”…
–“হুম।”
“আদনান কিছু একটা বলতে গিয়ে ও বলে না। আদ্রিয়ানা আদনানের সামনে বসে আদনান কে সাজানো শুরু করে। আদ্রিয়ানা আদনান কে সাজাচ্ছে আর আদনান আদ্রিয়ানার গলায় থাকা ছোট্ট তিল টার দিকে তাকিয়ে আছে। তিল টা আদনান কে আকর্ষণ করছে। আদনান আদ্রিয়ানার গলার দিকে নিজের ঠোঁট দুটো এগিয়ে নিয়ে আদ্রিয়ানার গলায় থাকা তিলটার উপর একটা কিস দিয়ে দেয়।”
–“দুষ্টু পান্ডা দুষ্টুমি করবেন না বলে দিলাম।”
–“বৌ তুমি আমাকে সাজাতে থাকো আর আমি তোমাকে চুমু খেতে থাকি ওকেই?”..
–“নট ওকেই। আপনি চুমু দিলে আমার কাজে ডিস্টার্ব হবে।”
–“হবে না আস্তে আস্তে চুমু খাবো।”
“এই কথা বলে আদনান আবার ও আদ্রিয়ানার গলায় চুমু খাই।”
–“দুষ্টু পান্ডা?”…
—“বলো দুষ্টু পান্ডার বৌ।”
–” দুষ্টামি করতে বারণ করছি না।”
–“দুষ্টুমি করছি না তো। শুধু চুমু খাচ্ছি যে।”
–“দুষ্টু পান্ডা আমার সাজাতে সমস্যা হচ্ছে ত”…
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা। কারণ আদনান আবার ও তাঁর গলায় কিস দেয়। আদ্রিয়ানা হাতে থাকা ব্লাশ টা বেডের উপর ছুড়ে মারে। চোখ থেকে উড়না টা সরিয়ে আদনানের দিকে তাকাতেই আদ্রিয়ানা আহহহ করে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে আদনানের বুকের উপর পড়ে যায়। হঠাৎ আদ্রিয়ানা কে অজ্ঞান হয়ে যেতে দেখে আদনান ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়।”
–“বৌ , ও বৌ শুনছো? কি হয়েছে তোমার? বৌ কথা বলছো না কেনো?
“আদনান আদ্রিয়ানা কে বেডের উপর শুইয়ে দেয়। রুমে থাকা জগ থেকে পানি এনে আদ্রিয়ানার মুখের উপরে ছিটিয়ে দেয়। আদ্রিয়ানা আস্তে আস্তে চোখ খুলে। চোখ খুলতেই নিজের উপর আদনান কে ঝুঁকে থাকতে দেখে আবার ও আহহহহহ করে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। আদ্রিয়ানার এমন আচরণে আদনান বুঝতে পারে যে তাঁর ফেইস দেখে আদ্রিয়ানা বার বার অজ্ঞান হয়ে পরছে।”
“আদনান মিররের দিকে এগিয়ে যায়। মিররের দিকে তাকাতেই আদনান লাফ দিয়ে মিররের সামনে থেকে সরে যায়। পরক্ষনে আবার ও মিররের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। নিজেকে দেখে বেশ অবাক হয় আদনান। তাঁকে একদমই ভূতের মতো লাগছে। যে কেউ দেখলেই ভয় পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। আদনান আদ্রিয়ানার দিকে এক পলক তাকিয়ে ওয়াসরুমে চলে যায়। মিনিট পাঁচেক পর ভালো করে মুখ ধুয়ে বের হয়ে আসে। বেডের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখে আদ্রিয়ানা এখনো অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। আদনান আদ্রিয়ানার মুখে পানি ছিটিয়ে দিতেই আদ্রিয়ানার জ্ঞান ফিরে আসে। আদনান কে চোখের সামনে দেখে আদনান কে জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানা।”
–“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি এসেছেন? জানেন কিছুক্ষণ আগে এই রুমে না একটা ভুত এসেছিলো। ভুতের সাজ টা এতই বাজে ছিল যে ওই ভুত টা কে দেখার সাথে সাথেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেছি। আমাকে দুইবার ভয় দেখিয়েছে ওই বেয়াদব ভুত টা। আপনি ও কে মেরে ফেলেন।”
“এই কথা বলে শরীরের সব শক্তি দিয়ে আদনান কে জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানা। আদনান ও আদ্রিয়ানা কে নিজের বাহু ডুরে আগলে নেয়।”
–“নিজেকে নিজে কি করে মারবো বলো? একটু আগে তুমি যে ভুত টা দেখছো সেটা আমিই ছিলাম।”
–“আপনি ছিলেন না ভুত ছিলো ওই টা।”
–“ভুত না ওই টা আমিই ছিলাম। তুমিই আমাকে ভুতের মতো সাজিয়েছো।”
“আদনানের মুখে এমন কথা শুনে আদ্রিয়ানা সব মনে পড়ে যায়। ভুত দেখে কিছুক্ষণ আগের কথা সব ভুলে গিয়েছিলো আদ্রিয়ানা। আদনান কে ছেড়ে দিয়ে আদনানের দিকে অপরাধী দৃষ্টিতে তাকায় আদ্রিয়ানা। আদনান আদ্রিয়ানা কে কাছে টেনে নিয়ে আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়। মিনিট পাঁচেক পর ছেড়ে দিয়ে আদ্রিয়ানা কে নিজের বাহু ডুরে আগলে নেয়।”
চলবে…..
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২