দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ২৬
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
🌿
“ভাঙ্গা মন আর চোখে পানি নিয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছে তূবা। নীল রঙের শাড়ির আঁচল টা রাস্তায় হামাঘড়ি খাচ্ছে। সেই দিকে তূবার কোন খেয়াল নেই। খেয়াল থাকবেই বা কি করে সে তো জাবিরের মধ্যে আবদ্ধ। জাবিরের বলা কথা গুলো বারবার তূবার কানে বাজছে।”
–“আমার হৃদয়ের গভীরে যার বসবাস তাকে মুছে ফেলার কথা বলছিস? আমি যে তাঁর মায়ায় আবদ্ধ, আমি যে প্রেমে ডুবে আছি। আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি হৃদয়ধ্বনিতে শুধু তাঁর নাম। তাঁকে ভুলে যাওয়া কি এতই সহজ?”…
–“জাবির রায়হান চৌধুরী শুধু আদ্রিয়ানা কে ভালোবাসে আর কাউকে না।
“জাবিরের বলা কথা গুলো ভাবতে ভাবতে তূবা কখন যে রোডের মাঝখানে চলে গেছে তা তূবা নিজেও জানে না।গাড়ির হর্নের শব্দ পেয়ে তূবা বাস্তবে ফিরে। যতক্ষণে তূবা বাস্তবে ফিরে ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে যায়। গাড়ি টা এসে তূবা কে ধাক্কা মারে। তূবা ছিটকে পড়ে রাস্তায়। এর পর তূবার চোখে ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসতে থাকে। জ্ঞান হারানোর আগে তূবা আবছা আবছা এক পুরুষের অবনয় দেখতে পায়। তাঁর পর কি হয়েছে তা তূবা জানে না। কারণ এর পরেই তূবা ডুবে যায় অন্ধকারের রাজ্যে।”
🌿
“রাত দশটা। এইমাত্র তূবার জ্ঞান ফিরেছে। জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে আবিষ্কার করে হসপিটালে বেডে। তাড়াতাড়ি করে বেড থেকে উঠে বসে তূবা। সামনের দিকে তাকাতেই দেখতে পায় একটা ডাক্তার পকেটে হাত দিয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। ডাক্তার কে দেখে তূবার অজান্তেই তূবার মুখে হাঁসি ফুটে ওঠে। কারণ ডাক্তার তূবার পরিচিত। তূবার পরিচিত ডাক্তার টা আর কেউ নয় সেই হচ্ছে সামির। তূবা কে মুচকি হাসতে দেখে সামির গম্ভীর কণ্ঠে বলে”….
–“ঝাঁপ দেওয়ার জন্য কি আর কোন গাড়ি পান নিই মিস তূবা? আমার গাড়ির সামনেই কেনো ঝাঁপ দিতে হলো?”….
–“আমি কি আপনার গাড়ির সামনে ঝাঁপ দিয়েছিলাম মিস্টার সামির?”….
–“হুম।
–“যদি জানতাম গাড়ি টা আপনার তাহলে কখনোই আপনার গাড়ির সামনে ঝাঁপ দিতাম না।”
–“সেটা না হয় বুঝলাম। কিন্তু ঝাঁপ দেওয়ার কারণ টা কি ছিলো?”…
“সামিরের মুখে এমন কথা শুনে জাবিরের বলা কথা গুলো মনে পড়ে যায় তূবার। তূবার চোখে পানি চলে আসে। হঠাৎ তূবা কে চুপসে যেতে দেখে সামির তূবার দিকে এগিয়ে এসে তূবার পাশে বসে।”
–“মিস তূবা আর ইউ ওকেই?”…
—“আমি বাসায় যাবো, আমাকে বাসায় দিয়ে আসবেন প্লীজ?”….
“সামির হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়িয়ে বলে”….
—“চলুন?”
“তূবা বেড থেকে নামতে গিয়ে আউচ করে শব্দ করে উঠে। গাড়ির সাথে ধাক্কা খাওয়ার ফলে হাত পায়ে আঘাত পেয়েছে তূবা।”
–“মিস তূবা আপনি কি ঠিক আছেন?”…
–“আমি ঠিক আছি।”
“তূবা ফ্লারে পা বসাতে গিয়ে আবার ও আউচ করে শব্দ করে উঠে। পায়ে ব্যথা লাগায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পারার আবার ও বেডের উপর বসে পড়ে তূবা। সামিরের দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে বলে”…..
–“আমি ঠিক আ”….
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না তূবা। কারণ সামির তূবা কে কোলে তুলে নেয়। হঠাৎ এমন হওয়ায় তূবা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে তূবা কিছু বলতে যাবে তার আগেই সামির রাগী সুরে বলে উঠে”…
–“ওই মুখ দিয়ে যেনো আর একটা কথা ও বের না হয়।”
“সামিরের রাগী সুর শুনে তূবা চুপসে যায়। সামির তূবার দিকে এক পলক তাকিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ায়। হসপিটাল থেকে বের হয়ে তূবা কে গাড়িতে বসিয়ে দেয় সামির। অপর পাশে গিয়ে নিজেও গাড়িতে উঠে বসে। তূবা কে সিট বেল্ট পড়িয়ে দিয়ে নিজেও সিট বেল্ট পড়ে নেয়। তূবার দিকে এক পলক তাকিয়ে গাড়ি স্টাস্ট দেয় সামির। গাড়ি চলছে তাঁর আপন বেগে। তূবা সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে আর সামির গাড়ি ড্রাইভ করছে আর একটু পর পর তূবার দিকে তাকাচ্ছে।”
—“মিস তূবা আপনি ঠিক আছেন তো?”.
–“হুম আমি ঠিক আছি।”
–“তাহলে এইভাবে চোখ বন্ধ করে আছেন কেনো?”…
–“এমনি। বাই দা ওয়ে আপনার ফোন টা একটু দিবেন? আমার বাবা কে একটা কল করবো।”
“সামির তূবার দিকে নিজের ফোন টা এগিয়ে দেয়। তূবা তাঁর বাবা লিটন চৌধুরীর নাম্বার ডায়েল করে কল দেয়। রিং পড়ার সাথে সাথেই রিসিভ হয়ে যায়। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসে লিটনের কন্ঠ”….
–“হ্যালো কে?”…
—“বাবা আমি তূবা।”
–“তূবা তুই কোথায়? তুই ঠিক আছিস তো ?
—“বাবা আমি একদমই ঠিক আছি তুমি চিন্তা করো না। তুমি আমাদের বাসার গেইটের সামনে এসে দাঁড়াও আমি আসছি।”
–“আচ্ছা ঠিক আছে মা। সাবধানে আই।”
–“তুমি চিন্তা করো না বাবা!”
“এই কথা বলে তূবা ফোন কেটে দেয়। সামিরের দিকে ফোন টা এগিয়ে দিয়ে বলে”….
–“এই নেনে আপনার ফোন।”
“সামির ফোন হাতে নেয়। তূবা সামিরের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার ও সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। আর সামির ডাইভিং এ মনোযোগ দেয়।”
“মিনিট দশেক পর তূবার বাড়ির সামনে এসে গাড়ি ব্রেক করে সামির। তূবার দিকে তাকিয়ে দেখে তূবা এখনো সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে।”
–“মিস তূবা? এই যে হ্যালো? শুনছেন? হ্যালো?”…
“তূবার কোন সাড়া শব্দ নেই। কারণ তূবা ঘুমিয়ে পড়েছে। সামির গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। বাড়ির গেইটের দিকে তাকিয়ে দেখে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির গেইটের সামনে একটা লোক কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে লোকটার দিকে এগিয়ে যায় সামির।”
–“আসালামুয়ালাইকুম আংকেল?”..
–“ওয়ালাইকুমুস সালাম।”
–“আংকেল আপনি কি মিস তূবার বাবা?”..
–“হ্যাঁ আমি তূবার বাবা। আমার মেয়ে কোথায়?”…
–“গাড়িতে আছে। ঘুমিয়ে পড়েছে।”
“সামির লিটন কে নিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে আসে। তূবা কে দেখে লিটন বড়ো সড়ো একটা শখ খাই। তূবার মাথায় ব্যান্ডেজ। পায়ে ব্যান্ডেজ।”
—“বাবা আমার মেয়ের কি হয়েছে? ওর মাথায় ব্যান্ডেজ কেনো ? ও ঠিক আছে তো?”…
“লিটন চৌধুরীর আহাজারি তে তূবার ঘুম ভেঙ্গে যায়।”
–“বাবা তুমি কান্না করছো কেনো? কান্না করো না আমি ঠিক আছি।”
–“মাথায় ব্যান্ডেজ পায়ের ব্যান্ডেজ নিয়ে বলছে ঠিক আছে।”
–“মিস্টার সামির আমার বাবাকে একটু বুঝান না প্লীজ।
–“আংকেল আপনি শান্ত হোন। তূবা ঠিক আছে।”
–“ওর এমন টা কি করে হলো বাবা ?”…
–“আংকেল আমি আপনাকে পরে সব বলছি আগে তূবা কে ভিতরে নিয়ে যান।”
“সামিরের কথায় সাঁই জানিয়ে লিটন তূবার হাত ধরে তূবা কে গাড়ি থেকে নামতে বলে। তূবা আস্তে করে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। কিন্তু পায়ে ব্যথা লাগায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে আবার ও বসে পড়ে। তূবার এই অবস্থা দেখে সামির বলে”…
“Uncle don’t mind আপনি যদি কিছু মনে না করেন আমি মিস তূবা কে কোলে করে বাড়ির ভিতরে দিয়ে আসি?”…
–“মাইন্ড করবো কেন এটাতো আমার জন্য আরো ভালো হবে।”
“সামির মুচকি হেসে তূবার দিকে এগিয়ে যায়। সামির কে এগিয়ে আসতে দেখে তূবা কিছু বলতে যাবে তার আগেই সামির তূবা কে কোলে তুলে নেয়।”
–“আরে মিস্টার সামির কি করছেন? বাবা সামনে আমাকে কোলে তুলে নিলেন কেনো ? নামান বলছি।”
“তূবার কথা সামির কানে নেয় না। ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় সামির। সামিরের পিছু পিছু লিটন ও যায়।
“তূবার রুমে গিয়ে তূবা কে বেডে শুইয়ে দেয় সামির। লিটন তূবার পাশে বসে কান্না করছে। লিটন কে কান্না করতে দেখে সামির লিটন কে শান্তনা দেয়।
–“আংকেল আপনি শান্ত হোন। তূবার তেমন কিছুই হয় নিই। হালকা আঘাত পেয়েছে শুধু। কয়েকদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। এখন ও কে একটু রেস্ট নিতে দেন।”
“লিটন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে”….
–“কিছুক্ষণ রেস্ট নে আমি তোর জন্য সুফ বানিয়ে নিয়ে আসছি।”
“লিটন কথা টা বলে শেষ করতে না করতেই সামির বলে”…
–“আংকেল আজ তাহলে আসি। কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাবেন কিন্তু?”….
–“সেই কি বাবা চলে যাবে মানে ? হালকা কিছু খেয়ে যাও।”
–“না আংকেল আজ না অন্য আরেক দিন খাবো।
“সামির তূবার দিকে এক পলক তাকিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। সামিরের পিছু পিছু লিটন ও আসে। লিটন পিছন থেকে সামির কে ডাক দেয়।”
–“বাবা তূবার এই অবস্থা কেমন করে হলো বললে না যে?”…
–“আসলেই আংকেল আমি হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ করে কোথায় থেকে তূবা আমার গাড়ির সামনে চলে আসে। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই তূবার সাথে গাড়ির ধাক্কা লেগে যায়। ধাক্কা খেয়ে তূবা একটু দূরে ছিটকে পড়ে। ফলে পায়ে আর মাথায় আঘাত পায়।”
“ঘটনা টা সংক্ষিপ্ত ভাবে লিটন কে বলে সামির। সব শুনে লিটন বেশ অবাক হয়।
—“দোষ টা তাহলে তূবার ছিল। যাইহোক তা বাবা তোমার নাম কি ?
–“সামির চৌধুরী।”
–“ওও আচ্ছা। তা তুমি কিসের ডাক্তার?”…
–“হার্টের ডাক্তার।”
–“ভালো তো। চলো বসে কথা বলি।”
“সামির আর লিটন বসে টুকটাক কিছু কথা বলে। রাত বারোটা বেজে গেলে সামির চলে যায়।”
🌿
“রাত দুইটা। গভীর রাত। পুরো শহর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলে ও ঘুম নেই এই শহরের এক মানবের চোখে। ঘন্টা খানেক ধরে ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা করছে তূবা কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না। চোখের সামনে শুধু সামিরের ফেইস টাই ভাসছে। তূবা আনমনেই বলে উঠে “…
–“মিস্টার সামির আপনি মুচকি হাসি টা মারাত্মক সুন্দর। মুচকি হাসি দিলে আপনাকে অনেক সুন্দর লাগে।”
–” আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাঁসি দেওয়ার মানে কি মিস্টার সামির? কেনো বারবার আমার দিকে তাকিয়ে আপনি মুচকি হাসি দেন। আপনি এই মুচকি হাসি দিয়ে কি বুঝাতে চেয়েছেন, যে আপনার হৃদয়ে আমার জন্য ভালোবাসা লিখা আছে?”…..
“তূবা নিজের মাথায় নিজেই থাপ্পড় মেরে বলে”….
—“তূবা রাত দুইটাই কি সব আজে বাজে বলছিস? মাথায় আঘাত পেয়ে তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে মনে হয়। তুই ঘুমানোর চেষ্টা কর। দেখবি এইসব আজে বাজে চিন্তা মাথা থেকে বের হয়ে যাবে।”
“এই কথা বলে তূবা চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করতে থাকে।”
“প্রিয়রা আমার পেইজে page has some issues চলে আসছে। যেকোনো মূহুর্তে পেইজ টা আনপাবলিক হয়ে যেতে পারে। হঠাৎ যদি পেইজ টা খুঁজে না পান তাহলে ভেবে নিবেন পেইজ টা আনপাবলিক হয়ে গেছে। তাঁর পর গল্প কোথায় পড়বেন?
সমস্যা নাই নতুন আরেকটা পেইজ খুলছি। ওই পেইজে গল্প পোষ্ট করা হবে। সবাই আমার নতুন পেইজ টা ফলো করে রাখো। পেইজের লিঙ্ক।
চলবে……
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩
-
দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৫