দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ২৫
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
🌿
“গাড়ি এসে থামল হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফের সামনে। তূবা গাড়ি থেকে নেমে পড়ল, পা বাড়ালো ক্যাফের দিকে। লিফটে উঠে একদমই উপরের তলার বাটনে ক্লিক করে তূবা। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই তূবা পৌঁছে যায়। লিফট থেকে নেমে এগিয়ে যায় তূবা। চারদিকে তাকিয়ে জাবির কে খুঁজতে লাগলো তূবা।ডান দিকে তাকাতেই একটা ছেলের উপর চোখ আটকে যায় তূবার। ছেলেটা পায়ের উপর পা তুলে ফোনে কি করছে। পরণে তাঁর ব্লু রঙের ব্লেজার। চুল গুলো সুন্দর করে সেট করা। হাতে ব্র্যান্ডের ঘড়ি। অসম্ভব সুন্দর লাগছে জাবির কে।”
“জাবির কে দেখে তূবার হৃদয়টা যেন আরও জোরে নাচ্ছিল। তূবা আস্তে আস্তে জাবিরের দিকে এগিয়ে যায়। তূবা জাবিরের একদমই সামনে এসে দাঁড়ায়। জাবিরের দিকে তাকিয়ে একটা লজ্জা মিশ্রিত হাঁসি দিয়ে বলে”…..
—“আমাকে কেমন লাগছে?”…
“জাবির তূবার দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখ নামিয়ে ফেলে। ফোনের দিকে তাকিয়েই বলে”…
—“সুন্দর লাগছে।”
—“শুধু সুন্দর?”….
“জাবির ফোনের দিকেই দৃষ্টি স্থির রেখে বলে”…
—“তাহলে? …..
—“কিছু না।”
—“বসো তাহলে।”
“তূবা জাবিরের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে। তূবা কে হাঁটু গেড়ে বসতে দেখে জাবির দাঁড়িয়ে যায়।”
—“আরে আরে তুমি ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসছো কেনো? তোমাকে এখানে বসতে বলি নিই তো।”
“তূবা মুচকি হেসে হাতে থাকা গোলাপের তোড়া টা জাবিরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে”……
—“কখনো কাউকে প্রপোজ করি নিই! প্রপোজ কিভাবে করতে হয় আমার জানা নেই। তবে এতটুকু বলতে পারি। আমি আপনাকে ভালোবাসি। প্রথম যেদিন আপনাকে দেখি সেই দিনিই আপনার প্রেমে পড়ে যায়। আপনাকে ভালোবেসে ফেলি। আই লাভ ইউ জাবির রায়হান চৌধুরী।”
“তূবার প্রপোজ করা শেষ হতেই হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফে থাকা কিছু মানুষ তালি দিয়ে বলে উঠে”….
–“মেয়ে হয়ে তোমাকে প্রপোজ করছে তোমার এপসেট করা উচিত। প্রপোজ এপসেট করে নাও। তোমার সাথে ভালো মানাবে।”
“জাবির চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেয়। সব মানুষই তাদের দিকে হ্যা করে তাকিয়ে আছে। সবাই কে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে জাবিরের খুব বিরক্ত লাগে। তূবার দিকে তাকিয়ে বলে”….
—“মিস ডোবা উঠো, সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে”….
—“তাকিয়ে আছে তো কি হয়েছে? আপনি যতক্ষন না আমাকে এপসেট করছেন ততক্ষণ আমি এইভাবেই বসে থাকবো।”
—“সরি মিস ডোবা। আমি তোমার প্রপোজার এপসেট করতে পারছি না।”
—“কেনো? আমি তো দেখতে অসুন্দর না। দেখতে তো “…..
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না তূবা। তাঁর আগেই জাবির বলে উঠে”…..
—“তুমি অনেক সুন্দর তাঁর পর ও আমি তোমার প্রপোজার এপসেট করতে পারছি না কারন আমি একজন কে ভালোবাসি।”
“আমি একজন কে ভালোবাসি,
“জাবিরের এই ছোট কথা টা এসে তূবার বুকে তীরের মতো গেথে যায়। তূবা চোখের পানি চলে আসে। চোখে পানি নিয়ে অসহায় দৃষ্টিতে জাবিরের দিকে তাকিয়ে আছে তূবা। তূবার এই দৃষ্টিতে রয়েছে অসহায়ত্ব, আর ভাঙা হৃদয়ের ছাপ। জাবিরের দিকে তাকিয়ে তূবার চোখ বলে”……
“বাহ্ আমার প্রিয় মানুষের ও প্রিয় মানুষ আছে।”
“তূবার চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে, আর সে কিছু বলার ভাষা খুঁজে পায় না। জাবিরের কথায় তূবার ভাবনার সুতা টান পড়ে।”
—“মিস তূবা এইবার তো উঠে দাঁড়ান।”
—“আমাকে এপসেট করে নেন না প্লীজ। আমি আপনাকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না তো।”
“এতটুকু বলে থেমে যায় তূবা। চোখ বন্ধ করে কয়েকটা শ্বাস নিয়ে আবার ও বলে”
“আপনার প্রিয় মানুষ আছে, আপনি কাউকে ভালোবাসেন, এটা জানার পর আমার বুকে যে ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেছে। বুকের ভিতর টা কেমন জানি করছে , খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।”
“তূবা বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। জাবিরের চোখের দিকে তাকাতেই নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না তূবা। জাবিরের উপর ঝাপিয়ে ধরে জাবির কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করে দেয়।”
–“আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি। আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। আমাকে এইভাবে ফিরিয়ে দিবেন না প্লীজ। আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না।”
“জাবির হেঁচকা টান দিয়ে তূবা কে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়। তূবা আবার ও জাবিরের উপর ঝাপিয়ে পড়ে জাবির কে জড়িয়ে ধরে। জাবির এইবার বিরক্ত হয়ে আবার ও তূবা কে নিজের থেকে সরিয়ে নেয়। তূবা জাবির কে আবার ও জড়িয়ে ধরতে যাবে ঠিক তখনি জাবির তূবার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। থাপ্পড়ের শব্দে পুরো হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফ মূহুর্তের মধ্যে নীরব হয়ে যায়। তূবা গালে হাত দিয়ে অসহায় দৃষ্টিতে জাবিরের দিকে তাকায়।”
—“গায়ে পড়া কেরেক্টারলেস মেয়ে কোথাকার, বারবার এই ভাবে গায়ে পড়ছো কেনো ?”
“তূবা এখনো গালে হাত দিয়ে ড্যাবড্যাব করে জাবিরের দিকে তাকিয়ে আছে।”
—“এগুলো কোন ধরনের অসভ্যতামি হা? বারবার বলছি আমি তোমার প্রপোজার এপসেট করতে পারবো তাঁর পর ও বারবার গায়ে পড়ছিলে কেনো হা ?”…
—“দেখো আমি একজন কে খুব ভালোবাসি। তা কে ছাড়া নিজের পাশে আর কোন মেয়েকেই আমি কল্পনা করতে পারি না। আশা করি ব্যাপার টা বুঝতে পেরেছো?”..
“তূবা কিছু বলে না শুধু ড্যাবড্যাব করে জাবিরের দিকে তাকিয়ে আছে।”
—“দেখুন মিস তূবা। আমি জানি আপনি আমাকে ভালোবাসেন। আমি আপনার ভালোবাসা কে সম্মান ও করি। তাঁর পর ও আমি আপনাকে ভালোবাসতে পারবো না। আপনি আমার থেকে ও ব্যাটার কাউকে পাবেন। আমি আপনার যোগ্য না।”
—“আমি তো আপনার থেকে ব্যাটার কাউকে চাই না। আমি তো শুধু আপনাকে চাই।”
—“যে কপালে নেই তাঁকে চাওয়ার তো কোন মানে হয় না। দেখো আমাদের চোখ তাঁকেই পছন্দ করে যে কপালে থাকে না। সবার এমন একটা অধ্যায় থাকে। আমার ও ছিলো , আজ আপনার ও হলো। আশা করি এই দিন ভুলে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করবেন।”
—“আমাকে যে এই ভাবে বুঝিয়ে লাভ কি ? আপনি নিজেই তো একই নৌকার মাঝি মিস্টার জাবির রায়হান চৌধুরী। আপনি যা কে ভালোবাসেন সে তো আজ অন্য কারো। সেই যদি অন্য কারো হয়ে সুখে শান্তিতে সংসার করতে পারে তাহলে আপনি কেন পারবেনা না?”….
“জাবির কিছু বলে না। কারণ তূবার বলা কথা গুলো তো সব সত্যি। আসলেই তো আদ্রিয়ানা আদনানের সাথে সুখে আছে। যার জন্য সেই সব মেয়ে কে উপেক্ষা করছে সেই মেয়ে তো অন্যজনের সাথে দিব্বি ভালো আছে।”
“জাবির চুপ করে থাকে, তূবার কথা শুনে তার চোখে একটা গভীর ব্যথা ফুটে ওঠে।”
” তূবা আবার বলে”….
—“আপনি যে মেয়েকে ভালোবাসেন, সে তো অন্য কারো সাথে সুখে আছে। তাহলে আপনি কেন পারবেন না?”
“জাবির তূবার দিকে তাকায়, তার চোখে একটা মিনতি,
—“তূবা, প্লীজ থামো এমন করে বলো না। এটা অন্যায় হবে। “
—“না, আমি থামবো না। আপনি আমাকে বলুন, আপনি কেন পারবেন না? “
“জাবির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে”….
—“কারণ আমি তাকে ভুলতে পারিনি।”
“এই কথা বলে জাবির চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই যাবে ঠিক তখনি তূবা জাবিরের হাত ধরে ফেলে। জাবির পিছনে ঘুরে তূবার দিকে তাকায়।”
—“আচ্ছা আপনার ভালোবাসার মানুষ টা তো এখন অন্য কারো হয়ে গেছে। সেই এখন আপনার জন্য হারাম হয়ে গেছে। তাঁর কথা ভাবলে আপনার উনার দুজনের গুনাহ হবে।”
—“আমাকে একটা সুযোগ দেন। আমি আপনার মন থেকে ওই মেয়েকে সরিয়ে দিবো। আ”…..
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না তূবা তাঁর আগেই জাবির তূবার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।”
—“আমার হৃদয়ের গভীরে যার বসবাস, তাকে মুছে ফেলার কথা বলছিস? আমি যে তার মায়ায় আবদ্ধ, তার প্রেমে ডুবে আছি। আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি হৃদয়ধ্বনিতে শুধু তারই নাম। তাকে ভুলে যাওয়া কি এতই সহজ?”…..
—“একটা কথা কান খুলে শুনে রাখ, এই জাবির রায়হান চৌধুরী শুধু আদ্রিয়ানা কে ভালোবাসে। সে আমার হৃদয়ের রাণী, আমার প্রাণের প্রিয়তমা। তার জায়গা কেউ নিতে পারবে না, কখনো না। তুমি তূবা, তোমার ভালোবাসা কে অন্য কোথাও খুঁজে নাও।”
—“আমার ভালোবাসা আপনি। আপনার মধ্যে আমি সুখ খুঁজে পাই”…….
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না তূবা তাঁর আগে জাবির বলে উঠে “…..
—“স্টপ, আর কোন কথাই আমি শুনতে পাই না। তোকে আমি সাবধান করে দিচ্ছি আমার পিছনে যদি আর ঘুরিস তাহলে তোকে জানে মেরে ফেলবো”….
—-“মেরে ফেলা কি এতোই সোজা?”…..
—-“জাবির রায়হানের জন্য সব কিছুই সোজা।”
২ হাজার রিয়েক্ট পূর্ণ হবে তাঁর পর পর্ব ২৬ আসবে বলে দিলাম। রিয়েক্ট পূর্ণ না করে কেউ গল্প চাইবা না। রিয়েক্ট পূর্ণ হবে তাঁর পর আমার ইনবক্সে গুঁতা দিয়ে বলবা যে, ভন্ড মার্কা লেখক আপনার ভন্ড মার্কা গল্পে ২ হাজার রিয়েক্ট পূর্ণ হয়েছে এইবার পর্ব ২৬ দেন। ওকেই ?”….
আর বেশি কিছু বললাম না।
সময়ের অভাবে রিচেক দেওয়া হয় নিই।
চলবে……
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ গল্পের লিংক
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮