দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
পর্ব : ২৩
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“আদনান আদ্রিয়ানা কে দেখিয়ে দিয়ে বলে”…….
— “আব্বু আম্মু এই হচ্ছে আদ্রিয়ানা। আমার একমাত্র বৌ। আর বৌজান এনারা হচ্ছে আপনার শুশুর শাশুড়ি। সালাম করুন।”
“আদ্রিয়ানা মুচকি হেসে রহিম আর জোবাইদা কে সালাম দেয়। দুজনে সালামের উত্তর দেয়। জোবাইদা বসা থেকে উঠে আদ্রিয়ানার দিকে এগিয়ে যায়। আদ্রিয়ানার থুতনি ধরে আদ্রিয়ানার মুখটা একটু উপরে তুলে বলে”…..
—“মাশাআল্লাহ, আমার ছেলের বৌ তো দেখছি ছবির চেয়ে বাস্তবে বেশি সুন্দর।”
“জোবাইদার মুখে এমন কথা শুনে আদ্রিয়ানা মুচকি হাসে।”
—“শুন জাহির বৌ আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।”
—“জাহির হাসে।”
“জোবাইদা আর রহিম মিলে আদনান আর আদ্রিয়ানার সাথে কথা বলতে থাকে। কথা বলতে বলতে দুপুর হয়ে যায়। খাওয়া দাওয়া করে যে যার রুমে চলে যায়। বিকেলের দিকে রহিম আর জোবাইদা বাসায় চলে যায়। নিজেদের সাথে আদনান আর আদ্রিয়ানা কেও নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু আদনান যায় নিই। সেই বলছে কিছু দিন পর একে বারের জন্য এখান থেকে চলে যাবে।”
☘️
”সন্ধ্যা সাত টা। হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফে বসে আছে জাবির আর সামির। তাদের দুজনেই সামনেই কফি। জাবির নিজের কফি টা হাতে নিয়ে চুমুক দেয়। জাবিরের মধ্যে একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব। জাবির যে একটা মানুষ কে খুন করেছে তা জাবির কে দেখে বুঝা যাচ্ছে না। খুন করে ও বিন্দাস আছে জাবির। সামান্য অনুশোচনা টুকু নেই তাঁর মধ্যে। সামির জাবিরের দিকে দিকে তাকিয়ে বলে”…….
“মানুষ খুন করে এসে যে এতো রিলেক্সে বসে কফি খেতে পারে তা তোকে না দেখলে জানতাম না।”
“আমি যে খুন করেছি এটা কে কে জানে? আমি , তুই আর উপর ওয়ালা। এর বাইরে কি কেউ জানে?”….
“নাহ।”
“তাহলে চিন্তার কি আছে রিলেক্স কর।”
“আচ্ছা জারা তো তোকে মন থেকে ভালোবেসে ছিলো, তুই কি পারতি না জারার করা ভুল টা কে মাফ করে দিয়ে জারা কে ভালো”…..
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না সামির। তাঁর আগেই জাবির বলে উঠে”…
“না পারতাম না। কারণ আদ্রিয়ানা ছাড়া পৃথিবীর আর কোন মেয়ের প্রতিই আমার ভালো লাগা ভালোবাসা কাজ করে না।”
“কিন্তু আদ্রিয়ানা তো তোকে ভালোবাসে না।”
—–“আমি তো বাসি।”
—“তুই একা বাসলে তো আর হবে না।”
—-“আমি একা বাসলেও অনেক কিছু হবে।”
–“অনেক কিছু কি হবে?”….
—-“সেটা সময় হলেই দেখতে পাবি।”
“এই কথা বলে কফির মগে তৃতীয় চুমুক দেয় জাবির। হঠাৎ জাবিরের কানে ভেসে আসে একটা মেয়ের কন্ঠ।”….
— Hey , how are you?…
“জাবির মেয়েটার দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখ নামিয়ে ফেলে। তা দেখে মেয়ে টা আবার বলে”…..
–“আমাকে চিনতে পারছেন না? আমি তূবা। আমেরিকা থেকে ফিরার সময়”…
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না তূবা তাঁর আগেই জাবির বলে উঠে”……
— “আপনি তূবা হোন বা ডোবা হোন সেটা আমার দেখার বিষয় না। এখানে কেনো এসেছেন সেটা বলুন।”
“শপিং করতে এসেছিলাম। শপিং করা শেষে এখানে কফি খেতে এ”…
–স্টপ, অনেক বলে বলছেন, আর বলা লাগবেনা। তা মিস ডোবা আমি কি আপনার কাছে ডোবার রচনা শুনতে চেয়েছি ? আমি বলছি আপনি আমার কাছে কেন এসেছেন?”….
—“আপনি বুঝেন না কেনো এসেছি!”
–“আজব না বললে কি ভাবে বুঝবো?”…
–“আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি।”
–“আপনার সাথে কথা বলাই কোন ইচ্ছাই আমার নেই।”
“এই কথা বলে উঠে দাঁড়ায় জাবির। তূবার দিকে এক পলক তাকিয়ে চলে যায়। পিছন থেকে তূবা বলতে থাকে”…
–“আরে চলে যাচ্ছেন কেনো? হ্যালো মিস্টার হ্যালো”……….
“তূবার কথা মনে হয় জাবিরের কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। সেই কফির বিল পেমেন্ট করে চলে যায়। তূবা হতাশ হয়ে পাশে থাকা চেয়ারে বসে পড়ে।”
“তূবার এই অবস্থা দেখে সামির তূবার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে উঠে দাঁড়ায়। সামির চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে যাবে ঠিক তখনি তূবা বলে উঠে”…..
— “এই আপনি কোথায় যাচ্ছেন? আপনি একটু বসুন না আপনার কাছ থেকে কিছু ইনফরমেশন নিতে হবে। প্লীজ বসুন না।”
“সামির বসে। তূবার দিকে তাকিয়ে বলে”…
–“জ্বী বলুন কি ইনফরমেশন চান।”
—“এই জাবির রায়হান চৌধুরীর ব্যাপারে ইনফরমেশন চাই।”
— “তো বলুন”।
—“এই বেডা এতো এটিটিউট নিয়ে থাকে কেনো? আচ্ছা ও কি সব মেয়ের সাথে এই ভাবে কথা বলে?”…..
–“হুম, ও সব মেয়ের সাথেই এইভাবে কথা বলে।”
–i like it. বাই দা ওয়ে উনার ফোন নাম্বার টা দেওয়া যাবে?”…..
–“সরি পারমিশন ছাড়া কাউকে নাম্বার দেওয়া টা এক ধরনের অপরাধ।”
— “আরে দেন না, এমন করেন কেনো? প্লীজ ওর নাম্বার টা দেন।”
–” আচ্ছা ঠিক আছে নাম্বার নেন!”
0181793****
–“অনেক অনেক ধন্যবাদ।”
“তূবা চলে যায়। সামির তূবার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। সামিরের চোখে তূবার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকার মধ্যে একটা অদৃশ্য ব্যথা ছিল। সামিরের মনটা হঠাৎ করেই ভারী হয়ে গেল, যেনো কোনো এক অজানা শূন্যতা তাকে ঘিরে ধরেছে।”
“সামির নিজেকে সামলালো। কয়টা বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে মনে মনে বললো”…..
—“এটা কি করে সম্ভব? প্রথম দেখায়, কেমনে কি? না এটা হতে পারে না। এটা নিশ্চয়ই ভুল। তাছাড়া তূবা জাবির কে পছন্দ করে।”
“সামির উঠে দাঁড়ায়। ক্যাফ থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।”
☘️
“সন্ধ্যা সাত টা ত্রিশ মিনিট। আধা ঘন্টা ধরে শাড়ি পড়ার বিথা চেষ্টা করে যাচ্ছে আদ্রিয়ানা। তবে কিছুতেই শাড়ি পড়তে পারছে না। তাই বিরক্ত হয়ে ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে আসে আদ্রিয়ানা।”
—“মিস্টার পান্ডা এইসব বালের শাড়ি কিনে দেন কেনো হা ? আধা ঘন্টা ধরে পড়ার চেষ্টা করছি তাও শাড়ি টা পড়তে পারছি না।”
–“বৌজান কাছে আসেন তো দেখি বালের শাড়ি টা আমি পড়াতে পারি কি না।”
“আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে এগিয়ে যায়। আদনান আদ্রিয়ানার শরীর থেকে শাড়ি টা খুলতে যাবে ঠিক তখনি আদ্রিয়ানা শাড়ি টা কে শরীরের সাথে চেপে ধরে বলে”……
— “দুষ্টু পান্ডা আপনার মতলব কি বলেন তো? আপনি শাড়ি পড়ানোর বদলে শাড়ি খুলতে চাইছেন কেনো?”….
—“শাড়ি টা না খুললে পড়াবো কি করে? শাড়ি পড়ানোর জন্য তো শাড়ি টা আগে খুলতে হবে।”
—“দুষ্টু পান্ডা আপনি হাসছেন কেনো?আপনার মতলব কিন্তু সুবিধার মনে হচ্ছে না।”
–“আপাতত মতলব ভালো আছে। তবে তুমি যদি তোমার পেটের বা পাশে থাকা তিল টা আর গলায় থাকা তিল টা এইভাবে দেখিয়ে রাখো তাহলে কতক্ষন নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবো জানি না।”
“আদ্রিয়ানা শাড়ি দিয়ে পেটের তিল টা ডেকে নিয়ে বলে”….
—“দুষ্টু পান্ডা। দুষ্টু কথা বাদ দেন আর আমাকে শাড়ি টা পড়িয়ে দেন।”
“আদনান মুচকি হেসে আদ্রিয়ানা কে শাড়ি টা পড়িয়ে দিতে থাকে। মিনিট দশেকের মধ্যে শাড়ি টা অলমোস্ট পড়ানো হয়ে যায়। আদনান শাড়ির কুচি গুলো করে আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে”……
— “বৌজান শাড়িটা যেহেতু আমি পড়িয়ে দিয়েছি সেহেতু কুঁচি গুলো ও আমি গুঁজে দিই?”…..
— ” আপনার আর কষ্ট করে কুচি গুঁজে দেওয়া লাগবে না। আমিই গুঁজে নিচ্ছি ,আপনি শাড়ির কুঁচি গুলো ঠিক করে ধরেন।”
“এই কথা বলে আদ্রিয়ানা শাড়ির কুঁচি গুলো গুঁজে নেয়। আর আদনান হাঁটু গেড়ে বসে কুঁচি গুলো ঠিক করে দিতে থাকে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে শাড়ির কুঁচি গুলো ঠিক করা হয়ে যায়। আদনান উঠে দাঁড়ায়।”
— “কইতরির বাপ এইবার আপনি রেডি হয়ে নেন।”
“এই কথা বলে আদ্রিয়ানা মিররের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। হালকা মেকআপ, ঠোঁটে হালকা লাল লিপস্টিক, মাথায় ফুল, হাতে নীল চুড়ি পড়ে রেডি হয়ে নেয়। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে আদ্রিয়ানা নিজেকে দেখছে আর মুচকি মুচকি হাসছে।”
“আদনান পিছনে থেকে এসে আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে আদ্রিয়ানার ঘাড়ে মুখ গুজে দেয়।”
–“দুষ্টু পান্ডা , আবার কি শুরু করে দিলেন? তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নেন না।”
“আদনান আদ্রিয়ানা কে ছেড়ে দেয়। পরনে থাকা টিশার্ট টা খুলে নীল রঙের একটা পাঞ্জাবি পড়ে নেয়। সাথে লোফার সু ও পড়ে নেয়। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে চুল গুলো সেট করে নেয়। পছন্দের পারফিউম ক্লাইভ ক্রিশ্চিয়ান ইম্পেরিয়াল মাজেস্টি স্প্রে করে নিজেকে শেষ বারের মতো মিররে দেখে নেয়। আদ্রিয়ানার দিকে নিজের হাত টা বাড়িয়ে দিয়ে বলে”……
—“চলেন বৌ জান, এইবার যাওয়া যাক?”…
“আদ্রিয়ানা আদনানের হাতে হাত রেখে বলে”…..
“চলেন জামাই জান।”
“আদনান আর আদ্রিয়ানা রুম থেকে বের হয়ে যায়। বাড়ি থেকে বের হয়ে আদনানের পছন্দের মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির দিকে এগিয়ে যায় দুজনে। আদনান গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে আদ্রিয়ানা কে উঠতে বলে। আদনানের কথা মতো আদ্রিয়ানা গাড়ি তে উঠে বসে। আদনান গাড়ির দরজা লাগিয়ে দিয়ে নিজেও উঠে বসে। আদ্রিয়ানা কে সিট বেল্ট পড়িয়ে দিয়ে নিজেও পড়ে নেয়। আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে গাড়ি স্টাস্ট দেয় আদনান।”
“সময়ের অভাবে রিচেক দেওয়া হয় নিই”
চলবে……
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৫