দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ২১
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“সন্ধ্যা সাত টা ত্রিশ মিনিট। জাবির এইমাত্র বাসার সামনে এসে পৌঁছেছে। চোখে মুখে এখনো রাগের চাপ স্পষ্ট। জারা কে এতো টর্চার করার পর ও তাঁর রাগ একটু ও কমে নিই। গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় জাবির। বাড়ির কলিং বেল চাপতে দরজা খুলে দেয় জোবাইদা। জাবির এক পলক মায়ের দিকে তাকিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে যাবে ঠিক তখনি জাবিরের বাবা রহিম বলে উঠে”….
“জাবির ফ্রেশ হয়ে নিচে আই, তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।”
“সরি বাবা। বর্তমানের কোন কথা শুনার মোড আমার নেই।”
“মোড না থাকলে ও শুনতে হবে কারণ কথা টা তোর ব”….
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না রহিম। তাঁর আগেই জাবির বলে উঠে”…
–“আপাতত মোড ভালো নেই। মোড ভালো হলেই তোমার কথা শুনার জন্য আমি নিজে আসবো।”
“এই কথা বলে জাবির রুমে চলে যায়। রুমে গিয়ে পরনে থাকা ব্লেজার টা খুলে ছুড়ে মারে ফ্লারে। বারান্দা থেকে টাওয়াল নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। মিনিট দশেকের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। কাবাট থেকে টিশার্ট আর ট্রাউজার বের করে পড়ে নেয়। টাওয়েল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায় জাবির। “
“জাবির বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে, তার চোখে মুখে কষ্টের ছাপ স্পষ্ট। সে আদ্রিয়ানার কথা ভাবছে, আর তার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। বারান্দায় থাকা ইজি চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ে জাবির। চেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করতেই জাবিরের চোখে ভেসে ওঠে আদনান আর আদ্রিয়ানার ঘনিষ্ঠ মূহুর্ত। আদ্রিয়ানার পাশে আদনান কে মেনে নিতে পারছে না জাবির।”
“জাবিরের চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল, তবে মূহুর্তে সে অশ্রু মুছে ফেলল। সে নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করল, কিন্তু তার মনটা ভেঙে যাচ্ছে।
☘️
“রাত দশ টা। জোসনা ভরা রাতে সুইমিং পুলে পা ভিজিয়ে রেখে বসে আছে একজোড়া কপথ কপথি। জোসনার আলোয় সুইমিং পুলের পানি যেনো চকচক করছে। আদনান আর আদ্রিয়ানা পাশাপাশি বসে আছে, তাদের পা পানিতে ভিজছে। আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে আছে, আর আদ্রিয়ানা তার চোখে চোখ রেখেছে।”
“আদনান বলল, “আদ্রিয়ানা, এই রাতটা কতটা সুন্দর, জানো?”
“আদ্রিয়ানা হাসল, “সুন্দর, কিন্তু আপনার সাথে থাকলে সবকিছুই সুন্দর লাগে।”
“আদনান আদ্রিয়ানার হাত ধরে বলল”…. “আদ্রিয়ানা, আমার ঘরওয়ালী, কইতরির মা তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। তুমি আমার জোসনা রাত, আমার স্বপ্নের সত্যি।”
“আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে ঝুঁকে আদনানের বুকে মাথা রখল। আদনান আদ্রিয়ানা কে নিজের বুকে আগলে নিলো। আদ্রিয়ানা আদনানের বুকে মাথা রেখে তার হার্ট বিট শুনতে পাচ্ছিল। আদ্রিয়ানা আদনান কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তাঁর হার্ট বিট শুনতে লাগলো। আর আদনান আদ্রিয়ানার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। আদ্রিয়ানা আদনানের হৃদয়ের ধ্বনি শুনছিল। আদ্রিয়ানার মনে হচ্ছিল, আদনানের হৃদয় তার নাম বলছে, আর সে তার ভালোবাসায় হারিয়ে যাচ্ছে।
“সুইমিং পুলের পানিতে জোসনার আলো পড়ে একটা মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। আদনান আর আদ্রিয়ানা সেই মায়ায় হারিয়ে গেছে। তারা দুজন একে অপরের সাথে এক হয়ে গেছে, আর তাদের ভালোবাসা হয়েছে অসীম।”
☘️
“দেখতে দেখতে রাত বারোটা বেজে যায়। আদনান আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নিয়ে রুমের দিকে পা বাড়ায়। মিনিট দুয়েকের মধ্যে রুমে পৌঁছে যায়। বেডের দিকে এগিয়ে গিয়ে আদ্রিয়ানা কে বেডের উপর শুইয়ে দেয়। আদ্রিয়ানা আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে আদনান কে নিজের একদমই কাছে টেনে নিয়ে আদনানের ঠোঁটে আলতো করে একটা চুমু খাই। আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে”…..
“বৌজান চুমু টা আর একটু গভীর ভাবে দেওয়া যেতো না?”……
“আপনাকে গভীর ভাবে চুমু দিয়ে নিজের উপর বিপদ ডেকে আনতে চাই না।”
“বিপদ অলরেডি চলে এসেছে বৌ।”
“দেখুন মিস্টার দুষ্টু পান্ডা আমার এখন কিছু করার মোড নেই।”
“এমন করো কেন বৌ। একটু গভীর ভাবে আদর করতে দাও না প্লীজ।”
“আদ্রিয়ানা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে”…..
“আচ্ছা ঠিক আছে তবে একটু কি”……
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা। তাঁর আগেই আদনান আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়। মিনিট পাঁচেক পর ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে পরনে থাকা টিশার্ট টা খুলে ফেলে। আদ্রিয়ানার গলা থেকে উড়না সরিয়ে আদ্রিয়ানার গলায় মুখ বসিয়ে দেয় আদনান। আদ্রিয়ানা কেঁপে উঠে আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে। আদনান উত্তেজিত হয়ে নিজের কাজ কনটিনিউ করতে থাকে।”
“ঘন্টা খানেক পর আদ্রিয়ানা বলে উঠে”….
“দুষ্টু পান্ডা এইবার থামেন। আপনি বলছেন একটু আদর করবেন।”
“বৌ গো এই মুহূর্তে থামা সম্ভব নয়।”
“আহ্ মিস্টার পান্ডা আস্তে করেন।”
“আস্তে আদর আমার কাছ থেকে আশা করা বোকামি। বুঝতে পারছেন বৌ জান?”….
“এই কথা বলে আবার ও নিজের কাজ কনটিনিউ করতে থাকে আদনান। ঘন্টা খানেক পর আদনান বলে”…..
“বেইবি শক্ত করে আমার গলা জড়িয়ে ধরো।”
“কেনো?”……
“মেন পয়েন্টে খেলা শুরু করবো এখন। তাড়াতাড়ি গলা জড়িয়ে ধরো।”
“আদ্রিয়ানা ভয়ে ভয়ে আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেলে। আদনান নিজের ঠোঁট দুটো দিয়ে আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো চেপে ধরে। তাঁর পর আদনান কাজ কনটিনিউ করে। আদ্রিয়ানার পুরো শরীর ঝাকুনি দিয়ে উঠে। আদনান নিজের ঠোঁট দিয়ে আদ্রিয়ানার ঠোঁট চেপে ধরে রাখায় আদ্রিয়ানা আওয়াজ করতে পারে না। কিন্তু আদ্রিয়ানার চোখ দেখে বুঝা যাচ্ছে সে কষ্ট পাচ্ছে।”
—–“বাকিটুকু ইতিহাস!”…..
“ইতিহাস জানার ইচ্ছা থাকলে বিয়ে করে ফেলো।”
☘️
“রাত একটা। ছাঁদে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে জাবির। সাথে আছে তাঁর দূঃখের সঙ্গী গিটার। হঠাৎ করেই কানে চেপে ধরে ফ্লারে বসে পড়ে জাবির। জাবিরের কানে শুধু জারার বলা শেষ কথাটা বাজছে।”
–“আমি আপনাকে ভালোবাসি মিস্টার জাবির রায়হান চৌধুরী। আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি।”
“জাবির কান চেপে ধরে ফ্লারে বসে আছে। জারার বলা কথাটা কানে বেজে উঠতেই জাবিরের অস্থির লাগতে শুরু করে। হঠাৎ জাবিরের মনে পড়ে জারার কথা। জাবির ছুটে যায় জারার উদ্দেশ্য।”
“আধা ঘন্টার মধ্যেই জাবির পৌঁছে যায় পাহাড়ে থাকা সেই বাংলোর সামনে। গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত পায়ে হেঁটে যায় বাংলোর দিকে। মিনিট দুয়েকের মধ্যে পৌঁছে যায় সেই রুমে, যে রুমে জারা কে রাখা হয়েছে। জাবির জারার দিকে এগিয়ে যায়। ,জারার দিকে এক পলক তাকিয়ে হাতের থুরি বাজিয়ে বলে”…..
—“ওই শুন”?…..
—-“জারার কোন রেসপন্স নেই”।
“জাবির আবার ও বলে”……
“ওই হ্যালো ? কথা বলছিস না কেন? মরে গেছিস না কি”?……
“এই কথা বলে জারার মাথা টা নাড়া দেয় জাবির। তাঁর পর ও জারার কোন রেসপন্স পায় না। জাবির এইবার জারার থুতনি ধরে জারার মাথা টা উপরে তুলে। জারা চোখ বন্ধ করে রেখেছে। জারার শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে দেখে জাবির জারার পাস চেক করে। পাস চেক করেই জাবির দুই পা পিছিয়ে যায়। কারণ জারার পাস চলছে না। জারা চিরদিনের জন্য এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে।
“জাবির জারার মৃত শরীরের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে মুখে রাগের চাপ স্পষ্ট। জাবির তো এতো তাড়াতাড়ি জারা কে মারতে চাই নিই। জাবির প্রতিনিয়ত যতটা কষ্ট পায় ঠিক ততটা কষ্ট দিয়েই জারা কে মারতে চেয়েছিল।
” জাবির পকেট থেকে ফোন টা বের করে। সামিরের নাম্বার ডায়েল করে কল দেয় সামির কে। রিং পড়ার সাথে সাথেই রিসিভ হয়ে যায়। কল রিসিভ হতেই জাবির বলে”…..
—–“যত দ্রুত সম্ভব বাংলো বাড়িতে আই।
“এতটুকু বলেই জাবির ফোন কেটে দেয়।
☘️
“আধা ঘন্টার মধ্যে বাংলো বাড়িতে এসে হাজির হয় সামির। সামির কে দেখে জাবির বলে”……
—-“এসে গেছিস?”…..
“হুম। কিন্তু কি হয়েছে?”…
—“শাস্তি দিতে গিয়ে জারা কে মেরে ফেলছি”
—কিহ?”….
“কিহ না জ্বী। বিশ্বাস না হলে ওর পাস চেক করে দেখ”!
“সামির জারার পাস চেক করে দেখে জারা সত্যি সত্যি মারা গেছে। সামির জাবিরের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই জাবির বলে উঠে”…
“এই লাশ টা কে পুঁতে ফেলতে হবে। দুইজন গার্ড কে খবর দে।”
“পুঁতে ফেলবি মানে ? ও কে নির্মল ভাবে মেরে বলছিস পুঁতে ফেলবি?”….
—-“তো কি করবো?”…..
“ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ওর দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা টা উত্তম হবে।”
“তাহলে ওর দাফন কাফনের ব্যবস্থা কর”।
“এই কথা বলে জাবির চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে গিয়ে ও আবার থেমে যায়। সামিরের দিকে তাকিয়ে বলে”….
“জারার মৃত্যুর খবর যেনো একটা কাক পক্ষি ও টের না পায়। যদি পায় তাহলে তোর সাথে কি হবে তা তুই খুব ভালো করেই জানিস।”
“এই কথা বলে জাবির চলে যায়। সামির পকেট থেকে ফোন বের করে কিছু মহিলা গার্ড আর পুরুষ গার্ড কে খবর দেয়। আধা ঘন্টার মধ্যে সবাই এসে হাজির হয়। মহিলা গার্ড গুলো জারা কে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড়ে সাজিয়ে দেয়। সামিরের নির্দেশে ছেলে গার্ড গুলো জারা কে কবরস্থানে নিয়ে যায়। জায়নাজা পড়ে জারা কে কবর দেওয়া হয়।”
“বিদায় জারা। ওপারে ভালো থেকো।
“সময়ের অভাবে রিচেক দেওয়া হয় নিই!”
চলবে……
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮
-
দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩