দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ১৭
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
” রাত দুইটা… “আদনান আর আদ্রিয়ানা ছাঁদে বসে আকাশের তারা গুনছে। হালকা ঠান্ডা বাতাস, চারদিকে নিস্তব্ধতা”…
” আদ্রিয়ানা আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে আদনানের চোখে দিকে তাকিয়ে বলে”…..
“কইতরির বাপ শুনছেন”?…..
“হুম রাঙা বৌ শুনছি বলো”।
“আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, আমাকে রুমে নিয়ে চলুন”।
“আদ্রিয়ানার কথায় সাঁই জানিয়ে আদনান আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নেয়। ছাঁদ থেকে নেমে রুমের দিকে হাঁটা দেয়। রুমের দরজার সামনে গিয়ে আদ্রিয়ানা কে কোল থেকে নামিয়ে দেয় আদনান”।
“জামাই জান, কোন সমস্যা”?…
“না বৌজান কোন সমস্যা না”।
“তাহলে আমাকে কোল থেকে নামিয়ে দিলেন যে”?….
“এমনি”….
“ওও আচ্ছা আচ্ছা”।
“হুম এখন রুমে চলো”….
“আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে রুমে প্রবেশ করে। রুমে থাকা বেডের উপর চোখ পড়তেই আদ্রিয়ানা অবাক হয়ে যায়। কারণ বেডের উপর অনেক গুলো গিফটের প্যাকেট রাখা। আদ্রিয়ানা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে গিফটের দিকে।”
“আদনান আদ্রিয়ানা পাশে এসে দাঁড়ায়। আদ্রিয়ানার হাত ধরে আদ্রিয়ানা কে বেডের দিকে নিয়ে যায়। আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে”…..
“আমার রাঙা বৌ, অর্ধাঙ্গিনীর ডাউনলোড ডে উপলক্ষে তাঁর সাদা কালা পান্ডার পক্ষ থেকে সামান্য কিছু গিফট। দেখো তো পছন্দ হয় কি না”?…..
“আদ্রিয়ানার আদনানের উপর এক প্রকার ঝাঁপিয়ে পড়ে। শরীরের সব শক্তি দিয়ে আদনান কে জড়িয়ে ধরে। আদনান ও তাঁর স্ত্রী কে বুকে আগলে নেয়।আদ্রিয়ানার চোখে পানি চিকচিক করছে। এক পর্যায়ে আদ্রিয়ানা আদনানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে। আদনান আদ্রিয়ানার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে”……..
“কাঁদছো কেন রাঙা বৌ? প্লীজ কান্না করো না। তোমার কান্না যে তোমার পান্ডা সহ্য করতে পারে না। তোমার চোখে পানি দেখলে তোমার পান্ডার বুকে ভূমিকম্প শুরু হয়ে যায় ঘরওয়ালী।”
“আদ্রিয়ানা মাথা নাড়িয়ে বলে”…..
“আর কান্না করবো না মিস্টার সাদা কালা পান্ডা”।
“আদনান হাসে। আদনানের সাথে আদ্রিয়ানা ও হাসে”।
——“কইতরির বাপ এতো গিফট কেনো”?…..
“আদনান হাসে আর বলে”…..
“এতো গিফট কই মাত্র তো কয়টা গিফট।তোমার ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে তাই ১৮টা করে গিফট নিয়ে এসেছি”।
“ওও আচ্ছা আচ্ছা”।
“হুম হুম। এখন চলো গিফট গুলো খুলে দেখবে”?…..
“হুম কিন্তু কোন গিফট টা আগে খুলা যায় “?…….
“তোমার যেটা ইচ্ছে সেটাই আগে খুলো”।
“আদ্রিয়ানা একটা গিফট হাতে নিয়ে বলে”…..
—–“এটা সবচেয়ে ছোট গিফট বক্স এটাই আগেই খুলি, কি বলেন কইতরির বাপ”?…
“হুম ছোট থেকেই খুলা শুরু করো”।
“আদ্রিয়ানা গিফট বক্স খুলতে শুরু করে”!
—-“কইতরির বাপ এই ভাবে বসে না থেকে আমাকে গিফট গুলো খুলতে হেল্প করুন না”!….
“হুম। এই দিকে দাও গিফট বক্স টা আমি খুলে দিচ্ছি”!….
“আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে গিফট বক্স টা এগিয়ে দেয়। আদনান গিফট বক্স টার পেপার খুলে আদ্রিয়ানার দিকে এগিয়ে দেয়। আদ্রিয়ানা বক্স টা হাতে নিয়ে আনবক্সিং করে। বক্সের ভিতরে আঠারো টা ডায়মন্ডের রিং। আদ্রিয়ানা বেশ অবাক হয়। আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে”….
“কইতরির বাপ আঠারো টা রিং আমি কোথায় পড়বো ? আমার তো আঠারো টা আঙ্গুল নেই”?…..
“কি বলো ? তাহলে তোমার আঙ্গুল কয়টা”?…..
—–“দশটা”।
“ওও আচ্ছা আচ্ছা। যাইহোক এটা রেখে বাকি গুলো আনবক্সিং করো”!
“আদনান আর আদ্রিয়ানা মিলে এক এক করে সব গিফট আনবক্সিং করতে থাকে। ঘন্টা খানেকের মধ্যে সব গিফট আনবক্সিং করা হয় না”।
“আদ্রিয়ানা তাঁর আঠারো তম জন্মদিনে”
১৮ টা ডায়মন্ডের রিং,
“১৮ টা ডায়মন্ডের নেকলেস”….
“১৮ টা বোরখা”…
“১৮ টা হিজাব”…
১৮ টা শাড়ি”…
১৮ ডজন চুড়ি”….
১৮ টা ড্রেস “…
১৮ টা ডিজাইনার হ্যান্ডব্যাগ”
১৮ টা লুই ভিটন লাভ লেটার”,
১৮ টা প্রাইভেট জেট রাইড”,
“আরো অনেক কিছু”
“এতো গিফট দেখে তো আদ্রিয়ানা মহা খুশি। খুশি তে আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে। আদনান ও আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে”।
“ঘরওয়ালী তোমার জন্য আরো একটা গিফট আছে”!….
“কি গিফট মিস্টার সাদা কালা পান্ডা”?…
“আদনান আদ্রিয়ানা হাত ধরে আদ্রিয়ানা কে বারান্দায় নিয়ে যায়। বারান্দায় গিয়ে আবার ও অবাক হয়ে যায় আদ্রিয়ানা”।
কারণ—–
লেডি, রেড ,ইয়েলো, হোয়াইট ,পিচ, অরেঞ্জ ,পিংক পার্পল ,ব্ল্যাক, গ্রীন, লাভেন্ডার করাল, মিশ্রিত গোলাপ ফুলের আঠারো তোড়া। ফুলের উপরে আঠারো টা আঠারো রকমের চকলেটের প্যাকেট।”
“আদ্রিয়ানা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে, চোখে অবাকের ছাপ। আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে”…..
“ঘরওয়ালী, তোমার জন্য এই আঠারো তোড়া গোলাপ আর চকলেট। প্রতিটা তোড়া তোমার আঠারো বছরের প্রতিটা দিনের জন্য”।
আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে আবার ও কেঁদে ফেলে,
“এতো কিছু কেন করলে? আমি কি এতো কিছু পাওয়ার……..
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা। কারণ আদনান আদ্রিয়ানার কোমর জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানা কে কাছে টেনে নিয়ে বলে”…..
“ঘরওয়ালী তোমার জন্য সবকিছু। তুমি আমার সবকিছু”।
আদ্রিয়ানা আদনানের বুকে মাথা রেখে বলে”…
“আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি মিস্টার পান্ডা। আমাকে কখনো ছেড়ে যাবেন না প্লীজ। আপনাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবে না”!
“এই কথা বলে আদ্রিয়ানা শরীরে সব শক্তি দিয়ে আদনান কে জড়িয়ে ধরে।
আদনানও আদ্রিয়ানাকে জড়িয়ে ধরে বলে”…
“তোমার সাদা কালা পান্ডার উপর বিশ্বাস রাখতে পারো। তোমাকে কখনোই ছেড়ে যাবো না। যদি যাওয়ার হয় তাহলে তোমাকে সাথে নিয়েই যাবো। আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি ঘরওয়ালী”।
রাতের তারা আর চাঁদের আলোয় আদনান আর আদ্রিয়ানা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকে…
“আদনান আর আদ্রিয়ানা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আছে। রাতের নিস্তব্ধতায় শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ। আদনান আদ্রিয়ানার চুলে হাত বুলিয়ে দেয়, আদ্রিয়ানা আদনানের বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে।”
“কিছুক্ষণ পর আদনান বলে”….
“রাঙা বৌ, ঘুম পাচ্ছে?”……
“আদ্রিয়ানা মাথা নাড়িয়ে বলে “হুম”।
“আদনান হাসে। বারান্দায় থাকা দুলনায় আদ্রিয়ানা কে নিয়ে বসে পড়ে আদনান। আদ্রিয়ানা দিকে তাকিয়ে বলে”….
“তাহলে ঘুমিয়ে পড়ো, আমি আছি “।
“আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে চোখ বন্ধ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আদ্রিয়ানা ঘুমিয়ে পড়ে। আদনান আদ্রিয়ানাকে নিয়ে রুমের ভিতরে চলে যায়। আদ্রিয়ানা কে বেডে শুইয়ে দিয়ে নিজেও শুয়ে পড়ে। আদ্রিয়ানা কে নিজের কাছে টেনে নেয় আদনান। আদ্রিয়ানা একটু নড়ে উঠে আদনানের বুকে মাথা রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। আদনান আদ্রিয়ানার কপালে একটু চুমু খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।”
☘️
“সকাল দশটা। এইমাত্র জাবিরের ঘুম ভেঙ্গেছে। কাল রাতে আদ্রিয়ানার ছবির সাথে কথা বলতে বলতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে তা জাবির নিজে ও জানে না। আদ্রিয়ানার ছবি টা যত্ন সহকারে কাবাটের মধ্যে রেখে দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। মিনিট দশেকের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। সাদা শার্ট কালো প্যান্ট আর কালো ব্লেজার পড়ে রেডি হয়ে নেয় জাবির। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে চুল গুলো সেট করে নেয়। পছন্দের পারফিউম টা স্প্রে করে নেয়। মিররে নিজেকে শেষ বারের মতো দেখে রুম থেকে বের হয়ে যায়। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই জাবিরের মা জোবাইদা রহমান জাবির কে ডাক দেয়। জাবির রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে যায়।”
“বলো মা”?….
“অফিসে যাচ্ছিস”?…
“অফিস ছাড়া আর কোথায় যাবো”?….
“সেটাই তো। যাইহোক তুই ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বস আমি নাস্তা নিয়ে আসছি”।
“আমি খাবো না!”
“এই কথা বলে জাবির চলে যায়। জাবিরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে জোবাইদা। ছেলেটা ছোট বেলা থেকেই এমন। জাবির চোখের আড়াল হতেই জোবাইদা রান্নার কাজে মনোযোগ দেয়।”
“যারা বলো প্রতিদিন গল্প দিলে ঠিকিই রেসপন্স পাওয়া যাবে। তাদের কে বলছি। তোমাদের কথা মতো আজ তিন দিন টানা গল্প পোষ্ট করছি কিন্তু কি হলো রেসপন্স আগের থেকে আরো কমে গেলো। আগে ২৪ ঘন্টা ২k রিয়েক্ট পূর্ণ হয়ে যেতো। তাঁর পর ২৪ ঘন্টা ১.৫k.রিয়েক্ট হতো। আর এখন 1k ও হয় না ২৪ ঘন্টায়।
এখন তোমরাই বলো প্রতিদিন গল্প লিখতে কি আর ভালো লাগে। গল্প লিখতে বসলেই তো রিয়েক্টের কথা মনে পড়ে যায়। রিয়েক্ট হয় না তাঁর মানে পাঠকদের কাছে আমার গল্প টা ভালো লাগছে না। তাদের কাছে গল্প ভালো না লাগলে গল্প লিখে আর কি করবো ? এগুলোই আসে মাথায়।
“আমার নতুন পেইজ টা ফলো করে দাও প্লীজ।
চলবে…….
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ)
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৫