দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ১৩
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“এখন শীত কাল। শীত নিয়ে আসে অনুভূতির এক নরম পরশ, যেখানে প্রতিটি সকাল কুয়াশায় মোড়ানো আর সন্ধ্যা গুলো যেন স্মৃতির মৃদু জোনাকি।”
—-“শীত মানেই এক নীরব ছোঁয়া!”
——-“গায়ে চাদর জড়ানো গল্প”।
“হাতে ধোঁয়া ওঠা চা, আর হৃদয়ে জমে থাকা না বলা কিছু কথা”।
“প্রতিটি মূহুর্তের রং বদলায় শীতের আবহে, সকালে কুয়াশা, দুপুরে নরম রোদ, আর বিকেলের মেঘলা আকাশ”।
“কুয়াশা মোড়ানো সকালে গায়ে চাদর পেঁচিয়ে ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে সরিষা ফুল দেখতে এসেছে আদ্রিয়ানা”।
আদ্রিয়ানা আদনানের হাত ধরে সরিষা ফুলের মাঠে হাঁটছে, আর আদনান তাকে ভালোবাসার কথা বলছে। আদ্রিয়ানা লরনা হাসছে, আর আদনান তাকে আরও কাছে টেনে নিচ্ছে । তারা দুজনেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে, আর তাদের চারপাশে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে মাঠ ভরে গেছে ।
” আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে বললো”….
“মিস্টার পান্ডা, এই সরিষা ফুলের মাঠটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে। আপনার হাত ধরে এখানে আসতে পেরে আমি খুব খুশি”।
“আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বললো”….
“আদ্রিয়ানা, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার। এই সরিষা ফুলের মাঠে তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে”।
“আদ্রিয়ানা আদনানের হাত আরও শক্ত করে ধরে বললো.. “মিস্টার পান্ডা, আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি। আমাদের এই ভালোবাসার মুহূর্তটা যেন কখনো না যায়”।
“আদনান আদ্রিয়ানার চোখে চোখ রেখে বলে”…
“কখনো যাবে না, আদ্রিয়ানা। আমরা এই মুহূর্তটাকে চিরকাল ধরে রাখবো”।
আদ্রিয়ানা আর আদনান সরিষা ফুলের মাঠে হাঁটতে লাগলো। তারা দুজনেই চুপচাপ হাঁটছে, শুধু তাদের হাতগুলো একে অপরের সাথে জড়িয়ে আছে। কিছু দূর হাঁটার পর আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে বললো”,
“মিস্টার পান্ডা শুনেন না” ?
“জ্বী শুনছি তো আপনি বলেন না”!
“বলছিলাম যে সরিষা ফুলের সাথে আমাকে কিছু ছবি তুলে দেন না”।
“আদ্রিয়ানার মুখে এমন কথা শুনে আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে”…
“ওকেই ঘরওয়ালী আপনি সরিষা ক্ষেতে গিয়ে পোস দেন আমি ছবি তুলে দিচ্ছি”!
“আচ্ছা ঠিক আছে মিস্টার পান্ডা”।
“এই কথা বলে আদ্রিয়ানা সরিষা ক্ষেতের ভিতরে গিয়ে নানা রকমের সুন্দর সুন্দর পোস দিচ্ছে আর তাঁর পার্সোনাল ফটোগ্রাফার আদনান পিক তুলছে”। পিক তুলা শেষ হলে আদ্রিয়ানা হাতে কিছু সরিষা ফুল নিয়ে ক্ষেত থেকে বের হয়ে আসে”। ফুল গুলো আদনানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে”….
“মিস্টার পান্ডা এগুলো আপনার জন্য”।
“আদনান মুচকি হেসে আদ্রিয়ানার হাত থেকে ফুল গুলো নিয়ে আদ্রিয়ানার দিকে নিজের ফোন টা এগিয়ে দিয়ে বলে”…
“ঘরওয়ালী এইবার আমাকে কিছু পিক তুলে দাও।
” মিস্টার পান্ডা আপনি পিক তুলবেন ?”
“হুম”।
“ঠিক আছে আপনি গিয়ে পোস দেন আমি পিক তুলছি”।
“হুম সুন্দর করে তুলবা কিন্তু”?
“আচ্ছা ঠিক আছে আপনি সুন্দর সুন্দর পোস দেন”!
“আদনান মাফিয়া টাইপের পোস দিতে থাকে আর আদ্রিয়ানা আদনানের ছবি তুলতে থাকে।
“মিস্টার পান্ডা সরিষা ক্ষেতে মাফিয়া টাইপের পোস দিচ্ছেন কেন? নরমাল টাইপের পোস দেন”।
” নরমাল টাইপের পোসই তো দিতেছি”।
“এগুলো নরমাল টাইপের?”
“আসলে বৌ, আমি না নরমাল টাইপের পোস দিতে চাই কিন্তু আমাকে নরমাল পোসেও মাফিয়া মাফিয়া লাগে।”
“একদমই নরমাল ভাবে আর কয়েকটা পোস দেন”।
“নরমাল ভাবে পোস দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
“তাহলে আপনার আর ছবি তুলা লাগবে না “।
“হুম”। চলো যায় এইবার”।
“——-চলেন “
“আদ্রিয়ানা আর আদনান সরিষা ফুলের মাঠ থেকে বের হয়ে একটা ছোট্ট চায়ের দোকানে এসে বসলো। শীতের সকালে হাতে ধোঁয়া ওঠা চা, আর তাদের দুজনের মধ্যে জমে থাকা না বলা কিছু কথা”।
“আদনান চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বললো, “আদ্রিয়ানা, এই মুহূর্তটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে। তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি।”
“আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে লরনা হাসলো। তার চোখে ছিল ভালোবাসার এক অদ্ভুত জলছাপ। সে বললো”…
“মিস্টার পান্ডা, আমারও একই অনুভূতি। আপনার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার।”
“আদনান আদ্রিয়ানার হাত ধরে বললো, “আদ্রিয়ানা, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়। তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অসম্পূর্ণ।”
“আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে বললো, “মিস্টার পান্ডা, আপনি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সত্য। আপনার সাথে থাকলে আমার সবকিছু সম্ভব মনে হয়।”
“আদনান মুচকি হেসে চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিতে যাবে ঠিক তখনি আদনানের ফোন টা বেজে উঠে। আদনান পকেট থেকে ফোন টা বের করে হাতে নিয়ে দেখে আজিজ কল করেছে। তাই আর সাত পাঁচ না ভেবেই কল রিসিভ করে। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসে”….
“আসালামুয়ালাইকুম স্যার “?
“ওয়ালাইকুমুস সালাম ” হুম আজিজ বলো”!
“স্যার ম্যামের খালামণি আর খালু কে খুঁজে পাওয়া গেছে”? ওরা এখন আমার কব্জায় আছে। কি করবো” ?
“পাতাল ঘরে নিয়ে যাও ওদের, আমি আসছি”!
“আচ্ছা ঠিক আছে স্যার “
“আজিজের মুখে এমন কথা শুনে আদনান ফোন কেটে দেয়। আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে আদনান কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে”…
“কে ফোন করেছে মিস্টার পান্ডা” ?
“চলো যেতে যেতে বলছি”।
“হুম চলেন”।
“আদনান চায়ের বিল পরিশোধ করে আদ্রিয়ানা কে নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে আসে। আদ্রিয়ানা কে নিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায় আদনান। গাড়ির দরজা খুলে আদ্রিয়ানা কে গাড়িতে উঠতে বলে আদনান। আদনানের কথা মতো আদ্রিয়ানা ও গাড়িতে উঠে বসে। আদনান গাড়ির দরজা লাগিয়ে দিয়ে নিজেও উঠে পড়ে। আদ্রিয়ানা কে সীট বেল্ট পরিয়ে দিয়ে আদনান নিজের সীট বেল্ট ও পড়ে নেয়। আদ্রিয়ানার দিকে এক পলক তাকিয়ে গাড়ি স্টাস্ট দেয় আদনান। গাড়ি চলছে তাঁর আপন বেগে”।
“মিস্টার পান্ডা আপনাকে তখন কে ফোন করেছিলো” ?
“আজিজ”!
“ওও আচ্ছা। তা কি বললো” ?
“বলছে তোমার খালু আর খালা কে খুঁজে পাওয়া গেছে”!
“খুঁজে পাওয়া গেছে মানে ? তাঁরা কি হারিয়ে গিয়েছিল না কি ” ?
“তোমার খালু আর খালা তোমাকে বিক্রি করে দেওয়ার পর যখন জানতে পারে জহির আদনান চৌধুরী তোমাকে ভালোবাসে তখন তাঁরা ভয় পেয়েছিলো। এবং ভয়ে তাঁরা সেই রাতেই চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। কারণ তাঁরা এটা বুঝতে পেরেছিল যে জহির আদনান চৌধুরী তাদের কে ছাড়বে না, জানে মেরে ফেলবে”।
“ওদের কে খুঁজে বের করার মানে কি মিস্টার পান্ডা ” ?
“অনেক মানে আছে। ওরা আমার ভালোবাসার মানুষ কে কষ্ট দিয়েছে। দিন রাত তর্চার করেছে। তোমাকে বিক্রি পর্যন্ত করে দিয়েছে। এতো কিছুর পরেও আমি তাদের কে ছেড়ে দিবো তা তুমি কি করে ভাবলে”?
“আদ্রিয়ানার চোখে জল এসে গেলো। সে আদনানের দিকে তাকিয়ে বললো”… “মিস্টার পান্ডা, আপনি কি তাদের কে ক্ষমা করে দিবেন না?”
“আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বললো”..
“আদ্রিয়ানা, তুমি জানো না তারা তোমার সাথে কি কি করেছে। তোমাকে বিক্রি করে দেওয়ার পর তুমি কতটা কষ্ট পেয়েছো। তোমার সেই কষ্টের কথা ভেবে আমার রক্ত গরম হয়ে যায়।”
“আদ্রিয়ানা আদনানের হাত ধরে বললো, “মিস্টার পান্ডা, আমি আপনার সাথে আছি। কিন্তু প্লিজ তাদের কে ক্ষমা করে দিন। আমি তাদের কে ক্ষমা করে দিয়েছি।”
“আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বললো”…
“তুমি ক্ষমা করে দিলে ও আমি তাদের কে ছাড়বো না। তোমাকে যতটা কষ্ট দিয়েছে তাঁর শত গুণ কষ্ট আমি সুদ সহ তাদের কে ফিরিয়ে দিবো”।
“এই কথা বলে আদনান গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেয়”। আধা ঘন্টার মধ্যে তাঁরা পৌঁছে যায় পাতাল ঘরের সামনে”। আদনান গাড়ি থেকে নেমে আদ্রিয়ানা কে ও গাড়ি থেকে নামায়। আদ্রিয়ানা কে সাথে নিয়েই এগিয়ে যায় পাতাল ঘরের দিকে”।
সময়ের অভাবে রিচেক দেওয়া হয় নিই
“ছোট পর্ব নিয়ে দূঃখ প্রকাশ করে লাভ নেই। তোমাদের কে যে বলি গল্প পড়ে একটু রেসপন্স করো কমেন্ট করো তোমরা তো শুনো না। পেইজের অবস্থা একবারে ডাউন। তাই ৫ থেকে ৬ হাজারের বেশি শব্দ লিখে পোস্ট করা যাচ্ছে না। তাই পর্ব ছোট হয়ে গেছে। আজকের পর্ব টা ৮ হাজার শব্দ দিয়ে বড় করে লিখছিলাম কিন্তু তোমরা তো বড় পর্ব পাওয়ার যোগ্য না তা ফেসবুক ও বুঝতে পারছে। পেইজের অবস্থা যদি এমন থাকে তাহলে সামনে ৫ হাজার শব্দ তো দূরের কথা গল্প ও পোস্ট করা যাবে না”।
চলব…..
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২
-
দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৫