দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ০৮
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“স্টপ দ্যা ওয়েডিং”!
” বিয়ে বন্ধ করেন কাজী সাহেব! এই বিয়ে হতে পারে না”।
“জাবিরের কথা শুনে জহির আদনান চৌধুরী বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। জাবিরের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে”,,
“কেনো হতে পারে না”?
“কারণ আমি আদ্রিয়ানা কে ভালোবাসি”, “আদ্রিয়ানা শুধু আমার।”
” জাবিরের মুখে এমন কথা শুনে জহির আদনান চৌধুরীর মাথায় রক্ত উঠে যায়”। ছোট ভাই ভেবে হাতের মুঠো শক্ত করে রাগ কন্ট্রোল করে নেয়”!
“কি যা তা বলিস? আদ্রিয়ানা তোর মানে?”
“জাবির রায়হান চৌধুরী বলে”,
“হুম, আদ্রিয়ানা আমার কারণ আমি আদ্রিয়ানা কে ভালোবাসি।”
, “তুই আদ্রিয়ানা কে ভালোবাসিস আর তাতেই আদ্রিয়ানা তোর হয়ে গেলো”?
” আমি আদ্রিয়ানা কে ভালোবাসি মানে আদ্রিয়ানা আমার”। “যেকোনো মূল্যে আদ্রিয়ানা কে আমার চাই”।
“আমি বেঁচে থাকতে তুই আদ্রিয়ানার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবি না”! “নিজের করে পাওয়ার তো অনেক দূরের কথা”!
” তাহলে দেখা যাক আদ্রিয়ানা কার?”
“জাবির কথা টা বলে শেষ করতে না করতেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে,
“এখানে এইসব কি হচ্ছে? আর…”
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা। তাঁর আগেই জাবির বলে উঠে, “
“এইসব কি হচ্ছে বুঝতে পারছো না? তোমাকে নিয়ে যুদ্ধ হচ্ছে।”
“আদ্রিয়ানা বলে, “তখন থেকে কি যা তা বলে যাচ্ছেন আপনি? “আসলে আপনি কি চান?”
“জাবির বলে, “তোমাকে। শুধু তোমাকে চাই।”
“আদ্রিয়ানা বলে, “আপনি আমাকে চান? কিন্তু আমি তো আপনাকে চাই না!”
জাবির বলে, “তাহলে তুমি কাকে চাও ওই…”
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না জাবির তাঁর আগেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে,
“জহির আদনান চৌধুরী কে! শুনেছেন আপনি, আমি জহির আদনান চৌধুরী কে চাই বিকস আমি তাকে ভালোবাসি।”
“জাবির রায়হান চৌধুরী হো হো করে হেঁসে উঠে,
“কি বললা তুমি? তুমি জহির আদনান চৌধুরী কে ভালোবাসো? একটা মাফিয়া কিং কে? যার ক…”
“বাকিটুকু বলার আগেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে,
“হুম, আমি এই মাফিয়া কিং জহির আদনান চৌধুরী কে ভালোবাসি!”
“জাবির রায়হান চৌধুরী বলে, “কতদিন ধরে চিনো এই মাফিয়া কিং জহির আদনান কে? কতটুকু জানো ওর সম্পর্কে?”
“আদ্রিয়ানা বলে, “যদিও আমাদের পরিচয় টা বেশি দিনের না। তারপরও এই কয়দিনে আমি উনাকে চিনেছি, বুঝতে পেরেছি। আর…”
“বাকিটুকু আর বলতে পারে না আদ্রিয়ানা”! তাঁর আগেই জাবির বলে”,
“আমি যে আরো আগে থেকেই তোমাকে চিনি, তোমাকে ভালোবাসি।”
আদ্রিয়ানা বলে, “মানে?”
“জাবির রায়হান চৌধুরী বলে, “ভুলে গেছো সেই রাত গুলোর কথা। রাতের পর রাত জাগে যে আমার সাথে প্রেম করতে? ” ভালোবেসে জান বাবু সোনা কলিজা আলু পটল মুলা গাজর ফুলকফি বাঁধা কফি টমেটো ইত্যাদি ইত্যাদি বলতে। ভুলে গেছো সব?”
“আদ্রিয়ানা বলে, “কি সব আছে বাজে কথা বলছেন আপনি? আমি কেনো আপনাকে আলু পটল মুলা গাজর ফুলকফি ইত্যাদি বলতে যাবো? আমি তো আপনাকে চিনতাম ও না। আজকে প্রথম দেখলাম আপনাকে?
“বেটার অপশন পেলে যে সবাই সব কিছু ভুলে যায়, তারপর প্রমাণ আজ পেলাম”।
” আপনি এইসব কি বলছেন, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!” আমি কখন আপনাকে আলু পটল বললাম আর কখনই বা আপনার সাথে প্রেম করলাম” ?
“আদ্রিয়ানা আদনানের দুই হাত ধরে আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে”,,
“মিস্টার পান্ডা আপনি বিশ্বাস করেন উনি যা বলছে সব মিথ্যা। আমি তো উনাকে চিনি ও না। যা কে চিনি না তাঁর সাথে প্রেম কেমনে করবো ? মিস্টার পান্ডা আপনি তো জানেন আমি কেমন? আমাকে একটু বিশ্বাস করেন প্লীজ”!
“আদ্রিয়ান কান্না করে দেয়”। “আদনান যত্ন সহকারে আদ্রিয়ানার চোখের পানি মুছে দেয়”। আদ্রিয়ানা দুই গালে নিজের দুই হাত রেখে বলে”,
“রিলেক্স বৌ, রিলেক্স। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি বৌ। তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস আছে।”
“আদ্রিয়ানা আদনান কে জড়িয়ে ধরে। আদ্রিয়ানার কান্না আরো দ্বিগুন বেড়ে যায়। আদনান আদ্রিয়ানা কে আগলে নেয় নিজের বিরহ ডুরে। আদনান আর আদ্রিয়ানার এমন ঘনিষ্ঠ মূহুর্তে দেখে জাবিরের মাথায় রক্ত উঠে যায়। হাতের মুঠো শক্ত করে রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে জাবির”।
“ভালোবাসার মানুষ কে অন্য কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হতে দেখা কতটা কষ্টের সেটা শুধু তাঁরাই উপলব্ধি করতে পারে যারা ভালোবাসার মানুষ কে অন্য কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হতে দেখেছে”।
“প্রিয় মানুষকে অন্য কারো সাথে দেখতে সত্যিই খুব কষ্ট হয়”। “জাবিরের অবস্থা এখন ঠিক তেমনই। সে আদ্রিয়ানাকে নিজের মনে করে, কিন্তু আদ্রিয়ানা আদনানের সাথে ঘনিষ্ঠ মূহুর্তে আছে দেখে তার মাথায় রক্ত উঠে যায়”।
“জাবির মনে মনে বলে, “কেনো আদ্রিয়ানা আমাকে বুঝলো না? কেনো সে আদনানের সাথে এভাবে জড়িয়ে আছে? আমি তো তাকে ভালোবাসি, তার জন্য সবকিছু করতে পারি।”
“জাবিরের চোখে রাগ আর কষ্টের মিশ্রণ। সে এখন কি করবে বুঝতে পারছে না। জাবির চিৎকার দিয়ে বলে উঠে”,,
“জহির আদনান চৌধুরী আদ্রিয়ানার কাছ থেকে দূরে সরে দাঁড়াও”।
“জাবিরের কথা মনে হয় আদনান কানে নেয়নি”। “আদনান এখনো আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে আছে”। “ফলে জাবিরের রাগ আরো দ্বিগুণ বেড়ে যায়”। “জাবির পুলিশ অফিসারের দিকে তাকিয়ে বলে”,
” অফিসার ২৮ বছর বয়সের একটা ছেলে সতেরো বছর বয়সী একটা মেয়ে কে জোর করে বাল্য বিবাহ করার অপরাধে জহির আদনান চৌধুরী কে অ্যারেস্ট করুন”।
“জাবিরের মুখে এমন কথা শুনে আদ্রিয়ানা আদনান কে ছেড়ে দেয়”! “আদনানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে”,
” মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি কোন কথা বলবেন না ঠিক আছে”। “আমি দেখছি এই ব্যাপার টা”।
“আদনান কে এই কথা টা বলে আদ্রিয়ানা অফিসারের দিকে তাকায়”।
“এক মিনিট অফিসার এক মিনিট”। “এখানে জোর করে কোন বিয়ে হচ্ছে না”। “আমি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে টা করছি”। “কারণ আমি জহির আদনান চৌধুরী কে ভালোবাসি”।
” আদ্রিয়ানার মুখে এমন কথা শুনে জাবির চিৎকার দিয়ে বলে উঠে”,
“মিথ্যা বলছো তুমি”। “আদ্রিয়ানা জহির আদনান চৌধুরী তোমাকে ভয় দেখিয়েছে তাই না? “ভয়ে তুমি মিথ্যা কথা বলছো”। “তুমি সত্যি টা বলো আমি আছি জহির আদনান চৌধুরী তোমার কিছু করতে পারবে না”। “আমি তোমার কাছে হাত জোর করছি দয়া করে সত্যি টা বলো প্লীজ”। ” তুমি জহির আদনান চৌধুরী কে নয় তুমি জাবির রায়হান চৌধুরী কে ভালোবাসো”।
“কি যা তা বলছেন ? আমি কেনো আপনাকে ভালোবাসতে যাবো ? আমি তো আজকের আগে আপনাকে কখনো দেখি ও নিই”।
“জাবির রায়হান চৌধুরী বলে,
“সেই রাত গুলোর কথা তুমি ভুলে গেলে ও আমি ভুলিনি। আমার সাথে কেনো এমন টা করলে আদ্রিয়ানা কেনো” ? আমি তো মন দিয়ে তোমাকে ভালোবেসে ছিলাম”! কেনো আমার মন নিয়ে খেললা কেনো” ?
“আদ্রিয়ানা বলে, “আপনি কি বলছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি আপনার সাথে কখনো কথা বলিনি। আপনি ভুল করছেন।”
“না, জাবির রায়হান চৌধুরী ভুল করছে না। আমি তোমার সাথেই কথা বলেছি তুমিই আমাকে ভালোবেসে ছিলে”!
“আদ্রিয়ানা বলে, “না, আমি আপনাকে ভালোবাসি নিই। আমার জীবনে প্রথম পুরুষ হচ্ছে জহির আদনান চৌধুরী। যাকে আমি ভালোবেসেছি। আমি শুধু জহির আদনান চৌধুরী কে ভালোবাসি।”
“আদ্রিয়ানার মুখে এমন কথা শুনে জাবির কিছু বলতে যাবে তার আগেই পুলিশ অফিসার বলে উঠে”,,
“এক মিনিট জাবির রায়হান চৌধুরী”। “এখানে এইসব কি হচ্ছে ? আপনি আমাদের কে বলছেন মিস আদ্রিয়ানা কে জোর করে বিয়ে করতে যাচ্ছেন মিস্টার জহির আদনান চৌধুরী”। “আপনার দেওয়া ইনফরমেশনের তো কিছুই দেখছি না”।
“অফিসারের কথা শুনে জাবির কিছু বলতে যাবে তার আগেই অফিসার আদ্রিয়ানা কে উদ্দেশ্য করে বলে”,,,
” ম্যাম, আপনি কি নিশ্চিত যে আপনি জহির আদনান চৌধুরী কে ভালোবাসেন?”
“আদ্রিয়ানা বলে, “হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত। আমি জহির আদনান চৌধুরী কে ভালোবাসি।”
জহির আদনান চৌধুরী জোর করে বা ভয় দেখিয়ে আপনাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে নিই তো” ?
“নাহ। “আমি জহির আদনান চৌধুরী কে ভালোবেসে বিয়ে করতে রাজি হয়েছি”।
“আদ্রিয়ানার মুখে এমন কথা শুনে অফিসার বলে”,,
“মিস্টার জাবির, আমাদের আর কিছু করার নেই এখানে। “মিস আদ্রিয়ানা নিজের ইচ্ছায় ভালোবেসে জহির আদনান চৌধুরী কে বিয়ে করছে”।
“এতটুকু বলে অফিসার থামে”! আদনানের দিকে তাকিয়ে আবার বলে”,,
“মিস্টার জহির আদনান চৌধুরী শুভ মুহুর্তে বাঁধা দেওয়ায় জন্য দূঃখিত” “আমাদের কিছু করার ছিল না”। আপনারা আপনাদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে পারেন”।
“জাবির রায়হান চৌধুরী রেগে গিয়ে বলে”, “না, এটা হতে পারে না। আদ্রিয়ানা শুধু আমার।”
“অফিসার বলে, “মিস্টার জাবির, আপনি শান্ত হন”। “আদ্রিয়ানা নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করছে। আমরা কিছু করতে পারবো না।”
“পুলিশ অফিসার চলে যায়। জাবির এখনো দাঁড়িয়ে আছে। রাগে গজগজ করছে। “জহির আদনান চৌধুরী জাবিরের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে”,,
“জাবির ভাই আমার কমিউনিটি সেন্টারের দক্ষিণ পাশে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। বড় ভাইয়ের বিয়ে বলে কথা পেট ভরে খেয়ে তাঁর পর জাস কেমন”।
“জাবির রায়হান চৌধুরী রেগে গিয়ে বলে”,,
“ঠিক আছে, তোমরা তোমাদের বিয়ে করো। কিন্তু আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো।” আদ্রিয়ানা যদি আমার না হয় তাহলে আদ্রিয়ানা তোমার ও হবে না”।
“জাবির কথা টা বলে শেষ করতে না করতেই আদনানের কিছু গার্ড জাবির কে ধরে জোর করে নিয়ে যায়। জাবির কে নিয়ে যাওয়ার পর আদনান আদ্রিয়ানার হাত ধরে স্টেজের দিকে নিয়ে যায়”।
“কাজী সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করেন”।
“জহির আদনানের কথা মতো কাজী বিয়ে পড়ানো শুরু করেন। বিয়ের সব কিছু শেষ করে কাজী আদনান কে কবুল বলতে বলে। আদনান এক নিঃশ্বাসে ছয় বার কবুল বলে ফেলে”।
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল”।
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল “।
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল” ।
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল “।
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল “।
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল” ।
“আদনানের পরে আদ্রিয়ানা কে কবুল বলতে বলে। আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে এক পলক তাকিয়ে কবুল বলে দেয়”।
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল” ।
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল “।
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল “।
“তিন কবুলের মাধ্যমে আদনান আর আদ্রিয়ানার বিয়ে সম্পন্ন হয়”। আ”দনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে”। আদ্রিয়ানাও আদনানের দিকে তাকিয়ে লরেল মারে”।
“ছোট পর্ব নিয়ে কেউ অভিযোগ করবা না প্লীজ”! আজকে সারাদিন বিজি ছিলাম। তাঁর পর ও সাত হাজারের মতো শব্দ দিয়ে লিখছি আজকের পর্ব টা”
“সময়ের অভাবে রিচেক দেওয়া হয় নিই”
চলবে,,,
( “ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ” )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ গল্পের লিংক
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫