Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব : ৩৯


দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ

পর্ব : ৩৯

jahirul_islam_mahir

🌿
“শুনো বাহাদুর মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরী বাবা হতে চলেছে। এই খুশিতে পুরো চট্টগ্রাম শহরের প্রতিটি ঘরে ঘরে মিষ্টি বিতরণ করো।”

“স্যার আমাদের লোক অলরেডি মিষ্টি বিতরণ কাজে লেগে পড়েছে।”

“বেরি গুড আর হ্যাঁ চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আজিজ আর টিনা কে খুঁজে বের করো।”

“আদনান তাঁর নতুন এসিস্ট্যান্ট বাহাদুর কে কথা টা বলেই ফোন কেটে দেয়। বারান্দা থেকে রুমে এসে দেখে আদ্রিয়ানা বোরখা আর হিজাব পড়ে রেডি হয়ে নিয়েছে।”

“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার রেডি তো?”

“হুম মিস্টার পান্ডা রেডি।”

“আদনান আদ্রিয়ানা দিকে নিজের হাত টা বাড়িয়ে দিয়ে বলে”..
“তাহলে যাওয়া যাক?”

“আদ্রিয়ানা আদনানের হাতের উপর হাত রেখে বলে”..
“চলুন মিস্টার পান্ডা সাহেব।”

🌿
“রেস্তোরাঁ থেকে থামতুয়া আর আদ্রিজার জন্য ব্রেকফাস্ট কিনে নিয়ে এসেছে জাবির। ব্রেকফাস্টের প্যাকেট টা আদ্রিজার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে”..

“এখানে তোমার জন্য আর আংকেলের জন্য ব্রেকফাস্ট নিয়ে এসেছি, খেয়ে নাও। খাওয়া শেষে দুজনেই মেডিসিন খেয়ে নিও কেমন।”

“এই কথা বলে কেবিনে থাকা সোফায় বসে গা এলিয়ে দেয় জাবির। চোখ বন্ধ করে জাবির ভাবতে থাকে, কি করে সেই আদনানের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে। আর কি করেই বা আদনানের কাছে ক্ষমা চাইবে। সেই যে ভুল করছে সেই ভুলের কি ক্ষমা আছে? আদনান কি তাকে ক্ষমা করবে ? না কি এক চুটকিতেই জয় বাংলা করে দিবে। এমন হাজারো কথা তাঁর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।”

“আদ্রিজা প্লেটে খাবার বেড়ে নেয়। এক প্লেট থামতুয়া কে দেয়,আর এক প্লেট নিয়ে জাবিরের দিকে এগিয়ে যায়।”

“মিস্টার জাবির আপনি কি ব্রেকফাস্ট করেছেন?”

“জাবির চোখ বন্ধ রেখেই বলে”..
“হুম আমি করেছি।”

“আদ্রিজা আর কিছু বলে না। জাবিরের পাশে বসে খাওয়া শুরু করে। কাল থেকে কিছু না খাওয়ায় বেশ ক্ষুধা পেয়েছে তাঁর। খাওয়া শেষে নিজে ও মেডিসিন খেয়ে নেয় থামতুয়া কে ও মেডিসিন খাইয়ে দেয়।”

“ফোনের শব্দ পেয়ে চোখ খুলে তাকায় জাবির। পকেট থেকে ফোন টা বের করে হাতে নিয়ে দেখে আদনানের নতুন এসিস্ট্যান্ট বাহাদুর কল করেছে। তাই আর সাত পাঁচ না ভেবেই কল রিসিভ করে জাবির। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসে বাহাদুরের গলা।”

“আসালামুয়ালাইকুম স্যার?”.

“ওয়ালাইকুমুস সালাম। কি অবস্থা বাহাদুর?”

“জ্বী আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
স্যার আপনি বলছিলেন না আজকে আদনান স্যারের সাথে দেখা করতে আসবেন? আজকে আসলে তো স্যার কে পাবেন না।”

“কেনো পাবো না? ভাইয়া কি আজকে কোথাও যাবে ?”

“জ্বী স্যার। আদনান স্যার, ম্যাম কে নিয়ে উনার বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে গেছেন।”

“ইনফরমেশন টা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”

“এই কথা বলে জাবির ফোন কেটে দেয়। আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে বলে”..

“আদ্রিজা চলো তোমাকে আজকেই আদ্রিয়ানার সাথে দেখা করাবো।”

“আদ্রিজা কে এই কথা বলে জাবির থামতুয়ার দিকে তাকিয়ে বলে”..

–“আংকেল আপনারা রেস্টের প্রয়োজন আপনি রেস্ট নেন আমি আদ্রিজা কে আদ্রিয়ানার সাথে দেখা করিয়ে নিয়ে আসছি।”

“আচ্ছা ঠিক আছে বাবা।”

“থামতুয়ার মুখে এমন কথা শুনে জাবির বলে”..

–“আদ্রিজা চলো।”

–“হুম চলুন।”

“জাবির আদ্রিজা কে সাথে নিয়েই বের হয়ে যায়।”

🌿
“চৌধুরী বাড়ির সামনে এসে গাড়ি ব্রেক করে আদনান। গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির অপর পাশে এগিয়ে যায়। দরজা খুলে আদ্রিয়ানার দিকে নিজের হাত টা বাড়িয়ে দেয়। আদ্রিয়ানা আদনানের হাত ধরে গাড়ি থেকে নামে। দুইজন দুইজনের দিকে এক পলক তাকিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।”

“বাড়ির কলিং বেল চাপতে দরজা খুলে দেয় জোবাইদা। আদনান কে দেখে আদনানের বুকে উপর ঝাপিয়ে পড়ে কান্না করে দেয় জোবাইদা। আদনান জোবাইদা কে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিতে থাকে।”

“তুই এমন কেন জাহির? তুই জানিস না তোর জন্য আমার খুব চিন্তা হয়? জানার পরও বারবার এমন করিস কেন? আমাদের সাথে একটু যোগাযোগ করলে কি হয় ?”

“আম্মু রিলেক্স, তুমি তো জানো আমার বাড়ি জঙ্গলের ভেতরে। সব সময় নেটওয়ার্ক সমস্যা দেয় তাই আমাকে ফোনে পাওয়া যায় নিই।”

“জোবাইদা আদনান কে ছেড়ে দিয়ে আদ্রিয়ানার দিকে তাকায়। আদ্রিয়ানা জোবাইদা কে সালাম দেয়। জোবাইদা সালামের উত্তর দিয়ে আদ্রিয়ানা কে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায়। আদ্রিয়ানা পিছু পিছু আদনান ও যায়। বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখে রাহিম পত্রিকা পড়েছেন। আদনান আর আদ্রিয়ানা রাহিম কে সালাম দেয়। রাহিম সালামের উত্তর দিয়ে ওদের দুজনের ভালো মন্দের খোঁজ নেয়।”

“দশ মিনিটের মধ্যেই জোবাইদা চা নাস্তা নিয়ে হাজির হয়। তা দেখে আদনান বলে”…

–“আম্মু বাসায় মিষ্টি নেই ?”

–“আছে তো খাবি না কি?”

“আমি খেয়েই এসেছি এখন তুমি আর আব্বু খাও। কারণ তোমরা দাদা দাদি হতে চলেছো।”

–“কি বলিস সত্যি না কি ?”

–“হুম আম্মু সত্যি! তোমরা সত্যি সত্যি দাদা দাদি হতে চলেছো।”

“জোবাইদা আর রাহিম চৌধুরী এক সাথেই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে। জোবাইদা খুশি হয়ে আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে প্রেগন্যান্সির নানা পরামর্শ দিতে থাকে।”

🌿
“জাবির আর আদ্রিজা এইমাত্র চৌধুরী বাড়ির সামনে এসে পৌঁছেছে। জাবির গাড়ি থেকে নেমে অপর পাশে এগিয়ে যায়। দরজা খুলে আদ্রিজা কে নামতে বলে। আদ্রিজা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। জাবির আদ্রিজা কে নিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। মিনিট পাঁচেক সময় নিয়ে হাল্কা কাঁপা কাঁপা হাতে বাড়ির কলিং বেলে চাপ দেয়। মিনিট দুয়েক পর জোবাইদা এসে দরজা খুলে দেয়। জাবির কে দেখে খুশি হলেও আদ্রিজা কে দেখে বেশ অবাক হয় জোবাইদা। অবাক দৃষ্টিতে আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে থাকে সেই। আদ্রিজা জোবাইদা কে সালাম দেয়। জোবাইদা সালামের উত্তর দেয়।”

–“জাবির মেয়েটা কে? দেখতে তো একদমই আদ্রিয়ানার মতো!”

“আম্মু আমি তোমাকে পরে সব বলছি, আগে বলো আদনান ভাইয়া কোথায়?”

“ভিতরে আছে তোর বাবার সাথে কথা বলছে।”

“জাবির বাড়ির ভিতরে যায়। জাবিরের পিছু পিছু জোবাইদা আর আদ্রিজা ও বাড়ির ভিতরে যায়। জাবির আদনানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। জাবির কে দেখে আদনানের মাথায় রক্ত উঠে যায়। রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। আদনানের এই অবস্থা দেখে জাবির আদনানের পায়ের কাছে বসে পড়ে। আদনানের পা জড়িয়ে ধরে বলে”…

“ভাইয়া আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লীজ। আমি অনেক বড় ভুল করছি। এই ভুলের ক্ষমা আছে কি না জানি না। তাঁর পর ও আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। প্লীজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।”

“জাবিরের এমন কান্ড দেখে উপস্থিত থাকা সবাই বেশ অবাক হয়ে যায়। বিশেষ করে অবাক হয় জোবাইদা আর রাহিম।”

“জাহির জাবির তোর কাছে এই ভাবে ক্ষমা চাচ্ছে কেনো ? তোর সাথে কি করেছে ও ?”

“জোবাইদার কথা শেষ হতেই রাহিম বলে”..
“জাবির তো এইভাবে ক্ষমা চাওয়ার লোক না। ও নিশ্চয়ই অনেক বড় ভুল করছে। জাবির তুই জাহিরের সাথে কি করছিস সত্যি করে বল।”

“জাবির কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদনান বলে উঠে”..

“তেমন কিছু না আব্বু। জাবির কিছু দিন আগে আমার সাথে একটু খারাপ ব্যবহার করছিল তাই এখন ক্ষমা চাচ্ছে।”

“আদনানের মুখে এমন কথা শুনে অবাক দৃষ্টিতে আদনানের দিকে তাকায় জাবির। জাবির কে তাকাতে দেখে আদনান হাতের ইশারায় জাবির কে উঠে দাঁড়াতে বলে। জাবির উঠে দাঁড়ালে আদনান জাবিরের পিঠে একটা থাপ্পড় মেরে জাবির কে জড়িয়ে ধরে। জাবির ও ভাই কে জড়িয়ে ধরে।”

“ভাইয়া আই অ্যাম রিয়েলি সরি। আমি খুব বড় ভুল করছি…

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না জাবির তাঁর আগেই আদনান বলে উঠে”..

“আমি ওইসব কথা মনে রাখি নিই। আমি তোকে অনেক আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি। তুই নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিস এটাই অনেক।”

“দুই ভাইয়ের এমন মিল দেখে রাহিম আর জোবাইদা ও তাদের দুই ছেলের দিকে এগিয়ে যায়। রাহিম আর জোবাইদা ও জাহির আর জাবির কে জড়িয়ে ধরে। রাহিম আর জোবাইদার চোখে আনন্দের অশ্রু।
অনেক দিন পর তাদের পরিবারের মিলনে আনন্দের জোয়ারে, সবাই খুশিতে ভাসছে!”

“অপরদিকে আদ্রিয়ানা আর আদ্রিজা একে অপরের সামনাসামনি দাঁড়িয়ে আছে। পলকহীন দৃষ্টিতে আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানা। ঠিক একই ভাবে আদ্রিজা ও আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে আছে। দুইজনের মাথায় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।”

“কে তুমি ? তুমি তো দেখতে একদমই আমার মতো।”

“আমার ও তো একই কথা। আমি কে? আমি দেখতে তোমার মতো কেনো আর তুমিই বা দেখতে আমার মতো কেনো?”

–“কারণ তোমরা দুজনে বোন।”

“জাবিরের মুখে এমন কথা শুনে জাবিরের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকায় আদ্রিয়ানা আর আদ্রিজা। দুজনেই জাবিরের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে”
— “বোন মানে?”

” জাবির হাসে আর বলে, “হ্যাঁ, তোমরা টুইন বোন! একই সময়ে জন্ম, একই রকম দেখতে। তাছাড়া তোমার মায়ের যে হসপিটালে ডেলিভারি হয়েছিল আমি সেই হসপিটাল থেকেই এটা জানতে পেরেছি।”

“আদ্রিয়ানা আর আদ্রিজা দুজনে দুজনের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকায়।”

“জন্মের পর তোমাদের কে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। আদ্রিয়ানা বাবা মায়ের কাছে ছিল আর আদ্রিজা থামতুয়া আর তাঁর স্ত্রীর কাছে ছিলো।”

“এতটুকু বলেই থেমে যায় জাবির। মিনিট দুয়েক সময় নিয়ে থামতুয়ার কাছ থেকে পাওয়া সব ইনফরমেশন সবাই কে বলতে শুরু করে। থামতুয়ার স্ত্রী যে আদ্রিজা কে হসপিটাল থেকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল সেখান থেকে শুরু করে সব কিছু বলে সেই। সব শুনে বেশ অবাক হয় সবাই। আদ্রিয়ানা আর আদ্রিজার চোখে জল। দুইবোন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে।”

চলবে

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply