দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৫
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
৪৫
রাত ১১ঃ৩৪। আরাফ খান সবাই নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। হেনা খান, মায়া, জুঁই, ফিহা, রেহেনা বেগমের স্বামী সাথে থাকতে চেয়েছিলেন কিন্তু আরিফ থাকতে দেয়নি। সে বললো! সে থাকবে শফিকুল ইসলামের সাথে রাতে হসপিটালের। যেহেতু আগের রাতটা তাদের দৌড়াদৌড়ি অঘুমেই কাটিয়েছে তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে খান বাড়িতে যেতে হচ্ছে রেহেনা বেগমকে। ফিহা বেশ কয়েক বার হাসফাস করে মতিয়ে ছিল হসপিটালের আরিফের পাশে থাকবে বলে কিন্তু আরিফ রাজি হয়নি। বিষয়টি বাজে দেখাবে বলে নিষেধ করে দিয়েছে। আর এই বিষয়টিও মায়ার চোখে পড়েছিল অতি সন্তপর্ণেই। কারণ যবে থেকে মায়ার চোখে পড়েছিল ফিহা ও আরিফের প্রেম নিবেদনের ঘটনাটি। তবে থেকেই মায়া ফিহার আশেপাশে থাকছে আর বেশ জহুরী চোখে ফিহাক পরখ করছে। আপাতত মায়ার ছোট মাথায় অনেক চিন্তা ভাবটা এঁটে আছে ফিহার হঠাৎ চুমু খাওয়া বিষয় নিয়ে। যেগুলো কারও সাথে প্রকাশ করতে না পারলেই নয় মায়ার। আয়ন ওটিতে থাকায় তাকে কেউ বলে যেতে পারলো না। অজ্ঞাত আরাফ খান সবাইকে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো। মায়া হেনা খানের শাড়ির আঁচল ধরে উনার পিছু পিছু যেতে যেতেও বেশ কয়েক বার চোখ আওড়িয়ে ফিহার দিকে তাকালো। গাড়িতে গিয়েও এক প্রকার জোর করে বসলো জুই ফিহার মধ্যস্হে। অন্য গাড়িতে হেনা খান, রেহেনা বেগম, আরাফ খানকে নিয়ে বসলো। আর মায়াদের গাড়িতে আসিফ সামনে বসলো ডাইভারের সাথে। একটা সময় গাড়ির চললো কিন্তু মায়ার জহুরি দৃষ্টি সরলো না ফিহার উপর থেকে। ফিহা ফুরফুরে মেজাজে ধ্যান মেরে ফোনে চ্যাটিং করছে আরিফের সঙ্গে। মুখে মিটমিট হাসি বিদ্যমান। মায়া সেটাও দেখলো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। পরে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো জুঁইয়ের ক্লান্তি মাখা ফেঁসে দিকে। দু-চোখ বন্ধ করে গাড়ির দরজা সাথে মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে জুঁই। মায়া নড়েচড়ে বসে জুইয়ের পেটে কুইনের গুঁতো মেরে জুইকে জাগ্রত করলো। মায়ার হঠাৎ কান্ডে জুই বিরক্তি ভঙ্গিতে চোখ মুখ কুঁচকে মায়ার দিকে তাকালো। চিন্তিত মায়া জুইয়ের দিকে আরও খানিকটা চেপে বসে ফিসফিস গলায় জুইকে প্রশ্ন করে বললো..
—” জুন্নু তুই কখনো চুমু খেয়েছিস কাউকে?
মায়ার হঠাৎ প্রশ্নে জুই প্রথমে থমথমে খেয়ে গেলোও পর মূহুর্তে কপাল কুঁচকে তাকায় মায়ার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে।
—” কেন?
জুইয়ের পাল্টা প্রশ্নে খানিকটা বিরক্তি বোধ করলো মায়া। মৃদু গলায় বললো…
—” উফ! প্রশ্ন করছিস কেন বলনা খেয়েছিস কিনা?
মায়ার হঠাৎ খাপছাড়া প্রশ্নের মানেটা বুঝলো না জুই। তাই স্বাভাবিক কন্ঠে একটা ভ্রুঁ উচু করে পুনরায় বলে উঠে জুঁই…
—” খেয়েছি তো! কিন্তু কেন বলতো?
জুইয়ের কথা চোখ মুখ উজ্জ্বল হলো মায়ার। আরও খানিকটা চেপে বসতে চাইলো জুঁইয়ের গা ঘেঁষে মায়া। খানিকটা উঁচু স্বরে বললো…
—” আমি এখনো একটা চুমুও খায়নি। তাহলে তুই কিভাবে খেলি?
—” চুমুও কি ভাগাভাগি করে খাওয়ার জিনিস নাকি আজব। আবেগের বশে মানুষ খায়। ইমোশন বুঝিস? এই যেমন ধর! তুই চুমু না খাওয়ার দুঃখে এখন আবেগি হয়ে দুঃখ প্রকাশ করছিস। আর তোর দুঃখ দেখে আমি বড্ড ইমোশন হচ্ছি! আমার বড্ড মায়া মায়া ভাব হচ্ছে তোর জন্য৷ তার মানে আমি এখন ইমোশন। তাই আয়! আমি তোকে একটা চুমু খায়।
কথা গুলো বলতে বলতেই জুই মায়ার গাল চেপে ধরে ঠুস করে একটা চুমু খেয়ে নিল। এতে করে নাক মুখ ছিটকালো মায়ার। নিজের গাল ঘষে জুইয়ের দেওয়া চুমু মুছতে মুছতে দ্রুত চেপে বসলো ফিহা দিকে।
—” ছিঃ ছিঃ সর সর মাইয়া! তোর চুমুতে ফিল নাই। বেপান্সা চুমু! ইয়াক!
মায়ার কথা এবার তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো জুঁই। হিতাহিত জ্ঞান অজ্ঞ হয়ে খানিকটা জোরেই চেচিয়ে উঠলো গাড়িতে মায়ার উপর…
—” ছিই কুত্তী! এই তোর মনে? আমি কি তোর জামাই লাগি যে ফিল দিয়া চুমু খাব তোকে। আমি তো বোন টাইপে চুমু খাইছি তোকে। আর তুই কিনা জামাই টাইপ ফিল নিচ্ছিস আমার থেকে। তোর সিস্টেমে গোলমাল আছে মনে হয়। ভাইয়াকে বললো ডাক্তার দেখাতে তোকে। ছিঃ ছিঃ কি সর্বনাশ কান্ড।
জুইয়ের কথায় নাক মুখ ছিটকে আরও দূরে সরলো মায়া। ঝুঁকের বসে খানিকটা জোরেই চেঁচাল মায়া। গা গুলিয়ে বললো…
—” ইয়াক! সর! দূরে যাহ! মুখের ভাষা কি বিচ্ছিরী! ছিই! আমার জামাই তোর মতো অসভ্য না। সে সভ্য জাতি মধ্যে পড়ে। স্বামী আমার বউকে ভুলেও চুমু খায়।
কপাল কুঁচকে জুই বলে…
—” তারমানে তুই বলতে চাচ্ছিস জিজুর মধ্যে তাহলে সমস্যা আছে?
বিরক্তি নিয়ে জুইয়ের কথায় সম্মতি জানালো মায়া। তেতু কন্ঠে বললো…
—” হ্যাঁ সমস্যা আছে আমার জামাইর মধ্যে। হইছে এবার! খুশি তুই? যাহ দূরে সর। ফিহা আপু তুমি বলো! তুমি কি কাউকে চুমু খেয়েছো কখনো? এই ধরো একটু আগে বা পরে। না মানে আজকে রাতে বা দিনে খেয়েছ চুমু কাউকে?
জুই ও মায়ার উচ্চ স্বরে কথায় উপস্থিত আসিফ ও ফিহা থমথমে খেয়ে যায় মূহুর্তেই। কারণ দুজনের সম্পূর্ণ কথা গুলোই তাদের কানে এসেছে। বিষন্নয়ের বিস্মিত আসিফ হা হয়ে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো মায়ার দিকে। তার ঠিক পর মূহুর্তেই হতবাক দৃষ্টিতে চোখ আওড়ালো নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরা মুঠোফোনের দিকে। আসিফ কারও সাথে ফোনে কানেক্টেড ছিল তখনো। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসছিল কারও গম্ভীর নিশ্বাসের শব্দ যেটা বেশ স্পষ্ট শুনা যাচ্ছিল। হতবাক আসিফ নড়েচড়ে বসলো। বেশ কয়েক ঘাড় ঘুরিয়ে মায়ার দিকেও তাকালো। কিন্তু মায়া বেশ বিন্যাস ভঙ্গিতে বসে আছে। দিন দুনিয়ায় খেয়াল আপাতত তার নেই। বরং প্রখর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো ফিহার দিকে নিজের কথা প্রশ্নের উত্তর পেতে। কিন্তু ফিহা লজ্জায় আষ্টশ হয়ে বসে রইলো মায়া এমন প্রশ্নে। বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ায় ফিহা মুখে কিছু বলতে পারলো না মায়াকে। শুধু আড়চোখে একবার সামনে তাকালো। আসিফের বিস্মিত দৃষ্টি দেখে ফিহা আরও বেশি লজ্জা পেল। নিজের সংকোচতা নিয়ে জালানা দিক মুখ করে বাহিরে তাকালো৷ এবং বুঝতে পারলো মায়া হয়তো তখন আরিফের সাথে তার ঘটে যাওয়ার বিষয়টি কোনো ভাবে দেখে নিয়েছে, যার জন্যই এখন এমন অদ্ভুত সব প্রশ্ন করছে ফিহাকে। সেই সাথে ফিহার এটাও মনে হতে থাকলো যে মায়া তার সাথে হসপিটালে ও অদ্ভুত সব আচরণ করে তাকাচ্ছিল বারবার…
~~
রাত ১২ঃ১০। সারিবদ্ধ ভাবে গাড়ির খান বাড়ির পাকিং এরিয়াতে থামলো। একে একে সবাই গাড়ি থেকে নেমে ক্লান্তিতে যেতে লাগলো বাড়ির ভিতরে। খান বাড়ির চারপাশে কড়া লাইটিং আলোয় আলোকিত চারপাশ। অনেকটা দিনের মতোই সজীব দেখাচ্ছে চারপাশটা। সেই সাথে জায়গায় জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে দেহরক্ষী বাহিনী গুলো। একে একে সবাই বাড়ির ভিতরে এগিয়ে গেলো মায়াও তাদের পিছনে পিছনে যাচ্ছিল কিন্তু পথিমধ্যে হঠাৎই থেমে গেলো দূর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা রিদের অনিঃশেষ ছায়ামূর্তিটা দেখে। মায়ার অন্ধকার চোখ মুখ মূহুর্তেই উজ্জ্বল হলো রিদকে বাগানের খোলা বাংলোতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। সবাইকে ঠেঙ্গিয়ে অপেক্ষা করে মায়া মূহুর্তেই দৌড় লাগালো রিদের উদ্দেশ্য। আজ অনেকটা দিন পর সামনে থেকে রিদের সানিধ্য পেতে যাচ্ছে মায়া। তাই নিজের ব্যাকুল মন নিয়ে ছটফট করতে করতে গিয়ে হাজির হলো মায়া রিদের সামনে। দৌড়ানো ফলে মায়া বড্ড ক্লান্ত হয়ে বড় বড় নিশ্বাস ফেললো হাঁটুতে দু’হাতে ভর দিয়ে। পূণ দৃষ্টি তুলে রিদের দিকে তাকিয়ে সোজা হয়ে দাড়ালো সে। রিদ তখনো অনিচ্চেত ভাবে সামনের দিকে ঘুরেই তাকিয়ে আছে একমনে। মায়াকে একটা বার চোখ তুলে ঘুরে তাকানোর প্রয়োজন বোধ পযন্ত মনে করছে না সে। মায়ার উপস্থিতটা বুঝে না বুঝা ভাব রিদের। গম্ভীর মুখ স্টংলি দাঁড়িয়ে আছে সামনের দিকে তাকিয়ে। একহাতে কফি মগ অন্যহাত পকেটে গজানো। গায়ে ব্রাউন কালারের শার্ট জড়ানো কালো অফিস প্যান্টের সাথে। গলায় টাই নেই। শার্টের উপরে দুটো বোতাম খোলা। সেই সাথে শার্টের হাতা দুটো টেনে গুটানো কুইন অবধি। গায়ের কালো কোটটা পাশে সাদা সোফার উপর রাখা। গম্ভীর রিদকে দেখে মায়া খানিকটা নড়েচড়ে উঠে দাঁড়ালো। অল্প হাসফাসও করলো। কিভাবে রিদের সাথে প্রথমে কথা শুরু করবে সেটাও ভাবলো। তাই মায়া আগে নিজের উপস্থিতটা রিদকে বুঝানো জন্য ছোট মাথায় চট করে বুদ্ধি খাটালো। কোনো কিছু চিন্তা ভাবনা না করেই রিদকে সালাম দিয়ে বসলো…
—” আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া!
সালাম দিতে দিতে তৎক্ষনাৎ ছোট করে নিজের জিভ কাটালো মায়া। বুঝতে পারলো নিজের উত্তেজনায় উদ্বিগ্ন হয়ে সে নিজের স্বামীকে বোকামি করে ভাইয়া ডেকে ফেলেছে। কিন্তু এতেও কিছু করার নেই মায়ার। একবার ভুল করে ডেকে ফেলেছে তাই পুনরায় নিজের শব্দটা তো আর ফিরত নেওয়া যাবে না। তাই না? ভুল তো ভুলই হয়। মায়াও নাহয় ভুল করলো। তাই মায়া অনুশোচনায় নিজের জিভ কেটে পুনরায় তাকায় রিদের দিকে। রিদ তখনো আগের ন্যায় গম্ভীর মুখে সামনের দিকে ঘুরে তাকিয়ে আছে। মায়ার সালাম রিদ শুনলো কি শুনলো না। তাও বুঝলো না মায়ার। মায়াও বেশ সন্দেহ পোষণ করলো। ধরে নিল রিদ হয়তো মায়ার সালাম দেওয়াটায় শুনতে পাইনি। তাই মায়ার আরও একধাপ আগিয়ে নিজের জোড়ালো বুদ্ধিটা খাটালো। রিদ যেহেতু মায়ার সালাম দেওয়াটা শুনতে পাইনি! তাই মায়া গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো রিদের সামনে। রিদের মুখামুখি হয়ে দাড়িয়ে! রিদকে দেখিয়ে, শুনিয়ে, রিদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলো। একবার! দুইবার! তিনবার উঠে বসে রিদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলো। কিন্তু তারপরও রিদের বিন্দুমাত্র মনোযোগ আর্কষণ করতে পারলো না মায়া। রিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মায়াকে দেখেও যেন দেখলো না রিদ। বরং একমনে বাগানের দিকে দৃষ্টি স্থির করে কফির মগে চুমুক বসাচ্ছে বারবার। হতাশ মায়া ভিষণ বিষন্নতা ভুগলো রিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পেরে। মায়া এক মূহুর্তে জন্য ভাবলো যে, সেকি এতোই ছোট যে তার স্বামীর চোখে পযন্ত পড়ছে না? আহা! মায়ার ভিষণ কষ্ট হলো। রিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মায়া, রিদের সামনে থেকে ঘুরে ডানপাশে গিয়ে গা ঘেঁষে দাঁড়ালো। মৃদু স্বরে রিদকে উদ্দেশ্য করে বলে..
—” আমি এসেছি তো।
রিদ শুনতে পাইনি ভেবে মায়া নিজের মাথায় খানিকটা উঁচু করে রিদের দিকে তাকালো। চেপে চেপে রিদের হাতের সাথে নিজের বাহু হালকা স্পর্শ করে কিছুটা উঁচু স্বরেই আওড়ালো…
—” দেখুন না! আমি এসেছি তো।
রিদ মায়ার দিকে না তাকিয়ে উল্টো ঘুরে নিজের হাতের কফির মগটা সোফার টেবিলের উপর রেখে, নিঃশব্দে জায়গায় ছেড়ে চলে যেতে থাকে বাড়ির ভিতরের দিকে। রিদের হঠাৎ কান্ডে মায়ার ছোট মন ভিষন কষ্ট পেল। নিজের হতাশতায় সঙ্গে সঙ্গে ছুটলো রিদের পিছন পিছন। রিদ গম্ভীর মুখে সামনে হাঁটছে আর মায়া রিদকে দেখে দেখে হাঁটছে। পরস্পর পাশাপাশি থেকেও যেন দূরত্ব রইলো কিলোমিটার পযন্ত। কারণ তখনো মায়ার ছোট মাথায় ঢুকলো না রিদের করা গাঢ় অভিমানের কারণটা। ধরতে পারলো না যে রিদ কেন এতো রাত অবধি বাহিরে দাঁড়িয়ে ছিল তাও অফিসের গ্যাটাপে। সে নিজের কক্ষে কেন গেলো না? রাত তো কম হয়নি তাহলে? মায়া কিছুই বুঝলো না। বুঝলো না মায়ার জন্য রিদের নিশ্চুপ অপেক্ষাটাও।
মায়া রিদের পিছন ঘুরঘুর করতে করতে এসে দাঁড়ালো, রিদের দরজার সামনে। রিদ নিজের দরজা সামনে পকেটে দুহাত গজিয়ে স্টং হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো লির্পিপ্ত ভঙ্গিতে। না আশেপাশে তাকাচ্ছে! আর না নিজের ফোন টিপছে। রিদ টিনএজারদের মতো করে না ফোন চালাই! আর না কোনো প্রকার সোশ্যাল সাইটে থাকে। পছন্দ না রিদের এসব কিছুই। নিজের পারসোনাল টুকটাক কাজের জন্য একটা ফোন রাখে সাথে। আর প্রফেশনাল কাজের জন্য আসিফের কাছে সবসময়ই এক্সটা ফোন থাকে। জরুরি ভিত্তিতে রিদকে দেওয়া হয় ফোন সাইডে কথা বলার জন্য। নয়তো রিদ টোটালি ফোন ইউস করে না। রিদকে একমনে দরজা সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মূহুর্তেই কপাল কুঁচকায় মায়া। এবার রিদ কেন দরজা সামনে এইভাবে দাঁড়িয়ে আছে সেটাও বুঝলো না মায়া। তাই মায়া কপাল কুঁচকে রিদের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকা পর বুঝতে পারলো আসলে বিষয়টি কি হয়েছে। মায়া সম্পূর্ণ বিষয়টি বুঝতে পারলো রিদের দরজার লক বুথের দিকে তাকিয়ে। আর তক্ষুনি মায়া চমকালো, ভড়কালো হকচকিয়ে গেলো যখন ট্যাপে দেখতে পেল রেড সিগনাল দেওয়া। মায়ার তৎক্ষনাৎ স্বর্ণাভে আসলো সেতো, দিনে সাড়ে বারোটা দিকে রিদের রুমের দরজায় উল্টাপাল্টা লক লাগিয়ে বারো ঘন্টা সেট করেছিল! যেটা এখানো শেষ হয়নি। রেড সিগনাল হিসাবে আরও দশ মিনিট বাকি আছে ট্যাপের মধ্যে। ভয়ার্ত মায়া বার কয়েক শুকনো ঢুক গিলে রিদের দিকে ভয় ভয় নজরে তাকালো। নিজের করা কৃতকান্ডের জন্য রিদের কাছে ধরা পড়ে যাবে বিষয়টি ভাবতেই মায়া ভয়ে আষ্টশ হলো মূহুর্তেই। কিন্তু আবার পর মূহুর্তে এই ভেবে সাহস পেল যে, মায়াকে লক লাগাতে তো রিদ দেখেনি। তারমানে মায়া নিরাপদ। রিদ তো আর জানে না আসলে লকটা কে লাগিয়েছে। আর যদিও রিদ মায়াকে প্রশ্ন করে তাহলে মায়া সাফসাফ মিথ্যা বলবে ” সে কিছুই জানে না। কে লক লাগিয়েছে? মায়া তা দেখেনি। ব্যস! এটা বলেই বেঁচে যাবে মায়া রিদ হাত থেকে। কিন্তু রিদ যেন মায়ার মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি বুঝলো। তাই সে মায়ার একদলা চিন্তা ভাবনার সাথে যেন মায়াকে ছেড়ে দিলো। রিদ মায়াকে কোনো রকম প্রশ্ন করলো না। আর না ঘুরে মায়াকে দেখার চেষ্টা করলো! দশ মিনিট সময় নিয়ে রিদ ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলো। কিন্তু ততক্ষণে যেন মায়ার পা ব্যথা শুরু হয়ে গেলো। মায়া নিজের রুমে না গিয়ে রিদের চারপাশে ঘুরতে লাগলো। একবার ডানপাশে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তো! একবার বামপাশে যাচ্ছে। আবার ঘাড় বাঁকিয়ে উঁচু করে একবার রিদকে দেখছে, তো অন্যবার ট্যাপে তাকাচ্ছে আর কতটা সময় আছে সেটা দেখার জন্য। রিদের দৃষ্টি আকর্ষণও করতে চাইছে মায়া। তাই একবার রিদের সামনে যাচ্ছে তো একবার পাশে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু তাতেও রিদের কোনো পরিবর্তন হলো না। সে অনড়ভাবে ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো। মায়াকেও দেখলো না। রিদ চাইলে ট্যাপে নিজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে অনেক আগেই নিজের রুমে ঢুকে যেতে পারতো। কিন্তু সে তা করলো না। বরং সময় নিয়ে দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলো। এবং ট্যাপের নিদিষ্ট সময় শেষ হতেই রিদ রয়েসয়ে ধীরস্থির ভাবে আস্তে আস্তে করে ট্যাপের মধ্যে পাসওয়ার্ড টাইপ করতে লাগলো মায়াকে দেখিয়ে দেখিয়ে। কোনো রকম তাড়াহুড়ো করলো না। বরং মাত্রাতিক ধীরস্হে ট্যাপে পাসওয়ার্ড দিলো রিদ। হয়তো মায়াকে রিদের রুমের পাসওয়ার্ড শিখাতে চাচ্ছে তাই। মায়াও যেন এটার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল এতক্ষণ যাবত। তাই হা হয়ে মনোযোগ সহকারে রিদের দেওয়ার সম্পূর্ণ পাসওয়ার্ডটি ঢোক গিললো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। মনে মনে বেশ কয়েকবার রপ্ত করলো রিদের দেওয়া পাসওয়ার্ডটি। রিদ রুমের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গিলেও মায়া বাহিরে দাঁড়িয়ে রইলো ভয়ে। রিদের রুমের ভিতরে ঢুকবে কি ঢুকবে না ভয় কাজ করলো মনে মধ্যে। যদি রিদ ধমক দেয় মায়াকে তো? ভাবুক মায়ার চিন্তিত বিষয়টি যেন রিদ বুঝতে পারলো। তাই নিজের রুমে যাওয়ার দশ সেকেন্ড পরপরই শব্দ করে মায়ার মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিল রিদ। এতে করে মায়া ঘোর অপমান বোধ করলো। রিদের কাছে অপমানিত হওয়ার কষ্টে কান্না করেও বসলো। সেই কান্নায় টইটম্বুর হয়ে নিজের রুমে গেলো। বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে কান্না করতে করতে শপথ করলো, আজকে পর থেকে মায়া আর রিদের সামনে যাবে না। যাবে না মানে যাবেই না। রিদকে মায়ার মুখও দেখাবে আর। তার এমন পাষাণ্ড স্বামী চাই না। যে স্বামী তার বউকে দুমাস পর দেখেও কথা বলে না। সে স্বামীর সাথে তার কিসের ভাব মায়ার? কোনো ভাব টাব হবে না মায়া। একদম হাত মুখ ধুয়েমুছে পুনরায় সিঙ্গেল সেজে যাবে মায়া। কোনো রকম রিদের দিকে তাকাবে না। একদমই না। এবার থেকে মায়াও মুড নিয়ে চলবে রিদের সাথে। দরকার হলে মায়ার মাথায় একহাত লম্বা ঘোমটা দিয়ে চলবে তারপরও এমন পাষাণ্ড স্বামীকে সে তার মুখ দেখাবে না। কিছুতেই না। মন খারাপের ভাব নিয়ে মায়া আর গেলো না নিচে রাতের খাবার খেতে। রিদের সাথেও আর দেখা হলো না মায়ার। হেনা খানের বারবার ডাকার পরও এক প্রকার জেদ ধরেই রুমে শুইয়ে রইলো মায়া।
একটা সময় সে ঘুমিয়ে গেলো কান্না করতে করতে। কিন্তু পেটে ক্ষুধায় বেশিক্ষণ ঘুমাতেও পারলো না। ছটফট করতে করতে পুনরায় ঘুম ভেঙে গেলো। তখন বাজে রাত ২ঃ১৫। বিছানার একপাশে রেহেনা বেগমকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখলো মায়ার। জুই যে ফিহা সাথে ঘুমিয়েছে সেই বিষয়টিও বুঝতে পারলো মায়া। কিন্তু মায়ার ক্ষুধায় পেট চেপে ধরে উঠে দাঁড়ালো। কারণ ততক্ষণে মায়ার ঘুমের রেশ সম্পূর্ণ কেটে গেছে। ড্রিমলাইটের আবছা আলোয় আলোকিত চারপাশ। মায়া কিচেনে গিয়ে ফ্রিজ থেকে টুকটাক খাবার খুললো। গরম না করে ঠান্ডা খাবার খেতে গিয়ে ভাবলো সেতো রাতে রাগ করেছিল রিদের উপর। তাহলে মায়া খাবার কিভাবে খাবে? মায়া খাবার খেলে কি আর রাগ থাকবে রিদের উপর? ভেঙ্গে যাবে না! না মায়া খাবার খাবে না। সে রিদের উপর রাগ করে থাকবে। মায়া যখন খাবার না খেতে খেতে শুকনো কাটি হয়ে যাবে তখনও সে রিদের সাথে রাগ করেই থাকবে। একদমই পাত্তা দিবে না রিদকে। অজ্ঞাত মায়া কিচেনই খাবার গুলো ছড়িয়ে রেখে উঠে গেলো। ফ্রিজেও তুলে রাখলো না। প্রচন্ড পেটের ক্ষুধায় সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো রিদের দরজা দিকে। সাথে সাথেই দাঁড়িয়ে গেলো মায়া। তৎক্ষনাৎ কিছু একটা ভেবে রিদের দরজা সামনে গিয়ে দাঁড়ালো মায়া। এখন গভীর রাত। নিশ্চয়ই রিদ এখন গভীর ঘুমে মগ্ন। তাই মায়া যদি এই সুযোগে রিদের রুমে উঁকিও মারে নিশ্চয়ই রিদ সেটা বুঝতে পারবে না। তাছাড়া মায়া যে রিদের সাথে রাগ করে আছে সেটা কি আর রিদ জানে নাকি? জানে না তো! তাই মায়া নিজের রাগটা নাহয় সকাল থেকেই রিদের উপর দেখাবে! এখন থাক! তাছাড়া রাতে স্বামীর সাথে রাগ করা বারণ। যেই ভাবা সেই কাজ! ফটফট করে ট্যাপে পাসওয়ার্ড দিয়ে রিদের রুমে ঢুকলো মায়া। বেশ অন্ধকারময় রুমে দেখতে পেল রিদ বেডের ডানপাশে একদম কিনারায় এসে কাত হয়ে শুয়ে আছে। বিশাল বড় বেড সম্পূর্ণ খালি পড়ে আছে। রিদ একটা হাত মাথার নিচের দিয়ে বালিশে শুয়ে আছে। গায়ের ব্ল্যাঙ্কেটটা পায়ের নিচে অবহেলিত ভাবে পড়া। মায়া রিদকে এক পলক দেখে নিয়ে আস্তে করে রুমের দরজা লাগিয়ে দিল। পিছন ঘুরে আবছা আলোয় রিদের রুমটি দেখার চেষ্টা করলো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। মায়া রিদের রুমে আগে আরও একবার এসেছিল, তাদের বিয়ের দিন রাতে। কিন্তু মায়া তখন রিদের রুমটি দেখতে পারিনি অন্ধকার হওয়ায়। এখনো ঠিকঠাক দেখতে পারছে না। শুধু বুঝতে পারছে রুমটি বিশাল বড়। মায়ার রুমের তিন গুণ হবে রিদের রুমটি। মায়া গুটি পায়ে এগিয়ে আসলো রুমের ভিতর। ঘাড় ঘুরিয়ে রিদের রুমের চারপাশটায় চোখ বুলালো। আবছা আলোয় দূরে সবকিছু তেমন একটা স্পষ্ট মায়ার চোখে না পড়লেও, রিদের মুখোমুখি সামনে থাকা তিন পার্টের ফ্রিজটা ঠিকই চোখে পড়লো। তৎক্ষনাৎ চোখ মুখ উজ্জ্বল হলো মায়ার। এক মূহুর্তের জন্য রিদকে ভুলে গিয়ে পেটের ক্ষুধায় ফ্রিজ টেনে খুললো। একটা, দুইটা, তিনটা দরজায় টেনে খুললো মায়া ফ্রিজের। কিন্তু ফ্রিজের ঝলমলে আলোয় যখন দেখতে পেল ভিতরের শুধু ব্যান্ডের হুইকি, বিয়ার, ঠান্ডার ক্যান, আইস-বরফ, ফ্রেশ পানির ছাড়া অন্য কিছু নেই খাওয়া জন্য। এতে করে যেন নাক ছিটকালো মায়া। হতাশ হয়ে ফ্রিজের সামনেই বসে পড়লো। কি করবে ভেবে পেলো না মায়া। কষ্টে মায়ার পেটের জ্বালায় কান্নাও চলে আসলো ততক্ষণে। স্বামীর সাথে রাগ করে খায়নি মায়া, অথচ তার স্বামীর ফ্রিজেই তার জন্য কোনো খাবারই তুলে রাখলো না। কিরকম ছায়পাস টাঁসা ফ্রিজে। মায়ার স্বামীর কোনো রকম মানবতার নেই। পাষাণ্ড স্বামী তার। মায়া কাদুকাদু হয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় রিদের ঘুমন্ত মুখের দিকে। রিদ মায়ার দিকেই কাত হয়ে শুয়ে আছে। ফ্রিজের ঝলমলে আলোয় রিদের মুখশ্রী স্পষ্ট আলোকিত হয়ে আছে। মায়া ভাবলো রিদ বেঘোর ঘুমাচ্ছে। কিন্তু রিদ আদৌ ঘুমাচ্ছে কিনা আল্লাহ জানে? অতি সামান্য সূক্ষ্ম শব্দেও যে রিদের ঘুম হয়না। সেখানে মায়া বিরতিহীন ভাবে তার রুমে হাঁটাচলা করছে, হাতের চুড়ির ও পায়ের নুপুরেরও ঝনঝন তীব্র শব্দ করছে। সেই সাথে এখন আবার মায়া ফ্রিজ খুলে কাঁচের বোতলেরও ঢং ঢং শব্দ করছে। একটার সাথে অন্যটা ভারি খাইয়ে। তারপরও রিদের ঘুম ভাঙ্গছে না? নিবিড় ভাবে ঘুমিয়ে আছে? সত্যি কি তাই? মায়া রিদের রুমে এতিমধ্যে বোতলের শব্দে তুফান তুলে ফেলেছে তারপরও রিদ নড়ছে না পযন্ত। এতে যেন মায়ার সাহস আরও বাড়লো। রিদকে ঘুমে ভেবে ফ্রিজের সামনেই পা ভাজ করে ফ্লোরে বসে বিয়ারে বোতল হাতে নিল খাওয়ার জন্য। পেটের ক্ষুধায় টকটক করে পুরো বিয়ারের বোতল সাভার করে শব্দ করে ঢেকুর তুললো নেশায়। তৎক্ষনাৎ মাথা ঝিমঝিম করে ঢলতে ঢলতে এবার দু-পা ছড়িয়ে বসলো ফ্লোরে উপর মায়া। বেতাল মায়া আরও একটা বিয়ারের বোতল নিয়ে মাতাল হয়ে টকটক করে পুরো অর্ধেকটা খেলো। আর খেতে পারছে না ভেবে সেই ভাবেই উঠে দাঁড়ালো নিজের রুমে যাওয়ার জন্য। কিন্তু দোলতে দোলতে পড়ে যেতে নিলেই ফ্রিজের দরজা ধরে নিজের ব্যালেন্স ঠিক করে, ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো রিদের দিকে মাতাল নিভু নিভু চোখে। সাথে সাথে মায়ার চোখাচোখি হলো রিদের গভীর চোখে সাথে। ফ্রিজের ঝলমলে আলোয় স্পষ্ট হলো রিদের জাগ্রত হওয়া গভীর চোখ দুটো সাথে। যাহ মায়ার দিকে তাক করা। মায়া নেশার ঘোরে রিদের জেগে থাকা বিষয়টি বুঝতে না পেরে তাই নিজের দু-চোখ টেনে খুলে ভালো করে তাকাতে চাইলো রিদের দিকে। কিন্তু দূর থেকে রিদের জেগে থাকা বিষয়টি মায়া স্পষ্ট বুঝতে পারছে না বলে, ফ্রিজ খোলা রেখেই মায়া দোলতে দোলতে এগিয়ে যেতে চাইলো রিদের দিকে। কিন্তু নেশার তাড়নায় মায়া নিজের পায়ের সাথে পা ভেজে উল্টে পড়লো রিদের সামনে ফ্লোরে কারপেটের উপর। যার ফলে সাথে সাথেই মায়ার হাত খোপা করা চুল গুলো সব এলোমেলো ভাবে তার মুখে, পিঠে ও ফ্লোরে উপর ছড়িয়ে পড়লো। বিরক্তিতে মায়া নাক মুখ গুঁজে উঠে বসলো। ঠোঁট উল্টিয়ে মুখে উপর পড়া চুল গুলো সব টেলে কাঁধে পিছনে দিল। রিদের দিকে তাকিয়ে দেখলো রিদ তখনো চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছে। মায়া পুনরায় উঠে দাঁড়াতে চাইলো। কিন্তু পুরোপুরি মাতাল হওয়ায় মায়া উঠে দাঁড়াতে না পেরে নিজের হাঁটুতে ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে পৌঁছালো রিদ অবধি। রিদ তখনই আগের ন্যায় শুয়ে ছিল চোখ বন্ধ করে।
রিদ বিছানার একদম কিনারায় শুয়ার কারণের রিদের সামনে অর্ধহাত জায়গায় বাকি ছিল মাত্র খালি জায়গায় হিসাবে। মায়া তাতেই নিজের জায়গায় করে নিল। মাতাল অবস্থায় কোনো রকম উঠে বসলো রিদের পেট বরাবর সেই খালি জায়গায়টায়। তারপর রিদের মাথার নিচের দেওয়া হাতটির উপর মায়া নিজের মাথা রেখে রিদের মুখোমুখি হয়ে শুয়ে পড়লো দোলতে দোলতে। কিন্তু রিদের সামনে খুবই অল্প জায়গায় হওয়ায় মায়া ঠিকঠাক শুতে পারছে না, আবার মায়া একটু বাঁকা হলেই পড়ে যাচ্ছে এমন একটা ভাব। তারপর আবার রিদের রুমের এসিও হাই টেম্পারেচারে ছাড়া তাই মায়ার ঠান্ডাও লাগছে খুব। তাই মাতাল মায়া চেপে চেপে গিয়ে রিদের বুকের সাথে মিশে জড়িয়ে শুলো। কিন্তু তাতেও যেন মায়া আরাম পাচ্ছে না। শান্তিও লাগছে না। আবার অল্প জায়গায় হওয়ায় পড়েও যেতে যাচ্ছে বারবার। ব্যালেন্স ঠিক রাখতে পারছে না। তাই বিরক্তিতে মায়া উঠে বসলো তৎক্ষনাৎ। মায়া নিজের সিকিউরিটি জন্য প্রথমে রিদের একটা পা টেনে নিজের শরীরে উপর উঠালো৷। তারপর রিদের পায়ের কাছের অবহেলিত পড়ে থাকা ব্ল্যাঙ্কেটটি টেনে দু’জনের গায়ে দিল গলা অবধি। এবং পুনরায় আগের ন্যায় রিদের হাতের উপর মায়ার নিজের মাথা রেখে রিদের মুখোমুখি হয়ে শুয়ে। দুজনের নিশ্বাসই একে অপরের উপর আছড়ে পড়ছে। মায়া হুসে থাকলে হয়তো এতক্ষণে রিদের বেগিতত বুকের ধড়ফড়ের শব্দটা শুনতে পারতো স্পষ্ট। এবং বুঝতে পারতো রিদ কতটা শিহরিত হচ্ছে তার কথা কাজে। কিন্তু আফসোস! মায়া হুসে নেই! তাই বুঝলোও না কোনো কিছু। বরং সে নিজের কাজই চালিয়ে গেল রিদের সামনে। থেমে থাকলো না। একিই ব্ল্যাঙ্কেটের ভিতর রিদের সাথে জড়িয়ে থাকা মায়া, এবার রিদের উপরের মুক্ত হাতটি টেনের মায়ার পিঠের উপর রাখলো মায়াকে জড়িয়ে ধরার জন্য। তারপর নিজের ছোট ছোট হাত দুটো দিয়ে মায়া রিদের দু -হাতের নিচ দিয়ে গুলিয়ে রিদের পিঠ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। মায়া নড়েচড়ে আরও খানিকটা রিদের দিকে চেপে চেপে গিয়ে রিদের বুকের সাথে মিশে গিলো তৎক্ষনাৎ। রিদের গলাতে মায়া নিজের মুখ গজিয়ে আরাম করে শুতেই পুনরায় চোখ মেলে তাকালো রিদ। আর তখনোই রিদের কানে আসলো মায়ার অস্পষ্ট স্বরে মাতাল কন্ঠে। রিদের গলায় মুখ গজিয়ে বিড়বিড় করে বলছে…
—” আপনাকে মিস করেছি তো মিস্টার ভিলেন। আপনি কেন আমার সাথে এতটা দিন দেখা করলেন না। আমাকে একটু ভালোবাসলে কি হয় আপনার। আপনি অনেক নিষ্ঠুর! পাষাণ মিস্টার ভিলেন! আমি ভালোবাসি তো আপনাকে। একটু ভালোবাসলে কি হয় আমাকে? এমন করেন কেন আপনি? আমার কষ্ট হয় তো!
মায়ার সম্পূর্ণ কথায় শুনলো রিদ। কিন্তু তারপরও শক্ত হয়ে পড়ে রইলো জায়গায়। বুক কেঁপে কেঁপে উঠছে এবার তীব্র থেকে তীব্র ভাবে। চোখে কার্নিশও লাল হয়ে উঠছে। নিশ্বাসের ঘনত্ব গাঢ় থেকে গাঢ় হলো রিদের। সেই সাথে চোখের দৃষ্টিও বদলালো। খোলা ফ্রিজের সচ্ছ লাইটে স্পষ্ট হলো রিদের গভীর দুটো চোখ। রিদের চোখে মুখে বিন্দুমাত্র ঘুমের রেশ পযন্ত নেই। রিদ কি আদৌ এক সেকেন্ড জন্য ঘুমিয়ে ছিল এতক্ষণ যাবত ধরে? না ঘুমাইনি রিদ। জেগেই ছিল সারাক্ষণ ধরে! সে দেখেছে মায়ার ছটফট সবকিছুই। কিন্তু তারপরও চুপ ছিল রিদ। কিন্তু এখন আর কতক্ষণ চুপ থাকবে সে? রিদের কি আর সাধ্য আছে চুপ থাকার। তার বউ কি তাঁকে শান্ত থাকতে দিচ্ছে? অশান্ত করছে না রিদকে? ভিষণ তোলপাড় অশান্ত করছে রিদকে। এই যে তার বউ আরাম খুঁজতে তার বুকে চলে আসলো? এবং শান্ত মতোন ঘুমিয়েও পড়লো। কিন্তু রিদ? তার কি আদৌ ঘুম হবে এই বেয়াদব বউয়ের জ্বালায়? একে তো জ্বালাচ্ছে! আবার তাকে সাংঘাতিক কিসব কথা বলে দিল। উফ! তার এই বেয়াদব বউকে কিভাবে বুঝাবে? সে কতটা বেহাল হচ্ছে তার এই সাংঘাতিক কথাবার্তায়। বউয়ের মুখের এমন জঘন্য বিচ্ছিরি ভালোবাসার কথাবার্তা সে নিতে পারছে না। অসয্য লাগছে। বেহায়া! বিচ্ছিরি! অবাধ্য! মনটাও তার এই মূহুর্তে বউ বউ করছে। শান্তিতে থাকতেই দিচ্ছে না। অবাধ্য মন! বেয়াদব বউয়ের পাল্লায় পড়ে তাকে শান্তিতে ঘুমাতে দিচ্ছে না। উফ! যদি রিদই শান্তিতে ঘুমাতে না পারে তাহলে সে কেন এই বেয়াদব বউকে শান্তি মতোন ঘুমাতে দিবে? এতো সহজ রিদকে জ্বালিয়ে শান্তি মতোন ঘুমানোটা? রিদ হতে দিবে সেটা? কক্ষুনোই না! বরং দুজনই সমান ভাগাভাগি করে জ্বালা বন্টন করবে। রিদের মানসিক অশান্তিটা ভাগ করবে বেয়াদব বউয়ের সাথে সে শারীরিক জ্বালা দিয়ে।
রিদের ভাবনার মাঝেই শুনতে পেল তার গলায় মায়ার নিশ্বাসের ঘনত্বটা। বুঝতে পারলো মায়া গভীর ঘুমে ততক্ষণে তলিয়ে গেছে। মায়ার পিঠের উপর রিদের হাতটা ধীরেই নিচে নেমে গিয়ে মায়ার কমড় শক্ত করে চেপে ধরে নিজের আরও কাছে টেনে আনলো রিদ। মায়ার শরীরে উপর রিদের নিজের পা-টা আরও জোড়ালো ভাবে চেপে ধরে মায়াকে রিদ সেই জায়গায়, সেই অবস্থায় বিছানার সাথে চেপে ধরে সে উপরে উঠলো মায়া। ঝুকে পড়লো মায়ার মুখ বরাবর রিদ। ঘুমন্ত মায়া এলো কেশবতী হয়ে আছে। মায়ার হাঁটু অবধি চুল গুলো রিদের বিছানা ছেড়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে আছে অনেকটা। রিদ সযত্নে মায়ার মুখে আছড়ে পড়া চুল গুলো কপাল ঠেকিয়ে কানের নিচে গজিয়ে দিল। এবং ঠিক তার পর মূহুর্তে মায়ার বুকে জড়ানো ওড়নাটা রিদ টেনে ফ্লোরে ফেলতে ফেলতে মায়ার গলায় মুখ গজালো। মায়া যেন ঘুমন্ত অবস্থায় তৎক্ষনাৎ কেঁপে কেঁপে উঠলো। রিদের স্পর্শে শিহরিত হলো ঘুমের ঘোরেই। কিন্তু মাতাল থাকায় ঘুম ভাঙ্গলো না। রিদ মায়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আরও কাছে টানলো। এবং বাম হাতে রিমোট টিপে ইলেকট্রনিক ফ্রিজের পার্টও বন্ধ করলো। পুনরায় রিদের রুমে ছেড়ে গেলো ঘোর ঘনত্বের অন্ধকার।
~~
তীব্র আলোয় ঘুমের মধ্যে বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে এলো মায়ার। ঠোঁট বাকিয়ে বিড়বিড় করে পুনরায় বালিশে মুখ গজালো সে। তারপরও কাজ হলো না। কারণ ততক্ষণে ঘুমের রেশ অনেকটা কেটে গেছে মাথার তীব্র চিনচিন ব্যথায়। তাই চোখ মুখ কুঁচকে বিরক্তিতে উঠে বসলো মায়া। ভারি মাথা চেপে ধরে রাখলো কিছুক্ষণ। ঘুমের তন্দ্রা তখনো পুরোপুরি কাটাতে না পেরে মায়া মন্ত হয়ে বসে রইলো বেশ সময়। মস্তিষ্ক হঠাৎই জাগ্রত হয়ে মায়াকে জানান দিল এটা মায়ার রুম নয়। হতভম্ব মায়া হতবুদ্ধ হলো নিজেকে অন্যের রুমে আবিষ্কার করতেই। কিন্তু ঠিক তার পর মূহুর্তেই মনে পড়লো মায়া তো সেচ্ছায় রিদের রুমে এসেছিল রাতে। এবং ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা কিছু খেয়েও ছিল। কিন্তু তারপর? তারপর কি? আর কিছুই মনে পড়লো না মায়ার। তাই তৎক্ষনাৎ ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে ফ্লোরের দিকে তাকালো। ফ্রিজ বন্ধ! কোথাও কোনো বোতল ছড়িয়ে পড়ে নেই। সবকিছুই গোজগাছ আছে।
হতবুদ্ধ মায়া বুঝতে পারলো রাতে সে রিদের রুমেই ঘুমিয়ে ছিল। কিন্তু কেন? তাছাড়া রিদ? রিদের কথা মাথায় আসতেই ভয়ার্ত মায়া চমকে উঠে চারপাশে তাকায়। রিদকে আশেপাশে কোথাও দেখতে পেল না। শুধু মায়া একাই শুয়ে আছে রিদের নরম তুলতুলে বিছানার উপর। মায়ার চুল গুলো সব ছাড়া। তবে গোছানো। গায়ের ব্ল্যাঙ্কেটও জড়ানো ছিল। কাপড়ও ঠিকঠাক আছে। শুধু বুকের ওড়নাটায় অবহেলিত ভাবে ফ্লোরে উপর পড়ে আছে তাছাড়া বাকি সবই ঠিক পেল মায়া নিজের সাথে। কিন্তু মায়া ঘুমালে একদিনও নিজের কাপড় চুপড় ঠিক পেয়েছে কিনা সেটা নিয়েও ঘোর সন্দেহ তাঁর? অথচ আজ মায়া কাপড় গুলোও কেমন একটা সভ্য হলে গেলো না? একটুও এদিক সেদিক হলো না ঠিকঠাক জায়গায় পেল। মায়া এক মূহুর্তে জন্য ভাবলো হয়তো তার সভ্য স্বামী সাথে থেকে তার কাপড় সভ্য নড়ে গেছে। অসভ্যের কোনো কান্ডই নেই। মায়া মনে মনে একদফা খুশিও হয়ে নিল। কিন্তু পর মূহুর্তে চুপসে গেলো ওয়াশরুমের ঝনঝন পানি শব্দের। মায়া বুঝতে পারলো রিদ গোসল করছে ওয়াশরুমে। তাই মায়া দ্রুততার সঙ্গে রিদের বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো। ফ্লোর থেকে নিজের ওড়নাটা নিয়ে বুকে জড়াতে জড়াতে টনটন মাথা ব্যথায় তৎক্ষনাৎ দৌড়ে বেড়িয়ে আসলো রিদের রুমে থেকে। কিন্তু সেখানেও মায়ার ভাগ্য সহায় হলো না। মুখোমুখি হয়ে গেলো নিজের মায়ে সাথে। থমথমে খেয়ে গেলো দুজনই। তিনি মায়াকে রিদের রুম থেকে বেড় হতে দেখে চমকে উঠেন মূহুর্তেই। মায়াকে বিধস্ত অবস্থা দেখে যেন তিনি খানিকটা বিচলিত হলেন এই ভেবে যে, মায়া সংসার শুরু করছে অথচ তিনি এই বিষয়টি বুঝতে পারেনি এতদিন। তাছাড়া রিদ মায়ার মধ্যে যে সবকিছু স্বাভাবিক হলো সেটা কেন খান বাড়ির কেউ উনাদের জানালো না এতোদিন। আর মায়াই বা কবে থেকে সংসার শুরু করেছে স্বামী সাথে? বিচলিত রেহেনা বেগম খানিকটা হাসফাস করলো মেয়ের সামনে এইভাবে পড়ায়। চক্ষু লজ্জা তিনি মায়াকে কিছু না বলে নিচে নেমে যান। মায়া রাতে যে উনার সাথে ছিলনা রুমে সেটাও তিনি রাতেই বুঝতে পেরেছিল। তবে রেহেনা বেগম প্রথম ভেবেছিল হয়তো মায়া হেনা খানের কাছে গিয়েছে ঘুমাতে কিন্তু এখন মায়াকে রিদের রুম থেকে বের হতে দেখে স্পষ্ট হলো বিষয়টি। মায়া নিজের মায়ের হঠাৎ বিচলিত হওয়ার কারণটি ধরতে পারলো না। তাই রেহেনা বেগমের যাওয়া দিকে ঠোঁট উল্টিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিজের রুমে গেলো ফ্রেশ হতে। দাঁত ব্রাশ করে, মুখ ধুয়ে গেলো নিচে ড্রাইনিং টেবিলে নাস্তা করার জন্য। তখনো বাড়ির সবাই ড্রাইনিং টেবিলে উপস্থিত হয়নি। তবে রিদ উপস্থিত ছিল অফিসে গ্যাটাপে। মনোযোগ সহকারে নিজের নাস্তাও খাচ্ছে একমনে। মায়ার দিকে তাকাচ্ছে না। পুরো ড্রাইনিং টেবিল খালি। হেনা খানের সাথে রেহেনা বেগম ও কিচেনে আছেন সার্ভেন্ডদের সাথে। মায়া দৌড়ে গিয়ে রিদের পাশের চেয়ারটা টেনে বসলো। রাতের করা নিজের শপথটাও ভুলে গিল। রিদকে নিজের মুখ দেখাবে না। অথচ সে নিজেই উল্টো রিদের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। কিন্তু রিদ থেকে এবারও পাত্তা না পুনরায় মায়ার মন খারাপ হলো। কষ্টে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে মায়া নিজের প্লেট উল্টিয়ে তাতে পাউরুটি উপর, চকলেট জেলি মাখিয়ে একটা পর একটা স্তুপ বানালো। সবশেষে উপর দিয়ে চিজিও ঢেলে নিল। পাঁচ পাঁচটা পাউরুটি একত্রে করে মুখে তুলার আগেই রেহেনা বেগমের সেটা কেড়ে নিল মায়ার থেকে। রিদের সামনে বিব্রত গলায় মায়াকে বললো…
—” যাহ! গোসল করে আয় আগে।
রেহেনা বেগমের কথায় নাক মুখ কুঁচকায় মায়া। এতো সকাল সকাল মায়ের মুখে বলা গোসল করার বিষয়টিও বুঝতে না। তাই মায়া অনেকটা বিরক্তি কন্ঠেই বলে উঠলো…
—” এতো সকলে গোসল কেন করবো আম্মু? আমি সকালে গোসল করি না।
মায়ার পাল্টা প্রশ্নে খানিকটা বিভ্রান্তকর পরিস্থিতিতে পড়লো রেহেনা বেগম রিদের সামনে। আড়চোখে রিদকে এক পলক দেখে নিয়ে খুবই হালকা গলায় চেপে বললো…
—” বলছি না! যাহ গোসল করে আয়।
রেহেনা বেগমের কথার মানে এবারও মায়া বুঝতে সক্ষম হলো না। তাই অবুঝ গলায় নিজের মায়াকে বলে উঠলো..
—” উহু পারবো না! আমার সকালে গোসল করতে বিরক্ত লাগে আম্মু। দুপুরে গোসল করবো নে।
মায়া অবুঝতার কথা গুলো রেহেনা বেগমের লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্বামী সাথে থেকে বলছে উনার মেয়ে ফরজ গোসল করবে না। সকালে গোসল করতে বিরক্ত লাগে। দুপুরে করবে। নাপাক অবস্থায় এখন খাবার খাবে? বিষয়টি সত্যিই লজ্জা জনক হলো রিদের সামনে রেহেনা বেগমের। সেই সাথে ভিষণ বিব্রতবোধ করলো। তাই রেহেনা বেগম খানিকটা শক্ত গলায় মেয়েকে শাসিয়ে বললো…
—” তোকে যেতে বলছি না আমি। গোসল করতে পারলে খাবি নয়তো খাওয়ার দরকার নেই তোর যাহ। উঠ টেবিল থেকে।
এবার অধৈর্যের মুখ খুললো মায়া। মায়ের হাত থেকে নিজের প্লেট টেনে নিতে নিতে বললো…
—” সকালে গোসল করলে কি হবে আম্মু? রোজই তো দুপুরে গোসল করি আমি। আচ্ছা ঠিক আছে! এখন আমি আগে খাবারটা খেয়ে নেয় তারপর গোসল করবো নে। কেমন।
মায়া কান্ডে অসন্তোষ্টি প্রকাশ করলো রেহেনা বেগম চেহারায়। তিনি পুনরায় মায়া প্লেট টেনে নিয়ে এবার সরাসরিই বলে উঠলো…
—” আগে পাক- পবিত্র হয়ে আয় তারপর খাবার পাবি। নাক হয়ে খাবার খাওয়া পাপ। এবার যাহ তুই।
—” আম্মু আমি পাক পবিত্রই তো! দেখো আমি ব্রাশ করে এসেছি। হা! দেখছো? আমি ব্রাশ করেছি যে।
মায়ার বোকা কান্ডে তেতে উঠলেন রেহেনা বেগম। তিনি শক্ত গলায় শাঁসালো মায়াকে…
—” যাবি তুই?
নাক মুখ কুঁচকে বিরক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়লো মায়া। অধৈর্য ভঙ্গিতে হনহন করে চলে গেলো নিজের রুমে গোসল করতে। মায়া যেতেই তিনিও লজ্জিত ভঙ্গিতে চলে যেতে নিলেন রিদের সামনে থেকে। কিন্তু তার আগেই শুনতে পেল রিদের গম্ভীর কণ্ঠে স্বর। রিদে রেহেনা বেগমের উদ্দেশ্য বলে উঠে…
—” রাতে আমার মাথা ব্যথা ছিল তাই আপনার মেয়েকে রুমে ডেকেছিলাম আমি। আমার খারাপ লাগাটা বেশ ছিল বিদায় আমার রুমে থাকতে হয়েছিল আপনার মেয়েকে।
রিদের ইঙ্গিত করা কথা গুলোর মানেটা বুঝতে পারলো রেহেনা বেগম। এতো যেন আরও বেশি লজ্জিত হলেন রিদের সামনে। কি থেকে কি ভেবে তিনি মেয়ের সাথে আচরণ করছিলেন। বিষয়টি ভাবতেই লজ্জা পেলেন তিনি। লজ্জায় নাক মুখ গুঁজে তিনি রিদকে ছোট করে উত্তরে “হুম! বলে সাথে সাথেই প্রস্হান করে কিচেনের দিকে।
~~
মায়া গোসল করতে গিয়ে নিজের শরীর জ্বলে উঠতেই চমকে উঠে। শরীরের চিনচিন জ্বালাময় ব্যথাটা লক্ষ করে মায়া নিজের গায়ের ভেজা জামাটা টেনে খানিকটা নিচে নামাতেই চোখে পড়লো বুকের উপরে গাঢ় লালচে রঙ্গের কামড়ে দাগটা। মায়া চমকালো! ভড়কালো! হকচকিয়ে গেল বুকের উপরে গভীর গাঢ় লালচে দাগ দেখে। হতবুদ্ধ মায়া বুঝতে পারলো না এই গাঢ় কামড়ে দাগটা হুট করে তার গায়ে কোথায় থেকে এলো? রাত অবধিও তো ঠিক ছিল। মায়ার শরীরের কোথায় কোনো দাগের চিহ্ন ছিল না। তাহলে এই দাগটা আসলো কোথায় থেকে? ভাবুক মায়া কিছুটা চিন্তা করার পর মূহুর্তে মায়ার মাথায় আসলো, হয়তো কাল রাতে রিদের রুমের ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা চুরি করে খাওয়ার তার এখন এলার্জি হয়েছে। তাই মায়া চিন্তিত ভঙ্গিতে এমন এলার্জির চিহ্ন আরও খুঁজলো নিজের শরীরে। সেই সাথে পেয়েও গেলো মায়া। নিজের গলার ডানপাশের গাঢ় তিলটার উপর পেল লালচে বর্ণের দাগ।
(সবাই শুধু রিদ রিদ করেন? সেটা কেন? গল্পের একটা পার্টে রিদ না থাকলে পাঠক মহল সবাই নারাজ হয়ে যান। অথচ রিদ যে কি পরিমাণ ঘাড় ত্যাড়ামি করে সেটা কারো চোখে ধরা পড়ে না? আয়ন আরিফ দুজনই ভালো মানুষ। সভ্য শান্তশিষ্ট পোলাপান। ঝামেলা কম করে। ত্যাড়ামি তো জানেই না। তারপরও পাঠকদের মধ্যে ভুলেও একদিন দেখলাম না তাদেরকে কেউ মিস করতে। তাদের নাম নিয়ে বলতে আপু আয়ন কই? আপু আরিফ কই? আজকের পার্টে তাদের পেলাম না কেন? অথচ একদিন একটা পার্টে রিদকে না পেলে, সবাই শুধু রিদ কই? রিদ কই করেন? এজন্যই বলি, ভালো মানুষের দাম দুনিয়াতে আসলেই নাই। কেউ দেয়না। কারণ এই গল্পের সবচেয়ে ত্যাড়রা, নিষ্ঠুর দয়া-মায়াহীন মানুষটাই হলো রিদ। অথচ তাকে ভালোবাসার জন্য মানুষের অভাব নাই। আর গল্পে যে আরও দুইডা সভ্য পোলা আছে সেদিকে কারও লক্ষই নাই।)
.
চলিত….
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১১
-
দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ গল্পের লিংক
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৮
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৫