Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

০৮
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভয় থেকে এক আকাশ সমান ভয় জমা হচ্ছে মায়ার ছোট্ট মনে রিদের জন্য। অবুঝ অচেতন মনটা আজ বিষিয়ে উঠছে রিদের আপত্তিকর আচরণে। বিষন্নতায় ঘিরা মায়ার মন কৌটাতে। মায়ার চেনা-জানা রিদ! ভালো ভাইয়া থেকে খারাপ ভাইয়াতে রুপান্তরিত হচ্ছে একটু আকটু করে। মায়ার বেগতিক গত দুইদিনের চেনা জানা রিদ ভাইয়া! আজ মায়া ভয় আর আতংকে কারণ হয়ে উঠেছে। ছোট মস্তিষ্কের জানান দিচ্ছে রিদ ভাইয়া ভিষণ খারাপ। রিদের শান্ত শিষ্ট আচরণ গুলো যেমন মায়া মন ছুঁয়ে পড়েছিল তেমনি রিদের হঠাৎ হঠাৎ রেগে যাওয়াটাও ছিল মায়ার বিধস্ততার কারণ। রিদের প্রতি থাকা মায়া মনের সুপ্ত অনুভূতি গুলো ধীরে ধীরে সরে সেখানটাই কালো ঘন মেঘের মতো ছেঁয়ে যাচ্ছে রাশি ভারি ভয়রা। মায়ার ভিষণ ভালো রিদ ভাইয়া আজ ভিষণ খারাপ ভাইয়ার রুপ নিল। মায়া তথাস্তু। সেই সাথে আতংকিত হঠাৎ রিদ সামনে পড়ে যাওয়া ভয়ে। ভয়ে সিঁটিয়ে জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে আছে হেনা খানের শাড়ির আঁচল ধরে। ধাতস্থ হয়ে ভয় ভয় নজর চারপাশে বুলাচ্ছে ক্ষণকালে। গায়ে এখনো সকালের স্কুলর ডেসটি জড়ানো। চেঞ্জ করা হয়ে উঠেনি। বাড়ি ভরা মানুষ, চেনা পরিচিত মানুষজন! ড্রয়িংরুমে তাদের আনাগোনা। শব্দের গোলশুল সেখান থেকে ভেসে আসছে কিচেন রুম পযন্ত। হেনা খান দক্ষ হাতে রান্নাবান্না কাজটা সারছেন। আজকে তিনি নিজের হাতে রান্না করছেন নিজের পরিবারের জন্য। আজকে রিদের চলে যাওয়াকে ঘিরে খান পরিবারের বাকি কিছু সদস্যরা এসেছে খান বাড়িতে। হেনা খানের বড় মেয়ে শাহেবা, স্বামী, ও মেজু ছেলে সোহাগকে নিয়ে চলে এসেছে ইতিমধ্যে। আসাটা ঘন্টা খানিক পেরিয়েছে। যথারীতি আরাফ খান সাথে ড্রয়িংরুমে বসে আড্ডায় মনীত। শাহেবা আরও দুই কন্যা থাকলেও তারা আপাতত দেখের বাহিরে আছে পড়ার সুবাদে। স্বামী ছেলেকে নিয়ে আপতত তার বসবাস বাংলাদেশে। তবে বছরের বার কয়েকবার লন্ডনে দুই মেয়ে কাছে গিয়ে ঘুরে আসেন সপরিবারে।

বিশাল বড় কিচেনের একপাশে সার্ভেন্ডরা ও শেইফ সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ানো। চুলোয় ধোঁয়া উড়িয়ে ব্যস্ত হাত চালাচ্ছেন হেনা খান রান্নাতে। এত ব্যস্ততার মধ্যেও বার কয়েক মায়াকে চোখ বুলিয়ে নিয়েছে। বেশ কয়েকবার ডেস চেঞ্জ করার তাগিদ দিয়েছে কিন্তু মায়া অনড়। কিছুতেই হেনা খানের শাড়ির আঁচল ছাড়ছে না। আর না কোথাও যেতে চাইছে বরং ঘাপটি মেরে দাড়িয়ে আছে। মায়া কথা একটায় হেনা খান সাথে গেলে ডেস চেঞ্জ করবে নয়তো সে এইভাবেই থাকবে! রোজকার মতো আজও হেনা খান মায়ার সব কাজ করতো। বা মায়ার সাথে যেত রুম অবধি, কিন্তু ব্যস্ত হাতে রান্নাটা শেষ করতে পেরে উঠছে না। তিনি ব্যস্ত হাত চালিয়ে মায়ার দিকে আবারও তাকান। মায়াকে ভয়ে হাসফাস করতে দেখে তীক্ষ্ণ গলায় বলে উঠলো…

–” তোর কি হয়েছে সোনামা? এমন করছিস কেন?
তুই কি কোনো কিছু নিয়ে ভয় পাচ্ছিস? তোর নাক মুখ ফুলে ফেঁকে আছে কেন? কান্না করেছিস?

রিদের রাগে ঘটনা গুলোর পুনরায় মাথায় দুল খায় মায়া। স্মৃতিচারণ করেই আতংকে উঠে। ভয়ে আবারও দলা পাকিয়ে আসে কান্নাটা গলায়। টলমল করে উঠে আঁখিযুগল। ডাগর আঁখিজোড়ায় ভয় ভাবটা স্পষ্ট। ভয়ে আটখানা হয়ে গোলগোল দৃষ্টিতে তাকায় হেনা খানের দিকে। ঠোঁট ফুলিয়ে কান্না ভরাট কন্ঠের বলে উঠলো..

–” রিদ ভাইয়া আমাকে…

দলা পাকিয়ে থাকা ভরাট কান্না গুলো আধেক কথায় কেঁদে উঠে। কান্নার শব্দটি হেনা খানের কর্ণকুহর হতেই ব্যস্ত হাত চালিত বন্ধ করে ঝাপটে ধরে মায়াকে। এতক্ষণ ব্যস্ততায় মায়াকে ঠিকঠাক লক্ষ করতে না পারলেও মায়ার কান্না উত্তেজিত হয়ে উঠে তিনি। বিগত একমাসে মায়াকে আজ পযন্ত কাঁদতে দেখেনি তিনি। হাসতে দেখেছে ঝংকার তুলে। বোকা বোকা প্রশ্ন করতে দেখেছে! অভিমান করতে দেখেছে। প্রাণবন্তর প্রাণচঞ্চল দৌড়াদৌড়ি করতে দেখেছে খান বাড়ির আনাচে-কানাচেতে। তেতলাতে দেখেনি। আজ হঠাৎ মায়ার কান্নাটা ভিতর থেকে নাড়িয়ে তুলে হেনা খানকে। তিনি কি মায়াকে ঠিকঠাক দেখাশোনা করতে পারেনি। তার সোনামা কি ভিষণ কষ্ট পেয়েছে কোনো কারণে? তাঁর ব্যস্ততাটা কি সোনামাকে ভিষণ কষ্ট দিল? মায়া ছোট! সেই সাথে অবুঝও। ফুলকারিতে জমে গিয়ে চাপা উত্তেজনায় ভরাট কন্ঠের বলে উঠলো হেনা খান…

–” কি হয়েছে আমার সোনামার? সে কাঁদছে কেন?

–” রিদ ভা…

কান্নার বেগ বারে মৈ কমে না। হিচকি উঠে মূহুর্তেই। হেনা খান উত্তেজনায় প্রথমবার মায়ার কথাটা লক্ষ না করলেও দ্বিতীয়বার মায়ার মুখে রিদের নাম শুনে আতংকে উঠে তধক্ষে। বুঝতে পারে মায়ার ভয়ে কারণ। রিদ মায়ার মধ্যেকার কিছু ঘাটাঘটি হয়েছে। তবে সেটা কি বোধগম্য নয়। রিদ মায়াকে তাহলে কোনো কারণ আঘাত… বিষয়টি ভেবে ভয়ে চমকে উঠে হেনা খান। উত্তেজিত কন্ঠে বললো…

–” রিদ কি সোনামা? কিছু করেছে তোকে ওহ? বকেছে? আঘাত করেছে?

দুহাতে মায়া গাল আঁকড়ে ধরে হেনা খান কথা গুলো বলেই, ব্যস্ত বংগিতে চোখ বিচরণ করাই মায়ার চোখে মুখে শরীরে। কোথাও মায়া আঘাত পেয়েছে কিনা? সেটা দেখতে চাই। মায়ার ঠোঁট কামড়িয়ে নিজের কান্না আটকানো চেষ্টা করে। নিজের অবুঝতার বশে গমগমে বলে উঠে…

–” আমি কি বর-বউ দাদী? রিদ ভাইয়া কি আমার বর হয় দাদী?

হেনা খানের ব্যস্ত বংগি মূহুর্তেই থামে। উত্তেজনা দৃষ্টি মধ্যে মূহুর্তে কৌতিক হয়ে উঠে। চোখে মুখে পড়লো বিষন্নতা চাপ। মায়ার মুখে রিদের বউ বিষয়টি উনাকে থামতে বাধ্য করে। মায়া রিদের বউ এই বিষয়টি মায়া জানলে হয়তো অবুঝতা, চঞ্চলতায় মুখ ফসকে বলে ফেলবে রিদকে। স্বামী বলে দাবিও বসাবে। তাই তিনি সম্পূর্ণ বিষয়টিই গোপন রেখেছে সবার থেকে। শুধু উনারা স্বামী-স্ত্রী আর দুই কন্যা শাহেবা, মেহেরবান, ছাড়া বাকি কারও কান গোচরে পৌঁছায়নি বিষয়টি। সংসার, স্বামীর এসব কিছু জন্য মায়া ছোট। তাছাড়া রিদও এখনো মানসিক ভাবে প্রস্তুত নয় মায়ার সত্যটা শুনার জন্য। এই যদি এক কান, দুই কান হয়ে রিদের কানে যায়, মায়া তাঁর বউ! বিষয়টি তাহলে রিদ নিশ্চিত রুপে তান্ডব করবে অনাহেষে। যেটা মায়ার জন্য ক্ষতি। তাই তিনি মায়াকে আগে বড় করতে চাই। রিদের জন্য প্রস্তুত করতে চাই। তারপর সবটা জানাতে চাই রিদকে তার আগে নয়। কিন্তু এই মূহুর্তে মায়ার মুখে রিদের কেমন বউ হওয়া প্রশ্নটা? ভিতর থেকে নাড়িয়ে তুলে হেনা খানকে তুমুলভাবে। কারণ তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে ছিল মায়াকে সে কারও বউ নয়! রিদেরও না। হেনা খানের নিষিদ্ধ করার পরও মায়ার মুখে পুনরায় রিদের বউ হওয়া কথাটি শুনে চমকায়। নিষ্পন্ন কন্ঠে বললো…

–” বর-বউ মানে? কে বলেছে এই গুলা তোকে?

–” রিদ ভাইয়া!

মায়ার সহজ সরল স্বীকারোক্তি আকাশ ভেঙে পড়ে হেনা খানের মাথায়। মায়া অবুঝতায় গরগর করে কথা গুলো বললেও হেনা খানের কাছে ছিল বিশাল বড় পাথরচাপার মতো। রিদ মায়ার সত্যিটা সম্পর্কে অবগত এই বিষয়টিই উনাকে অস্থির করে তুলছে। রিদ কতদিন ধরে জানে এই সত্যিটা সম্পর্কে? আর যদি জানেও তাহলে চুপ করে আছে কেন? রিদ তো চুপ থাকার পাত্র নয়? এতক্ষণে খান বাড়িতে তান্ডব হওয়ার কথা? রিদ কি সবকিছু সত্যিই জানে নাকি মায়ার বুঝতে কোথাও ভুল হচ্ছে? রিদ সত্যি জেনেও চুপ করে আছে কেন? কি চলছে রিদের মাথায়? খুব খারাপ কিছু নয়তো? মায়াকে আবারও ঝাপটে ধরে বুকে টেনে অস্থির গলায় বললো…

–” সোনামা! রিদ জানে তুই রিদের বউ সেটা? রিদ তোকে বলেছে বউ হোস তুই ওর? কবে বলেছে এসব কথা তোকে হ্যাঁ? আরও আগে কেন জানাসনি আমাকে এসব তুই?

হেনা খানের পরপর কথা মূহুর্তেই নিজের কান্না ভুলে যায় মায়া। হিচকি তুলা বন্ধ। চকচক করা দৃষ্টিতে বড় বড় চোখে তাকায় হেনা খানের দিকে। রিদ মায়াকে একবার বউ বলে সম্মোধন করলেও, হেনা খানের পরপর দুইবার দ্বাবি করেছে মায়া রিদের বউ সেটা। আঘাত, কান্না, রাগ,অভিমান, ক্ষুদ্ধ সব ভুলে গিয়ে মাথায় ভারি খায় সে সুন্দর ভাইয়ার বউ। এবার সে সুন্দর ভাইয়াকে ঠোঁট কামড়ানো চুমু খেতে পারবে। মালা বলেছিল স্বামী লাগবে ঠোঁট কামড়ানো চুমু খেতে হবে। তাই তো মায়া রাতে একটা বিয়ে করতে চেয়েছিল। স্বামীকে ঠোঁট কামড়ানো চুমু খাওয়ার জন্য। এখন তো আর তাঁর আর বিয়ে, বর দুটোই আছে। এখন টুস করে যাবে তারপর টুপ করে সুন্দর স্বামীকে ঠোঁট কামড়ানো চুমু খাবে। মায়ার ধারণা বিচরণে ইতি ঘটিয়ে খুশিতে লাফিয়ে উঠে দাঁড়ায় হেনা খানের বুক থেকে। অশ্রু সিক্ত ভেজা চোখে খুশিতে গদগদ হয়ে নিজ বাক্যে বললো…

–” দাদী আমি সুন্দর বরকে ঠোঁট কামড়ানো চুমু খেতে পারবো এখন।

মায়া কথায় থমথমে খেয়ে যায় তিনি। মালা পাশ থেকে কাচুমাচু করতে থাকে। রাতে মায়াকে বলা চুমু খাওয়া বিষয়টি বোধগম্য হচ্ছে। রিদের সামনে কিভাবে একের পর এক কথা গুলো বলে গেলো সেটা এখন বুঝতে পারছে মালা। হেনা খান মায়ার কথায় মূহুর্তে বুঝতে পারে মায়া শিওর ছিল না রিদ মায়ার স্বামী এই বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু উনার কথায় হয়তো শিওর হয়েছে তাই এমন বলছে। মায়ার কথায় হেনা খানের ধারণা হয়, রিদের মায়ার সত্যিটা জানা নেই। হয়তো মায়া নিজ থেকে বলছে মায়ার বর বউয়ের কথা গুলো। কিন্তু তিনি মায়ার মুখে চুমু খাওয়া বিষয়টি ভালো চোখে নিলেন না। মায়া যথেষ্ট ছোট। এমন সব উদ্ভট চিন্তা ভাবনাটা নিজ থেকে আসার কথা নয়। হয়তো কেউ মাথায় ডেলেছে তাই এমন মুখে বলে বেড়াচ্ছে। তিনি প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে থমথমে মুখে বললো।

–” তোর কোনো বর নেই! কতবার বললো সেটা আমি। বলেছিলাম না রিদ তোর স্বামী নয় তাহলে? তুই বউ হুসনা কারও। (খানিকটা রেগে আবারও বলে) আর
কে শিখিয়ে এই বাজে কথা গুলা তোকে হ্যাঁ? ঠোঁট কামড়ানো চুমু কি আবার?

–” সুন্দর ভাইয়া আমার বর না।

–” নাহ! (কাট কাট উত্তর)

–” তাহলে কে আমার স্বামী দাদী?

–” বললাম না তোর কোনো স্বামী নেই। তুই সিঙ্গেল।

হেনা খানের রাগি কথায় ঠোঁট উল্টায় মায়া। নাহুচ স্বরে গাল ফুলিয়ে বললো….

–” থাকবো না আমি সিঙ্গেল। আমাকে বিয়ে দিয়ে দাও। একটা বর এনে দাও।

মায়ার বিষন্ন ভরা দৃষ্টিতে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে হেনা খান। হুটহাট মায়ার বিয়ে আবদারের কারণ বুঝতে পারছে না তিনি। তাই কপাট রাগ দেখানোর চেষ্টা করে বললো…

–” তোর বিয়ের বয়স হয়েছে? যে আমি তোকে বিয়ে দিব এখন হ্যাঁ? এসব শিখিস স্কুলে গিয়ে তুই?

–” তুমি তেরো বছরে বিয়ে করে স্বামী পেলে, আমি কেন পনেরো বছরে স্বামী পারো না দাদী? তোমার থেকে আমি দুই বছর এগিয়ে আছি তারপরও তুমি জাতি বেঁধে বৈষম্যের সহিষ্ণুতার ভেদাভেদ সৃষ্টি করছো দাদী। এতে ঘোর দূর্নীতি বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তুমি দূর্নীতিবাজ হয়ে গেছো দাদী। আমার সাথে ঘটায় ঘটায় দূর্নীতি করছো।

তেতে উঠে বললেন…

–” বেশ করেছি! দূর্নীতিনাজ হয়েছি। কোথাকার কথা কোথায় টেনেটুনে নিয়ে যাচ্ছিস। তোর বসয় হয়েছে তোকে আমি দিয়ে দিতাম হ্যাঁ? আগে তোর বিশ বছর পার হোক! তারপর চিন্তা ভাবনাটা করে দেখা কি করা যায়।

মন খারাপ হয়ে গাল ফুলিয়ে বললো…

–” একটা বিয়ে! একটা চুমু খাওয়ার জন্য! আমাকে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে দাদী?

খানিকটা রেগে চোখ পাকিয়ে বললো…

–” এই তোকে আজকাল এসব আজেবাজে কথা শেখায় কে? চুমু খাওয়ার জন্য, বিয়ে করতে হয়, এসব কথা কে বললো তোকে?

র্নিবিবাক এক বাক্যে বলে বললো…

–” মালায় তোহ বললো…



বিকট শব্দ কানে আসতেই। সবাই আতংকে উঠে সিঁড়ি ওপরের দিকে তাকায়। হাসি হাসি সবার মুখখায় মূহুর্তেই পড়ে যায় উত্তেজনার চাপ। বিকট শব্দের সাথে সাথে কানে ভেসে আসে পুরুষ ওয়ালি কন্ঠে উচ্চ স্বরে চিৎকার শুনা যায়। কেউ কাউকে বাঁচাতে চাইছে। উপস্থিত ড্রয়িংরুমের সবাই ভয়ে আতংকে উঠে উপরের দিকে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে প্রাণপূণ দৌড় লাগায় সেদিকে। টানটান উত্তেজনায় আরাফ খানের পিছন পিছন বাকিরাও দৌড়ে যাচ্ছেন সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে চিৎকারের উৎস ধরে। হেনা খান ব্যস্ত হাতে আবারও রান্নার কাজ চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ পুরুষ ওয়ালি কন্ঠের চিৎকার কানে আসে। ধোঁয়া উড়িয়ে দেওয়া রান্নার ক্ষুন্তিটা মূহুর্তেই থানে। একপ্রকার দৌড়ে চলে যায় দোতলায় দিকে। পিছন পিছন বাকি সার্ভেন্ডরাও দৌড়ায়। উদ্দেশ্য মুল গন্তব্যে পৌছানো। সবাই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই থমকে দাঁড়ালো। থেমে যায় পা দুটো আপনাআপনি। সামনের ভয়াবহ বিধস্ত ধ্বংসাত্বক! অবস্থায় কম্পন সৃষ্টি হয় সবার ভিতরে। ভয়রা সব দলা পাকিয়ে আসে। গলা শুকিয়ে কাটকাট হয়ে যায় সবাই। হেনা খান প্রাণপূর্ণ দৌড়ে আসে দোতলায়। হাঁপিয়ে উঠে সবার পিছন থেকে সামনে তাকাতেই নিস্তব্ধ হয়ে তিনি। পার্থর মূর্তি মতো দাঁড়িয়ে পড়ে টায় জায়গায়। কয়েক সেকেন্ড দম নিয়ে চিৎকার করে উঠে শক্তি দিয়ে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে দৌড়ে যায় মায়ার র্নিতন্ত ফ্লোরে পড়ে থাকা দেহটার দিকে। ঝাপটে তুলে নেন মায়াকে নিজের কোলের উপর। চিৎকার করে কান্না করতে থাকেন বুক ফুলিয়ে। মায়া ঠোঁট, নাক কপাল দিয়ে অনবরত রক্ত ঝরছে। তার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিদ। দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করে রাগে রি রি করছে। অগ্নিকুন্ড ধারণ করে আছে এই মূহুর্তে। দুই চোখে থেকে যেন অগ্নির লালা ঝরছে ক্ষণে ক্ষণে। অসম্ভব লাল লাল দুটো চোখ মায়ার ফ্লোরে পড়ে থাকা দেহটির দিকে তাক করা।
.
চলিত…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply