দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮৫
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ার করবেন)
৮৫
রিদ খান বাবা হবে বিষয়টি বাতাসে গতিতে ছড়িয়ে পড়ল খান বাড়ির মেহমানদের মাঝে। সবার মাঝেই উৎফুল্লতা দেখা গেল। কেউ কেউ আবার অগোচরে খানিকটা দৃষ্টিও বাঁকাল মায়ার প্রতি হিংসায়। তবে সবকিছুর মাঝে মায়ার প্রতি দোয়াটায় বেশ করে করল সবাই। আর মায়া? তার যেন এক কেজি রক্ত বেশি বেড়েছে বেবি হবে বলে। রিদ যে রাগ করে বাসা ছাড়ল সে দেখে কে? দিব্যি খুশিতে আটখানা হয়ে আছে। মুখের হাসি যেন পড়ছেই না। আনন্দ এতোটা যে লজ্জা পাওয়ার বিষয়টাও কাজ করছে না। মায়া এক কথা! ওর বাবু হবে তো মায়া খুশি হবে না? প্রকাশ করবে না মায়া ওর বাবুকে পৃথিবীতে নিয়ে আসা নিয়ে কতটা খুশি। মায়ার সকল আশা আল্লাহ তালা পূরণ করছেন তাহলে মায়া কেন আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করবে না খুশি হয়ে বলো? বিয়ে আমেজে ছেড়ে একে একে সবাই মায়াকে দোয়া করে বের হলো মায়ার রুম থেকে। হেনা খান মায়া সাথেই বিছানায় বসা। আরাফ খান রিদের বাবা হওয়ার সংবাদ পেয়ে মিষ্টি ভান্ডার খালি করছে মানুষের মাঝে বিতরণের। সবাই মায়া রুম থেকে বের হয়ে যেতেই হেনা খান বেশ কিছু সময় পর উঠে দাঁড়ায় জায়গায় ছেড়ে। বাড়িতে বিয়ে। হাতে কাজ বেশি। তাই আপাতত নিচে যাবেন। তিনি মায়াকে রেস্ট করতে বলে মায়ার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল। তিনি মায়ার কনসিভ করা নিয়ে অনেকটা খুশি। কিন্তু মায়া রিপোর্টে বিষয়ে বেশ চিন্তত। মা হারিয়ে সন্তান উনারা চান না। আল্লাহ দরবারে মা সন্তান দুটোই সুস্থ ভাবে চাই। এবার আল্লাহ যেন সহায় থাকেন উনার পরিবারের প্রতি এই দোয়ার করেন হেনা খান। চিন্তায় চিন্তায় হেনা খান রুম ছেড়ে বের হয়ে যেতেই মায়া উঠে দাঁড়ায়। গায়ের কালো জামদানী শাড়িটা টেনে ঠিক করে রুম থেকে বের হয়। তখন রিদ বাসা থেকে রাগ করে চলে গেলেও মায়া জানে কিছুক্ষণ পর ঠিকই চলে আসবে একা থাকতে পারবে না মায়াকে ছাড়া। তাই আপাতত নিশ্চিত মনে আয়নের রুমের দিকে এগোল জুইয়ের জন্য। রাত এগারোটা বিশ বাজে। জুই কেমন আছে একবার দেখা দরকার। মায়া আয়নের রুমে ঢুকতেই দেখল জুইকে ঘিরে বসে আছে আয়নের ফুপাতো কাজিনরা। মায়া এগিয়ে জুইয়ের একপাশে বসতেই খুপ করে মায়ার হাতটা চেপে ধরে জুই অসহায়ত্ব প্রকাশ করে। মায়া কপাল কুঁচকে তাকাতেই জুই বুঝায় সে ফ্রেশ হতে চাই। মায়াও তাই করল। সবাইকে রুম থেকে বিদায় করে জুইকে ওয়াশরুম পাঠাল। জুই ফ্রেশ হয়ে মায়াকে বিছানায় নিশ্চিত মনে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে আসতে আসতে বলল…
—” তুই কি সত্যিই এই বেবিটাকে কন্টিনিউ করতে চাস রিতু?
জুইয়ের হঠাৎ প্রশ্ন কপাল কুঁচকে আসে মায়া। প্রশ্নটা মোটেও পছন্দ হয়নি। তাই উত্তরটাও কর্ড়া দিল।
—” বাজে কথা বললে চলে যাব কিন্তু জুই। আমার বাবু আমি তাকে কন্টিনিউ না করার প্রসঙ্গ আসছে কোথায় থেকে?
মায়া শক্ত গলায় খানিকটা নরম হয়ে আসল জুই। দুই বোনের মাঝে সে ঝামেলা চায় না। তবে মায়ার শারীরিক কন্ডিশন ও রিদের রেগে যাওয়াতে জুই এই প্রশ্নটা করেছিল মায়াকে। জুই এগিয়ে এসে হাতের টাওয়ালটা কোলের উপর নিয়ে বিছানায় বসল মায়ার মুখোমুখিতে। নরম গলায় বলল…
—” ভাইয়া যে রেগে আছে তোর উপর সেটা কি করবি?
—” সে-কিছু না। উনার মর্জি মতো কোনো কিছু না হলেই রেগে যায় এটা নতুন না। এখন রেগে আছে, কিন্তু দেখবি একটু পর ঠিকই এসে হাজির হয়ে যাবে আমার কাছে। এই অবস্থায় তো আমাকে মোটেও একা ছাড়বে না আমি জানি। উনি মুখে মুখে একশো বার আমার সাথে রাগ করে বলে, চলে যাব, থাকবো না! কিন্তু আজ পযন্ত আমাকে ছাড়া একা থাকতে পেরেছে? এতোদিন যখন দূরে থাকতে পারেনি আগামীতেও পারবে না। এখন আমি একা নয়। উনার সন্তানও আছে আমার সাথে। তাই উনার আমাদের একা ছেড়ে যাওয়ার পথ বন্ধ।
মায়ার কথায় আবাক হওয়া সুরে জুই বলে…
—” এতো বুঝিস ভাইকে?
—” একদম।
—” তাহলে ভাইয়ের টেনশনটা কেন বুঝতে চাচ্ছিস না? তোর কিছু হলে ভাই ভালো থাকতে পারবে?
—” তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ! আল্লাহ উপর ভরসা, তিনি দেখবেন আমাদের। আমি কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করছি না। আমার এই মূহুর্তে শুধু বাবুকে ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা নেই। আমি জানি উনি আমাকে নিয়ে টেনশনে আছে। কিন্তু আমি এটাও জানি উনি আমাদের খেয়াল খুব ভালোভাবে রাখবেন। আমার বহু সাধনার ফল আমার সন্তান। প্রথম বার আমি ব্যর্থ হয়েছি। তাই বলে দ্বিতীয় হাল ছাড়বো না। যা হবার তা দেখা যাবে। মরার হলে এমনই মরবো তারপরও সন্তানের খুনি হবো না। ইনশাআল্লাহ! সন্তানকে দুনিয়ায় আলো দেখানো শেষ চেষ্টাটা পযন্ত করবো আমি এবার যতকিছু হোকনা কেন।
মায়া দৃঢ় মনোবলে আবাক হলো জুই। মায়ার নিজের সন্তানের জন্য এতোটা সাহসীকতা সত্যি প্রশংসা নিয়।
~~
রাত প্রায় একটা ঘরে। জুই বসে থাকতে থাকতে হাঁটে খেলান দিয়ে মাথা ফেলে ঘুমিয়ে পড়েছিল কিন্তু হঠাৎই কাচা ঘুমে মধ্যে ধুর ফুরিয়ে উঠে বসে দরজা সামনে থেকে মানুষজনের কাউমাউ গুঞ্জনের শব্দ শুনে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে জুই বুঝতে পারে আয়নকে দরজা সামনে আটকিয়ে রেখেছে টাকার জন্য যার জন্য কোলাহলে শব্দ শুনা যাচ্ছে বেশ করে। অস্হিরতায় জুই নড়েচড়ে বসে বসলেও হাত পা ক্রমশয় শীতল হয়ে আসছে বাহির থেকে আয়নের গলা শুনে। এতো দিন তো অসভ্য ডাক্তার মুখে মুখে নির্লজ্জ হয়ে বেড়াত কিন্তু আজতো জুই স্বয়ং তার ঘরে, তারই বিছানায়, তারই বউ সেজে বসে আছে। এবার কি হবে জুইয়ের? ভিতরকার অস্থিরতায় জুই কি করবে ভেবে না পেয়ে ভয়ে দ্রুততার সঙ্গে খাট থেকে নেমে লুকাল রুমের কর্ণারে কর্বাডের পিছনে। জুই ন্যাকা নয়। আর না ন্যাকামি সে করে। কিন্তু এই মূহুর্তে বুদ্ধি তার দ্বিগুণ হারে লুপ পেয়েছে আয়নের আগমনে। এই রাতের জন্য সে মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকলেও আয়নের গলা স্বর শুনে সবকিছু গুলিয়ে ফেলেছে নিজের মাঝে। ভয় নাকি লজ্জা কি নিয়ে সে এতো উত্তেজিত হচ্ছে সেটাও ঠিকঠাক বুঝতে পারছে না। হয়তো দু’টো জিনিসই একত্রে কাজ করছে জুইয়ের মাঝে এজন্য। আয়ন কাজিনদের টাকার ঝামেলা মিটিয়ে রুমে ঢুকে দরজা লক করে পিছন ঘুরে ডিম লাইটের আবছা আলোয় খালি খাটটার দিকে তাকাল। জুইকে বিছানা না দেখে স্বাভাবিক ভাবেই মনে করল হয়তো জুই ওয়াশরুম গিয়েছে। তাই বন্ধ দরজা ওয়াশরুমের দিকে তাকাতে তাকাতে রুমের আলো জ্বালিয়ে রুমটা ফর্সা করলে বুঝতে পারল না দরজাটি তো বাহির থেকে লক করা। তৃষ্ণার্ত চোখ আওড়িয়ে আয়ন ঘর থেকে বারান্দা দিকে উঁকি মারল গায়ের মুজিব কোটটা টেনে খুলে সোফায় ফেলতে ফেলতে। গায়ে তার শুভ সাদা পাঞ্জাবি পড়া। ফ্রেশ হওয়ার তেমন প্রয়োজন নেই। কারণ সে ফ্রেশই আছে। রাত এগারোটার দিকে সে একবার গোসল করে নিয়েছিল সারাদিনের ক্লান্তিতে। তারপর কলিগদের বিদায় করতে করতে এতোটা সময় পার হলো। আয়ন জুইয়ের খুঁজে বারান্দা দিকে যায়। সেখানেও জুইকে খুঁজে না পেয়ে কপাল কুঁচকে আসে আয়নের। সদ্য বিবাহিত পুরাতন বউ তার এই ভাবে নিখোঁজ হয়ে গেল। হদিশ ছাড়া লাপাত্তা? বাসর কি সে মশা মেরে মেরে পার করবে? ঠিকঠাক টাকা পরিশোধ করেও তার ভাগের বউ পাবে না? এতো বড় অন্যায়? আচ্ছা কাজিনরা তার বউ মেরে দিল নাতো? হায় হায় বউ ছাড়া বাসর? ছিঃ! কি বাজে সময় এলো তার! এমনই সে পিছনে পরে গেছে। রিদ অলরেডি বাবা হয়ে বসে আছে। আর সে এখনো বাসরটায় শেষ করতে পারল না। কি কপাল তার। ঐদিকে ছেলের বউ দুনিয়াতে চলে আসছে আর সে এখনো তার বউকে খোঁজে পাচ্ছে না। বাকি কখন কি করবে আল্লাহ জানে। কবে যে তার ছেলেটা দুনিয়াতে আসবে উফফ! সবকিছুতেই দেরি। এতো দেরি হলে তো ছেলে তার সঠিক সময়ে বউ পাবে না। রিদ যা মানুষ নিশ্চিত তার ছেলে ছোট বলে বিয়ে দিতে চাইবে না! ইশশ! টেনশন তো এখনই হয়ে যাচ্ছে। না-জানি ছেলেটা দুনিয়াতে আসার পর আরও কত টেনশন করতে পুত্রবুধ ঘরে আনার জন্য। যতকিছুই হোক! রিদের মেয়েকে ছাড়া যাবে না। ভিলেন বাবার মেয়েকেই বিয়ে করাতে হবে ছেলেকে দিয়ে নয়তো হবে না। কিন্তু তার স্বপ্ন তো তখন পূরণ হবে যখন নিজের বউটাকে পাবে। বউ ছাড়া ছেলের মুখ কি সে ইহ জীবনে দেখতে পারবে? উফফ! অনেক বিরক্তির সহিত আয়ন রুমে প্রবেশ করলো উদ্দেশ্য বউকে খোঁজে বের করা। পাঁজি কাজিন গুলারে দুই চারটা ধমক না দিলেই নয়। দরকার হলে গাল চড়িয়ে লাল করে দিবে। এই সিরিয়াস মূহুর্তে এসে তার সাথে মজা নেওয়া। বউকে গায়েব করে দেওয়া বের করবে। সেকি তাদের ভাগে টাকা দেয়নি? তাহলে তার ভাগের বউ কই? সে যে এমনই পিছনে পরে গেছে সেই খবর আছে কারও? বিরক্তি চেপে আয়ন ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হাতের ঘড়িটি রাগ নিয়ে খুলতে খুলতে পরিচিত ঘ্রাণ নাকে পেল। আয়ন কপাল কুঁচকে পরপর কয়েক বার সেই ঘ্রাণটি নিয়ে আশেপাশে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করল কোথায় থেকে আসছে সেই ঘ্রাণটি। ড্রেসিং টেবিলের পাশে কবাডের কোণায় পর্দার আড়ালে জুইকে লুকিয়ে থাকতে দেখে মূহুর্তেই একটা ভ্রুর উচু করে সেদিকে তাকাল আয়ন। জুই লুকিয়েছে? কিন্তু কেন? আয়ন প্রথমে জুইয়ের হেজিটেশন ধরতে না পারলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কারণটি বুঝতে পেরে ঠোঁট কামড়িয়ে হেঁসে উঠে হাতের ঘড়িটা টেবিলের উপর রেখে এগিয়ে গেল জুইয়ের দিকে। হাত বাড়িয়ে খুপ করে জুইয়ের একটা হাত টেনে পর্দার আড়াল থেকে টেনে বের করে আনতে আনতে বলল…
—” জুই আপনি লুকিয়েছেন কেন? জানেন না আমরা এমনই পিছনে পরে গেছি। সেখানে আপনি লুকিয়ে আরও পিছনে ফেলে দিচ্ছেন আমাকে। রিদ যে বাবা হয়ে গেছে সেই খবর আছে আপনার? আমি কখন বাবা হবো?
আয়নের কথা লজ্জায় সিঁটিয়ে পরলে জুই। এই লাগামহীন কথাবার্তা আর আচারণের ভয়েই তো সে লুকিয়ে ছিল। লজ্জা আড়ষ্ট জুই তৎক্ষনাৎ ঘুরে পর্দা দিয়ে মুখ ঢেকে নেয়। আয়ন এগিয়ে এসে ঘনিষ্ঠ হলো জুইয়ের সাথে। জুইয়ের পিঠ আয়নের পিঠে ঠেকতেই তরতর করে কেঁপে জুই। আয়ন জুইয়ের পাতলা শাড়ী বেধ করে উম্মুক্ত উদরে হাত ছুঁয়াতেই জুইয়ের সমস্ত কায়া নাড়িয়ে কেঁপে উঠে খপ করে আয়নের হাতটা শাড়ী উপর দিয়ে চেপে ধরতেই আয়ন পিছন থেকে দু-হাতে জুইকে গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরতে ধরতে বলে…
—” জুই আজকে গোসল করেছেন? নাকি আমি গোসল করিয়ে দিব বলে বিনা গোসলে বিয়ের পিরীতের বসেছেন কোনটা?
আয়ন পরপর উষ্ণ ঠোঁট জুইয়ের কানে ছুয়াতেই খৈই হারাল জুই। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে অস্থিরতা সঙ্গে তৎক্ষনাৎ পিছন ঘুরে আয়নকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ লুকিয়ে। আয়ন হেঁসে উঠে জুইকে বুক থেকে উঠাতে চাইলে লজ্জায় জুই আরও শক্ত করে ধরে রাখল আয়নকে। আয়ন এদিক সেদিক তাকাল। রুমের লাইট চোখে লাগার মতোন। না নেভালেই নয়। আয়ন পুনরায় জুইকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে না পেরে পিছন হাঁটল জুইকে টেনে নিজের সাথে। জুই গা ছেড়ে পা ফ্লোরে মাড়িয়ে চলল আয়নের সাথে বিছানা অবধি। আয়ন বামে খানিকটা ঝুঁকে দেয়ালে সুইচ টিপে লাইট নিভিয়ে জুইকে এবারও নিজের থেকে সরাতে চাইল। কিন্তু পারল না। জুই লজ্জা থেকে বাঁচতে তখনো আয়নকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেই থাকল ছাড়ল না। আয়ন ফের জুইকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে, না পেরে হতাশ গলায় বলে…
—” জুই আমার রাতটা এভাবে নষ্ট করার ধান্দা পাকিয়েছেন আপনি? তাহলে শুনে রাখুন আজ কিন্তু আমিও হাল ছাড়ব না। আপনি এদিকে দেরি করবেন, আমি ওদিকে দেরি করবো। তারপরও ছাড়াছাড়ি নেই।
লজ্জা আড়ষ্ট জুই নড়াচড়া বিহীন শক্ত করে আয়নকে জড়িয়ে ধরেই দাড়িয়ে থাকল। লজ্জাটা যেন আজ বেশিই লাগছে। এই লজ্জা থেকে বাচতেই তো আয়নের বুকে জায়গায় ঠায় করা ওহ। আয়ন হতাশ ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চিন্তা করল। কি করবে? বউ ত্যাড়ামি করলে কি করা যায়? হার তো মানা যাবে না! এমনই সে পিছনে পরে আছে। আয়ন দুষ্টু বুদ্ধি করে ডিম লাইটের আলোয় আলোকিত জুইয়ের উম্মুক্ত পিঠে ব্লাউজের ফিতার দিকে তাকাল। কি মনে করে ঠাস করে সেটা খুলে দিল। আয়নের হঠাৎ কাজে জুই চমকালেও আয়নকে ছেড়ে দিল না। বরং ভয়ে সিঁটিয়ে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। নিজের ঢেকনিক কাজ করতে না দেখে কপাল কুঁচকে আসে আয়নের। বুকের উপর জুইয়ের দিকে খানিকটা সময় কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থেকে কিছু একটা ভেবে, হাত বাড়িয়ে জুইয়ের কাঁধের কাপড়টি সরিয়ে ঠাস করে ঝুঁকে কামড় বসায় সেখানটায়। আকস্মিক ঘটনায় হতভম্ব জুই কাঁধের ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে আয়নকে ছেড়ে খানিকটা দূরে সরে গেল কাঁধ ঘষতে ঘষতে। আয়নের দিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করতেই দেখা গেল আয়নের ঠোঁটে বিশ্ব জয়ের হাসি। নিজের বোকামির জন্য জুঁই কিছু করবে তার আগেই বাঁধা পরে আয়নের বাহুডোরে। হতভম্ব জুই স্তব্ধ নিবাক হয়ে আছড়ে পরে আয়নের বুকে। গোল গোল চোখ দুটো বড় বড় গেল তৎক্ষনাৎ। পা উঁচিয়ে আয়নের পাঞ্জাবি কলার চেপে ধরতেই আয়ন জুইয়ের ঠোঁট ছেড়ে গলায় নেমে গেল মিনিটের ব্যবধানে। জুই গোঙ্গাল! তরতর করে কেঁপে উঠল আয়নের বক্ষতলপ। আয়ন জুইয়ের সেই কম্পন বাড়িয়ে দিয়ে সময়ের সাথে সাথে প্রেমময় উষ্ণতা ছড়িয়ে দিল রুম জুড়ে।
~~
মায়া কথা মতো ঠিকঠাক রিদ এসে হাজির হয় ঘণ্টা দুয়েক মধ্যে। শত দ্যাড়ামি করেও বউ থেকে সে দূরে থাকতে পারে না। এই বিষয়ে হার সে অনেক আগেই মেনে নিয়েছিল। কিন্তু মায়া কনসিভ করা বিষয়টিতে এখনো সে শত% নারাজ। কিন্তু তাই বলে বউকে বিপদে ফেলে দূরে চলে যাবে এমনটাও না। রাগারাগিটা আলাদা। এক সাথে থেকেও রাগ প্রকাশ করা যায়। রিদ সেটাই করবে তারপরও বউ ছেড়ে যাবে না। মায়া বিছানায় পা তুলে বসে রিদ দিকে তাকিয়ে আছে এক মনে দেখতে দেখতে, রিদ কি করছে না করছে সেগুলো মনোযোগ সহকারে দেখছে। রাত প্রায় একটার ঘরে। রিদ জেদ করে ল্যাপটপ নিয়ে সোফায় বসে কাজ করছে চুপচাপ, না ঘুমাচ্ছা আর না মায়া দিকে তাকাচ্ছে। দুজনই চুপ। মায়া রিদের ভয়ে কথা বলছে না। যদি রিদ রেগে যায় অথবা রুম থেকে মায়াকে বের করে দেয় এই ভয়ে। রিদ না তাকিয়ে বুঝতে পারছে মায়া দৃষ্টি তার উপর স্থির করা। মায়া বসে থাকতে থাকতে পানি তৃষ্ণায় উঠে এসে ফ্রিজ থেকে রিদের জন্য রাখা ঠান্ডা পানির একটা বোতল হাতে নিল। ঢকঢক করে অর্ধেক পানি খেয়ে বোতলটা জায়গায় রেখে আবারও নিজের জন্য ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম বের করল এই ভরা শীতে খাবে বলে। মায়া ন্যাকামি করে খাচ্ছে না। ওর সত্যি গরম লাগছে আর বড্ড তৃষ্ণানা পাচ্ছে সবকিছুতে। মায়াকে চামচ লাগিয়ে আইসক্রিম খেতে দেখে রিদ কপাল কুঁচকে সেদিকে তাকাল। রাগে কটমট করে উঠে গিয়ে মায়ার হাত থেকে ঠাস করে আইসক্রিমের বক্সটা ছিনিয়ে নিয়ে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখল তারপরও মায়ার সাথে কথা বলল না। রিদ ফ্রিজ বন্ধ করে সামনে ঘুরতেই মায়া রিদের দিকে ঠোঁট উল্টিয়ে তাকায়। শুধু শুধু মায়াকে কেন আইসক্রিম খেতে বাঁধা দিল তাও বুঝল না। কিন্তু মায়া বড্ড আইসক্রিম তৃষ্ণা পেয়েছে না খেলেই নয়। রিদ সোফায় যেয়ে বসতেই মায়া ফের ফ্রিজ খুলে আইসক্রিম নিয়ে খাওয়া শুরু করতেই রিদ পুনরায় এসে মায়ার সাথে একিই কাজ করল। বিনা বাক্য বয়ে মায়া থেকে আইসক্রিমের বক্সটা ছিনিয়ে নিয়ে ফ্রিজে রেখে দিল ফ্রিজ লক করে দিয়ে নিজের সাথে চাবিটা পযন্ত নিয়ে গেল। রিদের আগ বাড়িয়ে কর্মকান্ডে মায়া খানিকটা সাহস পেল। রিদ মায়াকে রুম থেকে বের করে দিবে না এই বিষয়টিতে নিশ্চিত হতেই রিদের পিছন পিছন ঘুরঘুর করল মায়া। রিদ যেখানে যাচ্ছে মায়াও পিছন পিছন যাচ্ছে। রিদ বসে থাকলে মায়াও রিদের পাশে বসে থাকছে রিদের দিকে তাকিয়ে। রিদ বিরক্তিতে উঠে দাঁড়ায়। এই বেয়াদব বউয়ের জন্য ঠিকঠাক রাগটাও করতে পাচ্ছে না সে। এই ভাবে পিছন পিছন ঘুরঘুর করলে সে রাগ করে থাকতে পারবে এই জীবনে? সব রাগ চলে যাবে না তার? কিন্তু রিদ আজ সত্যি অনেক রেগে আছে। সেচ্ছায় এই রাগটা সে ধরে রাখতে চায়। সবকিছু ফাজলামি নয়। সন্তান তার এমনই চায় না। সেখানে বউ হারিয়ে সন্তান তো আরও আগে চায় না। বউয়ের বিনিময়ে যদি সন্তান হয় তাহলে এই সন্তানের মুখ সে ইহজীবনে দেখবে না। ভালো থাকার জন্য তার বউটা হলেই হলো। এখন এই একটি কথা বউটাকে কিভাবে বুঝাবে সে। রিদ ল্যাপটপ বন্ধ করে মায়াকে ঠেঙ্গিয়ে বিছানায় গিয়ে কাত হয়ে শুয়ে পরে উল্টো ঘুরে। মায়া রিদের ব্যবহারে হতাশ হলো না বরং স্বাভাবিক ভাবেই রুমে লাইট অফ করে নিজের জায়গায় গিয়ে শুলো রিদের দিকে ফিরে। একটু একটু করে এগিয়ে রিদের শরীর ঘেঁষে পিছন থেকে রিদকে জড়িয়ে ধরতেই রিদ মায়ার হাত ছাড়িয়ে নিল পেট থেকে। মায়া ফের রিদের পেট জড়িয়ে ধরে, রিদ ফের মায়ার হাত ঝাড়া দিয়ে ফেলে দেয়। মায়া আরও খানিকটা রিদের শরীর ঘেঁষে শুইয়ে শক্ত করে রিদের পেট জড়িয়ে ধরতে ধরতে হুমকি স্বরুপ বলে…
—” আমি কিন্তু রুম থেকে বের হয়ে যাব আমাকে জড়িয়ে ধরতে না দিলে বলে দিলাম।
মায়া হুমকিটা মিথ্যা মিথ্যা দিলেও সেটা কাজ করল। মায়া রুম থেকে চলে যাবে এই কারণে রিদ আর বাধা দিল না মায়াকে জড়িয়ে ধরতে। মায়া রিদের বাঁধা না পেয়ে আর সাহস পেল। এতক্ষণ মায়া ভয়ে ছিল রিদ না রেগে মায়াকে রুম থেকে বের করে দেয়। কিন্তু এখন বুঝতে পারে রিদ আর যায় করুক এই মূহুর্তে মায়াকে রুম থেকে বের করবে না বরং নিজের সাথে রাখতে চায়। তবে কথাও বলতে চায় না। মায়া সাহস পেয়ে পটপট করতে লাগল রিদের কানের কাছে। দুনিয়ার সব কথা বলছে সে রিদকে। সারাদিন কি করেছে না করেছে। মূল কথা রিদ মায়া সাথে কথা বলুক এজন্য ওর এতো পটপট। কিন্তু রিদ মায়ার কোনো কথারই উত্তর করছে না আর না মায়ার দিকে ঘুরে তাকাচ্ছে। মায়া পটপট বন্ধ করে মাথা উঁচিয়ে তাকাল রিদের দিকে। রিদের পিছনে থেকে সঠিক বুঝতে পারছে না রিদ ঘুমিয়ে পরেছে নাকি জেগে আছে। মায়া রিদের বাহু টেনে নিজের দিকে ফেরাতে চাইল কিন্তু রিদ ফিরল না। বরং বাহু ঝাড়া দিয়ে ছাড়িয়ে নিতেই মায়া রিদের উপর দিয়ে ঠেঙ্গিয়ে অপর পাশে যেতে শুতে চাইলে রিদের সামনে যথেষ্ট ফাঁকা জায়গায় না থাকায় খাট থেকে পরতে যেতে নেয় মায়া। কিন্তু রিদ তৎক্ষনাৎ মায়াকে ধরে ফেলে পরে যাওয়া থেকে। টেনে মায়াকে বুকে জড়িয়ে নিতে নিতে রাগান্বিত গলায় রিদ বলে…
—” কি সমস্যা তোমার? শান্তি লাগতেছে না? আমাকে জ্বালাচ্ছে কেন?
মায়া দু’হাতে রিদকে আঁকড়ে ধরতে ধরতে বলে…
—” পিছনে শান্তি লাগে নাতো এজন্যই তো সামনে এসেছি। এবার শান্তি লাগছে। আপনি আমাকে এইভাবে জড়িয়ে ধরে রাখুন তাহলে আমার আর অশান্তি লাগবে না। সত্যি বলছি!
রিদ বিরক্তি প্রকাশ করলেও মায়াকে আর ছাড়ল না। বরং বুকে নিয়েই রাখল মায়াকে। প্রশ্ন করার ছিল অনেক। কিন্তু নিজের রাগের বশে রিদ সেদিন আর মায়াকে কোনো প্রশ্ন করল না। তারপর? তারপর দিন গুলো বেশ ভালোই গেল। সময়ে সাথে সাথে রিদের রাগও পরে গিয়েছিল একটা সময় মায়ার উপর থেকে। পরবে না কেন যতদিন যাচ্ছিল মায়ার শারীরিক কন্ডিশন আরও দূর্বল হচ্ছিল। এতে করে রিদের টেনশনও মায়াকে নিয়ে আরও গভীর হচ্ছিল। যার জন্য মায়ার উপর সার্বক্ষণিক একটা এক্সট্রা দৃষ্টি রাখে সবকিছুতে। মায়ার প্রেগন্যান্সিতে কমপ্লিকেটেড থাকার কারণে ছোট থেকে ছোট বিষয় গুলোও রিদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসে প্রথম দিন থেকে। খাওয়া-দাওয়া, ঔষধপাতি, সবকিছুই রিদের নির্দেশ অনুযায়ী করতে হয় মায়ার। মায়ার এলোমেলো খাবার রিদ বন্ধ করে দিলেও মায়া সেই বিষয়ে প্রতিবাদ করে না। আবার খাবার নিয়েও জ্বালায় না। রিদ যা খেতে বলে তাই খায়। কষ্ট হলেও খায়৷ কারণ মায়া রিদকে দেখে বুঝতে পারে কতটা টেনশনে দিন পার করছে মায়াকে নিয়ে। মাঝেমধ্যে রাতে না ঘুমিয়ে মায়াকে বুকে নিয়ে বসে থাকে অতিরিক্ত চিন্তায়। মায়ার সাপ্তাহিক বা মাসিক টেস্ট গুলাও রিদ নিজে গিয়ে করায় হসপিটালের। রিপোর্ট কি আসে না আসে, সেটাও মায়াকে জানায় না। রিদ নিজেই চেক করে ডাক্তারের পরামর্শে। মূলত মায়াকে ওর কোনো রিপোর্ট সম্পর্কেই অবগত করায় না রিদ। কিন্তু মায়ার পরিবর্তীত মুড সুইংয়ে রিদ মাঝেমধ্যে প্রচুর রেগে যায় মাঝেমধ্যে। এই যেমন, রিদ অফিসে থাকলে হঠাৎ হঠাৎ মায়া কেঁদেকুটে বুক ভাসিয়ে রিদকে ফোন করে বলে, জলদি জলদি করে বাসায় আসতে। রিদ টেনশনে কাজ ছেড়ে বাসায় আসলেও মায়া তখন তার কাছে আসতে চায় না, দূরে সরে থাকে এই বলে, পুরুষয়ালি শরীরে ঘ্রাণ লাগে মায়ার নাকে এজন্য চিল্লাচিল্লি করে রিদের সাথে। এতে রিদ তখন অনেকটা রেগে যায়। মায়াকে বলে…
” নিশ্চিত তোমার ছেলে হবে এজন্য আমাকে সয্য করতে পারছো না। তোমার ছেলেই আমাকে ভিড়তে দিচ্ছে না তোমার কাছে।
রিদের কথায় মায়া তখন খুশিতে আটখানা হয়ে যায়। মায়া ছেলে হবে সেই আনন্দ রিদকে সাথে সাথে প্রশ্ন করে বলে…
” সত্যি আমাদের ছেলে বাবু হবে?
রিদ তখন রেগে বলে..
—” আমাদের না। বলো শুধু তোমার ছেলে। বউ আমার, তোমার ছেলে আমার না। জম্মের পর তাকে আমি এতিমখানায় রেখে আসব দেখিও তুমি।
রিদের কথায় মায়া তখন বলে…
—” যদি আমার ছেলে না হয়ে মেয়ে হয় তখন কোথায় রেখে আসবেন?
রিদ কথা বলে না। চুপ করে থেকে মায়ার পেটের দিকে তাকায়। তার জীবনে নারী জাতির অনেকটা জায়গায় দখল করে আছে। প্রথমে মা, তারপর দাদী, এখন বউ, এরা সবাই রিদের ভালোবাসা মানুষ। মায়া রিদের মতিগতি বুঝার চেষ্টা করে। ছেলের বেলায় চেতে উঠে অথচ মেয়ের কথা বলতেই চুপ হয়ে গেল? রিদের কি তবে মেয়ে পছন্দ? রিদের মনের অনূভুতি বুঝতে মায়া তখন মিথ্যা বলে বললো…
” আমার মেয়ে হলে আয়ন ভাইয়াকে দিয়ে দিব। আপনার সন্তান চায় না। আমার মেয়ে চায় না সমান-সমান!
মায়া কথাটা যে রিদের পছন্দ হয়নি তা রিদের পরিবর্তীত চেহারায় প্রকাশ পেল। তারপরও মায়াকে কিছু না বলে রিদ রেগে ওয়াশরুমের চলে যেতেই মায়া মুখ বাঁকায়। সারাক্ষণ উল্টাপাল্টা কথা বলে মায়াকে। বউ তার হলে সন্তান কিভাবে তার হয়না? মায়া কি আকাশ থেকে বাচ্চা এনেছে? আজাইরা কথা। মায়া হালকা ফুলা পেটের উপর হাত রেখে সেদিকে তাকিয়ে আদুরে হাত বুলিয়ে আদুর করতে করতে বলে…
—” আমার বাবু! আমার বাবু!
রিদ ফ্রেশ হয়ে আসতেই তার কিছুক্ষণ পরই দেখা যায় মায়া রিদের পিছন পিছন ঘুরঘুর করছে শার্ট আঁকড়ে। রিদ সেখানে যাচ্ছে মায়াও সেখানে যাচ্ছে। এই এখন বলে, রিদের শরীরের ওহ ঘ্রাণ সয্য করতে পারছে না, আবার তার পরক্ষণেই রিদের গলায় মুখ গুজে ঘ্রাণ নিতে ভালো লাগে বলে। যখন মায়া রিদের শরীরের ঘ্রাণ নিতে পছন্দ করে বা কোলে চড়ে বসে থাকে তখন রিদ বলে…
” এবার নিশ্চয়ই তোমার মেয়ে হবে এজন্য তুমি আমাকে সয্য করতে পাচ্ছো। আমার সঙ্গ চাচ্ছো।
রিদের কথায় মায়া তখন খুশিতে আটখানা হয়ে বলে..
” তাহলে কি আমার টুইন বেবি হবে মিস্টার ভিলেন?
রিদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলে..
” আমি কি জানি আমাকে বলছো কেন?
রিদের রাগ মায়া গায়ে মাখায় না। মায়া জানে সে এমনই করে সবসময়। ত্যাড়া মানুষ গুলা সহজে কিছু শিকার করতে চায় না। তবে মায়ার টুইন বেবি হলে দারুণ হবে বিষয়টি। ইশশ! মায়া নিজের পেটে হাত রেখে আদুর করল। রিদ দৃষ্টি ফিরিয়ে সেদিকে তাকাল তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। অদৃশ্য বাঁধায় রিদ নিজের সন্তানের প্রতি ভালোবাসাটা প্রকাশ করতে পারে না। তবে মায়া ঘুমিয়ে পড়লে সন্তানকে দিকে তাকিয়ে থাকে। নিজের মনের অজান্তেই মায়ার পেটের উপর দিয়ে সন্তানকে একটু আধটু আদুর করে। তবে বেশি করে না। বেশি আদুর করলে সে আবার দূর্বল হয়ে যাবে। রিদ খানের দূর্বলতা আবার পছন্দ না। এক বউয়ের উপর দূর্বল হয়ে আজ তার এই অবস্থা। এইতো কথায় কথায় একদিন রিদ মায়াকে জিগ্যেসা করেছিল মায়া কনসিভ করল কিভাবে? সেতো মেডিসিন খাওয়াত মায়াকে তারপরও কিভাবে কি? মায়া তখন রিদের চাপে পরে সত্যিটাই জানিয়ে ছিল। বলেছিল রিদের দেওয়া ঔষধ মায়া গালের ভিতর জমিয়ে রেখে পরে সেটা পেলে দিতো রিদের অগোচরে আর খেত না সেটা। সব শুনে রিদ সেদিন খুব হতাশ হয়ে ছিল। তার মতোন চতুর মানুষকে যদি বউয়ের কাছে এইভাবে ধরা খেতে পারে তাও দুই দুইবার করে তাহলে অন্যান্য পুরুষদের কথা কি বলা যায়? মায়া যখন প্রেগ্ন্যাসির পাঁচ মাস তখন খবর এলো জুইও কনসিভ করেছে। আয়নের খুশি আর দেখে কে। অবশেষে তারও ছেলে হবে এই খুশিতে পুরো হসপিটালের মিষ্টি বিতরণ করল। আয়নকে কেউ যদি বলে ‘আপনার ছেলে হবে এতোটা শিওর কিভাবে হচ্ছে? আপনার মেয়ে তো হতে পারে তাই না? তখন আয়ন সেই মানুষটার কথায় শত% স্বতঃস্ফূর্ত সঙ্গে জবাব দিত এই বলে যে.. ” তার ছেলেই হবে সে-জানে।
~~
রাত দুটো ঘরে। নিঘুম কাটছে আরও একটি রাত রিদের। সামনে ল্যাপটপ আর ফাইল। হাতে কাজ অনেক কিন্তু কোনো কিছুতেই মনোযোগ হতে পারছে না। টাইপ করতে করতে হঠাৎ হঠাৎ মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অতিরিক্ত টেনশনে। রিদ রেগে হাতের ধাক্কায় ল্যাপটপসহ ফাইল গুলো নিজের কাছ থেকে সরিয়ে সোফায় গা এলিয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে শুলো। তার মানসিক চাপের কারণ বরাবরই মায়া। তবে এবার কারণটা আরও গুরুতর। মায়ার কনসিভ করাটা অবধি ঠিক ছিল সে নিজের মতোন করে হ্যান্ডেল করছিল বিষয় গুলো। কিন্তু এখন? এমনই মায়া উপযুক্ত নয় বেবি কন্টিনিউ করা জন্য সেখানে মায়ার টুইনস বেবি কন্টিনিউ করাটা আরও রিক্স। একটা বেবি যেমন তেমন দু’টো বেবি কিভাবে সামলাবে এই দূর্বল শরীরে। ডাক্তার বলে দিয়েছে সময়ে আগে সিজার করিয়ে নিতে মায়ার কারণ একজোড়া বেবির ভারে শরীর কন্ডিশন আরও বিগরাতে পারে মায়ার। আজকাল রিদের কাজে ভুল হয় মনোযোগে অভাবে। কোথাও বেশিক্ষণ থেকে শান্তি পায় না। এই মনে হয় মায়ার কোনো সমস্যা না হয়ে গেল তার অগোচরে। এই ভয়ে রিদ মায়ার পড়াশোনা অবধি বন্ধ করে দিয়েছে। আয়ন জুইয়ের পড়ালেখা কন্টিনিউস করলেও রিদ মায়ার কলেজ প্রথমেই বন্ধ করে দিয়েছিল। রিদ মায়া চলাচল নিয়ে সন্তুষ্টি ছিল না। কারণ মায়া এমনই হাঁটতে হাঁটতে পা বেজে পরে যাওয়া স্বভাব আছে। এমন পাগল বউ যদি কলেজে গিয়ে কোনো বিপদ বাড়ায় তার জন্য তখন? রিদ রিক্স নিল না। কলেজে পাস না-হয় বেবি হওয়ার পর করবে। এখন রিক্স নিয়ে পড়ার দরকার নেই। তবে আজকাল রিদের আরও একটা ভয় হয়। সে মাঝে মধ্যেই স্বপ্ন দেখে তার ঘর, তার বিছানা খালি পরে আছে। সেখানে মায়া নেই। রিদের বুকটাও খালি পরে থাকে মায়া ঘুমাই না। চারপাশে থেকে যেন রিদের একাকিত্ব জীবন ঘিরে ধরেছে মায়াকে হারিয়ে। সেখানে ছোট ছোট হাত পায়ের বাচ্চাদের নিজের আশেপাশে দেখে কিন্তু বউকে কোথাও পায় না। এতে রিদ ভয় পায়। এলোমেলো চিন্তায় টেনশনটা আরও বেশি হয়। রিদ চোখ তুলে তাকায় বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা মায়ার দিকে। খানিকটা সময় মায়ার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে এগিয়ে যায় সেদিকে। মায়ার শিরধারায় বসে আদুরে হাত বুলাল মায়ার মাথায়। মায়ার পাশের বালিশ গুলো সরিয়ে মায়াকে টেনে নিজের কোলে তুলে নিল ঘুমের মধ্যে। খাটে হেলান দিয়ে মায়াকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে অপর হাতটা রাখল মায়ার পেটে। তৎক্ষনাৎ বেবির নড়াচড়া আভাস পেয়ে রিদ চমকে উঠে ঘুমন্ত মায়ার দিকে তাকাল। তার জীবনের প্রথম এইভাবে অনুভব করেছে অন্তঃসত্ত্বা অস্তিত্বদের। সত্যি দারুণ সেই অনুভূতি। রিদ মায়াকে ঘুমে দেখে ফের মায়ার পেটে হাত রেখে বেবির নড়াচড়াটা অনুভব করতে চাইল। বাবা হওয়ার অনুভূতিটা হয়তো তার পাষাণ সত্তাকেও নাড়িয়ে তুলেছে এবার। এই যে, বেবির অল্প নড়াচড়াতে তার কতটা আনন্দ হচ্ছে সেটা কি ভাষা প্রকাশ করতে পারবে? পারবে নাতো। রিদ পরপর মায়ার পেটে আদুরে হাত বুলিয়ে দিতে মায়া নড়েচড়ে উঠে ঘুমের ঘরে। মায়া নড়াচড়ায় রিদ আস্তে করে নিজের হাতটা সরিয়ে নিল মায়ার পেটের উপর থেকে। এইভাবে চলল আগামী দিন গুলো মায়ার অগোচরে রিদের সন্তানের প্রতি ভালোবাসাময় আদুর প্রকাশ করে। তারপর থেকে বাকি দিন গুলোও একই ভাবে কাটলো। কিন্তু বিপত্তি ঘটল মায়ার নয় মাসের মাথায়। সেদিন হেনা খান সপরিবারে মায়াকে নিয়ে গিয়েছিল নিজেদের এতিমখায় বাচ্চাদের খাওয়াতে রিদের মা-বাবার মৃত্যু বার্ষিকী ছিল বলে। প্রতি বছরই এইদিনটা তারা পালন করে। এবার ভিন্নতা নেই। আয়ন, জুই, মেহেরবান, শাহেবা, মারিহা, নিহা, সোহাগ, মোট কথা হেনা খানের মেয়ে ও তাদের জামাইদের নিয়ে সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। মায়ার পরিবারের সকলেই ছিল সেখানে। আত্মীয় স্বজনরা সকলে থাকলেই রিদ ছিল না প্রথমে কিন্তু পরে মায়াকে রিসিভ করতে অনুষ্ঠান শেষে চলে আসে এতিমখানায়। মা-বাবা প্রতি তার ভালোবাসা ষোলো আনা থাকলেও ঘটা করে সবার সামনে প্রকাশ করা স্বভাব তার নেই। এসব সকল আয়োজন রিদ নিজেই করিয়েছে মানুষ দিয়ে কিন্তু সে মানুষের সমাগমে থাকতে পছন্দ করে না। সবিই ঠিকঠাক ছিল। সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ সকলেই এতিমখানা থেকে খান বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। রিদের গাড়িতে মায়া উঠল। মায়াকে সন্ধ্যা পর বাহিরে রাখা ঠিক হবে না বলে রিদ মায়াকে নিয়ে আগে বেড়িয়ে গেল। একে একে বাকি গাড়ি গুলোও আসছিল পিছন পিছন কিন্তু পথি মধ্যে রিদের গাড়ি হঠাৎই ব্রেক ফেল করায় কন্ট্রোল হারায় রিদ। অকারণে রিদের গাড়ি ব্র্যাক ফেল করা প্রশ্নই উঠে না। সে এতিমখায় আসার সময়ও ঠিক ছিল। হয়তো কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে তার গাড়ির ব্রেক ফেল করেছে যাতে তাদের ক্ষতি হয়। খোলা রাস্তা রিদের এলোমেলো গাড়িতে মায়া আতঙ্কে উঠে। নিজের পেট দু-হাত ঢেকে কান্না ভরা চোখে তাকাল রিদের দিকে। কম্পিত গলায় কেঁদে আহুতি করে বলে রিদকে…
—” আমাদের বাবুদের বাঁচান মিস্টার ভিলেন প্লিজ! এতো যুদ্ধ করে লাস্ট এসে আমি হেরে যেতে চায় না। প্লিজ আমার বাবুদের বাঁচান। ওদের যেন ক্ষতি না-হয় প্লিজ!
রিদের চোখে মুখেও ভয়ে আতঙ্কের ছাপ দেখা গেল। তবে নিজের জন্য নয়। বউ বাচ্চার সেইফটি জন্য। রিদ একহাতে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে অপর হাতে টেনে নিজের গা থেকে গাড়ির সিট বেল খুলে তৎক্ষনাৎ মায়ার পেটের উপর ঝুঁকে পরতেই ততক্ষণে গিয়ে রিদের গাড়িটি গিয়ে গাছের গোড়ায় ঢুকে গেল ভারি খেয়ে। যার ফলে রিদ গুরুতর আহত হয়। এতোটা আহত হয় যে জায়গায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে দুজনই। তবে নিজের সন্তানদের বাঁচাতে রিদ তেমন একটাও সক্ষম হলো না। রিদের শরীর মায়ার পুরো পেট ঢাকতে সক্ষম হলেও গাড়ির দরজা সাথের পাশটায় মায়ার পেট ভারি খায়। যা দারুণ মায়ার পেটের একটা পাশ অনেকটা আহত হয় যার জন্য মায়াও জ্ঞান হারিয়ে ফেলে রিদের পূর্বেই। রিদের বডিগার্ডের গাড়ি ছিল পিছনেই। আসিফ পূর্ব থেকেই রিদের গাড়িকে আটকাতে চেষ্টা করছিল কিন্তু পারলো না। রিদের গাড়ি এক্সিডেন্ট করায় আসিফ তাড়াহুড়ো তৎক্ষনাৎ দুজনকে হসপিটালের শিফ্ট করাল। খান বাড়ির সদস্যের মধ্যে ফের একবার হাহাকার লেগে গেল কান্নায়। অচেতন রিদের শরীর থেকে কাঁচ ভাঙ্গা বের করে অবজারভেশনে রাখা হলো। মায়া ডেলিভারি সবকিছু ঠিকঠাক রিদ আগে থেকেই করে রেখেছিল। কারণ এমনইতে দশদিন পর মায়ার ডেলিভারি ডেট ছিল৷ কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত এই দুঘটনার কারণে তৎক্ষনাৎ মায়াকে সিজারের নেওয়া হলো অচেতন অবস্থায়। হেনা খান মায়া সিজারের সময়ে উপস্থিত ছিল অটিতে। ফুটফুটে দেখতে দুটো সন্তান জম্ম দিল মায়া। একটি ছেলে অপরটি মেয়ে। ছেলে সন্তানটি সুস্থ সবল ঠিকঠাক থাকলেও মেয়ে সন্তানটির মাথায় আঘাত পাওয়ার ফলে রেসপন্স কম করছে। তবে জীবিত আছে। ডক্টর রেবা তৎক্ষনাৎ মেয়ে বাচ্চাটিকে অবজারভেশনে রাখল। মেয়ে বাচ্চাটি যে মাথায় অনেকটা আঘাত পেয়েছে সেটা বাচ্চাটির রক্ত জমে থাকা লাল মস্তিষ্ক দেখেই বুঝা যাচ্ছে। হেনা খান, রেহেনা বেগম, জুই, মুক্তা, বাড়ির সকল মহিলা সদস্যরা নিঃশব্দে গুমরে গুমরে কেঁদে উঠছে। মেয়ে বাচ্চাটিকে যে বাঁচানো যাবে না তা ডাক্তার ইতিমধ্যে বলে দিয়েছে তারপরও তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা দিয়ে। রিদের জ্ঞান ফিরল বারো ঘন্টা পর। জ্ঞান আসার পরপরই উত্তেজিত ভঙ্গিতে দৌড়ায় মায়ার জন্য। করিডোরে আসতেই দেখল বাড়ির সবাই বিষন্ন ভগ্নহৃদয় চেহারা বসে আছে এলোমেলো ভাবে। কেউ কেউ কান্নাও করছে। রিদের অস্থিরতাটা বুঝে আরাফ খান এগিয়ে যেতেই রিদ উত্তেজিত হয়ে প্রথমে মায়ার কথা জিগ্যেসা করল। তিনি বিষন্ন মনে জানায় মায়ার জ্ঞান এখনো ফিরেনি তবে ভালো আছে। রিদ স্বস্তির হতে গিয়েও হতে পারল না নিজের সন্তানদের কথা জানতে পেরে। হতভম্ব হয়ে ছুটল নিজের একজোড়া ছেলেমেয়েদের কাছে। রিদ নিজের ছেলেকে দেখার আগে মেয়েকে দেখল অক্সিজেন বক্সের ভিতর। চোখ বন্ধ করে ভারি নিঃশ্বাস টানছে তার মেয়ে বাঁচার জন্য লড়াই করে এতো আঘাত পাওয়ার পরও। সাহসী বাবার সাহসী মেয়ে। রিদ অক্সিজেন বক্সের উপর কাপা কাঁপা হাত রেখে কপাল ঠেকাল তাতে। মন নিংড়ে আশা কষ্টটা চোখের পানি হয়ে বের হলো গাল গড়িয়ে। রিদের জীবনে, রিদ লাস্ট কেঁদেছিল মার মৃত্যুতে। মায়ার জন্যও কখনো কাঁদা হয়নি। বউয়ের জন্য সে উত্তেজিত হয়েছে, অস্থির দিশেহারা হয়েছে তারপরও চোখ গড়িয়ে পানি আসেনি, কারণ সে অনেকটায় শক্ত পাষাণ মনের মানুষ সে। কিন্তু আজ যেন নিজের মেয়ে বেলায় ভিতরকার শক্ত সত্তাটাও নড়ে উঠে। রিদ কাঁচের বক্স খুলে অক্সিজেন ভিতর থেকে মেয়েকে বের করে হাতে নিল। ছোট একটি প্রাণ তার হাতে। তবে ভিষণ আদুরের তার মেয়ে। রিদ ঠোঁট বাড়িয়ে চুমু খেতে যেতে মেয়ের কপালে এক ফোঁটা চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল। বাবার চোখের পানিতে মেয়ে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায়, আদু আদু চোখ তুলে প্রথম বারের মতো বাবার দিকে তাকাল। বাবার মুখ দেখতেই মিষ্টি হেঁসে উঠল রেসপন্স করে। আদুরে হাত নাড়িয়ে অঅঅ শব্দও করল। রিদ আলতো চুমু খেয়ে চোখ তুলে মেয়ের দিকে তাকায়। নাকে অক্সিজেন নল। মাথায় জায়গায় জায়গায় ছোট নলে তার লাগিয়ে রেখেছে চিকিৎসার জন্য মেয়েকে। রিদের চোখে ফের ভারি কষ্টের পানি আসে। মেয়ে বাবাকে দেখে হেঁসে হাত পা নাড়াতেই রিদের দলা পাকিয়ে আসা কষ্টে গুলো হলায় আঁটকে গুমরে উঠে বলে…
—” বাবা ব্যর্থ হয়েছে তোমাকে প্রটেক্ট করতে আম্মু। তুমি বাবাকে ক্ষমা করো না। একদম করো না। বাবা ভালো না, তোমাকে দুনিয়াতে সুস্থ সবল ভাবে আনার ওয়াদা করেও তা রক্ষা করতে পারেনি। বাবা তোমার অপরাধী। তুমি বাবাকে কক্ষনো ক্ষমা করো না আম্মু। একদম করো না।
বাবার কথায় মেয়ে কি বুঝল কি জানি হাত বাড়িয়ে রিদকে ছুঁয়ার চেষ্টা করতেই রিদ নিজের মুখ এগিয়ে দিল। আদু আদু হাতে বাচ্চা মেয়েটি রিদের গাল স্পর্শ করে ফের অঅঅ শব্দ করে কথা বললো একটু করে। রিদ বুঝার চেষ্টা করল মেয়ের ব্যথাত্তর কথা গুলো। কিন্তু বুঝল কি বুঝল না তা জানা নেই, তবে মেয়েকে কোলে নিয়েই বসে রইল রিদ অক্সিজেন বক্সের সাথে মিশে। উপস্থিত সবাই রিদের মমতাময় দৃশ্য দেখে নিবাক হলো। মেয়ের প্রতি এতো স্নেহ ভালোবাসা তার এই জীবনে কারও প্রতি প্রকাশ করেছে কিনা বলা দায়।
সবাই রিদ খানকে সচারাচর রাগতে দেখেছে কিন্তু এতোটা মমতাময়ী হতে দেখেনি। কিন্তু ভাগ্য রিদের! তার মেয়ে তার কোলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ঘন্টা খানিকটা মধ্যেই। হয়তো মেয়ে তার জন্যই এতক্ষণ যাবত মৃত্যু সাথে লড়াই করছিল বাবা মুখ দেখার আশায়। মেয়ের মৃত্যুতে রিদ আবারও সেদিন কেঁদেছিল নিঃশব্দে। বারবার চোখের পানি মুছতে দেখেছিল সবাই। মায়ার জ্ঞান ফিরেছিল ঠিক একদিন পর। মৃত্য বাচ্চাটিকে ততক্ষণে আইস বক্সে রাখা হয়। মায়ার জ্ঞান ফিরার পর নিজের সন্তানের খুঁজ করতেই জানায় মৃত্য মেয়ের কথা। মায়ার সেকি বুক ফাটা আতনার্দে চিৎকার। একবার নয় দুই দুইবার সন্তান হারিয়েছে সে। মেয়েকে করব দেওয়া হয় রিদের বাবা-মার করব স্থানের পাশে। তারপর? তারপর থেকে সবকিছু ঠিকঠাক। রিদের ছেলের নামও রাখা হয়। মারিদ আলতাফ খান। এখানেও সবিই ঠিকঠাক ছিল কিন্তু মায়ার ছেলে দেখতে হয়েছে পুরো বাবার মতোন এতে করেও মায়া কতো কষ্ট। মায়ার ছেলে মায়ার মতো কেন হবে না? এটা অন্যায় হয়ে গেল না মায়ার উপর? মায়া খোঁজে খোঁজে ছেলের সাথে নিজের মিল বের করতে চাইল। কিন্তু একটা দুইটা ছাড়া তেমন কিছু পেল না। এই যা গায়ের রঙটা আর গলার তিলটা ছাড়া। এতেই মায়া ছেলেকে নিজের উপাধি দিয়ে বসায়। ছেলে ওর মতোন হয়েছে। কিন্তু সবাই যখন বলে মারিদ রিদের মতোন হয়েছে তখন মায়া কেঁদেকুটে রিদকে নালিশ করে বলল ‘ মারিদ কেন মায়ার মতো হলো না। কেন রিদের মতোন হলো। এতে রিদ মায়ার কথায় বিরক্ত হয়ে বলে.. ” তুমি আরও সারাদিন বসে বসে আমাকে দেখে গিলে খাও তাহলে তোমার ছেলে তোমার মতোন হবে আমার মতোন না হয়ে। মায়া মুখ বাঁকায়। স্বামীকে দেখবে নাতো কাকে দেখবে? সবসময় আজাইরা কথা। তারপর দুই বছর মায়া মারিদকে সাথে করেই কলেজ পাস করল। কিন্তু ছেলে যত বড় হচ্ছে মায়া টেনশন যেন ততই বাড়ছে ছেলে অতিরিক্ত গম্ভীর স্বভাবের জন্য। মায়ার কথা রিদের মতোন দেখতে হয়েছে সমস্যা নাই কিন্তু রিদের স্বভাব একদমই পাওয়া যাবে না। এক ত্যাড়া মানুষকেই মায়ার সামলানোর দায়। এখন যদি ছেলেও ত্যাড়া হয় তাহলে মায়ার আর দুশ্চিন্তা অন্তত থাকবেনা। রিদের জন্য তো মায়া ছিল যেমন যেমন হোক জীবনের জড়িয়ে গেছে। কিন্তু ছেলে যদি এমন ত্যাইড়া হয় তাহলে তার জন্য বউ পাওয়া দায় হয়ে যাবে। কেউ মেয়ে বিয়ে দিবে না ছেলের কাছে। তাছাড়া বউ তো তখন খুঁজবে যখন ছেলের মেয়ে পছন্দ হবে। ছেলের স্বভাবে এখনই সহপাঠী মেয়েদের সাথে বেশ একটা মিশতে চায় না। দূরে থাকে। ছেলে মার জন্য পাগল ঠিক আছে। কিন্তু বাবার সাথেও মাঝেমধ্যে গম্ভীর হয়ে যায়। যেমনটা রিদ ছেলের কাজের উপর গম্ভীরতা পালন করে ঠিক তেমন। মায়ার একশোটা কথা মারিদ শুনবে কিন্তু পালন করবে রিদ যা বলে তাই। এমনকি মায়া একশো খাবার দিলেও সেটা পছন্দ হয়না। আবার মুখেও বলে না তার পছন্দ না। কিন্তু রিদ কি খাচ্ছে? কিভাবে খাচ্ছে সবটা লক্ষ করে করে নিজে নিজে খাবে সেই স্টালে দেখতে দেখতে ডাইনিং টেবিলের বসে। মায়া তখন হতাশ চোখে তাকিয়ে বাপ ছেলের মনস্তাত্ত্বিক গম্ভীরতা বুঝার চেষ্টা করে। দেখতে নয় স্বভাবেও দুজন একই। কেউ কাউকে বেশি কথা বলে বিরক্ত করে না। তবে দুজনই দুজনের সঙ্গে পছন্দ করে। রিদ সারাদিন পর রাতে অফিস থেকে বাসায় ফিরলে মারিদ বাবার পাশেই চুপচাপ বসে থাকবে। অথযা এটা সেটা ধরে বা বাড়তি কথা বলে বিরক্ত করে না। অনেকেটা জম্মগত ভাবে ডিসিপ্লিন বাচ্চা সে। ছেলের গম্ভীর কাটিয়ে তখন রিদই প্রথম কথা বলে। এটা সেটা বলে দুজন সুশীল গল্প করতে করতে সময় কাটায়। মায়া তখন হতাশ হয়। এই ছেলে ওর নাক কাটিয়ে দেয় সবসময়। চঞ্চল মার বুঝধার ছেলে হওয়ার কি দরকার ছিল। মায়ার মতো না হোক অন্যান্য বাচ্চাদের মতোন প্রাণবন্তর হলেও তো পারতো। হেনা খান, আরাফ খান তো মারিদের স্বভাবে মায়াকে রোজ বলে বেড়ায় মারিদ রিদের কপি পেস্ট। ছোট বেলায় রিদও এমনই ছিল। শান্ত শিষ্ট আর গম্ভীর। কিন্তু মারিদ বা রিদকে দেখে তাদের রাগের পরিমাণটা ঠাওর করা দায়। এতোদিন মায়া রিদের পিছন পিছন ঘুরঘুর করলেও এখন সে বুঝদার ছেলেকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় পুরো খান বাড়িতে। এইতো সেদিননমায়া মারিদকে নিয়ে বাগানে থেকে পেয়ারা পারতে গিয়ে লাল পিঁপড়া কবলে পরে দুজন। মা-ছেলে দুজনের চিল্লা চিল্লিতে রিদ দৌড়ে আসে। মায়ার বেধুম কান্নায় মারিদ চুপ করে যায়। বুঝধার ছেলের মতোন নিজেকে পিঁপড়া থেকে না ছাড়িয়ে মায়ের পায়ের পিঁপড়া ছাড়ানোতে বসে যায়। ছোট ছোট হাতে যতোটা দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার করার চেষ্টা করে। রিদ এগিয়ে এসে মারিদকে টেনে পায়ের পিঁপড়া ছাড়াতে গেলে তখন মারিদ মায়ার পায়ের দিকে তাকিয়ে টেনশনে সহিত বলে…
—” আম্মু ব্যথা পাচ্ছে। আম্মুকে আগে পিঁপড়া ছাড়িয়ে দাও আব্বু।
ছেলের বুঝদার কথায় মায়া আরও কাঁদে কষ্টে। মায়া কি নিজের জন্য কাঁদছিল নাকি ছেলেকে পিপড়া কামড়াচ্ছিল বলে সে কাঁদছিল ছেলের কষ্টে। বাচ্চা মানুষ বাকি বাচ্চাদের মতোন কেন চিল্লাচিল্লি করে সারাদিন কাদবে না। কেন মায়াকে কথায় কথায় জ্বালাবে না? কেন? কেন? মায়ার এতো কেনর উত্তর কে দিবে? মায়া সারাদিন চেষ্টা করে মারিদের গম্ভীরতার ভাবটা কাটিয়ে সহজ করে তুলতে। সেজন্য
এটা সেটা বলে আবুল তাবল শেখানোর চেষ্টা করে মারিদকে। মায়া বিশ্বাস সঙ্গে দোষে হলেও মারিদ অন্যান্য বাচ্চাদের মতোন চঞ্চল হোক তবুও রিদের মতোন উগ্র বদমেজাজি বা বেপরোয়া আচরণ না পাক। ছেলের অতিরিক্ত চঞ্চলতাও মায়া মেনে নিবে তারপরও গম্ভীর রিদের মতোন ত্যাড়া স্বভাবের মানা যায় না। মায়ার একটি মাত্র সন্তান সহজে তো হার মানা যায় না তাই না। এজন্য মায়া মারিদকে বাকি সব বাচ্চাদের মতোন কাপড়, চুল সেট করে দিলেও মারিদ সেটা উল্টিয়ে রিদের মতোন সেট করতে চায় সবসময়। কাপড় সেভাবেই পড়বে যেভাবে রিদ সেট করে পরে। অনেক সময় মায়া রেগে যায় ছেলের গম্ভীর ত্যাড়ামি দেখে। কাপড় পড়ানোর সময় মারিদ চুপচাপ পড়ে নিবে মায়ের হাত থেকে কিছু বলবে না তবে বাবার কাছে গিয়ে ঠিকই বলে, ওকে রিদের মতোন করে পুনরায় কাপড় পরিয়ে দিতে। তখন মায়া হতাশ হয়। ছেলেকে শাসন তো তখন করবে যখন ছেলে বেয়াদবি করবে বা কথা শুনবে না। মারিদ তো সব কথায় শুনে। মুখে মুখে তর্কও করে না এতোটা ডিসিপ্লিন বাচ্চা সে। এবং বয়সের তুলনায় একটু বেশিই বুঝদার। বাচ্চা হয়েও সকল বাচ্চাদের সাথে খেলতে চায় না শুধু জুইয়ের বড় ছেলে রাদিল, আর আরিফের বড় ছেলে নাদিম সঙ্গে মিশে ভিডিও গেইম খেলবে ব্যস এতটুকুই। বাকি কোনো বাচ্চাদের সঙ্গে মিশতে চায় না। রিদ বাসায় থাকলে সারাক্ষণ বাবার সঙ্গে বসে থাকবে অকারণে চুপচাপ তারপরও বাহিরে গিয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করবে না। যদিও মাঝেমধ্যে খান বাড়ির মাঠে রাদিল বা নাদিমের সঙ্গে ক্রিকেট খেলে ব্যথা পায় তাহলে এতটুকু পাঁচ বছরের বাচ্চা কাঁদে না। হাত পা ঝেড়ে নিজে নিজে উঠে যায়। নিজের যত্ন নিজেই করবে। হেনা খান বা মায়া আহাজারি করে কাঁদলে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থাকে তাদের দিকে। জুইয়ের পড়াশোনার মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বেবি কনসিভ করে যখন রাদিলে বয়স দুই বছর। জুই আর আয়নের দুই ছেলে। বড় ছেলে রাদিল মারিদের পাঁচ মাসের ছোট। ছোট ছেলে মাহিম যার বর্তমান বয়স দুই বছর। ফিহার ক্ষেত্রেও তাই তাদের ও দুই ছেলে মেয়ে নেই। বড় ছেলে ইফরাদ, মারিদের আট মাসের ছোট। আর রাদিলের তিন মাসের। ছোট ছেলে পিয়ুশ যার বয়সও দুই বছর। মোট কথা খান বাড়িতে নতুন প্রজন্মের কারও মেয়ে নেয়। এতে করে সবার মনে একটা বিষয়ন্নতা কাজ করে। বিশেষ করে জুই ও ফিহা দুজনই মেয়ের জন্য দ্বিতীয় বার ট্রাই করে ছেলে হয়েছে তাদের। আর মায়া? ওকে তো রিদ সুযোগ দিচ্ছে না তৃতীয় বার সন্তান নেওয়ার জন্য। তারপরও মায়া সুযোগে সন্ধানে আছে সন্তান নেওয়ার। কেনই বা নিবে না সে? রিদ যে মেয়ের জন্য কেঁদে ছিল সেটা মায়া শুনেছে সবার কাছ থেকে। মায়া নিজেও জানে রিদের কতটা পছন্দ মেয়ে। ছেলে পছন্দ না এমনটা না। ছেলে মেয়ে একিই সমান তারপরও মায়া চায় তাদের আরও একটা মেয়ে হোক। অন্তত রিদের জন্য হলেও একটা মেয়ে চায় তাদের। মারিদ মা বাবা বলতে পাগল হলেও সারাক্ষণ গম্ভীর হয়ে চলে বাবার মতোন। মায়া চায় রিদের উপর কলকাঠি নাড়ার জন্য হলেও তাদের একটা মেয়ে দরকার। গম্ভীর গম্ভীর বাপ-ছেলেকে মায়া একা কিভাবে সামলাবে? মারিদকে না-হয় ছেলে হিসাবে সামলে নিল কিন্তু রিদ? তাঁকে মায়া আজ পযন্ত কন্ট্রোল আনতে না পেরেছে আর না ভবিষ্যতে আনতে পারবে, মায়ার কোনো কথায় রিদ কোনো কালেই শুনে না। নিজের মর্জি মতো চলে। হয়তো মেয়ে হলে শুনবে এই আশা মায়া সুযোগের অপেক্ষায় থাকে রিদ ভুল করলে সেটা কাজে লাগবে বলে। চতুর রিদকে পুনরায় হারাতে মায়ার পাঁচ বছর লাগল। মায়া যখন বাইশ বছর তখন তৃতীয় বারের মতোন আবারও কনসিভ করে। রিদ সেদিন রাগ প্রকাশ করতে গিয়েও পারেনি। শুধু হতাশ দৃষ্টিতে মায়ার খুশি ভরা মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল। সংসার করবে না, করবে না করে করে রিদকে পাক্কা সংসারি বানাল এই বউ। একটা দুইটা নয় পুরো চারটা সন্তানের বাবা বানাল তাকে। দূর্ভাগ্যবশত দুজন মারা গিয়েছিল। কিন্তু এখন আবার কনসিভ করল। রিদ মায়ার কনসিভের সংবাদ পেয়ে সেদিন জিগ্যেসা করেছিল, মায়া এখন কিভাবে রিদের উপর দিয়ে কল কাঠি নাড়ল? সেতো এবার মায়ার গাল মুখ চেক করেছিল মেডিসিন খাওয়ানো পর তাহলে? মায়া তখন ড্রেসিং টেবিলের কোণায় জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে জানায়, রিদের দেওয়া মেডিসিন মায়া বার্থরুমে গিয়ে বমি করে ফেলে দিয়েছিল পরে। খাইনি। মায়ার জবাবে রিদ হতাশ গলায় বলে…
—” আমি ভুল করলেই তোমাকে সেটা কাজে লাগাতে হবে এমন কোনো কথা আছে? সবসময় মানুষ কতটা সর্তক থাকতে পারে বলো। আমি ভুল করলেই তোমাকে প্রেগন্যান্ট হতে হবে? তুমি প্রেগন্যান্ট কেন হবে? কি দরকার এতো বাচ্চার?
মায়ার তখন রিদের কথায় আপত্তি করে বলে…
—” আজব! আমার স্বামী আছে তাহলে আমি কেন প্রেগন্যান্ট হবো না?
রিদ চেতে বলে…
—” ফাজলামি পাইছো? তোমার মতোন স্বামী সবার থাকে না। স্বামী থাকলেই প্রেগন্যান্ট হতে হবে এমন কোনো কথা আছে।
মায়া তখন উল্টা উত্তরে বলে…
—” অবশ্যই কথা আছে। আমার স্বামী আছে আমি প্রেগন্যান্ট হয়েছিল দরকার হলে ভবিষ্যতে আরও হবো। আপনি দেখেন না জুই, ফিহা আপুর দুটো করে সন্তান। আর আমার একটা। আমি ওদের থেকে পিছিয়ে আছি না?
মায়া কথায় রিদ দাঁতে দাঁত চেপে বলে…
—” তুমি কি কম্পিটিশনে নামছো কার কতটা বাচ্চা হবে এই নিয়ে? তাহলে বলে রাখি এই কম্পিটিশনে তুমিই ফার্স্ট হইছো। এই নিয়ে পরপর চার সন্তানের মা হইছো তুমি সাথে আমাকে বাবা বানাইছো। এবার অন্তত জেদ করা ছাড়ো রিত। আর কতো বেবি প্ল্যানিং করবে তুমি? অনেক তো হলো।
—” আমার পাঁচটা বেবি যতক্ষণ না পর্যন্ত হয় ততক্ষণ পযন্ত। আপনার এতো বড় বাড়ি পাঁচটা বেবি না হলে চলে বলুন।
মায়া কথায় রিদ কিছুই বললো না। জেদ করে উঠে গেল। কারণ সে জানে মায়াকে বলেও লাভ নেই। পাঁচটা বেবি যখন বলেছে তখন দেখা যাবে পাঁচটা বেবিই সে নিবে। রিদের শত না করা বা সর্তক থাকাটাও কাজে দিবে না, মায়া সুযোগ বুঝেই কাজে লাগাবে সেটা। এমন করলে দেখা যাবে তার পাগল বউ বুড়ো বয়সেও তাকে বাবা বানাবে। এর চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য রিদ মায়ার দ্বিতীয় সিজারের সময় জম্মনালি কেটে দেয় ডাক্তার পরামর্শে যাতে মায়া আর কনসিভ করতে না পারে কোনো সময়। এই বিষয়ে রিদ ছাড়া বাকি কেউ জানে না এমনকি রিদ মায়াকেও বলেনি। বললে হয়তো দেখা যেত মায়া কেঁদেকুটে বুক ভাসাত রিদের সাথে। নয়তো রাগারাগি করবে। তবে রিদ এবার নিশ্চিত হলো শত ভুল করলেও মায়া সেটা আর কাজে লাগাতে পারবে না এই ভেবে। এই সবকিছুর মধ্যে রিদ সবচাইতে বেশি যেটাতে খুশি হলো সেটা হলো তার একটা মেয়ে জম্ম হওয়াতে। রিদের খুশি সবাই দেখেছিল সেদিন। মুখে তার চকচক করা নেয় হাসির ফুটে ছিল। রিদের মেয়ে হওয়াতে আরও একজন তার চেয়েও বেশি খুশি ছিল সে হলো আয়ন। অবশেষে ছেলের বউ জম্ম হয়েছে বলে তার খুশি আর দেখে কে? মায়া মেয়েও হয়েছে বেশ দেখতে। বাবা মার মিলিত কম্বিনেশন। দেখতে মায়ার মতোন হলেও গায়ের রঙ রিদের পেয়েছে। ঘন কালো জোড়া ভ্রুরও রিদের পেয়েছে। মিষ্টি হাসতে দেখতে মায়ার মতোন। সারাদিন হাত পা ছুটিয়ে অঅঅ শব্দ করে কথা বলে খেলে। যে খেল দেখাবে তার সাথেই হাসবে, খেলা করবে। মায়া ছেলের স্বভাবে অসন্তুষ্ট হলেও মেয়ের স্বভাবে বেশ খুশি চঞ্চল হরিণ হয়েছে বলে। অন্তত রিদের মতোন গম্ভীর হয়নি এতেই বেশ। মায়া মেয়ের নাম রেখেছে রিদ নিজে। রিদিতা খান সুখ। সবাই সুখ, সুখ বলেই ডাকে। রিদ তো বলে বেড়ায় বাবার সুখ, বাবার সুখ! এরমাঝে ফিহার তৃতীয় সন্তান হয় একটা মেয়ে। বয়সে রিদের মেয়ের দুই মাসের ছোট হলেও দেখতে ভারি মিষ্টি। অনেকটা আরিফের দাদীর মতোন হয়েছে। এই নিয়ে তো শফিকুল ইসলাম ভিষণ খুশি। নিজের মা মতোন দেখতে হয়েছে বলে। প্রথম মায়া ছিল এখন আরিফের মেয়ে হয়েছে উনার মার মতোন। তাই তিনি নিজেই সেই মেয়ের নামকরণ করেছে নিজের মায়ের নামে লতিকা খাতুন পরি। সবাই পরি পরি বলেই ডাকে। মানুষ বলে না আল্লাহ দরবারে সঠিক ভাবে চাইতে জানলে আল্লাহ কাউকে ফেরায় না। ঠিক তেমনই খান বাড়ির মানুষের ক্ষেত্রে হয়েছে এতোদিন মেয়ে মেয়ে করে সবাই যে হতাশায় ছিল আল্লাহ তালা মায়া আর ফিহা ঘরে দুই কন্যা সন্তান দিয়ে সেই অভাব পূরণ করল। বিশেষ করে মায়ার ক্ষেত্রে চাওয়াটা বেশি পূরণ হলো মেয়েকে দিয়ে। যে রিদ মারিদের জম্মের পরও বাসায় রাত করে ফিরতো সেই রিদকে এখন দেখা যায় সন্ধ্যা হলেই বাসায় উপস্থিত থাকে মেয়ের জন্য। মেয়ের কোনো কাজই মায়ার জন্য ফেলে রাখে না নিজেই করে নেয়। মেয়েও তার বাবার বলতে পাগল। রিদ আশেপাশে থাকলে কারও কোলে যেতে চাইনা৷ এমনকি মায়ার কোলেও না। সারাদিন গ্যাইগুই শব্দ করে কথা বলতে চায়। রিদকে পেলে তো কথায় নেই। পুরো কান্না থেমে যায় রিদকে পেলে। একদম শান্ত হয়ে যায় কাঁদতে কাঁদতে। রিদ বাসায় বসে কাজ করলেও সুখকে বুক পকেটের ব্যাগে ভরে কাঁধে ঝুলিয়ে রাখে। এমনকি সকাল সকাল হাঁটাহাটি করলেও মারিদের সাথে মেয়েকেও নিয়ে আসে কাঁধ ব্যাগের বুকে ঝুলিয়ে। সুখ হাত নাড়িয়ে হেঁসে কুটি কুটি হয় বাপ-ভাইয়ের সাথে ঘুরে বেড়ায় মার কথা মনেও করে না। বোনের ক্ষিদা লাগলে মারিদ নিজের ছোট ব্যাগ থেকে ফিটার বের করে দেয়। রিদ সেটা খাওয়ায় সুখকে। মারিদ মেয়েদের সঙ্গ তেমন পছন্দ না হলেও বোনের সঙ্গে তার বেশ পছন্দ। আদুরও করে বেশ। তবে মারিদ যতোটা শান্তি শিষ্ট গম্ভীর সুখ ততটাই চঞ্চল হরিণী। এরজন্য স্বভাবগত দিক থেকে একিই প্রকৃতি মানুষ বাপ-ছেলের ভিন্ন স্বভাবের মা-মেয়েকে এতোটা পছন্দ করে কি তাদের ছাড়া চলেই না।
( এই একটা পার্ট লিখতে আমার তিন দিন লাগছে। একবার লিখি অন্য ডিলিট করি। কিভাবে ছোট করবো গল্পটা ভাবতে ভাবতে এতোকিছু। আসলে গল্পটা শটকার্ট করতে চাচ্ছিলাম তাই।)
চলবে….
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬০(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১০+ বর্তীতাংশ
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৬