Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮৩


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ার করবেন)
৮৩
গাড়ি ঘুরিয়ে রাস্তার মুরে থামল আয়ন। এইতো সামনে দেখা যাচ্ছে জুই শুভর সাথে হাসি মুখে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। রাগান্বিত আয়নের চোখে লাগল জুঁইয়ের হাস্য উজ্জ্বল মুখটা। তিরতির করা রাগে মূহুর্তেই বিষ ফুটে গেল শরীরে। আয়ন দাঁত কিরমির করে গাড়ি থেকে নামল। ঠাস করে গাড়ির দরজাটা লাগিয়ে এগিয়ে গেল জুইয়ের উদ্দেশ্য! গায়ে এখনো তার বাসার কাপড় পড়া। হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরে ছিল শেষ রাতের দিকে। ঘন্টা তিনেক ঘুমিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বসেছিল ফের বাবার ব্যবসার কাজে বাহিরে যাবে বলে। নাহিদ চৌধুরীর হঠাৎ মৃত্যুতে আয়ন ওর বাবার এলোমেলো ব্যবসাটার হাল ধরেছে বিগত একমাত্র ধরে। আর তাতেই যেন বিপত্তি বাজল! আয়নের কাছে তার বাবার সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে একের পর এক। যেটা অন্তত চমক পূর্ণ। আয়ন ভিতর থেকে ভেঙ্গে পরেছিল যখন জানতে পারলো নাহিদ চৌধুরী কালো দুনিয়ার নারী পাচারের ব্যবসায় জড়িত ছিল। এবং সে এই ব্যবসার লিড করতো একচ্ছত্রের আধিপত্যে সঙ্গে। আর এই একটি বিষয় আয়নকে বেশ কষ্ট দিচ্ছে বিগত দিন ধরেই। বাবার মৃত্যুতে এতোদিন শোকে থাকলেও এখন যেন নাহিদ চৌধুরীর সত্যিতে আয়ন আরও বেশি কষ্ট পাচ্ছে। মৃত্যু ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা যাবে না। তবে জীবিত থাকার অবস্থায় আয়ন কেন ওর বাবার কাজের খুঁজ নিল না এই একটি বিষয়ের আফসোস সারাজীবন থাকবে। জুইয়ের উপর ওর প্রথমে রাগ ছিল কিন্তু সেই রাগ একটা সময় পরেও গেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে নাহিদ চৌধুরীর মৃত্যু, তার এক্সিডেন্ট, মেহেরবানের মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়াটা ছিল আয়নের অতিরিক্ত মানসিক চাপে কারণ। এতোকিছু মাঝে সে নিজেকে সময় দিচ্ছিল সবকিছু গোছাতে। বাবার একের পর এক সত্য প্রকাশে সে আরও বেশি দূর্বল হয়ে পরছিল বলেই সে এক প্রকার ইচ্ছা করেই জুইকে ব্লক করে দেয় নিজের এলোমেলো পরিস্থিতি একা সামাল দিতে। আয়ন নিজেই বাবার সত্যি সামলে উঠতে পারছিল না। এমনত অবস্থায় যদি আয়ন জুইয়ের সাথে কথা বা যোগাযোগ করত তাহলে আয়ন কখনো না কখনো দূর্বলতা বশে জুইকে বাবার অমানুষ হওয়ার সত্যিটা বলে ফেলতো! সে চায় না বাবার সত্যিটা পরিবারের সামনে আসুক। মরা মৃত্যু উপর যত আঙ্গুল তুলবে ততই নোংরা হবে সবকিছু। তবে নাহিদ চৌধুরী জীবিত থাকলে হয়তো আয়ন এর সঠিক আইনের ব্যবস্হার নিত কিন্তু মরা মানুষের উপর কি ব্যবস্হা নিবে? তারপর আবার বাবা হয় ওর! সব মিলিয়ে আয়ন এখনো জবুথুবু অবস্থায় আছে। কিন্তু তাই বলে এই নয় যে তার বউ অন্য ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াবে রাস্তায় রাস্তায়। আর সেটা সে আপোষে মেনে নিবে সহ্যশীল পুরুষের মতোন। আয়ন কিছু দিন নিজের জন্য সময় নিচ্ছল, কিন্তু বউকে অন্য ছেলের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নয়। আয়নের ভালো মানুষির সুযোগ সবাইকে নেওয়া বের করবে। রিদ ঠিকই বলে ‘ভালো মানুষের মূল কেউ দেয় না। আসলে ভালো মানুষের প্রয়োজনই এই কালের যুগে নেয়। বেখেয়ালি জুই তখনো কাঁধে কলেজ ব্যাগ জড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুভর থেকে একটা শপিং ব্যাগ নিচ্ছে মুক্তা পাঠিয়েছে ওর জন্য। মূলত জুই সেটা নেওয়ার জন্যই বাড়ির রাস্তা দাঁড়িয়ে থাকা শুভর অপেক্ষা করে। শুভ আসার পর সৌজন্য খাতিরে কুশলাদি জিগ্যেসা করছিল একে অপরের হাঁসি মুখে যেটা আয়নের দূর থেকে চোখে বিধে। আয়ন রাগান্বিত পায়ে দুপদাপ হেঁটে হঠাৎ জুইকে পিছন থেকে টেনে নিজের কাছে আনে শুভর থেকে। যার দারুণ হাতের শপিং ব্যাগটা নিচে পরে যায়। আচমকা হেঁচকা টানে জুই চমকায়। চোখ তুলে তাকাতে চাইলে ঠাস করে থাপ্পড় পরে বাম গালে। আকস্মিক ঘটনায় হতভম্ব হয়ে যায় শুভ। কি হয়েছে বিষয়টি বুঝতে তার দুই সেকেন্ড লাগলো। কিন্তু বুঝতে পেরে তেতে উঠে আয়নের রুড ব্যবহারে। জুই ভালোবাসার মানুষ শুভর। আজ পযন্ত জুইয়ের অমর্যাদা সে করেনি। আয়ন আর জুইয়ের মধ্যেকার সম্পর্কটা সে জানে। কিন্তু সবটাই তো পরিস্থিতির শিকার তাহলে এতো কিসের অধিকারে মারল জুইকে এই ডক্টর সাহেব? আত্মীতা বলে থাপ্পড় মারল? আত্মীয় তো শুভ হয়! আয়নের মতো করেই! শুভ আয়নের উপর রিয়েক্ট করতে চাইলে মধ্যস্হ হয়ে বাঁধা দিয়ে দাঁড়ায় জুই! আয়ন রাগে কটমট করে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায় সেদিকে। রাগে শরীর ফেটে পড়ছে তার! ইচ্ছের করছে জুইকে আরও দুটো থাপ্পড় মারতে! বিয়ে করা! নাগর পাতানো শখ বের করতে! আয়নের চেপে রাখা রাগটা দমন করতে না পেরে ফেটে পড়ল আবারও জুইয়ের উপর। জুইয়ের হাত টেনে আবারও নিজের দিকে ঘুরিয়ে শক্ত হাতে গাল চেপে, দাঁতে দাঁত পিষে বলে…

—” দুইদিনের দূরত্বে নতুন স্বামী জুটিয়েছিস যে আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার প্রয়োজন পযন্ত মনে করিসনি? বাসর করে সোজা রাস্তায় দাড়িয়েছিস?

গালের ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে জুই আয়নকে হাত দিয়ে সরাতে চেয়ে বলল..

—” কে স্বামী? কার বিয়ে? কার কথা বলছেন আপনি? আজেবাজে বকছেন কেন? ছাড়ুন আমাকে! ব্যথা পাচ্ছি আমি!

—” সাধু মহিলা আমাকে মিথ্যা বলিস? কাল রাতে শুভকে বিয়ে করিসনি তুই? আমার সাথে বেঈমানী করিসনি তুই? বল?

গালের ছিঁড়ে দাঁতের সাথে লেগে যাওয়ার উপক্রম হলো আয়নের হঠাৎ চেপে ধরায়। ব্যথায় জুইয়ের চোখে পানি আসলে ওহ! জোর করে দু’হাতে আয়নের বুকে হঠাৎ ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরাতে সরাতে বলে…

—” অভস্ত্যতা করার জন্য সবসময় আমাকে কাছে পান আপনি? আমি কেন শুভ ভাইকে বিয়ে করতে যাব? ডিভোর্স হয়েছে আপনার সাথে আমার যে আরেকটা বিয়ে করবো? তবে হ্যা বিয়ে করার প্ল্যানিংয়ে আছি। আপনাকে ডিভোর্স দিয়েই শুভ ভাইয়াকে বিয়ে করবো! হয়েছে এবার! যান আপনি! পারলে আরও কোথাও থেকে আমাকে ব্লক করুন গিয়ে! যান।

জুইয়ের কথায় আয়ন চমকে উঠে থামে। সন্দেহ পূর্ণ দৃষ্টিতে কপাল কুঁচকে তাকায় জুইয়ের দিকে। কে মিথ্যা বলছে মায়া নাকি জুই? মায়ার মিথ্যা বলে লাভ কি? তাছাড়া জুইকে দেখে মনে হচ্ছে না সে কাল রাতে বিয়ে করছে। সাধারণ বেশে কলেজ ড্রেসে দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। তাছাড়া জুই কাল বিয়ে করলে আজ সকালে কলেজে যেতে দিতো না কেউই। তাহলে কি মায়া মিথ্যা বলে আয়নকে জুইয়ের কাছে পাঠাল? কিন্তু কেন? আয়ন আর জুঁইয়ের মধ্যকার সম্পর্কটা ঠিক করার চেষ্টায়? মায়ার চোখে পড়েছিল আয়ন আর জুইয়ের মধ্যকার হওয়া মনমালিন্যতাটা? হয়তো চোখে পড়েছিল এজন্যই তো মিথ্যা বলে তাকে পাঠাল জুইয়ের কাছে। মায়ার মিথ্যাটা খারাপ হয়নি। অনেক তো হয়েছে! এবার আয়নের দরকার জুইকে নিজের কাছে রাখার চিরতরে বউ করে। আয়নের বাবা নেই! মা অসুস্থ! ফিহা বিয়ের হয়ে গেছে, সে শশুর বাড়ি ছেড়ে কতোদিন থাকবে তাদের সাথে? দিন শেষে ফিহাও চলে যাবে নিজের স্বামীর ঘরে। আয়নও এই মূহুর্তে যতোটা মানসিক চাপে দিন পার করছে, এই সময়ে আয়নের জুইয়ের সঙ্গের একমাত্র প্রয়োজন। মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে ভেবে আয়ন শান্ত হলো। কিন্তু রাগ পড়ল না। জুইয়ের বাগদত্তা যে শুভ ছিল সেটা এতোদিন তাকে কেন জানায় নি? জুই তো অন্যর বউ! পিরীতির মানুষের সাথে হেঁসে খেলে এতো ভাব জমাতে হবে রাস্তায় দাড়িয়ে? আয়ন শান্ত হয়ে গম্ভীর মুখ হলো। বাড়ন্ত রাগ চেপে রেখে খপ করে জুইয়ের হাত চেপে নিজের সাথে নিয়ে যেতে লাগলে শুভ এগিয়ে আসে বাঁধা দেশ তাকে। হতভম্ব জুঁই ভয় পাচ্ছে আয়নের পরিবর্তীত রাগী রুপে। আয়ন রাগ পিষে অন্তত গাম্ভীর্য কন্ঠে শুভকে বলল…

—” ডোন্ট ডু দিস মিস্টার আহামেদ! বাঁধা শুনতে আসিনি! বউ নিতে আসছি, বউ তো নিয়েই যাব! বাঁধা না দিয়ে বোন সমতুল্য বিয়াইনের শশুর বাড়িতে আসবেন বিয়ের দাওয়াত খেতে! আমন্ত্রণ রইল। এবার পথ ছাড়ুন! মাথা এমনই গরম! নিজের প্রেস্টিজ নষ্ট করতে চাচ্ছি না শশুর বাড়ির রাস্তা! বুঝেনই তো ভাই! কেন অহেতুক ঝামেলা করছেন বলুন তো? দুনিয়া এদিকে থেকে সেদিক হয়ে গেলেও আজ আমি বউ নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। এবার সামনে থেকে সরেন তো দেখি।
~~
গাড়ির ফ্রন্ট সিটে বসে আছে আয়ন আর জুঁই। গম্ভীর মুখে আয়ন গাড়ি ড্রাইভ করলে জুই বেশ অস্থিরতার ছটফট করছে তখনকার বিষয়টি নিয়ে। আয়ন এক প্রকার জোর করেই জুইকে নিজের সাথে নিয়ে এসেছে শুভকে ঠেঙ্গিয়ে। গরমা গরমিতে শুভ হয়তো এতক্ষণে জুইয়ের পরিবারের কাছে এসব কিছু বলেও ফেলেছে। জুই আর আয়নের বিয়েটা শফিকুল ইসলাম কিভাবে নেন সেই চিন্তায় মাথা ফেটে যাচ্ছে জুইয়ের। টেনশনে একজায়গায় বসেই থাকতে পারছে না অস্থিরতায় ছটফট করেছে সিটে নড়েচড়ে বারবার আয়নের দিকে তাকাচ্ছে আবার রাস্তা দেখছে। কি করবে? কি বলবে বুঝতে পারছে না? হঠাৎ করে আয়নের ও রকম ব্যবহার করার কারণটাও জুই শুনেছে আয়নের কাছ থেকে। ইতিমধ্যে আয়ন বলেছে মায়া মিথ্যা বলে তাকে পাঠিয়েছে এখানে। এতে জুইও বুঝতে পারে মায়া তাদের মধ্যকার সম্পর্কটা ঠিক করতে চাচ্ছে বলেই এমনটা বলা। হয়তো মায়া সফলও হয়েছে। কিন্তু জুই ভয় পাচ্ছে শফিকুল ইসলামকে নিয়ে। সত্যিটা জানার পর তিনি কি করবেন? জুইয়ের এতো এতো টেনশনে মধ্যে আয়ন ড্রাইভ করতে করতে বামহাত বাড়িয়ে রেডিওতে গান ছেড়ে দিল। ভলিউম বাড়িয়ে বাজাল “

তুমি মোর জীবনের ভাবনা আ আ আ..
হৃদয়ের সুখের তুলা আ আ আ..
নিজেকে আমি ভুলতে পারি তোমাকে যাবে না ভুলা আ আ আ…

এইটুকু বাজতেই জুই খপ করে গানটা বন্ধ করে দিল রাগে। এমনটা না সে গানটা অপছন্দ হয়েছে। গানটা পছন্দেরই তবে এই মূহুর্তে পরিস্থিতিটা পছন্দের না। সে অতিরিক্ত টেনশনে আছে হয়তো যেকোনো সময় কান্নাও করে দিবে। এই সময়ে যে আয়ন জুইয়ের মজা নিচ্ছে সেটা তার উদাসীন ব্যবহারেই বুঝা যাচ্ছে। জোরপূর্বক বাসায় ধরে নিয়ে যাচ্ছে আবার কারণও বলছে না। শুধু বলছে আজ থেকে জুই আয়নের সাথে থাকবে ব্যস! এই ব্যস বললে কি হয়? খান বাড়ির সবাই জুইয়ের আর আয়নের বিয়েটা জানলেও জুইয়ের পরিবার তো ঘুনাক্ষরে জানে না। সবচেয়ে বেশি ভয় শফিকুল ইসলামের রিয়াকশনের কথা চিন্তা করে হচ্ছে। জুইয়ের এতো এতো টেনশন কমাতে আয়ন কই জুইকে শান্তনা দিবে তা-না করে উল্টো গান ছেড়ে মজা নিচ্ছে ওর। শান্ত শীতল পরিবেশে নিরব থেকে দুজন দুজনার মধ্যকার অভিমানে পাল্লা ঝাড়ল। আয়ন খানিকটা চুপ থেকে ফের হাত বাড়িয়ে গানটা ছাড়তে ছাড়তে আয়ন বলল…

—” বুঝলেন জুই। মনে রঙ লাগছে। অবশেষে আমিও একটা বউ পেলাম। আহা কি সুখ! আজ আমার কষ্টও গুছল! আমার রাতে আর একা ঘুমাতে হবে না বলেই তো পছন্দের গান শুনছিলাম মনের সুখের। উফফ! আমি তো রাতের কথা চিন্তা করছি! আচ্ছা জুই! এই যে আপনি শশুর বাড়ি যাচ্ছে স্বামী সংসার করতে সেই মোতাবেক আজকে আমাদের বাসর হওয়ার কথা তাই না? জুই রাত কখন হবে? আমি কিন্তু রাতে অপেক্ষায় আছি।
~~
অসুস্থতা চেপে ক্লাস গুলো শেষ করতে চেয়েছিল মায়া। কিন্তু শরীর অবশেষে সায় দিল না। বিগত কয়েক দিনের মায়ার চেপে রাখা অসুস্থতা তুমুল ভাবে প্রকাশ পেল যখন মায়া চলতি ক্লাসের মধ্যে মাথা ঘুরিয়ে নিচে পরে যায়। ক্লাস বেঞ্চের কোনায় লেগে কপাল কেটেছে মায়া। কিন্তু ততক্ষণে মায়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। টিয়া, ছায়াসহ চলতি ক্লাসের বাকি ছাত্রীরা হৈচৈ বেঁধে এলোমেলো ভাবে মায়াকে নিয়ে টানে অজ্ঞানরত মায়াকে বেঞ্চে বসানোর চেষ্টা করলো। দুপাশ থেকে ছায়া টিয়া মায়াকে ধরে বসল উত্তেজিত ভঙ্গিতে মায়াকে ডাকতে ডাকতে! হঠাৎ মায়ার অজ্ঞান হওয়ার কারণ কেউ না জানলেও ক্লাস টিচার্স তৎক্ষনাৎ বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ডদের ডেকে ভিতরের আনল। মায়ার অবস্থা দেখে ওরা তাড়াহুড়ো খান বাড়িতে ফোন করে মায়ার জ্ঞান হারানোর বিষয়টি জানাতেই হেনা খান গাড়ির করে দশ মিনিটের মধ্যে মায়ার কলেজে পৌছাল মায়াকে নিতে। মায়াকে আলদা রুমে কলেজ ম্যাডামরা উপস্থিত থেকে টিয়াকে দিয়ে মায়ার মাথায় পানি ঢালতে দেখে হেনা খান অস্থির ভঙ্গিতে সেদিকে দৌড়ে যায়। মায়া জ্ঞান ফিরেছে তবে দূর্বলতায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। মায়াকে অসুস্থতায় ঝিমাতে দেখে তিনিও অন্তত অস্থির হয়ে উঠেন। হঠাৎ করে মায়ার এতোটা অসুস্থতার কারণ বুঝতে না পেরে তিনি তাড়াহুড়ো মায়াকে কোনো রকম উঠিয়ে টিয়াকে নিয়ে বডিগার্ডসহ গাড়ির করে সোজা যান হসপিটালের। পারসোনাল ডাক্তারের পরামর্শে মায়া বেশ কিছু সন্দেহ জনক টেস্ট করান হেনা খান। সবগুলো টেস্টই হেনা খানের কাছে সন্দেহ জনক লাগল। তিনি ভালো মন্দ সব বুঝেন। কিন্তু মায়ার বেলা যেন মন বুঝতে নারাজ। বারবার বলছে এই বুঝি সত্য নয় মিথ্যা হবে। যদি সত্য হয় তাহলে উনার দীর্ঘ দিনের করা দোয়া কবুল হতে যাচ্ছে। আল্লাহ তালা উনার কবুল করেছে ভেবে মনে মনে নিজের মধ্যেই অস্থিরতা কাজ করে। রিপোর্ট কাল আসবে’ বলে মায়াকে নিয়ে সোজা খান বাড়িতে গেল তিনি। যত্ন সহকারে মায়াকে রিদের রুমে শুইয়ে দিয়ে নিচে আসতেই ড্রয়িংরুমে মুখোমুখি হয় আয়ন আর জুইয়ের। বিস্ময়কর রেশ টেনে একটা মূহুর্তের জন্য হেনা খান মায়া কথা ভুলে গিয়ে এগিয়ে যায় আয়ন দিকে। জুইকে আয়নের সঙ্গে দেখে অধৈর্য্যর গলায় বলল তিনি…

—” তুই জুইকে কোথায় পেয়েছিস আয়ন? ওর না বিয়ে হয়ে গেছে তাহলে?

জুই হাসফাস করে আড়ষ্ট হয়ে গেল জড়তায়। সামনে কেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে ওর জানা নেই। তবে সে বেশ ভয়ার্ত এই বিষয়ে। আয়ন জুইয়ের হাত চেপে ধরে রাখা অবস্থায় বলল…

—” আমি ডিভোর্স দিয়েছি যে অন্যকে বিয়ে করবে? আমার বউ আমারই আছে। জুইয়ের বিয়ে হয়েছে এটা মায়া মিথ্যা বলেছিল আমাকে। এখন সব ঠিকঠাক আছে। তুমি আমাদের বিয়ে ব্যবস্হা করো এই সাপ্তাহের মধ্যে। ততদিন জুই খান বাড়িতেই থাকবে।

আয়নের কথা গুলো যুক্তি সংগত মনো হলো না হেনা খানের। বিয়েটা ছেলে খেলা নয়। এই বললাম তো, এই হয়ে গেল। একটা প্রিপারেশন দরকার আছে। আত্মীয় স্বজনরা আছে। আরও কতো কি? তাছাড়া মায়ার পরিবারের দিকটা তো দেখতে হবে নাকি? জুইয়ের সত্যিটা এখনো জানানো হয়নি ওদের। তারা সবটা শুনে কি রিয়েক্ট করে? মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হয় কিনা সেটাও তো আছে। এই সবকিছু ঠিকঠাক করতেও তো সময়ের প্রয়োজন। হঠাৎ করে পাগলামো করলে তো হবে না তাই না? এক সাপ্তাহ ঊর্ধ্বে লাগবে জুইয়ের বাবাকেই বুঝাতে। সেখানে বিয়ে দিবে তো দূরে কথা। কারণ শফিকুল ইসলাম মায়া থেকে জুইকে নিয়ে বেশি পজেসিভ। জুইয়ের কোনো বিষয়ে বিন্দু মাত্র আপোষ করে না তিনি কোনো কিছুতে। সেখানে কতটা ঝামেলা করবে কে জানে? তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা হলো মায়াদের পরিবার মধ্যেবিত্ত মধ্যে পরে। সেখানে পরপর লাগাতার এতো বার বিয়ের আয়োজনে টাকা খরচ করাটাও তাদের আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এখন আবার জুইকে বিয়ে দেওয়াতে টাকার প্রয়োজন। শফিক অন্য থেকে দুই টাকাও নিবে না আত্মসম্মানের জন্য। সেখানে উনাদের ও মায়ার পরিবারের দিকটা দেখা উচিত। এমন তাড়াহুড়ো করলে তো আর চলবে না তাই না। হেনা খান সবটা চিন্তা করে নাহুচ স্বরে বলল…

—” এক সাপ্তাহ মধ্যে তোদের বিয়ে দেওয়া অসম্ভব। শফিক মানবে না। তাছাড়া শফিককে তোর জন্য জুইকে বুঝাতেও সময় লাগবে। তোদের বিয়ের কথাও জানাতে হবে। সবটা শুনে শফিক স্বাভাবিক ভাবে নিবে না বিষয়টি। তাই বলছি অধৈর্য না হয়ে সময় দে আমরা শফিকে বুঝায় তোদের বিয়ের বিষয়টা নিয়ে।

হেনা খানের কথায় আয়ন রাগ ক্রোধ কিছুই প্রকাশ করলো না। সে জানে এমন কিছু হবে তার সাথে । সেজন্য সে পূর্ব থেকে সবকিছু চিন্তা ভাবনা করে রাখে। আয়ন এক মূহুর্তে জন্য রিদের মতোন ক্রিমিনাল বুদ্ধি খাটিয়ে বলল…

—” উনাদের(মায়ার পরিবার) খান বাড়িতে আসতে বলো নানুমা! আমার আর জুইয়ের বিয়ের সত্যিটাও জানাও। বুঝাও! মানলে ভালো। এই সাপ্তাহই আমাদের বিয়েটা ঠিক করে ফেলো। নয়তো জুই আর খান বাড়ির থেকে নিজের বাপের বাড়ি ফিরে যাবে না। আমি দিব না। এই-ই শেষ! আমি বউ পেয়ে গেছি আর অনুষ্ঠানের দরকার নেই। আমি আর জুইকে তাদের কাছে ফিরত পাঠাব দিব না এটাও জানিয়ে দিও।

আয়নের কাইথ করা কথায় মূহুর্তে হতবুদ্ধি হয়ে গেল জুই আর হেনা খান। আয়ন যে এই ভাবে জুইকে উঠিয়ে এনে বেঁকে বসবে ভাবেনি কেউ। এটা কোনো কথা?

চলিত….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply