দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮২
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ার করবেন)
৮২
বাবা শফিকুল ইসলামের রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমের দিকে এগোল জুই। বাসায় আরিফ বা ফিহা কেউ নেই। আরিফ বিগত মাস দেড়েক হলো চট্টগ্রামে আছে নিজের কাজে। ফিহা আপাতত নিজের বাড়িতেই আছে পিতা হারানোর শোকে মা পাশে। এই মূহুর্তে মেহেরবানের পাশে ফিহার থাকাটা বেশি প্রয়োজন। মায়া নেই! শশুর বাড়িতেই আছে। বিগত দেড়মাস হলো মায়ার সাথেও জুইয়ের যোগাযোগ হয়না। মায়া হাতে ফোন নেই। কিন্তু হেনা খানের ফোনে ফোন করলেও বাসার সবার সাথে কথা বললেও জুইয়ের সাথে কথা হয়না মায়ার। এমনকি শফিকুল ইসলামের সাথেও না। মায়া আচরণে অতি কষ্ট পেয়েছেন তিনি। হঠাৎ করেই মায়ার মধ্যে রাতে রিদের হাত ধরে ঐভাবে চলে যাওয়াটা স্বাভাবিক ভাবে নেননি তিনি। মায়া এসেছিল উনার সাথে কথা বলতে কিন্তু তিনি কথা বলেনি রাগে। এখনো অবধি সেই রাগ বহাল আছে দুজনের মধ্যে। সেদিন আরিফ সবটা সামলিয়ে মায়াকে রিদের সাথে পাঠিয়েছিল খান বাড়িতে। তারপর! তারপর থেকে সবিই ঠিকঠাক! প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য মনমালিন্য আছে সবার মাঝেই। এই যেমন মায়ার জুইয়ের প্রতি! শফিকুল ইসলামের মায়ার প্রতি! আবার আয়নের জুইয়ের প্রতি! যখন মানুষ ভালোবাসায় ডুবতে শুরু করে তখন যদি সেই ভালোবাসার মানুষটায় হুট করে অপরজনকে ইগনোর করে দূরে সরে যায়! বা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় তাহলে কেমন হয়? অবশ্যই দমবন্ধকর পরিস্থিতি হয়! যেমনটা জুইয়ের ক্ষেত্রে হচ্ছে! না পারছে কাউকে বলতে আর না পারছে সয্য করতে। একটা ভুলের জন্য ভয়ানক শাস্তি পাচ্ছে জুই! ভালোবাসার মানুষ গুলো কেউ পাশে নেই। মায়া বা আয়ন দুজন জুইকে ভুল বুঝে বসে আছে। হ্যা মানছে জুইয়ের সেদিন পার্টিতে ওর তেমনটা করা ঠিক হয়নি। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে যদি অন্য কেউ জুইয়ের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতো তাহলে সেইম ভুলটাই করতো জুইয়ের মতোন। কারণ পরিস্থিতিটায় এমন ছিল! জুঁই এমন বাজে পরিস্থিতি সাথে পূর্ব পরিচিত নয় তাই হয়তো ভুলটা বেশি হয়ে গেল। আপনজনের উপর বিশ্বাসটা ধরে রাখতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে কোনো ভুলের যে ক্ষমা নেই তাও তো নয়? সবকিছুর তো ক্ষমা আছে। তাহলে জুই কেন ক্ষমা পাচ্ছে না আপনজনদের কাছে। মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে ভেবে জুই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে গায়ের কালো চাদরটা জড়িয়ে দরজা টেনে নিজের রুমে ঢুকল। সুইচ টিপে রুমের লাইট জ্বালিয়ে শূন্য ঘরটার দিকে তাকাল। চোখে পড়ল খাটের মধ্যে বালিশের পাশে আয়নের দেওয়া ফোনের আলো জ্বলতে দেখে তাড়াহুড়ো এগিয়ে গেল সেদিকে। এই বুঝি আয়ন কল করলো জুইকে। কিন্তু হতাশ জুই আরও একটা ভুল প্রমাণিত হলো। আয়ন ওকে কল করেনি। শুভ করেছে। জুইয়ের নাম্বারটা শুভ সেদিন নিয়েছিল মাহাদীর জন্মদিন পার্টিতে। তারপরও থেকে টুকটাক কথা হয় দুজনের। হবে বা না কেন? শুভর সাথে জুইয়ের পারিবারিক ভাবে এঙ্গেজড বছর দিন হলো। শফিকুল ইসলাম কথা দিয়েছেন মেয়ের শশুর বাড়িতে জুই আর শুভের বিয়ে নিয়ে। এই ব্যাপারে জুই ওর বাবার বিরুদ্ধে যাবে না। তবে মনে আশা ছিল হয়তো আয়ন সবকিছু ঠিকঠাক করে নিবে। জুইয়ের বাবাকে বুঝাবে ওদের হঠাৎ বিয়েটা সম্পর্কে। কিন্তু তেমন কিছু হচ্ছে না। সেদিন পার্টি পর আজ বিগত দুই মাস পার হলো আয়ন যোগাযোগ করে না জুইয়ের সাথে। জুই অনেক বার অনেকদিন কল করেছিল আয়নকে কিন্তু আয়ন জুইয়ের কল রিসিভ করে না। তবে সবচেয়ে যেটা জুইকে বেশি কষ্ট দিয়েছে সেটা হলো আয়নের হুটহাট জুইকে ব্লক করে দেওয়াটা। আয়নের এমন করার কারণটাও স্পষ্ট ছিল। কারণ সে জুইয়ের ফোন কলে ডিস্টার্ব বোধ করে এবং জুইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে চাই না বলে তাই জুইকে ব্লক করে দেওয়া। জুই বুঝে! তারপরও রোজ করে আয়নকে কল করে এই আশায় যদি আয়ন ওর ব্লক করা নাম্বারটা আনব্লক করে দেয় এজন্য। আয়নের ব্লক করাটা জুইয়ের আত্মসম্মানে লেগেছিল প্রচুর তারপরও জুই নিজের সম্পর্কটা বুঝার জন্য সেটা গায়ে মাখেনি। কারণ সবকিছুতে জেদ বা আত্মসম্মান নিয়ে বসে থাকলে কখনোই একটা সুন্দর সম্পর্ক ঠিকে রাখা যায় না। এখানে দোষ জুই করেছিল। যখন আয়নের সবচেয়ে বেশি জুইকে প্রয়োজন ছিল তখন সে ছিল না। এই ভেবেই জুই চুপ হয়ে যায়। আর রোজ করে আয়নের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। সম্পর্কের টানাপোড়া মধ্যে জুই ইতিমধ্যে শুভকেও জানিয়েছে আয়নও ওর অপ্রত্যাশিত বিয়েটার কথা। শুভ প্রথমে রিয়েক্ট করলেও পরে সে শান্ত হয় জুইয়ের দিকটা চিন্তা করে। এখানে জুই নিরুপায় ছিল। করার মতো কিছুই ছিল না। সবটায় পরিস্থিতির শিকার। এজন্য শুভ মিউচুয়াল ডিসকাশনের মাধ্যমে আয়ন থেকে জুইয়ের ডিভোর্স করাতে চায়। ইতিমধ্যে সে প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছে। কাগজ পত্র রেডি করেছে এখন শুধু দুজনের সাইন চায়। আয়ন অসুস্থ বলে এতোদিন ধরে অপেক্ষা প্রহর গুনছে শুভ সবকিছু সুন্দর ভাবে করার জন্য। ডিভোর্সের বিষয়ে জুই সবটাই জানে। তবে জুই চুপ থাকে এইভেবে যে যদি আয়ন জুইকে ডিভোর্স দিতে না চায় তাহলে জুইও আয়নকে ডিভোর্স দিবে না এবার যতকিছুই হোকনা কেন। আর যদি আয়ন চুপচাপ ডিভোর্স পেপারে সাইন করে দেয় তাহলে জুই আর পিছু পথ ফিরে দেখবে না। চোখ বন্ধ করে শুভকে বিয়ে করে নিবে। জুই শক্ত মনের নারী। কষ্ট হলেও অন্তত কারও জন্য মরে যাবে না সে। বেঁচে থাকতে পারবে। হয়তো শুভকে ভালোবাসতে পারবে না। তাতে কি? ভালোবাসা ছাড়া কি সংসার হয়না? বাংলাদেশের অধিকাংশ মেয়েরাই তো ভালোবাসা ছাড়া বিয়ে করছে। সংসার করতে করতে একটা সময় দুজনের মধ্যে মিল হয়ে যায়। তারপর ভালোবাসা! জুইও ঠিক মানিয়ে নিবে শুভকে। এবার শুধু আয়নের হ্যা বা না-তে ডিফেন্ড করে জুইয়ের আগামী পদক্ষেপ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে জুই বালিশের পাশ থেকে ফোনটা হাতে নিল। শুভর কল রিসিভ করে গুটি কয়েক মিনিট কথা বললো দুজন। শুভ কল রাখতেই জুই ফোনের স্ক্রিনে দেখল
রাত প্রায় রাত বারোটা! গুমরে উঠা মনে কষ্ট চেপে জুই ফোন হাতে বিছানায় বসল। আয়নের নাম্বারটা বের করে কতক্ষণ বসে রইল এক দৃষ্টিতে ফোনের স্ক্রিনে দিকে তাকিয়ে থেকে। মনের অনূভুতিরা গলায় দলা পাকিয়ে আসছে গুমোট কান্না জড়িয়ে। তারপরও জুই কান্নাটা শুকনো ঢুক গিলে ভিতরে চেপে নিয়ে ফের কল করল আয়নকে। কিন্তু বরাবরই আয়নের ফোন ব্যস্ত। একবার! দুইবার! পরপর বেশ কয়েক বার কল করেও একিই ফিডব্যাক আসল ওপাশ থেকে। টইটম্বুর করা চোখের পানি হাতে উল্টো পিঠে নিঃশব্দে মুছে ফোনটি জায়গায় রেখে দিল। রুমের লাইট নিভিয়ে জায়গায় শুতে শুতে আরও একবার ভাবল জুই! এবার যা হওয়ার হোক। সবকিছুই জুই ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। যদি ভাগ্যে থাকে তাহলে আয়নকে পাবে নয়তো শুভকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। যেখানে ক্ষমা নেই। সেখানে জুই বা কি করবে? থাক সবকিছু সময়ে উপর ছাড়া।
~~
রোজকার রুটিন মাফিক আজও মায়া নিজের পড়া শেষ করতে চাই! জোর লাগিয়ে পড়ায় মনোযোগ হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু হঠাৎ শারীরিক অসুস্থয় যেন গা গলাচ্ছে, অসুস্হির কারণে বারবার মনোযোগী হতে গিয়ে হতে পারছে না। হাতে পড়া অনেক! কিন্তু চেষ্টা করেও সেটা শেষ করতে পারছে না! আবার অকারণে কান্না পাচ্ছে শুধু শুধু! কি যে মনে চাচ্ছে সেটাই বুঝতে পারছে না। বিরক্তিতে মায়া ঠাস করে বই বন্ধ করে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। দুই কদম হেঁটে পুনরায় আগের নেয় বিরক্তিতে ধুপ করে এসে জায়গায় বসে পড়ে। সোফার টি-টেবিলে সামনে বইটির দিকে তাকিয়ে মুড সুইমিংয়ে ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে ফেলে অকারণে। মায়া খারাপ লাগছে! কিন্তু কেন লাগছে তার কারণ বুঝতে পারছে না। আবার রাগ লাগছে। কার উপর রাগ লাগছে তাও নিদিষ্ট নয়। মায়া কি করবে? সুস্থ সবল হয়েও ক্লান্তিতে ওর গা গুলাচ্ছে। অসুস্থ লাগছে! তার জন্য সন্ধ্যা থেকে কিছু খাইনি! গত কয়েক দিন ধরেই অহেতুক রাগ, কান্না, আবার অসুস্থ লাগছে। এসব কিছু মায়া ইচ্ছাকৃত ভাবেই চেপে চেপে রাখছে কাউকে কিছু বলছে না। বললেও কি বলবে মায়া? অকারণে ভালো লাগে না অসুস্থ লাগে! এসবের কি যুক্তি আছে? পাগল ভাববে না সবাই ওকে! এই যে কাল থেকে আজ পযন্ত অকারণে দুবার বমি করলো মায়ার কিছু না খাওয়ার ফলেও এটা সে কাকে বলবে? এই অকারণে অসুস্থতার কি যুক্তি আছে? আর যদি বা বলে তাহলে নিশ্চিত মায়ার খাবার বন্ধ করে দিবে রিদ। বকা দিয়ে বলবে মায়ার উল্টা পাল্টা খাওয়ার জন্য পেট খারাপ হয়েছে! সবদোষ খাবারে উপর দিয়ে রিদ মায়ার সকল খাবারের তালা মেরে ফ্রিজ লক করে দিবে বলে, এই ভয়ে মায়া রিদের সামনে সুস্থ সবল থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু এবার যেন আরও বেশি হচ্ছে! দিন বা দিন খারাপ লেগেই চলছে। মায়া ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে নিজের বইয়ের উপর মাথা ছেড়ে দিল। দেয়াল ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে দেখল দশটা বিশ বাজে। রিদ আশার সময় হয়ে গেছে ভেবে মায়া ফের উঠে বসে। বিরক্তি চেপে নিচে নামতেই চোখে পড়লো ড্রয়িংরুমে ফিহা উপস্থিত! নাহিদ চৌধুরী মৃত্যুর পর মেহেরবান, আয়ন আর ফিহা খান বাড়িতেই থাকছে। হেনা খান মেহেরবানের মানসিক সুস্থির জন্য নিজের কাছে রাখছে। আয়ন এখন ভালো আছে। সাপ্তাহ দিন হলো সেও কাজে জয়েন করেছে। নাইট ডিউটি হওয়ায় আপাতত সে হসপিটালের আছে। মায়া ফিহা দিকে তাকায়। ভিডিও কলের ফোনের স্ক্রিনে আরিফের হাস্য উজ্জ্বল মুখটা দেখে এগোল কিচেনের দিকে। হেনা খানকে রান্না করতে দেখে মায়া গিয়ে দাঁড়াল উনার পাশে। পাতিলে খুন্তি চালাতে চালাতে হেনা খান তাকাল মায়ার মলিন মুখটার দিকে। মায়াকে বলল…
—” কি হয়েছে সোনামা পড়া শেষ?
মায়া মাথা নাড়িয়ে অস্বীকার করে বলল…
—” নাহ!
—” তাহলে উঠে আসলি কেন?
—” এমনই পড়তে ভালো লাগছে না তাই!
মায়ার দিকে চোখ তুলে তাকান তিনি। মায়ার ভেজা চোখের পাতা দেখে হাতের খুন্তি রেখে বলে…
—” কেঁদেছিস তুই?
মায়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বলে…
—” হুমমম!
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে হেনা খান প্রশ্ন করে..
—” কেন?
—” জানি না তো কেন? কিছু ভালো লাগছে না! শুধু শুধু কান্না পাচ্ছে! এজন্য কেঁদেছি!
মায়া অগোছালো কথা হেনা খান আমলে নিল না৷ স্বাভাবিক ভাবেই নিল। কারণ মায়া এমন উল্টপাল্টা কান্ড প্রায় করে থাকে। একটু পরে দেখা যাবে সব ঠিক হয়ে গেছে আর এদিক সেদিক ঘুরঘুর করে ঘুরছে। হেনা খান মায়া কপালের পাশের অগোছালো চুল গুলো কানের পিছনে গুঁজে দিতে দিতে বলল…
—” মন খারাপ কিছু না! একটু পরেই সব ঠিক হয়ে যাবে! এখন কিছু খাবি? দিব?
মায়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বলে…
—” আচ্ছা!
বাটিতে চকলেট কেকের পিসে কামড় বসাতে বসাতে বের হলো কিচেন থেকে। ড্রয়িংরুমে বসা ফিহা পাশে গিয়ে বসতেই চোখাচোখি হলো দুজনের। ফিহা আলতো হেঁসে কথা চালাল আরিফের সাথে। মায়ার এই মূহুর্তে ড্রয়িংরুমে উপস্থিত থাকার কারণটা ফিহার জানা। এই সময়ে রিদ বাসায় ফিরে। আর মায়া তারই অপেক্ষা করে ড্রয়িংরুমে এসে বসে। মায়ার খেতে খেতে খানিক বাদেই রিদ বাসায় ফিরে। গাড়ির হর্ণের শব্দে মায়া সোফা ছেড়ে এগিয়ে যায় বাসার বাহিরের। রিদ গাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা এদিকেই আসছে। মায়াকে আজ বাসার বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রিদ ঠোঁট প্রসারিত করে মিষ্টি হাসে। বাসায় ফিরে যদি দেখা যায় বউ অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে আছে তার জন্য তাহলে মনের অনূভুতিটায় দারুণ হয়। রিদ গায়ের কোটটা টেনে খুলতে খুলতে মায়ার দিকে তাকাল। রোজকার মতোই আজও মায়া রিদের কাপড় পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। রিদের সাদা হুডি যেটা মায়ার হাঁটুর নিচ অবধি টেকেছে। চুল গুলো বেনি করে পিঠে ফেলে মাথায় স্কাইপ জড়ানো। ভালোবাসাময় অনূভুতিতে দুজনের চোখাচোখিতে রিদ হেঁসে গায়ের কোটটি বামহাতের উপর নিতে নিতে মায়ার মুখোমুখি হয়। দুষ্টুমিতে রিদ হাত বাড়িয়ে মায়ার নাক টেনে নিজের বুকে আনে। রিদের দুষ্টুমিতে মায়া নিজের নাক ঘষতে ঘষতে বলে…
—” উফ! সবসময় আমার নাক ধরে টানাটানি করেন কেন? আমি ব্যথা পায় না?
রিদ হাসে! দুষ্টুমি করে ফের মায়ার নাক টেনে ধরে গায়ের কোটটি মায়ার মুখের উপর ডিল মারে। মুখ উপর থেকে কোটটি হাতে নিয়ে মায়া রিদের দিকে তাকায়। রিদ মায়ার কপালে টুকা মেরে চোখ টিপে হেঁসে বাসার ভিতরের দিকে পা বাড়ায়। মায়া রিদের কোট নিয়ে নাক ঘষতে ঘষতে রিদের পিছন পিছন যেতে যেতে হঠাৎই মাথা চক্কর দিয়ে উঠে। হৈ হারিয়ে পরতে গিয়ে পাশের পিলার ধরে নিজের ব্যালেন্স বজায় রাখে। থ মেরে কয়েক সেকেন্ড দাড়াতেই সামনে থেকে রিদ পিছন ঘুরে মায়াকে ঐভাবে পিলার ধরে থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খানিকটা কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করে বলে..
—” কোনো সমস্যা?
মায়া চোখে তুলে তাকায় রিদের দিকে। মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি জানিয়ে বুঝায় ‘কোনো সমস্যা না! রিদ কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থেকে এগিয়ে এসে মায়ার বাহু টেনে নিজের কাছে নিল। মায়ার গালে কপালে হাত রেখে শরীরে তাপমাত্রা চেকও করলো। কিন্তু মায়ার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকায় সেও বিষয়টি আমলে নিল না।
~~
রাত বারোটা ছুঁই ছুঁই! আবছা অন্ধকারময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফোন আলাপ চালাচ্ছে রিদ। আলোচনাটা জরুরি। কাল দেশের বাহিরে যেতে হবে তাঁকে! বউকে রেখে যেতে মন নারাজ হলেও মায়াকে নিয়ে যেতে পারবে না নিজের সাথে। প্রথমত গ্যাংস্টাদের চারপাশ নিরাপদ না৷ দ্বিতীয়ত্ব যাদের সাথে রিদের মিটিং তারা সকলেই কালো দুনিয়ায় পাওয়ারফুল সদস্য। এমন খারাপ চরিত্রে মানুষের সামনে সে তার বউকে একমুহূর্তে জন্যও প্রেজেন্ট করতে ইচ্ছুক না। রিদ একহাত তাউজারের পকেটে গুঁজে ধীরে ধীরে নিজের ফোন আলাপ চালাল। মায়া রিদের খোঁজে বারান্দায় পৌঁছে আবছা আলোয় রিদের পিছন থেকে পেট জড়িয়ে ধরে পিঠে কপাল ঠেকিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল। রিদ মায়ার উপস্থিতি বুঝে কথা বলতে বলতে মায়ার একটা হাত টেনে নিজের ঠোঁটে ছুঁয়ে পিছন থেকে মায়াকে টেনে সামনে আনল। মায়া রিদের পেট জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে রিদ মায়ার কপালের চারপাশের ছোট ছোট চুল গুলো কানের পিছনে গুঁজে দেয় দুপাশ থেকে। ফোনে কথা বলতে বলতে রিদ মায়া গাল টেনে কপালে নিঃশব্দে ঠোঁট ছুঁইয়ে একহাতে মায়াকে বুকে নিয়ে বসল বারান্দার কাউচের উপর। রিদ নিজের ফোন আলাপ বহাল রাখল। মায়া রিদের উরুতে বসে দু’হাতে রিদের গলা জড়িয়ে ধরে মুখ গুঁজে বসল ক্লান্তিতে। রিদ ধীরে ধীরে মায়ার পিঠে আদুরে হাত বুলাতে বুলাতে বেশ অনেকটা সময় ফোন আলাপ চালাল। একটা সময় কল কাট করে ফোনটি পাশে রেখে দু’হাতে মায়ার কমড় জড়িয়ে ধরে রিদ মিহি স্বরে বলে…
—” কি মন খারাপ? আজ এতো শান্ত যে?
মায়া রিদের গলায় মুখ গুঁজে বসা অবস্থায় বলে…
—” কাল না গেলে কি এমন হয়?
—” অনেক কিছু হয়! কাজে ফাঁকি দেওয়া পছন্দ না আমার। মাত্র দুই সাপ্তাহের ব্যাপার। দেখতে দেখতে চলে যাবে!
রিদের কথায় মায়া মুখ তুলে তাকায় রিদের দিকে। চোখাচোখি তাকিয়ে বলে…
—” পনেরো দিন আপনার কাছে কম মনে হয়? এতো পাষাণ আপনি? সবাইকে ছাড়া থাকতে খারাপ লাগবে না?
—” সবার আবার কে? আমি কাউকে চিনি না! তাই কারও জন্য আমার দয়া মায়া লাগে না। জন্মের পর থেকে আমি বিদেশে বড় হয়েছি। ছোট বেলায় বাবা-মার সাথে বাংলাদেশে আসতাম দাদা-দাদিকে দেখতে। তাদের মৃত্যুর পর তেমন আসা হতো না খান বাড়িতে। নিজের কাজের জন্য বছরের বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার আসা যাওয়া থাকলেও, খান বাড়িতে আমি আসতাম দুই বছর পরপর দুই দিনের জন্য তাও দাদা দাদীকে দেখতে। এছাড়া খান বাড়িতে আমার মন বসতো না। অস্থির অস্থির লাগতো বাবা-মার জন্য! তাই এখানে আসা হতো না। তখন আমার দূর্বলতা বলতে দাদা-দাদিই ছিল তবে তাদের ছাড়াও আমি দূরে বেশ থাকতে পারছিলাম। কিন্তু তোমার খান বাড়িতে আসার পর আমার মনে নতুন দূর্বল সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে আমার অস্থির পা দুটো স্থির হয় তোমার নামে। অপ্রিয় জিনিস গুলো প্রিয় তালিকায় আসে। আজ আমার বলতে তুমি আছো। আর কি চাই না আমার। দয়া মায়া বাকি কারও প্রতি আমার নাই। তোমার ইন্টার অবধি আমরা এই দেশে থাকবো! তারপর তোমাকে নিয়ে সুইজারল্যান্ডে আমার বাসায় ফিরে যাব!
রিদের কথায় মায়া চমকে উঠে বলে..
—” আমি কোথাও যাব না। আমি এখানেই থাকব!
—” তোমার রায় চায়নি রিত! আমি যাহ বলবো তাই হবে! তুমি সেখানে লাইফ টাইম সেইফ থাকবে আমার কিছু হলেও! সে-দেশের সরকার তোমার সিকিউরিটির দায়িত্ব নিবে! তাই আমাদের সেখানে থাকাটা জরুরি! দেখ রিত! আমার কোনো পিছুটান নেই একসেপ্ট তুমি আর দাদা-দাদী ছাড়া! এখন দাদা-দাদি বা কত বছর বাচবে? কিন্তু তুমি! আমি না থাকলে তোমার জীবনটা যাতে সহজ হয় সেটাই আমাকে দেখতে হবে।
রিদের কথায় মায়া ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে উঠে। এমনই হঠাৎ হঠাৎ মুড সুয়িং করছে! খারাপ লাগছে! এখন আবার রিদ মৃত্যু কথা বলছে মায়াকে। যেটা মায়া সহজ ভাবে নিতে পারে না। তারপরও রিদ রিয়েলিটি বুঝাতে গিয়ে বারবার মায়াকে এই একটা কথা বলে থাকে। মায়া রিদের দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎই রিদের গলায় মুখ গুঁজে গুমরে কেঁদে উঠে বলে…
—” আপনি মরে যাবেন! আমিও আপনার সাথে সাথে মরে যাব! দুজনই মরে যাব! তারপর আমাদের বেবি গুলা এতিম হয়ে দুনিয়ায় পড়ে থাকুক! ওদের বাবা-মা কাউকে লাগবে না! ওরা এতিমই ভালো!
মায়া কথায় রিদ বিরক্ত হয়! তাদের দুজনের মধ্যে মায়া হঠাৎ বেবির বিষয়টি টেনে আনাটা মোটেও পছন্দ হয়নি তার। রিদ বহুবার মায়াকে বলেছে তার বেবি চাই না। চাই না মানে চাই না। একদম না! এখানে মায়ার অহেতুক বারবার বেবি বেবি করাটা তার রাগের কারণ হয়। একটা সংসারে বাচ্চা লাগবে এমনটা কোনো কথা না! বাচ্চা ছাড়াও দুটো মানুষ ভালোবাসাময় জীবন লিড করতে পারে। এই যে রিদ এখন দিব্যি ভালো আছে বউকে নিয়ে। এখন যদি তার দুটো বাচ্চা হয় তাহলে রিদ আরও চাপে পড়বে! লাইফ লং দূর্বলতা বাড়বে! এতে রিদের ক্ষতি! যেখানে জীবনের নিশ্চিয়তা নেই সেখানে নতুন করে দূর্বল বাড়াতে চায় না রিদ। মায়ার বারবার বেবি প্রসঙ্গতে রিদ বুঝতে পারে মায়ার বেবি চায় কিন্তু রিদের চায় না! এই একটা বিষয় রিদ কেন মায়াকে বুঝাতে পারছে না সেটাই বুঝে না। রিদের জ্বলে উঠা রাগটা গিলে মায়ার মাথাটা নিজের কাঁধ থেকে তুলে নিজের মুখোমুখি করে দু’হাতে মায়ার চোখের জল মুছতে মুছতে বলে…
—” আমাদের বেবি হবে না রিত! তাই কারও এতিম হওয়ার চান্স নেই! আমরা দুজন ঠিক আছি!
রিদের কথায় মায়া হাল্কা নড়েচড়ে বসে মিনমিন স্বরে বলে..
—‘ যদি হয়?
রিদ বিরক্তি ভাঁজ কপালে ফেলে কটাক্ষ করে বলে…
—” বলছি না হবে না! তারপরও যদি হয় তাহলে মাকে মেরে ছেলে এতিম খানায় ফেলে আসবো দেখিও!
রিদের ধমক স্বরে কথায় মায়া রিদের দিকে তাকিয়ে বলে…
—” ছিঃ এতো পাষাণ আপনি?
রিদ মায়ার রাগান্বিত লাল নাকটা টেনে বলে…
—” হ্যা এতো খারাপ আমি!
রিদের কোনো মায়া ছটফট করে উঠে বলে…
—” ছাড়ুন আমাকে! থাকবো না আমি আপনার সাথে! ছাড়ুন!
রিদ হাসে! মায়ার সাথে দুষ্টুমিতে মেতে আরও ঘনিষ্ঠ হয় তখনই! দু’হাতে মায়াকে আঁটকে ওর গলায় মুখ গুঁজাতে গুজাতে রিদের হাতে স্পর্শ গুলো আরও বেসামাল হয় ঠিক রিদের মতোন!
~~
সকাল আটটার! রোজকার মতোই মায়া রিদকে রেডি করিয়ে ভেজা চুল গুলো বেধে বোখরা পড়ছে কলেজে যাবে বলে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হিজাব বাঁধতে বাঁধতে আয়না দিয়ে রিদের দিকে তাকাল মায়া। রিদ মনোযোগ সহকারে সোফায় বসে ভ্রুর কুঁচকে ফাইল চেক করছে আর থেকে থেকে ব্ল্যাক কফিতে চুমুক বসাচ্ছে। ঝামেলা বিহীন জীবনটা মায়ার বেশ প্রেমময় যাচ্ছে। নিজের চারপাশে শুধু রিদের প্রেমা-আবেশ পায়। মায়া অন্তত সুখী! আজ রিদ বিকাল করে থাইল্যান্ড যাবে পনেরো দিনের জন্য! তারজন্য ফাইল পত্র সবকিছু চেক করছে। নিচে থেকে টিয়ার গলা শুনতে পায় মায়া। আসিফ যেহেতু রিদ সাথে চলে যাবে তারজন্য টিয়াকে খান বাড়িতে রেখে যাবে সবার সাথে। মাস দুইয়েক হলো আসিফও বিয়ে করেছে টিয়াকে। তাও ঘরোয়াল ভাবে। টিয়া বাবা মেয়ে বিয়ে দিবে না বলে রাজি হয়নি এজন্য আসিফ উনার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বিয়ে করেছে টিয়াকে সেদিন। এতে টিয়া অসন্তুষ্টি ছিল আসিফের উপর। প্রথম প্রথম রাগও করেছে বেশ আসিফের সাথে। কিন্তু এখন বেশ আছে! আসিফ বুঝিয়ে শুনিয়ে নিয়েছে টিয়াকে। এইতো তারপর থেকে দিব্যি ভালো যাচ্ছে সবকিছু। মায়া আয়না দিয়ে রিদকে দেখতে দেখতে হঠাৎই খালি পেটে গা গলিয়ে বমি আসে। তাড়াহুড়োয় ওয়াশরুমে যেতে না পেরে জায়গায় বমি করে বসে মায়া। রিদ মায়াকে বমি করতে দেখে চোখ তুলে তাকায়। হাতের ফাইলটা টি-টেবিলে উপর রেখে তাড়াহুড়োয় এসে ধরে মায়াকে। মায়া বারবার গা গলিয়ে বমি করতে চাচ্ছে কিন্তু খালি পেট হওয়ায় অল্প পানি ছাড়া কিছুই বের হচ্ছে না পেট থেকে। ক্লান্তিতে মায়া গা ছেড়ে দিতেই রিদ শক্ত করে মায়ার বাহুর চেপে ধরে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসায়। মায়ার গায়ের তাপমাত্রা চেক করে ফ্রিজ থেকে ছোট পানির বোতল এনে মায়ার হাতে দিতে দিতে রিদ বলে…
—” হঠাৎ শরীর খারাপ হলো কিভাবে? সকালে কি খেয়েছিলে?
মায়া রিদের হাত থেকে পানির বোতল নিয়ে অল্প পানি খেয়ে ফ্রেশ হয়ে রিদকে বলল…
—” একটু ঠান্ডা ক্যান খেয়েছিলাম।
—” সিরিয়াসলি রিত? যা খুশি তাই খাও! খালি পেটে কাউকে দেখছ ঠান্ডা খেতে? এসব বদঅভ্যেস কবে যাবে তোমার?
রিদের কথায় মায়া চুপ থাকে! অকারণে বমি হয়েছে এমনটা না। সে সত্যি সকালে ঠান্ডার ক্যান খেয়েছিল একটু হয়তো এজন্য এখন বমি হয়েছে। শারীরিক দূর্বলতার পরও মায়া রিদের সামনে সতেজ থাকল রিদকে আর রাগাতে চায় না বলে। রিদ মায়াকে শাসিয়ে নিজের সাথে নিয়ে গেল নিচে খাওয়ার জন্য। খাওয়ার টেবিলে গিয়ে দেখল আরাফ খান সাথে আয়ন বসে নাস্তা করছে নরমাল ড্রেসআপে। রিদ মায়া যেতেই আয়ন এক পলক তাকাল সেদিকে। রিদ চেয়ার টেনে বসতেই হেনা খান এগিয়ে এসে রিদের প্লেটে নাস্তা তুলে দিল। রিদ খাওয়ার শুরু করল। হেনা খান মায়ার প্লেটে খাবার তুলে দিলে মায়া উনার দিকে তাকিয়ে বলে…
—” দাদী বাবা তোমাকে ফোন করে কিছু বলেছিল আমাদের বাড়িতে যাওয়া বিষয়ে?
মায়া কথায় হেনা খান মায়ার প্লেটে দিতে দিতে বলে…
—” কই নাতো!
মায়া আবাক হওয়ার মতো করে বলে…
—” সত্যি তোমাকে বাবা ফোন করেনি দাদী?
—” হ্যা! সত্যি ফোন করেনি! কেন কি হয়েছে?
—” কি হয়েছে মানে? কি হয়নি সেটা বলো! ফিহা আপু কই? তোমাদের কিছু বলেনি?
মায়ার উত্তেজিত কথায় এবার চোখ তুলে তাকায় আরাফ খান। হেনা খান কিছু বলবে তার আগেই তিনি বলেন…
—” কেন কি হয়েছে? জরুরি কোনো কিছু?
হেনা খান থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মায়া আরাফ খানের দিকে তাকিয়ে বলে…
—” না তেমন কিছু না। আসলে কাল রাতে হুট করেই জুইয়ের বিয়ে হয়ে গেছে মুক্তা আপুর দেবর শুভ ভাইয়ের সাথে। দুজনের…
মায়ার কথাটা যেন বর্জপাত হলো আয়নের মাথায়! অবিশ্বাস মতোন চেচিয়ে উঠলো তৎক্ষনাৎ…
—” কিহ?
মায়া ছোট ছোট চোখ করে তাকাল আয়নের দিকে। এই মূহুর্তে সবার দৃষ্টির কেন্দ্র বিন্দু মায়া। রিদ খাবার খেতে খেতে মায়ার দিকে কপাল কুঁচকে তাকাল সন্দিহা দৃষ্টিতে। কিন্তু আপাতত মুখ খুলল না। সে পারিবারিক ঝামেলা জড়াতে চায় না। মায়ার কথায় হেনা খান তাড়াহুড়ো বলে…
—” কি বলছিস এসব? হুট করে বিয়ে কিভাবে হলো?
মায়া আয়নকে এক পলক দেখে হেনা খানের দিকে ঘাড় উঁচিয়ে তাকিয়ে বলে…
—” হুটহাট বিয়ে না দাদী! দুজনের আগে থেকে বিয়ে ঠিক করা ছিল পারিবারিক ভাবে। কয়েক দিন ধরেই নাকি শুভ ভাইয়া পরিবার চাচ্ছে বিয়েটা করিয়ে নিতে। শুভ ভাইয়ার দাদীর অসুস্থ থাকায় হুট করেই নাকি কাল রাতে জুই আর শুভ ভাইয়ার বিয়েটা দিয়ে দেয়। এতে অবশ্যই জুইয়ের অমত ছিল না ওহ রাজিই ছিল। এখন তো জুই ওর শশুর বাড়িতেই আছে।
মায়ার কথায় হেনা খানের চিন্তিত মুখ করে তাকাল আয়নের শক্ত হয়ে উঠা মুখটার দিকে। অসন্তুষ্টের গলায় বলল…
—” জুই বিবাহিত হয়ে জেনেও আরেকটা বিয়ে দেয় কীভাবে শফিক?
মায়া তাড়াহুড়ো বলে..
—” না না দাদী! বাবা জানে না আয়ন ভাইয়ার সাথে জুইয়ের বিয়ে হয়েছিল সেটা!
—” মানে? না জেনেই এতো বড় পাপ করল শফিক? জুই চুপ থাকল কেন? জুই কেন শফিককে কিছু বললো না এই বিষয়ে?
মায়া আয়নের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে বলে…
—” আমি কি জানি! জুই কেন চুপ ছিল? আমাকে বলে কি লাভ! এখন ওদের বিয়ে হয়ে গেছে আমাদের দাওয়াত করেছে যেতে যাব! আম্মু বলেছে আরিফ ভাইয়া আসবে আজ আমাদের সবাইকে নিতে! বিশ্বাস না হলে তোমার নাতিকে জিগ্যেসা করো উনি বলবে আমি সত্যি বলছি সেটা!
রাগান্বিত ভঙ্গিতে ঠাস করে উঠে দাঁড়াল আয়ন। চেতে যাওয়ার কারণে নাক মুখ শক্ত করে ঐ অবস্থায় বের হয়ে গেল বাহিরে দিকে। মায়া বা অন্য কারও কথা আর শুনার প্রয়োজন বোধ করল না। এমনই রাগে শরীর ফেটে পড়ছে তার। সত্যি যদি আজ জুইয়ের বিয়ে হয়ে যায় তাহলে আয়ন কাউকে নিস্তার দিবে না। তার ভালো মানুষির সুযোগ সবাইকে নেওয়া বের করবে এবার। হাদিস বা আইনগত দুইদিক থেকেই এখনো জুই তার বউ। আয়নের সাথে বেঈমানি করার ফল বের করবে। স্বামী থাকতেও নাগর জুটিয়ে রেখেছিল আগের থেকে। সেটা আয়নকে জানানোর প্রয়োজন বোধ পযন্ত মনে করেনি। এখন শশুর বাড়িতে গিয়েছে না? ঠি আছে! আজ আয়ন সেই শশুর বাড়ি থেকে উঠিয়ে আনবে। দেখি কে আটকায় তাকে! বেঈমানী করা ফল বের করবে!
চলিত….
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮১(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৮(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৩