Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৯


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ার করবেন)
৭৯
নিস্তব্ধ পরিবেশ। রাত প্রায় দশ-টা নাগাদ। হাতের ভাঁজে চেপে ধরে রাখা চিঠিতে দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে আছে মায়া। মনে অসংখ্য দ্বিধা। চিঠিটা পড়বে কি? পড়বে না! তাই নিয়ে মনে অনেকটা সংকোচ। মায়াকে কেন একজন টিচার চিঠি দিবে সেটাই ভেবে পাচ্ছে না সে। এমনই নিজের জীবনে অগণিত ঝামেলার শেষ নেই। নতুন করে যেন কিছুই ভালো লাগছে না ওর। মায়া চিঠিটা পড়তে নিয়েও পড়তে ইচ্ছা করছে না বলে বালিশের নিচে চিঠিটা রেখে দিল। এই চিঠি পড়ে হয়তো সে মানসিক ভাবে আরও ভেঙ্গে পড়বে, নয়তো বা ভুল কদম উঠাবে। মায়া নিজের জীবন আর ঝামেলা চাই না। সবাই ভালো আছে। তাহলে মায়া কেন শুধু শুধু নিজের কষ্টে বুঝা বাড়াবে। মায়াও ভালো থাকতে চাই। সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে বহু দূর যেতে চাই, যেখানে চাইলেও কেউ মায়ার উপর জোর খাটাতে পারবে না। মায়াকে কষ্ট দিতে পারবে না। মায়া একা থাকবে নিজের কর্মফল নিয়ে। কিন্তু মায়া এমন রাজ্য পাবে কোথায়? যেখানে গেলে মায়ার রিদের কথা মনে পড়বে না। এমন রাজ্য কি আদৌও আছে দুনিয়াতে? দীর্ঘশ্বাস ফেলে মায়া শূন্য ঘরটাতে এক পলক তাকিয়ে বিছানার পাশ থেকে উঠে বারান্দায় কাউচের উপর গিয়ে বসল। চাঁদ বিহীন ঘন কালো আকাশটায় নিজের এক টুকরো জায়গায় খুঁজল। এক মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে অসংখ্য দোয়ার মাঝে একটা দোয়া করল। এই রাতটায় যেন মায়ার জীবনের শেষ রাত হোক। কাল সকালটা যেন মায়ার না হোক। মায়া মুক্তি চাই। জীবনের অসংখ্য ঝামেলা থেকে নিস্তার চাই। মায়ার নিজের জীবনটায় যেন এবার বুঝা মনে হচ্ছে। ইসলামে দ্বিতীয় বিয়েকে হালাল করেছে। সামর্থ্য থাকলে একটা ছেলে চারটা বিয়ে পযন্ত করতে পারে সেখানে মায়া যদি রিদকে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য দোষারোপ করে তাহলে মায়ারই পাপ হবে। তাই মায়া নতুন করে আর পাপ চাই না। এমনই কর্মফলে ভারটা অনেক। সেখানে রিদকে বাঁধা দিয়েও বা কি করবে? কিছুই তো মায়ার হাতে নেই। তাছাড়া সবকিছুর ঊর্ধ্বে মায়া রিদকে আর বাঁধাই দিতে চাই না। যার যেটা মন চাই করুক। এই নিয়ে সে কাউকে বাঁধা দিবে না। কিন্তু মায়ার এতো ধৈর্য্য নেই যে সপ সতিন নিয়ে স্বামীর সংসার করবে সারাজীবন। মায়া পারবেও না। কিছু চাওয়া পাওয়া মানুষের অপূর্ণ থাকে, সেটা মায়া জানে। কিন্তু কিছু সত্য যে মানুষকে নিঃশেষ করে দেয় সেটা মায়ার জানা ছিল না। আজ যেন সেই সত্যের মুখোমুখি হয়েও বিশ্বাস করতে পারছে না। তবে মায়া এবার আর বোকামি করবে না। রিদকে মায়ার জীবনে দ্বিতীয় বার আসার সুযোগই দিবে না। এবার যায় কিছু হোক না কেন। এর শেষ মায়াও দেখতে চাই। গুমোট নিশ্বাসে মায়া গা এলিয়ে কাউচে শুয়ে চোখ বন্ধ করে নিল। এলোমেলো চিন্তায় স্বস্তির জন্য একটা সময় ঘুমিয়ে পড়ল।
~~
শীতময় দুপুর। সময়টা ১২ঃ১৫। মাথার উপর তপ্তময় সূর্যটা থাকলেও তার তাপ কম। মৃদু ঠান্ডা বাতাসের সাথে যেন সূর্যের উষ্ণময় তাপটা মন ছুঁইয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই আবেদনময়ী আবহাওয়াটা যেন আসিফের শূন্য মনের ব্যথাটা পূরণ করতে পারছে না। এলোমেলো পোশাক আর অগোছালো চুলে রিদের অফিসের বিল্ডিংয়ের নিচে পাকিং এরিয়ার বিছানো একটা ঢুলের উপর মাথা ঝুঁকে হাতে ফোন নিয়ে বসে আছে। কষ্টে বুক ভার হয়ে আছে ওর। এই জগতে সংসারে আসিফের নিজস্ব পরিবার বলতে একটা বোন আছে। মা-বাবা নেই। জম্মের আগে বাবা মারা যায় আর আসিফের বয়স যখন তেরো বছর তখন মা মারা যায় ক্যান্সারে। তখন থেকেই বোনটা নিয়ে একা জীবন ওর। আত্মীয় স্বজন বলতে যারা ছিল তারাও সময়ের ব্যবধানে সবাই একটা সময় স্বার্থপর হলো। তেমন কেউ কাছে রইল না তার শুধু বোনটায় ছিল। বোনটাকে বিয়ে দেয় আসিফের যখন বিশ বছর তখন। দুই বছরের ছোট ছিল ওর বোন। একটা ভালো ছেলের হাতেই আদুরের বোনটাকে বিয়ে দিয়েছিল সে। বর্তমানে বোনটা স্বামী নিয়ে কোন দেশে আছে সেটাও আসিফকে বলে না। কারণ আসিফ কালো দুনিয়ায় অধিনে আছে বলে তাই। ভাই বলে মানতে চাই না। এতে অবশ্য তারও বেশ একটা মাথা ব্যথা নেই। বোনটা স্বামী নিয়ে ভালো থাকলেই হলো। দরকার নেই আসিফের সাথে যোগাযোগ করার। আসিফ সবকিছুই মানিয়ে নিয়েছে নিজের জীবনে। বোনকে বিয়ে দিয়েই আরাফ খান কোম্পানিতে কর্মচারী হিসাবে নিযুক্ত হলো। তারপর ধীরে ধীরে কিভাবে কিভাবে যেন রিদ খানের কাজে, কর্মে, বিচক্ষণও বুদ্ধিমতার উপর আকৃষ্ট হয়ে সেচ্ছায় রিদের দলে যেতে চাইল। রিদ ও তাকে জায়গায় দিল নিজের সাথে। তারপর থেকে আসিফ রিদের সাথেই আছে। একটা সময় রিদ খান নিজের আসিফকে নিজের ডানহাত বানিয়ে নেয় তার বিশ্বস্তা দেখে। আজ পযন্ত তাই আছে। রিদ খানের ডান হাত বলে আজ আসিফকেও সবাই ভয় পায়। চোখে চোখ রেখে কেউ সহজে কথা বলতে চাই না। এতো পাওয়া, এতো ক্ষমতা, আজ যেন সবকিছু বৃথা মনে হচ্ছে ওর কাছে। ভালোবাসা মানুষকে দূর্বল করতে দেখেছে সে কিন্তু এতোটা দূর্বল হয় সেটা জানত না। কিন্তু আজ যেন সবকিছু থেকেও হেরে গেল। ভালোবাসার মানুষ টিয়াকে হারিয়ে যেন জীবনের অর্থ ভুলে গেল। প্রচন্ড চঞ্চল হরিণ ছিল মেয়েটা। তার সাথে রোজ ঝগড়া বিবাদ করতো আবার ভালোবেসে কেয়ারও করতো। ভালোই তো যাচ্ছিল তার দিন গুলো। কিন্তু হঠাৎ করে কেন অন্ধকার নেমে আসল তার জীবনের? কেন সবটা এলোমেলো হয়ে গেল। কেন সে এতো ক্ষমতা দাপটে থেকেও ভালোবাসার মানুষটাকে সেইফ করতে পারলো না। কেন সে ব্যথ হলো? কেন? এতো কেনর উপর কে দিবে তাকে? গুমরে উঠা ফিলিংসে কেঁদে উঠল আসিফ। পুরুষ মানুষের নাকি কাঁদা সোভা পায় না। আজ কেউ আসিফকে জিজ্ঞেসা করুক কষ্ট কাকে বলে! আজ সে চিৎকার করে দুনিয়াকে বলবে হুট করে ভালোবাসার মানুষের মৃত্যু সংবাদ পেলে কেমন লাগে অপর জনের। কেমন হয় হারানোর বেদনা! আসিফের একাকীত্ব জীবনে কাউকে সঙ্গী করতে গিয়ে যে তার এমন নির্মম হত্যা হবে ভাবেনি সে। আজ সে এই প্রফেশনে না আসলে হয়তো টিয়া বেচে থাকত। তার পাশে থাকত। সবকিছু তার এই প্রফেশনের জন্য হয়েছে। এইতো মাত্র কিছুক্ষণ আগে কেউ একজন আসিফকে ফোন করে জানাল তারা টিয়াকে নয় বরং মায়াকে উঠাতে গিয়ে ভুলবশত টিয়াকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এবং আসিফ রিদের ডানহাত হিসাবে টিয়াকে ব্যবহার করে অবশেষে গনধর্ষনে মৃত্যু দেয়। কিন্তু মূল কথা হলো, এসব কিছু নাকি তারা ভুলবশত টিয়াকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর রিদকে জানিয়ে ছিল। এবং টিয়াকে তাদের প্রয়োজন নেই বিদায় রিদের কাছে টিয়াকে বাঁচানো শর্তও দিয়েছিল একটা। যদি রিদ টিয়াকে জীবিত চায় তাহলে তাদের সাথে ছোট একটা সামঞ্জস্যতার চুক্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতেও নাকি রিদ রাজি হয়নি বরং টিয়াকে মরতে তাদের হাতেই ছেড়ে দিয়েছিল কোনো একশন নেইনি। এতে আসিফ ভিষণ কষ্ট পেয়েছে। আজ যদি টিয়ার জায়গায় মায়া ভাবি থাকতো তাহলো রিদ ভাই কি পারতো গুন্ডাদের হাতে মায়াকে মরতে দিতে? ভালোবাসার মানুষকে বাচানোর চেষ্টা করতো না? অবশ্যই করতো! রিদ ভাই তো জানত আসিফের জীবনের কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল টিয়া। তাহলে কেন বাঁচাল না টিয়াকে আসিফের জন্য? রিদ ভাই অকারণে কিছু করে না সে জানে তারপরও এমন কি কারণ থাকতে পারে যেটার জন্য তার ভালোবাসার মানুষকেই বুলি দিতে হলো? আসিফ বিগত আট বছর ধরে রিদ ভাইয়ের বিশ্বস্ত মানুষ হয়ে এসেছে তাহলে কেন আসিফের দিকটা চিন্তা করলো সে? কেন? গুমোট কান্নায় আসিফ উঠে দাঁড়াল। পকেটে থেকে রুমাল নিয়ে ভালোভাবে মুখ মুছে এগোল তিন তলায় রিদের কেবিনের দিকে। আজ সাহস করে কিছু জবাবদিহি তার-ও চাই রিদ ভাই থেকে। আজ দিতেই হবে আসিফের সকল প্রশ্নের উত্তর। যদি না দেয় তাহলে আজ এর শেষ দেখেই ছাড়বে তারপরও খালি হাতে ফিরবে না সে। শক্ত মনোস্থির চিন্তা ভাবনায় এগোল আসিফ রিদের কেবিনের দিকে। বেখেয়ালিপনায় নক পযন্ত করতে ভুলে গেল। দরজা টেনে সোজা রুমের ভিতরে প্রবেশ করতেই মুখোমুখি হলো নাহিদ চৌধুরী মানে আয়নের বাবার সাথে। তিনি রিদের অফিস কক্ষে বসে আছেন বেশ গম্ভীর ভাব নিয়ে। তার মুখ দেখে ভিতরকার বুঝার উপায় নেই। আসিফ উনাকে এক পলক দেখে চোখ আওড়িয়ে রিদকে খুঁজল। পেল ডানপাশে কাঁচের দেয়াল দিকে মুখ করে নিচে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে। এখান থেকে নিচে পাকিং এরিয়াটা স্পষ্ট দেখা যায় তার মানে রিদ ভাই এতক্ষণ যাবত আসিফকে বিধস্ত অবস্থায় ঢুলের উপর বসে থাকতে দেখেছে? দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। আসিফ নিজের এলোমেলো চিন্তা ভাবনার মাঝেই রুমে ঢুকে জড়ানো কম্পিত গলায় রিদকে মৃদু স্বরে ডেকে বলল…

—” ভাই।

প্রথম ডাকেই রিদ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল আসিফের লাল হয়ে উঠা অশ্রু সিক্ত ফুলা চোখ দুটোর দিকে। কাঁধ এলিয়ে দেয়ালের থাই গ্লাসের হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে পকেটে দু’হাতে গুঁজে বলল…
—” বল!

রিদের মনোভাব বুঝার চেষ্টা করেও ব্যথ হলো আসিফ। রিদের মুখ দেখে তার ভিতর পড়াটা অন্তত দায়। তবে আসিফও দমে গেল না। নিজের মনের যাবতীয় দূর্বলতা নিংড়ে প্রকাশ করলো রিদের কাছে। মূহুর্তে কান্না ভেজা কন্ঠে রিদকে বলল…

—” ভাই! ওরা আমার টিয়াকে মেরে ফেলেছে। আপনি জানতেন ওদের কাছে আমার টিয়া বন্দী ছিল তারপরও কেন আপনি তাদের কাছ থেকে আমার টিয়াকে বাঁচালেন না। কেন মরার জন্য টিয়াকে ওদের কাছে ছেড়ে দিলেন? ভাই আমার কষ্ট হচ্ছে! আপনি বলুন কি করবো আমি? থাকতে পারছি না টিয়াকে ছাড়া। আমার ওকেই লাগবে ভাই। প্লিজ ভাই কিছু করুন।

আসিফের কান্নায় যেন রিদের মন গলনা। বরং শান্ত স্বাভাবিক থাকল। এমন একটা ভাব যেন সবকিছুই স্বাভাবিক শান্ত এই মূহুর্তে! কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রিদ এগিয়ে এসে আসিফ আর নাহিদ চৌধুরীর মুখোমুখি অফিস টেবিলের কোণায় লাফিয়ে উঠে বসে, পাশের মারবেল বলটা হাতে নিল। সেটাকে মুঠোয় চেপে ঘুরাতে ঘুরাতে বলল…

—” আমি কি করবো আজব? যার মরার সে মরে গেছে। মরা মানুষ জীবিত হয়না তুই জানিস না? তাছাড়া তোকে কে বললো ভালোবাসা ছাড়া মানুষ থাকতে পারে না। মানুষ সব পারে। আমি থাকছি না ভালোবাসা ছাড়া। তাহলে তুই পারবি না কেন?

রিদের কথায় করুন কন্ঠে আকুতি করে ডাকল আসিফ..
—” ভাই?

—” কি ভাই? জানিস না গ্যাংস্টার জীবনের প্রেম নিষেধ। আমি না করেছিলাম না তোকে প্রেমে জড়াতে তারপরও জড়ালি। এখন আমাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তোর দায়িত্ব ছিল তোর ভালোবাসা রক্ষা করার তুই পারিসনি তাতে তোর ব্যথতা। তাছাড়া আমি তোর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এই প্রফেশনে আনেনি। তোর জানা প্রয়োজন ছিল গ্যাংস্টাররা কখনো কারও আপন হয় না। এবার যাহ! গিয়ে কাজ কর। আমাদের নেক্সট প্রজেক্টের আপডেটটা ইমেল কর। সাথে আমার ফুপ্পা জানের জন্য হট কফি পাঠাবি কেমন। যাহ!

রিদের কথায় আর আরচণের অসন্তোষ হলো আসিফ। প্রথম থেকেই টিয়ার বিষয়টা নিয়ে মন বিষিয়ে ছিল তার। তারপরও বড় ভাই হিসাবে রিদের কাছে এসেছিল উপায় খুজতে! কেন টিয়াকে বাঁচাল তার কারণ জানতে। কিন্তু রিদ যেন সবকিছু ঊর্ধ্বে গিয়ে আসিফকে ছোট করল। সে চেয়েছিল শেষ পযন্ত রিদকে বিশ্বাস করতে কিন্তু বিষিয়ে যাওয়া মনে রিদের প্রতি প্রচন্ড তিক্ততা প্রকাশ পেল। যার জন্য আসিফের মনে অবিশ্বাসের ঘর থেকে হঠাৎ করে বন্দুক হাতে উঠল রিদের বিপরীতে। বন্দুক হাতে টান টান করে দাঁড়াল আসিফ রিদের কপাল বরাবর ধরে। রিদ চোখ তুলে দেখল সেটা তবে প্রতিক্রিয়া আপাতত জানাল না। বরং কপাল কুঁচকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টির মাঝে আসিফকে রাখল। দীর্ঘ সময় নিয়ে বসে থাকা নাহিদ চৌধুরী অবশেষে নড়েচড়ে বসলো রিদের মাথায় আসিফের বন্দুক ঠেকানোতে। অবশেষে তাদের প্ল্যানিং সাকসেসফুল হতে চলেছে ভেবে খুশিতে যেন মন নেচে উঠল তার। তিনি আসার সময় রাফিনকে দিয়ে আসিফকে ফোন করিয়েছিল এবং উল্টাপাল্টা রিদের বিরুদ্ধে বুঝিয়ে আসিফের মন বিষিয়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। হয়তো সক্ষম হয়েছে। তিনি মূলত কাজের বাহানা দিয়ে রিদের মৃত্যু সচক্ষে দেখতে এখানে এসেছে। এখন সেটাই সফল হতে যাচ্ছে ভেবে আনমনেই তিনি ঠোঁট বাঁকিয়ে হেঁসে ফেলল। অতি আশায় দৃষ্টি ফেলল আসিফের উপর কখন সে রিদকে শুট করবে সেটাই দেখতে। রিদের সাথে উনার পূব শত্রুতা ছিল না। বিগত দুই বছর ধরে এই শত্রুতার সূত্রপাত হয়েছে তাও যখন রিদ নেতা আফজাল সাহেবকে মেরে তাদের নারী পাচারকারী ব্যবসাটা বন্ধ করে দিল তখন থেকে। মূলত তিনিই এই ব্যবসার লিডার ছিল। উনার প্ররোচনা দেশের মেয়েদের বিদেশে পাচার করাতে বড় হাত ছিল। এতে ছোট ছোট দল নেতাদের পার্টনারশিপ। কিন্তু এই ব্যবসা করতে গিয়ে ভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়াতে উনার পরামর্শেই গ্যাংস্টার হিসাবে রিদের নামটা ব্যবহার করেছিল সেই ব্যবসাতে। তাতে সবকিছু ভালোই যাচ্ছি। কিন্তু বিপত্তি বাজল রিদের নারী সম্মান নিয়ে। এখন উনার কথা হলো! একজন গ্যাংস্টার হয়ে যদি অসীম পাপ তুমি করতে পারো তাহলে তুচ্ছ নারী প্রতি কেন তুমি সম্মান দেখাবে? খারাপ হলে সবদিকে হও! পাপ করলে সবদিক থেকেই করো। সেখানে ন্যাকামি করে আবার নারী সম্মান দিতে হবে কেন তোমার? রিদ খানের এই ন্যাকামি নারী সম্মানের জন্য উনার সকল ব্যবসা লসে উঠেছে। মূলত তিনি নারীর দেহ ব্যবসার বড় এমাউন্টের টাকা নিয়েছিল বিদেশি ক্লাইডদের থেকে। কিন্তু সময় মতো যখন তিনি নতুন মেয়ে দিতে পারেনি তাদের হাতে রিদের ব্যবসাটা বন্ধ করে দেওয়াতে, তাতে তিনি বিশাল বড় এমাউন্টের লস চুকাতে গিয়ে বাকি সকল ব্যবসাতেও করুন দশা হয়। আর এতেই তিনি ক্রোধে আছে কখনো রিদের ধ্বংস ঘটাবেন। সেই থেকেই তিনি প্রতি পদে পদে মায়াকে টার্গেট বানিয়ে রিদকে দূর্বল করতে চাইছে। রাফিন মূলত আফজাল সাহেবেরই ছেলে। বাবার মৃত্যু প্রতিশোধ নিতে নাহিদ চৌধুরী সাথে হাত মিলিয়ে ছিল। এখনও তাই আছে। এবার ভালোই ভালোই রিদ খানের মৃত্যু আসিফের হাতে হয়ে গেলে সকল ঝামেলা এখানেই শেষ। তারপর আর ঠেকায় কে উনাকে? উৎফুল্ল মনে ঘটিত জীবনে হিসাবটা একবার মিলিয়ে নিল তিনি। ঠোঁট বাঁকিয়ে হেঁসে তৃষ্ণার্ত চোখে তাকাল রিদের দিকে। এই মূহুর্তে রিদের মৃত্যুই যেন উনার প্রথম আকাঙ্খা। তবে কোথায় যেন তিনি নিরাশ হচ্ছেন। টান টান উত্তেজনার মধ্যেও তিনি রিদের চোখে বিন্দু মাত্র ভয় দেখতে পারছেন না। তারপরও তিনি নিরাশ হলো না বরং আশায় রইল এই বুঝি আসিফ রিদকে শুট করে বলে। কিন্তু তেমন কিছুি হলো না। বরং উনাকে চমকে দিল তখন, যখন দেখল আসিফ সেই বন্দুক ঘুরিয়ে উনার কপাল ঠেকাল। চোখের পলকে অন্ধকার নেমে আসল উনার চোখে মুখে। ভয়ে উত্তেজনায় আতঙ্কে যখন তিনি ধড়ফড়িয়ে উঠতে যাবে চেয়ার ছেড়ে তখন হঠাৎ গুলি করে বসল আসিফ উনার বামহাতে। চিৎকার করে ডানহাতে বামহাতটি চেপে ধরে তাকাল আসিফের দিকে। কিছুক্ষণ আগের আবেগীয় চেহেরাটা আর নেই। বর্তমানে হিংস্রত রাগ বহমান আসিফের সেই চেহারায়। তবে রিদের চেহারার ধরণ পাল্টিয়েছে। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি প্রকাশ পেয়েছে। রিদের রুপ পরিবর্তনে ঘাবড়ে উঠল তিনি। হঠাৎ করে বাজি পাল্টে যাবে ভাবেননি তিনি। হঠাৎ করে কি এমন হলো? যে তারা আবারও হেরে গেল? আর আসিফ রিদের বিপক্ষে গিয়ে নয় বরং পক্ষে চলে গেল। বামহাত চেপে ধরে তিনি চিৎকার করতে চাইলে আসিফ তৎক্ষনাৎ উনার মুখ চেপে বন্দুক ঢুকিয়ে ঝুঁকে পরে রাগে হিসহিসিয়ে তেড়ে বলল…

—” কি মনে করেছিস? আমাকে দিয়ে অবিশ্বাসের ঘর ঘর খেলবি? এতো সোজা? ছোট থেকে বড় হয়েছিল ভাইয়ে পিছন পিছন, সামান্য ফোন বা একটা মেয়ে মানুষের জন্য সেই বিশ্বাস ভাঙ্গবে? তোর নাটক বহুদিন আগেই ভাইয়ের কাছে প্রকাশ পেয়েছিল। শালা তুই শুধু দাদাজানের আকুতির জোরে বেঁচে আছিস। ভাই জায়গায় আমি হলে এতক্ষণ তোর মতোন নিমকহারামীকে মেরে পোস্টার বানিয়ে রাস্তা টাঙ্গাইতাম। শালার বানচাল।

আসিফের পরপর কথায় এবার মুখ খুলল রিদ। বেশ হেয়ালি করে বলল…

—” আহ আসিফ! আমার ফুপ্পাজান হয় তিনি। ভদ্রভাবে কথা বল। এইভাবে বলিস না। বেচারা কষ্ট পাচ্ছে তো। দেখ! তুই আর যায় করিস আমার সামনে অন্তত মারিস না। তাহলে আমি সয্য করতে পারবো না। দরকার হলে আমার ফুপ্পাজানকে উনার কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ে বন্দী করে বোম্ব ফাটিয়ে বা ইলেকট্রিক আগুন লাগিয়ে মেরে দে। তারপরও আমার চোখের সামনে কিছু করিস না। তুই তো জানিস আমি বেচারা কতটা নরম মনের মানুষ। তাই সহজে সয্য হবে না আমার আদুরীয় ফুপ্পাজানের মৃত্যুটা। একটু বুঝ! এতো পাষাণ হুসনা।

রিদের কথায় আতঙ্কে উঠল নাহিদ চৌধুরী। তার মানে রিদ খান পূব থেকেই জানত উনার ষড়যন্ত্র নিয়ে। সবকিছু যেন কেন চুপ ছিল? শুধু আরাফ জন্য নাকি অন্য কিছু? রিদ যদি সবকিছু জানে তাহলে সেদিন পার্টির হওয়া রাতে বিষয়টাতে অবগত সে। এজন্য তো উনারা কিভাবে হেরে গেছে এখনো পযন্ত বলতেই পারছে না। সবকিছু ধোঁয়াসা লাগছে। এতো প্লানিং-ফ্ল্যাটিং করেও শেষে আপোষ মৃত্যুটা মেনে নেওয়াটা অসম্ভব। তিনি শেষ বারের মতোন লড়তে চাইল আহত শরীরে। কিন্তু সর্তক আসিফের শক্তি সামথ্যেট সাথে পেরে উঠল না। হার মানতে না চেয়ে বরং তৎক্ষনাৎ চেঁচাল রিদের উপর। আসিফ জবরদস্তি করে ধরে রাখল উনাকে। তিনি চিচাতে চিচাতে বলল…

—” নিস্তার পাবি না রিদ খান। তোর জন্য আমার ব্যবসা বাণিজ্য সবকিছু ঢুবেছে। এমনকি আমার ছেলেটাও তোর জন্য তার প্রথম ভালোবাসার মানুষটা পায়নি। তোর কি মনে হয় তোকে ধ্বংস না করে আমি মরবো? কক্ষনোই না। আগে তোর বউকে মারবো তারপর তোকে…

নাহিদ চৌধুরী গলা ফাটানোর চিৎকার রিদের চেপে রাখা রাগটা প্রকাশ পায়। অন্তত রাগান্বিত হাতে বলটাকে মুঠোয় চেপে ধরে রাগে কটমট করে বলে…

—” আগে নিজের চিন্তা কর। নিজেকে বাচিয়ে তারপর আসিস রিদ খানকে ঠেঙ্গিয়ে তার বউকে মারতে। হারামি বাচ্চা তোরে এতোদিন বাচিয়ে রেখেছিলাম আত্মীয়তার জোরে। দাদাজান চায়না উনার মেয়ে বিধবা হোক! তাই তার অতি রিকোয়েস্ট তোকে বাচিয়ে রাখা। কিন্তু আর না। দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পোষার মতো বোকা আমি নয়। তোর বাপদের সাথে তোকে একসঙ্গে করে উপরে পাঠানোর ব্যবস্হা করছি আমি। টাস্ মি! দুনিয়ায় কেউ বুঝবে না তোদের কেউ প্ল্যানিং করে মেরে। সবাই জানবে বিল্ডিং পরিদর্শন করতে গিয়ে হঠাৎ ইলেকট্রিক শট সার্কিটে আগুনে পুড়ে মারা গেছে উক্ত বিল্ডিংয়ের মালিক নাহিদ চৌধুরী ও তার সহপাটনাররা। এতে দাদাভাই ও নিজেকে অপরাধী ভাববে না আমার জন্য। দেখ! শুরু থেকে আমার জীবনে ক্ষমা নামক রুলস ছিল না। আমি সহজে কাউকে ক্ষমা করেনি একসেপ্ট বউ ছাড়া। বউটা আমার কলিজা টুকরা ভিষণ ভালোবসি কিন্তু তোর সেদিন রাতে পার্টিতে ঐভাবে নোংরা খেলাটা খেলে ভালো করিস নি। আমি কষ্ট পেয়েছি, বউটাও কষ্ট পাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা এসবের মাঝে তোর ছেলেই পিষে গেল। তুই ম্যান টু ম্যাম আমার সাথে লড়াই না করে মেয়েদের আঁচল ধরলি। আমার সাথে তোর পূব শত্রুর ছিল না। তারপরও তুই আমার পারসোনাল গেলি। আমার অবুঝ বউটাকে বারবার টেনে আনলি আমাদের মাঝে। শেষে কি করলি? আমার বউকে মিথ্যা নোংরা খেলায় সামিল করলি। তুই নোংরা হতে পারিস। নারী দেহ নিয়ে তোর ব্যবসার হতে পারে কিন্তু আমার শত খারাপ কাজেও একটা রুলস আছে। আমি নারী সংক্রান্ত বিষয় গুলো এরিয়ে চলি। অসম্মান করি না। তোর নারী দেহ ব্যবসাটার পিছনে বড় হাত ছিল সেটা আমি পূর্ব থেকেই জানতাম। তুই সবার লিডার ছিলি জেনেও তোকে সেকেন্ড সুযোগ দিয়েছিলাম আমার বিরুদ্ধে না যাওয়ার। কিন্তু তুই শোধরালি না। তাই আমিও তোকে আর সুযোগ দিব না। ফুপ্পির সংসার বাঁচাতে গিয়ে তো আর আমি আমার সংসারটা নষ্ট করতে পারি না তাই না। বউটা এমনিতেই আমাকে ভুল বুঝে বসে আছে। উল্টাপাল্টা কিছু করার আগে আমার তার কাছেও যাওয়ার দরকার। সময় কম। কাজ বেশি। আসিফ নিয়ে যাহ এটাকে। যেভাবে বলেছি সেভাবে মেরে দে।

—” জ্বিই ভাই।

রিদের কথা মতো আসিফ নাহিদ চৌধুরীর ঘাড়ে আঘাত করে বেহুশ করে নিল আগে। বডিগার্ড দিয়ে নাহিদ চৌধুরীকে রুম বের করতে রিদ ফের ডাকল আসিফকে। আসিফ দরজা সামনে থেকে ঘুরে চাইতেই রিদ অন্তত সন্তুষ্টি গলায় বলল..

—” অভিনেতা হিসাবে তুই কিন্তু ভালো অ্যাক্টর হতি আসিফ। অভিনয় করতে পারিস ভালো। তবে তোর বিশ্বাসের উপর আজ অন্তত সন্তোষ আমি। এজন্য তোকে একটা উপহার দেওয়া লাগে। কি দেয় বলতো? কি দিলি তুই সবচেয়ে বেশি খুশি হবি বল? বাড়ি, গাড়ি, নাকি টিয়া? টিয়াকে চাই না তোর? যাহ দিলাম। তোর বাসায় আছে, সময় করে বিয়ে করে নিস! তারপরও আমার মাথা খাস না টিয়া টিয়া করে। তোর…

রিদের কথা শেষ করার আগেই আসিফ খুশিতে আত্মহারা দৌড়ে এসে ঝাপটে জড়িয়ে ধরল রিদকে। ‘থ্যাংক ইউ ভাই’ বলে বলে নিজের মনের অনূভুতি প্রকাশ করতে লাগল ক্রমাগত। কিন্তু নাহুশ রিদ আসিফ থেকে নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বিরক্তি গলায় বলল..

—” ছেহ! মেয়েদের মতোন ঘেঁষাঘেঁষি করতে শিখে গেছিস কবে থেকে? ছাড়!

হতভম্ব হয়ে আসিফ রিদকে ছেড়ে দাঁড়াল। একটু বেশি আবেগ প্রবল হয়ে যাওয়াতে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে রিদকে জড়িয়ে ধরে ছিল সে। আর ধরবে নাই বা কেন? আজ রিদ ভাই ওকে জীবনের বেস্ট উপহার দিয়েছে তার ভালোবাসার মানুষটিকে সেইফ করে। আসিফ আশা করেনি টিয়াকে পুনরায় নিজের জীবনের পাবে। কিন্তু রিদ ভাই আসিফের ভালোবাসার মূল্যায়ন করে টিয়াকে হেফাজত করেছে। কিন্তু কিভাবে করলো? আর টিয়া বেঁচে থাকা বিষয়টি আসিফকে কেন রিদ ভাই গত দুইদিনে জানায়নি? নাকি আসিফেরও বিশ্বাসের পরীক্ষা নিচ্ছল রিদ ভাই? হয়তো তাই হবে! কিন্তু আজ কেন জীবনের কখনোই আসিফ রিদের বিরুদ্ধিতা করতো না। এবার যাহ কিছুই হয়ে যাক না কেন। তবে এসবে মাঝে আসিফ যতটা বুঝতে পারলো রিদ ভাইও তাকে নিজের আপনজন বলে মনে করে। গুরুত্ব দেয়! এজন্য তো আসিফের দিকটাও হেয়াল রেখে টিয়াকে বাঁচিয়ে। মুখে কখনো শিকার করবে না আসিফকে আপনজন মনে করে। তবে কাজে কর্মে সেটা প্রকাশ করে। রিদের মুখে প্রকাশ করতে হবে? আসিফ তো বুঝে সবটা এতেই চলবে। সন্তুষ্ট আসিফ নিজেকে সংযম করে রিদের বিরক্তি ফেসটার দিকে তাকাল। মাথার পিছন চুলকিয়ে বলল…

—” ইয়ে মানে, সরি ভাই! খুশিতে নিজেকে আটকাতে পারেনি…

রিদ গুরুত্ব দিল না আসিফের কথায়। শুধু একটু করে বলল..
—” যাহ এবার…
নড়লো না আসিফ। বরং হাসফাস করে ফের বলল..
—” ভাই একটা কথা বলল।
রিদ চোখ তুলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল আসিফের দিকে। ভয়ার্ত আসিফ রিদের নিরব সম্মতি পেয়ে বলল…

—” আসলে ভাই! টিয়াকে বাঁচালেন কিভাবে ওদের হাত থেকে? না মানে আপনি কি পূবে থেকেই জানতেন ওরা টিয়াকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে সেটা?

রিদ সোজাসাপ্টা উত্তরে বলল…

—“এতো কিছু জেনে কি করবি? তোর টিয়াকে দরকার ছিল, পেয়েছিস! সেখানে এতো প্রশ্ন করছিস কেন? নাকি টিয়াকে তোর চাই না।

—” না, না ভাই চাই। আসলে কৌতূহলের জন্য প্রশ্নটা…

বলতে বলতে আসিফ থেমে গেল রিদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। চুপ করে চলে যেতে নিলে রিদ পিছন ডেকে শুধু একটু করে বলল..

—” ওদের টার্গেট টিয়া নয় তুই ছিলি। আমার বিপরীতে হাতিয়ার হিসাবে যেহেতু তোকে তাদের টার্গেট রেখে ছিল। সেই ক্ষেত্রে নিজের খেয়াল তো রিদ খান সবসময় রাখে তাই না। আর বিগত দুই দিন তোর বিশ্বাসের পরীক্ষা ছিল। সেটাতে তুই সফল হলেও আমি অন্তত সন্তুষ্ট হয়েছি। বাকি রইল টিয়াকে বাচানো। তাহলে বলবো টিয়া কখনো তাদের হাতেই পরে নি। নাহিদ চৌধুরী যাদের দিয়ে টিয়াকে কিডন্যাপ করাল তারা মূলত আমাদের লোকই ছিল। প্রথমে টিয়াকে লোক লাগিয়ে কিডন্যাপ করায় তারপর মরগেজ থেকে মরো দেহ পুড়িয়ে কলেজ পাঠায় টিয়ার লাশ বলে নাহিদ চৌধুরী কাছে। তারা মনে করে এবার বুঝি জিতে গেল। কিন্তু হারটা কোথায় হল সেটাই বুঝল না। এখানেই ড্যাবল গেইম খেললাম। প্ল্যানিং তাদের, ডাবার গুটি তাদের, কিন্তু শেষ চালটা ছিল আমার হাতে। একটা চাল আর পুরো গেইম আমার মুঠোয়। ক্ষমতা আসন আমি ফ্রীতে পায়নি। অর্জন করেছি। সেটা বজায় রাখতে গেলে জীবনে অনেক আপনজনকে বুলি দিতে হবে। তার শুরুটা না-হয় নাহিদ চৌধুরী আর মামি আয়েশা আব্দুল্লাহ থেকে শুরু হোক কি বলিস আসিফ?

—” জ্বিই ভাই!
~~

রাত বেশ হয়নি। তারপর কনেকনে ঠান্ডায় হাড় হিম হয়ে আসছে ক্রমাগত। এইতো রাত সবেমাত্র এগারোটা বিশ। কিন্তু চারদিকের নিস্তব্ধতায় মনে হচ্ছে প্রায় শেষ রাত। আর মনে হবে না কেন? খান বাড়ি তো এই মূহুর্তে জনশূন্য হয়ে আছে। কারণ আরাফ খান, হেনা খানকে নিয়ে হসপিটালের আয়নের পাশে। বিকালের দিকেই গেল তবে ফিরবে রাত অর্ধেকে। বাকি রইল মায়া সে বাড়ির সার্ভেন্ড আর মালা সাথে রইয়েছে বেশ। কতোটা বেশ আছে বলা দায়। রিদ তাড়াহুড়ো বাসায় আসতে গিয়েও অনেকটা লেট হলো সবকিছুর ঝামেলা শেষ করতে করতে। রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটার ঘরে। তারপরও মন ছটফটে বাড়িতে ঢুকে সোজা মায়ার রুমের দিকে হাঁটল। দরজা টেনে ভিতরে প্রবেশ করতেই ডিম লাইটের আলোতে দেখল মায়া গায়ে ব্ল্যাঙ্কেট মুড়িয়ে ওপাশ ফিরে কাত হয়ে শুয়ে আছে। স্বস্তিরশ্বাস ফেলে রিদ হাতে উপর ভাজ করে রাখা গায়ের কোটটা ডিল মেরে সোফার উপর ফেলতে ফেলতে গিয়ে বসল মায়ার শিরধারা কাছে। বিগত চারটা দিনের দূরত্ব যেন তার কাছে চার বছরে নেয় লেগেছে বউটা থেকে দূরে থাকতে। সবকিছু সামাল দিতে একটু সময়ে দরকার ছিল তার। তখনো বউকে বুঝানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না বলে বাজে ব্যবহার করতে হয়েছিল। কারণ এছাড়া উপায় ছিল না। তাদের রুমের ভিতর হিডেন ক্যামেরা লাগিয়ে ছিল নাহিদ চৌধুরী লোক লাগিয়ে।
সবকিছু খোলামেলা তাদের চোখের সামনে ছিল। রিদের সামান্য একটু ভুলের জন্য হয়তো বিপরীত পক্ষরা সর্তক হয়ে পালিয়ে যেত। রিদ চাই না কেউ পালিয়ে যাক। তারজন্য বউটার সাথে বাধ্য হয়ে সেদিন সকালে বাজে ব্যবহার করেছিল। তার অভিমানী বউ রাগ করছে এটাই স্বাভাবিক। তাই সে সবকিছু মিটমাট করে পুনরায় বউটাকে কাছে টেনে নিতে চাই। আর ঝামেলা ভালো লাগছে না। এই ঝামেলা ঝামেলা জীবনটা যেন শেষই হচ্ছে না। রিদ সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে বউকে নিয়ে এক টুকরো সুখ কুড়াতে চাই নিজেদের মাঝে। হয়তো বউয়ের রাগ ভাঙ্গাতে কষ্ট হবে তার কিন্তু তাতে কি? সেও বা কম কি? দরকার হলে বউকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে সারারাত বসে থাকবে তারপরও বউকে ছাড়বে না। দেখি কতক্ষণ রাগ দেখাতে পারে? একটা সময় সব রাগ ভুলে হয়তো নিজ থেকেই রিদের কাছে হার মেনে যাবে। তারপরও না-হয় সুখ বিলাসের আলাপ শুরু করবে রিদ। মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে ভেবে রিদ মায়ার দিকে তাকাল। হালকা ঝুঁকে মায়ার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিতেই মায়া ঘাড় বাঁকিয়ে রিদকে এক পলক দেখে ফের আগের নেয় শুয়ে রইল। কোনো প্রতিক্রিয়া জানাল না। রিদ মায়ার অভিমানের গভীরতা বুঝতে পেরে নরম হাতে মায়া পিঠ গলিয়ে হাত ঢুকিয়ে আগলিয়ে টেনে নিজের কোলে বসাল মায়াকে। আলতো করে মায়া মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরে ফের আদুরে হাত বুলাল মায়া চুলে। নড়াচড়া বিহীন মায়া নিবাক পরে রইল রিদের বুকে। রিদ ঊষ্ণ আদরে মায়াকে জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমু খেয়ে বলল…

—” কি কথা বলবে না?
মায়ার প্রতিক্রিয়া না পেরে রিদ ফের বলল…
—” সরি বউ! এত্ত গুলা সরি! আর এমন হবে না। এবার তো কিছু বলো!

রিদের পরপর কথায় যখন মায়ার প্রতিক্রিয়া জানাল না। এতে রিদ খানিকটা রেগে উঠে। তার এতো ধৈর্য্য নেই। তারপর চেষ্টা করে বারবার বউকে ডাকছে কিন্তু এতে যদি বউ নিরুত্তর হয়ে বসে থাকে তাহলে কেমন দেখায়? রিদের কি রাগ উঠবে না? অবশ্য উঠবে! কিন্তু রিদ রাগ দেখাল না বরং চেপে রাখল নিজের মাঝে। তবে গরম গলায় মায়াকে বলল…

—” রিত তুমি কি কথা বলবে? এবার কিন্তু রাগ লাগছে আমার।

রিদের শক্ত গলার মায়া কম্পিত হাত নাড়িয়ে রিদের পিছনের শার্ট আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করে বলল…

—” আপনি জানেন! আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা ছিল আপনার বুকে মাথা রেখে যেন মরতে পারি। মরাটা জানি না তবে আপনার সাথে বাঁচার অনেক সাধ ছিল। তারপরও আমি অনেক হেপি আমার শেষ বেলায় তো আপনাকে পেলাম। এতেই আমার চলবে।

মায়ার শরীরের কম্পন রিদ প্রথমেই বুঝে ছিল কিন্তু সেটা বিশেষ একটা আমলে নেয়নি এই ভেবে যে রিদ হঠাৎ ছুঁইয়ায় হয়তো কেপে উঠছে। কিন্তু ক্রমাগত মায়ার শরীরে বাড়ান্ত কম্পনটা যেন রিদের অন্য রকম লাগলো। সন্দেহের বশে রিদ আবছা আলোয় মায়াকে নিজের বুক থেকে টেনে ‘ কি হয়েছে তোমার কাপছ কেন? বলে মুখোমুখি করে দেখতে চাইলে বাঁধা দেয় মায়া। না উঠে রিদের বুকেই আছড়ে পরে রইল। কম্পিত গলায় ফের বলল…

—” কিছু হয়নি আমার! ঠিক আছি আমি। আমাকে বলতে দিন মিস্টার ভিলেন! যদি আর বলতে না পারি তাহলে আফসোস থেকে যাবে। তাই আমাকে বলতে দিন! আপনার অপমান আমি ভুলিনি মিস্টার ভিলেন। সব মনে আছে। আপনি আমাকে বলেছেন যেখানে পারি গিয়ে মরতে তারপরও আপনার কাছে না যেতে। আমি আপনার কথা রেখেছি। একবারের জন্যও যায়নি আপনার কাছে তাহলে আপনি কেন এসেছেন আমার কাছে? আমি এখনো মরছি না কেন সেটা দেখতে এসেছেন? নাকি আপনার সেকেন্ড ওয়াইফকে মেরেছি বলে আমাকেও আঘাত করতে এসেছেন? আপনি আমাকে মারবেন? মারুন! আমার শরীরে সয়ে গেছে আপনার আঘাত। নতুন করে আর ব্যথা পায় না। সব ব্যথায় আমার পরিচিত ব্যথা মনে হয়। অনেক বেশি বেহায়া হয়ে গেছি তাই ঘুরেফিরে আপনার কাছে চলে যায়। আজকে পর আর যাব না আপনার কাছে। আপনিও আমাকে আর ব্যথা দিতে পারবেন না। আমি আর সেই সুযোগ দিব না আপনাকে।

এতটুকু বলেই থামে মায়া। খুক খুক করে হালকা কেশে উঠে দু’হাতে রিদকে নিবিড় ভাবে জড়িয়ে ধরে আরও চেপে গেল রিদের বুকের সাথে। রিদের সন্দেহ প্রবলতা দৃঢ় হতেই মায়াকে ফের টেনে নিজের মুখোমুখি করে দেখতে চেয়ে বলল…

—” বাজে কথা বলা বন্ধ করো রিত। ভালো লাগছে না শুনতে! কি হয়েছে তোমার? শরীর খারাপ? এমন করছো কেন? দেখি, দেখাও! কি হয়েছে?

রিদকে অবজ্ঞা করে মায়া জোর করে রিদের বুকে মাথাটা চেপে রাখল। কম্পিত স্বরে আস্তে আস্তে করে ফের বলতে লাগল।

—” আমাকে বলতে দিন মিস্টার ভিলেন! প্লিজ! এরপর হয়তো আর সুযোগ পাবো না। আমাদের ইসলামের পুরুষের চারটা বিয়েকে সমথর্ন করে। তারপরও ব্যভিচার না। আপনি দ্বিতীয় বিয়ে করে পাপ করেন নি! তবে আমি স্ত্রী হয়ে বাঁধা দিলে সেটা পাপ হতে পারে। আপনার সামর্থ্য আছে তাই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আপনি চাইলে আরও দুটো বিয়ে করতে পারবেন। সেই সামর্থ্য আপনার আছে। কিন্তু আমার ব্যর্থতা! আমি পাপিষ্ঠ বউ! কারণ আমি স্বামী ভাগ করতে জানি না। এমন পাপিষ্ঠ বউ আপনার জীবনের না থাকায় ভালো। আমি থাকতেও চাই না। আমার সেই ধৈর্য নেই স্বামীকে ভাগাভাগি করে চলবো। আসলে আমাকে কেউ জীবনের শক্ত হয়ে চলতে শিখায় নি। বাবার যতটুকু শিখেছিল তা আপনার সানিধ্য পেয়ে ভুলে গিয়ে ছিলাম। আজ হঠাৎ করেই আবারও বাবার আত্মসম্মান শিক্ষাটা ভিতর থেকে নড়ে উঠল। মনটা ধিক্কার জানাল নিজের বেহামি নিয়ে। ভালোবাসায় নাকি আত্মসম্মান বোধ ছাড়তে হয়। আমি ছেড়ে ছিলাম। কিন্তু বিনিময়ে আপনাকে পাইনি ব্যথা ছাড়া। জীবনের সবকিছু সহজেই মেনে নিয়েছিলাম আমি তারপরও আপনার দ্বিতীয় বিয়েটা মেনে নিতে পারছিনা। আপনার শরীরে অন্য নারীর ছুয়া লেগে আছে সেটা ভাবতেই যেন নিজের উপর ঘৃণা জম্ম নিচ্ছে। আজ আমি হার মেনে নিলাম। আপনার উপর থেকে ভালোবাসার দাবি ছেড়ে দিলাম। আমার আপনাকে চাই না। আপনি সংক্রান্ত কোনো কিছুই চাই না। এমনকি আমি মরে গেলে আমার লাশটাও যেন আমার বাবার বাড়িতে যায় এটা আমার আবদার হবে। তারপরও আপনার আঙ্গিনায় যেন আমাকে দাফন না করা হোক এটা আমার শেষ চাওয়াটা থাকবে।

কথা গুলো বলতে বলতে মায়া পরপর কেশে উঠল। রিদ মায়ার কথা গুলোর প্রতিক্রিয়া না করে বরং নিজের বুকে গরম তরল কিছুর ভেজা স্যাঁতসেঁতে অনুভব করতেই তৎক্ষনাৎ উদ্বিগ্নতা সহিত মায়াকে জোর করে টেনে নিজের মুখোমুখি করে দেখল মায়ার নাক দিয়ে কিছু বের হচ্ছে। দ্রুততা সঙ্গে রিদ সেটি চেক করতে করতে বলল…

—” রিত! কি হয়েছে তোমার? এমন করছো কেন? এতো রক্ত কিসের?

রিদের ভয়ার্ত উত্তেজিত মুখটা মায়া আবছা আলোয় দেখার চেষ্টা করলো। হালকা দেখলও। কি দারুণ চিন্তা মায়াকে নিয়ে। আদৌও তা সত্যি কিনা জানা নেই। জানতেও চাই না। শেষ মূহুর্তে এসে আর কি বা জানবে? রিদ মায়া নিভু নিভু দৃষ্টি আর ঘামন্ত জবজব মুখে দেখে খৈ হারাল। তার বুঝতে কষ্ট হলো না রিদের মায়ার কাছে পৌছাতে পৌঁছাতে এবারও দেরি হলো। রিদ উদ্বিগ্নতায় আঁজলে দু’হাতে মায়ার মুখ চেপে ধরে নাক মায়ার ঠোঁটে ছুঁইয়ে ঘ্রাণ নিতে নিতে বলে উঠে…

—” ড্যামিট! এই রিত! কি খেয়েছ তুমি? দুইটা দিনের দূরত্ব তোমার সয্য হয়নি? আমি এসেছিলাম তো তোমার কাছে তাহলে তুমি কেন আমাকে বুঝলে না? রিত! এই রিত!

মায়া কম্পিত শরীরের সাথে কাশিটাও বহমান। ক্রমাগত যেন নিস্তেজ প্রাণহীন হয়ে পরছে মায়া রিদের বুকে। বারবার কিছু বলতে যেয়েও যেন নিজের সত্তা হারিয়ে ফেলছে সে। একটা সময় মায়া হুড়মুড় করে মুখ ভরতি রক্ত বমি করে বসল রিদের উপর। রিদের ভয়ের মাত্রা আরও দৃঢ় হয়। মায়ার মাথা চেপে ধরে উত্তেজিত ভঙ্গিতে বলে….

—” শিট! শিট! বউ! এই বউ! আমাকে শুনতে পারছো? কি করেছ এটা তুমি? কেন বারবার আমাকে ভালোবাসার পরীক্ষা দিতে হয়? দুটো দিন আমার উপর বিশ্বাস করতে পারলে না। এই তোমার ভালোবাসা? বউ! এই বউ! আমি তোমাকে ছাড়া থাকব কিভাবে? দেখু না আমার ভয় লাগছে। বউ! এই বউ…

রিদ কথা গুলো বলতে বলতে মায়াকে কোলে তুলে দৌড়াল হসপিটালের উদ্দেশ্য। উত্তেজনায় মায়াকে ডাকতে ডাকতে বাড়ির বাহিরে গেল। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে আসিফের উদ্দেশ্য ডাকল রিদ…

—” আসিফ! আ আসিইইফ! গাড়ি বের কর দ্রুত। রিত আমার কথা শুনতে পারছো? রিত! এই রিত! তুমিটা ছাড়া আমি কিভাবে বাঁচবো? তুমিহীনা তো আমি শূন্য। আমার দমবন্ধ হ’য়ে আসছে বউ।

মায়া দুনিয়া অন্ধকার হলো রিদের ক্রমাগত পাগলামো দেখতে দেখতে। তাই রিদের আর কোনো কথায় মায়ার কান অবধি পৌছায়নি কারণ তার আগেই নিজের চোখ দুটো ক্রমশয় বন্ধ হয়ে যায় রিদের কোলেই। হসপিটাল কাছে থাকায় মায়াকে পনেরো মিনিটের মধ্যে ডক্টরদের হেফাজতে রাখল রিদ। চিকিৎসার চললো হাই। মায়ার হঠাৎ সুইসাইডের ব্যাপারটা পাঁচ কান হতে সময় নিল না। একিই হসপিটাল হওয়াতে হেনা খান, আরাফ খান, আরিফ, ফিহা, জুইও এসে পৌছাল সেখানে। রিদের পাগলামো আর মায়া হঠাৎ সুইসাইড দু’টোতেই বিস্ময়ে স্তব্ধ নিবাক হয়ে গেল সবাই। হঠাৎ করে মায়া এমন করলো কেন জানা না থাকলেও সবার চমক দ্বিগুণ হলো যখন মায়ার চিকিৎসার দুই ঘন্টার পর ওটি থেকে বের হয়ে পেশেন্টের গার্ডিয়ান হিসাবে স্বামীকে খুঁজল। তখন রিদ অস্থির ভঙ্গিতে নত মস্তিষ্কের হসপিটালের করিডোরে চেয়ারে বসেছিল। ডক্টর রেবার কথা শুনে মুখ তুলে তাকাল। কিন্তু কথা বলল না। আরাফ খান সহ বাকি সবাই উদ্বিগ্নতায় ডক্টর রেবাকে ‘কি হয়েছে? বলে মায়ার খবর জানতে চাইলে তিনি অন্তত গম্ভীর মুখে জানায় ‘ মায়া কনসিভ করেছিল বিষয়টি। তবে বেশি দিন না হওয়ায় তার লক্ষণ বুঝা যায়নি। হয়তো আরও কিছুদিন গেলে লক্ষণ গুলো বুঝা যেত। মায়ার হঠাৎ বিষ পান করায় বেবিটা নষ্ট হয়ে যায়। মানে মিসক্যারেজ হয়েছে মায়ার। বাকি সব ঠিক আছে। মায়ার পেট ভরতি শক্ত খাবার থাকায় তেমন ক্ষতি হয়নি। এই যাত্রায় বেচে গেছে। এবং পেশেন্টের পেট থেকে তারা বিষও সফল ভাবে বের করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এখন মায়া নিরাপদ। কয়েক দিনের মধ্যে মায়াকে বাসায় নিয়ে যাওয়া যাবে। বাকি কোনো চিন্তা কারণ নেই।

মায়ার বেবি! মিসক্যারেজের বিষয়টিতে সবাই থমকে দাঁড়াল। ছোট মায়া বেবি কনসিভ করেছিল বিষয়টিতে যেন সবার চোখে চরম অবিশ্বাস্য লাগল। চমকানো স্তব্ধতার মাঝে যেন সবাই তৎক্ষনাৎ ঘুরে আগে রিদের মনোভাব বুঝার চেষ্টা করলো। বুঝতে সক্ষম হলো বেশ কিছুক্ষণ পর। যখন রিদ হেলিয়ে জ্ঞান হারিয়ে পরে গেল তখন। অনিয়ম ঘুম, খাওয়া-দাওয়া, আর অতিরিক্ত মানসিক চাপটা আর সয্য হলো না রিদের শরীরে। তাই সেখানে জ্ঞান হারিয়ে বসে। আরাফ খান রিদের মানসিক রেস্টের জন্যই কড়া ডোজের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখল। তাদের গোছাল জীবন যেন একটার পর একটা বিপদ লেগেই আছে। প্রথমে আয়ন, মায়া, রিদ, এর মধ্যে আবারও খরব পেল নাহিদ চৌধুরী কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ে ইলেকট্রনিক আগুন লেগে পুড়ে মারা গেছে আয়েশা আব্দুল্লাহ, নাহিদ চৌধুরী ও তাদের পার্টনারা। হতভম্ব হয়ে সেদিকে ছুটে গেল আরিফ ও আরাফ খান। বাসার কাউকে আপাতত কিছু জানাল না। তবে জুইয়ের কাছ থেকে খবর পেয়ে সেই রাতেই আশুগঞ্জ থেকে ছুটে আসে মায়ার মা-বাবা। মায়ার হঠাৎ বিষ পানের বিষয়টি শুনে পরদিনই অ্যাম্বুলেন্স করে মায়াকে নিয়ে গেল আশুগঞ্জ। রিদ মায়ার ভিতর হওয়া মনমালিন্যতা শফিকুল ইসলাম না জানলেও তিনি এতোটা বুঝতে পারছেন যে ছোটখাটো ঝামেলার জন্য উনার মেয়ে বিষ খাননি। অবশ্য বড় কিছু হয়েছিল। তার জন্যই মায়া এমন কিছু করেছে। সবকিছুর জন্য শফিকুল ইসলাম রিদকেই দায়ি করলো। প্রথম থেকেই তিনি মায়াকে রিদের সাথে বিয়ে দিতে চাননি গুন্ডা বলে। আজ নিজের চিন্তা সঠিক মনে করে মায়াকে সাথে নিয়ে গেল রিদের অসুস্থতার মাঝেই। মায়া তখন সবেমাত্র জ্ঞান ফিরেছিল। ঠিকঠাক ভাবে কথা পযন্ত কারও সাথে বলতে পারছিল না। সেখানে রিদের কথা কারও কাছে জিগ্যেসা করা হলো না। তার আগেই শফিকুল ইসলামের কথায় সম্মতি জানিয়ে চলে যায় এক রাশ অভিমানে। অনেক তো হলো বাবা বিরুদ্ধিতা করে এবার আর না। মায়া যেতে যেতে একজন নার্সের কাছে শুনলো ওর বেবি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি…

.

চলিত…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply