দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
০৭
৪ঃ০৮ মিনিট। ছুটির ঘন্টা বেল বাজতেই ক্লাস রুমে থেকে পাঠদান কারী টিচার বের হয়ে আসে নিজ গন্তব্যে জন্য। ডানপাশে করিডর ধরে পা চালায় অফিস রুমের দিকে। ক্লাস কক্ষ থেকে টিচার বের হতেই দলবেঁধে বের হতে থাকে ছাত্র ছাত্রীরা। সকল ক্লাস চুকিয়ে সবার সাথে মায়াও ক্লাস রুম থেকে স্কুল ব্যাগটি কাঁধে চাপিয়ে নিজের সহপাঠীদের সাথে গুটি গুটি পায়ে থেকে বের হয়ে আসে ক্লাস রুমের বাহিরে। টিয়া, ছায়ার থেকে বিদায় নিয়ে কৌতুহল ভরা দৃষ্টি ফেলায় চারপাশে। হালকা কপাল কুঁচকে চারপাশে তাকিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্ঠা চলায় মূহুর্তেই। কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে খুঁজে না পেয়ে খানিকটা বিরক্তিতে দুই কদম এগোতেই ঝড়ো হাওয়া বেগে দৌড়ে হাজির হয় সেই মানুষটি। মায়া চোখ তুলে তাকাই সেদিকে। মূহুর্তেই চোখে পড়ে মালা হাঁপিয়ে উঠা ফেসটি। দৌড়ানো ফলে নিশ্বাস উঠা নামা করছে দ্রুত। মায়া কর্ড়া দৃষ্টিতে তাকায় সেদিকে। এই মূহুর্তে মালার ঝড়ো হওয়ার দৌড়ের মানেটা বুঝতে পারছে না মায়া। তাই সন্দেহ বশে কাঁধ বাকিয়ে পিছন ফিরে তাকাই মালার। কিন্তু মালার পিছনে কাউকে দেখতে না পেরে সেই দৃষ্টি আবার স্থির হয় মালার উপর। মালার মায়ার হাবভাব বুঝতে পেরে বোকা হেঁসে হাঁপিয়ে বলে উঠলো।
–” আফামনি আমার মনে হইছিল আমি আফনারে এত্তবড় স্কুলে হারাইয়্যা রাইছি। আমার ভয়্যা তো পরান্ডা মরবার নিছিল। অল্পের জন্য বাঁচাইয়্যা লয়ছি আফনারে দেহখ্যা। যদি আফনারে হারাইয়্যা লাইতাম তো বড় ম্যাডাম আমার দুনিয়া তেক্কায় আউট কইরা লাইতো। আল্লাহ মোরে জোর বাঁচান বাচাইছে আইজকা।
মালার কথায় বিরক্তি প্রকাশ প্রায় মায়ার চোখে মুখে। এই নিয়ে শ’ খানিকটা বার হয়েছে মালাকে মায়া নিজের ক্লাস রুমের রাস্তাটা মুখস্থ করিয়েছে। প্রত্যেকবারই একই অবস্থা বারবার ভুলে গিয়ে মায়ার সামনে করুন বিলাপ জুড়ে বসে। আজকে মালার জন্য ঠিকঠাক ক্লাসটা অবধি করতে পারিনি মায়ার। বারবার মালার জন্য বের হতে হয়ে। কালকে রুবিন বিষয়টির সূত্র ধরেই মালাকে মায়ার বডিগার্ড হিসাবে নিয়যুক্ত করেছে হেনা খান। এবার থেকে মায়ার সাথে মালাও সবসময় স্কুলে আসবে। যতক্ষণ মায়া স্কুলে থাকবে ততক্ষণ মালাকেও থাকতে হবে বাধ্যতামূলক ভাবে। যার সূত্র হয়েছে আজ সকাল থেকেই। মালার সাথে সাথে এবার থেকে মায়ার স্কুল ড্রাইবার ও থাকছে সারাদিন স্কুলের মধ্যে। উদ্দেশ্য মায়াকে সেইফ রাখা। মায়ার তদারকি করা! কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা চোখে চোখে রাখা! এতে মায়ার কোনো আপত্তি না থাকতেও কিন্তু বিপত্তি ঘটে মালাকে নিয়ে। বারবার মায়ার বলার এবং দেখিয়ে দেওয়ার পর ভুলে যাচ্ছে মায়ার ক্লাস রুমটি। কিছুক্ষণ পরপর ঘুরেফিরে এদিকে সেদিক ছুটে বেড়াচ্ছে মায়াকে উচ্চ স্বরে চিৎকার করে ডাকতে ডাকতে। যার ফল স্বরুপ প্রতিটা ক্লাস টিচারের ক্লাসে ব্যাঘাত ঘটছে তেমনি মায়াও লজ্জা, সংকোচ বোধে কেটেছে আজকের দিনটি মালার জন্য। যদিও কোনো টিচার এর জন্য মায়া বা মালাকে কিছু বলেনি। কারণ তাদেরও আরাফ খান সর্তকবার্তা দিয়ে রেখেছেন মায়ার সম্পর্কে। যার জন্য মায়াকে প্রাধান্য সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে কিছুক্ষণ পরপর মায়া ক্লাস টিচারকে বলে বের হতে হয়েছে এবং মালাকে শান্তনা স্বরুপ বুঝিয়ে সুজিয়ে কমন রুমে বসিয়ে আসতে হয়েছে। যে মায়ার কিছু হয়নি সে ঠিক আছে! কিন্তু মালার ধারণা যদি আবারও মায়ার ক্লাসের কেউ মায়াকে আঘাত করে বসে, তোহ সেটার জন্য অকালে মালার গর্দান যাবে হেনা খানের কাছে। নিজের সেফটি চিন্তা করে বারবার ছুটে আসা মায়ার কাছে। নিজের শর্টকাট মেমোরি লসের জন্য অতি সূক্ষ্ম রাস্তাটুকু ধরে রাখতে পারছে মাথার মধ্যে। যার ফলে বারবার ভুলে বসা মায়ার ক্লাসের রাস্তাটুকু। মায়া বিরক্তি চোখ আওড়ায় মালার মুখপানে। বিন্দু বিন্দু ঘাম কপালের আশপাশ। মালা একহাতে ওড়না আঁচল টেনে নিজের ঘামন্ত কপাল মুছে নিয়ে বোকা হেঁসে হাত বাড়িয়ে মায়ার কাঁধ থেকে স্কুল ব্যাগটি নিতে নিতে উৎফুল্লতা সঙ্গে বলে উঠলো…
–” আফামনির চলেন যায়গ্যা তাড়াতাড়ি। আইজকা ছোট স্যার যাইবোগ্যা দেশ তেক্কা। বড় ম্যাডাম আমাগো তাড়াতাড়ি যাইতে কইছে। এহন চলেন যায়গ্যা তাড়াতাড়ি। সামনে আমাগো লাইগ্যা ড্রাইবার হাঁরাইয়্যা রইছে। চলেন! চলেন!
মালার পাঁচমিশালী কথায় বিরক্তি যেন আরও ভেসে উঠে মায়ার মুখদ্বয়ে। মালার উদ্ভট সব কথাবার্তা বেশিভাগই বুঝে না মায়া। তাই বেশিভাগ ক্ষেত্রেই তাকিয়ে থাকে মালার মুখপানে। প্রথম প্রথম মালার কথাবার্তা অদ্ভুত মনে হলেও দিনে দিনে মনে হয় মালা ইচ্ছা করেই এসব পাঁচমিশালী অদ্ভুত কথাবার্তা বলে বেড়ায়। তাই মালার প্রসঙ্গে বেশ একটা মনোযোগ হলো না মায়া। বিরক্তি নিয়ে গটগট করে উল্টো রাস্তা হাঁটা ধরে। উদ্দেশ্য! পায়ে হেঁটে বাসায় যাবে আজ। মায়াকে নিজেদের গাড়ির দিকে যেতে না দেখে, মালা পিছন থেকে উত্তেজনা পা চালায় মায়ার পিছন পিছন। দৌড়ে এসে বলে উঠে…
–” আফামনি কই যান। আমাগো গাড়ি তো এইদিকে না
ঐদিক্কা। তোহ আফনে কই যান?
বিরক্তি রেশ টেনে মায়া কাটকাট গলায় জানায়…
–” গাড়িতে নয় পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরবো আজ। আমার সাথে যেতে চাইলে চলো নয়তো বাই।
–” আফামনি কি কন এইসব? বড় ম্যাডাম শুনলে আমাগো আস্তো রাখবো না। চলে তাড়াতাড়ি যায়গ্যা গাড়িতে কইরা। হাঁটলে তিন মিনিডের রাস্তাডা দশ মিনিড লাগবো আমাগো। এমবেও আইজকা তাড়া আছে আমাগো। ছোট স্যারের লাইগ্যা।
জেদি গলায় বললো…
–” বললাম তো হেঁটে যাবো বাসায়।
অক্ষত মায়ার কথায় এক প্রকার বাধ্য হয়ে মালাকে রাজি হতে হয়। মায়ার পিছন পিছন হাজির হয় স্কুল গেইটের সামনে একহাতে স্কুল ব্যাগটি নিয়ে। দু’জনই একত্রে স্কুল গেইট ফুটপাত ধরে দুই কদম এগিয়ে যেতেই পিছন থেকে ডাক দেয় মায়ার স্কুল ড্রাইবার। তিনি মায়াদের বের হয়ে যেতে দেখে দৌড়ে আসেন এইদিকটায়। ড্রাইবারকে দেখে মালা মায়াকে রেখে এগিয়ে যায় সেদিকটায়। উদ্দেশ্য ড্রাইবারকে জানানো তাঁরা আজ পায়ে হেটে বাসায় ফিরবে। মায়া রাস্তার একপাশে একা দাঁড়িয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকিয়ে থাকে নিজ থেকে খানিকটা দূরে মালা ও ড্রাইবারের শোরগোলে দিকে। কিছু নিয়ে বুঝ পরামর্শ চলছে নিজের মাঝে। খানিকটা সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে দিয়েই হঠাৎই কেউ দৌড়ে এসে হাজির হয় মায়ার সামনে। পায়ের শব্দের মূহুর্তেই চমকে উঠে তাকাই সামনে। মায়ার চোখ সামনে নিজের সিনিয়র ভাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বিষন্ন ভরা দৃষ্টি ফেলে সেদিকে। সুন্দরতম ছেলেটি তার ফকফকা ঝকঝকা দাঁতে চমৎকার একটি হাসি উপহার দেয় মায়াকে। মায়া ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ছেলেটির দিকে। ছেলেটি কেন এসেছে? বিষয়টি বোধগম্য নয় তবে ছেলেটিকে চিন্ততে পেরেছে মায়া। নিজের স্কুলের দশ শ্রেনির সিনিয়র ভাই হন। বেশ কয়েকদিন মায়ার আশেপাশে ও দেখেছে বন্ধুমহল নিয়ে ঘুরতে। তবে কোনো কথা বলা হয়েনি। শুধু মায়াকে দেখে মিটমিট করে হাসতো! আর তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছু করতো না। তবে আজ হুট করেই ছেলেটির মায়ার সাথে দাঁড়িয়ে পড়াতে খানিকটা অস্তিত্ব ফিল করে মায়া। জড়তা নিয়ে চারপাশে চোখ বুলাই সে। স্কুল বাস প্রায় সব গুলোই ছেড়ে দিয়েছে। শুধু আর একটি বাস দাঁড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে সেটা ছেড়ে দিবে দিবে ভাব। কারও জন্য আটকে আছে হয়তো। মায়া সেদিকটায় এক পলক দেখে নিয়ে আবারও চোখ আওড়িয়ে তাকাই ছেলেটির দিকে। ছেলেটি নিজেও হাসফাস করছিলো মায়ার সামনে অস্থিরতায় নিয়ে হুট করেই ছেলেটি মায়ার হাত টেনে ধরে আকস্মিক ভাবে। মায়া চমকে উঠে ছেলেটির দিকে তাকায় বিস্ফোরণ দৃষ্টিতে। কি হচ্ছে সেটা বুঝার চেষ্টা করে। বাকরুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার মধ্যে দিয়েই হর্ণের বিকট শব্দ তুলে একটি কালো গাড়ি যায় সাঁই সাঁই করে মায়ার সামনে দিয়ে। মায়া বাকরুদ্ধ দৃষ্টি তুলে সেদিকে তাকাতেই মূহুর্তে শীতল হয়ে যায় চোখ জোড়া। শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কালো গাড়িটির যাওয়া দিকে। মায়া চিনা পরিচিত সেই কালো গাড়িটি গত দুইদিন ধরে দেখে আসছে খান বাড়িতে। এটি রিদের গাড়ি। মায়া চিন্ততে বিন্দু মাত্র ভুল হয়নি। মায়া বাকরুদ্ধ ভাবলেন্স ভাবে তাকিয়ে থাকে রিদের গাড়িটির যাওয়া দিকে থ মেরে। মায়ার একটি হাত তখনো সামনের ছেলেটির হাতে মাঝে ধরা ছিল। মায়ার বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকার মধ্যে দিয়ে ছেলেটি আবারও হাত টেনে ধরে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মায়ার। মায়া চমকে উঠে তাকাতেই দ্রুততা সঙ্গে ছেলেটি দুটো কার্ড আর কিছু চকলেট গজিয়ে দেয় মায়ার হাতে। ব্যস্ত ন্যায় লাজুক বংগিতে বলে উঠলো…
–” এইগুলো তোমার জন্য! আর কাল আমার উত্তরটা চাই। অপেক্ষায় থাকবো তোমার! এখন আসি আমি। বাই!
কথা গুলো ইতি টেনেই ছেলেটি ছুটলো নিজের গন্তব্যে উদ্দেশ্য। হতবাক অবস্থায় মায়াকে রেখেই উঠলো দাঁড়ান্ত বাসটির মধ্যে। চোখের পলকে ছেলেটি বাসে চড়ে বসেতেই বাসটিও ছেড়ে দেয় আপন গতিতে। যেন এতক্ষণ ছেলেটি জন্যই বাসটি অপেক্ষারত ছিল। মায়া হতবাক হয়ে যায়। কি থেকে, কি হলো সম্পূর্ণ বিষয়টিই মাথার উপর যায়। বিষন্ন ভরা দৃষ্টি এবার কৌতূহলী হয়ে উঠে মূহুর্তে! হাতে থাকা চকলেট ও কার্ডের দিকে তাকাতেই কপাল কুঁচকে আসে মায়ার। হাতে থাকা কার্ড গুলো উল্টিয়ে এপিঠ ওপিঠ দেখে নিতেই হাজির হয় মালা। নিজ কার্য শেষ করে মায়ার পাশ ঘেঁষে দাঁড়াতেই আবারও উত্তেজিত দেখালো মালাকে অনেকটা। উত্তেজনা রেশ কাটিয়ে উঠতে না পেরে ব্যস্ত বংগিতে বলে উঠলো মালা….
–” আফামনি আফনারে এইগুলা কে দিলো? হায়! হায়! আমি তোহ চরম একহান জিনিস মিস কইরাছি। আফনে আমারে ফালাইয়া প্রেমচিডি লইয়া লইছেন? আমার লাইগ্যা একটু অফেক্কা করবার পারলান না।
মালার মনোভাব এমন যে মায়া এই মূহুর্তে চরম ভুল করে ফেলেছে মালার অনুপস্থিততে হাতে থাকা কার্ডগুলো নিয়ে। মায়ার উচিত ছিল ডার্ক ঢোল পিটিয়ে মালাকে আহবান জানিয়ে সম্মতি নিয়ে তারপর ছেলেটির চিঠিদ্বয় হাতে তুলা। নয়তো না! মালার কথায় মায়া বিষন্ন ভরা দৃষ্টিতে তাকায় মালার দিকে। একপলক মালাকে দেখে নিয়ে পর মূহুর্তে চোখ দুটো স্থির হয় নিজের হাতে থাকার জিনিস গুলো মধ্যে।
বিষন্নেতা কাটিয়ে উঠতে না পেরে হাতে থাকা জিনিস গুলো দেখতে দেখতে অবুঝ গলায় বলে উঠে…
–” এইগুলো প্রেমচিঠি মালা? আমাকে কি তাহলে প্রেম নিবেদন করলো সিনিয়র ভাইয়া?
–” হুহ! তই নয়ত কি? ক্যাডা আফনারে প্রেমচিডি দিলো হ্যাইডা কন আগে?
–” একটা সিনিয়র ভাই দিয়েছে একটু আগে? ফিরত দিতে পারিনি তো তাঁর আগেই উনি স্কুল বাসে করে চলে গেছেন। যেতে যেতে বলেছে আমায় কাল উত্তরটা দিতে ভাইয়াকে। এখন এই গুলা দিয়ে আমি কি করবো মালা? চিঠি নেওয়া দ্বায়ে কি এখন আমাকে সিনিয়র ভাইয়া সাথে প্রেম করতে হবে মালা?
–” আল্লাহ! মেলা কিছু হইয়্যা গেলো। চিন্তা করেন লাগবো না আফামনি। এহন এইগুলা আফনার কাছে রাখ্যান, কাল আবার স্কুলে আয়সা ফেরত দেয়া যাইবো হ্যাতেরে। আর আফনেও কারও লগে ফ্রেম করান ল্যাগবো না। এহন তাড়াতাড়ি লন বাসায় যায়গা, বড় ম্যাডাম নয়তো আমাগো আস্ত রাখবো না। এমবেও মেলা দেরি অইছে আমাগো। চলেন! চলেন!
মালা তাড়ায়! অক্ষত মায়াও মালার কথায় সম্মতি জানিয়ে হাতে থাকা কার্ডও চকলেট গুলো নিয়েই ছুটে খান বাড়ির উদ্দেশ্য। বিকাল বিলাস করতে করতে হাঁটা ধরে গন্তব্যে উদ্দেশ্য।
খান বাড়ির পাকিং লডের সামনে পিঠ ঠেকিয়ে নিজের কালো গাড়িতে আয়েসি বংগিতে গা এলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিদ। দুই পাঠি দাঁতে মধ্যস্হরে সূক্ষ্ম সুচালো চকচক করা ধারালো একটি চাকু ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরা। সুঠাম বলিষ্ঠ সাদা দেহের সম্পূর্ণ কালো পোশাক জড়িয়ে আছে। অফিসে ফর্মাল ডেসে আছে। কালো প্যান্টের সাথে কালো শার্ট ইন করা। কুইন অবধি ভাজ করা সেই শার্টের হাতা দুটো। বুকের পাশে দুটো বোতাম খুলে দিয়ে শার্টটি ছড়িয়ে দেয় গলার দুইপাশে। দুহাতে কনস্ট্রাকশনের ম্যাপ ধরে রাখা সাথে সাথে দৃষ্টিও সেদিকে স্থির করা। ডান হাতে বেন্ডেজ। দেড় হাত দূরে দাঁড়িয়ে আছে আসিফ রিদের গায়ের কালো কোর্টটি ভাজ করে হাতে নিয়ে। দৃষ্টি তাঁর আপাতত রিদের উপর স্থির করা মনোযোগ সহকারে। তাঁর ঠিক খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে রিদের বহুর দলের বডিগার্ডরা। মেয়েলি গুন গুন শব্দ কানে আসতেই কনস্ট্রাকশনের ম্যাপ হতে চোখ তুলে তাকাই সামনে। সদ্য খান বাড়ির বিশাল গেইট ধরে মালা ও মায়া পায়ে হেঁটে প্রবেশ করছে। দু’জনই প্রাণবন্তর হেঁসে কথা বলছে একে অপরের সাথে। রিদ সেদিকে তাকিয়ে খানিকটা কপাল কুঁচকে আসে মায়াকে দেখে। রিদের দৃষ্টি অনুসরণ করে আসিফ তাকায় সেদিকে। এক পলক তাকিয়ে থেকে পুনরায় দৃষ্টি স্থির করে রিদের দিকে। রিদ দৃষ্টি সরিয়ে পুনরায় কনস্ট্রাকশনের ম্যাপে রাখে আগের ন্যায়। অ্যাটিটিউড দাম্ভিকর্য্য যেন রিদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রকাশ পাচ্ছে তীব্র ভাবে। মায়া হেঁটে আসা গতি পথ দিয়ে হঠাৎই বেখেয়ালি চোখ যায় রিদের দিকে। সাথে সাথে দৃষ্টিতে আবদ্ধ হয় রিদের অ্যাটিটিউড ভরা দাম্ভিকর্য্য মুখ। নিজের বাক্য ভুলে গিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রিদের দিকে। মায়া ছোট মস্তিষ্কের জানান দেয় এই মূহুর্তে রিদ ছাড়া আশেপাশে কেউ নেই! কেউ না! রিদের মাত্রাতিক রুপে প্রথম দিন থেকে আহত ছিল মায়ার ছোট মনও মস্তিষ্ক। আজ যেন সেটা ষোল আনায় পূর্ণ হয় রিদের এই গেটাপে দেখে। পাশ থেকে মালা মায়ার কোনো সাড়াশব্দ না পেরে মায়ার দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকাতেই চোখে পড়লো রিদের অ্যাটিটিউডের গম্ভীর্য্য মুখ। সাথে সাথে ভয়ে চমকে উঠে মায়ার মনোযোগ ভস্ম করার চেষ্টা করে বললো….
–” আফামনি চোখ সরান ছোট স্যারের তেক্কা। ছোট স্যারের ফছন্দ নাহ ক্যাও স্যাররে দেখুক। আফনার দেখ্যার অইলে স্যারের বডিগার্ড গুলারে দেখক্কা লন, কেউ কিচ্ছু কইবো না। মুইও কমুনা কিচ্ছু। তও ছোট স্যাররে দেহাকা যাইবো না। দেহেন না স্যারের মুখে ছুরি লইয়া রাখছে। ছোট স্যার মেলা ডেঞ্জারাস একহান মানুষ। বাংলা ছবির ডিপজলের লাহান। শুধু ডিপজল মেলা কালা ছিল আর ছোট স্যার মেলা সুন্দর।
মালার কথা গুলো ভালো চোখ নিল না মায়া। এই মূহুর্তে চরম বিরক্ত সে মালার উপর। মায়ার ধারণা মালা রিদের নামক বানিয়ে মিথ্যা রটাচ্ছে ওর কাছে। কারণ মায়ার জানা মতো রিদকে কখনোই খারাপ কিছু করতে পারে না! সুন্দর মানুষ গুলো কখনো খারাপ হয়না বরং অনেক ভালো হয়। তাদের সুন্দরের মতো। রিদও ঠিক তাই ! রিদ কখনো খারাপ কিছু করতে পারে না আর না করতে জানে! কই মায়াতো কখনো শুনেনি রিদ খারাপ লোক! আর না দেখেছে রিদকে খারাপ কিছু করতে তাহলে কেন সে অন্যের কথায় তাঁর সুন্দর মানুষটিকে ভুল বুঝতে! খারাপ বলে জানবে। রাগান্বিত চোখে জেদি গলায় উঠলো মায়া…
–” আমি উনাকে দেখবো! আমার উনাকেই দেখতে ইচ্ছা করে। রিদ ভাইয়া ভালো! খুব ভালো! তুমি খারাপ! ভিষণ খারাপ! যাও তো তুমি!
–” আসতাগফিরুল্লাহ! আফামনি ভালা কথা কইলেও দোষ? আল্লাহ! ভালার জমানা কি শেষ অইয়া গো নাহি দুনিয়া তেক্কা? মুই কি ভুলবাল য্যায়গায় আইয়া পড়ছি। মোর মতো ভালা মানুষ কি দুনিয়াতে আর যায়গ্যা অইবো না?
–” নাহ!
মালার পরপর কথায় এবার বড্ড বিরক্ত প্রকাশ পায় মায়ার চোখে মুখে। আপাতত সে রিদকে নিয়ে কোনো প্রকার বাজে কথা শুনতে ইচ্ছুক না। তাই মায়ার এত রাগ ও বিরক্তিতা মালাকে ঘিরে। কথা না বাড়িয়ে মালার হাতাশতায় মুখপান থেকে দৃষ্টি সরিয়ে পুনরায় তাকায় রিদের দিকে। এবার মালার কথা অনুযায়ী রিদের ঠোঁটে চেপে ধরে রাখা সুচালো চকচকে চাকুটি দিকে তাকায়। মূহুর্তেই আতংক উঠে মায়া ভয়ে। হিম ধরে যায় সারা শরীর জুড়ে। মায়া কখনো রিদের এইরূপ দেখেনি গত দুইদিন এ।
রিদকে কখনো ছুরি চাকু মুখে নিয়ে রাখতে দেখেনি এইভাবে আজই প্রথম। তাই ভয়ভীতি জড়তা কাজ করছে নিজের মধ্যে। সে রাতেও রিদের হালকা রাগের স্বীকার হয়েছিল টিভি দেখা নিয়ে। এখন আবার গৌমট অবস্থা রিদকে চাকু ঠোঁটে চেপে ধরে রাখতে দেখে যেন মূহুর্তেই ভয়টা শিউরে ওঠে মায়ার মাঝে৷
মায়া ভয়ে চুপসে যায়! বাঁধ্য অপরাধীর ন্যায় রিদের দিকে নিজের ভয়াৎ দৃষ্টি ফেলে মালার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে বাড়ির ভিতরের দিকে চুপচাপ। মায়া রিদের বরাবরি হতেই আবারও চোখ তুলে তাকাই রিদ হাতে থাকা ম্যাপ হতে। সাথে সাথে দুজনের চোখাচোখি হয়। কপাল কুঁচকে মায়াকে পযবেক্ষণ করে আবারও চোখ আওড়িয়ে তাকায় মায়ার ডানহাতে চেপে ধরা রাখা কার্ড ও চকলেট গুলো দিকে। কুঁচকনো কপালটা এবার আর তীক্ষ্ণ হলো! সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎই হাতে থাকা কনস্ট্রাকশনের ম্যাপ তুলে দেয় আসিফের দিকে। হাত বাড়িয়ে আসিফ সেটি নিতেই রিদ মায়ার দিকে তাকিয়ে থেকে হাতের ইশারায় বুঝায় এখান থেকে চলে যেতে। রিদের হঠাৎ এমন মুড সুইং এর কারণ বুঝতে না পেরে রিদের ইশারা অনুযায়ী আসিফসহ বাকি বডিগার্ড গুলো চলে যেতে উদ্যোগ হতেই এক পলক সূক্ষ দৃষ্টি স্থাপন করে মালাও মায়ার দিকে আসিফ। দুই ঠোঁটের ভাঁজ থেকে ধারালো ছুরিটি বেন্ডেজ করা ডানহাতে নিয়ে গম্ভীর্য্য মুখে হাতে ইশারায় মায়াকে উদ্দেশ্য করে ডেকে বলে উঠলো রিদ….
–” ইউ! কাম হিয়ার!
থামে মায়া। সেই সাথে থামে মালার পথচারণ ও। রিদ ও মায়া দুজনেরই দৃষ্টি প্রথম থেকে একে অপরের দিকে স্থির ছিল। এবার মালার দৃষ্টিও স্থির হয় রিদের মাঝে। ভয়াৎ দৃষ্টিতে রিদের হাতে চাকুটা দেখে নিয়ে মূহুর্তেই বার কয়েক শুকনো ঢুক গিলে মালা। ভয়ে সিঁটিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে উঠে..
–” আফামনি দিলেন তো ফাস্যাইয়া? মানা করছিলাম হুনলেন না! ক্যান তাকাইছিলেন ছোটু স্যারের দিখ্যা হ্যাঁ? এহন স্যার ছুরি লইয়্যা দাঁড়াইয়্যা আছে আমাগো পেটে ডুহানের লাইগ্যা। এহন আফনেও মরলেন সাথে আমারেও মারলেন।
মালার রাশি ভারি কষ্টের কথা গুলো কান বেঁধ করতে পারলো না মায়ার। রিদকে এই মূহুর্তে ভয় পেলেও রিদ শান্ত একটি ডাকই ছিল মায়ার জন্য বাধ্যতা বচন। তাই নিজের গতিপথ পাল্টিয়ে বাঁধ্য মেয়ে মতো এগিয়ে যায় রিদের সামনে। মায়ার পিছন পিছন মালাকে আসতে দেখে রিদ বিরক্তিতে হাতের ইশারায় বুঝায় মালাকে চলে যেতে। রিদের ইশারা অনুযায়ী মূহতেই মালা দৌড়ে পালায় প্রাণ বাচানোর তাগিদে মায়াকে রেখে। যেন এতক্ষণ মালা রিদের ছোট একটি ইশারার জন্যই অপেক্ষা করে বসে ছিল। মায়া ঘাড় বাকিয়ে মালার দৌড়ে চলে যাওয়া দিকে এক পলক তাকায় ভয়াৎ দৃষ্টিতে। পর মূহুর্তে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে আবারও তাকাই রিদকে বিরক্তি মাখা মুখশ্রীতে। সাথে সাথে আবারও চোখাচোখি হয় দু’জনে। মায়া নিজের দৃষ্টি সরিয়ে বাঁধ্য মেয়ের ন্যায় দুই কদম হেটে এগিয়ে এসে রিদের মুখোমুখি দাঁড়ায় মাথা নিচু করে। রিদ বিরুক্তি কপাল কুঁচকে চোখ আওড়িয়ে মায়াকে উপর থেকে নিচ অবধি পযবেক্ষণ করে। হাতে চেপে ধরে রাখা গিফট গুলো দেখে নিয়ে শানিত শান্ত ভিজা গলায় বলে উঠলো রিদ..
–” হাতে কি?
ইতস্তত গলায় নিচুস্বরে….
–” পেয়েছি এটা!
নিজের একটা ভ্রুঁ উচু করে বলে উঠলো রিদ….
–” পেয়েছেন নাকি দিয়েছে কেউ?
–” দিয়েছে!
–“স্বামী থাকা শর্তেও নিয়েছেন?
এই মূহুর্তে রিদের স্বামী কথা মানে বুঝে উঠতে পারছে না মায়া। বিয়ে ছাড়া স্বামী হয় না এই বিষয়টি মায়ার বোধগম্য। কিন্তু মায়ার কখনো বিয়ে হয়েছে কি না সেই বিষয় বোধগম্য নয়। রিদের সাথে বাচ্চা কালের পুতুল বিয়ে সে বাচ্চা কালেই ভুলে বসে আছে। জানা নেই বিষয়টি। আর না পরিবারের কেউ মায়াকে এই বিষয়ে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেছে। খান বাড়িতে আসার প্রথম রাতে যাও হেনা খান মায়াকে জড়িয়ে ধরে একবার রিদের বউ বলে সম্মোধন করেছিল। কিন্তু রিদ ফিরে আসার সাথে সাথে মায়াকে আবারও জানানো হয় সে কারও বউ নয়। রিদেরও না। হেনা খান সেদিন এমনটা করেছিল রিদ থেকে মায়ার আসল পরিচয়টি গোপন রাখার জন্য। যাতে রিদ মায়ার সম্পর্কে সত্যিটা অবগত হতে না পারে। কিন্তু ততক্ষণে রিদের মায়ার সত্যিটা সম্পর্কে অবগত হয়ে গিয়েছিল। হেনা খানের বলা উক্তিতে ভিত্তি করে মায়া নিজের অবুঝতায় বিপদ ডেকে এনে সহজ সরল স্বীকারোক্তি রিদকে বলে উঠলো…
–” আমার স্বামী নেই তো! দাদি বলেছে আমি সিঙ্গেল!
কপাল কুঁচকে বলে উঠে….
–” তাই! সিঙ্গেল আপনি? সিঙ্গেল হলেই আপনাকে সবার থেকে সবকিছু নিতে হবে?
মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে আস্তে করে বলে…
–” হুমমম!
শক্ত গলায়…
–” ছেলেটা কে?
–” সিনিয়র ভাইয়া একটা?
নিজের করা প্রশ্নে মায়ার সহজ সরল স্বীকারোক্তিতে বিরক্তিটা যেন আরও বাড়ে রিদের। রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। মেয়ে আসলেই কি এতটা সরল সরল নাকি রিদের সামনে নিজেকে সহজ সরল তুলে ধরে সেটা বুঝতে পারছে না রিদ। গাঢ় সন্দেহ দৃষ্টি মায়ার দিকে ফেলে শক্ত গলায় বলে উঠলো….
–” হাতে থাকা জিনিস গুলো দাও আমাকে!
রিদের কথা অনুযায়ী বাঁধ্য মেয়ে মতো হাতে থাকা চকলেট, কার্ড গুলো তুলে দেয় রিদের হাতে। রিদের হাত থাকা ছুরিটি গাড়ির উপর রেখে হাত বাড়িয়ে মায়ার হাত থেকে সেগুলো ন্যায়। চকলেট গুলো এক পলক দেখে নিয়ে দৃষ্টি স্থির করে লাল গোল্ডন সংমিশ্রণে বড় দুটো কার্ডের দিকে। হাতের ভাজে রেখে কার্ড গুলো উল্টিয়ে চোখ বুলাই কার্ডের ভিতরে লেখা প্রেমপত্রের দিকে রিদ। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে সেকেন্ড দশেক সেই প্রেমপত্রের চোখ স্থির করে মূহুর্তে হাক ছেড়ে আসিফ ডেকে বলে উঠলো রিদ….
–” আসিফ! সবান, পানি, টাওয়াল, স্যাভলন, সেনিটাইজার, সবকিছু দুই মিনিটের মধ্যে চাই আমার। ডু ইট ফাস্ট!
রিদের হাক ছেড়ে গলার শব্দের মূহুর্তে কেপে উঠে মায়া। ভয়ে জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে চোখ তুলে তাকাই রিদের দিকে। রিদের এই মূহুর্তে রাগান্বিত দৃষ্টি মানে বুঝতে না পেরে, আবারও মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে পড়ে রিদের সামনে। অপরাধী ন্যায় ধীর গলায় বললো…
–” আমি দাদী যাব ভাইয়া!
উত্তর করলো না রিদ। মায়া রিদের উত্তর না পেয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে রিদের সামনে ভয়ে সিঁটিয়ে। রিদের কথা অনুযায়ী মিনিট দুই একে মধ্যে সবকিছু নিয়ে হাজির হয় আসিফ। সাভেন্ড দিয়ে একে একে সবকিছু আনিয়ে রাখে রিদের সামনে। রিদের দৃষ্টি অনল মায়ার দিকে চোখ মুখ শক্ত করে তাকিয়ে আছে। হাত বাড়িয়ে আসিফের দিকে চকলেট, কার্ড গুলো দিতে দিতে ভরাট গলায় বলে উঠলো….
–” আসিফ! চিঠি গুলো রাখতো! রাত জেগে চিঠি গুলো বসে পড়ে দেখতে হবে আমায়। চিঠিতে কোনো প্রকার ভুল আছে কিনা সেটা যাচাই ও তোহ বিশেষ প্রয়োজন আছে তাই না? ভুলবাল চিঠিতে তোহ আর প্রেমনিবেদন হয়না। তাই চিঠি ও চিঠির মালিকেসহ বাজিয়ে সংশোধন করে, তারপর নাহয় তোর ম্যাডামকে দেওয়া যাবে তাঁর এই প্রেম নিবেদনের চিঠিখানা। ততক্ষণ নাহয় আমার কাছেই থাকুন।
রিদের কথার মানে বুঝতে পেরে মূহুর্তে আসিফ বলে উঠলো…
–” জ্বিই ভাই! হয়ে যাবে।
কথা গুলো বলেই আসিফ প্রস্হান করে সেখান থেকে দ্রুততার ন্যায়। রিদ দক্ষ হাতে সাথে সাথে মায়ার ডানহাতটা টেনে সবান, স্যাভলন, মিশ্রিত ঠান্ডা পানিতে চুবিয়ে চেপে ধরে শক্ত করে। রিদের আকস্মিক ঘটনায় মায়া ভরকে গিয়ে তাল সামলাতে না পেরে সাথে সাথে বসে পড়ে নিচে। নিজের বামহাতে রিদের একহাত খামচি দিয়ে ধরে ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে বললো…
–” ভাইয়া! আমি ব্যাথা পাচ্ছি তোহ। ছাড়ুন আমাকে!
কথা গুলো কানে ঢুকলো না রিদের। রিদ নির্মলতার ন্যায় শক্ত হাতে জুড়ে ঘষামাজা করে মায়ার হাতটি পরিষ্কার করতে থাকে। দলাবেঁধে জীবানু সব মায়ার হাতে লাগানো যেটা রিদ এই মূহুর্তে ঘষেঘষে তুলার চেষ্টা করছে। মায়ার নরম তুলতুলে হাতটি রিদের শক্ত হাতে বন্ধনে পড়ে লাল টলটকে আবরণের ধারণ করে। একটা সময় মায়া ব্যাথায় কাতর হয়ে ভয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠে রিদের সামনে। মায়ার কান্নায় বিরক্তি চোখে এক পলক দেখে নিয়ে নিজের কাজে মনোযোগী হয় রিদ। একটা সময় নিজের কাজ শেষ করে পুনরায় মায়াকে টেনে আবারও দাঁড়ায় করায়। সার্ভেন্ডের হাত থেকে টাওয়াল নিয়ে মায়ার হাতটি ভালোভাবে মুছে দিয়ে সেখানটায় জোরপূর্বক জোরে সেনিটাইজার ঘষে দেয়। মায়া ব্যাথায় জড়-জড়িত হয়ে বামহাতে নিজের মুখে চেপে ধরে অনবরত কান্না করেই চলছে। রিদের হঠাৎ রেগে যাওয়াটা মায়ার কাছে সম্পূর্ণ নতুন। সাথে নিষ্ঠুরতম আচরণটাও। রিদকে ঘিরে এবার মায়ার ছোট মনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভয়ে পাহাড় জমা হচ্ছে। রিদকে খারাপ লোকে দলে ফেলতে চাচ্ছে। ভিষণ রকমের খারাপ লোক মনে হচ্ছে মায়ার! রিদ চোখ ঘুরিয়ে সার্ভেন্ডকে ইশারা করে চলে যেতে বলে। রিদের ইশারা অনুযায়ী সার্ভেন্ড চলে যেতেই রিদ শক্ত গলায় কাট কাট করে জানায়….
–” লুক! আমার ব্যবহিত টিস্যুতেও কারও স্পর্শ পছন্দ নয় আমার। সেখানে তোমার হাতে অন্যকারও স্পর্শ থাকবে সেটা মেনে নেওয়ার ছেলেও আমি নয়। আজ বলছি বুঝানোর খাতিরে কাল কিন্তু বলবো না। কাল হিতে বিপরীত কিছু ঘটবে! নিজের জিনিস গুলো প্রতি বরাবরই সচেতন আমি। তুমি আমার জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত অপছন্দের মানুষ হলেও এই মূহুর্তে প্রত্যেক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমার সাথে জড়িত আছো। যতদিন না পযন্ত আমি তোমাকে মুক্তি দিচ্ছি ততদিন পযন্ত অন্য কারও ছুঁয়া তোমার শরীরে পছন্দ নয় আমার। অন্যে ব্যবহিত জিনিস রিদ খান ব্যবহার করে না। বরং রিদ খানের ছুড়ে ফেলা জিনিস মানুষ কুড়িয়ে নেয়। তোমার ক্ষেত্রেও তাই! তোমাকে ছুড়ে ফেলার পর তুমি যাহ খুশি করতে পারো। আই ডোন্ট কেয়ার! তোমার আঠারো বছর হলে ডির্বোস পেয়ে যাবে তুমি। ততদিন তোমাকে সেইফ রাখার দ্বায়িত্ব আমার। আমার বউয়ের শরীরে অন্য ছেলেদের স্পর্শে থাকবে এটা চরম ইগোতে লাগবে আমার। রিদ খানের ইগোতে লাগা তাঁর নীতির বাহিরে। ডির্বোসের পর একছেলের সাথে নাকি শত ছেলের স্পর্শ নিজের শরীরে মাখবে সেটা তোমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা। তাতে আমার বিন্দু মাত্র ইন্টারেস্ট নেই! কিন্তু আমার নামে জড়িত থাকা অবস্থায় অন্য কোনো কিছু মেনে নিব না আমি।গড ইট!
চলবে…..
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১২
-
দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ গল্পের লিংক
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১০