দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৭
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং করবেন)
৭৭
রক্তাক্ত অবস্থায় মাথা চেপে ধরে মায়া দৌড়াল সেন্ডারের গেইটের দিকে। নির্জন রাস্তা! দূর্বলতায় শরীরের হাড় গুলোও যেন ভেঙ্গে আসছে ক্রমশয়। তীব্র ভয়ে বুক ধড়ফড় করছে। তরতর করে শরীরের কম্পন জানান দিচ্ছে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে মায়া জ্ঞান হারাতে পারে। তাই মায়া নিজের জ্ঞান হারানো আগে আপনজনদের কাছে যেতে চাই সে। নিজের জন্য না-হয় অন্তত আয়নের জন্য হলেও মায়ার সজ্ঞানে থাকা জরুরি। নয়তো ঘোর বিপদের সমক্ষীন হতে হবে ওদের। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যাবে আয়ন। মায়া প্রাণপূর্ণ দৌড়ায়। নিশ্চল পা দুটো আছড়ে আসে দূর্বলতায়। হাঁপাতে হাঁপাতে মায়া সেন্টারের গেইটের ধরে দাঁড়ায়। এখনো ভিতরে প্রবেশ করেনি। আশেপাশে কোথাও মানুষজন দেখছে না তারমানে সবাই পার্টির ভিতরে আছে। মায়া গেইটের দারোয়ানকে আশেপাশে তাকিয়ে খুজল! কিন্তু কোথাও নেই। মায়া বড় বড় শ্বাস টেনে নিজের মধ্যে শক্তি যোগাতে চাইল। দূর্বল গলা টেনে আশেপাশে সাহায্যের জন্য মৃদু চিৎকারে ডাকল…
—” শুনছেন! কেউ আছেন আশেপাশে? থাকলে আমাদের সাহায্য করুন প্লিজ। কেউ আছেন। শুনছেন আমার কথা। থাকলে সাহায্য করুন প্লিজ। কেউ আছেন?
মায়া দূর্বল গলায় পরপর করে ডেকেও কারও সাহায্য পেল না। মায়া মনো স্থির করে সামনে দৌড়াতে চাইলে একজন বয়স্ক দারোয়ান টাইপের লোক এগিয়ে আসল দ্রুত মায়ার দিকে। সেন্টারে মরিচ বাতিতে মায়ার রক্তাক্ত মুখটা দেখে তাড়াহুড়ো করো দৌড়ে গেল সেদিকে তিনি। বেশ উত্তেজনায় লোকটা মায়াকে বলল…
—” এই মেয়ে কেডা তুমি? এইখানে কেমনে আইছো? তোমার এই অবস্থা কেনু? কাপড়ে তো মেলা রক্ত। তুমি কি ব্যথা পাইছো?
মায়া যেন দম ফিরে পেল কাউকে নিজের সামনে পেয়ে। তবে গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না কারণ তৃষ্ণার্তে গলা শুকিয়ে কাট হয়ে আছে। ঠান্ডায় হাত পা শক্ত ঠেঙ্গা হয়ে আছে। হাতের মোজা দুটোও রক্তাক্ত আর ছেঁড়া। বৃদ্ধি লোকটা ফের মায়াকে ডাকল। মায়া দেয়াল ধরে নিঃশক্তির কাঁপা কাঁপা গলায় কোনো রকম আওড়াল…
—” প্লিজ আমাদের সাহায্য করুন দাদু। আমরা ভিষণ বিপদের পড়েছি। গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়েছে আমাদের।আমার সাথের ভাইয়াটা ভিষণ আহত হয়েছে। উনাকে তুলতে সাহায্য লাগবে। আপনি একটু ভাইয়ার পাশে বসুন আমি ভিতর থেকে আমার পরিবারের কাউকে নিয়ে আসছি।
লোকটা মায়াকে সাহায্য করতে উদ্বিগ্নতা দেখায়৷ মায়া ফের দূর্বল শরীরে দৌড়ে লোকটাকে নিয়ে রাস্তা পাশে পড়ে থাকা অর্ধ অজ্ঞান অবস্থায় আয়নের কাছে। আয়ন গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে পা ছড়িয়ে বসে আছে রাস্তায়। সারা শরীর রক্তাক্তের জ্বীর্ণ জিন হয়ে আছে। গায়ের শার্টটা পযন্ত ছিড়ে বুকের পাশটা তেতে গেছে। কপাল, হাতে তুলনা মূলক বেশি ব্যথা পেয়েছে। চোখের পাতা ছুইয়ে ছুঁইয়ে রক্ত গড়াচ্ছে। মায়া বৃদ্ধ লোকটাকে আয়নের পাশে বসিয়ে পরপর কয়েকবার আয়নকে ডাকল। ব্যথায় কাতর আয়ন অল্প চোখ টেনে তাকায় মায়ার রক্তাক্ত ভেজা মুখটার দিকে। গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না তারপরও অস্পষ্ট স্বরে গলা টেনে টেনে বলে…
—” ম মায়া আ..মা..দের বা..সার কা..রও কা..ছে সা..হা..য্য যা..ও।
—” যাচ্ছি ভাইয়া! এইতো আমি যাচ্ছি। প্লিজ আপনি একটু শক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। আ আমি এক্ষুনি কাউকে নিয়ে আসছি।
এই বলে মায়া ফের দৌড়াল এলোমেলো পায়ে রাস্তা থেকে সেন্টারে ভিতর। এর ভিতরে দূর্বলতায় বেশ কয়েক বার হাঁপিয়েও উঠেছে সে। মায়া সাহস নিয়ে কিছুটা পথ দৌড়ে সেন্টারে বাগানের ভিতরের যেতেই হঠাৎ দেখা পেল রিদের। পার্টির ভিতর থেকে সে বের হয়ে আসছে এদিকটায় । হয়তো বাহিরে কোথাও যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিল। রিদকে দেখে স্বস্তির মায়া প্রাণপূণ দৌড়ে গিয়ে রিদকে ঝাপটে ধরে বুকে আছড়ে পড়ে ভরসা পেয়ে। আকস্মিক ঘটনায় হঠাৎ করে মায়া রিদের বুকে হামলে পড়ায় রিদ খেই হারিয়ে দু-কদম পিছিয়ে গেল মায়াকে নিয়ে। রিদ প্রথমে বুঝতে না পারলেও কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ঠিকই মায়ার উপস্থিতি বুঝে স্থির হয়ে দাঁড়াল জায়গায়। তবে মায়াকে জড়িয়ে ধরল না রাগে জেদে মাথায় শুধু একটা দৃশ্য বাজছে রুমের ভিতর আয়ন আর মায়া ছিল অন্তরঙ্গ অবস্থায় সেটা। রিদ চোখে দেখেনি ওদের তবে সে শুনেছিল আয়ন মায়ার উত্তেজিত কন্ঠের কথা গুলো। ড্রাগসের উত্তেজনায় রিদ মায়া বর্তমানে সঠিক অবস্থানটাও পযবেক্ষণ করতে পারলো না। ধরতে পারলো না রিদ পার্টি ভিতর থেকে বাহিরে এসেছে আর মায়া, বাহির থেকে ভিতরে যাচ্ছিল। যদি রিদ নেশায় বোধ না হতো, তাহলে মায়ার সঠিক অবস্থানটা বুঝতে পারতো। ধরতে পারতো মায়া এই মূহুর্তে রিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে তাহলে পার্টি রুমে মায়ার জায়গায় নিশ্চয়ই অন্য কেউ ছিল। মায়া না। বরং মায়াকে নিয়ে যে বিশাল ফাঁদটা পাতা হয়েছে সেটা অনাহেষেই তার মাথায় খেলে যেত। রিদ চট করে বুঝে যেত সেখানে মায়া নয় বরং চোখের ধোঁয়া ছিল। যেটা মায়া আয়নের অন্তরঙ্গ সম্পর্কে বলে চালাচ্ছিল তার সম্মোহে। একটা চক্রান্তে জাল হিসাবে শুধু আয়ন আর মায়ার ভয়েস রেকর্ড ছিল সেই শব্দের রেশ ধরে রুমের ভিতর। যা সবটাই ছিল শুধু রিদের মাইন্ড ডাইভার্ট করা। যেটা অনেকটা সফল হয়ে গেল রিদকে ড্রাগস সেবন করিয়ে। মায়া রিদকে পেয়ে যেমন জান ফিরে আসে নিজের জানে তেমন স্বস্তিরও। যার ফলে রিদের শান্ত থাকার বিপদটা বুঝল না। বুঝল কতটা অগ্নি মসাল জ্বলে আছে রিদের অন্তরে। স্বস্তির মায়া ভসরার স্থান পেয়ে প্রচন্ড বিশ্বাসে দু’হাতে বেশ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রিদকে। এতক্ষণের উদ্ধিগ্নতা, অসহায়তা সবকিছু যেন মূহুর্তেই চলে যায় রিদের সানিধ্য পেয়ে। মায়া রিদের বুকে মাথা রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এটা মায়া বিশ্বস্ত আর ভরসার বুক। মায়া পুরো দুনিয়া একদিকে আর মায়ার মিস্টার ভিলেন একদিকে। আর যায় কিছু হোকনা কেন মায়ার মিস্টার ভিলেন মায়াকে সেইফ করবে সকল পরিস্থিতি থেকে এতোটা মায়ার বিশ্বাস। মায়া স্বস্তির নিঃশ্বাসটা হঠাৎ আটকে আসে আয়নের করুন পরিস্থিতি কথা চিন্তা করে। আয়নকে বাঁচাতে হবেবলে চট করে চোখ মেলে তাকায়। রিদের বুক থেকে মুখ উঠিয়ে উদ্ধিগ্নতায় বলে…
—” আ আমাদের সাহায্য করুন মিস্টার ভিলেন। ও ওখানে আ আয়ন ভাই! আয়ন ভাই রাস্তায়…
রিদের দীর্ঘ সময়ের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গে মায়ার মুখে পর পর আয়নের নামটা শুনে। টেনে মায়াকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে সর্বশক্তি প্রয়োগে ঠাস করে থাপ্পড় মারে গালে। মায়া তৎক্ষনাৎ ছিটকে পড়ল মাটিতে। আকস্মিক ভাবে রিদের হঠাৎ রেগে যাওয়ার কারণটা বুঝল না মায়া। দূর্বল শরীর পুনরায় রিদের দেওয়া ব্যথায় কুঁকড়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে ফ্লোরে উপড়ু হয়ে পরে। রিদ ফের মায়ার বাহু টেনে ধরে দাঁড় করিয়ে একহাতে মায়া গলা চেপে ধরে। এতোটা জোরে ধরে যে মায়া গাল দাঁতের মাড়ির সাথে ছিঁড়ে লেগে যাচ্ছিল মনে হলো। মায়া গালের ব্যথায় রিদের হাতটা ছুঁড়ানো চেষ্টা করে ছটফট করে। রিদ মায়ার গাল চেপে ধরে উচিয়ে মায়াকে নিজের মুখোমুখি করে হিংস্রত্ব রক্তিম লাল চোখে তাকিয়ে গর্জে উঠে দাঁতে দাঁত পিষে বলে…
—” শরীরে জ্বালা বেশি? একজনকে দিয়ে হয়না? কয়টা নাগর লাগে তোর? আমি কি বিছানায় তোকে সুখ দিচ্ছিলাম না? তারপরও কেন গেলি তোর আয়ন নাগরের কাছে কেন? বল কেনহহ?
চিৎকার করে উঠে রিদ আবারও মায়াকে ঠাস করে ধাক্কা মেরে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিল। মায়া তাল হারিয়ে পরতে গিয়েও নিজেকে সামলায়। রিদের কোনো কথায় ওর বোধগম্য হচ্ছে না। হঠাৎ করে রিদ কেন মায়াকে আঘাত করছে তাও বুঝতে পারছে না। এই পরিস্থিতি বা বিছানা, সুখ এসব কোথায় থেকে আসল? মায়া তো আয়নের সাথে বাহিরে যেতে চেয়েছিল জুইকে সারপ্রাইজ দিবে সেজন্য গিফট নিতে। কিন্তু পথি মধ্যে ওদের গাড়ি বাজে ভাবে এক্সিডেন্ট করায় আর যেতি পারেনি এবং পুনরায় এখানে ফিরে আসতে হয়। তবে মায়া তুলনা মূলক কম আঘাত পেলেও আয়ন একটু বেশিই আঘাত পেয়েছে। আয়নের গুরুতর অবস্থার জন্য এই মূহুর্তে হসপিটালের না নিলে হয়তো বাঁচানো দায়। আর এজন্যই তো মায়া বারবার আয়নের নামটা নিতে চাচ্ছিল সাহায্যের জন্য। কিন্তু দূর্বলতায় ও শরীরে কম্পনে কথাটা শেষ করতেই পারলো না দ্রুত, তার আগেই রিদ আঘাত করে বসল। কিন্তু কেন? এখানে মায়া নিজের দোষটা বুঝতে পারছে না কোথায়। মায়া ভাবল হয়তো সে রিদকে না বলে বাহিরে চলে গেছে বলে রিদ রাগ করেছে। আসলে দোষটা মায়ারই ওর রিদকে বলে বের হওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু আয়নের তাড়াহুড়োয় কিছু বলতে পারেনি। চলে যায়। মার খেয়েও মায়া ভুল বুঝল না রিদকে বরং তৎক্ষনাৎ দ্রুত এগিয়ে গেল রিদের কাছে। আঁজলে রিদের একটা হাত ওর দু’হাতে মাঝে নিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই বুঝতে রিদ ঠিক নেই। রিদের বেগতিক কম্পিত হাতদুটো বেশ উত্তেজিত করল মায়াকে। আতঙ্কিত চোখে মায়া সাথে সাথে রিদের বুকে গালে হাত রেখে চেক করতে করতে বলল..
—” একি? কি হয়েছে আপনার? এতো কাঁপছেন কেন? শরীর হিম শীতল হয়ে যাচ্ছে কেন? আপনি ঠিক আছেন তো? আমি…
রিদ মায়াকে ধাক্কা দিয়ে মায়াকে নিজের থেকে সরিয়ে তেতে উঠে বলে…
—” তোর নষ্ট শরীরে আমাকে ছুবি না। তুই নষ্ট হয়ে গেছিস। তোর ছুয়াও অপবিত্র হয়ে গেছে। আমার জন্য তুই নোংরা হয়ে গেছিস। দূরে থাক আমার থেকে তুই।
কথা গুলো বলতে বলতে রিদ লাথি মেরে পাশের ফুলের গেইটা ভেঙ্গে টেনে নিচে ফেলে দিতে লাগল হিংস্রত্ব ভঙ্গিতে। কি নিদারুণ নিষ্ঠুর সেই হিংস্রতা।
মায়া রিদের রাগি হিংস্রতা দেখে মূহুর্তেই ভয়ে সিঁটিয়ে গেল একপাশে। এমনই শরীর থেকে এখনো রক্ত ঝড়ছে ওর তারপর আবার এখন রিদের অতিরিক্ত আঘাত যেন মায়ার শরীরে সহ্য হচ্ছে না। রিদ বেদিশা হয়ে চিৎকার করে হিংস্রত্ব প্রকাশে টেনে ছিঁড়ে ফেলতে লাগল সবকিছু এলোমেলো করে। রিদের সেই চিৎকারে আত্মা কেঁপে উঠে মায়া। কি বলবে। কি করা উচিত বুঝতে পারছে না। শুধু ভয়ে আষ্টশ হয়ে দাড়িয়ে আছে। রিদ সবকিছু চিৎকার করে ফেলতে ফেলতে বলে..
—” মাইন্ডলেস! ফাকিংলেস! টোটালি বেইনলেস! শালার জিন্দিগি থু! সামান্য একটা মাইয়া মানুষকে নিজের কন্ট্রোলে রাখতে পারলাম না। ধিক্কার জানায় তোর এই জিন্দিগীরে! ছেহ!
রিদের কোনো কথার মর্ম বুঝতে সক্ষম হলো না মায়া। শুধু অসহায় চোখ তাকিয়ে থাকল রিদের দিকে। রাত প্রায় বারোটার ঊর্ধ্বে। গায়ের ক্রিম কালারের বোখরায় ছিটা ছিটা রক্তে রক্তাক্ত সর্বাঙ্গে। মাথার হিজাবটাও এলোমেলো হয়ে গেছে রক্তে ভিজে। অশ্রু ভেজা চোখ দুটোতে অনর্গল জল গড়াল। দূর্বল শরীর এখনো রক্ত ঝড়ছে। সেখানে আবার নতুন করে রিদের আঘাত গুলো যেন মায়ার সহ্যের বাহিরে। মায়া অসহায়ত্ব প্রকাশ পেল ওর মুখের সর্বত্রে। ঠোঁট ভেঙ্গে ডুকরে কেঁদে অসহায় মুখ করে করুণ চোখে তাকাল রিদের দিকে। নেশায় বোধ রিদ মায়ার অসহায়ত্বটা দেখেও যেন বুঝল না। মায়াকে এরিয়ে সবকিছু ফেলে-টেলে চলে গেল বাহিরে দিকে। রিদের ক্রমাগত শরীর কাপছে দূর্বল হয়ে উঠছে যেকোনো সময় অজ্ঞান হয়ে পড়বে। সবকিছু হাতের বাহিরে যাওয়ার আগে রিদ এখান থেকে সরে গেল। এমনকি রিদ গেইট অবধি যেতে বেশ কয়েকবার খেই হারিয়ে পড়তে নিয়েছিল কিন্তু নিজের তাল ধরে টলমল পায়ে এগিয়ে গেল গাড়ির দিকে। ড্রাইভিং করা অবস্থাতে নেই সে। তারপরও নিজের গাড়িটি নিয়ে বের হতে চাইলে রিদের পিছন পিছন দৌড়ে যায় রিদের ড্রাইভার। সে দ্রুততা সঙ্গে রিদকে গাড়িতে উঠিয়ে, গাড়িটি টানল অন্যদিকে। রাস্তার যে মাথায় আয়ন পরে আছে সেদিকে নয় বরং উল্টো দিকে গাড়ি টানল। মায়া জানে না রিদ কোথায় গেল। আর না জানার অবস্থাতে আছে সে। তবে মায়া বেশ কিছুক্ষণ অসহায় মুখ করে তাকিয়ে ছিল রিদের গাড়িটি অদৃশ্য হওয়া পযন্ত। কিন্তু আয়নের প্রাণের তাগিদে মায়া রিদকে ভুলে ফের পার্টির ভিতরের দিকে দৌড়াতে চাইল সাহায্যে জন্য। কিন্তু পথি মধ্যে ভাগ্য করে জুইয়ের দেখা পেয়ে যায়। মূলত জুইও রিদের পিছন পিছন বের হচ্ছিল জিগ্যেসা করতে, রুমের বিষয়টি সত্যি কিনা? কিন্তু মায়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেও আমল নিল না নিজের অশান্ত মনের পরিস্থিতি আর কান্নার জন্য, জুইয়ের মনে এক মূহুর্তে মায়ার জন্য বেশ ঘৃণা জম্ম নিল। আয়নের সাথে মায়া কিছু একটা ভেবেই যেন প্রচন্ড বিতৃষ্ণায় তেতু ফিলিংস আসল ভিতর থেকে জুইয়ের। যার জন্য রিদের মতো করে জুইও মায়ার রক্তাক্ত চেহারাটা ইগনোর করল এই ভেবে যে মায়া জুইয়ের কাছ থেকে আয়নকে কেড়ে নিয়েছে সারাজীবনের জন্য। কিভাবে বোন হয়ে বোনের সংসার ভাঙলো। জুঁই মায়ার নিজের বোন না বলে আজ মায়ার জুইয়ের স্বামীকে নিজের রুপে বশ করে নিল। ভেঙ্গে দিল জুইয়ের না হওয়া সংসারটা। আয়ন তো পূর্ব থেকেই মায়ার জন্য পাগল ছিল। আজ হয়তো মায়ার ইশারা পেরে আয়নও বিলিন হয়ে গেছে সৌন্দর্যে অতলে। জুইয়ের মনে মায়ার জন্য জম্ম নেওয়া সদ্য ঘৃণা যেন ওকেই অন্ধকার করে দেয়। যার জন্য দেখতে চাইল না মায়া বোখরা পড়া অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে। মাথায় একবারও প্রশ্ন আসল না মায়া তো বাহিরে তাহলে পার্টির ভিতরে রুমে কে ছিল? নিশ্চয়ই মায়া ছিল না। সবটায় ফাদ ছিল মায়াকে শেষ করার। জুই নিজের মনের ক্ষুবে এরিয়ে গেল মায়া রক্তাক্ত চেহারাটা। মায়া জুইকে দেখে দৌড়ে আসে এবং সাহায্য চাই আয়নের জন্য। কিন্তু এতেও জুই ভুল বুঝল মায়াকে। মায়া যখন জুইকে বলল…
—” জুই! জুই আমার সাথে আয়। দ্রুত আয়। আয়ন, আয়ন ভাই…
মায়ার মুখে আয়নের নাম শুনে প্রচন্ড ঘৃণায় হাত সরিয়ে নেয় জুই মায়ার থেকে। অসহায় মায়া কি করবে বুঝতে না পেরে উত্তেজিত ভঙ্গিতে ফের জুইয়ের হাত দুটো আকড়ে ধরতে চাইল সাহায্যের জন্য। জুই মায়াকে কিছু বলতে না দিয়ে হঠাৎ করে হিংস্রতা প্রকাশে প্রাণপূর্ণ শক্তিতে মায়াকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় ফ্লোরে। আকস্মিক ঘটনায় আবারও মায়া মুখ থুবড়ে পড়ল ফ্লোরে উপর। আবারও ব্যথা পেল পূবের ব্যর্থিত জায়গাতে। বারবার ব্যথায় মায়া এবার হু হু করে কেঁদে উঠে মাটিতে আছড়ে পরে। মায়ার ভালোবাসার মানুষ গুলো আজ এমন করছে কেন? তাদের কাছে সাহায্য চাইতে গেলে তারা কেন অকারণে মায়াকেই আঘাত করতে চাইছে। কেন তাদের চোখে মায়ার রক্তাক্ত শরীরটা পড়ছে না। সবাই কেন মায়াকে এতোটা আঘাত করছে। জুই মায়া কান্না শব্দে ঘৃণা শাসিয়ে বলে…
—” আজকে পর তুই আমার সাথে জীবনেও কথা বলবি না। একদম দূরে থাকবি। পর কখনো আপন হয়না সেটা আজ তুই প্রমাণ করলি। শান্তি হয়েছিস তো এবার আমাকে ধ্বংস করে। দোয়া করি তুইও ধ্বংস হয়ে যা। তোর জীবনেও অন্ধকার নেমে আসুক। তুইও আপনজন হারাবি অভিশাপ দিলাম তোকে।
কথা গুলো বলে জুঁই তৎক্ষনাৎ জায়গায় ছাড়ল কাঁদতে কাঁদতে। সোজা পার্টি ভিতরে চলে গেল মায়ার অনবরত ডাক ইগনোর করে। একবার পিছন ফিরে পযন্ত মায়াকে দেখতে চাইল না। মায়ার শরীরের নীল ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে আবার ডাকল জুঁইকে।
—” জুঁই! জুই প্লিজ যাসনা বোন। আমি সত্যি বিপদ আছি সাহায্য কর আমাকে।
দলা পাকিয়ে আসে কষ্ট ডুকরে কেঁদে উঠে মায়া। কেন সবাই ওকে ভুল বুঝছে। কি এমন করেছে মায়া। কেন ওকে কেউ সাহায্য করতে চাইছে না। মায়া কাঁদতে কাঁদতে আস্তে ধীরে কোনো রকম উঠে বসল ফ্লোরে। অসহায় মুখে তাকাল জুইয়ের যাওয়ার দিকে। মায়া আর কারও কাছে সাহায্য চাইল না। কারণ কেউ মায়াকে সাহায্য করছে না বরং সবাই মায়াকেই আঘাত করে শান্তি পাচ্ছে। মায়া ব্যথায় কাতর হয়ে দূর্বল পায়ে কোনো রকম উঠে আবারও দৌড়ে গেল আয়নের কাছে। আবছা আলোয় অন্ধকারে আয়নের সামনে হাঁটু গেড়ে বসতেই বৃদ্ধ দারোয়ান লোকটি উদ্ধিগ্ন কন্ঠে বলল…
—” কাউরে আনো নাই কেনু? পোলাডারে তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখাইতে হইবো নয়তো বাচবো না মনে হয়।
মায়া মুখ চেপে ডুকরে কেঁদে উঠে আয়নের কাঁধে হাত রেখে আলতো নাড়িয়ে কাতর কন্ঠে কেঁদে উঠে বলে…
—” কি করবো আমি?কেউ আমাকে সাহায্য করছে না তো। সবাই আমার উপর রেগে আছে। সাহায্য করার বদলে উল্টে আঘাত করছে আমাকে।
মায়ার কথায় বৃদ্ধ লোকটা অসহায় মুখে তাকাল মায়ার দিকে। মায়া আয়নের কাঁধ নাড়িয়ে আলতো স্বরে ডেকে বলে…
—” ভাইয়া! ভাইয়া শুনছেন আমাকে। শরীরে একটু জোর করতে পারবেন? আমরাই আপনাকে হসপিটালের নিয়ে যাব। ভাইয়া…
মায়া সবগুলো কথায় কর্ণপাত হলো আয়নের। কিন্তু নিঃশক্তি জন্য চোখ মেলে তাকাতে কষ্ট হচ্ছে তার। তারপরও মায়ার কথায় গলা টেনে কোনো রকম বলল…
—” মা মায়া জু..ইকে ডা ডাকো। জু..ই আ আসবে।
—” আসে নাতো ভাইয়া। আমি গিয়েছিলাম জুইয়ের কাছে সাহায্যের জন্য ওহ আসেনি। উল্টো আমার উপর রাগ দেখাল কেন জানি। কি করবো ভাইয়া? কিভাবে আপনাকে হসপিটালের নিয়ে যাব। আমার, আমার ভয় করছে। প্লিজ ভাইয়া আমাদের ধরে উঠার চেষ্টা করুন।
মায়া আর দারোয়ান মিলিত ভাবে আয়নের দু-হাত ওদের দুজনের দুই কাঁধে তুলে নিয়ে আয়নকে উঠে দাঁড় করাতে চাইল। কিন্তু আয়নের নিস্তেজ শরীর নিয়ে উঠতে পারলো না। বরং আরও লুটিয়ে পড়ল রাস্তায় মায়া আর দারোয়ান লোকটিকে নিয়ে। মায়া অসহায়ে কেঁদে উঠল। সে নিজেও প্রচুর দূর্বল তারপরও জোর খাটাচ্ছে আয়নকে বাঁচানোর। কিন্তু এভাবে কতক্ষণ। মায়ার কপাল ও হাত বেয়ে এখনো রক্ত ঝড়ছে। দুই হাঁটুতেও ব্যথা পেয়েছে অনেক। তারপর আবারও রিদ, জুইয়ের পুনরায় আঘাত করাটা ছিল অতিরিক্ত। এই দূর্বল শরীর অনেক দৌড়াদৌড়ি হচ্ছে বারবার। মায়া হাঁপিয়ে ওঠে দূর্বল হাতে আবারও আয়নের কাঁধ চেপে ধরে টেনে দারোয়ানের সাহায্যে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে বসাল। মায়ার কান্নায় বৃদ্ধ দারোয়ান লোকটা এবার তড়িৎ-গতির করে বলে উঠে…
—” এই মাইয়া এইভাবে হইবো না। আমাদের দ্বারা সম্ভব না এতো বড় পোলাডারে আলগানো। মানুষ লাগবো। একটা কাজ করো তুমি এইখানে তাহ আমি ভিতর থেইক্কা কাউরে খুঁজ্জা লইয়ায়।
মায়া মাথা নাড়াতেই বৃদ্ধ লোকটা লাঠি হাতে রাস্তা ছেড়ে ভিতর দিকে দৌড়াল। আবছায়া অন্ধকারময় রাস্তা। রাস্তা পাশে ল্যামপোস্ট আছে তবে অনেকটা দূরে। এখানে তেমন একটা আলো নেই। আয়নের গাড়িটিও অর্ধেক ভেঙ্গে পুড়ে গেছে। সামনের দিক থেকে চ্যাপ্টা হয়ে আছে। এজন্য আয়ন ও মায়া এতোটা ব্যথা পেয়েছে। মায়ার তুলনায় আয়ন বেশি ব্যথা পেয়েছে। মায়া ঠোঁট কামড়িয়ে কেঁদে আয়নকে ধরে রাখল। আয়ন অলরেডি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তখন মায়া জোর করে উঠাতে গিয়ে যন্ত্রণায়। অসহায় মায়ার শরীরও ঢুলছে যেকোনো সময় সেও জ্ঞান হারাবে। কারণ শরীর অবশিষ্ট শক্তি রা নেই দৌড়ানোর মতো। অল্প কিছুক্ষণ মধ্যে যদি কেউ না আসে তাদের সাহায্য জন্য তাহলে মায়াও জ্ঞান হারাবে আয়নের মতো করে। আয়নের দিকে তাকিয়ে মায়া দ্রুত নিজের হাতের রক্তাক্ত মোজা দুটো খুলে আয়নের মাথায় চেপে ধরলো তৎক্ষনাৎ। আয়নের মাথার রক্ত এই মূহুর্তে পড়া বন্ধ না করলে আরও ক্ষতি হয়ে যেতে পারে ভেবে চেপে ধরে রাখল। মায়া আয়নের কপাল চেপে ধরে সামনে তাকাল দারোয়ান লোকটার যাওয়ার পিছন দিকে। এইতো দেখা যাচ্ছে সে রাস্তা দিয়ে দৌড়ে সেন্টারে গেইটের ভিতরে প্রবেশ করতে চাইছে। কিন্তু তার আগেই সেখানে একটি লোকের আগমন ঘটে। আর দারোয়ান লোকটা হাত নেড়ে নেড়ে মায়াদের দিকে আঙ্গুল তাক করে কিছু দেখাচ্ছে। হয়তো মায়াদের সাহায্যের জন্য লোকটা বলছে কিছু। দূর থেকে মায়া লোকটা চেহারা দেখতে পারছে না। তবে মায়া আশ্বস্ত হলো এইবার হয়তো কেউ ওদের সাহায্য করবে। কিন্তু মায়া ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ হয় মাত্র কয়েক সেকেন্ড মধ্যে। চমকিত মায়া আতংকে উঠে যখন অপরিচিত লোকটা দারোয়ানের মাথায় আঘাত করে বসল। তাও দারোয়ান হাতের লাঠিটি দিয়ে। বৃদ্ধ দারোয়ান লোকটাকে পরপর আঘাত করছে দেখে মায়া তৎক্ষনাৎ চিৎকার করে উঠে অপরিচিত লোকটার উদ্দেশ্য। না মারতে বলে। উত্তেজিত মায়া তৎক্ষনাৎ অজ্ঞানরত অবস্থায় আয়নকে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে বসিয়ে ফের দৌড়াল দারোয়ান চাচাকে সাহায্য করতে। আর এটাই যেন মায়ার ভুল হলো। কারণ এই মূহুর্তে অন্য কেউ নয় বরং মায়াই তাদের টার্গেট ছিল। আর যারা মায়াকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে তাদের আহত করছে তারা। আয়ন বা দারোয়ানকে তারা মৃত্যু দিবে না। মায়াকে ছাড়া অন্য কাউকে মারা তাদের উদ্দেশ্য না। মায়া সেদিকে দৌড়ে যায়। অপরিচিত লোকটা চেহারা দেখার আগে উত্তেজনায় চিৎকার করে হাঁটু গেড়ে বসে বৃদ্ধ দারোয়ানের শিরধারায়। ব্যথায় কাতরাচ্ছেন তিনি। কপাল গাল ফেলে অঝোর ধারা তাজা রক্ত গলগল করে পড়ছে। মায়া হু হু করে চিৎকার করে উঠে বৃদ্ধ দারোয়ানের কপাল চেপে ধরে। বৃদ্ধ লোকটাকে বাঁচানোর তাগিদে মায়া এদিকে সেদিক তাকিয়ে চিৎকার করে সাহায্য চাইল। কিন্তু আফসোস কেউ এগিয়ে আসল না মায়ার সাহায্যে। উত্তেজনায় মায়া বৃদ্ধ দারোয়ানকে বলল…
—” চাচা! চাচা আপনি চিন্তা করবেন না আমি এক্ষুনি আপনাকেও ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব। আমি নিজে গিয়ে এবার কাউকে ডেকে আনছি। আমার আরিফ ভাইয়া ভিতরে আছে। অনেক ভালো মানুষ। আমার ভাইয়া আপনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে। আমি এক্ষুনি যাব আর ভাইয়াকে আসব। আপনি চিন্তা করবেন না। কিচ্ছু হবে না আপনার…
—” সত্যিই বেবি কিছু হবে নাতো দারোয়ান চাচার?
মায়া চমকে সামনে তাকায়। পিছনে দিকে আলো থাকায় লোকটার মুখ স্পষ্ট না মায়ার চোখে। তবে কন্ঠটা মায়ার পরিচিত মনে হলো। কোথায় যেন মায়া শুনেছিল এই কন্ঠটা। কিন্তু মনে করতে পারছে না। মায়া বৃদ্ধ লোকের মাথাটা নিচে রেখে উঠে দাঁড়াল। ভয়ে বুক ধড়ফড়ে কেঁপে কেঁপে উঠে সামনে আগাল। মুখোমুখি হতেই মায়ার চোখে চেহারাটা স্পষ্ট হলো৷ মায়া চমকে উঠে আতঙ্কিত গলায় শুধালো…
—” আপনি!
ঠাস” মায়া কথাটা বলতে দেরি ছিটকে রাস্তায় পড়তে দেরি হলো না। প্রচন্ড শক্তিতে কেউ মায়ার মাথায় লাঠি উঠিয়ে ভারি মারল। যার ফলে মায়া ছিটকে পড়লো রাস্তায়। মায়া দূর্বল শরীরটা অবশেষে নিস্তেজ হলো। সমস্ত সত্তা ছেড়ে রাস্তায় উপড়ু হয়ে পরে রইল। জ্ঞান তখনো হারায় নি। কোনো রকম কায়াটা নড়ছে। নড়াচড়া শক্তি নেই। তবে চোখ দুটো খোলা। মাথার রক্ত চোখের পাতা ছুইয়ে ছুঁইয়ে পড়ছে হিজাব বেঁধ করে রাস্তায়। মায়ার রক্তে রঞ্জিত হলো রাস্তাটা। মায়ার বড় বড় নিশ্বাসের ফলে ভেসে যাওয়া রক্তের স্রোতে মৃদু ঢেউ খাচ্ছে থেমে থেমে তারপরও মায়া নিস্তেজ চোখে তাকাল আঘাত কারী হিংস্র চোখ দুটোর দিকে। কি নিদারুণ নিষ্ঠুর সেই পরিচিত চোখ জোড়া। মায়াকে মেরেও যেন আশ্ব মিটছে না তার। বরং পুনরায় আঘাত করার তীব্র ক্ষুব্ধ চোখে মুখে প্রকাশ পাচ্ছে যেন। মায়া দুটো মানুষকেই চিনে। একজন মায়ার বেশ পরিচিত অন্যজন সাময়িক দেখার পরিচিত মানুষ। কিন্তু তারা দু’জন মায়াকে মারতে চাই কেন তা জানে না মায়া। কারও সাথেই মায়ার শত্রুরতা নেই। দুজন মানুষের মধ্যে কথা চলল। তখনই মায়ার কানে আসল পুরুষয়ালি কন্ঠে কথা গুলো…
—” মরে ঢরে যায়নি তো? ইশশ খুব ইচ্ছা ছিল রিদ খানের নাইকাকে ছুঁয়ে দেখার। আর সেটা ভিডিও করে রিদকে দেখানোর। উফফ দিলেন তো মেরে…
মায়াকে আঘাত করা মেয়েটি তৎক্ষনাৎ তেতে উঠে বলে…
—” বেশ করেছি। হারামজাদি বেচে থেকে আমার সংসারটা ধ্বংস করে দিল। কি মনে করেছিল রিদ খান একে প্রটেক্ট করে আমার হাত থেকে বাচিয়ে নিবে? এর জন্য আমার সুখের সংসারের আগুন লেগেছে। এতো সহজে একে আমি সুখে সংসার করতে দিব স্বামীর সাথে? কেটে টুকরো টুকরো করে কুকুরকে না খাওয়ালে আমার মনে শান্তি মিলবে মনে হয় তোমার?
ছেলেটি বিরক্তি প্রকাশ করে বলল…
—” উফফ! তারপরও! আগে না-হয় আমি একটু ছুঁয়ে দেখতাম তারপর মারতেন। কিন্তু তা-না করে আগেই মেরে দিলেন কেন?
মেয়েটি দ্বিগুণ চেতে উঠে বলে…
—” সব পুরুষ জাতিই এক। মেয়ে মানুষ দেখে জিহ্বা লালাই শুধু। রিদ খানের ইউস করা জিনিসে প্রতি এতো ইন্টারেস্ট? পুরুষত্ব আছে কি নাই ? তাছাড়া এই মেয়েকে এই মূহুর্তে না মারলে যেকোনো সময় রিদ খানের লোকজন চলে আসতে পারে এখানে তখন আরও ঝামেলা হবে আমাদের। রিদ খানকে সহজ ভাবে নেওয়াটা ঠিক হবে না। চতুর মানুষ। ড্রাগসে থাকলেও নিশ্চয়ই বউয়ের হেয়াল তার আছে। এমনই বউকে আমাদের জন্য ছেড়ে রাখবে না। তাই ভালোই ভালোই আপনকে মেরে কেটে পরি। নয়তো বিপদ বাড়বে বলে কমবে না। তুমি মায়াকে ছুঁবে তার ডিএনএ দিয়ে তোমাকে বের করে নিবে রিদ। এতে করে তুমি ফাঁসবে সাথে আমাদেরও ফাঁসাবে। তাড়াতাড়ি বন্দুকটা দাও! হারামজাদিকে মেনে দ্রুত কেটে পরি।
ছেলেটি বেশ বিরক্তি সহিত কমড়ের গুঁজে রাখা বন্দুকটি বের করে তুলে দেয় মেয়েটির হাতে। মায়াকে তার প্রথম দিনই বেশ মনে ধরে ছিল। সেই থেকেই মনে তীব্র ইচ্ছা ছিল মায়াকে মারার আগে অন্তত একটা বার নিজের চাহিদা মেটাবে। এমন অপ্সরা মায়াবী সুন্দরী মেয়ে তার লাইফে খুব কমই এসেছে। যারা এসেছে তাদের সে ছাড়েনি। এবার সে কারও ইউস করায় হোক অথবা খাশ মালই হোক। তার ভোগ করতে পারলেই হলো। মেয়েটি হাতে বন্দুক তুলে মায়ার মুখের দিকে তাক করে দাঁড়াল। মায়া নড়াচড়া বিহীন ঝাপটা চোখে তাকাল মেয়েটি হাতে বন্দুক চেপে ধরার দিকে। অনূভুতি প্রকাশ করার সত্তা রইলো না। বরং গেইট ধরে সেন্টারের ভিরতের দিকে তাকাল যেখানে আসিফ বডিগার্ডদের নিয়ে প্রাণপূণ দৌড়ে আসছে মায়াকে বাঁচানোর জন্য। প্রত্যেকের হাতে বন্দুক। তাদের সাথে আরিফ আছে। আতঙ্কিত মুখে বারবার মায়ার নাম ধরে ডাকছে চিৎকার করছে। শেষ মূহুর্তে যেন মায়ার রিদের চিন্তাটায় হলো৷ রিদ ঠিক আছে কিনা ভেবে রক্তপাতের সাথে চোখের জলও গড়ালো। মায়ার রিদের সাথে আমৃত্যু পযন্ত সংসার করার ইচ্ছাটা ছিল প্রবল। কিন্তু ভাগ্য সহায় হবে না ভাবিনি। হঠাৎ করে এইভাবে সবটা শেষ হয়ে যাবে ভাবিনি ওহ। মায়া মরতে চাই না। রিদকে নিয়ে বেশ করে বাঁচতে চাই। হয়তো মানুষের সব আশা পূরণ হয়না। মায়ারও এই আশাটা অপূর্ণ থেকে যাবে। আপনজন সাথে শেষ দেখা আর হবে কিনা তাও জানে না। যদি জানতো তাহলে তাদের শেষ বার করে হলেও মায়া শুধু এতোটাই বলতো, যেন তারা সবাই মায়ার মিস্টার ভিলেনকে দেখে রাখে মায়া যাওয়ার পর। কষ্ট যেন না দেয়।
ঠাস’ বিকট গুলির শব্দের চারপাশে ধ্বনি তুলল। মূহুর্তেই মায়ার নিস্তেজ শরীরটা কেঁপে উঠে মৃদু নড়ে নিস্তব্ধ হয়ে গেল। রক্তের ছিটা ছিটকে পড়ল মায়ার মুখে এবং সর্বত্রে। মায়া মেলে রাখা চোখ দুটোই মূহুর্তেই ক্রমশ বুদে গেল আসিফদের আসতে দেখে। নিস্তব্ধ সত্তাটা পড়ে রইল রাস্তায়। তারপর! তারপর! তারপরটা আর জানে না মায়া। তারপর আর কিছু দেখারই রা রইল না ওর। মায়ার চোখ বন্ধ করার সাথে সাথে যেন সবকিছু অন্ধকারে তলিয়ে গেল। ভালোবাসায় সূর্য ঢলে গেল পশ্চিম আকাশে।
( এবারও বাজে মন্তব্য করবে না। একটু ধৈর্য ধরে সাথে থাকুন। ধন্যবাদ সবাইকে।)
চলিত….
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৮(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৮
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১০