দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৬
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং করবেন)
৭৬
আরেকটা উষ্ণময় সকাল। সময়টা সাতটা দশ কি তারও কম হবে। হাল্কা কালারের ব্ল্যাঙ্কেট মুড়িয়ে উদাম গায়ে মায়াকে ঝাপটে জড়িয়ে গলায় মুখ ডুবিয়ে ঘুমিয়ে আছে রিদ। নিগার সেই ঘুম। নড়াচড়া বিহীন। ছোট ঘড়িতে টিং টিং এলাম বাজতেই জেগে উঠে মায়া। ঘুম ঘুম চোখে হাতড়ে ঘড়ির এলাম বন্ধ করল। চোখ কচলে আড়মোড় ভাঙ্গতে গিয়ে মনে পড়ল রিদের উপস্থিতটা। টনটন শরীর ব্যথাও যেন জ্বলে উঠল। গোঙ্গানির মতো করে অস্পষ্ট শব্দ করল অজান্তেই। রিদ নড়েচড়ে আরও শক্ত করে চেপে গেল মায়ার গায়ের উপর। সম্পূর্ণ ঘুমের রেশ কাটিয়ে মায়া চোখ মেলে মাথা উঁচিয়ে রিদকে দেখতে চাইল। কিন্তু পারল না রিদ মায়ার গলায় মুখ ডুবিয়ে রাখাতে। ব্যর্থ মায়া বালিশের উপর মাথা ফেলে একহাত রিদের মাথার চুলে হাত ডুবিয়ে অন্য হাতটি রাখল রিদের উম্মুক্ত পিঠে। ঘাড় ঘুরিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকাল বামপাশের কাঁচের দেয়ালের টাঙ্গানো সাদা পর্দা ফাঁকে বাহিরে। বাহিরে সূর্য উঠেছে কিনা দেখতে চাইল। কিন্তু যতটুকু দেখা গেল তাতে বুঝার উপায় নেই বাহির আবহাওয়াটা কেমন। নিরাশ মায়া পর্দা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তাকাল পাশের ছোট টেবিলে উপর রাখা এলাম ঘড়িটির দিকে। সাতটা বারো। এক্ষুনি উঠতে হবে মায়াকে। নয়তো ওর কলেজ আর রিদের অফিস দু’টোই দেরি হবে। রিদ এতদিন টাইম মেইনটেইন করে বেশ চলেছে। কিন্তু মায়ার সংস্পর্শে এসে সবকিছু মায়ার উপর যেন গা এলিয়ে ছেড়ে দিল। যেখানে মায়াই ঠিকঠাক চলতে পারে না সেখানে রিদের দ্বায়িত্বতে বড্ড হিমসিম খায় মায়া। রিদ প্রথম দুইদিন মায়াকে হাতে ধরে ধরে শিখিয়ে পড়িয়ে দিলেও এরপর থেকে আর শিখাল না। বরং নিজেই মায়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে চাইল। মায়া দেরিতে রিদের কাজ গুলো গুছিয়ে দিলেও রিদ ধৈর্য নিয়ে বসে থাকে। তারপর নিজ থেকে সে তার কোনো কাজই করে না যতক্ষণ না পযন্ত মায়া করে দেয়। অনেকটা সময় মায়া রিদের কাজ গুলো ঠিকঠাক ভাবে করতে না পরলে বা কাজের দেরি হলে তখন মায়া অপরাধ মুখে রিদকে বলে..
‘ আমি পারি না। আপনি নিজেই করে নিন না আপনার কাজ গুলো। আমি এলোমেলো করে ফেলি আপনার গুছানো জিনিসপত্র।
মায়ার কথায় রিদ তখন গম্ভীর মুখে বরাবরই একটা কথায় বলে…
‘ বউ থাকতে আমি কেন নিজের কাজ করবো?এত বছর নিজের কাজ করে এসেছি এখন আর পারবো না।
তুমি না পারলে ধীরে ধীরে শিখে নিবে তারপরও আমি পারবো না। একদমই না। আমার বউ আছে, সংসার আছে, সবকিছু থাকতে আমি কেন করতে যাব আজব।
সেদিন রিদের নাহুচের পর মায়া আর এই বিষয়ে কিছু বলেনি। প্রথম প্রথম কয়েকদিন মায়ার রিদের কাজ গুলো নিয়ে হিমসিম খেলেও এখন সবকিছু সয়ে গেছে। মায়া গুছাতে পারে রিদকে। এখন আর তেমন সমস্যা হয়না। তবে সমস্যা যেটা হয় সেটা হলো বিয়ের পর থেকেই মায়া ঘুম খুব কম হচ্ছে। কম মানে প্রচুর কম। দিনের তিনটা পর্যন্ত কলেজ করে বিকালের দিকে যাও একটু করে ঘুমের সুযোগ পায়, তাতে রাতে আবার জাগ্রত থাকতে হয় ওকে রিদের জন্য। না রিদ নিজে ঘুমাই আর না মায়াকে ঘুমাতে দেয়। সাংঘাতিক জ্বালায় মায়াকে তারপরও নিস্তার দেয় না। নিজের বুকে তো মায়ার জায়গায় হয়ই না বরং মায়ার বুকে নিজের জায়গায় খুঁজে। মায়ার উপর লেপ্টে না ঘুমানো পযন্ত নিস্তার নেই মায়ার। এমনকি মায়ার বাধা দেওয়া পযন্ত নিষিদ্ধ। যদি বাঁধা দেয় তাহলে রিদের কথা হয়…
‘ তুমি যে জীবনের সতেরোটা বছর ঘুমিয়ে পার করেছো সেখানে আমি বাঁধা দিছি তেমায়? দেয়নি! তাহলে তুমিও আমাকে বাঁধা দিতে পারবে না।
মায়া কি জীবনের সতেরো বছর এতো বড় ছিল? ছোট ছিল না? এখন রিদের কথায় কি মায়া জম্মের পর থেকে রিদের সাথে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু মায়া থাকে নি বলে ঘোর অপরাধ করেছে রিদের সাথে। আর এই ঘোর অপরাধটা, রিদ দয়ালু ব্যক্তি হিসাবে মাফ করেছে মায়াকে। তাই এখন রিদকে তার মর্জি মতো ঘুমাতে দিবে হবে কোনো প্রকার বাঁধা ছাড়া। এমনটাই বুঝায় রিদের কথায় মায়াকে। মায়া তখনো অসহায় থাকে রিদের যুক্তিতে অতলে। কিছু বলতে গেলে আরও চারটা যুক্তি দু’টো ধমক দেয় রিদ ওকে। মোট কথা সবকিছু শের ভাগ রিদের দখলে থাকতে হবে। নিজের মর্জি মতো যতক্ষণ না হচ্ছে ততক্ষণ প্যারা দিবে মায়াকে। তবুও ছাড় দিবে না। মায়া এখন ভাবে, ‘ইশশ বিয়েটা যদি এখন না করে আরও দুবছর পরে করতো রিদের কথা মতো তাহলে হয়তো ভালো হতো। অন্তত রিদের এই অতিরিক্ত রোমান্টিক টর্চার থেকে সে বেঁচে যেত। কিন্তু আফসোস! এমনটা কিছু হলো না। আসলে মায়া তখন জানতো না রিদ সংসার শুরু করলে এতটা ডেসপারেটলি হয়ে যাবে মায়াকে নিয়ে। যেখানে মায়া ঘুরঘুর করে রিদের সাথে একটু কথা বলতে চাইত। সেখানে রিদ বাসায় আসলেই রেগে যায় মায়াকে চোখের সামনে না পেলে। এমনকি রিদ বাসায় আসলে মায়াকে দরজা পযন্ত খুলে দিতে হবে নয়তো রেগেমেগে ফায়ার হয়ে যাবে। রাত জেগে মায়াকে রিদের জন্য অপেক্ষাও করতে হবে নয়তো চলবে না। আজকাল মায়ার রিদের একটা কথা বড্ড মনে পড়ে, ওদের বিয়ের আগে রিদ খুব করে মায়াকে সাবধান করে বলতো’ দেখ রিত আমি এখন সংসার শুরু করতে চাইছি না। অথযা পাগলী না করে পড়াটা শেষ করো। কারণ আমি একবার সংসার শুরু করলে তোমার জন্য বিপদ হবে। আমাকে সামলানো তোমার পক্ষে সম্ভব হবে না। কারণ আমি তোমাকে নিশ্বাস ফেলার সুযোগ দিব না।
মায়া সেদিন রিদের কথা গুলো না বুঝেই মুখ বাঁকিয়ে ছিল। এতো বছর ছেলেকে সে কি সামলাবে বলে মনে মনে উপহাস করেছিল। কিন্তু আজ খুব করে বুঝতে পারছে রিদের সেই কথার মর্মাত অর্থ গুলো। এখন বড্ড আফসোস হয় কেন বুঝল না রিদের সেদিনকার কথা গুলো। বুঝলেও কেন রিদকে সহজ ভাবে নিল এই ভেবে হতাশ হয়। এমনটা না মায়া রিদের উপর বিরক্ত বা রাগ আছে। বরং নিজেকে প্রচন্ড সুখী ও ভাগ্যবতী মনে হয় রিদের সানিধ্য ও ভালোবাসা পেয়ে। আসল কথাটা হলো অন্যটা। মায়ার এতো এতো হতাশ হওয়ার কারণ হলো দিন দিন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে চাপে পরে। এই যেমন, রিদ যখন তখন মায়াকে চেপে ধরে সময়ে অসময়ে। এতে করে এমনও হয় মায়াকে রোজ তিনবার করে গোসল করা লাগে। একে তো মায়ার লম্বা চুল যাহ সাপ্তাহে তিন ভেজাতে হয় নয়তো অসুস্থ হওয়ার সম্ভবনা থাকে। সেখানে মায়ার আজকাল রোজ রোজ চুল ভেজাতে হচ্ছে। এতে মায়ার লম্বা চুল নিয়েও ভিষণ দুঃখ হয়। সকালে গোসল করে রুম থেকে বের হতেও লজ্জা করে। হেনা খান কিছু না বললেও মালা ঠিকই মায়াকে রোজ রোজ গোসল করতে দেখে হাসে। গোপনে নয় মায়ার প্রকাশ্যেই হাসে। মজা করে এটা সেটা বলে মায়ার শরীরে গোপন দাগ দেখে। অন্যন্যা সার্ভেন্ডরা ও মায়াকে নিয়ে মুড়ে মুড়ে হাসে। এজন্য মায়া ভিষণ লজ্জা লাগে। এমনকি গোসল করে রিদের সামনে যেতেও মায়ার লজ্জা করে। মায়া যেতে চাই না। কিন্তু রিদ চিল্লাচিল্লি ডাকে মায়া বাঁধ্য হয়ে যায়। তাতেও রিদ মায়াকে ধমক লাগায় এতক্ষণ কোথাও ছিল বলে। এতেও মায়ার লজ্জা লাগে রিদের বিব্রতকর প্রশ্নে। এই যে মায়ার এতো এতো লজ্জা পায় রোজ রোজ সেটা রিদ ঘুণাক্ষরেও বুঝতে চাই না। বুঝলেও পাত্তা দেয় না। তার এক কথা বউকে তার চাই মানে চাই। এবার কে কি ভাবল নাকি মরল তাতে তার দেখার বিষয় না। তার শুধু বউটা আপন থাকলেই হলো। বাকি দুনিয়ায় চিন্তা করে কে? মায়া নিজের ভাবনা থেকে বের হয়ে রিদের মাথায় মৃদু হাত চালাই। দেরি হচ্ছে ভেবে রিদকে নিজের উপর থেকে সরাতে চাইলে রিদ নড়েচড়ে উঠে। মায়া ধীরে রিদকে ধাক্কা দিয়ে বের হতে চাইলে রিদ জেগে উঠে। মায়ার মধ্যে নিবিড় ভাবে জড়িয়ে নাহুচ স্বরে বলে…
‘ উহুম!
‘ উঠুন না! সকাল হয়ে গেছে তো।
‘ উহুম! এখন না! আর একটু পর।
‘ তাহলে আমাকে ছাড়ুন আমি উঠব।
‘ পরে।
রিদের ঘুম জড়ানো বিরক্তিতে মিনমিন স্বরে আমতা আমতা করে মায়া ফের বলে…
‘ ইয়ে মানে, আমি ওয়াশরুম যাব।
রিদ হ্যা বা না কিছু বলল না। শুধু মায়ার গলা থেকে মুখ উঠিয়ে ঘুমন্ত চোখে তাকাল মায়ার দিকে। মায়ার জড়তার মুখটা এক পলক দেখে ঝুকে মায়ার গালে শব্দ করে চুমু খেয়ে শুল বালিশের উপর উপুড় হয়ে। মায়া উঠে বসল। নিজেকে গুছিয়ে ওয়াশরুম গেল। বেশ অনেকটা সময় নিয়ে গোসল করে কলেজ ড্রেসের শুধু সাদা সেলোয়ার-কামিজ পড়ে বের হলো মাথায় টাওয়াল বেঁধে। দরজা খুলে বের হতেই চোখ গেল বিছানার দিকে। যেখানে রিদ বালিশের মুখ গুঁজে উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে আছে। দৃষ্টি ঘুরিয়ে রুমের দেয়াল ঘড়িতে সময়টা দেখে নিল। প্রায় আটটা। তারমানে অনেকটা লেট। নয়টা মায়া কলেজ। রিদের অফিসও। তাড়াহুড়োয় মায়া ফের ওয়াশরুম থেকে ফিরে গেল রিদের ড্রেসিংরুমে। ক্লথ থেকে রিদের ড্রেসের সাথে প্রয়োজনীয় বাকি জিনিসপত্রও গুছিয়ে নিল। সবকিছু একত্রে নিয়ে ফের আসল রুমে। কারণ রিদ আজকাল গোসল করে সোজা রুমে চলে আসে মায়ার কাছে। নিজের ড্রেসিংরুমে যেতে চাই না। এজন্য মায়ার পূব থেকে সবকিছু গুছিয়ে রাখতে হয়। মায়া রুমে আসার আগে রিদের জন্য ওয়াশরুমে একটা টাওয়াল রেখে আসল ব্রাশে টুথপেষ্ট লাগিয়ে। বাকি জিনিসপত্র সোফার উপর রেখে তাড়াহুড়ো করে ডাকতে লাগল রিদকে। বরাবরই রিদের ঘুম খুবই পাতলা। মায়ার প্রথম ডাকেই রিদ মাথা উঁচিয়ে চাইল। রোজকার মতোই মায়ার কথায় উঠে বসে। খানিকটা পর গোসল সেরে বের হতেই দেখল মায়া তার জন্য কফি করে এনেছে ট্রে-তে করে। রুমটাও গোছানো। হয়তো তার বউই গুছিয়েছে। রিদ একহাতে কফিটা নিতে নিতে অন্যহাতে মায়ার গাল টানল। এক চোখ টিপে হেঁসে গিয়ে বসল বিছানায়। রিদের হঠাৎ দুষ্ট হাসির কারণটা বুঝল না মায়া। গালে হাত রেখে অবুঝ দৃষ্টিতে রিদের দিকে তাকাতেই রিদ মায়াকে ফের নিজের কাছে ডেকে ওর হাতে টাওয়াল ধরিয়ে দিয়ে কফিতে চুমুক বসাল। রোজকার মতো সবকিছু করল মায়া। রিদের ভেজা চুল সহ বুক, পিঠ টাওয়ালে মুছে গায়ে ধূসর রঙ্গা শার্টি পরিয়ে দিল। পর পর সবগুলো বোতাম লাগিয়ে রিদের পায়ের কাছে বসল। তাড়াহুড়ো রিদের পায়ে মোজা গুলো পড়ানোর মনোযোগী হতেই রিদ কফিতে চুমুক দিতে দিতে মায়াতে গভীর দৃষ্টি পাত করল। সাদা কলেজ ড্রেসটি জড়ানো গায়ে। জামাটার সামনে পিছনে হালকা পাতলা স্যাঁতসেঁতে ভেজা। লম্বা চুলে সাদা টাওয়াল বাঁধা আছে ঘাড়ে নিচে। জামার গলা অল্প বড় হওয়ায় ফর্সা কাঁধে কালো দাগটা ঝলঝল করল তার চোখে। রিদ ফের কফিতে চুমুক বসাল। মায়ার কাঁধে আবারও দৃষ্টি ঘুরাল। কাঁধ থেকে একটু পিছনে আরও একটা দাগ চোখে পড়লো তার। দুটো দাগই গাঢ় ও পরস্পরের কাছাকাছি অবস্থান। এমন দাগ খুঁজলে হয়তো আরও পাওয়া যাবে মায়ার শরীরের মধ্যে। সবগুলোই তার দেওয়া চিহ্ন। বলতে হবে তার বউয়ের সয্যের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে নয়তো যেখানে অল্প ব্যথা কেঁদেকুটে বুক ভাসাতো, সেখানে তার রোজ এতো এতো ব্যথা দেওয়ার ফলেও নিরব থাকে। অভিযোগ তুলে না। কাদেও না। বরং তার মন যুগিয়ে চলে। তাকে এতো এতো ভালোবাসে। এতে আর কি চাই তার? আর কি কিছু দরকার আছে কি? জীবনের ভালোবাসা নামক এতো সুখ তার ভাগ্যে ছিল সেটার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না তার। সৃষ্টি কর্তা মনেহয় তাকে একটু বেশিই ভালোবাসে নয়তো এতো কিছু তার ঝুলিতে কেন দিবে? অর্থ সম্পদ, পাওয়ার ক্ষমতা, এমনকি সঠিক ভালোবাসা একটা মানুষ দিয়ে তাকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছে জীবনটা। রিদ সত্যি আজ সৃষ্টি কর্তার কাছে অসীম কৃতজ্ঞ। পদে পদে শুকরিয়া আদায় করে তার জীবনের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করার জন্য। মায়া রিদের একপায়ে মোজা- সুজ পরিয়ে অন্য পায়ে হাত দিল। রিদের দৃষ্টিপাত তখনো মায়ার উপরই ছিল। বেখেয়ালি রিদ আবারও কফিতে চুমুক বসাতে বসাতে চোখ ঘুরাল মায়ার সর্বাঙ্গে। মায়ার গলা থেকে মুখে, মুখ থেকে হাত দুটোতে সবকিছুতে যেন রিদের দেওয়া বিবাহিত চিহ্ন ঝলমল করছে মায়ার শরীরে। রিদের নামের নাক ফুল, এমনকি মায়ার ফেরত দেওয়া সেই গলায় রকেট, ডায়মন্ডের চুড়ি দুটো প্রকাশ করছে মায়া বিবাহিত নারীর সেটা। চকচকে হলুদ ফর্সা হাতে ডায়মন্ডের চুড়ি দুটো যেন লোভনীয় মনে হলো রিদের। রিদ কফিতে গলা ভেজাল। বউটার তার-ই। ছুঁয়ার অধিকারও তার। কিন্তু এমনভাবে গিলে খাচ্ছে যেন একটু পরই শেষ হয়ে যাবে। তাছাড়া তার বেহায়া মন এখন আবার বউকে ছুঁয়ে দিতে চাচ্ছে। তার এই বেগতিক মনটা বড্ড জ্বালাতন করছে। আজকাল বউটা ছাড়া চলতে চাই-ই না তার বেহায়া মনটা। সারাক্ষণ বউ বউ বলে জ্বালাতন করে বেড়ায়। রিদ ভেজা গলায় এক পলক চোখ আওড়িয়ে সময়টা দেখে নিল। আটটা বাইশ। তেমন বেশি একটা দেরি হয়নি। নিজের অফিস! তাই দেরি হলেও সমস্যা নেই। কাউকে জবাবদিহিতা করতে হবে না। রিদের মতলব ফের বদলায়। মায়ার দিকে তাকাতে তাকাতে বামহাতে কফির মগ ধরে ডানহাতটা বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেয় মায়ার তুলতুলে নরম গালে। রিদের পায়ে সুজ পড়াতে পড়াতে মায়া চোখ তুলে তাকাল রিদের হঠাৎ ছুঁয়া পেয়ে। রিদের দৃষ্টি বুঝতে না পেরে কাজ শেষ করে উঠতে উঠতে বলল মায়া…
—” তাড়াতাড়ি কফি শেষ করুন। আজ আমার কলেজে ক্লাস পরীক্ষা আছে। লেট হলে চলবে না। এমনই কিছু পারি না আমি। কলেজে গিয়ে টিয়া ছায়া থেকে নোট নিয়ে পড়ব। চলুন তাড়াতাড়ি নাস্তা করে বের হতে হবে তো।
মায়ার কথায় রিদের মনো তামান্নায় জলে ঢেলে দিল সে। বাড়িয়ে দেওয়া রিদের হাতটা গুটিয়ে নিয়ে ফের কফিতে চুমুক দিল হতাশায়। মায়ার পরীক্ষা না থাকলে হয়তো জোর করতো বা দেরি করে কলেজে পাঠাতো। কিন্তু এতোদিন পর যাও কলেজে রেগুলার যাচ্ছে, সেখানে পরীক্ষা দেওয়া প্রয়োজন আছে। পরীক্ষাটা মিস দেওয়া যাবে না। পরীক্ষা না থাকলে কথা ছিল। মায়া বুঝল না রিদের মনো-তামান্নার বিষয়ে। বরং সবকিছু অপেক্ষা করে নিজের কথার তালে তালে বিছানা উপর থেকে রিদের কালো টাই নিয়ে হালকা ঝুঁকে পড়ল রিদের উপর। শার্টের কলার ঠিক করে টাই বাঁধতে বাঁধতে মায়ার বেখেয়ালি চোখ পড়ল রিদের ঘোর লাগা দৃষ্টিতে। মায়া কপাল কুঁচকায়। তার মিস্টার ভিলেন আজকাল এতো কি দেখে ওকে সেটাই বুঝতে পারছে না। যখন তখন শুধু তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ হঠাৎ কেমন করে ছুঁয়ে দেয়। দুষ্টমি করে গাল টেনে দেয় আবার অনেক সময় ওর মাথায় ঠুকা মারে। মাঝেমধ্যে তো লম্বা বেনির চুল টেনে নিজের কাছেও টানে। এমন অদ্ভুত আচরণে মায়া বেশ অবাক হয়। তার মিস্টার ভিলেন এতো চঞ্চল হবে ভাবিনি। আজ পযন্ত কারও সাথে সোজা মুখে দুটো কথায় বলতে দেখেনি অথচ মায়া সাথে তার ব্যবহার বিপুল পার্থক্য। কমল ও নমনীয় স্বভাব। একদম প্রাণচঞ্চল। যার জন্য মায়া আরও দূর্বল হয়ে যায় রিদের ভালোবাসার অতলে। মায়ার নিশ্বাসই যেন চলে রিদকে ঘিরে। যদি কোনো দিন রিদ থেকে মায়া ধুঁকা পায় তাহলে সেই দিনই মায়ার মৃত্যু ঘটবে। বেঁচে থাকাও দুনিয়াতে দায় হবে। মায়া শক্ত মনের নয়। তাই ভুলে যাওয়াটা সম্ভব না। মায়া চাইলেও জীবনেও রিদকে ভুলতে পারবে না। অজানা বিরহে কষ্টে বুক ভারি হয় মায়া। মূহুর্তে চোখে কার্নিশ লাল হয়ে উঠে টলটল জলে। রিদের চোখে চোখ রেখে আবেগিয় কন্ঠে বলে মায়া…
—” আপনাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না মিস্টার ভিলেন।
মায়ার হঠাৎ এই কথার মানে বুঝল না রিদ। কপাল কুঁচকে বামহাতের কফির মগটা ছোট টেবিলে উপর রেখে দু’হাতে মায়ার কমড় জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে বলল।
—” আমাকে ছাড়া থাকতে কে বলেছে? এইতো আমি। —” আপনি যদি আমাকে ছেড়ে দেন কখনো তাহলে?
—” আজব তো! সকাল সকাল ছাড়াছাড়ি কথা কোথায় থেকে আসছে? আমি বলছি তোমাকে ছেড়ে দিব?
—” বলেন নি। তারপরও আমার কেমন জানি ভয় হচ্ছে। মনে হচ্ছে আপনি আমাকে ছেড়ে দিবেন। সত্যিই কি ছেড়ে দিবেন মিস্টার ভিলেন?
মায়া বেখেয়ালি কথাবার্তা এবার রাগে কারণ হলো রিদের। এতো ভালোবাসার বউ তার সে কেন ছেড়ে দিতে যাবে? বরং বউ চলে যেতে চাইলে সে বন্দিনী বানিয়ে রেখে দিবে তার কাছে তারপরও ছাড়বে না। সেখানে মায়ার অহেতুক কথায় রাগ লাগল তার। অনেকটা বিরক্তি চেপে রাগি গলায় বলল…
—” হ্যাঁ ছেড়ে দিব তোমাকে। কেন কোনো সমস্যা?
মনে ক্ষুব্ধ ভয়, আর রিদের সহজ সরল স্বীকারোক্তিতে কেঁদে উঠে মায়া। রিদকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে ফুপিয়ে বলল…
—” আমি মরে যাব মিস্টার ভিলেন। আপনার সাথে সামান্য বিরহ আমার মঞ্জুর নয়। প্রয়োজনে প্রাণ ত্যাগ কর…
মায়ার বাকি কথা গুলো শেষ হলো না গলার তীব্র ব্যথায় কথা সেখানেই আঁটকে যায়। কারণ ততক্ষণে রিদের দক্ষ হাত চালান হয়ে গেল মায়ার গলায়। নিশ্বাস আঁটকে আসায় মায়া নিজের গলায় রিদের হাতটা ধরে কাশতে লাগল। অস্পষ্ট স্বরে বলে…
—” ছাড়ুন। আমার লাগছে!
মায়ার কথা রিদ কানে তুলল না। বরং দক্ষ হাতে পিষ্ট করল মায়ার গলা। দাঁতে দাঁত চেপে বলে…
—” অকারণে কেন প্যারা দিচ্ছিস? সকাল সকাল ভালো লাগছে না? আমি বলছি তোকে আমি ছেড়ে দিব? ভালোবাসা চোখে পরে না? নাকি দেখতে চাস না? তোর মরা লাগবে? তোর জায়গায় আমি মরলে তখন কি করবি তুই?
মায়া শান্ত হলো। ছটফট করলো না। রিদের মরার ব্যাপারটা কখনোই মায়া স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারে না। অশান্ত তোলপাড় হয়ে উঠে মনে ভিতর। রিদ মায়াকে শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গলা ছেড়ে দিতেই তৎক্ষনাৎ মায়া লুটিয়ে পড়লো রিদের গলা জড়িয়ে ধরে তার উপর। রিদ মায়ার হঠাৎ আক্রমণে খেই হারিয়ে বিছানায় পড়ল মায়াকে নিয়ে। মায়া ডুকরে কেঁদে উঠা দেখে সে শান্ত হলো। হঠাৎ পরিবর্তন হওয়া পরিস্থিতিটা রিদ বুঝতে পারলো না। এইতো এখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল তাহলে হঠাৎ করে তার বউ এমন করলো কেন? কিসের ভয় তার রিদকে নিয়ে? রিদ চেহারায় তীক্ষ্ণতা বজায় রেখে মায়া পিঠ জড়িয়ে ধরে। মায়া তখনো দু-হাতে রিদের গলা জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ ডুবিয়ে কাঁদছে। রিদ গুমোট নিশ্বাস গোপন করে একহাতে মায়াকে জড়িয়ে অন্য হাতে মায়ার চুলের বাধা টাওয়ালটা খুলে একপাশে রাখল। আলতো হাতে মায়ার ভেজা চুলে হাত চালিয়ে আদুরে স্বরে ডাকল মায়াকে। পরপর দুবার ডাকাল পর মায়া উত্তর করতেই রিদ বলে…
‘ কি হয়েছে তোমার এমন করছো কেন?
মায়া ফুপিয়ে কেঁদে উঠে বলে…
‘ জানি না আমি।
‘ আচ্ছা দেখি উঠো! কলেজের দেরি হচ্ছে না তোমার?
মায়া উঠল না বরং কান্না মুখে নাহুচ করে বসল। রিদ আগের নেয় বলল…
—” এইতো আমি সোনা। কি হয়েছে বলবে তো?
রিদের নরম গলায় মায়াও নরম হলো। রিদের গলায় মুখ ডুবিয়ে থাকা অবস্থায় বলল…
—” আগে বলুন আমাকে ছাড়বেন না।
—” তোমাকে ছাড়া থাকার সাধ্য আমার নেই জান। মন বদলে অচল আমি তোমাকে ছাড়া। তাই তুমি বিহীন নিশ্বাসটাও আমার চলে না। সেখানে তোমাকে ছাড়া মানে নিজের জীবন্ত মৃত্যু ডেকে আনা। রিদ খান নিজের মৃত্যু ডেকে আনে না। অন্যকে মৃত্যু দেয়। তাই তোমাকে আমৃত্যু পযন্ত নিজের পাশে চাই। ছাড়ার তো প্রশ্ন উঠে না।
রিদের কথায় মায়ার মন শান্ত হলো। অশ্রু ভেজা চোখ তুলে তাকাল রিদের মুখোমুখি। অধৈর্য গলায় ফের শুধাল…
—” সত্যি তো?
রিদ আঁজলে দু’হাতে মায়ার মুখ চেপে কপালে উষ্ণ ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে…
—” তিন সত্যি। এবার বলো এমন করছো কেন?( মায়ার গালে লেগে তাকা চোখের পানিটা মুছতে বলল রিদ)
মায়া বলে….
—” জানি না। আমার হঠাৎ কেন জানি ভয় করছে আপনাকে নিয়ে।
—” এইতো আমি। ভয় কিসে তোমার? কিছু হবে না। আমি আছি তো! এবার উঠো! কলেজে যাবে না?
মায়া উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে বলে…
—” হুমম।
মায়া রিদের উপর থেকে উঠে দাঁড়াতেই রিদও উঠে বসল। রিদ নিজের চুল ঠিক করতে করতে মায়া আবারও চোখ মুছে বোখরা পড়ে নিল। তাড়াহুড়ো রেডি হতে গিয়ে ভুলে গেল কিছুক্ষণ আগের মনের সংকীর্ণ মনের ভয়টা মায়া। আবারও স্বাভাবিক চলল সবকিছু। রুটিন মাফিক নাস্তা সেরে রিদ মায়াকে কলেজ গেইটে নামিয়ে দিয়ে গেল। দিন এইভাবেই ভালোবাসাময় চলছিল দুজনের।
কিন্তু হঠাৎ তাদের বিয়ের একুশ দিনের মাথায় একদিন রিদ জানায় কোম্পানি থেকে নিউ ইয়ার পার্টি থ্রো করা হবে। তাও সেন্টারে। সেখানে খান পরিবারের সদস্যদের সকলেই আমন্ত্রণ থাকবে। সবাই যাবে। কিন্তু রিদ মায়াকে এসব পার্টিতে নিয়ে যেতে ঘোর আপত্তি জানায়। আবার রিদ মায়াকে একা খান বাড়িতে বডিগার্ডদের ভরসায় রেখে যেতেও সাহস পাচ্ছিল না বলেই বাধ্য হয়ে সেদিন রাতে হেনা খানের সাথে মায়াকেও নিতে হলো তার। আর এতেই যেন কাল হলো তাদের এলোমেলো চারটি জীবনের দশা। রিদ-মায়ার পাশাপাশি এলোমেলো হলো জুঁই আয়নের জীবন চিত্রও। বাদ পরেনি কেউ। চক্রান্তের ঘোর স্বীকার হলো সবাই। মাস্টার মাইন্ড ব্যক্তিটি এবার আড়ালে নয়। বরং প্রকাশে পার্টিতে থেকে মুখোশে আড়ালে চাল চালল। ড্রাগস সেবন করাল রিদ মায়া আর আয়নের ডিংকে সাথে মিশিয়ে ওয়েটার দিয়ে। পার্টিতে সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই আয়ন আর মায়াকে পার্টির মধ্যে কোথাও পাওয়া গেল না। রিদ তখনো ড্রাগসের ডিংক সেবন করেনি। বরং ওয়াইন এর গ্লাসটা হাতেই ছিল। মায়াকে হেনা খানের পাশে না দেখে কপাল কুঁচকায় রিদ। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আশেপাশে মায়াকে খুঁজল। কিন্তু কোথাও না পেয়ে টেনশনে রিদ সম্পূণ গ্লাসটি এক চুমুক শেষ করে খুঁজতে গেল মায়াকে। আশেপাশে কোথাও মায়াকে দেখতে না পেয়ে এবার উত্তেজনায় ঢুলতে লাগল সে। হাত পা অকেজো র্দুবল হয়ে আছে ক্রমাগত। চোখ দুটো ভার আর ঝাপসা লাগছে। তারপরও দূর্বল শরীরে মায়াকে খুঁজতে লাগল। মায়ার পরিবারও সেই পার্টিতে উপস্থিত ছিল। এমনকি জুইও। জুই মায়াকে আশেপাশে খুঁজে না পেয়ে রিদের পিছন পিছন ছুটল জিগ্যেসা করতে মায়া কোথায় আছে। রিদ তখনো মায়ার চিন্তায় বিভোর মেয়েটা হঠাৎ কোথাও যাবে ভেবে। রিদের ভারি মাথা চেপে ধরে ঝাঁকাল। হঠাৎ শরীর এমন হওয়ার কারণটা বুঝল না। রিদ করিডোর দেয়াল ধরে সামনে আগায়। যেতে যেতে মাথা আরও ভারি হয়। রিদ দাঁড়ায়। আবারও মাথা ঝাকিয়ে সবগুলো রুম একে একে চেক করে কারণ মায়াকে ওয়াশরুমে খুঁজে কোথাও পায়নি সে। রিদ রুম চেক করে সামনে এগোয়। হঠাৎ একটা রুম থেকে তীব্র গোঙ্গানির শব্দ কানে ভারি খেল রিদের। রিদ থামে। অজানা ভয়ে বুক কেঁপে উঠে। ড্রাগসের কারণে এমনই তার হাত কাঁপছি। তারপরও সেই কম্পিত হাতে চাপিয়ে রাখা দরজাটা মৃদু ধাক্কা দিয়ে সরাতেই চোখে পড়লো আবছা আলোয় দুজন অন্তরঙ্গ সম্পর্ক করা মানুষকে। রিদ তখনো স্বাভাবিক ছিল যতক্ষণ না পযন্ত বুঝতে পারল বিছানায় সেচ্ছায় শারিরিক সম্পর্ক করা মানুষ দুটো মায়া আর আয়ন। রিদ বুঝতে পারল মায়ার আর আয়নের গলায় আকুতি স্বর শব্দ শুনে। মুখ দেখা যাচ্ছে না তাদের তবে গলা স্বর স্পষ্ট জানান দিচ্ছে মানুষ দুটো আয়ন আর মায়া। গলা চিন্তে ভুল করল না রিদ। ঠিক ধরে নিল। রিদ থাম। হাত ডিল হয়। দুনিয়া যেন রিদের এখানে শেষ হলো। রিদ কাউকে বাঁধা দেওয়ার পরিস্থিতিতে নেই। কারণ মানুষ দুজনই অলরেডি অনেকটা জড়িয়ে পড়েছে দুজনের মধ্যে। তাই বাঁধা দিলেও রিদের হাতে কিছু করার নেই। রিদ মূহুর্তে ঢলে পরে দরজার পাশে দেয়ালে কপাল ঠেকিয়ে দাঁড়ায়। তার নিশ্বাস চলছে না বরং আটকে আছে গলায়। যেকোনো সময় নিশ্বাস অভাবে ঢলে পড়বে হয়তো। আর্ধ খুলা দরজা ফাঁক থেকে এখনো রিদের কানে স্পষ্ট বাজছে দুজনের উত্তেজিত স্বর। রিদ চিল্লাচিল্লি, রাগ কিছুই দেখাল না। বরং শান্ত প্রতিকের নেয় দেয়াল ঘেষে ধুপ করে ফ্লোরে বসে পড়ল। জুই রিদকে ঢলে পড়তে দেখে দৌড়ে যায় সেদিকে। রিদের সামনে হাঁটু মুড়ে বসে উত্তেজিত ভঙ্গিতে বলে…
—” ভাইয়া কি হয়েছে আপনার এমন করছেন কেন? আপনি কি অসুস্থ? কাউকে ডাকবো?
জুইয়ের পরপর প্রশ্নের একটা উত্তর করলো না রিদ। বরং শান্ত নেয় এক দৃষ্টিতে ফ্লোরে দিকে তাকিয়ে বসে রইল। রিদের হঠাৎ শান্ত চুপ থাকার কারণ না বুঝল না জুই। তাই আবারও পরপর প্রশ্ন করলো রিদকে। কি হয়েছে জানতে। রিদের উত্তর না পেয়ে উদ্বিগ্ন জুই আশেপাশে তাকাল অধৈর্যর চোখে কাউকে ডাকতে। কিন্তু তখনই ওর কানে গেল অদ্ভুত কিছু শব্দ। প্রথমে বুঝতে না পারলেও আর্ধ খোলা দরজা ধরে অন্ধকার রুমের ভিতর তাকাল। কন্ঠ দুটো বেশ পরিচিত মনে হলো জুঁইয়ের। অজানা ভয়ে দরজা ধরে উঁকি দিতে চাইলে রিদ মূহুর্তেই জুইয়ের বাহু টেনে ধরে থামায়। এবং শান্তি দৃষ্টিতে তাকায় জুইয়ের দিকে। জুইয়ের অভি চঞ্চল মনটা যেন মূহুর্তে অজানা ভয়ে কেঁদে উঠল তীব্র ভাবে। চোখের পানিও দেখা গেল তৎক্ষনাৎ। রিদ এক দৃষ্টিতে তাকাল জুইয়ের টলমল চোখের পানিতে। ব্যাকুল জুই রিদের বাঁধা বুঝে ও যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। বিশ্বাস করবেও বা কিভাবে? এমন সত্য কি কেউ সহজে বিশ্বাস করতে চাই? চাই না। ভালোবাসা মানুষ থেকে ধোঁকা কারও সয্য না। অধৈর্যের জুইয়ের বুক কেঁপে উঠে। দুনিয়ায় থেমে যাওয়ার উপক্রম হলো। রিদের সামনে গা ছেড়ে ফ্লোরে ধুপ করে বসে কাতর গলায় বলল…
—” ভিতরে কি ওরা দুজনই ভাইয়া?
রিদ উত্তর করলো না। বরং এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল জুইয়ের অশ্রু ভরা চোখে। জুই এবার ডুকরে কেঁদে উঠে রিদের নিরব সম্মতি বুঝে। সুন্দর গুছানো জীবনটা কেন এলোমেলো কাহিনিতে রুপান্তরিত হলো। এখন কি করবে তারা দু’জন? কি করার আছে তাদের?
( প্লিজ কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। গল্পের আরও একটা দিক থাকবে আয়ন ও মায়ার পক্ষ নিয়ে। প্লিজ গল্পের নেক্সট পার্ট না পড়ে কেউ খারাপ ভাবে আমাকে নিবেন না। ধন্যবাদ সবাইকে)
চলিত…
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮১(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ২৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১০+ বর্তীতাংশ
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৭