Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৩


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৭৩
রাত বেশ। সময়টা প্রায় বারোটা কোঠায়। বিয়ের বাড়িতে এলোমেলো মেহমানদের ছড়াছড়ি। বিষন্নতা ছাপ যেন সবার ফেঁসে। বিয়ে বাড়ির বলে কথা। অথচ বর স্টেজে নেই। ফাঁকা স্টেজ। মানুষজন হৈ হুল্লোড় উল্লাসে গমগম করলেও হলুদের অনুষ্ঠান শুরু করতে পারছে না রিদের জন্য। এতে কেউ হতাশ আবার কেউ বা প্রচন্ড বিরক্তি। তারপরও মুখ ফুটে টু শব্দ করতে পারছে না রিদের ভয়ে। তবে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু করা ছাড়া বাকি সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। বাড়ির সকল ছেলেরা দায়িত্ব নিয়ে নাচ-গানের আয়োজন সবকিছুই করেছে। কিন্তু হেনা খান বেশ চিন্তত রিদকে নিয়ে। ছেলেটা যদি রুম থেকেই না বের হয় তাহলে তাকে হলুদের গোসল করাবে কে? তাছাড়া বিয়েটা শুভ হওয়ার জন্য রিদকে অন্তত মায়ার ছুয়া হলুদটা লাগাতে হবে তাই না? হেনা খান চিন্তত মুখে বেশ কয়েক বার রিদের কাছে গেল কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসল। কারণ তিনি কিছুতেই রিদকে রাজি করাতে পারলো না সামান্য হলুদ লাগাতে। বরং রিদ ত্যাড়ামি করে রুমেই ঘাপটি মেরে বসে রইল কাজ নিয়ে। আয়ন গোটা বিষয়টা তদারকি করে দারুণ একটা বুদ্ধি আটলো। সোহাগকে দিয়ে রিদকে রুম থেকে বের করার জন্য মিথ্যা খবর পাঠালো বাড়িতে বিশাল বড় ঝামেলা লেগেছে মেহমানদের মাঝে। আয়নের বুদ্ধি অনুযায়ী সোহাগ হতভম্ব হয়ে রিদের রুমে ছুটে গিয়ে রিদকে জানায়, ‘বাসায় সিরিয়াস ঝামেলা হয়েছে মেহমানদের মাঝে। ছাদে ছেলেরা মারামারি করছে। অনেকে আঘাতও পেয়েছে গুরুতর। রিদ বিষয়টি তেমন বিশ্বাস করতে পারলো না। তার বাড়িতে এতো বডিগার্ড থাকার পরও ঝামেলা হওয়াটা ইম্পসিবল মনে হলো। তারপরও সোহাগের কথায় রিদ একটাবার ছাদ চেক করতে গেল। কিন্তু রিদ রুম থেকে বের হয়ে সামনের করিডোর ধরে হাঁটতেই হঠাৎ হলুদের আক্রমণ হয় রিদের উপর। রিদ থমকে জায়গায় দাঁড়াল। চারপাশ থেকে পেস্ট করা কাঁচা হলুদ মিশ্রত মগ ভরতি পানি রিদের উপর ছুঁড়তে লাগলো দশ পনেরো জন মিলে। সম্পূর্ণ বিষয়টি বুঝতে রিদের কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল। কিন্তু যখন বুঝল তার সঙ্গে সঙ্গেই হুংকার ছাড়লো সবার উদ্দেশ্য। রিদের ভয়ে সবাই মগ ফেলে দৌড়ে পালাল সেখান থেকে। আয়ন ঠায় দাঁড়িয়ে রইল ঠোঁট ভরতি হাসি নিয়ে। সে গেল না। বরং দুহাত ভরতি হলুদের পেস্ট নিয়ে এগিয়ে এসে রিদকে খুশিতে ঝাপটে ধরে শরীরে, গলায়, গালে হলুদ মেখে দিতে দিতে বলল…

—” ভাই বিয়ে করছিস। অথচ হলুদ লাগাবি না। এটা কি হয় বল।

রিদ দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করে ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো নাক মুখ শক্ত করে। সারা শরীর পানি আর হলুদে ছপছপ করছে। সাদা টি-শার্ট কমলা কালার ধারণ করেছে হলুদের। হেনা খান, আরাফ খান, মেহেরবান, শাহেবা ঠোঁট চেপে হাসলো। রিদ সবাইকে হাসতে দেখে রেগেমেগে আরও বোম্ব হলো। আয়নকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিতে নিতে রাগে কটমট করে বলল…

—” ঘেঁষাঘেঁষি করা তোর পূবে থেকেই একটা মেয়েলি স্বভাব। যাহ সর! দূরে দাঁড়া।

রিদের কথায় যেন আকাশ থেকে পরলো আয়ন। দ্রুততা সঙ্গে নাটকীয় ভাবে ছিটকে সরে যেতে যেতে বলল…

—” ছিঃ ছিঃ ভাই! কি বলিস এই গুলা? আমার বউ আছে! আস্তাগফিরুল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ! তুই তো আমার ডিভোর্স করাবি এসব বলে বলে। সাংঘাতিক মানুষ তো তুই।

আয়নের খেয়ালি কথায় তেতে উঠে রিদ। ভেজা গায়ে দাঁড়িয়ে থেকে তিরতির মেজাজে বলল…

—” ফাজলামি পাইছিস? এসব কি? আমাকে ভেজালি কেন?

রিদের কথায় আয়ন ভ্রুর কুঁচকে বলে…

—” তোর সাথে ফাজলামি করবো কেন? তুই কি আমার শালা লাগস যে ফাজলামো করবো?

কিছুটা থেমে পুনরায় দ্রুততার সঙ্গে আয়ন বলে উঠে…

—” হ! হ! শালা লাগিস। লাগিস! শালীর জামাই তো শালাই হয়। বয়সে না হলেও সম্পর্কের দিক থেকে আমি কিন্তু তোর বড় হয় রিদ। সেই সুবাদে একটু ফাজলামো তো করাই যায় তাই না। আচ্ছা শুন শালাভাই! হলুদ না লাগালে বিয়ে হয়না। বিয়ে হলেও অর্ধ বয়সে ডিভোর্স হয়ে যায়। শালীর জন্য রিস্ক নিতে চাই না বলে হলুদের গোসল করালাম তোকে। বলতে গেলে আমি কিন্তু তোর সরাসরি একটা উপকার করলাম ভবিষ্যৎ ডিভোর্সের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলাম। তাই ভেজা মুখে একটা শুকনো ধন্যবাদ দিয়ে রুমে চলে যাহ। আমি আবার দিলদার মানুষ বর্তমানে একটা ধন্যবাদেই চলবে। তবে ভবিষ্যতে কিন্তু মেয়ে শশুর বানিয়ে ঋণ শোধ করে দিস কেমন। যাহ এবার!

আয়ন কথা গুলো বলতে বলতে দারুণ হাসল। রিদ রাগে কটমট করে আয়নের দিকে তাকিয়ে রুমে চলে গেল। পুনরায় গোসল করে ওয়াশরুম হতে বের হলো। সারা শরীর হতে তীব্র হলুদে গন্ধ বের হচ্ছে। রিদ নাক ছিটকায়। এসব ফালতু নিয়ম সে কখনো মানে না। ছেহ! নির্ঘাত বউয়ের সাথে ডিভোর্সের রিস্কটা নিতে চাইনি বলে তখন সে কাউকে কিছু বলেনি। ঝামেলাও করেনি। নয়তো তার গায়ে হলুদ ছিটানোর দায়ে একেকটা করুণ দশা করতো। মাথা মুছতে মুছতে রিদ বেডের সামনে এসে দাঁড়াল কিছুক্ষণ। তারপর সাদা টাওয়ালটা বারান্দায় মেলে দিয়ে রুমের দরজা লক করলো। আজ যত কিছু হয়ে যাক না কেন, সে আর রুম থেকে বের হবে না। নয়তো আবারও কোনো নিয়ম ধরে রিদকে বাঁধবে। রিদ ল্যাপটপ বন্ধ করে ফোন হাতে নিল। আপাতত সে ঘুমিয়ে পরবে ভালো লাগছে না কোনো কিছু। ঘুমানোর পূবে রিদ আসিফকে কল করে বলে নিল ‘বাহিরের সবকিছু সামলে নিতে। এবং কোনো রকম ঝামেলা হলে রিদকে জানাতে। রিদ কল কাট করে হাতে ফোন চেক করতেই দেখল ই-মেইল থেকে নোটিফিকেশন এসেছে। রিদ ভাবলো কাজের সূত্রে ই-মেইল হবে হয়তো তাই ওপেন করে দেখল ফিহার ফোন থেকে ই-মেইল করেছে হয়তো তাকে কিছু পাঠানো হয়েছে। রিদ কপাল কুঁচকে সেটা চেক করতে করতে গিয়ে বসল বেডের সাইডে। ততক্ষণে ইনবক্সে বেশ কিছু ছবি দেখতে পেল মায়ার। রিদ থমকে মায়ার প্রতিটা ছবিতেই সিন করলো। লাল পাড়ের বাসন্তী রঙ্গা শাড়িতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে তার বউকে। লম্বা করে ঘোমটা টেনে ডাগর ডাগর আঁখিতে অবুঝ নেয় চেয়ে আছে ক্যামেরার দিকে। রিদ মায়ার ছবি গুলো ঝুম করলো। গলায়, মুখে, হাতে হলুদের রঙটা স্পষ্ট দেখতে পেল। সেই সাথে লাল ব্রাউজের সেঁতসেঁতে ভেজা ভাবটাও রিদের চোখে ধরা পড়লো। কাঁধে ফাঁকে সামান্য উকি দেওয়া ভেজা গামছাটাও মায়ার খোঁপায় দেখল। রিদ নিঃশ্বাস আটকে আসায় উপক্রম হলো। তার বউটা সত্যিই দারুণ দেখতে। আজকে মনে হয় একটু বেশি সুন্দর লাগছে। বউ সাজলে কি সবাইকে এমনই লাগে? নাকি সে স্পেশাল ফিল করছে বউটার জন্য। রিদের মন অস্থিরতায় ছটফট করে উঠে মায়াকে কাছে পাওয়ার জন্য। অল্প না অনেকটা ছুঁইয়ে দিতে তীব্র চাহিদা জাগলো। তোলপাড় মনে রিদ শক্ত হয়ে বসে রইলো। গভীর দৃষ্টি তার মায়ার প্রতিটা ছবির উপর। মায়ার বামহাতের আঙরাটা মিলাল রিদ। দুজনের একিই। তার মানে মায়াও রিদের লম্বা হায়াতের জন্য এটা বেঁধেছে। রিদ গুমোট শ্বাস ছাড়লো। বউটাকে একটু কাছ থেকে দেখতে পারলে ভালো লাগত তার। রিদ জেদ করে শুয়ে পড়লো। না সে যাবে না তার বেয়াদব বউয়ের কাছে।
রিদ কষ্ট পেলে পাক। তারপরও বউকে কাছে টানবে না। তার বউ তো আর তাকে গুরুত্ব দেয়নি। তাহলে রিদ কেন দিবে। তাছাড়া রিদ এখন বউয়ের সাথে দেখা করতে গেলে রিদের দাম কমে যাবে না? বউটা ভাববে রিদ বউ ছাড়া থাকতে পারছে না একটা দিনও। রিদ পারে। রিদ সব পারে। সে বউ ছাড়া খুব ভালো থাকতে পারে। কাল দূরে গিয়ে দেখিয়ে দিবে, রিদ খান বউ ছাড়াও দূরে থাকতে পারে। সে কারও জন্য ভুলও পাগল নয়। বউয়ের জন্য তো মোটেও পাগল নয়। রিদ জেদ করলো। এবার সে কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশে ফিরবে না যতকিছু হোকনা কেন। যেদিন বউটা তাকে বুঝবে, গুরুত্ব দিবে, সেদিনই বাংলাদেশের ফিরত আসবে নয়তো না।
~~
যথারীতি গায়ে হলুদের সকল ফাংশন শেষ হলো। রাত গিয়ে সকাল হলো। এবার দুই বাড়ির সকলের ব্যস্ততা ভিন্ন হলো। কনে বাড়ির মানুষজন মেহমানদের রান্না বান্না ব্যস্ত হয়ে পরলো। তো সেখানে খান বাড়ির মানুষজন বরযাত্রী রেডি করতে ব্যস্ত। রিদের আদশ নিজেদের রিলেটিভিটি ছাড়া বাহিরের মানুষজনকে আশুগঞ্জ নিবে না। মায়া সিকিউরিটি দিকটা হিসাব করে রিদ বেশি বরযাত্রীর ভিড় করালো না। অল্প সল্প বরযাত্রী দিয়ে রিদ সবাইকে পাঠালো আশুগঞ্জের উদ্দেশ্য। রিদ আরও পরে যাবে। বর্তমান সময় দুপুর দুটো। অরেঞ্জ কালারের জর্জেটের মধ্যে ভারি সারারা পরে নিজের রুমে গেল জুই। যেখানে পূব থেকে মায়াকে সাজানো কাজ চলছে। জুই দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করতেই সবাই আগে মায়াকে চোখে পড়ল। মায়াকে দেখে তৎক্ষনাৎ মুখ থেকে অস্পষ্ট স্বরে আপনাআপনি বলে উঠে ‘মাশাল্লাহ ‘

দরজা খুলার শব্দে জড়তার চোখ তুলে তাকায় মায়া। জুইকে চোখের সামনে দেখে খানিকটা স্বস্তির হলো। পুতুল ন্যায় দাঁড়িয়ে থেকে আস্তে করে বলল…

—” আমি পানি খাব জুই। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।

ঠোঁট প্রসারিত করে হেঁসে এগিয়ে আসলো জুঁই। পড়ার টেবিলে উপর থেকে পানির বোতলটা নিয়ে গ্লাসে ঢেলে মায়ার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে জুঁই বলল…

—” শুধু শুধু ভয় পাচ্ছিস তুই। তোকে দেখে তো জিজুর গলা শুকিয়ে যাওয়ার কথা। পানি চাইলে জিজু চাইবে তুই কেন চাচ্ছিস?

ইতস্তত মায়া জড়তায় কিছু বললো না জুইকে চুপচাপ পানিটা খেল। আরও কিছুক্ষণ সময় নিয়ে মায়ার ড্রেসআপ ঠিক করে একে একে চলে যায় চারজন মেকাপ আঁটিস। জুই এগিয়ে যায়। মায়া নিয়ে ম্যারেজ হলে যেতে হবে বলে ফিহা, টিয়া, ছায়াকে কল করলো এদিকটায় আসতে। ফোন পাওয়ার অল্প কিছু সময়ে মধ্যেই একে একে সবাই আসলো। রুমে ঢুকে মায়াকে দেখেই একত্রে অস্পষ্ট স্বরে আওড়ালো, মাশাল্লাহ ‘

~~
বিকাল প্রায় চারটের ঘরে। রিদ ত্যাড়ামি করতে করতে আসিফকে নিয়ে আসলো চারটার দিকে। চার গাড়ি ভরতি বডিগার্ডসহ নামলো ম্যারেজ হলে সামনে। চারপাশে থেকে বাচ্চারা হৈ হুল্লোড় চিৎকার চেচামেচি ধ্বনি আসে কানে ‘বর এসেছে! বর এসেছে! বর এসেছে!

রিদ বিরক্তি ভঙ্গিতে নেমে এগিয়ে যায় সামনে। পরনে তার ফুল সাদা ড্রেসআপ। সাদা শার্ট প্যান্ট ইন করা, সাদা কোট দিয়ে। গলার টাই-টা কালো চিকন ফিতার। বামহাতে কালো ব্যান্ডের ঘড়ি তো চুল গুলো সব স্পাইক করে সেট করা। না পাঞ্জাবি! না শেওরানি। ত্যাড়ামি করে কিছুই পড়লো না। রিদ বিয়ের সাজে না আসলেও সবার নজর সুদর্শন সুন্দর দেখতে গ্যাংস্টারের উপরই। বডিগার্ড সহ রিদ এগিয়ে যেতে চাইলে গেইটের সামনে বাঁধা পেল। মেয়েদের বিশাল গ্যাং ফিতা বেঁধে রিদের জন্য দাঁড়িয়ে আছে টাকা উসুল করতে। রিদ কপাল কুঁচকায়। এক নজর টেবিলের উপর হাজিবাজি জিনিসপত্রে দিকে তাকাল। আপাতত সে বুঝতে পারছে না তাকে কেন আটকানো হচ্ছে? রিদ ঘাড় ঘুরিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আসিফের দিকে তাকাল। আসিফ রিদের দৃষ্টির মানে বুঝতে পেরে দ্রুততার সঙ্গে দৌড়ে আসে চোখের সামনে মেয়েদের বিশাল গ্যাং দেখে খানিকটা সেও থতমত খেল। বিশেষ করে সেই গ্যাংয়ের অংশীদার হয়ে টিয়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খুক খুক করে কেশে উঠে তার মধ্যে একবার আঁড়চোখে রিদকেও দেখে নিল। রিদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির ভয়ে আসিফ দ্রুত এগিয়ে যায় মেয়েদের দিকে। এদিকে সেদিক না তাকিয়ে জোর গলায় ধমক দিয়ে উঠে টিয়ার উদ্দেশ্য…

—” এই! কি করছো এখানে? পথ ছাড়ো! মরার শখ হয়েছে বুঝি? কোথায় পথ আটকাতে হবে সেটাও জানো না। এতো জ্ঞান নিয়ে চলো কিভাবে? যাও পথ ছাড়ো।

আসিফের ধমকে নাক ছিটকালো টিয়া। আসিফকে মুখ ভেঙ্গিয়ে বলল…

—” এই একদম গুন্ডামি করবেন না এখানে। যেখানে সেখানে গুন্ডামি করে পার পেয়ে যাবেন বুঝি। যান আগে টাকা নিয়ে আসুন আইসক্রিম চোর কোথাকার।

টিয়ার কথায় হাসির শব্দের রোল পাওয়া যায় আশেপাশে মেয়েদের। মেয়েরা আইসক্রিম চোর বিষয়টা নিয়ে মজা করতেই আসিফ তেতে উঠে। রাগে চিবিয়ে চিবিয়ে টিয়াকে বলে…

—” আমি আইসক্রিম চোর? জীবনে কয়টা আইসক্রিম চুরি করে খাইছি তোমার? গ্যাং বানিয়ে পাওয়ার দেখাচ্ছো আমাদের? পেয়ে নেয় তোমায় আলাদ। শরীরের হাড্ডি কয়টা থাকে আমিও দেখব। ভালোই ভালোই পথ ছাড়ো।

আসিফের কথায় টিয়া ভেঙ্গ করে বলে..

—” শরীরের হাড্ডি কয়টা থাকে আমিও দেখব। যান দেখার সময় দেখিয়েন। আমিও দেখে নিব কার সাহস কতটুকু আছে। এখন টাকা বের করেন। গরীব শালীদের বকশিশ। বড়লোক দুলাভাই গুনে গুনে পাঁচ লাখটা টাকা দিবেন। তারপর ভিতরে এন্ট্রি নেওয়া যাবে নয়তো না।

আসিফ চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। মেয়েটার দূরান্ত সাহস দেখাচ্ছে এখন। হুট করে এতো সাহস পেল কোথায় থেকে? তাছাড়া আসিফ এখানো বুঝতে পারছে না এতো টাকা কিসের জন্য দিবে তাঁরা? রিদ বিরক্তিতে অতিষ্ঠ করে ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে রাগে। নিজের বিয়ে বলে মূলত সিনক্রেট করতে চাই না সে। নয়তো এতক্ষণ সবকিছু উল্টে ফেলতো বডিগার্ড দিয়ে। গেইটের মেয়েদের হাঙ্গামা দেখে এগিয়ে আসলো আয়ন। রিদকে রাগি মুডে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দ্রুত আগালো। বলা যায় না এই বান্দা কখন কি করে বসে। শেষে দেখা গেল নিজের বিয়েতে নিজেই ঝামেলা ক্রিয়েট করে ফেলেছে রিদ। আয়ন এগিয়ে এসে মেয়েদের টাকার বিষয়টা শুনলো। এবং সুন্দর করে রিদকেও বুঝিয়ে বলল বিয়ের করতে গেলে গেইটে শালীদের টাকা দিতে হয় এইটাই নিয়ম। রিদ হ্যা বা না কিছুই বললো না। শুধু আসিফকে গম্ভীর মুখে বললো ‘ যে যতো টাকা চাই সবটা দিয়ে দিতে দ্রুত।
রিদের কথায় আসিফ চোখ ছোট ছোট করে বলে…

—” ভাই আমিতো এতো টাকা ক্যাশ আনেনি। কার্ড আছে। ব্যাংক থেকে তুলতে দিতে হবে।

রিদ বিরক্তি কন্ঠে বলে…
—” ওকে দ্যান! তুলে দিয়ে ঝামেলা শেষ কর।

রিদের কথায় তৎক্ষনাৎ সায় জানালো আসিফ কিন্তু আপত্তি করে বসলো মেয়েরা। তারা যতক্ষণ না টাকা পাবে ততক্ষণ রিদকে ভিতরে যেতে দিবে না। আর এতে রিদ রাগে কটমট করে দুহাতের মুষ্টি চেপে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আয়ন রিদের রাগের আভাস পেয়ে দ্রুত বলে উঠে…

—” দেখ মেয়েরা! তোমাদের দেনা-পাওয়া সব মিটিয়ে দিবে আসিফ। আমি জিম্মা নিচ্ছি তোমাদের টাকার। দরকার হলে তোমাদের আবদারের দ্বিগুণ টাকা দিবে আসিফ। কিন্তু এখন আপাতত বরকে ভিতরে যেতে দাও প্লিজ।

আয়নের কথায় সবাই সম্মতি দিল। কিন্তু টিয়া আপত্তি করে বলল…

—” ডক্টর ভাইয়া আপনার কথা মানলাম। তবে আমরাও আসিফ ভাইয়ার সাথে ব্যাংক পযন্ত যাব। উনাকে বিশ্বাস নেই আমাদের। উনি দিনে দুপুরে অন্যের আইসক্রিম চুরি করে খেতে পারে সেখানে যদি আমাদের টাকা মেরে দেয় তো? আপনি উনাকে বলুন আমাকে সাথে নিয়ে যেত।

টিয়ার কথায় সব মেয়েরা হৈ হৈ করলো। আয়ন রাজি হলো। সবাই রিদের পথ ছেড়ে দিল। রিদ বডিগার্ডসহ ভিতরে প্রবেশ করলো। কিন্তু মেয়েরা সবাই আসিফকে ঘিরে ধরলো টাকার জন্য। আসিফ রাগে কটমট করে টিয়ার দিকে তাকাতেই টিয়া দুষ্টু হেঁসে এক চোখ মারল।
~~
সাদার সমাহারের আয়োজন। সাদা ফুলে ফুলে সাজানো সবকিছু। চারপাশে মানুষজন গিজগিজ করছে। তবে সবাই মায়ার পারিবারিক আত্মীয় স্বজনরা। রিদ বরযাত্রী মাত্র পঞ্চাশ জনের মতো হবে। বাকি সবাই বডিগার্ডই। প্রায় চল্লিশ- পঞ্চাশের মতো হবে বডিগার্ড ঘিরে দাঁড়িয়ে। তাছাড়া সেদিনের ঘটনা পর রিদ সার্বক্ষণিক টাইড সিকিউরিটি দেওয়া। আইডেন্টি ছাড়া কারও বিয়েতে অংশ গ্রহণ নিষেধ। মায়ার আশেপাশে মায়ার নিজ পরিবার ছাড়া অন্য কারও যাওয়া ও নিষেধ। রিদ সরাসরি ম্যারেজ হলে প্রবেশ করলো কোনো রকম বাঁধা ছাড়া। দুই সাইডে সারিবদ্ধ ভাবে চেয়ার পাতা মধ্যে সুরু রাস্তা ধরে সামনে এগুলো। এদিক সেদিক না তাকিয়ে সোজা গিয়ে বসল স্টেজ বিছানা উপর পা ভেঙ্গে। ফুলে ফুলে সাদা সেই নরম বিছানার মধ্যস্থানে সাদা পাতলা পর্দায় টাঙ্গানো হয়েছে সাদা ফুলের ডেকোরেশন করে। রিদ বিছানার মধ্যস্থানে আসন পেতে বসতেই দ্রুত এগিয়ে আসল আরাফ খান। রিদের পাশে পা ভাজ করে তিনিও বসলো। একে একে বাকি সবাইও এগিয়ে আসলো এদিকে। এতক্ষণ যাবত সবাই রিদের অপেক্ষাতেই ছিল। আয়ন, সোহাগ, নাহিদ চৌধুরী, নিহা, মারিহা, মেহেরবান, শাহেবাসহ রিদের বাকি আত্মীয় স্বজনরাও রিদকে ঘিরে চারপাশে গোল করে বসলো। আরিফ এগিয়ে এসে রিদের সাথে কৌশল বিনিময় করে খাবার কথা জিজ্ঞেসা করতেই রিদ মানা করে দেয় ‘সে খাবে না বলে। আরিফ খানিকটা জোর করতে চাইলে আরাফ খান ইশারায় বুঝায় জোর না করতে। ফুলের পর্দার ওপাশে মেয়ের পক্ষের সবাই একে একে এসে গোল করে বসলো। মায়াকে তখনো আনা হয়নি। তবে মায়াকে ম্যারেজি হলে একটা রুমে রাখা হয়েছে জুঁই আর ফিহাকে দিয়ে। আয়ন আসার পর থেকে একটা বারের জন্য জুইকে চোখের দেখাও দেখতে পায়নি। এমনকি জুই গেইটেও দাঁড়ায় নি মায়ার জন্য। মায়াকে একা রেখে যেতে চাইনি বলে তাই। কাজি সাহেব আসতেই ডাক পড়লো মায়ার। আরিফ সংবাদ পাঠাতেই হেনা খান আর ফিহা মায়াকে দু’পাশ থেকে ধরে বের হলো। উপস্থিত ছোট বড় সবার দৃষ্টিতে তৎক্ষনাৎ ভিড়লো আর্কষিত কনের উপর। আরাফ খান মায়াকে দেখে স্পষ্ট স্বরে ছোট করে ‘মাশাল্লাহ’ বলতেই রিদের কানে বাজলো সেটা। রিদ নড়েচড়ে বসল। তারপরও রিদ জেদ ধরে একটা বারের জন্য চোখ তুলে মায়ার দিকে তাকাল না পযন্ত। রাগে চোখ মুখ শক্ত করে ঠায় জায়গায় নিচু দৃষ্টিতে বসে রইলো।
মায়া ঘোমটা আড়াল থেকে চোখ উঁচিয়ে সামনে রিদের দিকে তাকালো। দৃষ্টি তার দারুণ ছলছল। রিদকে নিজের দিকে তাকাতে না দেখে দলা পাকিয়ে আসলো কান্নায়। এটা কোনো কথা হলো? বিয়েটা কি সবসময় আসবে তাদের জীবনে? মায়া কি সবসময় বউ সাজবে এমন করে? এতো আয়োজন করে? আপাতত সবকিছু ভুলে কি একটু মায়ার দিকে তাকানো যায় না? একটু দেখা যায় না মায়াকে? সবকিছুতে কি এতোটা জেদ করা জরুরি? যে ভালোবাসার মূহুর্ত গুলোতেও তার ত্যাড়ামি করতে হবে? এই যে সবাই বলছে মায়াকে সুন্দর লাগছে। অথচ সেই সৌন্দর্যটা যদি ভালোবাসার মানুষটা একটা বার চোখ তুলে না-ই দেখল, তাহলে মায়ার সকল সুন্দর লাগাটাও বৃথা। বৃথা মায়ার বিয়ে নিয়ে এতো সব যুদ্ধ, যদি ভালোবাসাময় দুটো স্মৃতি বানাতে না পারে দুজনের। মায়া গুমোট কান্না নিয়ে ফের নিচের দিকে তাকায়। ছোট ছোট পা ফেলে হেনা খান আর ফিহার সাথে সামনে আগালো সাদা ঘোমটা ধরে। ফুলে ফুলে সাদা বিছানায় মায়াকে বসাতেই মায়াও যেন সেই সাদা ফুলের রানী হয়ে গেল। সাদা ফুল থেকে মায়াকে ভিন্ন করা গেল না। মায়ার পড়নের সাদা ডিজাইনার ফুলা লেহেঙ্গাটা মধ্যেও সাদা পাথরের লতানো গোলাপ ফুলের কাজ করা। ভারি কাজের ফুলহাতার স্লিপ সাথে মাথায় সাদা সিল্ক কাপড়ের ছোট করে হিজাব করা। দুটো ডিজাইনার দোপাট্টা দিয়ে মায়ার সাজ কমপ্লিট করলো। একটা গা মুড়িয়ে কাঁধে তুললো শাড়ির মতোন। অন্যটি মাথায় বাঁধলো লম্বা ঘোমটা টেনে। লেহেঙ্গা সাথে মিল রেখে পাথরের কাজের সাদা মুজা পড়ল হাতে পায়ে। গা ভরতি সাদা আর সবুজ পাথরের ডায়মন্ডের ছুয়া। হেনা খান মায়াকে রিদের সম্মুখে বসিয়ে তিনিও মায়ার পাশে বসে পড়ল। কয়েক সেকেন্ড ব্যবধানে কাজি সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করলো। উপস্থিত সবাই নির্জন হলো আসন্ন বিয়েতে। ততক্ষণে আসিফও টিয়াকে নিয়ে উপস্থিত হলো টাকার ঝামেলা শেষ করে। আসিফ রিদের সাইডে আর টিয়া মায়ার পাশে সরে গেল। কাজি সাহেব যথা নিয়মে বিয়ে পড়ানো শুরু করে খানিকটা বাদে মায়াকে কবুল করতে বললে মায়া ফুপিয়ে উঠে কান্নায়। জুই, মুক্তা, ফাতেমা খাতুন, চোখও ছলছল করে উঠে মায়ার কান্না দেখে রক্তের টানে। হেনা খান মায়ার মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে আদর করে শান্ত করতে চাইল। কিন্তু এতে তেতে উঠল রিদ। মায়ার কান্নায় যেন রিদের চেপে রাখা রাগের ষোল কলা পূরণ হলো। সে কি এই নারীকে বিয়ের জন্য ফোর্স করেছিল? না করেনি। তাহলে এখন তাঁকে বিয়ে করতে এতো কান্না কিসের আবার? এতো নাটক ভালো লাগছে না তার। রিদ রাগে তেতে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো বিয়ে করবে না বলে। রাগে দাঁতে দাঁত চেপে আসিফ ডেকে বললো…

—” আসিফ! গাড়ি বের কর! আমি বিয়ে করবো না।

রিদের এমন কথায় আতংকে উঠে মায়া। সত্যি সত্যি যদি রিদ চলে যায় সেই ভয়ে, কারও অপেক্ষা না করে কান্না ভুলে গরগর করে দ্রুততা সঙ্গে কবুল বলে উঠলো। একবার না! দুবার নয়। পুরো চারবার শব্দ করে, কবুল ‘কবুল ‘কবুল ‘কবুল বলে ফেলল। রিদের কানে অবধি মায়ার কবুলের শব্দটা পৌঁছাতে রিদ শান্ত হলো। বিনা বাক বয়ে ঠাস করে আবারও জায়গায় বসে পরলো৷ উপস্থিত সবাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় জামাই বউয়ের কান্ডে। বর চলে যেতে চাচ্ছে তো, বউ কবুল বলে আটকাচ্ছে। কাজি সাহেব ড্যাবড্যাব করে একবার রিদের দিকে তো অন্যবার পর্দার আড়ালে মায়ার দিকে তাকাচ্ছে। মূলত তিনি বুঝতে পারছে কি হচ্ছে। এতক্ষণ বউকে দিয়ে একবার কবুল বলানো যাচ্ছে না! অথচ স্বামীর ত্যাড়ামি করে উঠতেই বউ চারবার কবুল বলে দিল তাও শব্দ করে। কাজি সাহেব মন্ত ধ্যান ভাঙ্গে রিদের ধমকে। তিনি চমকে উঠে রিদের দিকে তাকাতেই রিদ চাপা স্বরে বলে…

—” আপনাকে ও কি আলাদা ইনভিটেশন দিতে হবে বিয়ে পড়ানোর জন্য। কার অপেক্ষা করছেন? শুরু করুন।

রিদের অস্থিরতা দেখে আয়ন ঠোঁট চেপে হেঁসে রিদের কানে কানে ফিসফিস করে বলল..

—” ভাই! বউ তোর পালিয়ে যাচ্ছে না। একটু ধৈর্য ধরে বস। আজ অন্তত রাগ দেখাস না। চারপাশে সবাই হাসছে কিন্তু।

রিদ বিরক্তির চোখ তুলে আয়নের দিকে তাকায়। সে বিয়েটা করতে উতলা নয়। বরং বিয়েটা দ্রুত শেষ করতে উতলা। তার এসব ঝামেলা ভালো লাগছে না। সবকিছুর উপর বিরক্তি লাগছে। শুধু এই বউটার জন্য তাকে আজ এসবের মধ্যে জড়াতে হচ্ছে। কাজি সাহেব পুনরায় বিয়ে পড়ানো শুরু করে। মায়া আর কাঁদল না রিদের ভয়ে। রিদ যদি চলে যায় তো সে ভয়ে চুপ থাকল। কাজি সাহেব রিদকে কবুল বলতে বললে রিদ রাগ নিয়েই পরপর তিন কবুল বলে ফেলে একসঙ্গে। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে সবাই বিয়েটা সম্পূর্ণ করে। আরাফ খান এগিয়ে এসে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কোলাকুলি করলো। আরিফের সঙ্গেও করলো খুশিতে। কিন্তু রিদ জায়গায় থেকে নড়লো না। আর না কারও সঙ্গে কোলাকুলি করলো। দম মেরে জায়গায় বসে রইলো। সবাই বউ দেখার জন্য বড় আয়না আনলো। হালকা পর্দা সরিয়ে রিদ মায়ার সম্মুখে আয়নাটা রাখল। কিন্তু রিদ আয়নায় দেখলো না। বরং ত্যাড়ামি করে জায়গায় ছেড়ে উঠে গেল। যার ফলে মায়ার ঘোমটাও আর সরানো হলো না। কিন্তু আয়ন জুইকে দেখল সেই আয়নার মধ্যে। দুজনের চোখাচোখি হয়ে যেতে আয়ন দুষ্টু হেঁসে এক চোখ মারলো ঠোঁটের চুমু দিয়ে। জুই থতমত খেয়ে দ্রুত অন্যদিকে তাকাল। আজকাল এই অসভ্য ডাক্তার একটু বেশি অসভ্য হয়ে যাচ্ছে। তাকে সামলানো দায়। আরাফ খান বউ বিদায় করা নিয়ে তাড়া দিল। শফিকুল ইসলাম মায়াকে বিদায় করতে চেয়ে রিদের হাতে শপে দিতে চাইল। কিন্তু মায়া শফিকুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে শব্দ করে কেঁদে উঠতেই রিদ তিরতির মেজাজে ফেটে পড়লো। সে বুঝে না এই মেয়ে গুলা আসলে চাই কি? একতো বিয়ে বিয়ে করে প্রথমে তার মাথা চিবিয়ে খেল। এখন বিয়ে করে বিদায় বেলা মরার মতো কান্না করবে কেন? সে কি তার বউকে বাসায় নিয়ে বউ পেটা করবে? যে সেই দুঃখে বাপ ভাইয়ের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদছে এখন? রিদ বিষয়টি সহ্য করতে পারলো না। তাই মায়াকে রেখে এবার সত্যি সত্যি জায়গায় ছেড়ে বের হয়ে যেতে যেতে হাক ছেড়ে ডাকলো আসিফকে…

—” আসিফ আমার গাড়ি বের কর কুইক।

রিদ কথা গুলো বলতে বলতে গায়ের কোট টেনে খুলে হাতের মুঠোয় নিল। রাগে ফুসফুস করতে করতে ডানহাতে গলার টা-ই খস করলো। পিছনে থেকে দৌড়ে আসা বডিগার্ড গুলোর একজনকে হাত বাড়িয়ে কোটটা দিল। গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে শার্টের হাতা টেনে গুটালো কুইন অবধি। শালার জিন্দিগি ছেহ! মেয়ে মানুষ মানেই ঝামেলা। বিয়ে করতে ও কাঁদে। না করলেও কাঁদে। যাবে কোথায় তারা? এতো কেঁদেকুটে বিয়ের করলো। অথচ এখন এমন ভাবে কাঁদছে দেখে মনে হচ্ছে রিদ তার বউয়ের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বিয়েটা করেছে। রিদের কাছে যেন মায়ার সুখে থাকবে না। দুঃখে রাখবে রিদ এজন্য দুনিয়াকে কেঁদেকেটে দেখাচ্ছে। আসলে রিদেরই দোষ। তার বিয়েটা করতে আসায় উচিত হয়নি। এমনিই বউকে ধরে নিয়ে যেত তাহলে সেটাই বেশ হতো। রিদ রাগে রি রি করে গাড়ি দিকে এগিয়ে যেতেই একজন বডিগার্ড দ্রুত গাড়ির দরজা খুলে দিল। রিদ উঠে বসলো পিছনে সিটে। আসিফ রিদের সাথে গেল না। রিদের পরিবারের সিকিউরিটি দিতে হবে বলে সে সবাইকে নিয়ে পরে যাবে। রিদ চলে যেতেই মায়া আরও ডুকরে কেঁদে উঠল। কিভাবে সবটা গুচাবে বুঝতে পারল না। অজ্ঞাত শফিকুল ইসলাম মায়াকে হেনা খান আর আরাফ খানের হাতে শপে দিয়ে বিদায় করলো। মায়া একে একে লম্বা সময় নিয়ে পরিবারের সবার থেকে বিদায় নিল। আরিফ মায়ার বিদায় বেলা শক্ত আবরণ ছেড়ে নরম হয়ে পরলো। কলিজা টুকরো বোনকে বিদায় করতে গিয়ে তার পুরুষ ওয়ালী মনটাও নরম হয়ে চোখ গলিয়ে জল গড়ালো। সবার এতো এতো কান্না দেখে আয়ন চুপচাপ জুইয়ের পিছনে দাঁড়ায়। জুই তখনো কান্নায় নাক টানছিল। আয়ন মাথা ঝুঁকে জুইয়ের কানে কানে বলল..

—” জুই আমাদের বিয়ের সময় কিন্তু আপনি এতো কাদবেন না কেমন। আমি কিন্তু মেনে নিব না।
~~
আয়োজনের সাথে হেনা খান মায়াকে বরণ করলো খান বাড়িতে। চারপাশে মায়াকে ঘিরে ভিড় জমে আছে। মায়ার দীর্ঘ পরিচিত বাড়িটাতেও যেন আজ প্রচন্ড অস্তিত্ব আর জড়াতা কাজ করছে। মনে হচ্ছে সবকিছু আবার নতুন করে শুরু হয়েছে মায়ার জীবনের। পূব অনূভুতি গুলো যেন আজ আবার নতুন মনে হচ্ছে। জড়তায় মায়া লজ্জায় মিইয়ে যায় গাঢ় অনূভুতিতে। হেনা খান মায়াকে সোফায় বসায়। মাথার ঘোমটা উপরে তুলে সবাইকে দেখাল। তবে কাউকে ছবি তুলতে দিল না। হৈ হুল্লোড় মাতামাতির পরিবেশে মায়া দীর্ঘ তিন ঘন্টা একিই জায়গায় বসে রইলো দম মেরে। অনেকই বউ দেখতে স্পেশালি খান বাড়িতে এসেছে। কারণ তাঁরা বিয়েতে এটেন্ড করতে পারেনি তাই। হেনা খান সবকিছু মধ্যে দিয়েইও মায়াকে বার কয়েক এটা সেটা খাইয়ে দিয়ে গেল। তিনি জানেন মায়ার কিছুক্ষণ পরপর খিদা পায় তাই। রাত দশ-টার দিকে নিহা, মারিহা, টিয়াকে দিয়ে মায়াকে পাঠালো রিদের রুমে। মায়া তীব্র অস্তিত্বে ছোট ছোট পা ফেলে পৌঁছাল রিদের রুমে। দম বন্ধকর পরিস্থিতিতে মায়া দরজার সামনে ঠায় শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। অস্তিত্বে বুক তীব্র ধড়ফড় করছে। সর্বাঙ্গ নাড়িয়ে কেঁপে উঠে জানান দিচ্ছে অজ্ঞান হওয়ার আগাম বার্তা। মায়া নিঃশ্বাস টানতে কষ্ট হলো বিদায় ঠোঁট ফাঁক করে শ্বাস টানলো নিজের মাঝে। মায়ার শরীরের তরতর কম্পনে নিহা, মারিহা বুঝতে পেরে কপাল কুঁচকে তাকাল। বিষয়টি দমে রাখতে না পেরে মারিহা প্রশ্ন করে ফেলল…

—” কি ব্যাপার মায়া এইভাবে কাপছো কেন তুমি? এনিথিং রঙ?

লেহেঙ্গার দুপাশ শক্ত করে চেপে ধরে নত মস্তিষ্কের মায়া নিজের মাথা নাড়িয়ে না বুঝাল। ছোট করে বলল…

—” আমি পানি খাব আপু।

মায়ার অবস্থাটা আন্দাজ করতে পারলো নিহা আর মারিহা। কিন্তু মায়াকে আপাতত লজ্জায় ফেলতে চাই না বলে নিহা মায়াকে ছেড়ে গেল পানি আনতে। মারিহা মায়াকে নিয়ে বসায় রিদের ফুলে ফুলে সাদা বিছানার মধ্যস্থানে। ততক্ষণে নিহাও মায়ার জন্য পানি নিয়ে আসল। মারিহা মায়াকে পানি খাইয়ে পুনরায় নিহার হাতে গ্লাসটা তুলে দিয়ে ইশারায় বুঝায় চলে যেতে। মারিহার ইশারা অনুযায়ী নিহা টিয়াকে নিয়ে চলে গেল বাহিরে। মারিহা পুরো রুমটা এক পলক দেখল। সম্পূর্ণ রুমটা সাদা ও পিংক কালারের গোলাপ ফুলে ডেকোরেশন করা। বেডের চারপাশে সাদা পাতলা পর্দা ডাঙ্গানো ডেকোরেশন করে। অসম্ভব সুন্দর বাসর সাজানো হয়েছে। আয়ন নিজে সাজিয়েছে লোক দিয়ে। মারিহা ঘাড় ঘুরিয়ে নত মস্তিষ্কের মায়ার দিকে তাকাল। এখনো মায়ার শরীর কাপছে। মারিহা আলতো হেঁসে মায়ার কম্পনরত হাত দুটো একটা নিজের হাতে নিল। মারিহা নিজেও হালকা ইতস্তত বোধ করলো মায়াকে কিছু বলতে চাওয়াতে। কিন্তু বাড়ির বড়রা মারিহাকে দায়িত্ব দিয়েছে মায়াকে আজকের রাত সম্পর্কে জ্ঞান দিতে। তার সাথে মায়া এতোটা ফ্রী না হলেও মায়ার বড় হিসাবে কথা গুলো বলতে হচ্ছে মারিহাকে। অজ্ঞাত মারিহা হাসফাস করে মায়ার একটা হাত নিজের মধ্যে নিয়ে আশ্বস্ত ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলো…

—” মায়া এই যুগের মেয়েদের বেশ কিছু ভেঙ্গে বলতে হয়না। তারা অল্পতেই অনেক কিছু বুঝে। আমি জানি তুমিও বুঝ স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কটা কি। তারপরও বাড়ির বড়রা সবাই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে তোকে আজকের রাত সম্পর্কে ধারণা দিতে। আমি বেশ কিছু তোমাকে বলবো না। শুধু এতোটুকুই বলবো রিদ ভাইয়া তুমি বলতে পাগল। অনেক বেশি ভালোবাসে তোমাকে। হ্যাঁ এখন একটু রেগে আছে তোমার উপর! কিন্তু তুমি ভাইকে ভালোবাসতে চাইলে হয়তো তোমাকে ভাই ফিরাতে পারবে না শত রাগ করলেও। দেখ মায়া! তোমাদের মধ্যে মনমালিন্যতাটা আমরা সবাই জানি। আর এজন্য ভাই আজকে রাতে সুইজারল্যান্ড ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেষ রাতের দিকে হয়তো ভাইয়ের ফ্লাইট পরেছে। তাই যেভাবেই হোক, যেমন করেই হোক, ভাইকে তুমি আটকাও। নিজেদের মধ্যে রাগ অভিমান মাটি করে ফেল। আমরা যেন সকালে উঠে তোমাদের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক দেখি এতোটা আবদার সবার। নয়তো ভাই একবার বাহিরে চলে গেলে আবার কবে আসবে তা কেউ জানে না। এতে করে কিন্তু তোমাদের সম্পর্কটা আরও নষ্ট হবে। ভাই ছেলে মানুষ, তুমি মেয়ে মানুষ, তার উপর তুমি ভাইয়ের ভালোবাসার বউ! তাই কিভাবে কি করতে হবে আশা করছি তোমাকে বলতে হবে না। যেভাবে রিদ ভাইকে আঁচলে বাঁধা সহজ হবে। সেভাবেই বাঁধো। তারপরও বাঁধো। ভাইকে যেতে দিও না। আমি কি বলতে চাচ্ছি তুমি বুঝতে পারছো তো মায়া?

মায়া নত মস্তিষ্কের আস্তে করে জবাব দিল…
—” হুম।
—” তুমি পারবে তো রিদ ভাইকে আটকাতে?
—” হুম।
—” ভেরি গুড! আমরা আশায় রইলাম যাতে তোমাদের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। আচ্ছা রুমটা পছন্দ হয়েছে তো তোমার? আয়ন ভাইয়া সাজিয়েছে তোমাদের জন্য। অবশ্য রিদ ভাই এখনো জানে না তার রুমের এই অবস্থা করা হয়েছে সেটা। জানলে হতো রাগারাগি করবে। কিন্তু তাতে কি? আমাদের আয়ন ভাইয়া আছে না সে সামলে নিবে রিদ ভাইকে। আচ্ছা তুমি ঠিক হয়ে বসো। রিদ ভাই হয়তো চলে আসবে কিছুক্ষণের মধ্যে।

মায়া ধীরে মাথা নাড়ালো। মারিহা লাজুক হেঁসে মায়ার মাথায় ফের ঘোমটা টেনে বিছানা মধ্য খানে পরিপাটি করে বসালো। যেতে যেতে রুমের লাইট নিভিয়ে দিতেই মায়া শক্ত করে লেহেঙ্গা চেপে ধরলো তীব্র অস্তিত্বে। মারিহা বাহির থেকে দরজা চাপিয়ে লক করে দিয়ে নিচে চলে গেল সবাইকে নিয়ে। দেখা গেল দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রিদকে ডিস্টার্ব করলে বাসায় ছোটখাটো একটা তান্ডব হয়ে যাবে। এমনিতেই বিয়েতে কিছু বলেনি বলে যে এখনোও বলবে না এমনটা-না। বরং দেখা যাবে সারাদিনের রাগটা রিদ এখন তাদের উপর দিয়েই গড়াল। তাই ভালোই ভালোই সবাই কেটে পড়লো নিচে। রিদ আসলো আরও এক ঘন্টা পর। মায়ার খোঁজ না নিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে সোজা নিজের রুমে গেল। মায়া কোথা আছে সেটাও একবার চোখ আওড়িয়ে দেখতে চাইল না। রিদ রুমের লক খুলে ভিতরে প্রবেশ করতেই নাকে তীব্র ফুলের গন্ধ পেল। কপাল কুঁচকে সন্দেহ বশে রুমের লাইট জ্বালাতে রিদ থমকে গেল। মায়াকে ফুলে ফুলে সাদা বিছানায় বউ হয়ে লম্বা ঘোমটা টেনে বসে থাকতে দেখে রিদের বুকের চিন চিন অসহ্য ব্যথাটা আবারও শুরু হলো। দম বন্ধ হয়ে আসলো নিশ্বাসের অভাবে। থ মেরে রিদ ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো। মায়ার রিদের উপস্থিততে জড়সড় হয়ে ভয়ে আরও সিঁটিয়ে গেল। তীব্র বুক ধড়ফড়ে আষ্টশ হয়ে আরও শক্ত করে চেপে ধরল লেহেঙ্গার দু’পাশ। রিদ থমথমে মুখে মায়াকে না চাইতেও পযবেক্ষণ করলো। সাদা বিছানা, সাদা ফুল, সাদা বউ! চমৎকার সুন্দর লাগছে দৃশ্যটি। মায়াকে দেখে রিদের বেহায়া মন অস্থির হলো। ছটফট করলো তীব্র থেকে তীব্র। বউয়ে কাছে যেতে বাঁধ্য করলো। কিন্তু রিদ গেল না মায়ার কাছে। বরং তীব্র বুক ধড়ফড়ে দাঁতে দাঁত চেপে বের হয়ে গেল রুমে থেকে। অস্তিত্বে আঁটকে আসা শ্বাসটা বুক ফুলিয়ে ছাড়লো। এজন্য রিদ মায়াকে দেখতে চাই নি সারাদিন ধরে। সে জানে তার বেহায়া মন তার কথা শুনবে না। অবাধ্য হয়ে বউয়ের কাছে চলে যাবে। এজন্য তো রিদ বউ থেকে দূরে দূরে থাকছিল। কিন্তু অবশেষে সফল হতে পারলো না। রিদ প্রচন্ড রাগে হুংকার ছাড়লো ‘কে তার রুম ফুলে দিয়ে সাজালো জানতে চাইল। রিদের হুংকারে মায়া ঘর থেকেই কেঁপে উঠলো। মায়াকে সুযোগ না দিয়ে রিদ আবারও রুম থেকে বের হয়ে যাওয়াতে মায়া ফুপিয়ে কেঁদে উঠে হেলিয়ে আছড়ে পড়লো বালিশের উপর। রিদের রাগি হুংকারে আয়ন এগিয়ে আসলো। একহাতে রিদের কাঁধ জড়িয়ে ধরে খেয়ালি করে বলল…

—” তুই কি ভাই? এমন চিল্লাচিল্লি করছিস কেন? বাসর তো সাজিয়েই আসলাম। যদি না সাজাতাম তখন চিল্লাচিল্লি করতি। তাহলে নাহয় বুঝতাম তোর ফাস্ট নাইট আমরা কেউ স্পেশাল করে সাজায়নি বলে নষ্ট করে দিলাম। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক করে সাজিয়ে দেওয়ার পরও কি এমন চিল্লাচিল্লি আমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য করছিলি তুই? দেখ রিদ! আমার সোজাসাপ্টা কথা। তোর শুকনো মুখের ধন্যবাদ আমি আর নিব না। ঋণ শোধ করবি তোর মেয়ের শশুর বানিয়ে। আমার ছেলের বউ হিসাবে তোর মেয়েই ফিক্সড। বিয়াই হিসাবে যদি এখন তুই আমাকে আগ বাড়িয়ে খাতিরদারি করতে চাস! তাহলে করতে পারিস। আমি না করবো না। তবে খাবার গুলো কিন্তু দেশি আনবি কেমন। আসলে বেদেশি খাবারে আমার রুচিনষ্ট হয়ে গেছে।

আয়নের খেয়ালিপনা রিদ কটমট করে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকাল। লম্বায় দুজনই বেশ কাছাকাছি। তবে রিদ মনে হয় হালকা একটু উচু আয়ন থেকে। দূর থেকে বুঝা দায়। কাছ থেকে চোখে পড়ে। রিদ কাঁধ থেকে আয়নের হাতটা সরিয়ে দিয়ে তিরতির মেজাজ বলল..

—” সবসময় ঘেঁষাঘেঁষি করিস কেন? সর! তোরে বলছি আমার এতো উপকার করতে। বাসর করবো আমি এটা বলছি তোকে? তাহলে এসব নাটক কেন সাজালি আমার রুমে।

রিদের কথায় আহাজারি করে আয়ন বলল…

—“বাসর করবি না মানে? রিদ! ভাই আমার! তোর সব সিস্টেম ঠিকঠাক চলে তো হ্যাঁ? দেখি দেখাতো তোর কোথায় কোথায় গন্ডগোল আছে। সর্বনাশ! আমার ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। যদি বউ না পায়। তাহলে সারাজীবন কুমার হয়ে থাকতে হবে তোর জন্য। ভাই দ্রুত দেখা কোথাও তোর সমস্যা। আমি ভালো ডাক্তার সাজেস্ট করে দিব।

কথাটা বলতে বলতে আয়ন এগিয়ে যায় রিদের প্যান্টে হাত দিতে। আয়নের মতিগতি বুঝে ছিটকে দূরে সরলো রিদ। গা শিউরে উঠে আয়নের কান্ডে তার। নাক মুখ ছিটকে তিক্ততা প্রকাশ করে অগ্নি দৃষ্টিতে আয়নের দিকে তাকাল রিদ। আজকাল সবাই রিদের সাথে সহজে মজা করতে পারছে শুধু মাত্র তার বউটার জন্য। সবদোষ তার বউয়ের। রিদকে বিগড়ে দিয়েছে বলেই আয়ন তার সাথে মজা নিতে পারছে। রিদ আয়ন সাথে আর কথা বাড়াল না। আয়নকে রাগান্বিত চোখ দেখিয়ে পাশ কেটে নিচে চলে গেল। এবং যেতে যেতে হাক ছেড়ে ডাকলো আসিফকে। আসিফ দৌড়ে রিদের কাছে আসতে রিদ চাপা স্বরে বলল…

—” হোটেলে ফোন করে বলে দে আমি আসছি। ডু ইট ফাস্ট!

—” জ্বিই ভাই।

রিদ রাগে বের হয়ে গেল বাগানের বাংলোর দিকে। রিদের কথা মতো আসিফ ফোন বের করে চলে যেতে নিলেই আয়ন এসে আসিফের কাঁধ ঝাপটে ধরে ফোন কেড়ে নিতে নিতে বলল…

—” আজকে রিদের সকল কাজকর্ম থেকে তোর ছুটি যাহ। তোর ফোন আজকে আমার কাছে থাকবে। সকালের আগে পাবি না। যদি আমার কথার বিরুদ্ধে গিয়ে রিদের সাথে যোগাযোগ করিস তাহলে ঠুস করে তোর নামের বিচার যাবে টিয়ার কাছে। বলল তোর রিদের সাথে নাজায়েজ এফেয়ার আছে। এজন্য সারাদিন ভাই ভাই করে রিদের পিছন পিছন ঘুরিস।

আয়নের কথায় মূহুর্তে আসিফ নাক মুখ ছিটকে দূরে গিয়ে বলে…
—” ছিঃ ছিঃ আস্তাগফিরুল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ! কি কন এই গুলা ভাই? রিদ ভাই আমার বস আমি তার চাকরি করি। রিদ ভাইয়ের পিছন পিছন থাকাটা আমার
ডিউটি।

আয়ন প্রসন্ন হেঁসে আবারও এগিয়ে আসলো। আসিফের কাঁধে চাপড় মেরে বলল…

—” ঠিক আছে তোর ডিউটি কাল পালন করিস। আজ আমার কথা শুন। আজকে তোর ভাই ভাবিরে একা ছেড়ে দে। নতুন বিয়ে করেছে বুঝতেই পারছিস।

—” কিন্তু রিদ ভাই?
—” তোর রিদ ভাইয়ের চিন্তা বাদ দে। সবটা আমি সামলে নিব। রুমের কথা আমি আগে থেকেই বলে রেখেছি। আমি জানতাম রিদ এমন কিছুই করবে। তাই আপাতত আমি যাহ বলছি তা কর। এতে তোর চাকরি যাবে না। কিন্তু তোর বসের সংসার বেঁচে যাবে। ভেবে দেখ।

আয়নের কথায় শুকনো ঢুক গিলল আসিফ। জীবনের এই প্রথম সে রিদের অগোচরে কিছু করতে যাচ্ছে। আল্লাহ জানে তার পরিণতি কি হয়?
~~
রাত বারোটার উপরে। ঢাকা পাঁচ তাঁরা হোটেলের সামনে নামলো রিদ। রাগের বশে আজ বডিগার্ড আনেনি সে। একাই এসেছে ডাইভিং করে। রিদ গাড়ি থেকে নামতেই হোটেলে ম্যানেজার স্টাফদের নিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসলো রিদকে রিসিভ করতে। রিদ নিজের গায়ে কোটটা খুলে ম্যানেজারে হাতে তুলে দিল। ম্যানেজার স্টাফদের নিয়ে নিজ দ্বায়িত্বে রিদকে রুম অবধি এগিয়ে দিয়ে আসল। একজন স্টাফ ভয়ে ভয়ে রিদের হাতে চাবি তুলে দিতেই রিদ হাতের ইশারায় সবাইকে চলে যেত বললো। হাফ ছেড়ে সবাই চলে গেল। রিদ রুমের লক খুলে ভিতরের প্রবেশ করতেই পায়ের সুজের নিচে নরম নরম জাতিয় কিছু লাগতেই এবারও সন্দেহ বশে রুমের আলো জ্বালালো সে। রিদের শরীরে যেন বিদুৎতের ঝটকা খেল মায়ার উপস্থিতে। সেই আগের মতোন আবারও মায়াকে ফুলে ফুলে সাদা বিছানায় ঘোমটা দিয়ে বসে থাকতে দেখে শকটের উপরে শকট হলো। একি বাসরের সাজে সাজানো হয়েছে এই হোটেল রুমেটিও। রিদ চমকালো, হতবাক হলো, থমকানো ভঙ্গিতে ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো বিস্ফোরণের। কিন্তু যখনই রিদের হুস ফিরে তৎক্ষনাৎ রিয়েক্ট করলো। প্রচন্ড শব্দ করে দরজা বন্ধ করে বাহির গেল। মায়া কেঁপে উঠলো দরজার বন্ধের শব্দে। তারপরও জায়গায় ছেড়ে নড়লো না। বসেই রইলো। রিদ বাহিরে গিয়ে রাতে রি রি করতে করতে সর্বপ্রথম ফোন করলো আসিফকে। রিদের না করার শর্তে কেন মায়াকে এখানে পাঠাল সেটা জানতে। আসিফের ফোনের কল যেতেই ফোনটা রিসিভ হলো। যেন এতক্ষণ যাবত রিদের কলের আশায় বলে ছিল ফোনের ওপাশের ব্যক্তিটি। রিদ রাগে গর্জে উঠে কিছু বলতে নিলে তার আগেই আয়ন গমগম স্বরে রিদকে থামিয়ে দিয়ে এক নিশ্বাসে বলল…

—” দেখ রিদ আসিফের উপর রেগে কোনো লাভ নেই। যাহ করেছি আমি করেছি। আমার ছেলের ভবিষ্যৎ বলে কথা। তাই রিস্ক নেই নি। পূব থেকেই তোর পার্মানেন্ট হোটেল রুমটি সাজিয়ে রেখেছিলাম। এখন তোর বউ তোর সেইফটিতে আছে। তোদের সাথে বডিগার্ড নেই। তুই যদি এখন মায়াকে একা রেখে চলে আসতে চাস তো আসতে পারিস। আমাদের কি? কিন্তু মনে রাখবি তোর বউ কিন্তু তুই ছাড়া বাহিরের কোথাও সেইফ না। তুই মায়াকে রেখে কোথাও গেলে তোর বউয়ের উপর শত্রু পক্ষ থেকে অ্যাটাক হতে পারে সেটা কিন্তু তুই জানিস। এবার তোর যেটা ভালো লাগে সেটা কর। তবে এবার আর আমাদের ফোন দিয়ে জ্বালাস না। তুই তো বউ পেয়েছিস। এবার আমাকে আমার বউয়ের কাছে যেতে দে। তুই মেয়ে আন! আমি ছেলে আনার ব্যবস্হা করছি। কথা কিন্তু নড়চড় করবি না। তোর মেয়ের শশুর কিন্তু আমি হবো। মনে রাখিস বাই।

রিদকে কিছু বলতে না দিয়ে আয়ন রিদের মুখের উপর ঠাস করে কল কেটে দিয়ে ফোনটা বন্ধ করে দিল। রিদ রাগে কটমট করে ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো। আচ্ছা মতোন ফেঁসে গেছে সে। না মায়াকে সাথে করে নিয়ে যেতে পারছে, আর না রেখে যেতে পারবে। বউকে একা রেখে যাওয়াটা তো প্রশ্নই উঠে না। তাহলে দেখা যাবে যেকোনো সময় কেউ এসে তার বউয়ের উপর অ্যাটাক করতে পারে। না রিস্ক নেওয়া যাবে না। এমনই শত্রুরা উৎ পেতে আছে সুযোগে সন্ধানে। সামান্য একটা সুযোগ তাতেই সবকিছু শেষ। নাহ! রিদের রাগ আলাদা। তাই বলে রাগে বশে বউকে নিয়ে বিন্দু পরিমাণ রিস্ক নিবে না সে। রাগে কটমট করে রিদ পুনরায় রুমে ভিতর গেল। ঠাস শব্দ করে দরজা আটকিয়ে লক করে কর্বাডে কাছে গেল তার কাপড়ের জন্য। রিদের পার্মানেন্ট রুম এটি। রিদ ছাড়া কেউ এই রুমে থাকে না। তাই এই রুমের প্রতিটা জিনিসপত্রই রিদের পছন্দে গোছানো। এমন কি কর্বাডের জামা কাপড় গুলো তার জন্য রাখা। রিদ কর্বাডের দরজা খুলে বিস্মিত হলো শুধু সাদা পাঞ্জাবি আর পায়জামা দেখে। কর্বাড ভরতি শুধু পাঞ্জাবি পায়জামা ছাড়া অন্য কিছু পেল না। রিদের রাগ বাড়ছে বয় কমছে না। আজকের সবকিছুই রিদের সাথে উল্টো হচ্ছে। রিদ বিরুক্তি দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে কাজ বিহীন সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা হাতে তুলে নিল। সে জানে আয়ন এসব কিছু উল্ট-পাল্ট করেছে তার সাথে। এখন রাগ দেখিয়েও লাভ নেই। কারণ এখন ফোন দিয়েও কাউকে পাওয়া যাবে না। তাই আশা ছেড়ে দিয়ে কাপড় নিয়ে সোজা ওয়াশরুমে গেল। মায়ার দিকে তাকাল না পযন্ত। রিদ বেশ কিছু সময় নিয়ে শাওয়ার সেরে রুমে প্রবেশ করলো। মায়াকে আড়চোখে বিছানায় ঠায় জায়গায় বসে থাকতে দেখে ড্রেসিংটেবিল সামনে দাঁড়াল। শক্তপোক্ত দেহে নেতাদের মতোন সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামাটা আটসেটে লেগে আছে। রিদ সাদা টাওয়ালে ভেজা মাথা মুছতে মুছতে চুরি করে আবারও আয়ন ভিতর দিয়ে বিছানায় তাকাল। কিন্তু বিছানায় মায়াকে কোথাও দেখতে না পেয়ে রিদ খানিকটা কপাল কুঁচকাতেই নিজের পায়ে শীতল হাতে স্পর্শ পেল সে। রিদ চমকে উঠে দ্রুত নিজের পায়ের দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো ‘মায়া রিদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করছে। রিদ শান্ত থাকল। কোনো কথা না বলে আস্তে করে সরে যেতে চাইলে মায়া রিদের পায়ের পাতা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল শব্দ করে।

—” সরি! সরি! প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি আর আপনার অবাধ্য হবো না। প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাবে না কোথাও। আমি আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবো না মরে যাব একা একা। প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাবেন না। প্লিজ!

এতক্ষণ যাবত রিদের রাগ মায়া নিরবে সহ্য করেছিল। কিন্তু এখন যদি রিদকে মানাতে না পারে তাহলে মায়া আর কখনো সুযোগ পাবে না রিদকে মানাতে। নিস্তব্ধ পরিবেশে রিদের ঘন নিশ্বাস আর মায়ার ডুকরে কান্নার শব্দ ছাড়া অন্য কোনো শব্দ নেই রুমে। রিদ ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলো নড়লো না। মায়া রিদের পায়ে হাত দিয়ে ফুপাল। দুজনে মনের পরিস্থিতি দুই রকম। একজন কান্নায় প্রকাশ করতে পারলেও অন্যজন সবকিছু ভুলে তাকে মেনে নিতে পারছে না। মায়া রিদকে শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে উঠে দাঁড়ালো। দু’হাতে আঁজলে রিদের পেট জড়িয়ে ধরে ঘনিষ্ঠ হয়ে বলল…

—” প্লিজ আমার ঘোমটা উঠান না। আমি কি রোজ রোজ এভাবে আপনার জন্য বউ সাজবো বলুন। আপনাকে দিয়ে একটা বিয়ে করাতেই আমার জান যায় যায় অবস্থা। আপনার হাতে মার পযন্ত খেয়েছি। প্লিজ এবার অন্তত আমার ঘোমটা টেনে আমার বিয়েটার সব চাওয়া পূরণ করুন না। প্লিজ!

রিদ মায়ার কথা না শুনে চলে যেতে চাইলে মায়া শক্ত করে দু’হাতে রিদের পেট জড়িয়ে ধরে। ফুপিয়ে উঠা কান্নায় জড়িত ভেজা গলায় ছোট করে বলে…

—” প্লিজ! প্লিজ!

রিদ কয়েক সেকেন্ড দম মেরে দ্রুত অস্থিরতার নিশ্বাস টানলো নিজের মাঝে। আস্তে করে মায়ার মাথার ঘোমটা ফেলে সরাসরি তাকাল মায়ার মুখের দিকে। অসম্ভব মায়াময় স্নিগ্ধ সে মুখ। চোখের নিচে মোটা করে কাজল লেপ্টে আছে কান্নার ফলে। গাল ও ভেজা চোখের পানিতে। রিদের বুক কেঁপে উঠে। যেটার ভয় পেয়েছিল সেটাও হলো৷ তার মন ছটফট করলো। অবাধ্য অনূভুতিরা প্রচন্ড ভাবে ঘায়েল করলো রিদকে। সারা শরীর শিরশির করে উঠল তীব্র উত্তেজনায়। রিদ নিজের দমাতে চটকে মায়াকে টেনে নিজের থেকে আলাদা করলো৷ কোনো দিক না তাকিয়ে রাগে ঠাস করে গিয়ে শুয়ে পড়ল ফুলের নরম বিছানায় চিৎ হয়ে। লম্বা লম্বি হয়ে শুয়ে রিদ পায়ের উপর পা তুলে চোখের উপর একটা হাত ঠেকাল অন্যটা পেটে রেখে। নাড়াচড়া বন্ধ করে রিদ শক্ত হয়ে শুয়ে রইলো। মায়া রিদের কান্ডে দেখে দাঁড়িয়ে থেকে নিঃশব্দে কাঁদল কিছুক্ষণ। তারপরও চোখ মুছে ধীরে পায়ে গিয়ে বসল ড্রেসিং টেবিলের সামনে। মায়া তখনো কাঁদতে কাঁদতে গা ভরতি ডায়মন্ডের গহনাপত্র খুলে রাখল ড্রেসিংটেবিল উপর। একে একে মাথার ও শরীরের দোপাট্টা খুলে সোফার উপর রাখল। অবশেষে মাথার হিজাব খুলে চুল ছেড়ে দিতেই ঝরঝর করে সবগুলো চুল পিঠ ঢেকে হাঁটুর নিচ অবধি গিয়ে ঠেকলো। মায়া ড্রেসিং টেবিলের সামনে টুলে বসে হাত মুজা, পা মুজা খুলে বিছানার দিকে তাকাল। রিদকে তখনো নড়াচড়া বিহীন ঠায় শুয়ে থাকতে দেখল। কি জানি ঘুমে গেছে নাকি মায়াকে চুরি করে দেখছে সে। মায়া তা জানে না। মায়া এক পলক রিদকে দেখে সামনে থেকে টিস্যু নিয়ে চোখ মুখ মুছল। যেহেতু মুখে হালকা সাজ দিয়েছিল মায়াকে তাই সাজের তেমন ঝামেলা নেই। মাথায় হিজাব বাঁধায় চুলও ঠিক আছে। কোনো ঝামেলা করেনি। মায়া উঠে দাঁড়িয়ে ছাড়া চুল গুলো টেনে হাত খোপা করতে করতে কবার্ডে কাছে গেল। খোপা শেষে কর্বাড থেকে টুকটুকে লাল রঙ্গা মসলিন তাতের পাতলা জামদানী শাড়িটি হাতে নিল ব্লাউজ পেটিকোটসহ। মায়াকে এখানে আয়ন আর মারিহা নিয়ে এসেছিল কিছুক্ষণ আগে।সাথে মায়ার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও কর্বাডে গুছিয়ে দিয়ে গেছে মারিহা। তবে শাড়ি ছাড়া আলাদা কোনো কাপড় দিয়ে যায়নি। তাছাড়া এখন মায়া শাড়ি পড়তে জানে। রেহেনা বেগমের মায়াকে বিগত এক সাপ্তাহ অনেকবার শাড়ি পড়ানো শিখিয়েছে। মায়া কাপড়ের সাথে পাশ থেকে রিদের আর্ধ ভেজা টাওয়ালটা হাতে নিয়ে চলল ওয়াশরুমের দিকে ভারি লেহেঙ্গা দু’হাতে টানতে টানতে। মায়া ওয়াশরুমে চলে যেতেই রিদ কপাল থেকে হাতটা সরাই। এতক্ষণ যাবত সে হাতের নিচ নিয়ে চুরি করে বউকে দেখছিল। রাগ, ইগো কারণ মায়াকে সরাসরি কিছু বলতেও পারছিল না বলে এসে জেদ করে শুইয়ে পড়েছিল। বাকি সময়টাও সে এভাবেই শুয়ে থেকে পার করবে তারপরও ভুলে কথা বলবে না বউয়ের সাথে। রিদের চিন্তা ভাবনার মাঝেই খট করে পুনরায় ওয়াশরুমের দরজা খুলার শব্দ হতেই রিদ দ্রুততার সঙ্গে আবারও আগের নেয় চোখের উপর হাত রেখে শুয়ে পড়ল। এবং হাতের নিচ দিয়ে দেখতে লাগল মায়া পুনরায় কেন দরজা খুলেছে কোনো সমস্যা হলো কিনা? মায়া গায়ে টাওয়াল বেঁধে উঁকি দিয়ে রিদকে দেখল আগের নেয় শুয়ে থাকতে। মায়া ভাবলো রিদ ঘুমিয়ে পড়েছে তাই জড়তার পায়ে আস্ত করে বের হতে চাইল। কিন্তু বের হলো না ভয়ে। যদি রিদ উঠে মায়াকে এই অবস্থায় দেখে ফেলে তাহলে মায়া লজ্জায় মরে যাবে না? মায়া পুনরায় উকি মারলো ওয়াশরুমের দরজা ধরে। মূলত মায়ার গায়ের দামি লেহেঙ্গাটা ওয়াশরুমের পানিতে ভিজলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে এজন্য সে এটা খুলে আলাদা রাখতে চাইছে। মায়ার বিয়ের কাপড় বলে কথা এমনিতে নষ্ট হতে দিবে নাকি? সারাজীবন মায়া যত্ন করে নিজের কাছে রেখে দিবে। কিন্তু এখন আপাতত বের হতে পারছে না বলে দরজা আড়াল থেকে বিয়ের কপাড় গুলো ওয়াশরুমের সামনে রেখে আবারও ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিল। পানিতে না ভিজলেই হলো। গোসল শেষে মায়া গুছিয়ে রাখবে সবকিছু। রিদ বিষয়টি দেখেও উঠলো না। শুয়েই রইলো। মায়া লম্বা শাওয়ার শেষে পরিপাটি করে শাড়ির পড়ে বের হলো। ভেজা চুলে টাওয়াল বেঁধে বিয়ের কাপড় গুলো গুছাল। নামাজের বিছানা বের করলো ফ্লোরে বিছাল দুই রাকাআত নফল নামাজ আদায় করতে। মায়া পাশাপাশি দুটো নামজের বিছানা একত্রে বিছিয়ে রিদের দিকে তাকাল অসহায় চোখে। তবে রিদকে ডাক দিল না নামাজ পড়তে। শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো একসঙ্গে নামাজে দাঁড়ানোর জন্য। মায়া রিদকে আসতে না দেখে ছলছল চোখে মায়া একাই নামাজে দাঁড়াল। নামাজের নিয়ত বাঁধা কয়েক সেকেন্ড পরই মায়া অনুভব করলো রিদের উপস্থিত নিজের পাশে। শব্দ বিহীন নিশ্চুপ হয়ে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করলো দুজনই। মায়া লম্বা মোনাজাত ধরলো। রিদ শটকার্ট মোনাজাত শেষ করে পুনরায় গিয়ে আগের নেয় শুইয়ে পরল। মায়া মোনাজাত শেষ করে নামাজের বিছানা গুছিয়ে রেখে রিদের দিকে তাকাল। আপাতত মায়া কোথায় শুবে সেটা বুঝতে না পেরে ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো। মায়া ভয়ে রিদের পাশে যাচ্ছে না ঘুমাতে যদি রিদ রেগে যায়। বা ত্যাড়ামি করে আবারও রুম থেকে বের হয়ে যায় সে ভয়ে মায়া প্রায় ত্রিশ মিনিট এক জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো। হঠাৎ রিদের তপ্ত মেজাজে মায়া ভয়ে চমকে উঠে। রিদ বলে…

—” উফফ! লাইট-টা আমার চোখে লাগছে। লাইটটা বন্ধ করো এদিকে আসো। তোমাকে এতো দূর অবধি বিয়ে করতে গিয়ে আমার পা ব্যথা করছে। দেখি আমার পা টিপে দাও কুইক।

রিদের কথা মতো মায়া রুমের লাইট অফ করে লাল ডিম লাইট দিল। আস্তে ধীরে রিদের পায়ের কাছে বসতেই রিদ দু-পা মায়ার কোলের উপর তুলে দিল নড়েচড়ে। মায়া তরতর করে কেঁপে উঠে। কম্পন হাতে আস্তে আস্তে রিদের পা টিপতে লাগল। একটার পর একটা পা বদল করে জড়তার হাতে টিপতে লাগল মায়া বাধ্য মেয়ের মতোন। কিন্তু হঠাৎ করে রিদ এক অপ্রকাশিত কান্ড করে বসল। মায়ার কোল থেকে পা সরিয়ে মায়ার শাড়ির আঁচল বেঁধ করে ভিতরে গুলিয়ে দিল। মায়ার পেটে উপর রিদের শক্তপোক্ত পায়ের শীতল ছুঁয়া পেতেই মায়ার সমস্ত কায়া নাড়িয়ে কেঁপে উঠে তৎক্ষনাৎ খামচে ধরলো রিদের পা। এতে করে রিদ মায়াকে ধমক স্বরে শাসিয়ে বলল…

—” এই মেয়ে! আমার পায়ে ব্যথা দিচ্ছে কেন? তোমাকে বলছি আমার পায়ে খামচে দিয়ে নেগেটিভ ফিল দিতে? চুপচাপ বসে আমার পা টিপু।

মায়া কাঁপা কাঁপা স্বরে বলতে চাইল..

—” আপনার পা…
মায়াকে বলতে না দিয়ে রিদ বলল..
—” আমার পা কি? আমার পা, আমার কথা শুনে না তোমার মতোই। তাই চুপচাপ পা টিপু।

মায়া আর কথা বাড়ালো না। প্রচন্ড অস্তিত্বে তরতর করে কেঁপে কেঁপে রিদের পায়ের উপর হাত রাখল। কিন্তু রিদের জন্য বারবার থেমে যাচ্ছে হাত। কারণ রিদ অনবরত মায়ার পেটে নিজের পা দিয়ে নড়াচড়া করছে। এতে করে মায়া ভুল বশত শক্ত করে রিদের পা খামচে ধরে কেঁপে উঠে। মায়া কিছু বলবে তার আগেই রিদ মায়ার হাত টেনে ছিটকে শাড়ির আঁচল মায়ার গায়ের থেকে ডিল মেরে ফেলে দিয়ে, মায়াকে নিজের বুকে দু’হাতে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে ঠাস করে পুনরায় কাত হয়ে শুতে শুতে বলে….

—” উফফ! তুমি শাড়ি ভিজিয়েছ কেন? জানোনা আমার ভেজা জিনিসে খুঁতখুঁত করে। খুলো তোমার শাড়ি।

রিদ কথা গুলো বলতে বলতে মায়ার শাড়ির কুচি ধরে সম্পূর্ণ শাড়িটি একহাতে টেনে খুলে ফেলল ফ্লোরে। মায়া অস্তিত্বে তীব্র বুক ধড়ফড়ে তরতর করে কেঁপে উঠে রিদের সাথে মিশে রইলো। কিছু বললো না। ভয়ে সারা শরীর তিরতির করে কাঁপছে। রিদ মায়ার কম্পিত ছোট দেহটা নিজের প্রশস্ত বক্ষে পিষ্ট করে চেপে রাখল শক্ত করে। রিদের হাতের বাঁধন এতোটায় দৃঢ় শক্ত হলো যে মায়ার মুখ চেপে গেল রিদের গলদেশে। নিস্তব্ধ গভীর রাত। কারও মুখে টু শব্দ পযন্ত নেই। রিদ মায়া দুজন নিস্তব্ধে মতো শব্দ বিহীন একে অপরের সঙ্গে মিশে পড়ে রইলো অনেক সময়। কতটা সময় চুপ থাকলো কারওই জানা নেই। তবে ঘড়ি কাটার সাথে পাল্লা দিয়ে দু’জনের নিশ্বাসের ঘনত্ব বাড়ল একটা সময়। সেই সাথে বাড়ল রিদের বেগতিক হাতের ছুঁয়া। মায়া ভয়ে আতঁকে উঠে রিদের পাঞ্জাবি কর্লার আঁকড়ে ধরলো শক্ত করে। রিদ একহাতে মায়াকে বুকে আঁকড়ে ধরলেও অপর হাতটি মায়া কমড়ে স্পর্শ করলো৷ ভয়ে মায়া তখনো মুখ খুললো না। কাঁপতে কাঁপতে চোখ খিঁচে বন্ধ করে পরে রইলো মায়া। কিন্তু তার পর মূহুর্তে মায়া আঁতকে উঠল যখন রিদ মায়ার পিঠ গলিয়ে ওর ব্রাউজের ফিতা টান মেরে খুলে দিল। মায়া গোঙ্গাল। রিদের মতলব বুঝে ছটফট করে কিছু বলতে চাইল…

—” আ..আমি, পি প্লিজ!

মায়ার অর্ধেক কথার অর্থ রিদ বুঝল। তৎক্ষনাৎ মায়াকে নিচে ফেলে সে উপরে উঠে গেল। মায়া গলায় মুখ ডুবাতে ডুবাতে হুমকি স্বরুপ বলল…

—” না করবা তো ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিব। কমড় ভেঙ্গে উপরে উঠিয়ে এরপর বাসর করবো। তারপরও ছাড় দিব না।

মায়া তারপরও ছটফট করে রিদকে বাধা দিতে চাইল। রিদ রাগে বশে মায়ার গলায় কামড়ি ধরে একহাতে মায়ার কাঁধে ব্রাউজটা টেনে নিচে নামাতে নামাতে সেখানটায় মুখ ডুবায়। রিদের দীর্ঘ আটাইশ বছরের ধৈর্য সব ভাঙ্গলো আজ। মায়ার প্রতি দারুণ তৃষ্ণার্তের উম্মাদ দেখালো তাঁকে। রিদের বেসামাল ছুঁয়ায় সাথে সাথে মায়াও গোঙ্গাল। রিদের বক্ষে পিষ্ট হয়ে ছটফট করলো অস্পষ্ট স্বরে। সময়ে হিসাব নেই তবে ধীরে ধীরে দুজনের নিশ্বাসের ঘনত্ব তীব্র থেকে তীব্র হলো। ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠ হলো অন্তরঙ্গে দু’জন। দু’জনে ঘনিষ্ঠ সময়ে রিদ একটু করে মায়ার কানে কানে বলল…

—” আমার শূন্য আকাশের চাঁদ তুমি। বেপরোয়া জীবনের মায়া তুমি। অসীম সুখের ঠিকানা তুমি। হাজার বছর বাঁচার সাধনা তুমি। আমার ভালোবাসার আরেক নাম তুমি। আই লাভ ইউ জান।

চলিত….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply