Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭১


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৭১
রাত প্রায় নয়টার ঊর্ধ্বে। ঘূর্ণমান উড়োজাহাজের পাখাগুলো রাউন্ড রাউন্ড ঘুরে নামলো খোলা মাঠের গোলাকার বৃত্তের। পাইলট উড়োজাহাজটি থামাতেই রিদ হতভম্ব হয়ে লাফিয়ে নামলো সেখান থেকে। রিদের সাথে সাথে পরপর আরও চারটি উড়োজাহাজের নামলো একত্রে। বাকি সবগুলোতে বডিগার্ড ছিল। রিদের জন্য পূবে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি গুলো একটাতে দৌড়ে গিয়ে উঠল সে। রিদের পিছন পিছন আসিফ উঠে বসল ডাইভারের সাথে। চোখের পলকে গাড়িটি চলতে শুরু করলো মায়াদের বাড়ির উদ্দেশ্য। রিদের পিছন পিছন আরও চারটি গাড়ি চলল বডিগার্ডের। অস্থির রিদ সর্বাঙ্গ নাড়িয়ে কলিজা কাঁপছে ভয়ে। একটা মাত্র বউ তার। খুব আদুরে! খুব ভালোবাসার বউ। বউটার কিছু হলে সে পাগল হয়ে যাবে। দম বন্ধ পরিস্থিতিতে টেনশনে টেনশনে হ্যার্ট অ্যাটাক করে মারা যাবে। বউটাকে এতো যত্নে রেখেও যদি প্রটেক্ট করতে ব্যথ হয় তাহলে রিদের সবকিছু বৃথা। এতো টাকা! এতো পাওয়ার! এতো ক্ষমতা! এতো সবকিছু তুচ্ছ যদি তার ভালোবাসার মানুষটা বাঁচাতে সক্ষম না হয়। অস্থির রিদের কপালের কার্নিশ বেয়ে ঘাম ছুটল। উত্তেজনায় শক্তপোক্ত হাত দুটোও তরতর করে কেঁপে উঠল। রিদের অস্থির বাচন স্থির করে দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করা। আসিফ ডাইভারকে বারবার তাড়া দিচ্ছে গাড়ি দ্রুত চালাতে রিদের অবস্থা দেখে। ভয়ে আসিফের ঘাম ছুটে গেল কপাল বেয়ে রিদের অবস্থা দেখে । আল্লাহ জানে রিদ কি তান্ডব ঘটায় মায়াকে দেখার পর? আসিফ ভয়ার্ত মুখে বার কয়েক শুকনো ঢুক গিলল। মনে মনে আল্লাহ কাছে বেশ করে দোয়া করতে লাগলো যাতে মায়ার কিছু না হয়। সেইফ থাকে। অন্তত পাষাণ্ড রিদের জন্য হলেও যেন আল্লাহ তালা তার বউয়ের প্রাণটা ভিক্ষা দিয়ে যাক। অস্থির রিদ গাড়ির মধ্যে টু শব্দও করলো না। আসিফ শুধু বারবার রিদের উত্তেজনার ঘনঘন নিশ্বাসের শব্দ পেল। আসিফ ভয়ার্ত মুখে আবারও ডাইভারকে তাড়া দিল। রাস্তাটা বেশ ছোট হওয়ায় প্লেন নামানোর জায়গায় ছিল না বলে খোলা মাঠে থামাতে হয়েছে এবং বাকিটা রাস্তা গাড়ি চড়ে মায়াদের বাসায় যেতে হচ্ছে তাদের। মিনিট পাঁচেক মধ্যে পৌঁছে গেল মায়াদের বাড়ির গেইটের সামনে। রিদ কারও অপেক্ষা না করে উত্তেজনায় সে নিজেই নেমে পড়লো। কোনো দিক না তাকিয়ে অসংখ্য মানুষের ভিড় ঠেলে হতভম্ব হয়ে দৌড়ে যেতে লাগল বাড়ির ভিতরের দিকে। আসিফ রিদের পিছন পিছন দৌড়ে যেতে চাইল। কিন্তু পারলো না। কারণ এই মূহুর্তে অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে আছে শফিকুল ইসলামের বাড়ির আঙ্গিনায়। থানা, পুলিশ, প্রশাসন থেকে শুরু করে সদর থানার এমপি, মন্ত্রীসহ এই মূহুর্তে উপস্থিত হয়েছে শফিকুল ইসলামের বাড়িতে। পুলিশ আসার কারণ হলো ছয়টা লাশের তদন্তের জন্য। আর প্রশাসনের এমপি, মন্ত্রী নেতা বর্গের আসার কারণ হলো স্বয়ং রিদ খান। ক্ষমতাধর রিদ খানের মতো মানুষের আশুগঞ্জ আগমন মানেই অনেক কিছু। যেখানে রিদ খানের সাথে উচ্চ থেকে উচ্চ শ্রেণির মানুষজন একটু দেখা করার সুযোগ পায় না সেখানে তাদের মতোন সামান্য উপজেলায় রিদের আগমনটা বিশাল ব্যাপার। দেশে সরকার যেখানে রিদ খানের মতো মানুষদের সুযোগ সুবিধা কথা চিন্তা করেন সেখানে তারা তো অতি নিত্যান্ত ক্ষুদ্র দাড়ির ক্ষমতাধর মানুষ। আর এজন্য বর্তমানে নেতা বর্গরা রিদের সাথে একটু আগ বাড়িয়ে পরিচয় বা সখ্যতা গড়ে তুলার জন্য রিদকে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্দেশ্য মূলত ভিড় করা শফিকুল ইসলামের বাড়িতে। আসিফ এগিয়ে গেল সেদিকে। রিদের পার্সোনাল পিএ হিসাবে আসিফের ক্ষমতা বেশ। কারণ আসিফের কানে কোনো কথা যাওয়া মানে রিদের কানে সেই কথাটা যাওয়া সমান। আসিফের সাথে সবাই আগ বাড়িয়ে কথা চলাল সখ্যতা গড়ে তুলার জন্য। ততক্ষণে গাড়ি ভরতি রিদের বিশ ত্রিশজন বডিটাও গেইট দিয়ে ঢুকলো বাড়িতে। আরিফ, শাহেদ, শুভ সবাই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। রিদ আসাতে পরিস্থিতি আরও শীতল হয়ে গেল ভয়ে। চারপাশ থেকে চাপা গুনজন শুরু হলো পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে। রিদ হতভম্ব হয়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে দৌড়ে মায়াদের দোতলায় ঘরে উঠল। মায়া কোন রুমে আছে প্রথমে না বুঝলেও রুমের বাহিরে মহিলাদের ভিড় দেখতে পেয়ে রিদ সেদিকে দৌড়াল। উপস্হিত মহিলারা রিদকে দেখে চাপা গুনজন শুরু হলো’ মায়ার জামাই এসেছে’ রিদ খান এসেছে’ বলে তাড়াতাড়ি করে দরজার রাস্তা ছেড়ে সরে গেল একপাশে রিদের ভয়ে। রিদ সবাইকে অপেক্ষা করে ডিঙ্গিয়ে বিছানায় শ্যাযাশায়ী মায়াকে টেনে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরল দু’হাতে ঝাপটে। উপস্থিত সবাই এক মূহুর্তে জন্য থমথমে খেয়ে যায় রিদের কান্ড দেখে। রুম ভরতি মানুষজন মায়াকে ঘিরে দাঁড়ানো। শফিকুল ইসলাম মায়ার পাশেই বসা ছিল। রিদ উনাকে ডিঙ্গিয়ে মায়াকে টেনে বুকে জড়িয়ে নেওয়াতে উপস্থিত সবার থমথমে মুখটাতে রিদ আরও তাক লাগিয়ে দেয় যখন, সে উম্মাদ হয়ে মায়ার চোখে, মুখে, গালে পাগলের মতো ঠোঁট ছুঁয়ে দিতে লাগল অনবরত। আকস্মিক ঘটনায় সবাই লজ্জা ছিটকে একে একে বের হয়ে যায় রুম থেকে। কারও আর দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হলো না। শফিকুল ইসলাম একরাশ রাগ নিয়ে থমথমে মুখে লজ্জিত হয়ে বের হয়ে গেল। ফিহা ঠোঁট চেপে লাজুক হেঁসে বের হতে হতে বাহির থেকে হালকা করে দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিয়ে যায় দুজনকে একা রেখে। মায়ার হাতে তখনো স্যালাইনের নল লাগানো। মায়ার হুশ থাকলেও দূর্বল শরীরে রেসপন্স খুব কম করতে পারছে। তবে রিদের উপস্থিতিটা মায়া বেশ করে বুঝতে পারছে। রিদ যখন মায়ার সারা মুখে পাগলের মতো ঠোঁট ছুয়াতে ব্যস্ত তখন মায়া দূর্বল হাত দুটো রিদের পিঠের শার্ট আঁকড়ে ধরতে ব্যস্ত। ইমোশনাল মায়া রিদকে সামনে পেয়ে ঝরঝর করে চোখের জল ছেড়ে দিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল। অস্থির রিদ আরও অস্থির হলো মায়ার কান্না দেখে। মায়ার ভেজা চোখের পাতায় পরপর চুমু খেয়ে দু’হাতে আঁজলে মায়ার গাল আঁকড়ে ধরে কপালে কপাল ঠেকিয়ে রিদ বলল…

—” হুশশশশ! কাঁদে না বউ! কাঁদে না। আই এম সরি বউ। আই এম সরি! সবদোষ আমার। তোমার সব ব্যথা আমার। আমি তোমাকে প্রটেক্ট করতে ব্যথ হয়েছি। আমি ব্যথ হয়েছি তোমাকে সেইফ রাখতে। আমি ব্যর্থ স্বামী! ব্যর্থ আমার সব ক্ষমতা। সরি জান! সরি।

রিদ মুখে ‘জান’ শব্দটা ঘোরের মাঝে মিস করে গেল মায়া। মায়াকে হারানোর ভয়ে রিদের ভিতরে সকল উত্তাপ অনূভুতি প্রকাশ করছে নিজের অজান্তেই। মায়া রিদকে নিজের কাছে পেয়ে ভিষণ আদুরী হলো। ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে কেঁদে রিদের কাছে বিচার দিতে দিতে বলল…

—” ওরা.. ওরা আমাকে মেরেছে। অনেক মেরেছে। আমি অনেকটুকু ব্যথা পেয়েছি।

কথা গুলো বলতে বলতে মায়া দু’হাত মেলে ধরলো রিদের সামনে ব্যথা গুলো দেখাতে। মায়ার কথা গুলো রিদের কলিজার আঘাত করলো। মায়ার হাত টেনে চেক করতে লাগলো। হাতের জায়গায় জায়গায় নখের আঁচড় কাটা। রিদ মায়ার দু’হাতের কাটা জায়গায় গুলোতে নিজের ঠোঁট বুলিয়ে আদুর করে দিল। মায়া কেঁপে উঠতেই রিদ মায়ার গলার ওড়না টেনে ধরল। মায়া বাঁধা দেওয়ার পূবেই রিদ ওড়না টেনে ফেলে উত্তেজিত হাতে মায়ার গলার ব্যথা গুলো চেক করতে লাগলো। মায়ার গলায় মোটা করে লাল কালচে দাগ গুলো দেখে রিদের বুকটা হু হু করে উঠলো কষ্টে। হামলা হওয়ার সময় মায়া কতটা অসহায় ছিল বিষয়টি ভাবতেই রিদের বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করে কষ্টে। অস্থির ভঙ্গিতে রিদ পুনরায় মায়াকে টেনে দু’হাতে ঝাপটে ধরলো নিজের অশান্ত বুকের জ্বালা মিঠাতে। মায়া ফের রিদের কাছে বিচার দিয়ে বলল…

—” আপনি জানেন! ওরা আমার গলায় ওড়না বেঁধে মারতে চেয়েছিল। আমি অনেকটা ছটফট করেছি আপনাকে বারবার সরণ করেছি। আপনার কাছে যেতে মন চেয়েছে। আমি মরে গেলে আপনাকে কে বিয়েটা করতো বলুন? আপনার জন্যই তো বারান্দা থেকে লাফ দিলাম যাতে আমাকে মারতে না পারে। নয়তো আমাকেও ঐ আপুটা ছুটি দিয়ে জবাই করতো যেভাবে রুজি আপুকে জবাই করেছিল সেভাবে। আপনি জানেন, আমি অনেক ভয় পেয়েছি। আমি মরে গেলে কি আপনি আরেকটা বিয়ে করতেন বলুন?

মায়া নিজের জেলাসির বশে নিজের মাথা উঠিয়ে রিদের মুখের দিকে তাকাতে চাইল। রিদ কি উত্তর দেয় সেই আশায়। কিন্তু রিদ পুনরায় মায়ার মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরল। রিদের দৃঢ় হাতের শক্ত বন্ধনে মায়া মুখে চেপে গেল রিদের বুকে। মায়া মাথা বাঁকিয়ে কান পাতলো রিদের বুকে। তীব্র ধড়ফড় শব্দটা মায়া রিদের বুকে কান পেতে শুনতেই চমকালো। বিস্ময়কর হয়ে একটু করে মাথা তুলে চোখ বড় বড় চোখ রিদের উদ্দেশ্য বলল…

—” আপনার বুকে কেমন ঢিপঢিপ শব্দ করছে আমার মতোন। আপনারও বুঝি বুকে ব্যথা হয়??

—” আমার আমৃত্যু জ্বালা এই ব্যথা। তুমিতে উৎপল তুমিতে নিঃশেষ জান। আমি আজ ভিষণ আহত জান। মরে যাচ্ছি তোমার অযত্নে। আমাকে বাঁচাও জান তুমিময় সঙ্গতে।

রিদের মুখে জান শব্দটা শুনাতে মায়া চমকায়। ভিষণ রকমের চমকায়। রিদ সত্যি মায়াকে জান ডাকলো? হ্যা ডাকাল তো! মায়া এই মাত্র শুনলো। তারমানে রিদ মায়াকে ভালোবাসে। আর এটা সে স্বীকার করছে, জান, জান, ডেকে। মায়া বিছানা থেকে রিদের কোলে উঠতে চাইল। কিন্তু হাতের স্যালাইনে টান লাগতে ‘আহ’ করে মৃদু স্বরে চিৎকার করতেই রিদ মায়াকে ছেড়ে দিল। স্যালাইনে নল দিয়ে রক্ত উঠতে দেখে রিদ দক্ষ হাতে সেটা খুলে ফেলে ফের মায়ার টেনে নিজের কোলে বসাল। তার অশান্ত বুকের জ্বালা কিছুতে কমছে না। মায়া দূর্বল হাতে রিদের গলা জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ গুঁজে বলল…

—” আপনি কিন্তু আমায় ভালোবাসেন। আমি শুনে ফেলেছি আপনি আমাকে জান’ জান’ করে ডেকেছেন সেটা। জান জান করে কিন্তু মানুষ বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ডকে ডাকে। তাই আপনিও আমার বয়ফ্রেন্ড হলেন। একবার বলুন না আপনি আমাকে ভালোবাসেন।

রিদ মায়াকে নিবিড় ভাবে জড়িয়ে ধরে মোহিত কন্ঠে বলে…
—” সবকিছুই কেন মুখে বলতে হবে আমার।

—” প্রমাণের জন্য।

হাতের বাঁধন হালকা হয় রিদের। মায়ার মাথা থেকে মুখ উঠিয়ে বলে…
—” কিসের প্রমাণ?
রিদ ছাড়লে ও মায়া ছাড়লো না রিদকে। আগের নেয় ঘাপটি মেরে রিদের গলা জড়িয়ে মুখ গুজে পড়ে থেকে বলে….
—” আমার সাথে ঝগড়া করার সময়, যাতে আর বলতে না পারেন, আপনি আমাকে ভালোবাসেন না। অথবা যখন আপনি আমাকে বলবেন ‘আমি মুখে বলেছি একবারও যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। প্রমাণ আছে তোমার কাছে ভালোবাসি এই কথাটার। তখন আমি প্রমাণ হিসাবে আজকে কথা গুলো বলবো। তাই একবার বলুন না ভালোবাসি। প্লিজ!

রিদ মায়ার যুক্তি বুঝলো। তাকে ফাঁদে ফেলার জন্য তাকেই বলছে ভালোবসি কথাটা শিকার করতে। রিদ অস্থির মনে স্বস্তির হলো। মায়াকে আবারও দুহাতে ঝাপটে জড়িয়ে নিল নিজের সাথে। আজ যদি এই বউটার কিছু হতো তাহলে সে কি করতো? এতোটা সুখ! এতটা মানসিক শাস্তি কোথাও পেত সে? ভালোবাসি! ভালোবাসি বলে কে রিদের সাথে পাগলামি করতো? ক্লান্তিতে বাড়ি ফিরলে রিদ কোথাও দেখতে পেত এতো পবিত্র সচ্ছ মুখখানা। কার জন্য রিদ দিনের পর দিন বাংলাদেশে পরে থাকতো সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে। আজ এই মেয়ের কিছু হলে আজ রিদও নিশ্বাস আঁটকে মারা যেত। নয়তো মানসিক অশান্তিতে পাগল হয়ে যেত। রিদের এই বউকেই চাই। সুস্থ সবল চাই। রিদের কাছে চাই। না রিদ আর তার বউকে কোনো ভাবেই নিজ থেকে দূরে রাখবে না। সবসময় নিজের কাছে রাখবে। এবং সংসার শুরু করবে। দূরে দূরে বিষয়টা আর ভালো লাগছে না তার। বিরক্ত লাগছে প্রচুর। অনেক হয়েছে কন্ট্রোল কন্ট্রোল খেলা। আর পারবে না নিজেকে কন্ট্রোল করতে। এবার ছুটিয়ে সংসার করবে সে। সুন্দরী বউ রেখে এতো কিসের কন্ট্রোল তার? বউ ছোট হলেও সংসার করার মতো বয়স আছে। তাছাড়া রিদের তো সারাজীবনও বাচ্চা চাই না। তাহলে বউয়ের জন্য রিস্ক নেই কোনো কিছুতে। রিদ মায়া মাথা চুমু খেয়ে বলে…

—” বিয়ের বিয়ের নাটক অনেক হয়েছে। এই বিয়ের আমার আর লাগবে না। আমি আগেই বলেছিলাম তোমায় এই একটা বিয়ে কখনোই আমার জীবনের শুভ বয়ে আনেনি। আজ তোমাক হারাতে হারাতে ফিরে পেলাম। আল্লাহ সহায় আমার। চলো বাসায় যায়। এই নাটকের বিয়ে আমার লাগবে না। এসব বিয়ে ছাড়া এমনিতেও তুমি আমার বউ থাকবে। তাই যেকোনো একটা রাত ধরে বাসর করে ফেলবো। তুমি চাইলে তোমার বাসর আমি ফুলে ফুলে সাজিয়ে দিব। তারপর দু’জন ছুটিয়ে সংসার করবো সারাজীবন। তাছাড়া বাচ্চা কাচ্চা ঝামেলা তো এমনই নেই আমাদের জীবনে। স্বামী স্ত্রীর প্রেমযুগল হয়ে ছোটখাটো সংসার থাকবে আমাদের। চলো।

রিদ মায়াকে নিয়ে উঠতে চাইলে বাঁধা দেয় মায়া। রিদের গলা ছেড়ে সোজা হয়ে বসল কোলে। দূর্বল শরীরটা রিদের প্রশস্ত বুকে ছেড়ে রিদের গায়ের শার্ট টেনে মুখ লুকিয়ে লজ্জা আড়ষ্ট হয়ে মিনমিন সুরে বলে…

—” আমি পারব না কোনো কিছু।

মায়ার পারব না কথাটাতে সন্তুষ্ট হলো না রিদ। মায়ার পিছন থেকে পিঠ জড়িয়ে ধরতে ধরতে বলল…

—” পারবেন না মানে কি? ভালো মানুষ মনে করছেন ম্যাডাম? আপনার সম্মতির জন্য বসে আছি আমি? এই মনে হয় আপনার? ম্যাডাম চিন্তা করবেন না দিন একদিন আমারও আসবে। রাইট নাউ আপনি অসুস্থ বলে ছাড় পাচ্ছেন। নয়তো বাসরটা আজকে রাতেই সারতাম আমি। এখন অসুস্থতার জন্য অল্প একটু অপেক্ষা করবো। শুধু একবার সংসারটা শুরু করতে দেন আমায়। যেদিন ধরবো হাড় গুঁড়ো করে ফেলবো পিষে। মনে রাইখেন।

রিদের কথায় লজ্জায় আছড়ে পরলো মায়া। তীব্র বুক ধড়ফড় মায়া শরীরের কম্পন সৃষ্টি হলো। রিদের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে দু’হাতে রিদের বাহু জড়িয়ে কপাল ঠেকাল বাহুতে। লজ্জায় চোখ খিঁচে বন্ধ করে বলল…

—” ছিঃ আপনি কতো বাজে।

—” ছিঃ মানে? আপনার কি আমাকে মেশিন মনে হয় ম্যাডাম? আপনার কি নিয়ত? একটার পর একটা বিয়ের করেই যাবো আমি কিন্তু বাসর করতে পারবো না? উপোস থাকবো?

—” উফফ যান তো এখান থেকে।

রিদ মায়ার রিয়াকশন দেখে ঠোঁট প্রসারিত করে হাসলো। মায়ার উম্মুক্ত কাঁধে উপর ঝুকে ঠোঁট ছুয়াল। মায়া সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠল। রিদ মুখ উঠিয়ে মায়ার কানে ঠোঁট ছুঁয়ে ফিসফিস করে বলল…

—” তুমি বাসরের সব বুঝো তাই না? পেকে গেছো আমি জানি। আমার পাকা বউ।

রিদের সরাসরি বেগতিক কথায় মায়া লজ্জায় নেতিয়ে পরে রইল রিদের বাহুতে। শরীরের কম্পন তীব্র থেকে তীব্র হলো। রিদ অনুভব করতে পারলো মায়ার সেই কম্পন। মায়া রিদের বাহুতে কপাল ঠেকানো অবস্থায় মৃদু কামড় বসিয়ে বলল…

—” উফফ! আপনি সবসময়ের বাজে লোক! বিশ্রী বিশ্রী কথা বলেন। ছিঃ কি অশ্লীল কথা। আপনি জানেন না, ভালো মানুষরা এসব কথা বলেও না। করেও না।

মায়া কথায় রিদ মাথা তুলে সোজাসাপ্টা ভাষায় বলে…

—” তাহলে তো তোমার বাপ এই অমানুষের কাতারে পরবে সবার আগে। বুড়ো বয়সে এসেও যৌবনের ঠেলায় বাবা হলো। তোমাকে জম্ম দিল। শেষ বয়সে এসেও শাশুড়ীকে ছাড়া এক পা নড়ে না। এক রাত ঘুমাতেও চাই না। বুড়ো বয়সে তোমার বাবার রোমান্টিকতা কমে না। উপর উপর দিয়ে সবাইকে দেখায় সে আদর্শ পুরুষ। আর তলে তলে রোমান্টিকতা শেষ হয়না। আমি তো শুরু থেকেই বলছি আমি ভিলেন মানুষ। ভালো মানুষের কাতারে পরি না। তাহলে তুমি হিসাব করো। ভালো মানুষ গুলো যদি এতো রোমান্টিক হয় তাহলে খারাপ মানুষ গুলা কতটা রোমান্টিক হওয়া উচিত। নির্ঘাত বাচ্চা চাই না আমার। নয়তো বিশ বাইশ-টা ছেলে-মেয়ে তো এমনই হয়ে যেত আমার রোমান্টিকতার চাপে। আমি…

রিদ থামে। থামে নয় থামতে হয়। কারণ মায়া ফের কামড়ে ধরে রিদের বাহুতে লজ্জায়। রিদ মায়ার মাথা ধরে নিজের বাহু ছুটাতে ছুটাতে বলল…

—” উফফ! কিরে বাবা! কামাচ্ছো কেন? তুমি না অসুস্থ? বারবার কামড় দিয়ে নেগেটিভ ফিল দিচ্ছো কেন? ছাড়ো! নয়তো একটা কামড়ের বদলে আমি দুইটা করে দিব বলে দিলাম। অসুস্থ বউয়ের সাথে কামড়াকামড়ি খেলতে চাই না। ছাড়ো।

মায়া ভয়ে রিদকে ছেড়ে দিয়ে সরে যেতে চাইল। কিন্তু পারলো না রিদের শক্ত হাতের বাঁধন থেকে ছুটতে। মায়া ছটফট করে বলল।

—” ছাড়ুন আমি যাব। আপনার বাজে কথা আমি আর শুনব না। বিয়ে করলেও আমি আমার রুমে, আপনি আপনার রুমে থাকবে। আমি আপনার রুমে যাব না। আপনি আমার রুমে আসবেন না। দূরত্ব বজায় রাখবেন। ছাড়ুন বাজে লোক।

মায়ার কথায় রিদ নাক মুখ ছিটকে বলল…

—” বউ আমি শোপিস হিসাবে দেয়ালে সাজায় রাখব। এছাড়া তো আমার আর কোনো কাম নাই। তিন তিনবার বিয়ে করেও যদি উপোস থাকতে হয়! তাহলে সোজা সন্ন্যাসী বেশ নিয়ে আমি জঙ্গলে চলে যাব। থাক আমার আর বাসর করতে হবে না। আমি সব ভালো মানুষের দল নিয়ে ঘুরি তাই। এমনটা যদি আপনার চিন্তা ভাবনা থাকে তাহলে মাটি চাপা দিয়ে আমার সাথে চলেন। এবার ফাইনাল আমি সংসার করবো থামাথামি নাই। আপনাকে জানানোর উচিত মনে হলো তাই জানালাম। সম্মতি চাইনি। তাছাড়া আমার জন্য এমনই বাসর করাটা ফরজ হয়ে আছে। আগের দুইটা বাসর আর এখন একটা। মিলিয়ে তিনটা বাসরের উসুল আমায় এক বাসরে তুলতে হবে। চাপ বেশি। তবে সাথে গভীর চিন্তায় আছি! যদি ধরি তাহলে আমার গুলু-মুলু বউয়ের কয়টা হাড় ভাঙ্গবে আর কয়টা আস্ত থাকবে।

রিদের প্রতিটা কথায় মায়ার কান গরম হলো। লজ্জায় নেতিয়ে পড়া মায়া নড়লো না। আর না কোনো কথা বলার সাহস পেল। রিদ কিছুটা সময় মায়াকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকল শান্ত ভাবে। খানিকটা সময় বাদে
রিদ ফুরফুরে মেজাজে মায়াকে পাঁজর কোলে উঠে দাঁড়ালো। মূলত মায়াকে নিয়ে সে চলে যাবে সে। বউয়ের জীবন রিস্কে রেখে কোনো রুপ খেলা খেলতে চাই না রিদ। এমনকি বিয়েটাও করতে চাই না। তার বউ তাঁকে ছাড়া সেইফ না কোথাও। এই সময়টা রিদ মায়ার সাথে আগ বাড়িয়ে অন্য কথা বলেছে শুধু দুজনের মাইন্ড ডাইভার্ট করার জন্য। যেটাতে রিদ সফল হয়েছে। তার মন মেজাজ দুটোই ভালো। তবে যে বা যারা তার বউয়ের উপর হামলা করিয়েছে সেটা রিদ বাসায় গিয়ে বুঝবে। আপাতত বউকে সেইফটি রাখা দরকার। রিদ মায়াকে কোলে তুলে দাঁড়াতে মায়া ঘাবড়ে গিয়ে দু’হাতে রিদের গলা জড়িয়ে ধরে বাঁধা দিয়ে বলে…

—” আমি এভাবে যাব না মিস্টার ভিলেন। আমি বিয়েটা করতে চাই। প্লিজ আর তো একটা দিন বাকি আছে। তারপর তো আমি এমনই আপনার বাসায় যাচ্ছি। প্লিজ মিস্টার ভিলেন আমাকে বিয়েটা ছাড়া এইভাবে নিবেন না। প্লিজ!

রিদের চেপে থাকা রাগ আবারও তরতর করে বাড়ে মায়ার কথায়। তারপরও রিদ নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলো। মায়াকে বিছানায় দাঁড় করিয়ে পাশ থেকে ওড়নাটা হাতে নিল। সাদা ওড়নাটা মায়ার গায়ে টেনে মাথায় পেচিয়ে হিজাবের মতো করে বাঁধল। গায়ের দলা মুচড়ে যাওয়া ফ্রকটা টেনে ঠিক করে দিয়ে মায়ার শরীর ডেকে দিল। ওড়নার একটা কোণা দিয়ে মুখ ঢেকে পুনরায় মায়াকে কোলে নিতে নিতে বলল…

—” শান্ত আছি। শান্ত থাকতে দাও। অথযা তোমার উপর রাগতে চাচ্ছি না রিত। এর আগেও তুমি আমার উপরে বিয়েটাকে চুস করেছ। আজও তুমি আমাকে অমান্য করে আমার উপরে বিয়েটাকে চুস করতে চাচ্ছো? তোমার স্বামী না থাকলে লোক দেখানো বিয়ে দিয়ে কি করবা? আগে স্বামীর মন বুঝো তারপর বাকি সবকিছু। আমি পিছনের সবকিছু ভুলে তোমাকে নিতে এসেছি রিত। আজ যদি তুমি আমাকে ছেড়ে এই বিয়েটাকে চুস করো তাহলে এই বাসায় তান্ডব হবে। বিয়েটা আমি করবো। তবে সারাজীবন তোমাকে আমি স্বামী ছাড়া রাখব, নামের বউ করে মনে রেখে। না আমার ছুয়া! আর না বউ হয়ে আমার অল্প সানিধ্য ও পাবে না তুমি। সবকিছুর এখানেই ইতি ঘটবে যদি আমাকে অমান্য করে এই বিয়েটাকে উপরে রাখো। আর আজ যদি আমার সাথে সুন্দর করে চলে আসো তাহলে সারাজীবন তোমার পাশে আমাকে স্বামী হিসাবে পাবে। তোমার ভালোবাসার মানুষ হিসাবে পাবে। মনে রেখ রিত! আমাকে রাগিয়ে শান্তি কিন্তু তুমিও পাবে না।

রিদের কথায় মায়া ফুপিয়ে কেঁদে উঠে দু’হাতে রিদের গলা জড়িয়ে ধরে। মায়া রিদের উপরে কখনোই বিয়েটাকে রাখেনি। শুধু সমাজেকে জানিয়ে বিয়েটা করতে চেয়েছিল। প্রকাশ্যে সংসার করতে চাই বলে। তাছাড়া প্রথমে মায়া মেহুর সাথে জেদ ধরে এই বিয়েটা করতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন মায়া মন থেকে বিয়েটা করতে চাই। এখন চারপাশে জানাজানি হয়ে গেছে মায়ার সাথে রিদের কাল বাদে পরশু বিয়ে। এখন যদি হঠাৎ করে বিয়েটা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে মায়ার পরিবার অনেক হেনস্ত হতে হবে। এবং সবাই রিদকেই খারাপ বলবে। রিদ মায়ার সম্মতিতে বিয়েটা বন্ধ হয়েছে এমনটা কেউ বলবে না। বরং সবাই রিদের সামনাসামনি না হলেও পিছনে নিন্দা করবে এই বলে, ক্ষমতার জোরে রিদ খান মায়াকে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছে। মায়ার সাথে সংসার করতে নয়, বরং ভোগ করার জন্য জোর করে মায়াকে নিজের সাথে নিয়ে গেছেন। রিদ খানের বউ বিয়েতে রাজি ছিল না বলে সুইসাইড করতে পযন্ত গিয়েছিল। এমন সব কথা রটাবে চারপাশে। সমাজের সব মানুষ ভালো নয়। তাঁরা ভালো মন্দ যাচাই বাছাই না করেই দোষ রটাবে। আর সবচেয়ে বড় দোষী সবাই রিদকেই করবে। হয়তো লোকের কথায় রিদের কিছু যায় আসে না। কিন্তু মায়া তো সহ্য করতে পারে না নিজের স্বামীর সম্পর্কে সামান্য কটুকথা ও। আর তো মাত্র একটা দিন। কেন মানুষকে সুযোগ দিবে মিথ্যা রটানোর। সবকিছু তো পূর্ব থেকে রেডি করা আছে। শুধু কবুলটা বলে বিয়েটা সেরে নিলেই তো শেষ। মায়া এমনই তো সারাজীবনের জন্য ঐ বাড়িতে চলে যাবে রিদের হাত ধরে। এখন সামান্য একটু ভয়ের জন্য কি সবকিছু এইভাবে নষ্ট করা উচিত? মায়া রিদের গলা জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে ভয়ে। রিদ সেটা বুঝেও না বুঝার মতো করে মায়াকে নিয়ে বের হতেই, দোতলা বসার ঘরে উপস্থিত পায় একদল মানুষের ভিড়কে। রিদ সবাইকে ডিঙ্গিয়ে না দেখার মতো করে চলে যেতে চাইল। কিন্তু রিদের পথ আঁটকে দাঁড়াল শফিকুল ইসলাম। মায়াকে রিদের কোলে দেখে চাপা রাগে বলে…

—” ওকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছো? নামাও বলছি ওকে।

রিদ বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে তাকাল শফিকুল ইসলামের দিকে। পূবে থেকে শফিকুল ইসলামের সাথে রিদের কোন এক মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের কারণে তাদের মধ্যে বনাবনি হয়না। দু’জনই জানেন তারা কেউ কাউকে পছন্দ করে না। তাদের মধ্যে সাপ নেউলে সম্পর্ক। তারপরও উপর উপর দিয়ে দু’জন দুজনকে এরিয়ে চলে এসেছে এতো দিন ধরে। কিন্তু আজ যেন সকল কিছু বাঁধা পেরিয়ে অবশেষে জামাই শশুর মুখোমুখি হলো তারা। মায়া শফিকুল ইসলামের কন্ঠ পেয়ে চমকে উঠে অশ্রু ভেজা চোখ তুলে তাকাল বাবার দিকে। শফিকুল ইসলাম মায়ার অশ্রু ভেজা চোখ দেখে মনে করলো রিদ হয়তো মায়ার সাথে জোড়াজুড়ি করে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের সাথে করে। এই জন্য তিনি মায়ার এক হাত টেনে ধরে তপ্ত মেজাজ বলেন…

—” ওকে নামাও বেয়াদব ছেলে। সবকিছুতে গুন্ডামি চলবে না। ফাজলামি একটা লিমিট আছে।

রিদ মায়াকে ছাড়লো না। বরং স্টংলি ভাবে মায়াকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে বলল…

—” আপনি কি আমার বিয়াইন লাগেন যে আপনার সাথে ফাজলামো করবো। নিজের বউ উঠায় নিয়ে যাচ্ছি অন্যের বউ না। আপনি নিজের বউয়ের দিকে যান না! আমার বউয়ের চিন্তা করার জন্য আমি আছি। যান আপনি।

রিদের কথায় থমথমে খেয়ে যায় সবাই। আপত্তিকর পরিস্থিতিতে যে রিদ বিবেচিত কথা গুলো বলে ফেলবে সেটা কেউ ঘুণাক্ষনেও ভাবেনি। রেহেনা বেগম লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে থমথমে মুখে আশেপাশে তাকাল আড়চোখে। সবার বিস্ময়কর ভরা দৃষ্টি রিদ আর শফিকুল ইসলামের দিকেই। শফিকুল ইসলাম নিজেও অপদস্তক হয়ে গেল রিদের কথায়। তিনি এজন্যই গুন্ডা নির্লজ্জ ছেলের রিদের কাছে নিজের মেয়ের বিয়ে দিতে চাইনি। গুরুজন মানে না যে ছেলে! সেই ছেলের কাছে তো উনার মেয়ে কিছুতেই বিয়ে দিবেন না উনি। দরকার পরলে তিনি মেয়েকে চিরকুমারী রাখবে। তারপরও এমন বেয়াদব ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দিবেন না। শফিকুল ইসলাম তিরতির মেজাজে ফের মায়ার হাত চেপে রিদের কোল নামাতে চেয়ে বলল…

—” আমি এমন গুন্ডা ছেলের কাছে নিজের মেয়েকে বিয়ে দিব না। এই বিয়ে হবে না। চলে যাও তুমি।

—” এক্সাক্টলি! আমিও এটাই বলছিলাম আমার বউকে। বিয়াটা করার দরকার নাই। বউটাই মানছিল না। শুধু শুধু কান্নাকাটি করছিল৷ এখন আপনিও বলেছেন। এবার নিশ্চয়ই আপনার কথাটা শুনবে তাই না বউ? তবে আরেকটা কথা, চলে যাও না, বলবেন নিয়ে যাও। আসলে বউ ছাড়া রাতে ঘুমাতে কষ্ট হয়। আপনি তো ভালো বুঝবেন আমার কষ্টটা। আপনারও তো একটা বউ আছে তাই না?

রিদের কথায় তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে শফিকুল ইসলাম। এতটা কোনো কথা। এমন নির্লজ্জ ছেলে বুঝি দুনিয়াতেও হয়? শফিকুল ইসলাম সম্পর্কে শশুর হয় এই ছেলের। অথচ সে শশুরের সম্পর্ক ভুলে মসকরা করছে উনার সাথে। শফিকুল ইসলাম রাগে হিসহিস করে বলল…

—” মুখ সামলে কথা বলো বেয়াদব ছেলে। নূন্যতম লজ্জাবোধ রাখা উচিত তোমার। বড়দের সাথে এসব কোন ধরনের আচরণ নির্লজ্জ ছেলে।

—” আমি নির্লজ্জ বেয়াদব মানুষ সেটা সবাই জানে। কিন্তু আপনি আদর্শ লজ্জাজনক পুরুষ হয়ে আমার বউ আটকাচ্ছেন এটা কোথাকার আদ্দব? আমার মধ্যে লজ্জা নামক ফাংশনটায় নাই । কাজ করে না। তাই লজ্জা কি জিনিস আমি বুঝি না। তবে হ্যা বউকে আমি প্রচুর ভালোবাসি একদম আপনার মতোন। আপনি যেমন বউ ছাড়া থাকতে পারেন না! তেমন আমিও আজকাল বউ ছাড়া একদমই থাকতে পারি না। তাই আমার বউ না আটকিয়ে নিজের বউয়ের খেয়াল রাখুন যান।

রিদের বেগতিক কথায় শফিকুল ইসলামের কথা বলাটায় মুসকিল হয়ে যাচ্ছে লজ্জায়। চারপাশে ছোট বড় অনেক মানুষের ভিড় জমে আছে। ছেলে -মেয়ে, ছেলের বউ, উনার শশুর বাড়ির মানুষ, মুক্তার শশুর বাড়ির মানুষে বসার ঘর ভরতি হয়ে আছে। সেখানে রিদের একটা পর একটা নির্লজ্জ কথায় এবার উনার ইজ্জতের ভয় হতে লাগলো। এই ছেলে যে কতটা নির্লজ্জ তিনি এতো সময়ে মধ্যে হাড়ে হাড়ে বুঝে গেছেন। তাই তিনি লোক লজ্জা ইজ্জতের ভয়ে রিদের সাথে বাড়াবাড়ি না করে সমঝোতায় আসতে চাইল। রাগ না দেখিয়ে শান্ত কন্ঠে বলল…

—” এইভাবে আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে পারবে না তুমি। বিয়েটা শেষ হোক তারপর যাবে ওহ তোমার সাথে। নামাও ওকে।

শফিকুল ইসলামের কথায় সম্মতি দিল মায়া। রিদ কিছু বলবে তার আগেই মায়া বলল…

—” আমি যাব না আপনার সাথে। নামান আমাকে।

রিদের শান্ত থাকা মেজাজটা বিগড়ে যায় মায়ার কথায়। এতক্ষণ শফিকুল ইসলামের সাথে শান্ত ভাবে ডিল করলেও মায়ার জন্য বিগড়ে উঠে শেষে মেজাজটা। রিদ রাগে কটমট করে দাতে দাত পিষে বলে উঠে…

—” রিত ফর দা লাস্ট লাইম! আমার মেজাজ গরম করবা না প্লিজ। ফলাফল ভালো হবে না কিন্তু।

মায়া শুনলো না রিদের কথা। ছটফট করতে করতে রিদের কোল থেকে নেমে গেল। এবং কান্নাকাটি করে বলল ‘সে যাবে না রিদের সাথে। রিদের টগবগিয়ে উঠা রাগে লাল লাল চোখ জোড়া তুলে তাকালো মায়ার দিকে। মায়া দমে গিয়ে নত মস্তিষ্কের দাঁড়ালো ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। মায়ার কান্না দেখে শফিকুল ইসলাম এগিয়ে এসে মায়াকে ধরবে তার আগেই, রিদের রাগের বশবর্তী হয় মায়া। রিদ মায়াকে কাঁদতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে দেয়ালের সাথে সাজিয়ে রাখা ফুলের কোর্ণার সেন্টা মাথার উপর তুলে সজোরে আছাড় মারলো ফ্লোরে। সাথে সাথে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল সেদিক। রিদ রাগে গর্জে উঠে বলে..

—” তোর আমাকে ছাড়া দুনিয়ায় সবকিছু প্রিয়! আমার মূল্য তোর কাছে কখনো থাকে না। বরাবরই তুই আমার অবাধ্য হোস। আজও হলি। আমার মানা করার পরও তোর এই বিয়েটা চাই। আমার উপরে গিয়ে তুই বিয়েটাকে চুস করলি কেন? আমার সঙ্গ তোকে কাঁদায় এই প্রমাণ করতে চাইছিস সবার সামনে? তোর এতো নাটক?

কথাটা শেষ করতে করতে রিদ পুনরায় পাশে থাকা পানির ফিল্ডার সহ ছোট টেবিলটি উল্টে নিচে ফেলে দিল রাগে। মায়া সহ উপস্থিত সবাই কেঁপে উঠলো রিদের হঠাৎ কান্ডে। সবাই এতো দিন রিদ খান সম্পর্কে মানুষ থেকে শুনে এসেছে। আজ প্রায় অনেকেই রিদ খানের রাগের সঙ্গে পরিচিত হলো। উপস্থিত প্রত্যেকের রিদের ভয়ে হাড় হিম হয়ে আসল শফিকুল ইসলাম ছাড়া। তিনি হতবুদ্ধি হতবিহ্বল হয়ে দাড়িয়ে আছেন রিদের কান্ডে। রিদ যে হঠাৎ করে এমন কিছু করে বসবে সেটা মোটেও আশা করেন নি এই মূহুর্তে। রিদের তান্ডবের মধ্যে হেনা খান, আরাফ খান, আয়ন, মেহেরবান ততক্ষণে হতভম্ব হয়ে দৌড়ে আসলো মায়াদের দোতলা ফ্ল্যাটের ভিতর। মূলত তাঁরাও মায়ার এক্সিডেন্টের খবর পেয়ে এসেছেন এখানে। কিন্তু রিদের রাগের তান্ডব আভাস পেয়ে হতভম্ব হয়ে দৌড়ে আসল আয়ন ও আরাফ খান। রিদকে ঝাপটে ধরল দুই দিক থেকে দুজন শান্ত করতে। অন্যদিকে হেনা খান দৌড়ে যান মায়ার দিকে। মায়াকে টেনে নিজের বুকে চেপে ধরে শাসিত গলায় শুধালো রিদকে…

—” কি করছিস রিদ? মেয়েটা অসুস্থ! মাত্রই এতো বড় ধকল গেল মেয়েটার উপর দিয়ে। এখন কি তুই মেয়েটাকে মেরে ফেলবি এসব করে?

রিদ তেড়ে আসতে চাইল মায়ার দিকে। কিন্তু ঝাপটে ধরে রাখল আয়ন আর আরাফ খান। রিদ তাদের অপেক্ষা করে চেঁচিয়ে বলল…

—” এই নারী আমাকে কবরে না পাঠিয়ে শান্তি হবে না তার। আমার না করা শর্তে ও লোক দেখানো বিয়ে চাই ওর। আমার উপরে বিয়েটা কেন রাখবে ওহ? ওর স্বামী বড় না বিয়েটা বড়। আজ এতো বড় হামলা করানো হয়েছে তোমার নাতিনকে মারতে নয়, আমাকে নিঃশেষ করাটায় ছিল তাদের মূল টার্গেট। শত্রুরা আমার দূর্বলতা বুঝেই ওকে আঘাত করতে চাইছে। আজ আমি ওকে প্রটেক্ট না করলে কাল আবার হামলা করবে মারতে। এই একটা জিনিস কেন বুঝেনা ওহ। কেন বার বার আমার অবাধ্য হচ্ছে? কি চাই ওর? আমি মরলে শান্তি হবে?

মায়া হেনা খানকে দু’হাতে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠে শব্দ করে। কোথাকার বিষয়টি কোথায় চলে গেল। মায়া কি কখনো চাইবে রিদ মরে যাক। রিদের সামান্য কিছু হলে সবার আগে মৃত্যু তো মায়ারই হবে। মায়া তো নিজের বাপ- ভাই আর রিদের সম্মানের কথা চিন্তা করে বলছে বিয়ে শেষ হোক। এখন এতো মানুষের ভিড়ে যদি মায়া চলে যায় রিদের সাথে তাহলে সবাই রিদকেই খারাপ বলবে, নিন্দা রটাবে। সেই সাথে মায়ার বাবার সম্মানে তো আঘাত আনবে। রাস্তায় বের হওয়া মুসকিল হয়ে যাবে। মেয়ে হয়ে মায়া কিভাবে বাপ-ভাইয়ে মাথা ছোট করে স্বামীর হাত ধরে চলে যাবে। এতে কি কোনো সমাধান হবে? মায়া হিচকি তুলে শব্দ করে কাঁদতে থাকলো হেনা খানের বুকে মুখ গুঁজে। রিদ মায়ার কান্না দেখে আরও তেতে উঠল। টগবগিয়ে উঠা রাগে রি রি করতে করতে আরও জোরে হুংকার ছাড়ল। আয়ন, আরাফ খানকে অপেক্ষা করে মায়ার দিকে তেড়ে আসতে চেয়ে ফের বলল…

—” তুই থাক তোর এই লোক দেখানো বিয়ে নিয়ে সারাজীবন। আমার উপরে যখন তোর এই বিয়েটা! তখন থাক তুই তোর এই সমাজ দেখানো বিয়ে নিয়ে। আমিও এবার আমার কথায় অটল থাকবো দেখিস। তুই দুনিয়া বুঝিস আমাকে বুঝতে চাস না। এই লোক দেখানো সমাজ তোর আপন হলো, আর আমি তোর পর তাই না? থাক তুই তোর এই সমাজ নিয়ে আমি আর তোকে সেইফ রাখতে চাইব না। যাহ। তোর কিছু হলে সবার আগে আমার বন্দুক তোর বাপের মাথায় উঠবে দেখিস। তুই মর নয়তো আমি মরি। তোর অশান্তিতে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। শালার জিন্দিগি ছেহ! সামান্য একটা মাইয়া মানুষ কন্ট্রোলে করতে পারলাম না।

তীব্র রাগে রিদ শরীর ঝাড়া দিয়ে আয়ন ও আরাফ খানের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে চলে গেল বাহিরের দিকে। রিদ আর দাঁড়ালো না। তীব্র রাগে রি রি করে দু’হাতে মুষ্টি বদ্ধ করে গমগম মানুষের ভিড় পেরিয়ে কারও সাথে কথা বলে গিয়ে উঠল গাড়িতে। তার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আসিফও দৌড়ে গিয়ে উঠল গাড়িতে। রিদকে রাগতে দেখে আসিফ হাসফাস করে পিছন ঘুরে তাকাতে রিদ হিংস্র বাণীতে বলল….

—” আজকের ঘটনা পিছনে যে বা যারা যারা জড়িত ছিল। তাদের সব-কয়টাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আয় গোডাউনে। মেহুকে সহ তুলে আনবি। অনেক দিন ধরে ফুটন্ত তেলে মানুষকে ভাজা হয় না। আজকে সব কয়েকটার ঠিকানা লাগিয়ে বাসায় যাব। চল!

—” জ্বিই ভাই।

রিদ চলে যেতেই শফিকুল ইসলাম বেঁকে বসল এমন ভয়ানক গুন্ডা ছেলের সাথে মেয়ে বিয়ে দিবে না বলে। আরাফ খানের মুখের উপর বিয়েটা ক্যান্সেল করে দিল তিনি। আতংকিত আরাফ খান কিছু সময়ের জন্য মাথায় হাত দিয়ে বসে রইল সোফায়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে দেশ-বিদেশের মানুষদের ইনভাইট করল। প্লেনের কয়েক শ’খানিক টিকেট কাটা হয়েছে ইনভাইট বিদেশি মেহমানদের জন্য। অলরেডি প্রায় অধেক বিদেশি মেহমানরা চলে এসেছেন। তাঁরা বর্তমানে হোটেল থাকছে বিয়ের জন্য। এখন যদি সবাইকে বলতে হয় বিয়েটা হবে না। ‘বিয়ে ক্যান্সেল’ তাহলে খান বাড়ির সম্মান থাকবে? ছোট হয়ে যাবেন না উনারা সোসাইটি কাছে? সবচেয়ে বড় কথা! টাকা, সম্মান, সোসাইটি কথা নাহয় বাদ দিল। কিন্তু রিদ? রিদকে কি বাদ দেওয়া যাবে? মায়ার সামান্য থেকে সামন্য বিষয় গুলোতে রিদ যতোটা রিয়েক্ট করে। পাগলামো করে। এখন এই ব্যাপারে রিদকে গিয়ে তিনি কিভাবে বলবেন যে, বিয়েটা আর হবে না। তুই আর জীবন বউ পাবি না রিদ। এই একটা কথা বলার সাথে সাথে প্রথম গুলিটা মনে হয় রিদ শফিকুল ইসলামকে করবেন। আজকাল উনারও ভয় হয় রিদের সাথে মায়ার বিষয়ে কিছু বলতে। আরাফ যতোটা রিদকে কাছ থেকে লক্ষ করেছে সেটা হলো। রিদ মায়া ছাড়া দুনিয়ার কোনো কিছুর বিষয়ে এতোটা রিয়েক্ট করে না। আল্লাহ না করুক। আর আজ যদি মায়ার ভুলেও কিছু হতো? তাহলে? তাহলে কি হতো? আল্লাহু আকবার! আল্লাহ মাফ করুক। আরাফ খানের কলিজা কেঁপে উঠে কি হতো সেই পরিস্থিতিটা অল্প একটু চিন্তা করে। আল্লাহ রিদ মায়ার ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখুক। এমনটা কখনো না হোক যে একে অপরের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়। আজ অল্পের জন্য মরতে মরতে বাঁচল মায়া। এইতো কিছুক্ষণ আগের ঘটনায় রুজি, শিফা, মোহনা অন দা স্পটে মৃত্যু হয়েছিল মায়ার রুমে। রুজিকে মোহনা মারলেও শিফা ও মোহনা দু’জনই আত্মহত্যা করেছিল আংটির বিষ কোটা পান করে। রিদের লোকেদের হাতে ধরা পরতে চাইনি বলে। হসপিটালের রিদের চারজন বডিগার্ডদের মধ্যে তিনজনেরই মৃত্যু হয় বিষ প্রয়োগে। কারণ তারা তিনজনই মাত্রাতিক বেশি বিষ যুক্ত খাবার খেয়েছিল বলে। রিধি সল্প কেক খাওয়ায় বেঁচে গেলেও বাকি একজন বডিগার্ডদের সাথে হসপিটালের রিধিকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। আর মায়া তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ দোতলা ঘরে উচ্চতা বেশ ছিল না বলে মায়া সেই যাত্রায় বেলকনি থেকে লাফিয়ে পড়ে বেঁচে যায়। কারণ মায়া ঊধ্বর মাটির ঘাসের উপর পড়েছিল বলে হাতে পায়ে হালকা পাতলা কেটেছে শুধু।

আরাফ খান মন্ত হয়ে ঠায় জায়গায় বসে রইলো রিদের টেনশনে। মায়াকে তো রিদ এমনও ছাড়বে না মাঝখান থেকে ক্ষতি হবে শফিকুল ইসলামের। আরাফ খান চুপচাপ বসে রইলেও আয়ন আর হেনা খান চুপচাপ থাকলো না। খুব কৌশলে সুন্দর করে শফিকুল ইসলামকে বুঝাতে লাগল বিয়েটা ভালো ভাবে হয়ে যেতে বলে। শফিকুল ইসলামকে বুঝাতে রাত প্রায় বারোটার ঘরে। তারপরও তিনি বেঁকে বসে আছেন কিছুতেই মায়াকে রিদের সাথে বিয়ে দিবেন না বলে। আরিফ বাসার সকল ঝামেলা, পুলিশ, প্রশাসনের লোক বিদায় করে কেবল মাত্র বাসায় ঢুকল। বাসার পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত সে। বসার ঘরে ঢুকে মায়ার দিকে এক পলক তাকাল। মায়াকে নত মস্তিষ্কের দাঁড়িয়ে কান্না করতে দেখে সে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। আরিফ বুঝতে পারছে মায়া বিয়ে ভেঙ্গে গেছে বলে সেই ভয়ে কাঁদছে। কিন্তু তারপরও শফিকুল ইসলামের মুখের উপর কথা বলতে পারছে না বাবাকে সম্মান দেখিয়ে। আরিফ এগিয়ে আসলো। মায়ার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে মায়ার মাথায় হাত রেখে আদুর করে সরাসরি মায়াকে জিগ্যেস করে বলল…

—” কাউকে ভয় না পেয়ে ভাইকে বল। বিয়ে করতে চাস তুই? তোর কথায় শেষ কথা হবে। তোর অমতের বিরুদ্ধে কিছুই হবে না।

মায়া হিচকি তুলে কান্না জড়িত অশ্রু ভেজা ফোলা ফোলা চোখ দুটো তুলে তাকাল আরিফের দিকে। আড়চোখে একবার শফিকুল ইসলাম দিকেও তাকাল। শফিকুল ইসলামও মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে কৌতূহল ভরা দৃষ্টিতে। মায়ার উত্তর কি হয় সেটা জানার জন্য। আরিফ মায়াকে শফিকুল ইসলামের দিকে তাকাতে দেখে আশ্বস্ত করে বলল…

—” ভয় পাসনা। ভাই আছি তো তোর সাথে। তুই নির্দ্বিধায় বল। বিয়েটা করতে চাস কিনা?

আরিফের কথায় মায়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বলল ‘ সে বিয়েটা করতে চাই। আরিফ মায়ার উত্তর শুনে হালকা হেঁসে তৎক্ষনাৎ ছোট করে ‘ আলহামদুলিল্লাহ ‘ বলে জুইকে ডেকে বলল, মায়াকে নিয়ে রুমে যেতে। জুই মায়াকে নিয়ে রুমে যেতেই আরিফ ফের সবার উদ্দেশ্য গম্ভীর মুখে বলল…

—” দাদা-দাদী আয়ন ভাইয়া, আপনারা সবাই বিয়ের আয়োজন করুন। যথা সময়েই বিয়েটা সম্পূর্ণ হবে চিন্তা করবেন না। আমি বাবার হয়ে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আসলে রিদ ভাইয়ার ব্যাপারটায় বাবা একটু আপসেট হয়ে পড়েছেন। আমি সামলে নিবে বাবাকে আপনারা প্লিজ কিছু মনে করবেন না।

আরিফের মার্জিত ব্যবহার অন্তত খুশি হলো সবাই।শফিকুল ইসলাম তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আরিফের দিকে তাকিয়ে থেকে কিছু না বলে চলে যান নিজের রুমে। আরিফ বাবার বাচ্চামো দেখে হালকা হাসলো। ক্লান্তিময় শরীরটা টেনে আবারও সবার আপ্যায়ন করলো। খান পরিবারের সবাইকে ডিনার করিয়ে বিদায় দিল। আয়ন চলে যেতে যেতেও সবার অগোচরে জুইয়ের বামগালে টুপ করে চুমু খেল নিল। হতভম্ব জুঁই কিছু বলবে তার আগেই আয়ন এক চোখ মেরে চলে গেল রাত দেড়টার দিকে সবাইকে নিয়ে। আরিফ সবাইকে বিদায় করে রুমে আসতে আসতে রাত প্রায় দুটো হলো। সারাদিনের ধকল সইতে না পেরে আরিফ সেই অবস্থায় বিছানায় শুইয়ে পড়ল। ফিহা দরজা বন্ধ করে এগিয়ে আসল আরিফের দিকে। ফিহা আরিফের মাথার কাছে বসল ঠান্ডা তেল নিয়ে। স্বামী ক্লান্তিতা বুঝে চুপচাপ আরিফের মাথায় তেল দিতে লাগল ঢলে ঢলে। শান্তিতে আরিফ চোখ লেগে আসতে আসতে হুট করে ফিহাকে টেনে নিজের কাতার ভিতর ঢুকিয়ে নিয়ে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে বলল…

—-” আজকে তোমার স্বামী অনেক ক্লান্ত ফিহু। তাই আজকের আদরটা কাল বেশ করে পুষিয়ে করে দিব কেমন। তুমি কিন্তু রাগ করিও না লক্ষ বউ। দাও আমার মাথাটা টিপে দাও।

চলিত….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply