Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_০২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

০৬
সন্ধ্যা সাত ছুঁই ছুঁই। মাত্রই মায়া খান বাড়ির বাগান থেকে ফিরেছে। সন্ধ্যা রাতের বাগানের কর্ড়া লাইটিং ঘুরে বেড়াতে চমৎকার লাগে মায়ার। তাই অভ্যাসরত আজও তাই করেছে। দুহাতে মায়ার মাঝারি সাইজের লাল বিড়ালছানার পুতুলটি বুকের মাঝে চেপে ধরে হেলেদুলে ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করতেই হেনা খানের প্রশ্নের সম্মোহীন হতে মায়াকে…

–” এই তুই টইটই করে বেড়াচ্ছিস কেন? পড়তে না বসে? তোর কি পড়া সময় এখনো হয় নাই?

খানিকটা মন খারাপ করে গাল ফুলালো মায়া। মিহি সুরে বললো…

–” হয়েছে তো দাদী!

–” তাহলে পড়তে না বসে এদিক সেদিক দৌড়ে বেড়াচ্ছিস কেন শুনি?

হেনা খানের ঝাঁঝালো কণ্ঠে খানিকটা চিন্তত দেখায় মায়াকে। কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বোকা মতো প্রশ্ন করে বলে উঠে।

–” তাহলে কি আমায় হেঁটে বেড়াতে হবে দাদী?

মায়ার এমন প্রশ্নে থামেন হেনা খান। মায়ার দিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে চুপ করে যান। কারণ মায়াকে এই মূহুর্তে আরও কিছু বললে নিশ্চিত মায়া সেটার রেশ টেনে ইতিহাস রচনা করে আধ্যাত্মিক যুক্তি দেখাবে। তাই তিনি কথা না বাড়িয়ে প্রসঙ্গ পাল্টে বলেন….

–” পড়তে বস তুই। আজ ড্রয়িংরুমেই পড়াবো আমি তোকে। তোর বই সব সোফায় টেবিলে রাখা আছে। গিয়ে বস সোফায়। আমি আসছি তোকে পড়ানোর জন্য একটু পর। আগে রিদকে কফিটা করে দিয়ে আসি। ছেলেটা বসে আছে কফি জন্য। যাহ তুই পড়তে!

হেনা খানের উপদেশ মূলক কথায় গুলো যেন মায়ার অবধি পৌঁছালো না। বরং অদ্ভুত নজরে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে উনার দিকে। তিনি মায়ার এমন দৃষ্টি মায়া বুঝতে না পেরে কপাল কুঁচকে কিছু বলতে নিবেন তার আগেই মায়া চিন্তিত বংগিতে বললো….

–” দাদী আই হ্যাভ এ গভীর প্রশ্ন!

থমথমে গলায় বললো…

–” কি?

অবুঝ গলায় কৌতূহল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো..

–” দাদী! তোমাকে তোহ আমি সকালে ল্যাংড়া রেখে গেলাম কিন্তু বিকাল গড়াতে না গড়াতেই তুমি সশরীরে দাঁড়িয়ে আছো আমার সামনে। তোমার এই অবস্থা কে করলো দাদী?

মায়া কথা মানে বুঝতে পারছে হেনা খান। সকালে রিদের বলা কথা গুলোর পর তিনি আর হুইল চেয়ারে বসেন নি বরং সেটাকে ফেলে দিয়েছিল তখনই। সুস্থ মানুষ হয়েও প্যারালাইসড সাজাটা উনার কাছে ভিষণ কষ্ট দ্বায়ক ছিল। যেটার থেকে রিদ আজ সকালেই মুক্ত করে দিয়েছেন। আজ থেকে তিনি আর কখনোই হুইল চেয়ার সাহায্য নিবেন না। কিন্তু এই মায়া বিষয় গুলো জানে না। কেউ বলেও নি মায়াকে। মায়া ছোট বিদায় হয়তো সবকিছু ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারবে না তাই কেউ কিছু জানায় নি। কিন্তু মায়া হেনা খানকে ঠিকঠাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কৌতূহল বশত প্রশ্ন গুলা করেছে সেটা ঠিক বুঝতে পারছে হেনা খান। তিনি মায়ার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে ফুস করে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বলে উঠে…

–” পায়ের ডাক্তার দেখিয়ে আজ তাই পা ভালো হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছে বেশি বেশি হাঁটতে তাই হাঁটা চলাচল করছি। আর কিছু বলবি?

–” তাহলে কেন তুমি আগে ডাক্তার দেখালে না দাদী?

–” আমি দেখাই নি রিদ দেখিয়েছে ডাক্তার। তাই ভালো হয়ে গেছি আমি। এবার যাহ তুই! আর কোনো প্রশ্ন করবি না আমায়।

কথা গুলো বলেই হেনা খান এক প্রকার দ্রুত পা চালিয়ে ড্রয়িংরুম থেকে প্রস্হার করেন তিনি। মায়াকে কোনো রুপ কিছু বলার সুযোগ দেয়নি তিনি। কারণ উনার নিজের কাছেও মায়ার প্রশ্নের উত্তর ছিল না। যদি তিনি এই মূহুর্তে মায়ার সামনে থাকে তাহলে মায়া প্রশ্নের ঝুড়িটা আরও ভারি হবে। যেটা তিনি করতে চাচ্ছেন না। মায়া হেনা খানকে পা চালিয়ে চলে যেতে দেখে মূহুর্তে ঠোঁট উল্টায়। কোনো কিছুই বোধগম্য করতে না পেরে গিয়ে বসে ড্রয়িংরুমে সোফায়। চোখে সামনে এক গাধা নিজের বই দেখে মূহুর্তে মুখ কুঁচকায় বিরক্তি। হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে বই গুলো দেখে রেখে দিয়ে পাশ থেকে টিভির রিমোট হাতে নেই। কোলের উপরে লাল বিড়ালছানার পুতুলটি চাপিয়ে টিভির অন করে মনোযোগ দেয় সেদিকে। ড্রয়িংরুমে টিভির শব্দ কানে আসতেই কোথাও থেকে দৌড়ে আসে মালা। গোল গোল চোখে টিভির দিকে তাকিয়ে ধুপ করে বসে পড়ে মায়ার পায়ের কাছে নিচে ফ্লোরে উপর। মালার হঠাৎ আগমনে খানিকটা চমকে উঠে মায়া। চোখ তুলে তাকায় মালা দিকে। মালা টিভির প্রেমিক মানুষ। তাই যখনই টিভির শব্দ তাঁর কানে পৌঁছাবে তখনই সবকিছু ফেলে টিভি সামনে বসে যাবে। এবার তাই হচ্ছে। দৃষ্টি তার সামনের বিশাল বড় টিভির দিকে। মায়া নড়েচড়ে বসে। ইংলিশ চ্যানেল থাকায়, হাতে থাকা রিমোট দিয়ে সেটি চ্যানেল চেঞ্জ করতে নিবে তার আগেই চেঁচিয়ে উঠে মালা…

–” আফামনি চেঞ্জ কইরেন না। এইডা মেলা সুন্দর একহান ছবি। আমি আগেও মেলাবার দেখছি। এহন আবারও দেখুম। ছবিডা আফনেও দেখেন। সেই একহান দৃশ্য আছে এইডার মধ্যে। আহা! দেখয়াই পরানডা জুড়াই যাই।

মালার পরপর কথায় ভ্রুঁ কুঁচকে তাকায় টিভির দিকে। টিভিতে ইংলিশ মুভির দৃশ্য দেখে খানিকটা বিরক্তি প্রকাশ পায় মায়ার চোখে মুখে। আপাতত এই গুলো তাঁর পছন্দ না। সে কাটুন দেখবে এমটা মনোভাব স্থির করা। কিন্তু মালার নিষিদ্ধ আগ্গায় বিরক্তি নিয়ে বলে মায়া।

–” দেখবো না আমি এসব! বুঝিনা আমি ইংলিশ কিছু।

–” আফামনি এইডা বুঝার লাগবো না হালি দেখলেই হইবো। সেই একহান ছবি! কি জানি নামডা? মনে আইতাছে না তো। কি জানি নাম? হ্ হ্ মনে আইছে! টাইটানিক ছবি এইডা! ছবিডা তো শেষ হইয়া আইছে শেষ জায়গাডা দেইখা চললা যামো আফামনি, পাল্টায়েন না। এহন দুজন কত রোমান্টিক হয়বো ইশ!

মালার কথায় গোল গোল চোখে তাকায় মায়া সেদিকে। বিশাল বড় টিভির স্কিনে ঝলমল করে উঠে দু’জন তরুন তরুনী জাহাজে চওড়ায় দুহাত মেলে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য। মায়া বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে থাকে টিভির দিকে। সময়ে সাথে সাথে খানিকটা মনোযোগ হয় মায়া। টিভির স্কিনে তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত চুম্বন দৃশ্য আসতেই মূহুর্তেই মুখখানা হা হয়ে যায় মায়ার। চোখ বড় বড় করে তাকায় সেদিকে। অনাকাঙ্ক্ষিত চুম্বন দৃশ্য টিভির স্কিনে ঝলমল করতে দেখে মূহুর্তে থমকায় রিদ পিছন থেকে। নিজের রুম থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে এসেছিল কাঙ্ক্ষিত কফির আশায়। কিন্তু ড্রয়িংরুমে এসেই এমন দৃশ্য দেখে থমকে যায়। বিরক্তি নিয়ে কপাল কুঁচকে টিভি চালিতদাতাকে খোঁজা জন্য সামনে দৃষ্টি ফেলতেই চোখে পড়ে নিজের বউকে। যে চমকিত ও আতংকিত অবস্থায় হা হয়ে তাকিয়ে আছে টিভির দিকে। রিদ রেগে দ্রুত সঙ্গে মায়ার থেকে রিমোট কেঁড়ে নিয়ে টিভির অফ করে দেয় মূহুর্তে। আকস্মিক ঘটনায় মায়া ও মালা দুজনই তাল পাকিয়ে যায়। মালা দ্রুততা সঙ্গে বলে উঠে…

–” আফামনি টিভির অফ করলেন কেন? তাড়াতাড়ি দেন আমার চুমু দৃশ্য চইলা যাইতাছে তো।

দ্রুততা সঙ্গে বলে উঠলো মায়া…

–” আমি অফ করিনি তো!

কথাটা বলেই মায়া দ্রুততা সঙ্গে ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই চোখ পড়লো রিদের রাগান্বিত চেহারা। চোখ মুখ শক্ত করে রক্ত চক্ষু তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। মায়া সেদিকে স্থির নয়। রিদের রেগে যাওয়া বিষয়টি বোধগম্য করার চেষ্টাও করে না। চঞ্চল মায়ার ছোট মাথায় চলছে টিভির সেই চুম্বন দৃশ্যটি। যেটা শুরু হওয়ার আগেই রিদের জন্য থামতে হয়। দৃশ্যটি শুরু হওয়ার দুই তিন সেকেন্ডের মধ্যে রিদ টিভি অফ করে দেয় যার জন্য সম্পূর্ণ দৃশ্যটি দেখা হয়ে উঠেনি কারও। তাই সেই দৃশ্যটি সম্পূর্ণ দেখার তাগিদে মায়া সঙ্গে সঙ্গে নিজের দুহাতে রিদের হাত চেপে ধরে রিমোটটি কেঁড়ে নেওয়ার জন্য। জোড়াজোড়ির করতে করতে অবুঝতায় বলে উঠলো মায়া…

–” ভাইয়া! তাড়াতাড়ি দিন না রিমোটটা! বন্ধ করলেন কেন টিভি? আমি দেখবো সেটা! কি হচ্ছে মেয়েটার? ছেলেটা মেয়েটাকে কামড়িয়ে দিচ্ছে তো। মেয়েটা নিশ্চিত এতক্ষণে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। আমি দেখবো তো, আমাকে দেখতে দেন না! ভাইয়া!

–” আফামনি গো এটা কামড়াকামড়ি ছিল না। এটা গভীর চুমু ছিল। এতে কেউ কান্দেনা। মাইয়া ও কানবো না ভালোবাসা পাইবো। ভিষণ ভালোবাসা!

কথা গুলো বলেই মূহুর্তেই জিব্ব কাটে মালা। সঙ্গে সঙ্গে নিজের দুহাতে দিয়ে মুখ চেপে ধরে চোখ উল্টিয়ে তাকায় রিদের রক্ত চক্ষুর দিকে যাহ মালার দিকেই তাক করা ছিল। মালা শুকনো একটা ঢুক গিলে মায়ার দিকে তাকায়। মায়ার বোকা কথার উত্তর দিতে গিয়ে গরগর করে কি থেকে, কি বলে ফিলেছে রিদের সামনেই। রিদ এবার নিশ্চিত তাকে মাথার উপর তুলে আছাড় মারতে মারতে নাড়িভুড়ি সব বেড় করে ফেলবে। আর সেই নাড়িভুড়ি সহ তাকে বেঁধে বুড়িগঙ্গায় ফেলে আসবে এবার। কথা গুলো ভেবেই আবারও কেঁপে উঠে মালা ভয়ে শুকনো ঢুক গিলে বার কয়েক। মায়া তখনো জোড়াজুড়ি করেছিল রিদ থেকে রিমোট নেওয়ার জন্য। কিন্তু মালা কথা গুলো কানে আসতেই মূহুর্তে থেমে গিয়ে আবাক হয়ে বলে উঠে…

–” এই ভাবে কেউ চুমু খায় বুঝি?

মালা মুখ চেপে ধরা অবস্থায় মাথা নাড়ায় যার অর্থ হ্যাঁ খায়! মালাকে মাথা নাড়াতে দেখে বলে উঠে…

–” তাহলে আমি খাব একটা! আয় তোকে খাব!

মালা দুহাতে মুখ চেপে ধরে ছিটকে দুই কদম পিছনে গিয়ে বলে উঠে…

–” ছিহ! ছিহ! আফামনি কি কন এই গুলা! এইসব মাইয়া মানুষরে খাওয়া যায় না। পোলাপান মানুষ লাগে! নয়তো ভালোবাসার মানুষ লাগে। আমি হইলাম নিরিহ মাইয়া মানুষ, এহন যদি আফনে হাতে চুমুর ভার্জিনিটি নষ্ট হয়লে স্বামীরে কি দিমু আমি।

গভীর চিন্তত গলায় বললো…

–” আমার কি তাহলে এখন একটা বিয়ে করতে হবে চুমু খাওয়ার জন্য মালা?

মায়ার বোকা কথার তলে মালার বেসামাল উত্তর দিয়ে যাচ্ছে একে পর এক। রিদ নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে না পেরে নিজের হাতের রিমোটটা সজোরে আছাড় মারে ফ্লোরে। সাথে সাথে শত খন্ডিত হয় রিমোটটি। ফ্লোরে চারপাশে দূর দূরান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এলোপাতাড়ি। রিদের এমন কান্ডে মূহুর্তে উল্টো দৌড় লাগায় মালা ভয়ে কন্ঠে চিৎকার করে হেনা খানকে উদ্দেশ্য বলে…

–” ম্যাডাম গো বাঁচাও…

মায়া ভয়ে চমকে উঠে। রিদের হঠাৎ রেগে যাওয়ায় মূহুর্তেই ভয়ে আষ্টশ হয়ে আসে মায়া। রিদের কোনো রুপ রাগে সাথে মায়া পূব পরিচিত নয়। প্রচন্ড ভয় নিয়ে চোখ তুলে তাকায় রিদের দিকে ভয়াৎ দৃষ্টিতে। রিদ চোখ মুখ শক্ত করে রক্ত চুক্ষে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। রিদের চোখে নিজের চোখ পড়তেই ভয়ে চোখ নামিয়ে নেয় মায়া। ভয়ে সিটিয়ে গিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে পড়ে রিদের সামনে। রিদ মায়াকে ভয় পেতে দেখে নিজের হাত দুটো মুষ্টি বদ্ধ করে নেয় সাথে সাথে। চোখ বন্ধ করে বুক ফুলিয়ে নিশ্বাস নেওয়ার মধ্যে দিয়েই, কিচেন রুমে থেকে দৌড়ে আসে হেনা খান মালার চিৎকারে। চোখে সামনে রিদ ও মায়াকে কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দৌড়ে যান তিনি মায়ার পাশে। দুহাতে মায়াকে জড়িয়ে ধরে বুকে টেনে তাকায় রিদের দিকে ভয়াৎ দৃষ্টিতে। রিদের রাগান্বিত ফেস দেখে বুঝতে পারে রিদ কোনো কিছু নিয়ে ভিষণ রেগে আছে। আর সেটা অনাহেষে মায়াকে নিয়ে হবে। সেটা বুঝার বিন্দু মাত্র বেগিত হয়নি উনার। তাই ভয়ে আষ্টশ হয়ে আরও খানিকটা শক্ত করে জড়িয়ে নেন মায়াকে। তিনি রিদের রাগ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু ছোট মায়া নয়। রিদ সম্পর্কে কোনো ধারণায় নেই মায়ার। তাই এই মূহুর্তে মায়াকে রিদের রাগ থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টায় তিনি। ভয়ে সিক্রি ভেজা কন্ঠে বলে উঠলো হেনা খান…

–” কি হয়েছে রিদ? মায়া কি বেয়াদবি করেছে তোর সাথে?

দম নিয়ে কিছুটা সময় নিজের রাগ নিবারণের চেষ্টা চালায়। নিজের মনে মনে আওড়াতে থাকে ” “কন্ট্রোল ইউর সেলফ” সি ইজ নট ম্যাচুয়েট গার্ল” জাস্ট আ কিড! চোখ খোলে তাকায় রিদ। শান্ত চোখ নিজের দাদীর বুকে মায়াকে ল্যাপ্টিয়ে থাকতে দেখে অতিশয় শান্ত বাণীতে বলে উঠে….

–” আজ থেকে খান বাড়িতে সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ দাদী। টিভি, ফোন, ইন্টারনেট জাতীয় সবকিছু বন্ধ। শুধু দাদাভাইয়ে হাতে একটা ফোন থাকবে অন্য কারও হাতে নয়। বাড়িতে শুধু ল্যান্ড লাইন থাকবে ফোন করার জন্য অন্যকিছু না। এমনকি তোমার হাতেও ফোন থাকবে না। তোমার কারও সাথে ভিডিও কলে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে বাহিরে বডিগার্ড থেকে ফোন চেয়ে নিবে অল্প কিছু সময়ের জন্য। আমি এক্স ফোন তাদের হাতে দিয়ে রাখবো আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য। তারপরও আজকে পর থেকে খান বাড়ির সার্ভেন্ড হোক, শেইফ হোক, দারোয়ান হোক, কাজের লোক হোক ঘরে বা বাহিরের প্রত্যেকটা মানুষ, কেউ খান বাড়ির ভিতরে ফোন ইউস করতে পারবে না একমাত্র বডিগার্ডরা ছাড়া। বাকিরা সবাই খান বাড়ির গেইটের পেরিয়ে যথারীতি ফোন ইউস করতে পারবে। তুমিসহ কেউ কোনো রুপ সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে জড়িত থাকতে পারব না। আমি সব রকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে যাবো দেশ থেকে। আমার কথার অবাধ্য লোক কখনোই খান বাড়ির ত্রিসীমানায় থাকবে না দাদী।

রিদের শান্ত কন্ঠে হুমকি বার্তা গুলো শুনেই কেঁপে উঠে হেনা খান। রিদ কথা শান্ত বংগিতে বললেও প্রতিটা কথায় ছিল এক একটা হুমকির বার্তা। হেনা চমকায়। রিদের হঠাৎ এমন কথার মানে তিনি বুঝতে পারছে না। হঠাৎ করে এতো কঠোর সব নিয়ম কার জন্য বাঁধতে চাইছে রিদ সেটা বোধগম্য হলো না উনার। তিনি খানিকটা উত্তেজনায় বলে উঠলো…

–” কিন্তু কেন রিদ?

নিজের দাদীর কথা উত্তর না দিয়ে নিষ্পূণ চোখে আরও একবার মায়াকে দেখে নেয়। খান বাড়ির থেকে সোজা বের হতে হতে হেনা খান উদ্দেশ্য করে বললো….

–” আমি বলেছি তাই!

চলবে…….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply