দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬৭
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৬৭
মায়া রিদের গলা থেকে মুখ উঠায়। রিদের দিকে তাকিয়ে, অপ্রকাশিত কান্ড আরও একটি করে বসল। পরপর টুপ করে রিদের এ গাল ঐ গালে দুটো চুমু খেয়ে নিল, খুশিতে গদগদ করে বলল..
—” এত্ত গুলা মিস করেছি তো।
রিদ অশান্ত মনে মায়াকে টেনে নিজের উপর থেকে পাশে বসিয়ে সে উঠে দাঁড়ালো ফ্লোরে উপর থেকে ফোন নিয়ে। গায়ের শার্ট টেনে ঝেড়ে ময়লা পরিস্কার করতে নিলে মায়াও ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়াল। রিদের দেখাদেখি সেও রিদের গায়ের হাত দিয়ে ময়লা ঝাড়তে শুরু করে। রিদ হাত থেমে যায় মায়ার কান্ডে। বিরক্তির ক্ষুব্ধ চোখে তাকালো মায়ার দিকে। মায়া রিদের শার্ট ঝাড়তে ঝাড়তে নিচে নেমে যেতে চাইল ভুলবশত। কিন্তু পারলো না। তার আগেই রিদ মায়ার হাত দু’টো ধরে আটকায় প্যান্টের উপর হাত দেওয়া থেকে। মূলত রিদ নিজের ইজ্জত বাঁচাতে মায়ার হাত চেপে ধরে। মায়ার করা তার সাথে পূবের কান্ড গুলো মনে রেখে রিদ এই মূহুর্তে মায়াকে আটকালো নিচে নামতে। এই মেয়ের বিশ্বাস নেই। তাকে অপদস্তক করতে দুই সেকেন্ড সময় নিবে না। তার যেখানে সেখানে হাত দিতে ওস্তাদ এই মেয়ে। ইজ্জত কথা মাথায় রেখে রিদ মায়ার দুহাত ধরে রাগে কটমট করে তাকাল মায়ার দিকে। মায়া বুঝলো না রিদ কেন আটকানো তাকে। সেতো সাহায্য করছিল রিদকে পরিষ্কার হতে। তাহলে? মায়া নিজের হাত মুচড়ে রিদ থেকে ছাড়া পেতে চেয়ে বলল…
—” কিহল ছাড়ুন। ময়লা পরিস্কার করবো না? প্যান্টে ময়লা লেগে আছে তো।
রিদ রাগে কটমট করে মায়াকে ঠেলে নিজের থেকে দূরে সরালো। মায়ার অযাচিত ছুঁয়া রিদ এই মূহুর্তে চাচ্ছে না। তাই ক্ষুব্ধ কন্ঠে দাঁতে দাঁত পিষে মায়াকে হুমকি স্বরুপ বলে উঠে…
—” ফারদার আমাকে ছুঁয়া চেষ্টা করবি না। অথযা রাগ করতে চাচ্ছি না। তোর লোক দেখানো বিয়ে পযন্তই তুই সীমাবদ্ধ থাকবি। আমার কাছে তোর জন্য কিছুই নাই। আমার কাছ থেকে যতটা দূরে থাকবি ততটাই মঙ্গল তোর জন্য। মাইন্ড ইট।
রিদ চলে গেল বাড়ির ভিতরের দিকে। মায়া রিদের কথায় কষ্ট পেয়ে দুঃখ মনে কাঁদতে কাঁদতে পুনরায় রিদের পিছন পিছন যেতে লাগলো। রিদের ভাগ্য ভালো তার আঁচল নেই। যদি থাকতো! তাহলে সেটা ধরে এই মূহুর্তে মায়া রিদের পিছন পিছন ঘুরঘুর করতো। রিদ মায়ার উপস্থিত নিজের পিছনে বুঝতে পেরেও না বুঝার মতো করে সামনে হাঁটছে। ড্রয়িংরুমে পার হয়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠছে রিদ। মায়া তখনো রিদের পিছন পিছন গুনগুন কান্নায় হাঁটছে। রিদ সিঁড়ি শেষ করে উপরে উঠে দাঁড়ালো মায়ার জ্বালায়। এই মেয়েকে সে কি করবে? উফ! রিদ দাঁড়াতেই ঠাস করে মায়ার কপাল বাজলো রিদের পিঠে। মূলত মায়া নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটছিল রিদের পা অনুসরণ করে। রিদ বিরক্তির নিচে ঘুরে দাঁড়া মায়ার সম্মুখে। ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে…
—” কিরে বাবা! কি সমস্যা? কি চাই? পিছন পিছন ছুটছো কেন আমার?
রিদের ঝাঁঝালো কণ্ঠে মায়া আরও কেঁদে উঠে। অশ্রু সিক্ত চোখে রিদের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ভেঙ্গে বলে…
—” তাহলে কই যাবো আমি?
—” জাহান্নামে যাও।
—” না! জাহান্নামে যাওয়া যাবে নাতো। সামনে আমার বিয়ে। দাদী বলেছে বাসার থেকে বের না হতে।
রিদ মায়ার সাথে কথা বাড়ালো না। কথা বাড়িয়েও বিশেষ একটা লাভ হবে না। এই মেয়ের সাথে কথা বলা মানেই তার দূর্বলতা প্রকাশ করা। রিদ দূর্বল না। সে অন্তত শক্তপোক্ত কঠোর মানের অধিকার মানুষ। অল্পতে দূর্বল হওয়াটা তার পার্সোনালিটি সাথে যায় না। অন্তত এই সামান্য পিচ্চি মেয়ের উপর নাই।
রিদ কথা না বলে তিরতির মেজাজে পুনরায় সামনে হাঁটলো। এই মেয়ের সাথে কথা বলা মানেই অথযা সময় নষ্ট। রিদ সামনে হাঁটতেই মায়াও পিছন পিছন হাঁটল পুনরায়। রিদ রাগে হাতের ফোনটা দিয়ে আসিফকে কল করলো। কয়েক সেকেন্ড মধ্যে আসিফ রিসিভ করলো সেটা। রিদ মায়াকে শুনিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে কটমট করে আসিফের ‘হ্যালো’ বলার আগেই বলল…
—” আসিফ, একটি ছুরি, একটা বস্তা নিয়ে দ্রুত আসবি আমার রুমে। আজকে আমার পিছন পিছন গুনগুন কান্না করে আসা সব কয়টাকে ছুরি দিয়ে কেটে বস্তা ভরে দিব। তুই সোজা ডাস্টবিনে ফেলে আসবি।
রিদের কথায় আঁতকে উঠে মায়া। রিদের বিশ্বাস নেই। সে এমনিতেই কথায় কথায় মারে মায়াকে। এখন যদি রিদ সত্যি সত্যি মায়াকে মেরে দেয় তো? তাহলে মায়ার বিয়েটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে না? তাছাড়া এই মূহুর্তে মায়া ছাড়া রিদের পিছনেও তো কেউ নেই। এখন নিশ্চয়ই রিদ মায়ার জন্যই ছুরি আর বস্তা গুলো আনছে। আতঙ্কিত মায়া আর এক মূহুর্তে দাঁড়ালো রিদের পিছনে। কান্না ভুলে প্রাণ ভয়ে ভোঁ দৌড় লাগায় হেনা খানের রুমের দিকে। আপাতত জানটা বাচানো ফরজ মনে করলো। মায়া যেতেই রিদ সেদিকে তাকিয়ে বিরক্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এই মূহুর্তে সবকিছু উপর তার বিরক্তি লাগছে। গুমোট অস্থিরতার কারণে রাগটা বাড়ছে তরতর করে। রিদ রাগী হাতে ফিঙ্গার পিন্ড দিয়ে দরজার লক খোলে রুমে ঢুকলো। ভিতর থেকে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে কি করবে বুঝতে না পেরে রাগের বশে হাতের ফোনটা সজোরে আছাড় মারলো ফ্লোরে। ছিন্নভিন্ন হয়ে ছিটকে পড়লো চারপাশে। রিদ পারছে না, মায়াকে কাছে টানতে। আর না পারছে দূরে সরিয়ে রাখতে। রিদের মায়াকে চাই না। যে বউ স্বামীকে ছুঁয়াকে নোংরা বলে। সেই বউকে রিদ আজীবনও ছুঁয়ে দেখবে না। সে যেমন বউকে ছুঁয়ে দেখবে না। তেমন করে বউকে অন্য কারও কাছে যেতেও দিবে না। রিত কেন তাকে নোংরা বলল? কেন তার ছুয়াকে নোংরা বলে গালি দিল। সে কিভাবে বউকে ছুলে নোংরা, চরিত্রহীন হয় কিভাবে?সময় তখন দশ-টার নাগাদ। জুই মালাকে নিয়ে বাগানে। আয়ন আরাফ খানকে সাথে নিয়ে অনেকটা আগেই বের হয়েছে। সে জুইকে দেখেছিল বাগানে। অল্প সল্প চোখাচোখিও হয়েছিল দুজনের। কিন্তু আয়ন ব্যস্ততার জন্য জুইয়ের সাথে কথা বলতে পারেনি। আয়নের ব্যস্ততার কারণ দুটো। প্রথমত্ব তার বাবার ব্যবসায়ী ঝামেলা হওয়ায় সে একমাত্র ছেলে হিসাবে সাহায্যের হাত লাগিয়েছে তাতে। দ্বিতীয় কারণটা হচ্ছে। রিদের বিয়ের কাজেও হাত লাগিয়েছে আসিফ, আরাফ খানের সাথে। আসিফের কথা অনুযায়ী রিদ নাকি বিগত একমাস আগেই বিয়ের প্রিপারেশন নিয়ে রেখেছিল। সেই অনুযায়ী বিয়ের মেনু, মায়ার বিয়ের শপিং সবকিছুই ইতিমধ্যে করা শেষ। তাছাড়া রিদ নাকি নিজে মায়ার জন্য ডিজাইনাদের বলে স্পেশালি লেহেঙ্গা অর্ডার মেকিং করিয়েছে দুটো। মায়া বিয়ে আর রিসিপশনের পড়ার জন্য। সবকিছুতেই ছিল রিদের পূব প্রস্তুতি। আয়োজন ও বিশাল। দেশের সকল উর্দ্ধতন সমাজের দাওয়াত পরেছে রিদ খানের বিয়েতে আগমন বার্তা হিসাবে। রিদের সেই লিস্ট থেকে বাদ পরেনি তার বিদেশি যোগ সূত্রের কাইন্ডরাও। বিশাল আয়োজনের ঝামেলা ও বেশি। মেনুতে খাবার আইটেম যোগ করতে হচ্ছে বেশ কয়েকটি দেশের। বিদেশিনীরা তো আর বাঙ্গালী খাবার খাবে না, তাই না। তাদের নিজ দেশের খাবার ছাড়া। তাছাড়া বিদেশিনীদের তদারকির জন্য আলাদা সার্ভিস দিতে ফাইভ স্টার হোটেল বুকিং করা হয়েছে দুটো। সিকিউরিটি বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্হাও করা হয়েছে। সবকিছু তদন্তের জন্য আসিফ, আরাফ খান যথেষ্ট হিমসিম খাচ্ছে। সেই সুবাদে আয়নের এগিয়ে আসা। তাছাড়া পিছনের সবকিছু ভুলে সেও এগিয়ে যেতে চাই। সঙ্গী হিসাবে মায়ার বোন জুই বেস্ট লাইফ পার্টনার হবে তার জন্য। মূলত মায়াকে ভুলতে সাহায্য করবে তাঁকে। তাছাড়া জুইয়ের মধ্যে মায়াময় একটা টান আসে তাঁর। হোক সে স্বাথপর। তাতে কি? দুনিয়ায় সবাই তো স্বাথপর। নিজের সুখটা সবাই আগে দেখে। মায়াকে ভুলতে জুইকে আঁকড়ে ধরলে ক্ষতি কোথায়? দিন শেষে সেও সুখী হবে। আজ জুইকে ভালোবাসতে না পারলে কাল ঠিকই ভালোবাসা হয়ে যাবে এতটা আয়নের বিশ্বাস। আয়ন মনস্তাত্ত্বিক বিষয় গুলো চিন্তা ভাবনা করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। আজকাল মনটা অকারণে খারাপ হওয়া থেকে রক্ষা পাচ্ছে জুইয়ের সঙ্গে পেয়ে। এতেই তার শান্তি। গাড়িতে পিছনের সিটের বসা আয়ন পাশে আরাফ খানকে এক পলক দেখে নেয়। তিনি বেশ ব্যস্ততা নিয়ে ফোনে কথা বলছেন। আজ রবিবার। বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হতে আর মাত্র চারদিন হাতে আছে তাদের। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করতে চাচ্ছেন তিনি। আয়ন আলতো হেঁসে নিজের হাতের লিস্টেতে চোখ বুলালো। ফোন তুলে লিস্ট অনুযায়ী কল করবে তার আগেই মনে হলো জুঁই তো আজকে খান বাড়িতেই আছে। সে কি সকালে কিছু খেয়েছে? আয়ন চিন্তিত কপালে ছোট করে মেসেজ করলো জুইকে, ‘ আপনি সকালে নাস্তা করেছিলেন জুই? মেসেজটি পাঠিয়ে আয়ন কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করলো। তার মধ্যেই জুইয়ের ছোট করে উত্তরের মেসেজ আসলো আয়নের ফোনে.. ‘ হুমমম! আয়নের আর প্রশ্ন করা হলো না জুইকে। ব্যস্ততায় সেও কাজে লেগে পরলো পুরো দমে।
মায়া লুকিয়ে চুকিয়ে রিদকে বাসা থেকে বের হতে যেতে দেখছিল। রিদ যেতেই মায়া হেনা খানের রুম থেকে বের হয়েছিল তখন। এদিক সেদিক না গিয়ে সোজা রিদের রুমে গেল। পরিচিত রুমে রিদের ঘ্রাণ পেয়ে বুক ভরা নিশ্বাস টানলো নিজের মাঝে। দীর্ঘ একটা মাস রিদ থেকে, এই রুম থেকে, এই পরিচিত ঘ্রাণটা থেকে মায়া দূরে ছিল। দিন রাত ছটফট করছিল সে এসবের জন্য। আজ মায়া খুশি। ভিষণ রকমের খুশি সবকিছু পুনরায় ফিরে পেয়ে। উৎফুল্লর মায়া খুশি মনে রিদের রুমে ঘুরঘুর করে এটা সেটা ছুঁয়ে দিতে লাগলো। বিছানায় গিয়ে শুলো। গড়াগড়ি করে পুনরায় উঠে বসলো। বালিশ টেনে মাঝামাঝি রেখে বিছানার দুই ভাগে বিভক্ত করলো। দশ, বিশ, থেকে একশো পযন্ত গুনেগুনে ঠিক করলো সে কোন পাশে ঘুমাবে বিয়ের পর। হিসাব করে মায়ার সাইড পড়লো বিছানার বামপাশের আর রিদের ডানপাশে। মায়া এবার রুমের সবকিছুতে হিসাবে করে করে নিজের অর্ধেক ভাগ বসালো রিদের প্রতিটা জিনিসপত্র উপর। বিয়ের পর তো মায়া এই রুমেই থাকবে। তাই আগেভাগে মায়া ভাগে কি কি পরছে সেটা হিসাব করবে না? মায়ার হিসাব নিকাশের পাল্লায় মূহুর্তে রিদের গুছানো পরিপাটি রুমটা এলোমেলো হয়ে গেলে। রিদের প্রতিটা জিনিসপত্র রুমের ফ্লোরে রেখে রেখে দুই ভাগ করলো মায়া। একটা রিদের, অন্যটা মায়ার। মায়ের পাক্কা পরিপক্ক হিসাব-নিকাশ থেকে বাদ পরল না রিদের পায়ের স্যান্ডেল জোড়াও। সমান সমান ভাগ করলো। একটা মায়ার। একটা রিদের। হিসাব তো হিসাবই তাই না। তাছাড়া মায়া তার অধিকার ছাড়বে কেন? মায়ার মিস্টার ভিলেন তো বলেছিল একদিন, ‘ বউ যা আমার তা অর্ধেক তোমার। আমার অর্ধাঙ্গিনী হিসাবে তুমি আমার সবকিছুতে অর্ধেক ভাগ প্রাপ্ত থাকবে সবসময়। কারণ আমার অধেক তুমি। আর আমি তোমাতে পূর্ণ। ব্যস! সেই থেকেই মায়া কথাটা মনে রেখেছিল। আজীবন মনেও রাখবে। সবকিছুর ভাগাভাগি হবে তার স্বামীর সবকিছুতে। মায়া নিজের পায়ের একটা জুতা খুলে রিদের একটা স্যান্ডেল পায়ে পরে নিল। মায়া ছোট পায়ে রিদের জুতো বিশাল বড় সাইজের দেখালো। তারপরও মায়া খুললো না। নিজের ভাগ বসাতেই রিদের একটা স্যান্ডেল পরে রাখলো পায়ে। অন্য পায়ে নিজের উচু জুতা। দুইপায়ে দুই রকম জুতা পরেই মায়া এগিয়ে গেল ফ্রিজে ভাগাভাগি করতে। কিন্তু ফ্রিজ খুলে সাধারণ পানির বোতল, কল্ড ডিংক, বিয়ার ছাড়া অন্য কিছুই পেল না। দুঃখী মনে নাক মুখ খিঁচে ফ্রিজের দুভাগ করলো। তিন পার্টের ফ্রিজের দুটো পার্ট মায়ার, আর একটা পার্ট রিদের কপালে জুটলো। তাছাড়া তখন বিছানার ভাগাভাগিতেও মায়ার ভাগে ছোট বড় চারটা বালিশ পরলো। আর রিদের ভাগে দুটো। তাও বিছানার সবচেয়ে অসুন্দর ও দূর্বল বালিশ দুটোই রিদের ভাগে জুটলো। ভাগাভাগি শেষ মায়া চলে যেতেই দেখলো ফ্লোরে একপাশে রিদের ফোন ভেঙ্গে দুই টুকরো হয়ে পরে আছে। মায়া এগিয়ে গিয়ে সেটা নিয়েও দুভাগ করে একটা রিদের সাইডে রাখল। অন্যটা মায়ার সাইডে। ভাগাভাগি শেষ মায়া চলে গেল নিচে। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে মায়া এপাশ ওপাশ ল্যাংড়া হয়ে হাটছে। তারও যথেষ্ট কারণ আছে। মায়ার এক পায়ে নিজের হিল জুতা পরায় তো অন্য পায়ে রিদের স্যান্ডেল যার জন্য মায়ার ব্যালেন্স রাখতে উপর নিচ হয়ে হাঁটতে হচ্ছে। মায়াকে এমন করে হাটতে দেখে হেনা খান এগিয়ে এসে চমকিত গলায় প্রশ্ন করলো মায়াকে…
—” সোনামা তুই এইভাবে হাঁটছিস কেন? কি পরেছিস এই গুলা? দুই পায়ের, দুই জুতা পরে আছিস কেন? এতো বড় স্যান্ডেল কার?
মায়া ল্যাংড়িয়ে নিচে নামতে নামতে ভাবলেন্স উত্তর করলো…
—” তোমার নাতির।
—” রিদের জুতা তোর পায়ের কেন তাহলে?
—” এটা আমার ভাগের জুতা দাদী।
হেনা খান বিস্মিত হতবাক কন্ঠে বললো..
—” তোর ভাগের জুতা মানে?
মায়া হেনা খানকে সবটা বলে গিয়ে বসলো ড্রয়িংরুমের সোফায় উপর। সবটা৷ শুনে হেনা খান বেশ একটা অবাক হলো না। কারণ তিনি জানেন মায়া কেমন। তাছাড়া তিনি সবচেয়ে বেশি বুঝেন মায়ার চঞ্চলতাকে। এমন অংসখ্য ঘটনা আছে মায়ার চঞ্চলতাকে ঘিরে। গত আড়াই বছরে তিনি খুব কাছ থেকে মায়াকে লক্ষ করেছে। মায়া চঞ্চল হরিণী বলেই রিদকে দেশে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে তিনি। মায়ার মধ্যে কখন ডুবে গেছে সেটা হয়তো রিদ ও বুঝতে পারেনি। মায়া আছে বলেই খান বাড়ির ভরপুর ভরাট হয়ে থাকে সবসময়। মায়া চঞ্চলতা কারণে মনে হয় বাড়িতে মানুষ আছে। উনার বাড়িটা আর শূন্য নেই। পূর্ণতা বসাবাস। মায়ার সময় নিয়ে ড্রয়িংরুমে বসছিল। কিন্তু হঠাৎ দুজন সার্ভেন্ডকে বড় বড় দুটো কাটুনের বক্স নিয়ে রিদের রুমে যেতে দেখে মায়াও কৌতূহল বশত ড্রয়িংরুম ছেড়ে তাদের পিছন পিছন পুনরায় রিদের রুমে গেল। গিয়ে দেখল সার্ভেন্ড গুলো বক্স থেকে মায়ার পছন্দের মজার মজার খাবার রিদের ফ্রিজে তুলে রাখছে। মায়া তখন কিছু বললো। সময় নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলো সেখানে। সার্ভেন্ডরা খাবার গুলো ফ্রিজে তুলে রেখে চলে যেতেই মায়া লাফিয়ে গেল ফ্রিজে কাছে। ফ্রিজ খুলে তৎক্ষনাৎ চকলেট কেক বের করে খেতে বসলো ফ্লোরে। মায়ার ভাগের ফ্রিজের পার্ট গুলোতে খাবার গুলো রেখেছে তারমানে এখন এসব খাবার মায়ার। যদি রিদ মায়াকে কিছু জিগ্যেসা করে তাহলে মায়া বলবে, মায়া কিছু জানে না। সে দেখিনি কে খেয়েছে?
মায়া খেয়েদেয়ে উঠে দাড়ালো। নিজের ওড়নায় করে চকলেট, আইসক্রিম, চুরি করে বের হয়ে গেল। যদি রিদ চলে আসে তাহলে মায়াকে তো আর খেতে দিবে না। তাই মায়া বুদ্ধি করে নিজের জন্য ও সবার জন্য চকলেট, কোণ আইসক্রিমের পুরো বক্স নিয়ে সোজা গেল নিচে। একা খেল না কোনো কিছু। ভাগাভাগি করে সবাইকে দিয়ে খেল। বাড়ির ভিতরের সার্ভেন্ডদের সহ চকলেট, আইসক্রিম দিয়ে খেল। সেদিন দুপুরের মায়া আর ভাত খেল না। খাবে কিভাবে? পেটে অবশিষ্ট জায়গায় থাকলে তো খাবে তাই না। সারাদিন মুখ চালিয়ে এটা সেটা খেল রিদের ফ্রিজ থেকে নিয়ে কিছুক্ষণ পরপর। সেদিন জুই মালা ও মায়ার সাথে সাথে ভাত খেল না। মায়ার রিদের রুম থেকে চুরি করে আনা খাবারই খেল সারাদিন। মায়াকে নিয়ে সেদিন আর কেউ শপিংয়ে যায়নি। যেহেতু মায়ার বিয়ের শপিং রিদ পূব থেকে করে নিয়েছে। তাই সেখানে নতুন করে কোনো ঝামেলায় জড়ালো না কেউ। তবে হেনা খান আশেপাশের প্রতিবেশীদের দাওয়াত পাঠাচ্ছে কার্ড দিয়ে দিয়ে। সকাল থেকে দুপুর! দুপুর থেকে বিকাল গড়ালো প্রত্যেকের ব্যস্ততায়। খবর পেয়ে পাশে বাড়ির একজন মহিলা হাজির হলো উনার গর্ভবতী মেয়ে আর বয়স্ক জা-কে নিয়ে। সবাই মূলত রিদের বউকে দেখতে এসেছে খান বাড়িতে। মায়া তখনো বাগানে ঘুরঘুর করছিল জুই মালার সাথে। হেনা খান সার্ভেন্ড দিয়ে নাস্তা দিল তাদের। মায়াকেও ডেকে পাঠালো। মায়া আসলো। কিন্তু জুই তখনো বাগানে। অপরিচিত মানুষদের দেখে খানিকটা চুপচাপ হয়ে গেল মায়া। গোল গোল চোখে সবাইকে পযবেক্ষণ করতেই চোখ পরলো নয়মাসের গর্ভবতী মেয়েটিকে। উপস্থিত মহিলাদের দৃষ্টিও মায়ার উপর ছিল। হেনা খান হাতের ইশারায় ডাকলো মায়াকে নিজের পাশে। মায়া ধীর পায়ে উনার পাশে বসতেই একহাতে হেনা খান মায়াকে জড়িয়ে নিয়ে রিদের বউ হিসাবে পরিচয় করালো সবার সাথে। মায়ার পরিচয় পেয়ে পাশ থেকে বয়স্ক মহিলাটি বলে উঠে…
—” মাশাল্লাহ! রিদের বউ তো ষোল আনা সুন্দরী। কিন্তু
মেয়েটা বেশি ছোট হয়ে গেল না রিদের বউ হিসাবে চাচি? রিদ খানের মতো মানুষকে সামলাতে পারবে তো? রিদ যে রাগি পুরুষ।
হেনা খান অন্তত গম্ভীরতার সঙ্গে বলেন…
—” রিদ রাগ দরজা বাহির অবধি ঘরের জন্য না জুলি। রিদ নিজের আপনজনদের আঘাত করে না। তাছাড়া রিদের পছন্দ মায়া। রিদ তার ভালোবাসার মানুষ গুলো আগলে রাখে। অযত্ন করে না। সেই ক্ষেত্রে নিজের বউয়ের অযত্নে ও করবে না।
হেনা খানের কথায় আর কেউ কথা বাড়ালো না। রিদ খান সম্পর্কে বাজে কথা বলা মানেই বিপদ। জুলি নিজের বিপদের ভয়ে চেপে গেল। হাসি মুখে হেনা খানের সাথে কথা বলতে লাগলো। কিন্তু তখনো মায়ার দৃষ্টি ছিল গর্ভবতী মেয়েটির দিকে। মেয়েটিকে মায়ার চোখে কেমন ক্লান্তময় লাগছিল। ভারি পেট নিয়ে উঠতে বসতেও কষ্ট হচ্ছিল। মায়া বেশ করে লক্ষ করলো মেয়েটিকে। মায়ার দৃষ্টির বুঝে গর্ভবতী মেয়েটি হেঁসে উঠে, নিজের কাছে ডাকলো মায়াকে। মায়াও সুন্দর করে হেনা খানের পাশ থেকে উঠে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলো। হেনা খান তখনো দু’জন মহিলাদের সাথে কথায় ব্যস্ত ছিল। গর্ভবতী মেয়েটি মায়ার গাল টেনে বলল…
—” তুমি কিন্তু অনেক কিউট। জানো সেটা?
মায়া গোল গোল চোখে মেয়েটির হাসি মাখা মুখের দিকে তাকাল। মায়ার একটা হাত নিজের হাতে নিয়ে পুনরায় বলল মেয়েটি…
—” রিদ ভাই নিশ্চয়ই তোমাকে অনেক ভালোবাসে তাই না?
মায়া মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি জানি বলল…
—” না বাসে না।
—” কেন?
—” উনি বলেছে, আমার সাথে উনার লেনদেনের সম্পর্ক। তাই ভালোবাসবে না।
মেয়েটি হেঁসে উঠে মায়ার অবুঝ কথায়। তাকে যে অল্প সময়ের মধ্যে হাসাতে পারে সেখানে, নিশ্চয়ই রিদকেও সারাদিন হাসায়? এই জন্যই হয়তো রিদ খান এতো আয়োজন করে পুরো শহর জানিয়ে বিয়ে করছে এই মেয়েকে। মেয়েটি হাসি মুখে মায়াকে বলে…
—” তুমি জানো তুমি মিষ্টি করে কথাও বলো?
মায়া মেয়েটির কথা উত্তর দিল না। বরং পাল্টা প্রশ্ন করে বলল…
—” তোমার পেটে কয়টা বাবু?
মায়ার দৃষ্টি অনুসরণ করে মেয়েটি নিজের পেটের দিকে এক পলক তাকায়। অল্প বয়সে আদুরে সহিত একটা হাত রাখলো নিজের পেটের উপর। হাসি মুখে পুনরায় চোখ তুলে তাকায় মায়ার দিকে। মায়াময় স্নিগ্ধ কন্ঠে বলল..
—” একটা।
—” মেয়ে বাবু না ছেলে বাবু হবে?
—” ছেলে বাবু হবে।
মায়া নড়েচড়ে বসে পুনরায় বলল…
—” একটু ধরে দেখি তোমার বাবুকে।
মেয়েটি হাত টেনে নিজের পেটে উপর মায়ার হাত দুটো রাখল। খানিকটা সময় মায়া মেয়েটির পেট ধরে বসে থাকতেই হঠাৎ চমকিত গলায় মায়া বলল…
—” বাবু নড়েছে। বাবু নড়েছে। আমি বুঝেছি বাবু নড়েছে।
মায়ার খুশি দেখে মেয়েটিও হেঁসে উঠে বলল…
—” এখন তো তোমারও বিয়ে হচ্ছে। খুব জলদি
তোমার পেটেও এমন একটা বাবু চলে আসবে। দেখিও।
মায়া ঠোঁট প্রসারিত করে হেঁসে মেয়েটিকে পাঁচ আঙ্গুল দিয়ে বলল..
—” আমার পাঁচটা বাবু হবে। একটা বাবু দাদীর কাছে থাকবে। একটা বাবু দাদাজানের কাছে থাকবে। একটা বাবু আমার। আর বাকি দুটো উনার কাছে থাকবে। হিসাব করে মোট পাঁচটা বাবু হবে আমার।
—” বাব্বাহ! এতো বড় প্লানিং তোমাদের। সোজা পাঁচটা বাচ্চা? রিদ ভাই তো হেব্বি রোমান্টিক মানুষ। সুন্দরী বউ পেয়ে এতো ভালোবাসা তার।
মায়া লাজুক হাসলো। আরও কিছুক্ষণ বসে মেয়েটির সাথে গল্প করলো। মেহমানরা চলে যেতে যেতে মাগরিব পার হলো। তখন ভর সন্ধ্যা। হেনা খান পুনরায় মেহমানদের লিস্ট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরলো মেহেরবানকে নিয়ে। মেহেরবান ঘন্টা খানিক আগে এসেছিল খান বাড়িতে। বর্তমানে তিনিও নিজের মায়ের সাথে বিয়ের কাজে পুরো দমে ব্যস্ত। মায়া ড্রয়িংরুম থেকে উঠে টইটই করতে করতে গেল রিদের রুমে। দরজা খুলা পেয়ে নির্দ্বিধায় ঢুকলো। আশেপাশের সবকিছু অগোছালো আগের মতোই দেখল। শুধু বিছানায় ভাঁজ করা রিদের নতুন শার্ট প্যান্ট দেখতে পেল। মায়া এগিয়ে সেদিকে। রিদের প্যান্ট শার্ট হাতে তুলে আয়নার সামনে দাঁড়াল। ভাঁজ করা কাপড় গুলো অগোছালো করে নিজের জামার ভিতর ঢুকাল দলা মুচড়ে পাকিয়ে। প্রেগন্যান্ট মহিলাদের মতো নিজের একটা বড় পেট বানালো বেবিবাম্পের। মোট কথা তখনকার মেয়েটিকে কপি করতে চাইল মায়া। তাই একহাত পেটে রেখে অন্য কমড়ে রাখল। অনেকটা ক্লান্তময় শরীরে বানানোর চেষ্টা করে, ধীরে ধীরে আয়নার সামনে হাঁটল পেট ভাসিয়ে। নিজেকে প্রেগন্যান্ট মহিলা বানাতে সবটুকু সফলই হয়েছিল মায়া। তবে বিপত্তি ঘটলো রিদকে নিয়ে। মূলত রিদের আচানক আগমন নিয়ে। রিদ যে রুমে ছিল সেটা জানতো না মায়া। কখন এসেছিল তাও জানা নেই মায়ার। যখন রিদ ওয়াশরুমের দরজা খট করে খুলে বের হয় তখন বুঝতে পারে দু’জনই একে অপরের উপস্থিতি। কয়েক সেকেন্ড মধ্যে থমথমে খেয়ে যায় দু’জনই। মায়া চমকে উঠে আয়নার ভিতর দিয়ে রিদের দিকে তাকাতেই, চোখে পরলো আকাশ সমান বিস্ময়কর রিদের চেহারাটা। মায়া যতটুকু না রিদকে এই মূহুর্তে রুমে দেখে চমকিয়েছে তার থেকে হাজার গুণ রিদ চমকিয়েছে তার বউকে দশমাসে বেবিবাম্প নিয়ে ঘুরতে দেখে। মায়া রিদের বিস্মিত শকটবূহ্য দৃষ্টি এরিয়ে পেটে ধরে ধীরে ধীরে হেঁটে গিয়ে বসলো সোফায়। নিজের ভারি শরীরটা সোফায় এলিয়ে দিয়ে পেটে হাত রাখল। রিদ তখনো হা হয়ে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। সে-তো, তার বউকে সকালে ঠিক রেখে গিয়েছিল তাহলে কয়েক ঘন্টার মধ্যে তার বউ প্রেগন্যান্ট হয় কিভাবে? তাও দশমাসের। যেভাবে তার বউ ক্লান্তিময় শরীর নিয়ে টেনে টেনে হাঁটছে মনে হচ্ছে আজ কালকের মধ্যে তাঁকে ডেলিভারিতে নিতে হবে রিদের। হতবাক! হতবুদ্ধি রিদ একটা কথাও বলতে পারলো না। বিস্ময় যেন তার গলা চেপে আছে। রিদের বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগলো বিস্ময়কর রেশ কাটাতে। রিদ মায়া থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ওয়াশরুমের দরজা ছেড়ে এগিয়ে গেল বিছানার দিকে। ভেজা শরীরে কমড়ে সাদা টাওয়াল বেঁধে নিজের শার্ট প্যান্ট খুঁজতে লাগল চারপাশে হন্য হয়ে। কোথাও পেল না। মায়া হা হয়ে তাকিয়ে তাকলো রিদের ভেজা শরীরে দিকে। সে আগে কখনো রিদকে এইভাবে খালি শরীরে দেখেনি। লজ্জায় মায়ার নাক মুখ লাল হয়ে যেতে দু’হাতে নিজের মুখ ঢেকে নিল তৎক্ষনাৎ। রিদের বিরক্তি বাড়ে। রাগ হয় নিজের শার্ট প্যান্ট কোথাও খুঁজে না পেয়ে। রিদ বিরক্তি হাতে এটা সেটা উল্টিয়ে নিজের কাপড় গুলো খুঁজে। খট খট শব্দে মায়া মুখ থেকে হাত সরিয়ে দেখল রিদ হন্য হয়ে কিছু একটা খুঁজে চলছে। কিন্তু কি? সেটা বুঝতে না পেরে কৌতূহল বশে প্রশ্ন করে মায়া…
—” কি খুঁজছেন আপনি?
রিদ মায়াকে না দেখে খুঁজার অনুসন্ধান জারি রাখলো। বিরক্তি কন্ঠে বলল…
—” নান অফ ইউর বিজনেস। জাস্ট আউট অফ মাই রুম।
রিদের অপমানে মায়া বের হতে চাইল। রাগের বশে ধুম করে সোফা থেকে দাঁড়িয়ে পরতেই, মায়ার বানানো পেট খুলে পরল মাটিতে। মায়া খানিকটা চমকে উঠে আকস্মিক ঘটনায়। তাই দ্রুততার সঙ্গে ঝুকে ফ্লোর থেকে রিদের শার্টটি তুলার আগেই সেখানে ঝড়ে গতিতে হাজির হয় রিদ। মায়ার শার্টটি তুলার আগেই রিদ সেটি তুলে নিল নিজের হাতে। চমকে উঠে উত্তেজিত ভঙ্গিতে চিৎকার করে বলল…
—” এ্যা আমার বেবি। দিন আমার বেবি দিন।
মায়া জোড়াজুড়ি করলো রিদ থেকে শার্টটি ছিনিয়ে নিতে। কিন্তু রিদ দিল না। বরং রিদ রাগি চোখে কটমট করে তাকাল মায়ার দিকে। তার নতুন ইনটেক শার্টটির বারোটা বাজিয়ে রেখেছে মায়া দলা মুচড়া পাকিয়ে। মায়া পুনরায় রিদের হাত থেকে শার্ট টানতে চেয়ে বলল..
—” আরে এটা আমার বেবি। ছাড়ুন না আমার বেবিকে।
রিদ মায়া থেকে নিজের শার্ট কেঁড়ে নিয়ে বুঝতে পারলো তার প্যান্টও মায়ার পেটেই বাঁধা। রিদ মায়ার থেকে অবশিষ্ট প্যান্টটি নিতে চাইলে মায়া এবার লাফিয়ে উঠে পিছিয়ে যায়। সে কিছুতে তার বেবি রিদকে দিবে না। রিদ মায়াকে চেপে ধরে সোফায় ফেলে একহাতে মায়ার দুহাত বেঁধে, জোড়াজুড়ি করে মায়ার জামা ভিতর থেকে প্যান্ট বের করলো টেনে। রিদের সাথে জোড়াজুড়ির শক্তিতে না পেরে মায়া কষ্টে কেঁদে উঠল। রিদ মায়াকে ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। মায়াকে কাঁদতে দেখে জোরে ধমকও লাগাল চুপ করতে। মায়া শান্ত হলো না। রিদ পুনরায় ধমক স্বরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
—” গেট আউট।
মায়া কেঁদেকুটে সোফার উপর সোজা হয়ে বসতে বসতে বলল…
—” ইউ গেট আউট। আমি যাব না কোথাও। এই রুমের অর্ধেক ভাগ আমি পায়। এটা আমারও রুম হয়। আমি এখানেই থাকবো। আপনি বের হন। কিছু হলেই আমাকে রুম থেকে বের করে দেয়।
রাগে কটমট করে রিদ মায়াকে উপর থেকে নিচ পযন্ত পযবেক্ষণ করলো। মায়া পায়ে নিজের জুতা দেখে সেটাও নিতে চাইল। মায়া দিল না তার ভাগের জুতা বলে। রিদ পুনরায় মায়ার পায়ে হাত দিয়ে জোড়াজুড়ি করতেই ঘটল অপ্রত্যাশিত ঘটনা। কমড়ে বাঁধা রিদের টাওয়ালটা ছুটে যেতে চাইলে রিদ দ্রুত হাতে আঁকড়ে ধরে সেটা। নিজের ইজ্জত বাঁচালো। কিন্তু মায়া চোখ বড় বড় করে রিদের দিকে তাকিয়ে থাকল। এক মূহুর্তের জন্য নিজের কান্না ভুলে গেল লজ্জায়। মায়ার শরমের মরণ হয়ে তৎক্ষনাৎ দু’হাতে মুখ ঢেকে নিল পিছন ঘুরে। রিদ টাওয়াল বেঁধে ঠিক করে মায়ার দিকে তাকাতেই মায়া লজ্জা ভোঁ দৌড়ে বের হয়ে গেল রুম থেকে। এই মূহুর্তে সে কিভাবে দাঁড়াবে তার মিস্টার ভিলেনের সামনে। মায়া লজ্জা লাগবে না বুঝি? মায়াকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখে কপাল কুঁচকায় রিদ। মায়া লজ্জার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্বস্তিরশ্বাস ফেলার আগেই মায়া পুনরায় রিদের দরজা গুলিয়ে মাথা বের করে উঁকি মারলো। রিদ তাকাতেই মায়া দুষ্ট হেঁসে বলে…
—” আমি দেখে ফেলেছি।
রিদ প্রথমে বুঝতে না পেরে বিরক্তি নিয়ে বলল…
—” কি?
—” কালো! কালো ছিল।
—” মানে?
—” আপনার ছোট কাপড় কালো ছিল। আমি দেখে ফেলেছি।
রিদ বুঝতে পারলো তার আন্ডারওয়্যারের কথা বলছে মায়া। তখনকার এক্সিডেন্টে দেখেছে হয়তো।
রিদ তেড়ে আসতে চাইল মায়ার দিকে। তার আগেই মায়া দৌড়ে পালিয়ে গেল। রিদ থামতেই মায়া পুনরায় উঁকি মেরে রিদকে জিব কেটে বেঙ্গ করে গেল। মায়ার পাগলামিতে রিদের ঠোঁটে সূক্ষ্ম হাসির রেখা ফুটে উঠলো তৎক্ষণাৎ। কিন্তু সময়ে ব্যবধানে রিদ পুনরায় গম্ভীর মুখের হয়ে উঠে নিজের শার্টের দিকে তাকিয়ে। এসব পরা আর তার পক্ষে পসিবল না। দুমড়ে মুচড়ে দলা পাকিয়ে আছে সবকিছু। তাঁকে এই সন্ধ্যায় পুনরায় কাজের সাইডে যেতে হবে। তারপর বিয়ের ভেন্যুতে। তাই দ্রুত চেঞ্জ না করলেই নয়।
.
(কাল ছোট করে হলেও একটা পার্ট দিব ইনশাআল্লাহ)
চলিত….
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৮
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি গল্পের লিংক
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১০+ বর্তীতাংশ