দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৭
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৫৭
তোড়জোড় করে বিয়ের শপিংয়ের কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই। ইতিপূবে মায়া পরিবারও উপস্থিত হয়েছে ঘন্টা তিনেক আগেই। শফিকুল ইসলাম আর উনার স্ত্রী রেহেনা বেগম ছাড়া বাকি সবাই উপস্থিত হয়েছে সেই কেনাকাটায়। আরিফ জুইয়ের সাথে তাদের বোন মুক্তাও এসেছে স্বামী সন্তান দেবর নিয়ে। চার বছরের একটা ছেলে সন্তান তাদের। নাম তার মাহাদী সরকার। বাবা শাহিনের হাত ধরে ধরেই এদিকসেদিক ঘুরাফেরা তার। শুভও এসেছে। আরিফ ফোন করেছিল আসতে। সেও ইতিমধ্যে বসুন্ধরা শপিংমলে উপস্থিত। শুভর অবস্থানটা আপাতত জুইয়ের আশেপাশেই আছে। ফিহা, মায়া, হেনা খান মেহেরবানের সাথে এসেছে। বাকি ছেলেরা কেউ আসেনি। তারা রাতে মহলে নিজস্ব কেনাকাটা করে নিবে। বা হেনা খান ছেলেদের জন্য কেনাকাটা করে নিবে ডিজাইনার দিয়ে এমনটাই ঠিক করা হয়। খান বাড়ির পক্ষ হতে আপাতত আর কেউ আসেনি। তবে হেনা খানের বড় মেয়ে শাহেরবান আজ রাতের ফ্লাইটে লন্ডন থেকে ফিরছেন ফিহার বিয়ের উপলক্ষে স্বামী সন্তানদের নিয়ে। সবটাই ঠিকঠাক পূবে থেকে। তাই এই মূহুর্তে সবার মনোযোগ ব্যস্ত শপিংয়ে। মায়া চুপচাপ বসে আছে হেনা খানের পাশে রিদের কথা অনুযায়ী। আপাতত তার কাজ না থাকায় অলসতায় খানিকটা ঘুমে ঝিমাচ্ছে। অর্ধরাত্রি নিঘুমে ফলে। ঝিমিয়ে পড়া মায়া হঠাৎই চমকে উঠে হেনা খান তার হাত চেপে ধরায়। তিনি মায়াকে নিয়ে যান মেয়েলি অন্য সেক্টরে ড্রেস কোডে। শাড়ি, লেহেঙ্গা, পাকিস্তানি থ্রি-ফিস, সারারা, গাউন, চুরিদার সবকিছু আলাদা আলাদা সেক্টর করে ভাগ করা। হেনা খান মায়ার জন্য নিজ পছন্দ অনুযায়ী সবকিছু উল্টিয়ে উল্টিয়ে দেখছেন মায়ার গায়ে ধরে ধরে। মায়া অনেকটা পুতুল ন্যায় দাঁড়িয়ে রইলো জায়গায়। পছন্দ অপছন্দ বলতে কিছুই নেই। কেনাকাটার মধ্যে হঠাৎই উপস্থিত হলো মেহেরবান। হেনা খান তখন সবেমাত্র হাতে নিয়েছিল মায়ার জন্য সিঁদুর রঙ্গা লাল টুকটুকে একটি লেহেঙ্গা। যার সবকিছুই ছিল সিঁদুর লাল। স্টোন ওয়ার্ক, পাথর, পুঁতি, মুতি, চুমকি সবকিছু ছিল সিঁদুর লালের মধ্যে। অসম্ভব সুন্দর দেখতে ছিল লেহেঙ্গাটি। হেনা খান মায়ার জন্য সিলেক্ট করতেই পাশ থেকে মেহেরবান বলে উঠে…
—” মা এই সাইজের আরও একটা নাও। দুটো প্যাক করো।
হেনা খান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পিছন ঘুরে তাকায় মেহেরবানের দিকে। কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ ফেলে প্রশ্ন করলেন তিনি মেহেরবানকে…
—” একিই ডিজাইন, একিই সাইজের দুটো দিয়ে কি করবো? মায়ার সাইজ কি ফিহার হবে? ফিহা লম্বা বেশ, বডি দিয়েও আসবে না। তাহলে দুটো নিব কেন?
মেহেরবান মায়ের কথায় তৎক্ষনাৎ উত্তর করাটা যুক্তযু্ক্তি বলে মনে করলেন না। বরং তিনি সময় নিয়ে অন্তত গম্ভীর মুখে বললেন..
—” তোমাকে নিতে বললাম তুমি নাও। আমার মায়ার সাইজটায় লাগবে।
হেনা খান কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না কারণ মেহেরবান কিছু বলার সুযোগ দিলনা। তিনি অন্তত গম্ভীর মুখে শাড়ি থ্রি-পিস এর সেক্টরে চলে যান। হেনা খান কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরে তিনি চুপ করে যান। বিষয়টি নিয়ে আর মাতামাতি করলেন না। তবে দু’টো একিই ডিজাইনের লেহেঙ্গায় নিলেন। সাথে অন্যান্য ড্রেসও নিলেন যাহ যাহ প্রয়োজনীয় মায়ার জন্য। কেনাকাটার একটা পযার্য়ের সবাইকে চমকে দিয়ে হাজির হলো আয়ন, তার বাবা নাহিদ চৌধুরী ও আরাফ খান। সবাই নরমাল ড্রেসে আবদ্ধ। বুঝায় যাচ্ছে তারা শপিংয়ে জন্য সবাইকে চমকে দিতে এসেছে। আয়নের মলের কাঁচের দরজা টেনে ভিতরে প্রবেশ করতেই প্রথমে চোখ গেল হেনা খানের সামনে বসে থাকা মায়ার দিকে। ট্রে-ভতি খাবার নিয়ে বসে আছে একটা চারবছর পিচ্চি ছেলেকে সাথে নিয়ে। দু’জন মিলেই সেই খাবার গুলো ভাগাভাগি করে খাচ্ছে। আপাতত তাদের আশেপাশে শপিং কোনো মনোযোগ নেই। মায়ার দু’হাতে মধ্যস্হে বার্গার রেখে পরপর বড় বড় কামড় বসিয়ে শেষ করছে সেটা। ছোট বাচ্চাটিও মায়ার মতো করে দেখে দেখে একিই নেয় হাতে বার্গারে বড় বড় কামড় বসাতে চাইছে। আয়ন পা দুটো খানিকক্ষনের জন্য স্থির হয়। দরজা টেনে ভিতর প্রবেশ করতে গিয়েও থেমে যায় মায়াকে দেখে। আজকাল মায়ার বোরকা পড়াটাও আয়নের কাছে মুগ্ধ হওয়ার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। ভালোবাসার মানুষ বলে হয়তো আয়ন এতটা মুগ্ধ হয়ে পড়ে মায়ার সবকিছুতে। হেনা খানের ডাকে আয়নের টনক নড়লো। মায়া থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে মেঝেতে তাকালো। দীর্ঘ দিনের জমানো মায়ার প্রতি ভালোবাসা তার। সহজে ভুলার নয়। তারপরও মনে মনে নিজেকে কঠোর ভাবে শাঁসালো আয়ন মায়াকে না দেখার জন্য। তপ্ত শ্বাস ফেলে চোখ তুলে উপরে তাকাতেই চোখাচোখি হলো জুঁইয়ের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সাথে। হয়তো এতক্ষণ যাবত জুইও আয়নকে পযবেক্ষণ করছিল মায়াকে এই ভাবে দেখা নিয়ে। আয়ন জুইয়ের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বুঝেও না বুঝার মতো করে স্বাভাবিক আচরণ করলো। কাঁচের দরজা টেনে মলের ভিতরে ঢুকলো। আরিফ, শাহিন, শুভ, মুক্তা সাথে কুশলাদি বিনিময় করে আরিফকে নিয়ে গেল ছেলেদের ড্রেস সেক্টরে। জুইয়ের প্রতি মনোযোগ দিল না আর। দীর্ঘ কেনাকাটার মধ্যে দিয়েই সবাই বের হয়ে আসলো শপিংমল থেকে। গাদাগাদি শপিং ব্যাগের জায়গায় হলো গাড়ির পিছনের ডিক্কিতে। প্রত্যেকের গাড়িতে যার যার শপিং ব্যাগ গুলো ভরে রাখার মধ্যে দিয়ে মেহেরবান হাজির হলো জুইয়ের সামনে। জুই অপদস্তক ভঙ্গিতে উনার সামনে দাঁড়াতে মেহেরবান গম্ভীর মুখে আকস্মিক ভাবে জুইয়ের হাত টেনে ধরে কিছু শপিং ব্যাগ গুঁজে দিতে দিতে শক্ত গলায় বলল…
—” নাও! এই গুলো তোমার। কিছু ড্রেস আছে এতে। আশা করছি তোমার পছন্দ হবে।
অপদস্তক জুইঁ অবিশ্বাস্য নেয় তাকালো মেহেরবানের দিকে। আপাতত মেহেরবান কথা ও কাজ সবকিছুই জুইয়ের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। জুই বিষয়টি বুঝতে না পেরে অবিশ্বাস্য গলায়…
—” জ্বিই??
তীক্ষ্ণতার ভাজ মেহেরবানের গম্ভীর চোখে মুখে আছন্ন। জুইয়ের চোখে ধরা পড়লো মেহেরবান সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টির প্রখরতা। জুইয়ের এই মূহুর্তে কি বলা উচিত বা করা উচিত সেটা বুঝলো না। প্যাকেট গুলোও হাতের ভাঁজে গুঁজে আছে। মেহেরবান জুইয়ের সামনেই দাঁড়ানো। তিনি জুইয়ের অবুঝ দৃষ্টিতে এরিয়ে পুনরায় শক্ত গলায় বললো…
—” ভাইয়ের বিয়ে লাফালাফি মাতামাতির কম করবে। বাড়ি বউরা উগ্র হবে সেটাও আমার পছন্দ না। যদিও তোমার আমাদের পক্ষে হয়ে বিয়েতে এটেন্ড করার দরকার ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি সুবিধার না বলেই চুপ থাকলাম। ধরো শাড়ি গুলো বিয়েতে পড়বে। যাও এবার!
হতবাক জুই হা হয়ে তাকিয়ে রইলো মেহেরবানের মুখের দিকে। শকটের কারণ নড়াচড়া বন্ধ। মেহেরবান জুইকে নড়াচড়া করতে না দেখে, তিনি বিরক্তি নিয়ে চলে যান নিজের গাড়ির দিকে। অপদস্তক জুই চমকে তাকিয়ে থাকলো মেহেরবানের যাওয়ার দিকে। জুইয়ের ক্ষুদ্র মাথায় এতোটা আঁটছে না, মেহেরবান কি জুঁইকে আয়নের বউ হিসাবে মেনে নিলো নাকি? কিন্তু কেন? জুইয়ের ঘোর ভাঙ্গতে তাঁর দৃষ্টিতে ভিড়লো আয়নের সচ্ছ দৃষ্টি। জুইয়ের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে আয়ন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে। জুইয়ের সাথে মেহেরবানের কথাবার্তা সবকিছুই যে আয়নের কর্ণধার হয়েছে সেটাও বেশ বুঝতে পারলো জুই। আর এতেই জুই খানিকটা হাসফাস করলো মা ছেলের মধ্যকার বেড়াজালে। ইতস্তত ভঙ্গিতে জুঁই গাড়িতে উঠতে চাইলো কিন্তু তখনই পিছন ডাকে আয়ন। জুই থমকে পিছন ঘুরে আয়নের দিকে তাকাতেই আয়ন একনিষ্ঠ কন্ঠে বলে উঠে…
—” আপনার বাগদত্তার নামটা কি বললেন নাতো জুই!!
আয়নের প্রশ্নের উত্তর করলো না জুই। বরং হাসফাস করে দ্রুত গাড়ি উঠে বসলো শপিং ব্যাগ গুলো নিয়ে। কৌশলে আয়নকে এরিয়ে গেল। আয়ন সেটা বুঝতে পেরেও আপাতত কিছু বললো না পরিস্থিতি বুঝে। বরং এগিয়ে গেল নিজেদের গাড়ির দিকে। সারিবদ্ধ ভাবে পাঁচটি গাড়ির দুটো গাড়িই যাবে খান বাড়িতে। হেনা খান মায়াকে নিয়ে আরাফ খানের গাড়িতে উঠলো। তাদের পিছনের গাড়িটি বডিগার্ডে। আয়ন নিজের বাবা-মা ও ফিহাকে একটা গাড়িতে উঠলো। ফিহা আরিফের মাঝে তখনো কোনো কথা হলো না মান-অভিমানে ফিহাই কথা বললো না। আরিফ বার কয়েক ফিহার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। ফিহা প্রতিবারই কথা না বলে চুপ ছিল আরিফের সাথে। যদিও আরিফ বুঝতে পেরেছিল প্রেয়সীর মান-অভিমানের কারণটা। সময় সল্প হওয়ার আর ফিহার দিকে মনোযোগ হতে পারলো সে। শুধু সঠিক সময়ে অপেক্ষায় থাকলো। ভালোই ভালোই বিয়েটা হয়ে গেল মান-অভিমানের পর্দাটা এমনিই সরে যাবে দু’জনের মধ্যে, এমনটা ধারণা করেই আরিফ ফিহার সাথে বেশ একটা কথা বাড়ালো না। ফিহা সবার থেকে হাসি মুখে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো। আরিফ অসহায় মুখ করে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো ফিহার যাওয়ার দিলে। খানিকটা সময় নিয়ে গুমোট দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে গম্ভীর করলো সে। সবাইকে তাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠাতে গিয়েই জানতে পারলো মায়া যাবে না তাদের সাথে। আরিফ চমকে উঠে মায়ার না যাওয়ার কারণটা জিগ্যেসা করতেই, মায়া জানালো সে ফিহার পক্ষধরে খান বাড়ির থেকে বিয়েতে এটেন্ড করবে। আরিফ বাঁধা দিতে গিয়েও দিতে পারলো না মায়ার জোড়াজুড়িতে। অজ্ঞাত আরিফ তাদেকেও বিদায় জানালো। আরিফ নিজেদের আনা গাড়িতে উঠে বসলো শাহিনের পাশে। শাহিন ড্রাইভিং সিটে বসা। পিছনে মুক্তা ও জুঁই বসেছে মেহাদীকে নিয়ে। শুভ আপাতত ঢাকায় থাকবে বরং একদিন পর আশুগঞ্জ যাবে আরিফের বিয়ের জন্য। ব্যবসার জন্য হাতে কিছু কাজ আছে সেটা শেষ করে যাবে সে। আয়ন সবাইকে বিদায় জানিয়ে আসলো আরিফদের গাড়ির সামনে। যথারীতি তাদের গাড়িটিও বিদায় জানালো তবে একবারও জুইয়ের দিকে তাকালো না। অবশ্যই জুই বেশ কয়েকবার গাড়ির জালানা ধরে আড়চোখে দেখেছিল আয়নকে। সবাইকে যার যার মতো করে বিদায় জানিয়ে আয়ন ও নিজের গাড়ি ছুটিয়ে চললো সোজা গেল হসপিটালের উদ্দেশ্য। যেহেতু অলমোস্ট রাত হয়ে গেছে তাহলে তার এই মূহুর্তে হসপিটালের থাকাটায় শ্রেয়।
~~~
রাত আটটা! আরাফ খানের হাতে কিছু কাজ থাকায় তিনি হেনা খান আর মায়াকে খান বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে চলে যান পুনরায় অফিসের উদ্দেশ্য। মায়া হেলেদুলে হেনা খানের পিছন পিছন হাঁটছে। পাকিং এরিয়ার ধরে লাইটিংয়ের আলোয় আলোকিত চারপাশ। গাড়ির মধ্যে থাকা শপিং ব্যাগ গুলো হেনা খান তদারকি করে বডিগার্ড দিয়ে বাড়ির ভিতরে নিচ্ছেন। ব্যস্ততায় হেনা খান হেটে অনেকটা এগিয়ে গেল সবাইকে তাড়া দিয়ে। মায়াও পিছন পিছন হাঁটছিল। হঠাৎই মৃদু স্বরে চিৎকার করতে চাইল মায়া মাথায় আঘাত পাওয়ায়। কিন্তু করতে পারলো না। তাঁর আগেই প্রচন্ড বেগে কেউ মায়ার মুখ চেপে ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল নিজের সাথে অন্ধকারময় পাকিং লডের দিকে। মায়ার গোঙ্গানির মধ্যে দিয়েই পিছনের ব্যক্তিটি মায়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেললো ফ্লোরে। মুখ থুবড়ে ফ্লোরে উপুড় হয়ে পড়লে মায়া। দু’হাতের কাটা অংশে পুনরায় ব্যথা পেতেই সেখানটায় জ্বলে উঠলো মায়ার। তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে ভয়ার্ত মুখে পিছন ঘুরে তাকাতেই মায়ার চোখে পড়লো চারপাশে হলুদ আলোয় আলোকিত মেহুর ধ্বংসত্ব চেহারাটা। একহাতে হকিস্টিক চেপে ধরে রক্তিম চোখে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে উপচে পড়া রাগ নিয়ে। মায়া ভয়ার্ত হলো। জড়সড় হয়ে ফ্লোরে উঠে বসে মেহুর দিকে তাকালো। আপাতত সে বুঝতে পারছে না মেহুর কেন মায়াক এই অন্ধকারময় গলিতে ধরে আনলো। আর কেনই বা মায়াকে আঘাত করলো। মায়া ভয়ার্ত মুখে কিছু বলতে চাইলো মেহুকে কিন্তু তাঁর আগেই মেহুর রাগের স্বীকার হলো মায়া। প্রচন্ড বেগে তেড়ে এসে মায়ার হিজাবের উপর দিয়ে চুলের মুষ্টি চেপে ধরে টেনে দাঁড় করিয়ে গাড়ির সাথে চেপে ধরলো মায়াকে। অন্যহাতে মায়ার মুখের মাক্স টেনে খুলে গাল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বলে….
—” তোর মতো সামান্য দুই টাকার মেয়ের জন্য আমি আমার ভালোবাসা ছেড়ে দিব ভেবেছিস? মেহুর আব্দুল্লাহকে এত সস্তা। তোর জন্য যদি রিদ আমার না হয় তাহলে আমি তোকেও ছাড়ব না। জানে মেরে দিব তোকে। আমি আমার ভালোবাসা না পেলে তোকে পেত দিব? তিন বছরের রিলেশন আমার। এতো সহজে ছেড়ে দিব রিদকে। তাও তোর মতো সস্তা নারীর জন্য। রিদ খানকে কি দেখিয়ে বশ করলি? তোর শরীর দেখিয়ে? তোর এই কুঁচি শরীরের স্বাদ রিদ খান জাস্ট দুই নিবে। তারপর? তারপর তোর কি হবে? তোর কি মনে হয় রিদ খান সারাজীবন তোর সাথে সংসার সংসার খেলবে? রিদ খান এক জিনিস দুইবার ইউস করে না। তাহলে তোকে সারাজীবন ইউস করবে কিভাবে? জাস্ট দুইদিন তোর শরীর ভোগ করবে! তিনদিনের দিনে ঠিক আবার সেই আমার কাছে চলে আসবে। দেখিস তুই।
রিদের প্রতি মায়ার অগাধ বিশ্বাসের পাহাড় ভাঙ্গতে পারলো না মেহুর লাবডাব কথায়। বরং মায়ার চোখের মুখে ফুটে উঠলো মেহুর জন্য অশেষ ক্রোধ। মায়ার রাগান্বিত চোখ দুটোতে প্রকাশ পেল মেহুর প্রতি তীব্র অবিশ্বাস। রিদ মানেই মায়ার কাছে অগাধ বিশ্বাস। এবার রিদ যাহ বলবে তাই সত্য মায়ার জন্য! বাকি সব মিথ্যা। রিদ মায়াকে বলেছে মেহুর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। মানে নেই। আর এটাই মায়ার বিশ্বাস। মায়া কেন তার মিস্টার ভিলেনের কথা ছাড়া, অন্য কাউকে বিশ্বাস করবে? করবে না বিশ্বাস! গাঢ় অবিশ্বাস থেকেই মায়া শক্তি খাটিয়ে প্রাণপূর্ণ ধাক্কা দিয়ে মেহুকে নিজের থেকে সরালো। আকস্মিক ঘটনায় মেহু দুই কদম পিছিয়ে যেতেই মায়া রাগান্বিত গলায় চেঁচাল…
—” একদম বাজে কথা বলবেন না আপনি। উনি আমাকে বলেছে আপনার সাথে উনার কোনো সম্পর্ক নেই। নেই মানে নেই। আমি বিশ্বাস করি উনাকে। উনি যাহ বলবে তাই সত্য। আপনি মিথ্যা বলছেন। আর আমি উনার প্রেমিকা নয় বউ হয়। যে দুইদিন পর উনার মন ভরে গেলে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে। ব্রেকআপ শব্দটা প্রেমিকার জন্য থাকে বউদের জন্য না। আমার বিশ্বাস উনি আমাকে ছাড়বেন না।
মায়ার অগাধ বিশ্বাসে খানিকটা নড়ে উঠে মেহু। মায়ার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ হেঁসে উঠে শব্দ করে। হাসতে হাসতে হাতের হকিস্টিকটা ফ্লোরে ফেলে দিয়ে লাফিয়ে উঠে বসে গাড়ির ডিক্কির উপর। পা নাচিয়ে মায়ার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলে…
—” লাইল সিরিয়াসলি? একজন গ্যাংস্টার অর্থাৎ কালো দুনিয়ায় মালিক রিদ খান। যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ক্রিমিনাল বুদ্ধি তুমি তার কথা বিশ্বাস করে আমাকে অবিশ্বাস করছো? ওয়াও! রিদ খান সম্পর্কে ডু ইউ হ্যাভ এনি আইডিয়া? রিদ খানের চুল পরিমাণ বুদ্ধি তোমার সারা মগজে নাই। রিদ খান এমন একটা জিনিস, যে চোখের সামনে দেখেও হাত বাড়িয়ে ছুঁয়া যায় না। ধোঁয়াসা লাগে। কোথায় থেকে আসলো, কোন দিক দিয়ে গেল সবকিছুই গোলকধাঁধা। আর তুমি সেই রিদ খানকে বিশ্বাস করছো লাইক সিরিয়াসলি ম্যান?
তীব্র বিশ্বাসে পুনরায় শক্ত গলায় বললো মায়া…
—” হ্যাঁ আমি উনাকেই বিশ্বাস করি। কারণ উনি আমাকে ভালোবাসেন।
—” আচ্ছা! তাই বুঝি? মুখে কখনো বলেছে রিদ খান তোমাকে ভালোবাসে??
—” সবকিছু মুখে বলতে হবে? আমি বুঝি উনি আমাকে ভালোবাসেন।
—” ওহ গড! তোমার বয়স হাঁটু সমান। অথচ বুঝার চেষ্টা করো কাঁধ সমান। উফ! আমাকে হাজার বার মুখে ভালোবাসি ভালোবাসি বলেও সে তোমাকে বিছানায় নিতে চাচ্ছে। আমি বাঁধা দিতে পারছিনা। তার ক্ষমতা দাপটে আর তুমি তাঁকেই বিশ্বাস করছো?
মেহুর এতো বুঝানোর পরও মায়ার বিশ্বাস নড়লো না রিদের উপর থেকে। বরং অগাধ বিশ্বাসে মায়া শক্ত গলায় পুনরায় শুধালো মেহুকে…
—” হ্যাঁ আমি সারাজীবন উনাকেই বিশ্বাস করবো। উনি(রিদ) মানেই আমার কাছে বিশ্বাসের স্থান। আমি আপনার মিথ্যা কথা গুলো কেন শুনব?
মেহুর হাসি থেকে খানিকটা স্বাভাবিক হয়। রিদের প্রতি মায়ার অগাধ বিশ্বাসটা ধরতে পেরে মাইন্ড গেইম খেললো কোশলে। মায়াকে আঘাত করলো সেটা রিদের কান অবধি চলে যাবে। তাতে মেহুর রিদকে পাওয়া হবে না আর। তাছাড়া রিদও মেহুকে ছাড়াবে না। জানের রিস্ক হয়ে যাবে মেহুর জন্য আপাতত মায়াকে আঘাত করলে। মেহু গাড়ির উপর পা ঝুলিয়ে বসে কৌশল অবলম্বন করলো মায়ার প্রতি। স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ত গলায় বলল…
—” ব্যাস তোমার কথা রইলো। আপাতত আমাকে বিশ্বাস করার দরকার নেই তোমার। তবে তুমি চাইলে নিজেই পরীক্ষা করে নিতে পারো। রিদ খান নিজেকে ছাড়া কাউকে ভালোবাসে না। তোমাকেও না। কখনো ভেবেছ, রিদ খান সেদিন এতো গুলো গুন্ডা সামনে, তোমার সামনে, পুরো দুনিয়ায় সামনে, আমাকে কেন নিজের প্রেমিকা, বা হবু বউ বলে পরিচয় করিয়ে দিল তোমাকে ছাড়া হুমম? তুমি তো রিদের বউ তাই না? তাহলে রিদ তোমাকে ছাড়া আমাকে কেন দুনিয়ার সামনে বউ বলে পরিচয় দিলো? তোমাকে কেন পরিচয় করাতে চাই না? ভেবেছ কখনো সেটা হুমম?
মায়া এবার খানিকটা নড়েচড়ে উঠে। সত্যি সত্যি রিদ কেন সেদিন মায়াকে নিজের বউ না বলে মেহুকে বলেছিল সেটা মায়া জানা নেই। রিদও মায়াকে খুলে বলেনি কারণটা। অজ্ঞাত মায়া খানিকটা চমকালো ভড়কালো ভয়ার্ত হলো মেহুর যুক্তিতে।
মেহু মায়ার ভয়ার্ত ফেস দেখে খানিকটা মিষ্টি হাসলো। পুনরায় বলে উঠলো….
—” দেখ! রিদ সাথে আমার সম্পর্কটা ছোট থেকেই। মানে তোমার জম্মের আগ থেকে। রিদের মা, মানে আমার ফুপি! আমার আর রিদের বিয়ে ছোট বেলায় ঠিক করে গিয়েছিল উনার মরার আগে। আমি উনার পছন্দ ছিলাম রিদের বউ হিসাবে। সেই জন্য রিদ আমাকে সব জায়গায় নিজের বউ বলে পরিচয় দেয়, তোমাকে নয়। রিদ নিজের মাকে অনেক ভালোবাসে। সেইজন্য সে আমাকেও ভালোবাসে। তুমি রিদের দাদা-দাদির পছন্দ করা বউ ছিলে, সেই জন্য রিদ তোমাকে প্রথমে মানতে চাইনি। ডিভোর্সও দিল। তখন আমার সাথে রিদের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। রিদ বাংলাদেশ থেকে সুইজারল্যান্ড আমার কাছেই আসতো। গভীর প্রেম যাকে বলে। যায় হোক! আজকাল রিদের কুঁচি দেহের প্রতি টান অনুভব হচ্ছে সেই জন্য তোমাকে ইউস টু করে ছুঁড়ে ফেলে দিবে। তোমাকে সর্তক করলাম। সাবধান হয়ে যাও রিদের জীবন থেকে সরে দাঁড়াও। নয়তো তোমার করার কিছু থাকবে না। কারণ রিদ খানের সকাল বিকাল রাতটা আমার সাথে কাটায়। এবং এখনো সারাদিন রিদের সাথে কাটিয়ে মাত্র তোমার কাছে আসলাম। তোমাকে বুঝাতে। এবার তুমি না বুঝলে আমার কিছু করার নেই। রিদ খান কালো দুনিয়ার একজন পাওয়ারফুল মানুষ। তার বিচার করার মতো কেউ নেই। তোমার পরিবারেরও নেই। রিদ খান আপাতত কুঁচি দেহের টানে তোমাকে কিছুদিন ভোগ করলেও কখনোই তোমাকে দুনিয়ায় সামনে তোমাকে আনবে না। সমাজের সামনে বলবে না তুমি রিদ খানের বিবাহিত বউ। আর এটা আমি ব্যাট লাগিয়ে বলতে পারি।
মায়ার বিশ্বাস খানিকটা নড়েচড়ে উঠলো মেহুর পরপর কথায়। সত্যি রিদ মায়াকে দুনিয়ায় সামনে আনতে চাই না। কিন্তু কেন আনতে চাই না? তবে কি রিদ সত্যি মেহুকে নিজের বউ করতে চাই বলে মায়াকে সাময়িক সময়ের জন্য ব্যবহার করতে চাচ্ছে? রিদ নিজের মাকে প্রচুর ভালোবাসে সেটা জানে মায়া। নিজের মায়ের ভালোবাসা তাগিদে যে রিা সবকিছু করতে পারে সেটাও বুঝে মায়া। মেহু আব্দুল্লাহ রিদের মায়ের পছন্দ হলে মায়াকে ছেড়ে দেওয়াটা রিদের জন্য অস্বাভাবিক কিছু হবে না। তাছাড়া মায়া যতটুকু জানে ছোট থেকেই নাকি রিদের মায়াকে বিয়ে করা নিয়ে তীব্র নাহুচ ছিল। এমনি মায়া খান বাড়িতে আসার পর রিদের হাতে তীব্র আঘাতও করেছিল সে। বিয়েটাও বাতিল করেছিল। পুনরায় আবার বিয়ে করেছে কি মায়ার শরীরে ভোগের জন্য? তাহলে কি সত্যিই মায়ার মিস্টার ভিলেন মায়াকে দুইদিন পর ছেড়ে দিবে? মায়ার জন্য তার মিস্টার ভিলেনের ভালোবাসাটাও কি মিথ্যা? মায়া গলা ভারি হয়ে চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো টইটম্বুর অশ্রুতে। গাল গড়িয়ে নিচে পড়তেই মায়া দু-হাতে গাল মুছতে মুছতে কান্না ভেজা কন্ঠে বলল…
—” আমি বিশ্বাস করিনা আপনাকে। আপনি মিথ্যা বলছেন আমাকে। উনি আমাকে বলেছেন, উনি আমার সাথেই সারাজীবন সংসার করবেন। আমি বিশ্বাস করি উনাকে।
—” ওকে বেশ! তাহলে একবার পরীক্ষা হয়ে যাক কে সত্যি বলছে কে মিথ্যা? কি বলো?
—” কি পরীক্ষা?
—” তুমি রিদকে গিয়ে বলবে তোমাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দুনিয়ায়কে জানিয়ে দ্বিতীয় বার বিয়ে করতে। যদি রিদ রাজি হয় তাহলে বুঝতে আমি মিথ্যা বলছি। আর যদি রিদ রাজি না হয় তাহলে মনে করবে আমার প্রতিটা কথায় সত্য। এবং তুমি আমাদের জীবন থেকে সরে দাঁড়াবে। কি রাজি?
মায়া রিদের প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে কষ্টে ভারি কন্ঠে সম্মতি জানালো মেহুকে…
—” ঠিক আছে আমি রাজি। চলে যাব আপনাদের জীবন থেকে। কিন্তু যদি উনি আমাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে রাজি হয় তাহলে! আপনি ও কিন্তু আমাদের জীবনে আসতে পারবেন না।
মেহু খানিকটা শব্দ করে হেঁসে বলে উঠে…
—” আগে রাজি করাও রিদকে তারপর শর্ত দিও আমাকে। রিদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পরিচিত আমি। তোমাকে সে কখনো দুনিয়ায় সামনে বউ বলে পরিচয় দিবে না আমাকে ছাড়া। আর একটা কথা! আমাদের মধ্যে এতক্ষণ যাবত ধরে যে ডিল হয়েছে সেটা আমি তুমি ছাড়া যেন দ্বিতীয় কেউ না জানে। কারণ এই ডিলটা রিদের কানে গেল ক্ষতি কিন্তু তোমারই হবে। সে জোর করে হলেও তোমাকে তার স্বীকারী বানাবে। তখন তুমি পালানোর সুযোগও পাবে না। তাই তোমার ভালোর জন্যই বলছি। আপাতত চুপ থাকো। দেখো কি হয়। রিদ কি বলে সেটা শুনো। তারপর না-হয় কথা গুলো বলো। কি বলো?
—” আচ্ছা! আমি কাউকে বললো না। কিন্তু আমার বিশ্বাস উনি আমাকে আবারও বিয়ে করবেন পুরো দুনিয়াকে জানিয়ে দেখিয়ে আপনি।
—” উফফ! আমি তো দেখার জন্যই ওয়েট করছি সুইটহার্ট! যাও! যাও! গিয়ে রিদের সাথে কথা বলো তোমার বিয়ে ব্যাপারে। যাও!
মেহুর ফাঁদে বরাবরই পা দিল মায়া। রিদের উপর অগাধ বিশ্বাস নিয়ে চলে এলো সেখান থেকে। মেহু গাড়ির ডিক্কি থেকে লাফিয়ে নেমে মায়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসতেই, পিছন থেকে কেউ শিঁষ বাজাতে বাজাতে সেখানটাই হাজির হলো। মেহু ঘুরে লোকটিকে দেখে বলে…
—” মনে হচ্ছে প্ল্যানটা কাজে দিবে।
মেহুর পাশের লোকটি ঠোঁট প্রসারিত করে রহস্যময় হেঁসে বলে…
—” অবশ্যই দিবে! কারণ জাল ছিঁড়ে মাছ বের হওয়ার সম্ভবনা থাকে লোহা কেটে নয়। বেবি।
~~
তীব্র অপেক্ষার প্রহর গুনে বসে আছে মায়া। কখন রিদ বাসায় ফিরবে। আর কখন মায়ার জমানো কথা গুলো রিদকে বলবে। রাত দশ-টা! এগারোটা! বারোটার দিকে ক্লান্তিময় শরীরটা নিয়ে বাসায় ফিরলো রিদ। কলিংবেল বাজতেই জাগ্রত মায়া গিয়ে দৌড়ে দরজা খুলে দিলো। রিদ মায়াকে এতো রাত পছন্দ জেগে থাকতে দেখে, খানিকটা চমকে উঠে হাত ঘড়ির দিকে তাকালো। রাত বারোটা অবধি তার বউ জেগে আগে বিষয়টি আশ্চর্য জনক দেখালো রিদের কাছে। তারপরও রিদ কিছু বললো না, দুষ্টমী ভঙ্গিতে ঝুকে টুপ করে মায়ার গালে চুমু খেয়ে নিল। নিজের ক্লান্তিতা দূর করলো মায়ার ডাগর ডাগর চোখের বোকা দৃষ্টিতে। মায়া গালে হাত দিয়ে রিদের দিকে তাকাতেই রিদ আরও একটি কাজ করলো মায়ার সাথে। মায়া গাল টেনে, টুকা মারলো মায়ার মাথায়। বোকা মায়া হা হয়ে তাকিয়ে রইলো রিদের প্রাণচঞ্চল পদচারণে। রিদ সামনে হাঁটল। মায়া পিছনে দাড়িয়ে থাকলো হতবাক হয়ে। রিদ কয়েক কদম সামনে হেঁটে পুনরায় পিছন ঘুরে তাকলো কপাল কুঁচকে। মায়ার তখনো গালে হাত দিয়ে হতবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রিদের দিকে। রিদ চারপাশ সূক্ষ্ম নজরে তাকালো। আপাতত আশেপাশে কেউ নেই। সম্পূর্ণ ড্রয়িংরুম ফাঁকা তবে কিচেন রুম থেকে টুকটাক শব্দ আসছে। হয়তো হেনা খান কিচেনে আছে রিদের জন্য রান্না করছে। রিদ পুনরায় এগিয়ে গেল মায়ার দিকে। হতবাক মায়াকে পুনরায় চমকে দিতে রিদ দুষ্টমী করে ঝুঁকে পড়লো মায়ার মুখের উপর। শব্দ করে চুমু খেল মায়ার অপর গালে। মায়া এবার লজ্জা তৎক্ষনাৎ মুখ ডেকে নিতেই রিদ মায়ার কানে ফিসফিস করে বলে…
—” বউ আমার স্বামীর জন্য এতো রাত পযন্ত জেগে আছে ঘুম ছেড়ে। তাকে একটু আদুরে না করলে আমার পাপ হবে বুঝলে! বউ আদুর করা ফরজ কাজ। আমি কিন্তু ফরজ কাজ আদায় করছি বউ।
রিদের মুখে বউ শব্দটিতে টনক নড়লো মায়ার। এতোক্ষণ যাবত রিদের কাজে লজ্জা পেলেও এবার মায়ার মাথায় ঘুরপাক খেলো মেহুর বলা কথা গুলো। রিদ মায়াকে সমাজের সামনে বউ বলে স্বীকৃতি দিবে না। মায়া নিজের মুখ থেকে হাত সরিয়ে রিদের মুখোমুখি হয়ে তৎক্ষনাৎ বলে উঠে…
—” আমরা বিয়ে করছি কবে?
রিদ মায়ার মুখে হঠাৎ বিয়ের শব্দ বুঝলো না। তাই সে বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবেই নিল। মায়া কানে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে বললো…
—” আবার কিসের বিয়ে? করেছি তো একবার।
মায়া রিদের নেশাক্ত কন্ঠে কেঁপে উঠে বলে…
—” উহুম! এইভাবে না আমাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ে কবে হবে। মানে সবাইকে জানিয়ে আমরা আবার বিয়ে করবো কবে?
মায়ার কথায় রিদ সোজা হয়ে দাড়ায়। আপাতত তার মায়ার কথা গুলো পছন্দ না হলেও বিশেষ একটা পাত্তা দিল না তাতে। বরং মায়া বুঝানোর জন্য দুহাত আঁজলে মায়ার গাল আঁকড়ে ধরে বলে…
—” আমরা কখনোই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে করবো না রিত। এইভাবে থাকবে সবকিছু। বারবার বিয়ে পছন্দ না আমার। একবার বিয়ে করেছি সেটাই যথেষ্ট। আর কি চাই।
—” সেটা চুরি করে বিয়ে ছিল। সমাজের কেউ জানে না আমি আপনার বউ!
—” সমাজের আমি খায়! না পড়ি! যে আমার বউ আমি সমাজকে দেখাতে যাব। লোক দেখানো বিয়ে আমি কখনো তোমাকে করবো না। বিয়ের করার দরকার ছিল একবার করছি। ব্যাস শেষ। এই বিয়ের টপিক দ্বিতীয়বার আমার সামনে তুলে ধরবা না। আমার পছন্দ না। যাও এবার আমার জন্য ঠান্ডা পানি নিয়ে আসো রুমে। আমি রুমে যাচ্ছি কেমন।
রিদ মায়ার কপালে সূক্ষ্ম অধর ছুয়ে চলে যেতে নেয় নিজের রুমের দিকে। কিন্তু অশান্ত মায়ার মনে ঝড় তখনো বাড়লো বয় করলো না। সমস্ত সত্তা কাপিয়ে কেঁপে কেঁপে উঠছে মায়ার ভিতর। অস্থির মনে মায়া মেহুর কথা গুলো মনে করে তীব্র ভয়ার্ত হচ্ছে রিদের উত্তরে। রিদের প্রতি অগাধ বিশ্বাসটাও যেন নড়ে নড়ে উঠছে এবার রিদের অগোচরেই। তীব্র কষ্টে দলা পাকিয়ে আসছে মায়ার গলা। রিদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে পুনরায় কষ্ট ধরা গলায় বলে…
—” আমার আনুষ্ঠানিক বিয়েটা চাই মিস্টার ভিলেন। দুনিয়ার সামনে, সমাজের সামনে, আপনার বউ বলে স্বীকৃতি চাই। আমি লুকোচুরি সংসার চাই না আপনার সাথে। আমার প্রকাশ্যে সংসার চাই।
রিদের পা দুটো থামে। মায়ার মুখে এসব কথা গুলো রিদের মোটেও পছন্দ হচ্ছে না। বরং রাগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মায়াকে সকালেও বলেছিল রিদ, যে সে কোনো কিছুর জন্য না করলে, সেটার অবাধ্য না হতে। কিন্তু রাত হতে না হতেই পুনরায় অবাধ্য হচ্ছে মায়া। রিদ ঘুরে তাকিয়ে শক্ত গলায় মায়াকে বলে উঠে…
—” আজকে আনুষ্ঠানিক বিয়ের কথা বলেছো। আজকেই যেন শেষ বলা হয় তোমার মুখে। জীবনের দ্বিতীয়বার আমাকে এসব বলতে আসবা না রিত। আমি কিন্তু সহজে মেনে নিব না। সমস্যা হবে তোমার জন্য। এই সমাজ! এই দুনিয়া! কারও পরোয়া আমি করি না। আমার সংসার! আমার মরজি। আমি লুকিয়ে সংসার করবো নাকি প্রকাশ্যে করবো সেটাও আমার মরজি হবে। আমি কারও চাপে পড়ে কিছুই করবো না। তাছাড়া আমি তোমাকে এই সমাজ, এই দুনিয়ার সামনে আনতে চাই না কখনোই। আর আনবও না। আমার সাফসাফ কথা, আমি তোমাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কখনোই বিয়ে করবো না। এবার যাও! কথা না বাড়িয়ে পানি নিয়ে আসো আমার জন্য! আমি রুমে যাচ্ছি…
.
চলিত…..
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২০