দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৬
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৫৬
শরীরে দরদর ব্যথায় সারারাত নিঘুম কাটলো মায়ার। রিদ বেঘুম ঘুমালেও মায়া দু-চোখের পাতা এক করতে পারিনি রিদের ঝাপটে ধরা ঘুমে। পঁচাশি কেজি ওজনের ভারে মায়ার নরম তুলতুলে দেহখানি প্রায় পিষ্ট হয়ে পড়ে আছে রিদের বক্ষতলে। বিছানায় টানটান সোজা হয়ে শুয়ে থাকায় শিরা-উপশিরায় তিরতির করছে সতেজ টনটন ব্যথায়। নড়াচড়া নেই। স্টিক সোজা হয়ে শুয়ে রাতভর পার করলো মায়া একই ভাবে। অঘুম আর শরীরে ব্যথায় চোখ দুটো লাল হয়ে উঠেছে ততক্ষণে। মায়ার কাঁদতে মন চাইল। কিন্তু কাঁদল না। রিদের আরামে ঘুম ভেঙ্গে যাবে বলে। নিষ্ক্রিয় মায়া একই ভাবে শুয়ে রইলো বিছানায়। রিদের ঘুমটা আজ বোধদয় একটু দেরিতেই ভাঙ্গল আরাম পেয়ে। সকাল ৭ঃ১২ দিকে রিদ হাল্কা নড়েচড়ে উঠে মায়ার গলায় নাক ঘষলো। মায়া কেঁপে উঠতেই, রিদের চোখের ঘুমটা হালকা হলো। অল্প মাথা তুলে ঘুমন্ত জড়ানো চোখ টেনে তাকালো রিদ জাগ্রত মায়ার দিকে। তৎক্ষনাৎ কিছু বললো না রিদ। বরং পুনরায় মায়ার গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে ঘুম জড়ানো ধীর কন্ঠে বললো…
—” ঘুমাও নি?
মায়ার এবার কাঁদতে চাইল। তবে কাঁদল না। রিদের জন্য যে তাঁর শরীর ব্যথা ব্যথা হয়ে গেছে সেটা কি এই লোকের চোখে পড়ছে না? এই ভাবে সোজা রোবটের মতো কি ঘুমানো যায়? তাও এতো বড় মানুষ নিয়ে। কষ্টে মায়া ঠোঁট উল্টে বলে..
—” এতো বড় মানুষ নিয়ে ঘুমালে, ঘুম হবে আমার।
রিদ মায়া গালয় নাক ঘষে আগের ন্যায় বললো…
—” গর্দভ! আমি বড় নাকি তুমি হাইটে ছোট মানুষ?
—” তারপরও আপনি অনেক ভার! উঠুন!
—” ওজন নিতে শিখ!
মায়া চুপ থাকল আর কিছু বললো না। রিদকে কিছু বলাটা অর্থহীন বলে মনে হলো মায়ার কাছে। সে কিছু বললে যে রিদ শুনবে না সেই ধারণা আছে। তাই ঐভাবেই পড়ে রইলো মায়া। তবে লজ্জায় খানিকটা লাল হয়ে উঠছে চোখ মুখ। রিদ সময় নিয়ে আরও পাঁচ মিনিট শুয়ে থাকলো মায়াকে নিয়ে। অবশেষে মায়াকে ছাড়ার আগে গলায় অধর ছুঁয়াল। রিদ নিজের বালিশ টেনে উপুড় হয়ে শুলো। ছাড়া পেয়ে ব্যথিত শরীর টেনে বিছানা থেকে উঠে বসলো মায়া। যথাসম্ভব দ্রুত উঠে বের হতে চাইলো রিদের রুম থেকে কিন্তু তার আগেই পিছন ডাকলো রিদ…
—” রিত! আমি গোসল করবো এখন, আমার কাপড় বের গুছিয়ে রাখো।
চমকে উঠে মায়ার পা থামলো তৎক্ষনাৎ। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখল রিদ আগের নেয় উপুড় হয়ে বালিশে মুখ গুঁজে উল্টো ফিরে শুয়ে আছে। রিদ মায়ার দিকে তাকালো না। মায়া আশ্চর্য হলো রিদের কথায়। মায়া কেন তার জন্য জামা-কাপড় বের করবে। সবকিছু তো গুছিয়ে রাখায় আছে তার শপে ভিতর। পছন্দ অনুযায়ী নিয়ে নিলেই তো হয় তাই না! মায়াকে কেন দরকার পড়ছে। এতোকাল তো নিজের কাজ নিজেই করে এসেছে এই লোক। তাহলে আজ কেন মায়া কাজ করবে? মায়া নাহুচ ভঙ্গিতে মুখ বাঁকিয়ে বললো…
—” আমি করব?
রিদ ঘুরে তাকাল না মায়ার দিকে। কিন্তু রিদের ধমক সুর কথা কানে আসলো মায়ার…
—” রিত আমার অফিসের যেতে হবে। দেরি করবা না! যাও সবকিছু গুছিয়ে দাও।
মায়া মুখ বাকিয়ে শরীরে দরদর ব্যথা নিয়ে গেল ওয়াশরুম ধরে রিদের ড্রেসিংরুমে। রিদের জন্য শুধু শার্ট আর প্যাট নিয়ে তরতর করে পুনরায় হেটে চলে আসলো ওয়াশরুমে। রুমে যাওয়ার পূবে ওয়াশরুমে পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে, ফাঁকে রিদের ব্রাশে দাঁত ব্রাশ করে নিল। চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে রুমে এসে দেখলো ততক্ষণে রিদ বিছানা উঠে বসেছে। মায়াকে দেখে রিদ বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াতেই মায়া হাতের কাপড় গুলো বিছানায় রেখে পুনরায় চলে যেতে চাইল রুমে থেকে। কিন্তু এবারও পিছন ডাকলো রিদ। মায়া পিছন ঘুরতেই রিদ আদেশ স্বরুপ বলে…
—” ব্ল্যাক কফি নিয়ে আসো উইথ আউট সুগার!
মায়া পুনরায় মুখ বাঁকিয়ে পিছন ঘুরে রিদের দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাস গলায় বললো…
—” আমি?
রিদ ওয়াশরুমে ঢুকতে ঢুকতে বিরক্তি গলায় বলে…
—” তোমার ওড়ানাটা সোফার উপর রাখা আছে। সেটা পড়ে দ্রুত আমার জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে আসো। গোসল শেষে তোমাকে যেন রুমে দেখতে পাই আমি।
মায়া কফি হাতে রুমে এসে দেখলো রিদ শার্ট আর প্যান্ট পড়ে বিছানায় উপর বসে আছে। ভেজা মাথা চুল গুলো লেপ্টে পড়ে আছে ফর্সা ললাটে উপর। মায়া মোহিত হলো রিদের মনোমুগ্ধকর শুদ্ধ মুখশ্রী দেখে। জায়গায় স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকলো অপলক বিহীন রিদকে দেখে। এই সুন্দর মানুষটা মায়ার স্বামী। মায়ার ব্যক্তিগত মানুষ। মায়া কি দুনিয়ায় সবচাইতে সুখী মানুষ না? অবশ্যই সুখী মানুষ সে! মায়া সুন্দর একটা ভালোবাসার মানুষকে আছে। আর কি চাই মায়ার। আর তো কিছু চাই না। মায়ার মোহিত স্থির দৃষ্টি ঘুরিয়ে পড়লো রিদের লাল রঙ্গা ঠোঁটের উপর। চোখের সামনে ঝলঝল করে উঠলো মায়ার আঘাত করা রিদের ঠোঁটের কাটা জায়গায়টাতে। মায়া কেঁপে উঠে। রিদ চোখ ঘুরিয়ে মায়ার দিকে তাকাতেই মায়া ধীর পায়ে এগিয়ে আসলো রিদের সামনে। হাত বাড়িয়ে রিদের দিকে কফির মগটা এগিয়ে দিতেই রিদ সেটা হাতে তুলে নিল। কফিতে চুমুক বসাতে বসাতে বিছানার উপর থেকে সাদা টাওয়ালটা মায়ার হাতে তুলে দিল। মায়া কপাল কুঁচকে রিদের দিকে তাকাতেই রিদ আদেশ করে বললো…
—” মাথা মুছো!
—” আমি?
রিদ বিরক্তি নিয়ে বলে…
—” আর একবার আমি! আমি! করবা তো দাঁত গুলো খুলে নিব এবার। রাতের কথা কিন্তু ভুলিনি আমি মনে রেখ!
মায়া ভয়ার্ত ভঙ্গিতে দ্রুত টাওয়াল নিয়ে ধীরে হাতে রিদের মাথা মুছতে লাগলো। মায়ার শরীরের সাথে সাথে দুহাত কাঁপছে অনবরত। রিদ সেটা বুঝতে পেরেও অবুঝ সাজলো। নিজের মতো করে কফিতে চুমুক বসালো। মায়া রিদের মাথা মুছার মধ্যে দিয়েই পুনরায় চোখ গেল রিদের গলায় ও কানের নিচে ঝলমল করা লাল কালচে গাঢ় কামড়ে দাগ গুলোর দিকে। মায়া চমকে উঠে উত্তেজিত ভঙ্গিতে তৎক্ষনাৎ হাত ছুঁয়ে দিল সেখানটায়। রিদ হালকা নড়ে উঠে মায়ার দিকে তাকাল। মায়া কিছু বলবে তার আগেই রিদ পুনরায় আদেশ করলো….
—” বেল্ট, নিয়ে আসো যাও!
অপরাধী মায়া কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না রিদের কথার পিষ্টে। জড়তার পা চালিয়ে পুনরায় গেল শপে রিদের জন্য বেল্ট আনতে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফিরে এসে মায়া রিদের হাতে বেল্ট’ তুলে দিতেই রিদ পুনরায় বলে উঠে…
—” টাই!
মায়া বাঁধ্য কন্যার নেয় পুনরায় গেল রিদের জন্য টাই’ আনতে। মেহেরুন রঙ্গা টাই হাতে রুমে এসে দেখলো রিদ দাঁড়িয়ে কমড়ে বেল্ট বাঁধছে। মায়া লজ্জায় সংকোচে চোখ নিচে নামাল। ইতস্তত পায়ে দুই কদম এগিয়ে নত মস্তিষ্কের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে দিল রিদের দিকে টাই-টি। রিদ হাতে নিল না। বরং কপাল কুঁচকে মায়ার নত মস্তিষ্কের দিকে তাকাল কয়েক সেকেন্ড। মায়া রিদের সারা শব্দ না পেয়ে মায়া তুলে তাকালেই চোখাচোখি হলো দু’জনের। মায়া খানিকটা মিইয়ে গিয়ে হাসফাস করতেই রিদ বলে উঠে…
—” বাঁধো!
—” হুমম?
—” টাই পড়াতে জানো না?
মায়া মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি জানিয়ে বলে…
–” নাহ।
—” এদিকে আসো।
রিদ মায়ার হাত টেনে নিজের সামনে দাঁড় করালো। সে বেশ লম্বা হওয়ায় মায়ার মুখের উপর খানিকটা ঝুকে নত হলো। মায়ার হাতের উপর হাত রেখে নিজের গলার টাই বাঁধলো মায়াকে শেখাতে শেখাতে। মায়া মন দিয়ে দেখলো। রিদ টাই বাঁধা শেষে সোজা হয়ে দাড়িয়ে বললো…
—” সুজ নিয়ে আসো।
মায়া পুনরায় গেল রিদের জন্য সুজ আনতে। যেহেতু মায়ার পূবে থেকে রিদের কোনো কাজের ধারণা নেই। তাই এই মূহুর্তে রিদের আদেশ অনুযায়ী মায়া এক এক করে কাজ করে যাচ্ছে বাঁধ্য মেয়ের মতোন । মায়া রিদের জন্য নিজের পছন্দ অনুযায়ী সুজ আনতেই রিদ পুনরায় বলে…
—” মোজা আননি?
মায়া মাথা নাড়িয়ে না বুঝাল। রিদ বিছানায় বসতে বসতে বললো…
—” নিয়ে আসো!
মায়া রিদের পায়ে সামনে সুজ রেখে গেল মোজা আনতে। মজা হাতে রুমে এসে দেখলো রিদ আগের নেয় বিছানায় বসে আছে খালি পায়ে। মায়া নতুন ইনটেক মোজা জোড়া রিদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতেই রিদ ফ্লোরে পা সোজা করে দেখিয়ে বলে…
—” পড়িয়ে দাও!
—” হুমম?
—” পড়াতে বলছি!
মায়া কথা না বাড়িয়ে বসে পড়লো রিদের পায়ের সামনে। প্যাকেট ছিড়ে মোজা বের করে একে একে পড়াতে লাগলো রিদের পায়ে। মায়ার কম্পিত হাতজোড়া রিদ বুঝতে পেরেও না বুঝেই রইলো। বরং মায়ার হাতেই নিজের পায়ের সুজ গুলোও পড়ে নিল সে। মায়া রিদকে সুজ পড়িয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে শুনা গেল রিদের পুনরায় আদেশ…
—” ঘড়ি আর কোট নিয়ে আসো!
মায়া গেল রিদের জন্য ঘড়ি আর কোট আনতে। নিয়েও আসলো। তবে ততটুকু যতটুকু রিদ আনতে বলেছে। নিজ থেকে বুদ্ধি খাটিয়ে অন্য আর কিছুই আনলো না। ঘড়িটি রিদের হাতে তুলে দিল। রিদ পড়েও নিল। সোজা হয়ে দাঁড়ালো মায়ার হাত থেকে কোট পড়ার জন্য। মায়া কোট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতেই রিদ বাঁকা হয়ে হাত মেলে দিল মায়াকে কোটটি পড়িয়ে দেওয়ার জন্য। মায়া বিস্মিত চেহারায় রিদকে কোট পড়িয়ে দিল। মায়ার রিদকে রেডি করতে করতে আটটা বেজে গেল। কিন্তু
তারপরও রিদের সম্পূর্ণ রেডি হওয়া হলো না। রিদ মায়াকে রেখে এগিয়ে গিয়ে রুমের আয়নার সামনে দাঁড়ালো। মায়ার হাতে নিজের চুলের ভার না ছেড়ে নিজেই জেল দিয়ে চুল সেট করে নিল। সামনে ফাস্টেড বক্স থেকে ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ নিয়ে লাগালো গলার আর কানের নিচে কামড়ে দাগ গুলোতে। মায়া অপরাধী চেহারায় তাকিয়ে থাকলো রিদের দিকে। রিদ আয়না দিয়ে মায়া অপরাধী চেহারাটা একবার দেখে নিয়ে কাজ শেষ করলো। আদেশ স্বরুপ মায়াকে নিজের কাছে ডাকলো আয়না ধরে তাকিয়ে..
—” কর্নার টেবিলের সেকেন্ড ড্রয়ারের ভিতরে একটা বক্স আছে। সেটা নিয়ে এদিকে আসো..
রিদের আদেশ অনুযায়ী ড্রয়ারের ভিতরে থেকে লাল মাঝারি সাইজের একটা বক্স বের করে মায়ার রিদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। রিদ মায়া হাত থেকে বক্সটা নিয়ে মায়াকে টেনে ড্রেসিং টেবিলের উপর বসালো। লাল বক্সটি থেকে সুন্দর ছোট একটি ডায়মন্ড আংটি বের করে মায়ার বামহাতের অনামিকা আঙ্গুলে পড়িয়ে দিতেই হতবাক মায়া চোখ বড় বড় করে আংটি দিকে তাকিয়ে রিদকে বলে…
—” এটা আমার?
রিদ খানিকটা কপাল কুঁচকে মায়াকে দেখে পুনরায় বক্সের ভিতর থেকে সাদা ডায়মন্ডের মধ্যে হালকা পাতলা দুটো চুড়ি বের করলো। মায়া হাত টেনে চুড়ি দুটো পড়াতে পড়াতে বললো…
—” তোমার হবে কেন? পাড়াপ্রতিবেশি জন্য আনছি দিয়ে আসো যাও!
মায়া মুখ বাঁকাল। রিদের কথা গুলো পছন্দ হয়নি। তাই তৎক্ষনাৎ রিদ থেকে হাত দুটো নিজের কাছে টেনে নিয়ে চুড়ি গুলো দেখে বললো…
—” না দিব না আমি।
—” কেন?
মায়া হাতে চুড়ি গুলো নাড়িয়ে রিদকে দেখি ঠোঁট প্রসারিত করে হেঁসে বলে…
—” অনেক সুন্দর তাই!
—” পছন্দ হয়েছে?
—” হুমমম।
মায়ার স্বীকারোক্তিতে রিদ আলতো হেসে মায়ার গায়ের ওড়নাটার একপাশ নিজের হাতে নিতেই মায়া ভয়ার্ত মুখে চমকে উঠে নিজের ওড়না টেনে ধরে অন্য কিছু চিন্তা করে। রিদ মায়ার ভয়ার্ত মুখের দিকে পাত্তা না দিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই মায়ার ওড়না কোণায় বাঁধা রিংটা খুলে নিল। মায়ার কেনা রিংটা নিজের হাতে পড়তে পড়তে দৃষ্টি বুলালো সেটাতে। হোয়াইট গোল্ডের মধ্যে সিম্পল রিং। বেশ সুন্দর। এবং তাতে খোদাই করে লেখা ‘BOW’। রিদ রিংটা হাতে পড়তে পড়তে মায়াকে প্রশ্ন করলো…
—” রিংয়ের ‘BOW’ লেখা কেন?
মায়া খানিকটা জড়তা নিয়ে বলে…
—” আপনি বাসা থেকে বের হলেই আমাকে ভুলে যান। আপনার মনে থাকে না আমাকে। এই জন্য রিংয়ের মধ্যে ‘বউ’ লেখা। যাতে এটা দেখে দেখে সবসময় আমাকে সরণের রাখতে পারেন তার জন্য।
মায়ার লজিকে কপাল কুঁচকায় রিদ। মিহি সুরে বলে..
—” আমি ভুলে যায় তোমাকে?
—” হুমমম।
—” আইডিয়াটা দারুণ। তবে এতো টাকা পাইছো কোথায়?
—” আমি জমাইছি।
—” এতো টাকা?
—” হুমমম!
—” বাহ! বেশ বড়লোক তো আপনি! তা কতদিন যাবত টাকা জমাচ্ছিলেন?
—” তিন বছর ধরে।
—” সব টাকা আমার জন্য খরচ করে ফেলেছো?
—” নাহ! আরও আছে।
—” এতো টাকা নিয়ে ঘুমান কিভাবে আপনি, চোর-ডাকাতে ধরে না?
—” নাহ!
—” উফ! ধরার দরকার ছিল। আপনি যে এতো বড়লোক মানুষ সেটা আসলে চোর-ডাকাত জানে না। আজকে আমি আপনার সন্ধান দিয়ে আসব তাদের। তাহলে চলবে না…
মায়া মুখ বাঁকিয়ে বলে…
—” নাহ!
—” আচ্ছা বলবো না। তবে তোমার কিছু লাগলে এবার থেকে আমাকে বলবে কেমন।
—” আচ্ছা!
মায়ার সম্মতিতে রিদ সন্তুষ্টি হলো। হাত বাড়িয়ে পাশ থেকে একটা টুল এনে মায়ার সামনে বসে পড়লো। দুষ্টমী বন্ধ করে সিরিয়াস হলো। মায়ার মুখোমুখি বসে হাত দুটো টেনে নিল নিজের হাতের ভাঁজে রিদ। মায়াকে বুঝানোর উদ্দেশ্য রিদ বলতে শুরু করে…
—” দেখ তুমি ছোট হতে পারো। কিন্তু স্বামী বুঝ না তেমন কিন্তু নয়। হয়তো তোমাকে অনেক কিছু শেখাতে হবে আমার। আমি শেখাব। কিন্তু তোমাকে তার আগে কিছু কথা বলে রাখি। আমার মুড যেমন সবার প্রতি এক না তেমনই আমি কারও প্রতি দয়ালুও না একসেপ্ট ইউ। আমাকে বুঝতে শেখ! আমার অবাধ্য হয়ে কখনোই কিছু করো না। যেটা না করব মানে সেটা না-ই হবে। সেটার বিপরীতে কিছু করতে যেও না কখনো। তাহলে ফলাফল ভয়াবহ হবে। দ্বিতীত্ব! আমার ঘরালো মেয়ে পছন্দ। তাই তোমাকে মার্জিত ভাবে রাখি আমি। তোমার স্বামী হিসাবে তোমার সৌন্দর্য দেখা বা ভোগ একমাত্র হকদার আমি। তুমি যে শালীন, মার্জিত কাপড় গুলো পড় সেটাও আমার ইচ্ছাতে। আমি তোমাকে বোরকা পড়ায় কারণ আমার জিনিসে কারও নজর পছন্দ না। আমার ব্যবহৃত টিস্যুতে কারও হাত দেওয়াটা আমার পছন্দ না সেখানে তুমি আমার ব্যক্তিগত মানুষ। আমার স্ত্রী। তোমাকে আর আমাকে আমি আলাদা করতে পারিনা। আমার মনে হয় তুমি মানেই আমি, আমি মানেই তুমি। দুই জান এক সত্তা। তোমার চঞ্চলতা, তোমার পাগলামি, তোমার কোনো কিছুতেই আমার আপত্তি নেই! তুমি যেমন তেমনটায় আমার পছন্দ। এক্সট্রা কোনো কিছুই চেঞ্জ করতে চাই না। তবে আমার নিজস্ব কিন্তু লজিক আছে। যেমন ধরো আমি তোমাকে ইন্টারমিডিয়েট পযন্ত পড়াবো। তারপর তুমি মনোযোগ দিয়ে আমার সাথে সংসার করবে। এই জেনারেশনের মস্ট অফ দ্যা পিপল বিশ্বাস করে মেয়েদের ইন্ডিপেন্ডেন্ট হওয়া দরকার। নিজের পায়ের দাঁড়ালোর দরকার, যাতে এই সমাজে সম্মানের সহিত মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। কিন্তু আমি এমনটা চিন্তা করি না। ধারণা রাখি না। প্রথমত্ব আমার ঘরালো মেয়ে পছন্দ যে শুধুই স্বামীর সংসার করবে। যেমন আমার মা-দাদী করেছে এসেছে এতো কাল। আমার মা-দাদী দুজনি হায়ার এডুকেটেড। তারপরও বিয়ের পর স্বামীর সংসার ছাড়া অন্য কিছু বেঁচে নেয়নি। এজন্য পিছনে ঘুরে তাকালে হয়তো শুধু তাদের ভালোবাসাময় সংসারের স্মৃতিটা চোখে পড়বে। দাদী আরও পঞ্চাশ বছর আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। সেখানে থেকে এডুকেশন শেষ করেও সংসার ছাড়া অন্য কিছু খুঁজেনি। আজ তাদের বিয়ের এতো বছর পরও একে অন্যকে ছাড়া অচল। ভালোবাসায় পূর্ণ তাদের সংসার জীবন। বর্তমান সমাজের বাস্তব নামক উশৃংখল সংসার হচ্ছে। সেখানে ভালোবাসা কম ভালো থাকার চুক্তি বেশি। যেমন ধরো! স্বামী স্ত্রী দুজনই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাহিরে সম্মান, টাকা, খুঁজে তাহলে তাদের নিজেদের সংসারের সম্মান, ভালোবাসা থাকে না। দুইজনই দিনশেষে বাস্তব, ব্যস্ততা চাপা পড়ে থাকে। তাই তাদের কারও জন্য কারও হাতেই বিশেষ সময় থাকে ভালোবাসা দেখানোর জন্য। দু’জনই নিজের সুখটায় ভিন্ন দিকে খুঁজে বেড়ায়। তাদের কাছে ভালোবাসা শব্দটাও একরকম অবহেলিত হয়ে যায়। মানসিক শান্তি পায় না। তবে দিনশেষে অনেক কর্মজীবী মানুষই সংসারী থাকে কিন্তু বেশিভাগ মানুষেরই লোক দেখানো সংসারটায় হয় বেশি। সংসার জীবনের দুজনই সারাদিন বাহিরে ব্যস্ত থাকলে, রাতে বাসায় ফিরে একে অন্য যত্ন করতে যায় না ভালোবাসে। দুজনই ক্লান্ত থাকে। তাই কাজের বুয়ার হাতে দুটো ভাত খেয়ে শুয়ে পড়ে ক্লান্তিতে। এবার দুজন সতেজ থাকলে শারীরিক সম্পর্কটা হবে আর নয়তো একজন ক্লান্তি থাকলে অপরজনের সঙ্গ এখানেই শেষ। আর এটাকে বর্তমান সমাজের বাস্তব সংসার বলে। কিন্তু আমাদের ধর্ম কিন্তু অন্যটা বলে। নারীর পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলাটা হারাম বলে। স্বামী যাহ রুজি করে খাওয়াবে স্ত্রীদের তাতেই সন্তুষ্টি থাকতে হবে। বাড়াবাড়ি করা যাবে না। বরং স্বামীর আনুগত্য স্বীকার এর মাধ্যমে স্ত্রীর জান্নাত হবে। আমি খারাপ, গ্যাংস্টার মানুষ হতে পারি! কিন্তু তোমাকে নিয়ে আল্লাহ দরবারে জবাবদিহিতা করতে চাই না। আমি খারাপ, আমি পাপি, আমার জবাবদিহিতা আমি করবো। তারপরও আমি তোমাকে নিয়ে পরিস্কার থাকতে চাই। কারণ বউ উচ্চ উশৃংখল চলাফেরা করলে তার জবাবদিহিতা স্বামীকে আল্লাহর কাছে করতে হবে। তাই তোমাকে আমি সবসময় সেই হেফাজতে রাখব ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া আমি তোমাকে কখনোই চাকরি করাব না।
সংসার করাব। আমার মানসিক শান্তি চাই। জীবন একটা সময় ঘুরে পিছন থাকালে যেন সুখীময় স্মৃতি স্মরণ করে যেন তৃপ্তি পায় দু’জনি। সংসার জীবনে আমরা কখনো বাচ্চা নিব না। আমার নতুন করে কোনো দূর্বলতা চাই না। বাচ্চা মানেই আমার তোমার সাথে সাথে নতুন আরও একটা দূর্বলতা বাড়ানো। তাই আমাদের সংসার জীবনটা কাটবে সাদামাটা। যেখানে
সারাজীবন তুমি আমাকে পালবে। আর আমি তোমাকে। ভালোবাসার কমতি থাকবে না। আর না ছাড়াছাড়ি শব্দটা। দিন শেষ আমি যখন ক্লান্তিতে বাসায় ফিরব। তখন তোমার সতেজ চেহারায় নিজের সব ক্লান্তিতা দূর করব। তোমার হাসে মুখে নিজের সুখটা খুঁজে বেড়াব। আমাদের সংসারের ভালোবাসার মানসিক শান্তিটা থাকবে প্রাধান। তারপরও তোমার সিকিউরিটি জন্য খান বাড়ির হালাল সম্পত্তির তোমার দেনমোহর হিসাবে আমি লিখে দিয়েছি। ভবিষ্যতে সমস্যা হবে না কোনো। আমার বাঁচা-মরার কোনো গ্যারান্টি নেই। আমার প্রফেশনের জন্য এমনটাও হতে পারে যে, আমি এখন বের হচ্ছি রাতে লাশ হয়ে বাসায় ফিরলাম। আবার দেখা গেল আমার লাশটাও খুঁজে ফেলে না তোমরা। গুম হয়ে গেল। আমাকে ফিরে না পাওয়াটা তোমার ভাগ্য বলে মিনে নিবে। তবে স্বামী হিসাবে আদেশ করে যাচ্ছি জীবনের কখনো দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে না। আমি মারা গেলে তোমাদের কোথায় কিভাবে থাকতে হবে সবটা আমি ব্যবস্হা করে রেখেছি। সেই অনুযায়ী তোমরা…
রিদ কথা গুলো শেষ করতে পারলো না তার আগেই মায়া ঢলে পড়লো রিদের কাঁধে। রিদের কথায় শব্দ করে ডুকরে কেঁদে উঠলো মায়া রিদের কাঁধে কপাল ঠেকিয়ে। রিদ মায়ার মনের অনুভূতি গুলো বুঝতে পারলো। তার এই ভাবে মরে যাওয়ার বিষয়ে কথা গুলো নিতে পারছে বলেই ফুপিয়ে কেঁদে উঠছে। কিন্তু রিদ তো অস্বাভাবিক মিথ্যা কিছু বলেনি। সবটাই সত্য বলেছে। রিদের গত ষাট বছর বেঁচে থাকাটা তার বড় ভাগ্য হবে৷ হঠাৎ মরে যাওয়াটা নিয়তি। বউটা তার ছোট মানুষ বলেই তো রিদ এই কথা গুলো তাঁকে বুঝাতে চাইছিল। সবটা গছিয়ে রাখতে। কিন্তু রিদের অবুঝ বউ বুঝলো না। রিদ মায়া কমড় ধরে টেনে নিজের কোলে উপর বসাতেই মায়া রিদের গলা জড়িয়ে ধরলো কান্নায়। রিদ একহাত মায়ার কমড়ে রেখে অন্যহাত বুলায় মায়ার মাথায় শান্ত করার জন্য। অবুঝ মায়া তখনো অশান্তর নেয় রিদের গলা জড়িয়ে মুখ গজিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠছে বারবার। রিদ মায়ার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আস্তে করে বলে…
—” কি হয়েছে কাঁদছো কেন? এইতো আমি!
মায়া ডুকরে কেঁদে উঠে ফুপিয়ে বলে…
—” আমি মরে যাব আপনাকে ছাড়া। আপনার মরার হলে আমাকে মেরে মরবেন। নয়তো আপনি আল্লাহ দরবারে দায় থাকবে আমাকে একা রেখে গেল।
রিদ গুমোট দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে…
—” মৃত্যুর মধ্যে কি কারও হাত থাকে বউ! আমি কি জানি আমি কখন মরব?
—” আমি কিচ্ছু জানি না। আমাকে একা রেখে গেল আপনি আল্লাহ কাছে দায়ী থাকবেন।
মায়া অবুঝ কথায় রিদ শান্ত রইলো। মায়াকে জড়িয়ে ধরে নিজের গাল ঠেকালো মায়ার মাথার উপর। চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বসে রইলো এইভাবেই। মায়ার হিচকি তুলা কান্না তখনো কমতে না দেখে রিদ মায়ার মাথা ধরে নিজের মুখোমুখি করে। আঁজলে দু’হাতে মায়ার চোখর পানি মুছে দিয়ে মায়াকে শান্ত করতে কথা ঘুরিয়ে বলে…
—” আজকে ভাইয়ের বিয়ের শপিং করতে যাবা?
মায়া শান্ত হতে হতে হিচকি তুলে বলে…
—” হুমম! আমার পরিবার সবাই আসবে বিয়ের শপিং করতে ঢাকায়। সাথে ফিহা আপুর বিয়ের শপিং করিয়ে দিতে।
—” শপিং করাবা ভালো কথা! বোরকা পড়ে যাবে আর দাদী সাথে সাথে থাকবে অন্য কোথাও ঘুরঘুর করবা না কেমন!
—” আচ্ছা!
—” বাবার বাড়িতেও যাওয়া যাবে না। শপিং করে সোজা দাদীর সাথে বাসায় আসবা।
—” আমাদের বাড়িতে যাব না?
—” নাহ।
—” ভাইয়া বিয়েতেও যাব না?
—” তোমার ভাইয়ের বিয়েটা খান বাড়ির সাথেই হচ্ছে সো তুমি তোমার শশুর বাড়ি হয়ে ফিহার পক্ষ ধরে বিয়েতে এটেন্ড করো। তাছাড়া দুইদিন পর তোমার বাপের বাড়িতে যাওয়াটা আমার পছন্দ না। পনেরো দিন আগেই দুইমাস বাপের বাড়িতে থেকে আসছো। এবার দুই বছরের বাপের বাড়িতে যাওয়ার নাম নিবা না। ভাইয়ের বিয়ে খান বাড়ির থেকে খাবে।
—” ভাইয়ার বিয়েতে না গেলে সবাই কষ্ট পাবে তো। আব্বু মনটাও তো ভেঙে যাবে ।
—” তোমার বাবার মন তোমার বাবা বুঝবে। তোমার মাথা ঘামাতে হবে না। তুমি স্বামীর চিন্তা করো আপাতত। এবার যাও আমার জন্য কফি নিয়ে আসো।
—” আবার খাবেন?
–” হুমমম! যাও!
—” আচ্ছা!
মায়া রিদের কোল থেকে উঠে দাঁড়ালো। দুই কদম হেটে সামনে এগোতেই আবার পিছন থেকে আটকালো রিদ। মায়া হাত টেনে পুনরায় নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে আঁজলে দু’হাতের ভাঁজে মায়ার গাল আঁকড়ে ধরে শব্দ করে চুমু খেলো মায়ার কপালে। মায়া লজ্জায় কেঁপে উঠতে রিদ শান্ত স্বরে বলে…
—” আজকে মতো করে রোজ আমার কাজ গুলো গুছিয়ে দিবে তুমি কেমন।
মায়া রিদের হাতের ভাঁজে উপর হাত রেখে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বলে..
—” আচ্ছা!
~~~
নয়টা ছুঁই ছুঁই! রিদ বাড়িতেই আছে তবে বাগানে খোলা বাংলোতে। আরিফ কিছু কাগজ পত্র দেখাচ্ছে আর সেটা মনোযোগ সহকারে চেক করছে রিদ। মায়া আপাতত হেনা খানের পিছন ঘুরঘুর করছে। আজ যেহেতু সবাই শপিং যাবে সেই সুবাদে মায়াও আজ কলেজে যাওয়া হলো না। বাসায় রইলো। রিদের সাথে বসে নাস্তাটাও করলো। রিদ বাহিরে যেতেই হেনা খানের আঁচল ধরে ঘুরঘুর করছে। হেনা খান বাটিতে চিজি পাস্তা তুলে দিল মায়ার হাতে। মায়া আপাতত সেটার জন্য হেনা খানের পিছন পিছন ঘুরঘুর করছিল। মায়া বাটি হাতে ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসলো। এক চামচ মুখে দিতেই মনে পড়লো রিদকে একটু সেধে আসা দরকার মায়ার। যদি খায় তো খেল না হলে মায়া সবটা একাই খেয়ে নিবে। চিন্তা অনুযায়ী বাটি হাতে উঠে দাঁড়ালো মায়া। দরজার বাহির হতেই মুখোমুখি হলো রিদের মামার পরিবারের সাথে। আকস্মিক ভাবে উপস্থিত মেহমানদের সামনে পড়ে যাওয়ায় থমথমে মুখে বাটি হাতে মায়া জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়লো । নড়লো না। মোরশেদ আব্দুল্লাহ মায়াকে দেখে হাসি মুখে কুশলাদি বিনিময় করে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির ভিতর চলে গেলেও থেকে যায় ফাহাদ আব্দুল্লাহ। মেহু খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে আপাতত এইদিকটা মনোযোগ নেই তার। ফাহাদের চোখের মুখে উৎফুল্লতার প্রকাশ মায়াকে একা পেয়ে। চারপাশে চোখ বুলানোর প্রয়োজন বোধ করলো না মায়ার কাছে আসতে চেয়ে। ফাদার দুই কদম এগিয়ে মায়ার শরীরে দিকে ভালো করে তাকাতে চাইলো লোভী দৃষ্টিতে। মায়ার পা থেকে মাথা অবধি চোখ বুলানোর আগেই রিদের দাবাং হাতের স্বীকার হতে হলো তাকে। আকস্মিক ঘটনায় রিদ দুহাতে ফাহাদের কলার টেনে দেয়ালের সাথে জোরে চেপে ধরে রাগে হিংস্র চোখে দাঁতে দাঁত পিষে বলে….
—” একদম না! দৃষ্টি নিচে নামিয়ে! নয়তো কলিজা ছিড়েখুঁড়ে খাব! ভুলেও সেই দিকে নজর ফেলবি না। বাঁচার জন্য জীবনটায় আর পাবি না তাহলে! জানে মেরে দিব! এবার যাহ এখান থেকে!
ফাহাদের কলার ঝাঁকিয়ে ধাক্কা মেরে নিজের থেকে সরিয়ে দেয় রিদ। বোকা মায়া তখনো বুঝলো না রিদ কেন ফাহাদকে মারলো। বরং মায়া কিছু বুঝে উঠার আগেই রিদ মায়াকে ভিতর যেতে আদেশ করলো। মায়া বিনা শব্দের বাটি হাতে চলে যেতেই মায়ার যাওয়ার দিকে কপাল কুঁচকে তাকায় মেহু। রিদের রাগ, মায়ার প্রতি পজেসিভনেস, ফাহাদের মার খাওয়াটা সবাটা তীক্ষ্ণ চোখে পযবেক্ষণ করছে মেহু। যাহ বুঝার সে আপাতত বুঝে গেছে তারপর রিদের সাথে একটাবার কথা বলে নিবে। রিদ গ্যাংস্টার হলেও সহজে সবকিছু ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী সেও নয়। নিজের ভালোবাসা না পেলে অন্যকে যে সুখে সংসার করতে দিবে এমনটাও না। রিদকে কিছু করতে না পারলে যে মায়াকেও কিছু করা যাবে না এমনটাও না। কিন্তু কিছু করা আগে মেহুর রিদের কথা বলার দরকার। আর আজকে তার পরিবার এসেছে রিদের সাথে তার বিয়ের আলোচনা করতে। এবার রিদের উত্তর বুঝে না-হয় মেহু কথা বলবে। রিদ যদি তার সাথে গেম খেলে বা বিয়ে করবে না বলে নাহুচ করে। তাহলে পাল্টা গেম নাহয় একটা মেহু খেলবে শান্ত মস্তিষ্কের সবার সাথে।
(গল্পে পার্ট গুলা বড় করে লেখায় অনেকর পড়তে সমস্যা হয়। তাই ছোট করে লেখলাম আজ। আসলে কাহিনিটা একটু বড় তাই বেশি বেশি করে লিখে শেষ করতে চাচ্ছিলাম আরকি। লম্বা গল্প পড়তে অনেকই বিরক্ত বোধ করে।)
.
চলিত….
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৫
-
দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ১ গল্পের লিংক
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ১