Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৪


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৫৪
দু-গালে হাত রেখে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে মায়া। কিছুক্ষণ আগেই রিদের শক্তপোক্ত হাতে থাপ্পড় খেয়েছে সে। একগালে নয়! দুই গালেই খেল দুটো। মায়ার বর্তমান অবস্থান খান বাড়িতেই। তবে বাড়ির ভিতরে নয় বাহিরে। খান বাড়ির বাগানে অবস্থারত রিদের ছোট কাঁচের বাংলোতে। রিদ মায়াকে নিয়ে এখানে এসেছে প্রায় ঘন্টা খানিকটা আগে। মায়ার জ্ঞান ফিরা মাত্র রিদের দাবাং হাতে থাপ্পড় গুলো খেতে হয়েছিল তাঁকে। রিদের থাপ্পড় খেয়ে মায়ার বিষয় গুলো বুঝতে বুঝতে বেশ কিছুটা সময় নিল। যখন বুঝতে পারলো তার অপরাধটা কোথায়! তখন থেকেই ভয়ে ফুপিয়ে কেঁদে চলছে রিদের সামনে। রিদ নিষ্ক্রিয় নিষ্পত্তি উত্তাপ রাগের দহনে কটমট করে তখনো তাকিয়ে থাকলো নত মস্তিষ্কের মায়ার দিকে। এই মূহুর্তে তার ইচ্ছা করছে মায়াকে মাথার উপর তুলে আছাড় মারতে। যে বউ তাঁর কথা শুনে না তার সাথে আবার কিসের ভাব বিনিময় রিদের। অবাধ্য কিছু কোনো কালেই রিদের পছন্দ না সেটা কি জানে না এই মেয়ে? তাহলে কেন আজ রিদের অবাধ্য হলো। আজ একটুর জন্য রিদ এই মেয়েকে বাঁচাতে পারলো! নয়তো? নয়তো কি হতো এই মেয়ে ধারণা আছে? সবকিছুতে কেন এতো পাগলামি করতে হবে তার? বড় হয়েছে! বিয়ে হয়েছে! স্বামী আছে! সামনে সংসার করবে! তারপরও কেন নিজের ভালোটা বুঝতে পারে না এই মেয়ে? নিজের জন্য না হোক অন্তত তাঁর জন্য হলেও তো নিজের খেয়াল রাখতে পারে। এই মেয়ে কি বুঝে না রিদের নিঃশ্বাস আটকে আছে তাঁর মধ্যে। এই মেয়ে তো মরবে না শুধু রিদকে মারবে! তীব্র রাগে বিরক্তির রা ছড়িয়ে পড়লো রিদের শরীরে। নিজের প্রতি নিজেই তিক্ততা প্রকাশ করলো রিদ। কি দরকার ছিল তার হাঁটু বয়সী মেয়ের উপর দূর্বল হওয়ার? নিজেকে সংযম রাখতে পারলো না এতো পাষাণ হয়েও। গ্যাংস্টার চরিত্রে বউ নামক কলঙ্ক দাগ লাগালো অবশেষে। ছেহ! অবাধ্য মন! অবাধ্য বউ! সব অবাধ্য তার কপালেই জুটেছে। তার অবাধ্য মন, অবাধ্য বউকে চাই সারাক্ষণ। আর তার অবাধ্য বউ রিদের নিয়ন্ত্রণ হারা হয়ে চলতে চাই সারাক্ষণ। সব অবাধ্য অতলে রিদ পিষ্ট হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। রিদের রাগ কমলো না। বরং তরতর করে আরও বাড়লো! অবাধ্য জিনিসটায় মেনে নিতে পারে না সে। বেগতিত রাগের বশে রিদ পাশ থেকে ফ্লাওয়ার ভাজটি তুলে সজোরে আছাড় মারলো ফ্লোরে। তীব্র শব্দে মায়া ভয়ে চমকে উঠে তৎক্ষনাৎ দুই কদম পিছিয়ে গেল। রিদের রাগ মিশ্রিত ভয়ংকর লাল লাল চোখ জোড়া দেখে মূহুর্তে আরও খানিকটা ডুকরে কেঁদে উঠে মায়া। হাত দুটো তার তখনো দুগালে আঁকড়ে ধরা। রিদ একিই ভাবে আরও একটি ফ্লাওয়ার ভাজ তুলে মারলো ফ্লোরের উপর। তীব্র রাগে হুংকার ছেড়ে বলে….

—” আমার না করা শর্তেও তুই কেন আজ অবাধ্য হলি? ভয় নাই! কলিজা কাপে নাই আমার অবাধ্য হতে? আমার একটু ভালো ব্যবহারে ভাব বেড়ে গেছে তোর? এতো সাহস তোর?

মায়া তখনো নত মস্তিষ্কের হিচকি তুলে ফুপিয়ে কাঁদছে। ঠিক এই কারণেই মায়া তখন পালাচ্ছিল রিদের হাত থেকে। রিদের চোখের সামনে পড়তে চাইনি। কিন্তু অবশেষে টিয়ার জন্য ধরা পড়ে গেল। মারটাও খেল রিদের হাত থেকে। তার চেয়ে বেশি মায়ার ছোট মনে বিষাক্ত বিষ ঢেলে আছে তখনকার রিদের বলা কথা গুলো নিয়ে। ‘মেহু আব্দুল্লাহ রিদ খানের ভালোবাসার মানুষ’ তার হবু বউ! দু’জনের মধ্যে তিন বছরের ভালোবাসার সম্পর্ক। এখন যদি মেহু আব্দুল্লাহ রিদ খানের ভালোবাসা মানুষ, তার হবু বউ হয়! তাহলে মায়া কে? মায়ার জায়গায় কোথায় তার মিস্টার ভিলেনের জীবনে? তাদের দু’জনের মধ্যে ভালোবাসা সম্পর্ক থাকলে মায়াকে কেন রিদ ভিড়তে দিল তার জীবনে! মায়া তো প্রথমে আসতে চাইনি রিদের জীবনে। বরং দূরে দূরে থেকেছে সবসময়! মায়া রিদের কাছ থেকে অসীম প্রশ্রয় পেয়ে তো তার আশেপাশে ঘুরঘুর করেছে এতটা দিন। মায়ার বিয়ে বাতিল হওয়া বিষয়টিও তো মায়া মেনে নিয়েছিল। রিদকে এই জীবনে পাবে না বলে সেটাও তো মেনে নিয়েছি সে। কিন্তু সবকিছুর আবারও পুনরাবৃত্তি হয় মায়ার রিদের সাথে দ্বিতীয়বার বিয়েটা করা নিয়ে। রিদ মায়াকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করলো। মায়া রিদের আশপাশের ঘেষতে শুরু করলো। এখন মায়ার দুনিয়া বলতেই তার মিস্টার ভিলেন! এখন সেই মানুষটায় বলছে তার তিন বছরের একটা ভালোবাসার সম্পর্ক আছে। মায়া তার কেউ না! নাথিং! সিরিয়াসলি? এতো সহজে সবকিছু ছুড়ে ফেলা যায়? হ্যাঁ যায় তো! মায়াকে তো ছুঁড়ে ফেললো তার স্বামী! কি সুন্দর সাবলীল ভাষায় বলে দিল ‘ইউ আর নাথিং! মায়া নাথিং হয়ে গেল তার স্বামীর জীবনে। অতি তুচ্ছ প্রসাধনী! মায়া গুমোট কান্নায় মূহুর্তে জড়িয়ে গেল গলা। কষ্ট গুলো তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে বক্ষপিঞ্জরের। তাই এই মূহুর্তে রিদের রাগীস্বরের বলা কথা গুলো আমলে নিল না মায়া। যেখানে ভালোবাসা নেই! সেখানে মায়ার বাঁচা মরা সামিল! মায়া কষ্ট ভারাক্রান্ত হয়ে, মায়া রিদকে না উত্তর দিল আর না চোখ তুলে তাকালো। শুধু জেদ ধরে নত মস্তিষ্কের দাড়িয়ে ধইলো একনিষ্ঠ ভাবে। মায়ার এই মূহুর্তে চুপ থাকাটা রিদের অধৈর্যের কারণ হলো। তৎক্ষনাৎ তেড়ে গেল রিদ মায়ার দিকে। দক্ষ হাতে মায়ার গলা চেপে ঠেস দিয়ে ধরে টেবিলে সাথে। আকস্মিক ঘটনায় মায়া তাল সামলাতে না পেরে টেবিলের দিকে পিঠ ঝুঁকে যেতেই, মায়া নিজের দু’হাত পিছন থেকে টেবিলে উপর রেখে ব্যালেন্স বজায় রাখার চেষ্টা করলো। কিন্তু তাতে বেশ সুবিধা করতে পারছে না কারণ ততক্ষণে রিদ মায়ার গলা চেপে ধরে মায়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। মায়ার চোখ মুখ লাল হয়ে অনবরত কাশতে লাগলো নিঃশ্বাস নিতে না পেরে। রিদ মায়াকে অপেক্ষা করে মায়ার মুখের উপর ঝুঁকে পড়ে রাগে রি রি করে বলে উঠে..

—” নতুন নাটক শুরু করেছিস আমার সাথে? কথা বলছিস না কেন তুই?

মায়ার কাশির বেগ ক্রমশয় বাড়তে লাগলো। নিশ্বাসটাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো গলা চেপে ধরায়। মায়ার মুখের উপর রিদ ঝুঁকে পড়ায় রিদের রাগী ভারি নিশ্বাসটা মায়ার মুখের উপর আছড়ে পড়ছে বারবার। মায়ার পিঠও প্রায় টেবিল সাথে ঠেকল বৈকি। মায়া নিজের দু’হাতে হাতড়ে পিছনের টেবিল আঁকড়ে ধরতে চাইলো ব্যালেন্স করার জন্য। কিন্তু অসাবধানতার কারণে মায়ার হাত লেগে রিদের বেশ কিছু ফাইল নিচে পড়ে গেল ঠাস করে। শব্দ হলো! রিদ নড়লো না। এবার মায়া নড়ে উঠলো রিদের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য। কিন্তু রিদের শক্তি সাথে পেরে উঠলো না। মায়ার চোখের কানিশ বেয়ে জল গড়ালো। মুখে আওড়ালো রিদের বেশ তিক্ত কথা। যাহ রিদের শরীর বিষ ঢেলে দেওয়ার ন্যায় কাজ করলো।

—” আল্লাহ দিক আমি মরে যায়। আপনি শান্তি হন! আমার জন্যই তো আপনার যত জ্বালা। আমি যেন মরে যায় তাড়াতাড়ি। তাহলে আপনার ভালোবাসার মানুষ মেহু আপুকে নিয়ে সুখী সংসারী হতে পারবেন দুজন।

মায়া কথা গুলো বিষাক্ত বিষের তাড়নার মতো কাজ করলো রিদের কলিজায়। তীব্র রাগে রিদ হাতের বাঁধন আরও দৃঢ় হলো মায়ার গলায়। রিদের উঠতি রাগে কটমট করে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠে…

—” আমাকে তেজ দেখাস? তুই মরে শান্তি পাবি? তোর পুরো পরিবারকে আমি মেরে দিব না! জানের ভয় নাই তোর না? আমি কার সাথে সংসার করব! না করব! সেটা তুই ঠিক করে দিবি আমায়?

—” না নেই জানের ভয়। দিন মেরে আমাকে! নয়তো ছাড়ুন আমাকে! আমি থাকতে চাই না আপনার সাথে! আপনি আমায় ঠকিয়েছেন! প্রতারণার করেছেন আমার সাথে! নিজের প্রেমিকা থাকা শর্তেও আমার ভালোবাসা নিয়ে খেলেছেন! আমাকে বিয়ে করে ঠকিয়েছেন। আপনার কি মনে হয় আমি মেনে নিব সবকিছু! কক্ষনো না। নিজের জান দিয়ে দিব তারপরও মান দিব না কোনো কিছু। মরে যাব তারপরও আপনার সাথে দ্বিতীয় সংসার করব না আমি। ছাড়ুন আমায়। যান আপনার হবু বউয়ের কাছে।

মায়ার কথা গুলো শেষ হলো না। তার আগেই রিদ ঢলে পড়লো মায়া উপর। রিদের ভারি শরীরের চাপে মায়ার পিঠ ঠেকলো তৎক্ষনাৎ টেবিলের উপর। রিদ নিজের শরীরের সম্পূর্ণ ভার মায়ার শরীর উপর ছেড়ে দিয়ে পড়ে রইলো একই ভাবে ক্লান্তিতে। রিদ শারিরীক দুর্বলতা থেকে মানসিক দূর্বলতায় আজ নেতিয়ে পড়লো মায়ার উপর। মায়ার গলায় মুখ গজানোর জন্য রিদ হাত বাড়িয়ে মায়ার মাথার হিজাবটা টেনে উল্টে খুলে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে, সেখানটায় নিজের মুখ গজিয়ে একনিষ্ঠ ভাবে পড়ে রইলো শরীর ছেড়ে। মায়া রিদের শরীরে নিচে পিষ্ট হয়ে গোঙ্গাল। ছটফট করতে চাইলো দ্বিগুণ কিন্তু পারলো না বিন্দুমাত্রও। রিদের ঘন ঘন ভারি নিশ্বাস উঠা নামা করছে মায়ার গলায়। মায়া কেঁপে কেঁপে উঠছে অস্থিরতায়। মায়া রিদকে নিজের থেকে দূরে সরতে চাইলো। কিন্তু পারলো না বলে রাগে জেদ্দে মায়া হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে কামড়ে ধরলো রিদের বাহু শক্ত করে। রিদ নড়লো না! শব্দ করলো না! কোনো রুপ প্রতিক্রিয়াও জানালো না মায়াকে! রিদের হেলদোল দেখতে পারলো না বলে যেন মায়ার অধৈর্য্য হলো আরও বেশি। রিদের বাহু ছেড়ে গলায়! গলা ছেড়ে অবশেষে রিদের কানের নিচে গালের পাশটায় কামড়ে ধরলো শক্ত করে। এতেও রিদ প্রতিক্রিয়া জানালো না বিন্দুমাত্র মায়াকে। বরং আগের ন্যায় ঘনঘন নিশ্বাসের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে মায়ার গলায়। মায়া একটা সময় থেমে গিয়ে হঠাৎই ডুকরে কেঁদে উঠলো শব্দ করে। ব্যর্থতাই ঠাস করে টেবিলে মাথা ফেলে রিদের দু-বাহুতে দু-হাত রাখলো। কান্নার নির্দর কন্ঠে বলে উঠলো মায়া…

—” আমাকে মেরে দিন না মিস্টার ভিলেন! আপনি তো অনেক-কে মারত পারেন। তাদের মতো করে আমাকেও মেরে দিন না। আপনি আমার না। আপনি মেহু আপু! এই একটা কথা আমি মেনে নিতে পারছি না। পারব ও না। আমার ভাগাভাগির স্বামী চাই না। মোটেও চাই! আমি আর আসব না আপনার কাছে। এবার থেকে দূরে দূরে থাকব। ভিষণ দূরে থাকব আমি।

কষ্ট দলা পাকিয়ে আসা কান্না সমেত কথা গুলো বলেই মায়া আবারও বাঁধ ভাঙ্গা কান্না আছড়ে পড়ে। মায়া হিচকি তুলে কান্না সমতে হঠাৎই রিদের বাহুর পিঠের শার্টের অংশটা দু’হাতে শক্ত করে খামচে ধরে মায়া। কান্না থেমে যায় রিদের বেগতিক ঠোঁটে পরশে। শরীরে কম্পন সৃষ্টি হয় মায়ার সমস্ত কায়া কাপিয়ে। রিদ মায়ার গলায় নিজের ঠোঁটের পরশ দিতে দিতে কানে এসে থামলো। ফিসফিসিয়ে একটু করে বললো…

—” তোমার মতো করে কেউ আমায় এতটা ভালোবাসিনি বউ! আমি স্বার্থক! তোমার ভালোবাসার ছায়া তলে। আমার জীবনের একমাত্র সত্য তুমি! বাকি সব সম্পর্ক মিথ্যা। তুমি আমার জীবনে প্রথম এবং শেষ নারী। আমার প্রিয় তুমি! আমার খুব আদুরী তুমি!

রিদের মুখে মায়া প্রথম ও শেষ নারী শব্দটাতেও যেন অবিশ্বাস শুনালো মায়ার কানে। তারপরও মনে আশা জাগলো। কান্না থেমে আসলো। রিদের কথার সত্যায়িত যাচাই করতে মায়া বলে উঠলো….
—” তাহলে আমাকে ছুঁয়ে বলুন যে আমি আপনার জীবনে প্রথম ও শেষ নারী হয়?

রিদ আলতো হেঁসে মায়ার কানের পাশে নিজের নাক ঘঁষে ফিসফিস করে বলে….
—” ছুঁয়ে তো আছি বউ!

রিদের বর্তমান অবস্থানটা বুঝতে পেরে মায়া লজ্জা পেল কিঞ্চিৎ! পুরোপুরি লজ্জা নামক বিষয়টি তখনো মায়াকে কাবু করতে পারলো না। মায়ার মনে তোলপাড় করা রিদকে নিয়ে প্রশ্ন গুলোর জন্য। আগে রিদ থেকে মায়া সন্তুষ্টি মূলক উত্তর নিবে তারপর নাহয় লজ্জা পাবে। মায়া গাঢ় গলায় ছোট করে প্রশ্ন করলো রিদকে…
—” তাহলে মেহু আপুর সাথে সম্পর্ক?
—” কিছু নেই!
—” ভালোবাসেন?
—” না!
—” তাহলে হবু বউ বললেন কেন তখন?
—” মন চাইছে তাই বলছি!
মায়া রেগে গিয়ে রিদকে উঠাতে চাইলো নিজের উপর থেকে…
—” অসভ্য লোক উঠুন আমার উপর থেকে।
রিদ নড়লো না। বরং পুনরায় মুখ গজালো মায়ার গলাতে। নিজের দু’হাতে মায়াকে শক্ত করে জড়িয়ে নিতে নিতে মোহাচ্ছন্ন গলায় বলে…
—” তুমি এতো নরম তুলতুলে কেন বউ? ইচ্ছা করে সারাক্ষণ তোমার গলায় মুখ গুঁজে চেপে ধরে রাখি নিজের সাথে! যেদিকে ধরি সেদিকেই ঢুকে যায়। উফ!

রিদের লাগামহীন স্পর্শে মূহুর্তে কেঁপে উঠে মায়া। বুক ভারি নিশ্বাসটাও গলায় আঁটকে আসে মায়ার। রিদের কথা গুলো এই মূহুর্তে মায়াকে লজ্জা ফেলতে পারছে না অস্থিরতায়। মায়ার আগে নিজের সন্তুষ্টি মূলক উত্তর চাই রিদের থেকে। রিদের জীবনের মায়া ব্যতীত অন্য নারীর সংস্পর্শেও আছে এই বিষয়টি যেন মায়ার শত মরণের কারণ হচ্ছে! চোখ দুটো তখনো অশ্রুতে ভিজা মায়ার। এবার রিদকে সরাতে চেষ্টা না করে তীব্র অস্থিরতায় পুনরায় প্রশ্ন করে মায়া রিদকে…
—” আপনি মেহু আপুকে ছুঁয়েছেন?
—” হুমমম!
রিদের ক্ষীণ স্বরে উত্তরে আবারও শব্দ করে কেঁদে উঠে মায়া। রিদ আলতো হাসলো। ব্যাকুল মায়াকে শান্ত করতে চাইলো না। বরং নিজেই মায়ার মধ্যে শান্তি খুঁজলো। মায়ার গলা থেকে মুখ তুলে মায়ার কপালে কপাল ঠেকালো নিজের। কন্ঠেস্বর খাদে নামিয়ে মিহি স্বরে বললো…

—” হাই! হ্যালো! হ্যান্ডশেক! হয়েছে বেশ কয়েকবার আমাদের প্রফেশনাল সম্পর্কের জন্য। মেহু আমার প্রফেশনাল পার্ট! তুমি আমার খুব পারসোনাল। তোমার মতো করে আমার কাউকে ছুঁয়ে হইনি বউ।
রিদের কথায় মূহুর্তে সন্তুষ্টি চেয়ে গেল মায়ার মনে। কান্না থেমে গেছে! আশা জেগে উঠেছে!
—” সত্যিই?
মায়া কপালে নিজের অধর ছুঁয়ালো রিদ…
—” সত্যি।
খুশিতে চকচক হয়ে উঠে মায়ার চোখ মুখ। এতক্ষণ যাবত হওয়া দুঃখ কষ্ট সব ভুলে বেশ উৎফুল্লর হলো মায়ার মন। সতেজ মনে মায়া ভুলে গেল নিজের অবস্থানের কথা। খুশিতে সে কিছু বলবে তার আগেই শুনা গেল রিদের ভারি কন্ঠস্বর…
—” উহুম! আর প্রশ্ন করবা না। আমার ভালো লাগছে না। চুপচাপ থাকো।

মায়া কিছু বলতে গিয়েও দমে গেল। মুখে আসা কথা গুলো ঢুক গিলে নিল মূহুর্তে। মায়া যা শুনার শুনে নিয়েছে তাই এই মূহুর্তে রিদকে বিরক্ত না করাটায় শ্রেয়তর মনে হলো। মায়া চুপ থাকলো। রিদ পুনরায় নিজের মুখ মায়ার গলাতে গজাতেই মস্তিষ্ক জ্বলে উঠলো মায়ার নিজের অবস্থানের কথা চিন্তা করে। এতক্ষণ যাবত রিদের টেনশনে টেনশনে বিভোর থাকলেও এখন যেন বড্ড অশান্ত ন্যায় ছটফট করলো রিদের বক্ষতলে পিষ্ট হয়ে। কম্পিত শরীরে লজ্জা আড়ষ্ট হয়ে ছটফট করতেই রিদ শক্তহাতে জড়িয়ে নেয় মায়াকে। মায়া ছটফট যত দ্বিগুণ হয় রিদের হাতের বাঁধন ততই দৃঢ় হয়। প্রচন্ড অস্তিত্বের মায়া একটা সময় দমে গেল। চুপচাপ পিঠ ঠেকিয়ে শুয়ে রইলো টেবিলের উপরই। দৃষ্টি বড্ড চঞ্চল। থেকে থেকে কেঁপে উঠছে গলায় রিদের ভারি নিশ্বাস দহনে। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে মায়া দীর্ঘ ত্রিশ মিনিট সময় পার করলো একিই ভাবে রিদের বক্ষতলে। রিদের ভারি শরীরে ওজনে এবার মায়ার শরীর ধরধর ব্যাথা করছে। মায়ার কমড় ব্যথায় টনটনিয়ে উঠেছে টেবিলের কোণা চাপে। মায়া এবার রিদকে উঠাতে চাইলো। রিদের বাহুতে হালকা হাতের স্পর্শ করে বললো….

—” উঠুন না প্লিজ! আমি ব্যাথা পাচ্ছি তো!
রিদ নিশ্চুপ! না উঠলো! না নড়লো! না শব্দ করলো! মায়া এবার হালকা হাতে রিদের বাহুতে ধাক্কা দিয়ে বলে..
—” সত্যি ব্যাথা পাচ্ছি। উঠুন না প্লিজ! আমার কপাল, হাতের কাটা জায়গায় গুলোতেও ব্যথা করছে প্রচুর! আপ..

মায়া আঘাতের কথা মাথায় আসতেই টনক নড়লো রিদের। তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ালো মায়া উপর থেকে। দক্ষ হাতে মায়াকে টেনে টেবিল উপর থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো। কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ ফেলে মায়া কপালে, হাতের কাটা ছেঁড়া গুলো দেখে নিয়ে বড় বড় পা ফেলে ড্রয়ার থেকে ফাস্টেড বক্স নিয়ে পুনরায় হাজির হলো মায়ার সামনে। রিদ লাফিয়ে টেবিলে উপর পা ঝুলিয়ে বসে মায়ার বাহু টেনে নিজের সামনে দাঁড়ার করালো। ফাস্টেড বক্স টেবিল উপর রেখে সেখান থেকে তুলা নিয়ে এন্টিসেপটিক লাগিয়ে মায়ার কপাল বরাবর ধরতেই, অভিমানে মায়া বামে বেঁকে গেল লাগাবে না বলে। রিদ কপাল কুঁচকে মায়া রিদের প্রশ্নোত্তর দৃষ্টিতে তাকাতেই মায়া নিজের দু’হাতে হাত রেখে গাঢ় অভিযোগ গলায় গাল ফুলিয়ে বলে উঠে…
—” লাগাব না আমি!

মায়ার হঠাৎ অভিযোগে কারণটা ধরতে পারলো না রিদ। মায়ার বাচ্চামো ভেবে এবার রিদ মায়ার বাহু টেনে ধরে পুনরায় কপাল তুলো স্পর্শ করতে চাইলে এবারও মায়া একিই কাজ করলো। গাঢ় অভিমানে ডানে মুড়ে যায় আগের ন্যায়। রিদ হালকা বিরক্তি নিয়ে প্রশ্ন করে মায়াকে…
—” কি সমস্যা? ওয়াশ করতে দিচ্ছো না কেন?
মায়া গালে হাত রেখে অভিযোগী গলায় বলে উঠে…
—” আমাকে মারলেন কেন?
মায়ার অভিমানে কারণটা বুঝলো রিদ। কিন্তু তারপরও বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা গেল না রিদের মাঝে। বরং চোখে মুখে কঠিনতম ভাব দেখা গেল তৎক্ষনাৎ। রাগী তেজি গলায় মায়াকে শাসিয়ে বলে…
—” বেশ করেছি মেরেছি! প্রয়োজনে হলে আরও মারব।
—” তাহলে আমিও লাগাব না আপনার হাতের ঔষধ। যান আপনি।

রিদ মায়ার কথা শুনলো না। বরং বিরক্তি রেশ নিয়ে মায়ার কপালে নিজের হাতে তুলোটা লাগাতে চাইলে, মায়া তৎক্ষনাৎ দুই কদম পিছিয়ে যেতে চাইলো রাগে। কিন্তু পারলো না। রিদ শক্ত হাতে পুনরায় মায়া বাহু টেনে নিজের অতি নিকটে নিয়ে আসে। মায়া ছটফট করে নড়াচড়া করতেই, রিদ নিজের দুপা দিয়ে মায়ার দু-পা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে নিজের কাছে। তৎপর রাগী হাতে চেপে চেপে মায়ার কপালে ঔষধ লাগিয়ে কাটা জায়গায়টা পরিষ্কার করতে করতে বলে..

—” আজ তোমার বোকামির জন্য আমি সবকিছু হারাতে পারতাম। সামান্য একটা রিংয়ের জন্য নিজের জীবন দিতে গেছিলে আজ। নির্ঘাত আমি ফেঁসে গেছি নয়তো এতক্ষণে তোমাকে মেরে ডাস্টবিনে ফেলে আসতাম। এমন অবাধ্য বউয়ের কি দরকার যে স্বামীর কথা শুনতে চাই না!

রিংয়ের কথাটা মস্তিষ্কের আসতেই টনক নড়লো মায়ার। রিদের জন্য কেনা রিংটা রাস্তায় পরে গিয়েছিল। মায়া হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়াতে, পরে আর রিংটার খবর মায়ার জানা নেই। মায়া রিদের কথা গুলো আমলে নিল না। বরং চিন্তিত হলো রিংটার জন্য। অস্থির ভঙ্গিতে প্রশ্ন করলো রিদকে…
—” আমার রিংটা কই?

রিদ বিরক্ত হলো মায়ার কথায়। নিজের জীবন নিয়ে টানাটানি হয়ে গেল অথচ এখনো রিংয়ের চিন্তায় বিভোর মেয়েটা। রিদ মায়ার কথায় উত্তর করলো না। বরং বিরক্তি নিয়ে মায়ার কপালে ব্যান্ডেজ করলো। হাতের বোকরা সরিয়ে কাটা জায়গায় গুলো পরিষ্কার করে মলম লাগালো। মায়া রিদের উত্তর না পেয়ে অধৈর্য হলো। তেজি গলায় বললো…
—” কিহল বলুন! আমার রিং কই?
রিদ বিরক্তি নিয়ে বলে…
—” আমি খেয়ে ফেলেছি সেটা! হয়ছে?
—” খেয়ে ফেলেছেন মানে কি? বের করুন পেট থেকে আমার রিং।
মায়ার সিরিয়াসনেস দেখে তপ্ত শ্বাস ফেললো রিদ। মায়াকে আর বুঝাতে চাইলো না সে। যে মেয়ে একটা রিংয়ের জন্য নিজের জীবন দিতে চাই তাঁকে বুঝানোটা সত্যিই বোকামো। রিদ মায়ার মলম লাগালো শেষ করে। টেবিলের একপাশ থেকে হাত বাড়িয়ে মায়ার কেনা রিংটা হাতে নিল। মায়াকে রিংটা দেখাতে দেখাতে বিরক্তি নিয়ে বলে…
—” এই সামান্য একটা রিংয়ের জন্য আজ নিজেও মরতে আমাকে মারতে।

রিদ কথায় মূহুর্তে তেতে উঠে মায়া। এক দলা গাঢ় অভিমানে শরীর ছুঁয়ে যায় দৃঢ় ভাবে। মায়া ভালোবাসার উপহারটাকে সামান্য বলে মনে হলো তার মিস্টার ভিলেনের? মায়া যে ভালোবেসে দিতে চাইছে সেটা দেখলো না? মায়ার ভালোবাসাটা কি চোখে পড়ে না এই লোকের হ্যাঁ? রাগে নাক মুখ কুঁচকে আসে মায়া। যে লোক তার ভালোবাসা বুঝে না তাঁকে আবার কিসের উপহার দিবে মায়ার? মায়া গাল থেকে হাত সরিয়ে দুম করে রিদের হাত থেকে রিংটা কেঁড়ে নিতে নিতে রাগী গলায় বলে…

—” দিন আমার রিং দিন! এই রিংটা আমি কালই আমার কলেজের হ্যান্ডসাম টিচারকে দিয়ে দিব। তারপরও আর আপনাকে দিব না। দিন!
মায়ার কথা যেন বজ্রপাত হলো রিদের মাথায়। অবিশ্বাস্য ক্ষীণ স্বরে চেঁচিয়ে উঠলো…
—” কিহহহ?
মায়া শুনলো না রিদের কোনো কিছু। বরং রাগে দুঃখের রিদের পা ছুটালো তৎক্ষনাৎ। নিজেকে মুক্ত করে ধুপধাপ পা ফেলে দরজা অবধি গিয়ে আবারও পিছন ফিরে আগের ন্যায় বললো..
—” আজকের পর থেকে আমার সাথে একদম কথা বলবেন না আপনি।
— তুই দাঁড়া।
মায়া আর দাঁড়ালো না। রাগে দুঃখের গটগট করে চলে গেল খান বাড়ির ভিতরে। রিদের রাগী ফেসটা একবার ঘুরেও দেখলো না।
~~
রাত প্রায় বারোটা ছুঁই ছুঁই। ফিহার জ্ঞান তখনো ফিরেনি। তবে মেহেরবানে ঘুম ভেঙ্গে ছিল দশটার দিকেই। তখন থেকেই ফিহার জন্য অস্থির স্বরুপ কেঁদে চলছে। মেহেরবান অসুস্থতার কারণে বর্তমানে নিজের কেবিনেই আছে। সাথে রয়েছে নিজের বাবা-মা ও স্বামী। আয়ন কিছুক্ষণ পরপর এসে চেক করে যাচ্ছে নিজের মাকে। তবে বেশি সময়টা সে ফিহার কেবিনেই কাটাচ্ছে। ফিহার পাশে থ মেরে বসে আছে আরিফ। নড়াচড়া নেই। স্থির নিশ্চুপ। বাকিরা সবাই আশেপাশেই আছে। শফিকুল ইসলাম, রেহেনা বেগমে ইতিমধ্যে হসপিটালের থেকে শাহিনদের ফ্ল্যাটে গেছে থাকার জন্য। শাহিন এসে নিয়ে গেল নিজের শশুর শাশুড়ীকে। কাজের সূত্রে শাহিন ও তার ভাই শুভ ঢাকা নিজস্ব ফ্ল্যাট নিয়ে থাকে। শফিকুল ইসলামের খান বাড়ির সাথে মনমালিন্যতায় জন্য আপাতত শাহিনদের ফ্ল্যাটে উঠেছেন। তবে জুইকে রেখে গিয়েছে আরিফ ও মায়ার কাছে। মায়াও সন্ধ্যায় চলে এসেছিল হসপিটালের ফিহার খবর পেয়ে মালা থেকে। আসিফ মায়াকে হসপিটালের নামিয়ে দিয়ে গেছে। তখন থেকে মায়া একবার ফিহার কাছে বসছে তো অন্যবার হেনা খানের কাছে থাকছে। নিজের বাবার বিষন্ন চেহারা দেখে শফিকুল ইসলামের কাছেও কতক্ষণ বসেছিল বুকে মাথা রেখে। বর্তমানে মায়া হেনা খানের আঁচল ধরে দাঁড়িয়ে আছে মেহেরবানে ভয়ে। মেহেরবান অন্তত কড়া মনের মানুষ সেটা মায়া জানে। তাই মায়া পূবে থেকে মেহেরবানকে ভয় পায় কিছুটা। মেহেরবানের মনমালিন্যতার কারণটা যে মায়াকে নিয়ে শুরু হয়েছিল সেটাও মায়া জানে। তাই আগ বাড়িয়ে মায়া মেহেরবানে সাথে কথা বলতে গেল না। জুইও এতক্ষণ মায়া পাশেই ছিল। বিকাল থেকে বসে থাকতে থাকতে হাত পা অনেকটা জমে গিয়ে ধরধর ব্যথা অনুভব করলো কমড়ে জুই। তাই উঠে গিয়ে হসপিটালের করিডোর ধরে হাঁটতে লাগলো মায়াকে বলে। আপাতত এই হসপিটালের সবকিছু মুখস্থ জুইয়ের। যেহেতু শফিকুল ইসলামকে নিয়ে এই হসপিটালের দশদিন রাখতে হয়েছিল সেই সুবাদে জুইয়ের আশেপাশে সবটা মুখস্থ বললেও চলে। জুই করিডোর এক প্রান্ত ধরে আবছা আলোয় অন্ধকারে দাঁড়ালো। গভীর রাত হওয়ার পরিবেশটা শীতল। চারপাশে ঠান্ডা হওয়া বইছে। জুইয়ের হঠাৎ ঠান্ডা লেগে উঠলো হিম শীতল হওয়ায়। গায়ে ওড়নাটা টেনে মাথায় কাপড় দিয়ে চাদরে মতো জড়িয়ে নিল শরীরে। শান্ত মনে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো অন্ধকারময় খোলা আকাশের। তাঁরার আনাগোনা আছে। তবে কম। ভাবনা চিন্তা আপাতত নেই। ক্লান্ত হয়ে পড়ছে সবকিছুর জন্য। আজকাল জুই যা চিন্তা করে। তার উল্টোটায় হচ্ছে। এইতো কাল যখন জুই এই হসপিটালের থেকে বিদায় নিয়ে বাড়িতে গেল। তখন জুই ভেবেছিল হয়তো জীবনের আর কখনো তার ঢাকা শহরে আসা হবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষটার সাথে জুইয়ের আর দেখাটাও হবে না। কিন্তু জুইয়ের চিন্তা ভাবনা পুরপুরি উল্টো হলো। কাল ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে যেতে না যেতেই ভাগ্য জুইকে পুনরায় হাজির করলো সেই মানুষটার দুয়ারে। তাও বড় চমকের সাথে। জুই দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলো একমনে। কিছু সময় যেতেই হঠাৎ জুই নিজের পাশে কারও উপস্থিতি অনুভব করলো। চমকিত ভঙ্গিতে ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই আয়নের উপস্থিতি টের পেল। জুই খানিকটা চমকালো। তবে তৎক্ষনাৎ প্রশ্ন করলো না কিছুই। ঘাড় ঘুরিয়ে পুনরায় আকাশের দিকে তাকালো শান্ত দৃষ্টি সমেত। কিছুটা সময় নিরব কাটলো দুজনের। একটা সময় নিরবতা ভাঙ্গে জুই শান্ত স্বরে কথায়..
—” আজ ডিউটি নেই আপনার?
আয়ন তাউজারের পকেটে দুহাত গজিয়ে শান্ত সমেত তাকিয়ে থাকলো আকাশের দিকে। জুইয়ের কথায় ক্ষীণ স্বরে বলে…
—” ছুটিতে আছি!
—” ওহ!
পুনরায় নিরবতা চেয়ে গেল দুজনের মধ্যে। কয়েক সেকেন্ড মধ্যে আয়ন বলে উঠে…
—” আপনি আগে থেকে জানতেন আপনার ভাইয়ের সাথে ফিহার সম্পর্কটা?
জুইয়ের নিরব সম্মতি দিয়ে বলে…
—” হুমমম!
জুইয়ের সম্মতিতে আয়নের গলায় রাগের আভাস ফুটে উঠলো তৎক্ষনাৎ।
—” তাহলে আমাকে কেন জানালেন না আপনি?
আয়নের রেগে যাচ্ছে বলে জুই ঘুরে দাঁড়ালো আয়নের দিকে। পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করে বললো…

—” আমি এই বিষয়ে পরশু দিন জানতে পেরেছিলাম মাত্র। কাল হঠাৎ করে আমাদের চলে যাওয়াতে আপানার সাথে আমার দেখে হয়নি। যেখানে দুজনের দেখা নেই, সেখানে আপনাকে কিভাবে বলবো সবটা আপনিই বলুন! তাছাড়া প্রথমে আমার মনে হয়েছিল আপনি হয়তো সবটা জানেন। আমরা গরীব বলে হয়তো আপনিও আপনার মা সাথে একমত ছিলেন ফিহা আপুকে আরিফ ভাইয়ার সাথে বিয়ে দিবেন না বলে। আপনাদের পারিবারিক বিষয়টি যে আপনার কানে যাবে না সেই ধারণাটা আমার ছিল না। ধারণা থাকলে অবশ্যই আমার যাওয়ার আগে আপনার সাথে এই বিষয়ে কথা বলে যেতাম ডক্টর।

জুইয়ের কথায় নিজেকে সংযম করলো আয়ন। এখানে কারও কোনো দোষ আপাতত দেখছে না সে নিজের মায়ের ছাড়া। ইতিমধ্যে আয়ন সবটা শুনে নিয়েছে মেহেরবান থেকে। নিজের মা অসুস্থ বলে সে আপাতত রাগারাগি করছে কারও সাথে। তবে ফিহা সুস্থ ভাবে বাড়ি ফিরলেই এই বিষয়ে কথা বলবে সে সবার সাথে। আয়নকে এই বিষয়ে আগে জানালে হয়তো বিষয়টি এতো দূর অবধি কখনোই গড়াতো না। তার আগেই আয়ন সমাধান করতো। আরিফকেও মেনে নিয়ে নিজের পরিবারকে বুঝতো। আরিফের সম্পর্কে টুকটাক তথ্য আয়নের কাছে ছিল পূব থেকেই। মায়ার পরিবার বলে সে তথ্য রেখেছিল নিজের কাছে। এতে করে আয়ন এতটা শিওর আরিফ ছেলে হিসাবে দারুণ। ফিহাকেও সুখে রাখবে। কিন্তু ফিহার হঠাৎ সুইসাইডের সিদ্ধান্তটা ভিতর থেকে নাড়িয়ে তুলে আয়নকে। আয়ন গুমোট শ্বাস ফেলে। জুই আয়নের উদ্দেশ্য পুনরায় বলে উঠে…
—” একটা কথা বলবো?
—” হুমমম!
—” আমাদের অর্থ কম হতে পারে। কিন্তু আমরা মানুষ হিসাবে মন্দ না। ফিহা আপু আমাদের বসায় সুখে থাকবে। আমরা ভালো রাখব উনাকে বিশ্বাস করতে পারেন। আরিফ ভাইয়া অনেক ভালোবাসে ফিহা আপুকে। আজকে ফিহা আপুর সুইসাইডের সংসারটা ভাইয়ার কানে যেতে যেতে ভাইয়া অজ্ঞান হয়ে যায়। আমরা সবাই বসার ঘরে ছিলাম বাবাকে নিয়ে। পরে আমরা সবাই মিলে ভাইয়াকে হুসে আনতে আনতে ভাইয়া প্রায় পাগল হয়ে উঠে ফিহা আপু জন্য। নিজের বাইক ছুটিয়ে পৌঁছাল ঢাকায় সবাইকে ফেলে হসপিটালের উদ্দেশ্য। ভাইয়ার অবস্থা বুঝতে পেরে পিছু পিছু আমরাও চলে আসি এখানে। ভালোবাসা কাছে আরিফ ভাইয়া দূর্বল। মায়াও দূর্বল! অথচ তাদের ভালোবাসা ঠিকিয়ে রাখতে অনেকটা যুদ্ধ করতে হচ্ছে পরিস্থিতি সাথে। মায়ার যুদ্ধ ক্ষেত্রেটা এখনো শুরু হয়নি তবে আমার মনে হচ্ছে খুব শীঘ্রই শুরু হয়ে যাবে। সম্পর্কের টানাপোড়া দুজনের কপালেই চলছে। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় আমি ভাগ্যবতী। না সম্পর্ক! না ভালোবাসা! আমার বাগদত্তাও সাদামাটা মানুষ। সম্পর্কের বেড়াজালে কষ্ট পোহাতে হবে না আমাকে। কিন্তু আমার ভাই কষ্ট পাচ্ছে। ভিষণ কষ্ট পাচ্ছ! তার ভালোবাসার মানুষটা তাকে দিয়ে দিন না ডক্টর সাহেব।

জুইয়ের কথায় চমকে উঠে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় আয়ন। চোখ মুখে মূহুর্তে খেলে গেল বিস্মিত বিষ্ময়কর। সচকিত কন্ঠে বললো আয়ন…
—” আপনি এঙ্গেজড জুই?
—” হুমমম!
—” আমাকে এতোদিন বলেন নি কেন?
—” বলাটা কি জরুরি ছিল ডক্টর?
.
( রেসপন্স খুবই কম! বুঝতে পারছি না। ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ __ আরেকটা কথা আমার লেখার ভুল থাকে, হয় কি অনেক সময় আমি সেটা রি-চেক করেও চোখে দেখিনা। লেখতে লেখতে পার্ট গুলো এতো বড় হয় যে অবশেষে রি-চেক করার সময়ে চোখে দেখি না। ঝাপসা লাগে লেখা গুলো। তাই ভুল থেকে যায়। তবে আপনার অবশ্যই ফ্রেন্ডলি ভাবে আমাকে বলবেন আশা করছি। ভুলত্রুটি মিলেই আমরা মানুষ। ধন্যবাদ সবাইকে)

চলিত….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply