দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৩
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৫৩
ধানমন্ডি শপিংমল থেকে কিছুটা দূর রাস্তায় কোলাহলময় ছোট বাজারের গলি। সাধারণ মানুষের খোলামেলা মার্কেট হাউজ। আপাতত সেখানটায় বিধস্ত নাজেহাল অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে অর্ধ ভাঙ্গা দোকানের ভেতরে লুকিয়ে আছে মায়া আর টিয়া। হাতে পায়ের বেশ জায়গায় জায়গায় ব্যথা পেয়েছে দুজন। কাটা ছেঁড়া জায়গায় রক্তের জমাট বেঁধে আছে দু’জনের কপালেই। টিয়া থেকে মায়া খানিকটা বেশি ব্যথা পেল যেন। মায়ার আতঙ্কিত মুখে কপালে রক্তের ছুপছুপ দাগে ভিজে যাচ্ছে সাদা হিজাবটি। রক্তের ফোঁটা কপাল বেয়ে ভ্রুর উপর দিয়ে গড়িয়ে মায়ার মুখের মাক্সের উপর আছড়ে পড়ছে বারবার। দুজনের কারও সেদিকে লক্ষ নেই। এই মূহুর্তে নিজেদের জীবন বাঁচানোর টানা পোড়ায় আছে দুজনই। টেবিলের নিচে ভয়ে জড়সড় হয়ে বসে আছে মায়া। একহাতে টিয়া হাত চেপে ধরে রেখেছে তো অন্যহাতের মুষ্টিতে রিদের জন্য কিনা রিং বক্সটা চেপে ধরে রেখেছে শক্ত করে। তাদের এই বিধস্তের কারণ হলো ইতিমধ্যে তাঁরা দুজনই দূর্ঘটনার স্বীকার হয়েছে৷ মূলত মায়া, টিয়া দু’জনই ঠিকঠাক ভাবে রিদের জন্য গিফট কিনে সিএনজি ধরলো কলেজের উদ্দেশ্য। কিন্তু সিএনজিটা কিছু দূর যেতে না যেতেই হঠাৎই থেমে গেল হামলাকারীদের কবলে পরে। সিএনজি ডাইভারসহ মায়া, টিয়া কিছু বুঝে উঠার আগেই হামলাকারীদের মধ্যে কয়েক জন ছেলে এসে তাদের-সহ সিএনজি উল্টিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। আকস্মিক ঘটনায় তারা কেউ প্রস্তুত ছিল না বিষয়টির জন্য। সিএনজি উল্টে যাওয়ায় মায়া নিচে পড়লও টিয়া পড়লো উপরে। ডাইভার কাত হয়ে পড়লো একাই। তিনজনই ব্যথা পেল কিন্তু মায়া ব্যথা পেল গুরুতর। হাত পায়ের সাথে সাথে কপালও কাটলো সিএসজির ভারি খেয়ে। ডাইভার আর টিয়া হাতে পায়ে ব্যথা পেল খানিকটা। হামলাকারীগণ মায়াদের গাড়িতে আগুন ধরাতে নিলেই ভাগ্য সহায় হওয়ার, অন্য পাশ থেকে তাদের ডাক আসায় তাঁরা সেই যাত্রায় সেখান থেকে চলে যায়। এবং মায়ার টিয়া প্রাণে বেঁচে যায়। সিএনজি অর্ধ বয়স্কর ডাইভার দ্রুত গাড়ি ঢেলে নিজে বের হয়ে মায়া টিয়াকেও বের করে সর্তক বার্তায় সাবধান করে বলেছিল “এখানে দুই পক্ষের মারামারি চলছে ভিষণ । তাই তাদের দুজনকে দ্রুত এখান থেকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে প্রাণ বাঁচিয়ে। কথা গুলো বলেই গাড়ির ডাইভার ব্যস্ত ভঙ্গিতে নিজের গাড়ি টানলো রাস্তার পাশে নেওয়ার জন্য। ভয়ার্ত মায়া উত্তেজিত হয়ে টিয়ার হাত ধরে সামনে দৌড় লাগায় কারণ পিছনে হামলাকরীগণ চিৎকার চেচামেচি শুনা যাচ্ছিল জড়ালো ভাবে। বর্তমানে নিজেদের নিরাপদ স্থান হিসাবে এই দোকানটিকে বেঁচে নিল দু’জন। তবে এখানেও বাহির থেকে প্রচুর হৈ হুল্লোড় গন্ডগোলের চিৎকার শুনা যাচ্ছে হামলাকারীদের। হয়তো কাউকে হুন্য খুঁজছে তাঁরা। হাতে হকিস্টিক নিয়ে একে পর এক আঘাত করছে বন্ধ দোকানের শাটার গুলোতে আর অকথ্য ভাষায় আওড়াচ্ছে বিশ্রী গালি। জড়োসড়ো হয়ে মায়া টিয়া চেপে বসতেই তখনই বাহির থেকে তাদের কানে আসলো কিছু ছেলেদের কথা।
—” শালার মাইয়া দুইডা যাইলো কই? মাটি খাইলো না আকাশে উড়াল দিল। আজকে যদি মাইয়া দুইডার রফাদফা করতে না পারি তই বস আমাগো ছাড়বো না। নিজের জীবন নিইয়্যা টানাটানিতে পইড়া যামু শালা।
অন্যজন বলে…
—” বাল! জোর ফাঁসা ফাইসা যামু সবাই। পিচ্চি দুইডা মাইয়ারে এক ঘন্টা ধইরা চোখে চোখে রাইখ্যা এহন হারাইয় ফেললে চলবো না। খুঁজ তাড়াতাড়ি! দেখ! আশেপাশে কোথাও লুকাইয়া আছে মনে অই। এই রাফিদ! তুই ঠিকঠাক মাইয়া দুইডারে দেখছত তো?
—” হ ভাই! ঠিকঠাক দেখছি! কলেজ থেইক্কা মাইয়া দুইডারে ফলো কইরা আইছি। মাইয়া দুইডা যে সিএনজিতে উঠছিল হেই গাড়িডারেও বাহিরে রাস্তায় উল্টাইয়া পইড়া থাকতে দেখছি। শালার ডাইভার ও কইছে মাইয়া দুইডা নাকি এদিকডাই দৌড়াইয়া আইছে। ভাই আমার মনে হই মাইয়া দুইডা আশেপাশে দোকানে কোথাও লুকাইছে। যতই হোক রিদ খানের গার্লফ্রেন্ড বইলা কথা সহজে তো আর আমাগো হাতে ধরা দিবো না তাই না। ভাই অনুমতি দেন! তার চেয়ে বরং সবগুলো দোকানে আগুন লাগায় দেয়। দোকানের ভিতরে থাকলে মাইয়া দুইডাও পুইড়া মইরা যাইবো। কি কন ভাই?
—” হ লাগিয়ে দে আগুন। যদি কোনো দোকানের ভিতর থাইক্কা থাকে তো মইরা যাইবো এমনিতেই। আমাদের কাজটাও শেষ হইবো। যাহ তাড়াতাড়ি কর!
আতঙ্কিত মায়া বুঝলো না হামলাকারীরা কাকে খুঁজছে এতটা উত্তেজিত ভঙ্গিতে। তাই নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে জায়গায় বসে রইলো ভয়ার্ত মুখে। তবে সেটাও স্থির হলো না বেশিক্ষণ। কারণ প্রচন্ড টেনশনে ততক্ষণে মায়ার মাথা ফেটে যাচ্ছে এই চিন্তায় যদি সঠিক সময়ে তারা দুজন কলেজে পৌছাতে না পারে, তাহলে নিশ্চিত আজ মায়ার নামে বিচার যাবে খান বাড়িতে। কোনো কারণে যদি মায়ার আজ পালিয়ে আসার বিষয়টি রিদের কানে যায় তাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। রিদের অবাধ্য হওয়ার দ্বায়ে হয়তো আজ মায়ার শেষ রক্ষাটাও হবে না রিদের হাত থেকে। মায়ার মিস্টার ভিলেন তাকে মেরেই ফেলবে আজকের ঘটনাটি জন্য। ভয়ার্ত মায়া আরও ভয়ার্ত হলো রিদের চিন্তায় চিন্তায়। যার ফলে একটা বারও চিন্তা করলো না নিজের চারপাশে অনিরাপদ জনক তীব্র অগ্নিকুণ্ডের বিষয়টি। বাড়তি আগুনের সাথে সাথে মায়ার মাথার লাইটও জ্বলে উঠলো এই ভেবে যে তাঁকে এই অনিরাপদ স্থান থেকে বের হতে হবে। দ্রুত কলেজে পৌছাতে হবে তাদের যেকোনো মূল্যে। টিয়ার চেপে ধরে রাখা হাতটা নিজের চোখে সামনে ধরে ঘড়িতে সময়টা দেখতেই তৎক্ষনাৎ আতংকে উঠলো মায়া। তিনটা বাজতে মাত্র দশ মিনিট বাকি। এই দশমিনিটে দ্রুত কলেজে পৌঁছাতে হবে দুজনের। আতঙ্কিত মায়া টিয়ার হাত টেনে ধরে টেবিলে নিচ থেকে বের হতে চাইলো। কিন্তু তখনই বাঁধ সাধলো টিয়া। মায়াকে এই উত্তাপ গন্ডগোলের মধ্যে বের হতে দেখে উদ্ধিগ্ন হলো টিয়া।
—” কি করছিস মায়ু! বের হচ্ছিস কেন? দেখছিস না বাহিরে হামলাকারী জঙ্গিরা আছে। আমাদের এখন বের হওয়া সেফ হবে না। নয়তো নিশ্চিত মারা পড়বো এখন তাদের হাতে।
দ্বিগুণ ছটফট করে ফিসফিসিয়ে বললো মায়া…
—” উফ! তুই বুঝতে পারছিস না টিয়া। তিনটা বাজতে চলেছে। এখন আমরা কলেজ না গেলে ধরা পড়ে যাব তো সবার কাছে। এখানে বসে থাকাও যাবে না। না-জানি কবে এই ঝামেলা শেষ হয়। ততক্ষণে এখানে বসে থাকলে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। বাসায় ও খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিবে। তার চেয়ে বরং আমরা এখান থেকে বের হয়ে মার্কেটের পিছনের রাস্তা ধরে কলেজে পৌঁছানোর চেষ্টা করি এখানে বসে না থেকে। চল আয় এবার।
আতঙ্কিত টিয়া পুনরায় মায়ার হাত টেনে ধরে ভয়ে ভয়ে বলে…
—” মায়া আমরা ভিষণ ভয় করছে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এইসব হামলাকারীরা আমাদের জন্য এসেছে এখানে। নয়তো তুই বল। আমরা ঠিকঠাক ভাবে শপিংমল থেকে বের হলাম! সিএনজিতে ও ঠিকঠাক ভাবে উঠলাম দুজন। কিন্তু মাঝ রাস্তায় হঠাৎ করে আমাদের উপর ঐভাবে হামলা করলো কেন তারা বলতো?
খানিকটা বিরক্তি গলায় মায়া টিয়াকে বুঝালো…
—” দেখ! প্রথমত হামলা আমাদের উপর হয়নি। আমরা মাত্র দূর্ঘটনার স্বীকার হলাম। হঠাৎ করে মাঝ রাস্তায় দুই পক্ষের ঝামেলার স্বীকার হয়েছি আমরা। ব্যস এটুকুই! নিজের জীবন বাঁচাতে সবার মতো করে পালিয়ে এখানে আশ্রয় নিলাম। এখন চল বের হয় নয়তো আরও ঝামেলায় পড়বো।
মায়ার কথায় এবার টিয়াও সায় জানালো। প্রথমে টিয়ার সন্দেহ হলেও এখন সেটা গায়ে মাখছে না। কারণ আর যায় হোকনা কেন? সত্যি সত্যি তাদের মারতে তো আর কেউ এতো বড় হামলা করাবে না চারপাশে! তাই না? অজ্ঞাত টিয়া মায়ার ভরসার হাত ধরে দোকান হতে বের হয়ে উঁকি মারলো সামনে। ততক্ষণে হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কিছু ছেলেরা দৌড়াদৌড়ি করে দোকান পার্টে আগুন লাগাচ্ছে। তীব্র আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে চারপাশ। বেগিত রাস্তায়ও ভাঙচুর হয়েছে বেশ প্রচুর। রাস্তায় জায়গায় জায়গায় গাড়ির টায়ার পুড়ছে উত্তাপ আগুনে। দলবল বেঁধে ছেলেরা দু’পক্ষে মারামারি করছে। মায়া এবার পূর্ণ শরীর নিয়ে দোকান থেকে বের হলো টিয়া হাত ধরে। ভয়ার্ত দৃষ্টি ঘুরিয়ে মায়া ডানে-বামে তাকাতে চোখে পড়লো রাস্তার ডানপাশে বেশ কিছুটা দূরে দু’পক্ষের বেদম মারামারি প্রহার চলছে। মায়ার বাম পাশের রাস্তাটা কিছুটা ফাঁকা দেখে চট করে টিয়ার হাত ধরে দৌড় লাগায় সেদিকে। কিন্তু তাতেও বেশ সুবিধা করতে পারলো না মায়া। কারণ ইতিমধ্যে দোকান পার্টে আগুন জ্বালানোর হামলাকারী ছেলে গুলোর চোখে পরে গেলো মায়া আর টিয়া দুজনই। ছেলে গুলো হৈ হুল্লোড় চিৎকার করে একে অন্যকে দেখালো মায়াও টিয়ার দৌড়িয়ে যাওয়া বিষয়টি। সঙ্গে সঙ্গে হামলাকারী ছেলে গুলোর সবাই একত্রে দৌড়ালো হকিস্টিক হাতে মায়াদের পিছন পিছন। টানটান উত্তেজনার মধ্যে নিয়েই মায়া যখন মাঝ রাস্তা ধরে টিয়াকে নিয়ে দৌড়ায় তখনই চোখ গেল সামনে রিদের কালো গাড়িটির দিকে। প্রচন্ড বেগে ছুটিয়ে এদিকটায় আসছে। এবার মায়া প্রচন্ড আতঙ্কিত হয়ে খানিকটা বেখেয়ালি হয়ে গেলো রিদের গাড়ি সামনে দেখতে পেয়ে। অসাবধানতার কারণে মায়ার হাতের মুঠোয় চেপে ধরে রাখা রিদের জন্য কিনা রিংয়ের বক্সটা পড়ে গেল রাস্তায়। কিন্তু তখনো মায়া ধরতে পারলো না রিং বক্সটি পরে যাওয়ার বিষয়টি। আতঙ্কিত মায়ার সামনে রিদের গাড়ি তো পিছনে অজ্ঞাত গুন্ডা টাইপের ছেলেরা দৌড়িয়ে আসছে তাদের দিকে। মায়া কোন দিকে যাবে তাৎক্ষণিক বিষয়টি বুঝতে পারলো না। তবে এতটা বুঝতে পারছে আর যায় হোকনা কেন? মায়ার কোনো মতেই রিদের সামনে পড়া যাবে না। একদমই না। মায়ার ধারণা মতে রিদ হয়তো জানা না মায়া এই মূহুর্তে এখানে থাকবে। ভয়ার্ত মায়া উত্তেজিত ভঙ্গিতে লুকাতে চাইলো রিদের দেখার আগে। তাই টিয়াকে নিয়ে মায়া রাস্তা ঘুরে বামের মুড়তে চাইলো পালানোর জন্য। কিন্তু ততক্ষণে মায়ার চোখ গেল মধ্য রাস্তায়। যেখানে রিদের জন্য কিনা রিংয়ের বক্সটি রাস্তায় অবহেলায় পড়ে আছে। মায়া আর কোনো দিক তাকালো না। টিয়াকে রেখে তাৎক্ষণিক দৌড় লাগালো আবারও বক্সটি নেওয়ার জন্য। পিছন থেকে উত্তেজিত গলায় চেঁচিয়ে ডাকলো টিয়া মায়াকে….
—” মায়া যাসনা। মারা পড়বি তুই! ছেলে গুলো তোর দিকেই আসছে। মায়াআআ…
মায়া থামলো না। বরং দৌড়িয়ে গেল সামনে রিংয়ের বক্সটি নেওয়ার জন্য। ততক্ষণে রিদের গাড়িও থেমে গেল মধ্য রাস্তায় মায়াকে গুন্ডা গুলোর দিকে দৌড়াতে দেখে। হতভম্ব রিদ ছুটে বের হলো গাড়ি থেকে। মায়া ঝুকে রাস্তা থেকে বক্সটি কুড়িয়ে তুলতে নিলে, সামনে থেকে দৌড়ে আসা ছেলে গুলো মধ্যে একটি ছেলে দক্ষ দু-হাত হকিস্টিক তুলে মায়ার মাথায় আঘাত করতে চাইলো। কিন্তু পারলো না। তবে উদ্ধিগ্ন স্বরে রিদ মায়ার অবধি দৌড়ে আসতে আসতে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলো সে….
—” No! No! No! দেখ! দেখ! আঘাত করিস না! আঘাত করিস না! সয্য করতে পারবে না ওহ! কেঁদে ফেলবে!
রিদের চিৎকার শুনলো না ছেলেটি বরং জোর হাতে হকিস্টিক তুলে মায়ার মাথায় আঘাত করতে চাইলো কিন্তু ততক্ষণে ছিটকে পড়লো রাস্তা। কারণ রিদের হাতে থাকা ফোনটি ততক্ষণে রিদ ছুঁড়ে মারলো ছেলেটি মুখের উপর। যার ফলে আকস্মিক ঘটনায় তীব্র আর্তনাদ করে ছেলেটি পড়লো রাস্তায়। সেই সুযোগে মায়া রাস্তা থেকে কুড়িয়ে শুধু রিংটি হাতে মুঠোয় নিয়ে আবারও উল্টো দিকে দৌড় লাগায় রিদের ভয়ে। মায়ার এই মূহুর্তে হামলাকারীদের ভয় থেকে বেশি ভয় করছে রিদকে। রিদের সামনে পড়ে যাওয়ার ভয়টা জমের মতো ঝেকে বসেছে মায়ার মস্তিষ্কে। মায়া আর দাঁড়ালো না। অধৈর্য্যের ন্যায় টিয়া হাত ধরে পুনরায় প্রাণপূর্ণ দৌড় লাগালো সামনের গলির ভিতরে রিদের ভয়ে৷ মায়ার ধারণা রিদ তাকে চিন্তে পারিনি এখনো। মায়া যেহেতু বোকরা পড়ে সামনে ফিরে ছিল তাই হয়তো রিদের জানে নেই আসলে মেয়েটি কে ছিল। রিদ হয়তো নিজের কাজের জন্য বর্তমানে এই হামলাকারীদের সাথে ঝামেলা জড়িয়েছে। মায়া নিজের প্রাণ বাঁচাতে চাইলো। প্রাণপূর্ণ দৌড়ে মার্কটের অন্য গলিতে ঢুকেও পড়লো। মায়া পিছন ফিরে শুনলো না রিদের অনবরত ডাকতে থাকা কারণ গুলোর। মায়া টিয়ার হাত চেপে ধরে একটা দোকানের গলির রাস্তায় চেপে দাঁড়ালো দুজন তীব্র হাঁপাতে হাঁপাতে। টিয়া মায়ার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে হাঁটুতে ভর দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠে….
—” তুই কি পাগল হয়ে গেছিস মায়া? ঐখান থেকে এইভাবে দৌড়ে আসলি কেন তুই। রিদ ভাইয়া এসেছে আমাদের বাঁচানোর জন্য আর তুই কিনা ভাইয়া থেকেই পালিয়ে আসলি! কিন্তু কেন?
ভয়ে আষ্টশ মায়া টিয়া কথা গুলো বিন্দুমাত্র কানে তুললো না। বরং নিজের পাশে থাকা লাল বালতিতে ময়লাযুক্ত পুঁছা পানিতে হাত ডুবিয়ে দ্রুততার সঙ্গে নিজের মুখে ছিটালো তাৎক্ষণিক। কপালের রক্তটুকু দ্রুত হাতে পানিতে মুখ ডুবিয়ে ধুঁয়ার চেষ্টা করলো। সাদা হিজাবে লাল ছুপছুপ রক্তের দাগ গুলো ধুয়ে গেলেও মায়ার কপাল থেকে রক্ত পড়া তখনো বন্ধ হলো না। মায়া হাত দিয়ে পুনরায় নিজের মুখের পানি ছিটিয়ে ভালোভাবে রক্ত ধুয়ে নিল। মুখের মাক্সটিও ময়লা পানিতে ধুয়ে রক্ত পরিষ্কার করতে করতে টিয়ার উদ্দেশ্য উত্তেজিত ভঙ্গিতে বলে….
—” দেখতো টিয়া মুখে রক্ত লেগে আছে এখনো? ভালোভাবে পরিষ্কার হয়েছে তো? উনি যদি জানেন আমি এখানে আছি বা আমার কপাল কেটে রক্ত পড়ছে তাহলে আজ আমাকে মেরেই ফেলবে নির্ঘাত। এই জন্য তো উনার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি! উনার সামনে পড়া যাবে না কোনো মতে। দেখ দেখ! কপালের রক্ত বন্ধ হয়েছে হুমম?
হতভম্ব টিয়া হতবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো মায়ার আচরণের দিকে। মায়া তখনো একবার সচেতন মস্তিষ্কের ময়লা পানিতে মাক্স ডুবিয়ে নিজের মুখ ধুয়ে নিল আরও একবার রক্ত পরিষ্কার করে। ভিজা মাক্সটিও মুখে পড়ে নিল পুনরায়। মায়ার মাথার হিজাব বোকরার সামনের পার্ট ভিজে টইটম্বুর হয়ে গেছে ততক্ষণে। মায়ার কান্ডে হতভম্বের মুখ খুললো পুনরায় টিয়া…
—” তুই এমন করছিস কেন মায়ু? ভাইয়া তোর সাথে রাগ নাও করতে পারে তাই না? হয়তো আমাদের বাঁচাতেই এসেছে এখানে। চল না ভাইয়া কাছে যায়। ভাইয়া ছাড়া আমাদের এখান থেকে বের করতে পারবে না কেউ।
—” উহুম! উনি আমাদের জন্য আসেন নি। উনি উনার কাজে এসেছেন এখানে। উনি গ্যাংস্টার মানুষ! মারামারিই উনার কাজ। তাছাড়া উনি জানে না আমি এখানে আছি। যদি উনি আমাকে একবার এখানে দেখে নেন তাহলে আরও রেগে যাবেন। আমাকে অনেক আগেই নিষেধাজ্ঞা করেছিল উনি। যেন উনার অবাধ্য না হয়ে কোথাও না যায় আমি। কিন্তু আজতো অবাধ্য হয়ে গেছি উনার। এখন তুই বল কি করব আমি? তুই ভয় করিস না কেমন। আমি বের করবো তোকে এখান থেকে। চল আমার সাথে এদিকটা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে। আয়!
টিয়া পুনরায় সায় জানালো মায়ার কথায়। মায়ার ভয় সে বুঝতে পারছে আপাতত। কিন্তু চারপাশের ভয়াবহ মারপিটে কলিজা কাপছে টিয়ার। যদি কোনো কারণে তাঁরা গুন্ডা লোকবলে হাতে পড়ে যায়। তাহলে নির্ঘাত আজ জানটা যাবে দু’জনের। অন্তত রিদের হাতে পড়লে জানটা বাচবে দু’জনের, রিদ রাগারাগি করলেও। টিয়া দৃঢ় ভাবে মনস্থির করলো সে রিদকে দেখলেই জোরে জোরে চেঁচাবে তাদের বাঁচানোর জন্য। মায়ার কথা শুনবে না সে আর। সাহসী মায়া রিদের ভয়ে কলিজা তখনো একটু হয়ে আছে। না-জানি রিদ কি করে বসে আজ মায়াকে এখানে পেল। ভয়ে ধুরধুর বুকে মায়া মনে মনে বেশ দোয়া করলো যাতে তার রিদের সাথে আর দেখা না হয়। কিন্তু মায়ার দোয়া কবুল হলো না। বরং ঘুরে ফিরে গিয়ে আবারও পড়লো রিদের সামনে তাঁরা দুজন। তখনো রিদ উত্তেজিত ভঙ্গিতে হকিস্টিক হাতে বেদম পেটাচ্ছে ছেলেদের, যাকে সামনে পাচ্ছে তাঁকেই। সাথে ভিড় হতে বের হতেও চাচ্ছে চাতক পাখির ন্যায় চারপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে কাউকে খোঁজতে। রিদের খোজাখুজির পরিত্রাণ হলো টিয়ার হঠাৎ গলা ফাটিয়ে চিৎকার করাতে রিদের উদ্দেশ্য। রিদ চমকে টিয়ার দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো রাস্তার অপর পাশে দু’জনকে বিধস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে৷ হতভম্বের রিদ দৌড়ে আসতে চাইলো মায়ার দিকে। টিয়ার হঠাৎ ডাকে অপদস্তক হয়ে ভয়ে পেল মায়া। রিদকে এবার নিজেদের দিকে দৌড়াতে দেখে মায়া ভয়ে ছুটে এবার টিয়াকে রেখেই দৌড়াতে চাইলো সামনে। মায়া নিশ্চিত এবার রিদ তাকে আস্ত খেয়ে ফেলবে এই মাঝ রাস্তায় তাকে। মায়ার পুনরায় দৌড়ায় ততক্ষণে আবারও চিৎকার করে ডেকে উঠে রিদ…
—” রিত! রিত! সামনে যেওনা! সামনে নিরাপদ না। টিয়া ওকে ধরে আটকাও দ্রুত!
রিদের কথা অনুযায়ী টিয়া দৌড়ে আটকাতে চাইলো মায়াকে কিন্তু ততক্ষণে মায়া পুনরায় বিপদের সম্মোহনী হয়ে গেল জোড়ালো ভাবে৷ হকিস্টিক ছুরি হাতে কয়েক ছেলের সম্মোহনী হলো মায়া। হতভম্ব রিদকে মায়ার দিকে দৌড়ে আসতে দেখে তৎক্ষনাৎ ছেলে গুলোর মধ্যে একজন গিয়ে মায়ার গলায় ছুরি ঠেকালো দক্ষ হাতে। রিদ সম্মোহে মায়া নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়তেই রিদেরও দৌড় থামে তাদের সামনে। রিদের পিছন পিছন আসিফ মেহু আসলো দৌড়াতে দৌড়াতে। মেহু তখনো বুঝলো না রিদের এতটা অস্থিরতা তোলপাড়টা আসলে কিসের জন্য? আর মায়া মেয়েটির সাথে বা রিদের কি এমন গভীর সম্পর্ক হতে পারে?মেহু ধ্যান ভাঙ্গে মায়ার ভয়ার্ত কন্ঠের কান্না ভেজা কথায়। মায়া তখনো বিন্দুমাত্র ভয় পাচ্ছে না নিজের গলায় ছুরি ঠেকানো ছেলেটিকে নিয়ে। মায়া ভয় করছে নিজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিধস্ত রিদকে। মায়া অবশেষে ধরা পড়ে গেল রিদের সামনে। এবার নিশ্চয়ই রিদ মায়াকে রাগে পিষে মেরে ফেলতে সময় নিবে না। মায়া সেই ভয়ে ঠোঁট উল্টিয়ে কেঁদে উঠলো। মায়া তখনো আমলে নিল না যে আগে বন্দী ছেলে গুলোর হাত থেকে বাঁচতে পারলে তো রিদ তাঁকে ধরবে মারার জন্য তাই না? মায়া যদি এখন নাই-বা বাঁচল তাহলে রিদ রাগ দেখাবে কার সাথে? মায়া রিদের সামনে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে কেঁদে কেঁদে রিদের উদ্দেশ্য বিনিত সহিত বলে মায়া…
—” আমি ইচ্ছা করে এখানে আসিনি তো? কেমন কেমন করে জানি চলে আসছি এখানে? সত্যি বলছি! আমি কিছু জানি না! টিয়া সাক্ষী!
টিয়া অসহায় মুখ করে তাকালো মায়ার দিকে। তাকে এই ভাবে মায়া ফাঁসাবে বুঝতে পারলো না বিষয়। আসিফ চোখ রাঙ্গালো টিয়াকে। কিন্তু রিদ নিবাক নিষ্ক্রিয়। অন্য সময় হলে মায়া গরগর করে বলা মিথ্যা কথায় রিদও কিছু না কিছু বলতো। মায়াকে ভয় দেখাতো! কিন্তু এই মূহুর্তে পরিস্থিতি বুঝে কিছু বললো না মায়াকে। বরং মাথা ঠান্ডা রেখে মায়াকে বাঁচাতে চাইলো ছেলেগুলো হাত থেকে। এই মূহুর্তে রিদ কিছু বললেই মায়ার জীবন রিস্ক হয়ে পরবে। ছেলে গুলোও বুঝে যাবে মায়ার সাথে রিদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাদের আন্দাজে ধরে মায়ার উপর হামলা করাটাও সার্থক হয়ে যাবে রিদের এই মূহুর্তে কিছু বলাতে। রিদ বোকামি করতে চাইলো না। মায়ার সাথে রিদের সম্পর্কটা এখনো দুনিয়া থেকে লুকায়িত। কেউ জানে না মায়া রিদের বউ। রিদের শত্রুর পক্ষরা হয়তো মায়াকে বেশ কয়েকবার রিদের সাথে দেখেছে বলে, আজকের হামলাটি তাঁরা মায়ার উপর আন্দাজে করেছে। রিদ উপস্থিত ছেলে গুলোর মাইন্ড ডাইভার্ট করতে চাইলো কৌশলে। রিদ কিছু বলার আগেই মায়ার গলায় ছুরিটি আরও চাপিয়ে ধরলো ছেলেটি। রিদকে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ছেলেটি হাতের বাঁধন আরও শক্ত করতে চাইলো। এতে করে রিদ উত্তেজিত উদ্ধিগ্ন হয়ে খানিকটা জোরে চেঁচাল ছেলেটিকে…
—“ডোন্ট! ডোন্ট! মারিস না! মারিস না! হেই!
রিদের দূর্বলতা বুঝে বিদ্রুপ হাসলো দৃষ্টিকটুর ছেলেটি। মায়ার গলায় ধারালো ছুরি চাপিয়ে রেখে বলে…
—” বস ঠিকই বলেছিল! সর্বত্র পুরুষজাতির একটা না একটা দূর্বলতা অবশ্যই আছে! শুধু সময়ে অনুসন্ধানে খোঁজে বের করা। ব্যক্তি কখনো একাকীত্বে জীবন কাটাতে পারে না মনভিত্ত সত্তাটা তাঁকে নারী সংঘ নিতে বাধ্য করবেই। আজ রিদ খানও হেরেছে এই মেয়ের সংঘ পেয়ে।
মায়ার জন্য রিদের উত্তেজানাটা মায়ার প্রাণহানীর কারণ মনে হলো রিদের। রিদ স্থির হলো। স্বাভাবিক থেকে স্বাভাবিক শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়ালো আয়েশি করে। নিজের অগোছালো কলার টেনে ঠিক করে চারপাশটায় তাকালো সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে। সূক্ষ্ম চোখে হয়তো কাউকে ইশারাও করেছে আশেপাশে। তবে সেটা না দেখার সামিল মনে হলো ছেলেদের কাছে। রিদ যাকে ইশারা করা তারা বুঝতে পারলো মনে হয়। আদের্শ অনুযায়ী চুপটি করে চলে গেল তারা সেখান থেকে। ছেলেগুলো সেই দিকে তাকানোর আগে রিদ তাদের মাইন্ড ডাইভার্ট করতে পুনরায় চোখের ইশারায় মেহুকে নিজের কাছে ডেকে আনলো। মেহু সচকিত ভঙ্গিতে এসে রিদের পাশে দাঁড়াতে রিদ মেহুর বামহাত নিজের হাতে নিয়ে তাকালো সামনে। মায়াকে দেখলো কি দেখলো না রিদ। তবে মায়ার গলায় ছুরি চেপে রাখা ছেলেটিকে উদ্দেশ্য করে তিক্ততা ঝেড়ে বলে…
—” আমাকে নিয়ে ঠিকঠাক গবেষণাটাও করতে পারলো না তোদের বস! ছেহ! কাঁচা খেলোয়াড় হয়ে মাঠে নেমেছে রিদ খানের বরাবর করতে? তোদের কি মনে হয় রিদ খান নিজের ভালোবাসার মানুষকে এমনি এমনি খোলামেলা রাস্তায় ছেড়ে দিবে সেফটি-সিকিউরিটি ছাড়া? এতো সহজ! হ্যাঁ!
রিদের কথায় মূহুর্তে হিমসিম খেয়ে উঠে মায়ার গলায় ছুরি চেপে ধরে রাখা ছেলেটি। ভয়ার্ত কন্ঠে বলে…
—” মানে?
—“হারামির বাচ্চারা এতো মানে মানে করছিস কেন? তোদের কাছে কি আমি উত্তর দিতে বাধ্য! আমার ভালোবাসা! আমার হবু বউ আমার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে! দেখ তোরা! দীর্ঘ তিন বছর রিলেশন করেছি। আর কিছু দিনের বাদে বিয়েও করবো আমরা। যাহ এবার গিয়ে বল তোর বসকে! রিদ খান খুব শীঘ্রই বিয়ে করছে তার ভালোবাসার মানুষ মেহু আব্দুল্লাহকে। এবার নে! তোরা তোদের ঝামেলা শেষ কর। মারার হলে মেরে দে এই নারীকে! এতো নাটক করছিস কেন হ্যাঁ? এমনিতেই আমার কাছে সময় কম! নে তাড়াতাড়ি ফালতু ঝামেলাটা শেষ কর। আর সবচেয়ে বড় কথা ‘এই মেয়ে’ আমার গুপ্ত কাজের পেনড্রাইভ চুরি করে পালাচ্ছিল! একে মারার জন্যই আমার এখানে আসা মূলত। মাইয়া মানুষ মেরে হাত নষ্ট করতে চাইনা আমি। তাই তুই আমার হয়ে ওকে মেরে দে! তারপর নাহয় তোদের আমি মেরে দিব! নে শুরু কর! আমার ফিয়ন্সি দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা হচ্ছে এখানে! তাড়াতাড়ি কর!
রিদের কথায় জোড়ালো লাজুক হাসলো মেহু আব্দুল্লাহ। নিজের দু’হাতে রিদের বাহু জড়িয়ে ধরতেই গা গুলিয়ে উঠে মায়ার। রিদের কথা গুলো যেন মায়ার কানে ঠিক বজ্রপাত শুনলো তীব্র থেকে তীব্র। মায়ার কাছে অবিশ্বাস দেখালো ও শুনালো সবকিছু! মায়ার হাতের মুঠোয় চেপে ধরা রাখা রিদের জন্য কিনা রিংটা তৎক্ষনাৎ অযত্নে অবহেলায় লুটিয়ে পড়লো রাস্তায়! গিয়ে থামলো রিদের পায়ের কাছে। রিদ সেদিকে সূক্ষ্ম চোখ বুলালো। মায়ার ক্ষীণ স্বরে চিৎকারটাও তীব্র অবিশ্বাসে শুনলো রিদের কানে…
—” কিহহ?
রিদ কপাল কুঁচকে মায়ার চেহেরার দিকে তাকালো অপরিচিত দৃষ্টিতে। মায়াকে বেশ অপরিচিত লাগলো রিদের চোখে। স্তব্ধ নিবাক মায়া পাথর মূতিই ন্যায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও বিপত্তি ঘটে পিছনের ছেলেটিকে নিয়ে। রিদের কথায় হিমসিম খেয়ে উঠে মায়ার গলায় ছুরি চেপে ধরে রাখা ছেলেটি। কপাল বেয়ে চিকন ঘাম দরদর করে ছুটলো কানিশ বেয়ে। ভুল জায়গায় ভুল মেয়েকে ধরে ফেলেছে তাঁরা। সন্দেহ বশে আন্দাজে তীর মেরেছিল এই মেয়েটি রিদ খানের গার্লফ্রেন্ড হবে ভেবে।। কিন্তু রিদ খানের গার্লফ্রেন্ড যেহেতু তার সাথে দাঁড়িয়ে তারমানে তাঁরা মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছে এই মেয়েটিকে আটকিয়ে। এবার এই মেয়েটির সাথে সাথে তাদের নিজেদের জীবনটাও যাবে রিদের হাতে। এমনি রিদ খানের হাতে মারা পড়তো তাঁরা কিন্তু মরার আগে চুক্তি ছিল রিদ খানের দূর্বলতাকে মেরে মরতে হবে। কিন্তু এখন তাদের অসাবধানতার কারণে সবকিছু হারাতে হচ্ছে তাদের। ছেলেটির হাতও তরতর করে কেঁপে উঠলো প্রচন্ড ভয়ে। গা শিউরে উঠে মায়াকে ছাড়ার আগের মায়া ভিষণ ছটফট করলো ছেলেটির হাতের ভিতর। মায়া ছাড়া পাওয়ার জন্য নয় বরং রিদ মেহুর সাথে রিলেশনে করছে সেই অবিশ্বাস্যে। রিদের মিথ্যা কথা গুলো বলার মানেটাও বুঝলো না বিন্দুমাত্রও। রিদের সিরিয়াস মুখ দেখে মায়াও সিরিয়াস হল। উত্তেজিত গলায় মায়া ছটফট করে বলে…
—” আপনি মিথ্যা কেন বলছেন? এই আপুটার সাথে কিসের ভালোবাসার সম্পর্ক আপনার? আপনি এই আপুটাকে বিয়ে করলে তাহলে আমি কি হয় আপানার? আমি না আপনার ব…
মায়ার কথা শেষ করার আগের থামিয়ে দেয় রিদ। দুইহাত মুষ্টি বদ্ধ করে নিজের রাগ সংযম করে বিরক্তির সহিত বলে…
—” ইউ আর নাথিং!
রিদের কথার সায় জানালো মেহু। বিক্ষোভ কন্ঠে বললো…
—” এই মেয়ে মিথ্যা বলতে যাব কেন আমরা! সেদিন তোমার সামনে আমার ফ্যামিলি এসেছি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে খান বাড়িতে। দেখনি তুমি? আমাদের রিলেশনের কথা শুননি তুমি আমার মমের কাছ থেকে! তাহলে এখন না শুনার নাটক করছ কেন? তাছাড়া তুমি শুননি দাদা-দাদি কি বলেছিল আমাদের বিয়ে নিয়ে সেদিন হ্যাঁ?
মায়া অধৈর্য্যের ন্যায় ছটফট করলো ছেলেটির হাতের দাবিতে। গলায় ছুরি চোখে অসীম ব্যথার অশ্রু ঝরতে লাগল মায়ার। তার মিস্টার ভিলেন তার সাথে প্রতারণা করেছে! ভালোবাসি বলে মিথ্যা ঠকিয়েছে। এই বিষয়টি যেন প্রচন্ড অধৈর্য্যের কারণ হলো মায়ার। রিদ মায়াকে এমন অশান্ত ন্যায় ছেলেটির হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে দেখে বড্ড উগ্র হলো সে। যেকোনো সময় অসাবধানতার কারণে মায়ার গলায় ছুরিটি বসে যেতে পারে। রিদের এতক্ষণ যাবত চেপে ধরে রাখা ধৈর্যটাও এবার অধৈর্য্যের কারণ হলো। বড্ড উগ্রতার সহিত অধৈর্য ভঙ্গিতে আসিফ থেকে বন্দুকটি নিল! মায়ার ছটফটের কারণে ছেলেটি বেখেয়ালি হলো মায়াকে ধরে রাখতে গিয়ে। ছেলেটির সামান্য অসাবধানতায় কাজে লাগালো রিদ। দক্ষ হাতে ট্রিগার চাপলো ছেলেটির কপাল বরাবর। মায়া শান্ত হলো! ছেলেটি ততক্ষণে লুটিয়ে পড়লো মায়ার পায়ের কাছে। পিছনে দাড়িয়ে থাকা দলবল হুংকার ছেড়ে জোড়ালো ভাবে মায়ার দিকে এগিয়ে আসতে নিলে আবারও গুলির বর্ষণ হয় চারপাশে। লাশে বন্যা বইলো রাস্তায়। রক্তের স্রোতধারা দেখে মায়াও লুটিয়ে পড়লো রাস্তায়। সেই সাথে জ্ঞান হারালো টিয়াও। আসিফ দৌড়ে সেদিকে গেল। হাঁটু গেড়ে বসে টিয়াকে রানের উপর নিতে নিতে দেখলো রিদ মায়াকে কোলে নিয়ে ততক্ষণে একা চলে যাচ্ছে সেখান থেকে। আসিফ গুমোট দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে নিজেকে স্থির করলো। এতক্ষণ যাবত রিদের সাথে সাথে তারও জানটা আঁটকে ছিল এই মেয়েটির জন্য। চঞ্চল কিশোরীদের প্রেমে পড়লে যে কলিজা কতটা জ্বলে আজ সেও বুঝতে পারছে রিদের মতো করে। শত কাজের মধ্যে মাথায় এক্সটা চাপ থাকে প্রেয়সীর চিন্তা ভাবনায়। উফ! আজ এই মেয়ে নিজেও মরতো সাথে আসিফকেও মারতো। কি দরকার ছিল টইটই করে একা একা রাস্তা দু’জন বের হওয়ার। আসিফকে বললে কি সে এই মেয়ের কাজ করে দিতো না? নাকি না করতো? সবসময়ই এই মেয়েটি তার অবাধ্য হয়ে চলবেই। আসিফের কথা শুনবে না বলে যেন পূর্ণ করে রেখেছে মনে মনে। নির্ঘাত আসিফ শান্ত মেজাজের ছেলে বলে এই মেয়েকে সে বেশি টাইট দেয়না। নয়তো সে রিদ ভাইয়ের মতো হলে! এতক্ষণে এই মেয়েকে দুনিয়াই পাওয়া যেত না.. আসিফ টিয়া নরম গালে আলতো হাতে ঝাঁকিয়ে হুসে আনার চেষ্টা করলো। কিন্তু সফল হতে না দেখে হতাশ গলায় বিরবির করে বলে ‘ একটা বার শুধু জ্ঞান ফিরুক! আজকের এই কাজের জন্য যদি আমি এক ঘন্টা রোদে কানে ধরিয়ে দাঁড় না করাইছি তাহলে আমিও আসিফ না!
~~~
টানটান অস্থিরতা নিয়ে হসপিটালের ভর্তি করানো হলো ফিহা ও মেহেরবানকে আয়ন। এলোমেলো চুল আর উশখুশ বিধস্ত চেহারা তার। রাতে ঢিউটি থাকায় বিকাল নিজের ফ্ল্যাটে ঘুমিয়ে ছিল সে। হঠাৎ বাসা থেকে সার্ভেন্টের ফোন আসায় সকল ঘুম উড়ে যায় আয়নের। নিজের আদুরে বোনটি আকস্মিক সুইসাইডে সংবাদটি শুনে হিতাহিত অজ্ঞ হয়ে এলোমেলো ভাবে হতভম্ব হয়ে ছুটে বের হয়েছিল ফ্ল্যাট থেকে। মেহেরবানের অবস্থা স্বাভাবিক দেখলেও ফিহাকে রক্ত শূন্যতা ফ্যাকাসে মুখটা দেখে থমকে গেল মূহুর্তেই। অর্ধ ফ্লোর রঞ্জিত হয়েছিল ফিহার দু’হাতে তরল রক্ত প্রবাহিত স্রোতে। আয়ন কালবিলম্ব না করে ফিহার হাত কাপড় দিয়ে বেঁধে রক্ত আটকিয়ে কোলে তুলে নিল হসপিটালের উদ্দেশ্য। বাসার অন্য সার্ভেন্টদের ডেকে মেহেরবানকে ও ধরাধরি করে গাড়িতে উঠাতে বলল। দ্রুত গাড়ি ছুটিয়ে পৌঁছাল নিজের হসপিটালের। উত্তেজনায় ফিহাকে পুনরায় কোলে করে নিয়ে সোজা ওটিতে ঢুকল। আয়ন পূবে থেকে হসপিটালের ডিউটিরত ডক্টরদের ফোন করে ওটি রেডি করে রেখেছিল ফিহার জন্য। আয়নের ফোন পেয়ে বেশ কিছু ডাক্তাররাও উপস্থিত ছিল ওটিতে। ফিহার নিঃশ্বাস ক্রমশয় বন্ধ হয়ে আসছে। আয়ন ফিহার হঠাৎ সুইসাইডের কারণটি তখনো জানে না। বোনের নিষ্ক্রিয় নেতিয়ে যাওয়া শরীরটা দেখে তরতর করে কেঁপে উঠে আয়নের সমস্ত সত্তা। গায়ের ওটির ড্রেস ততক্ষণে পড়ে নিয়েছে আয়ন। তবে দূর্বল শরীরে ফিহার অপারেশন করলো না সে। কাঁপা শরীর নিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে থাকলো ফিহার পাশে। ফিহার ওটি শেষ হলো দুই ঘন্টা পর। কেবিনে শিফট করে ফিহার রক্ত শূন্যতার দেহে রক্তে স্যালাইন লাগাল আয়ন। ততক্ষণে পরিবারের বাকি সদস্যরা হাজির হলো হসপিটালের মায়া আর রিদ বাদে। চিন্তায় চিন্তায় হেনা খান ডুকরে কেঁদে উঠলো ফিহার সুইসাইড করা সিদ্ধান্তে। আরাফ খান, আয়নের বাবাও উপস্থিত হয়েছিল সঙ্গে সঙ্গেই মেয়ের সুইসাইডের সংবাদ পেয়ে। তিনিও অনেকটা ভেঙ্গে পড়লো মেয়ের সুইসাইডে ঘটনায়। ফিহার হঠাৎ সুইসাইড করার কারণটা আপাতত কারও জানে নেই। আয়ন অতি শোকে পাথর মূতিই ন্যায় এক ঘন্টা যাবত অধীর ন্যায় মন্ত হয়ে ফিহার বেডের পাশে স্থির বসে আছে। নড়লো না। বিগত কয়েক মাস ধরে আয়নের নিজের মানসিক চাপে ফিহার দিকে নজর দিতে পারেনি। আদুরে বোনটি ভালো ছিল কিনা তাও ভালো ভাবে লক্ষ করেনি। আয়ন আজ নিজেকে ভিষণ অসহায় অপদার্থ ভাই মনে হলো। আজ যদি তার বোনের কিছু হয়ে যেত তাহলে কিভাবে চোখ মিলাত আয়ন নিজের সাথে। অপরাধ বোধে ধুঁকে ধুঁকে মরে যেত সারাজীবন। আয়ন কি করে পারলো নিজের আদুরে বোনটি এতটা অযত্ন অবহেলায় করে মৃত্যু মুখের ঢেলে দিতে। নিশ্চয়ই তার বোনটি বিগত দিন গুলোতে প্রচন্ড মানসিক চাপে ছিল বলে সুইসাইডের মতো একটা ডিসিশন নিয়েছে সে। আয়ন অস্থির গুমোট দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মেহেরবানকে কর্ড়া ঔষধের ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে আয়ন। তখন জ্ঞান ফিরে ফিহার জন্য পাগলামো করছিল বেশ। থামাতে না পেরে অবশেষে ঘুমের ইনজেকশনের সাহায্য নিতে হয়েছিল আয়নকে। নিজের মায়ের কথায় আয়ন অন্তত এতটা বুঝতে পারলো ফিহার মানসিক ডিস্টার্বের কারণটাই ছিল মেহেরবান। এবার কারণটা কি সেটা এখনো পযন্ত জানতে পারলো না আয়ন। হয়তো মেহেরবানের জ্ঞান ফিরে স্বাভাবিক হলে জানতে পারবে ফিহা কি নিয়ে এতটা মানসিক ভাবে ডিস্টার্ব ছিল। আয়নের অপেক্ষাটাও বেশিক্ষণ স্থির হলো না। অবশেষে বুঝতে পারলো আরিফের হঠাৎ উপস্থিততে। ফিহার কেবিনের হতভম্বে উত্তেজিত ভঙ্গিতে আরিফকে এলোমেলো পায়ে ঢুকতে দেখে মাথা তুলে সেদিকে তাকালো আয়ন। বিধস্ত অবস্থায় আরিফকে হুট করে অজ্ঞানরত ফিহাকে জড়িয়ে ধরতে দেখে চমকে উঠলো আয়ন। সর্তক মস্তিষ্ক আয়ন তরাক করে উঠে দাঁড়াতে কানে আসলো আরিফের অস্থির ভঙ্গিতে কথা গুলো…
—” সরি! সরি! সরি ফিহু! তোমার আরিফ সত্যিই সরি ফিহু! আমার তোমাকে একা রেখে যাওয়াটা মোটেই ঠিক হয়নি। তোমার মা আমাকে কথা দিয়েছিল তিনি তোমাকে ভালো রাখবে। কিন্তু তিনি তার কথা রাখতে পারেনি। তোমার মা আমার ফিহুকে ভালো রাখতে পারিনি। ভিষণ কষ্ট দিয়েছে। আমি তোমাকে আর একা ছাড়বে না। একটু সুস্থ হলেই আমি তোমাকে আমার সাথে নিয়ে যাবো ওয়াদা করছি ফিহু! তবুও তুমি সুস্থ হয়ে যাও। তোমার আরিফ সত্যিই এত্তো গুলো সরি ফিহু!
আয়ন কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। কি যেন ভেবে কন্ঠনালিতে কথা গুলো আঁটকে আসে। আয়ন দমে গেল প্রশ্ন করলো না কিছু আরিফকে। আয়ন বুঝতে পারলো তার বোনের সাথে হয়তো আরিফের গভীর সম্পর্ক রয়েছে যার সূত্র ধরে এতোকিছু হয়েছে। আরিফের কথায় এতোটাও সিওর হলে সবকিছুর পিছনে তার মা রয়েছে। আয়ন স্বাভাবিক কন্ঠে আয়নকে সর্তক করে বলে…
—” ফিহা আপাতত সেন্সলেস আছে। মধ্যরাতে আগে জ্ঞান ফিরবে না। শরীরের কন্ডিশনও ভালো না। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীরে রক্ত শূন্যতা রয়েছে তবে কয়েক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। রক্ত দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো বিষয়ে আপাতত চাপ দেওয়া যাবে না। স্বাভাবিক ব্যবহার করতে হবে…
আয়নের অকপটে কথায় সতর্ক মস্তিষ্কে সোজা হয়ে বসলো আরিফ। আয়নের কথার প্রতিত্তরে ক্ষীণ স্বরে বলে…
—” হুম! আমি খেয়াল রাখব বিষয়টি।
—“হুমম!
আয়ন চোখ ঘুরিয়ে তাকাল আরিফের বিধস্ত চেহারার দিকে। কপালে হাতে জায়গায় জায়গায় ছিলে হালকা পাতলা রক্ত জমাট বেঁধে আছে। গায়ের শার্ট অল্প সল্প ছিড়ে গিয়ে মাটি লেগে আছে সেখানটায়। আয়ন বুঝতে পারলো আরিফ আসার পথে গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছে হয়তো। ক্ষীণ স্বরে আয়ন বলে..
—” আই থিংক ইউ নিড এ ডক্টর!
আয়নের কথা গুলো কানে গেলেও নড়লো না আরিফ। স্থির জায়গায় বসে থেকে মৃদু স্বরে বললো…
—” আমি ঠিক আছি।
—” আমি আছি ফিহার পাশে তুমি গিয়ে ড্রেসিং করে আসু। যাও!
আরিফ নড়লো না ফিহাকে রেখে তাই আয়ন বাধ্য হয়ে নার্স ডেকে আরিফকে ড্রেসিং করালো। নার্সটি চলে যেতে কক্ষ জোরে পুনরায় ভয়ানক নিরবতা চেয়ে গেল। আরিফ মাথা নিচু করে ঠায় জায়গায় বসে রইলো ফিহার পাশে। আয়ন উঠে সোফায় গা এলিয়ে বসল কিছুক্ষণ। চোখের উপর হাত রেখে কিছু সমীকরণ মিলাল। আয়নের কানের কিছু ব্যস্ত পায়ের গটগট শব্দ যেতে চোখ থেকে হাতটা সরাতে সামনে তাকাল সে। কিছুক্ষণের জন্য নিবাক বিস্মিত খেলে গেল চোখ জুড়ে আয়নের। অস্তিত্ব কাটিয়ে স্থির হয়ে বসতে একে একে চোখে পড়লো মায়ার পরিবারের সবাইকে এক সঙ্গে। শফিকুল ইসলাম আরিফের পিছু পিছু স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে পুনরায় হাজির হলো ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে ঢাকা হসপিটালের মধ্যে। বাড়িতে ছেলের পাগলামিতে তিনি ইতিমধ্যে সবকিছু শুনে নিয়েছেন নিজের স্ত্রী রেহেনা বেগম থেকে আরিফ আর ফিহার সম্পর্কের কথা গুলো। ফিহাকে পূবে থেকে শফিকুল ইসলাম নিজের মেয়ের মতোন দেখতেন। তবে মেহেরবানের অমতের বিষয়টি আপাতত নিরব ভাবে নিলেন তিনি। কিছু বলার জন্য সঠিক সময়ে অপেক্ষা আছেন হয়তো।
আয়ন শান্ত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ালো। কোনো প্রকার বিচিলিত দেখালো না তাকে। শান্ত দেখালো। এমন ভাব যেন আয়ন জানতো শফিকুল ইসলাম সপরিবারে যেকোনো সময়ে হসপিটালের মধ্যে আসবে। আয়ন সোফা ছেড়ে শফিকুল ইসলাম ও রেহেনা বেগমকে বসার জায়গায় করে দিল। উনারা বসতে আয়ন চোখ তুলে তাকালো জুঁইয়ের ভায়ার্ত মুখের দিকে। চোখের ঘন পাপড়িতে সিক্ত ভেজা পানি। হয়তো কেঁদেছে। চোখ মুখ ফুলে লাল হয়ে আছে খানিকটা। আয়ন জুইয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে পাশে দাঁড়ালো। ধীর কন্ঠে বললো…
—” নিজের মায়ের পাশে গিয়ে বসুন জুঁই।
.
চলিত…..
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ২৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬৮
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১১