দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪০
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
৪০
দিনটা শুক্রবার। সকাল ৪ঃ১৫। থমথমে পরিবেশে রিদ গুরু গম্ভীর মুখে নিঃশব্দে দুহাতে চামচ ছুরি চালিয়ে একের অপর নাস্তা কেটে মুখে তুলছে। গায়ে জড়ানো ধূসর রঙ্গের শার্টের হাতা দুটো টেনে ফোল্ড করা কুইন অবধি। গলায় কালো টাই। বামহাতে কালো ব্র্যান্ডের ঘড়ি। রিদের ব্রাউন চোখ জোড়া স্থির নাস্তা প্লেটে থাকলেও কপালে মধ্যে থাকা ঘন কালো ভ্রুঁ জোড়া হালকা কুঁচকানো। হয়তো বিরক্তিতে। আর এই বিরক্তির মূলকেন্দ্র হয়তো নিজের দাদা-দাদিকে ঘিরেই রিদের। রিদ কথা বলছে না। কিন্তু পাশ থেকে সূক্ষ্ম চোখে সবটা পযবেক্ষণ করে চলছে আরাফ খান। রিদের বিরক্তি ফেসের কারণটা জানা উনার। তিনিও চামচ নাড়িয়ে মুখে খাবার তুলতে তুলতে এক পলক নিজের স্ত্রীকে দেখে নিলেন হালকা কপাল কুঁচকে। আপাতত তিনি চুপ থেকে নিজের স্ত্রীকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিচ্ছেন রিদকে। হেনা খান ড্রাইনিং টেবিলে আরাফ খানের সম্মোহীন আর রিদের পাশের চেয়ারটায় বসে, হালকা জড়তার নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছে রিদকে রয়েসয়ে। কিন্তু রিদ আদৌ উনার কথা গুলো কানে তুলছে কিনা বলা দুষ্কর। তবে রিদের চোখে মুখে বিরক্তি আভাস। হেনা খান নিজের পরপর প্রশ্ন করেও রিদ থেকে উত্তর না পেয়ে হতাশতায় দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন। রিদ যে কি পরিমাণ দেইরা সেটা উনার জানা। রিদ ঘাড়ত্যাড়ামি করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হেনা খানও দমে গেলেন না। পুরো দমে আবারও রিদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠেন..
—” তুই কি আমার কথার একটাও উত্তর দিবি না রিদ? আমরা খারাপ কিছু তো বলছি না তোকে তাই না? আমরা তোর ভালো চাই। এবার অন্তত একটা বিয়ে করে নে! সংসারি হ। আমরা মেয়ে দেখবো তোর জন্য?
রিদ কথা বললো না। বরং শব্দ করে হাতে থাকা চামচ ছুরি দুটো রাখলো নিজের প্লেটের উপর। হেনা খান চমকে রিদের দিকে তাকাতেই। রিদ হাত বাড়িয়ে সামনের থেকে টিস্যু নিয়ে নিজের মুখ মুছে উঠে দাঁড়ায়। ড্রাইনিং টেবিল ছাড়তে ছাড়তে গম্ভীর মুখ আরাফ খানের উদ্দেশ্য বললো…
—” দাদাভাই ‘টেন ক্লক’ তোমার একটা মেটিং আছে আমার সেক্টরে। ডোন্ট বি লেট। টাইম টু টাইম চাই আমার তোমাকে?
রিদকে কথা এরাতে দেখে ক্ষেপানিত হয় হেনা খান। রুষ্ট কন্ঠে রিদের পিছন ডেকে বললো…
—” তুই কতদিন এরাবি আমাদের কথা। তোর ত্যাড়ামির জন্য আমার সোনামার সাথে বিয়েটা পযন্ত বাতিল করলি। একবার ভাবলি না তোর মায়ের শেষ পছন্দ ছিল মায়া তোর জন্য। জেদ করেই শেষ করলি সেই সম্পর্কটাকে। এখন আবার ত্যাড়ামি করছিস বিয়ে করবি না বলে। আমরা কতদিন বেঁচে থাকবো তোর জন্য? আমরা মরে গেলে দিন শেষে একা হয়ে থাকবি তুই। আর তাছাড়া আমাদের মৃত্যুর পর তোর বাবা-মাকে কি জবাব দিব হ্যাঁ? কি বললো? যে তাদের ছেলেকে আমরা নিঃসঙ্গ অবস্থায় দুনিয়াতে একা করে রেখে এসেছি মরতে?
রিদ চলতে চলতে পা দুটো স্থির হয় নিজের মায়ের কথা স্বর্ণাভে। কিন্তু সেটাও দীর্ঘ স্হানীয় হলে না। দুই সেকেন্ড মধ্যে বিরুক্তি নিয়ে পুনরায় হাটতে শুরু করে সামনের দিকে। যেতে যেতে নিজের দাদীর উদ্দেশ্য বলে উঠলো…
—” সংসারটা আমার সাথে যায়না দাদী। তাই যেটা যেভাবে চলছে আপাতত সেটা সেই ভাবেই চলতে দাও। বাধ্য করো না আমাকে কোনো কিছুতে। আমি অবাধ্য নীড়। বাধ্যকতা যায়না আমার সাথে।
কথা গুলো বলেই রিদ পা চালালো বাহিরে দিকে। বিরক্তির রেশ জোরে তিরতির করছে শরীর। কিছুই ভালো লাগছে না তার। হেনা খান অসহায় দৃষ্টিপাত করলো রিদের যাওয়া দিকে। তিনি চাচ্ছেন রিদকে সংসারি করতে। আয়নের মায়ার যেহেতু একটা গতি হয়ে গেছে। তাই তিনি রিদের ও একটা গতি করতে চাচ্ছেন জুইয়ের সাথে। মেয়েটাকে উনার মনে ধরেছেন। অনেকটা মায়ার মতোই। তাছাড়া হেনা খান যেটা বেশ করে লক্ষ করেছেন, সেটা হলো জুইয়ের খান বাড়িতে আসার পরপরই রিদও চলে এসেছে খান বাড়িতে। এতো দ্রুত রিদ বাংলাদেশ ফিরা নয় তারপরও ফিরেছে রিদ। হেনা খান মনে সংশয় সৃষ্টি হয় হয়তো রিদের মনে জুইয়ের জন্য টান অনুভব থেকেই রিদ ফিরতি বাংলাদেশে চলে এসেছে। তাই তিনি জুইকে দিয়ে রিদকে বাঁধতে চাই। আঁটকে রাখতে চাই রিদের অবাধ্য পা দুটো নিজের মাঝে। আর যার রেশ টেনে নাস্তা টেবিলে তিনি রিদকে পরপর কথা গুলো বলে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রিদের নাহুচতায় বরাবরই উনাকে নিরাশ হতে হচ্ছে।
~~
রিদ বিরক্তি ধুপধাপ পা ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে নিজের গাড়ির দিকে। রিদকে আসতে দেখে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ড গুলো মধ্যে একজন দ্রুততা সঙ্গে গাড়ির দরজা টেনে খুলে দেয়। রিদ বিরক্তিতে তিরতির করা শরীর নিয়ে ঢুকতে চাইলো গাড়ির ভিতর। কিন্তু তার আগেই পিছন ডাকলো কেউ রিদকে। পরিচিত কন্ঠস্বর কানে আসতেই থেমে গেলো রিদ। ঠাস করে গাড়ির দরজা লাগিয়ে হালকা কপাল কুঁচকে পিছন ফিরে তাকালো। রিদের ব্রাউন চোখে দৃশ্যমান হলো মায়ার হাঁপিয়ে উঠা স্নিগ্ধ মুখশ্রী। রিদ কপাল কুঁচকে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে মায়াকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চোখ বুলিয়ে আশেপাশে সকল বডিগার্ডকে হাতে ইশারা বুঝালো ‘চলে যেতে। রিদ ইশারা অনুযায়ী সকল বডিগার্ড গুলো নিঃশব্দে প্রস্হান করলো জায়গা ছেড়ে। রিদ নিজের বামহাতের ঘড়িটি এক পলক দেখে নিয়ে চোখ তুলে তাকায় মায়ার দিকে। গম্ভীর কন্ঠে বলে…
—” কি চাই?
রিদের গম্ভীর মুখের প্রশ্নে ইতস্তত বোধ করলো মায়া। দৌড়ে আসায়! হাঁপিয়ে উঠা ভয়ার্ত মুখশ্রীতে সাহস সংশয় করে নত মস্তিষ্কের দাড়ালো সে রিদের সামনে। কাচুমাচু করে বললো…
—” আমি যাব আপনার সাথে।
রিদ কপাল কুঁচকে বিরক্তি প্রকাশ করলো মায়ার কথায়। রুষ্ট গলায় বললো…
—” কোন দুঃখের নিব আপনাকে শুনি?
রিদের কথায় তৎক্ষনাৎ মাথা তুলে তাকায় মায়া। ছটফট উত্তরে বললো…
—” দুঃখে নাতো সুখে যাব আমি।
রিদ আগের নেয় বিরক্তি নিয়ে বলে…
—” আপনার সুখটা কিসের শুনি? সাতসকালে মরার জন্য আমার পিছন পিছন ছুটছেন কোন সুখে সেটা বলেন??
রিদের বিরক্তিতে কাচুমাচু করলো মায়া। পুনরায় নত মস্তিষ্কের হয়ে পা দিয়ে হালকা ফ্লোর খুঁটিয়ে বললো…
—” আমি নাকফুল পড়বো তো। আমাকে নিয়ে যান আপনি।
—“মানে?
রিদের প্রশ্নে মায়া নিজের ওড়নার আঁচলে ভিতর থেকে লম্বা চেপ্টা বারো ইঞ্চের একটি বক্স বের করে রিদকে দেখালো। রিদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখলো মায়া গুটি হাতে ধরা বক্সটিকে। মনে পড়লো তাদের বিয়ের রাতে মায়া রিদ থেকে নাকফুল চেয়েছিল। তাই রিদ পুরো এক বক্সের ডায়মন্ডের ছোট বড় অসংখ্য নোসপিন পাঠিয়ে ছিল মায়াকে সকালে। কম হলেও বক্সের ভিতর তিনশ শতাধিক নোসপিন হবে। কিন্তু রিদ বুঝলো না মায়া এই মূহুর্তে তার পিছন পিছন কেন ছুটতে চাইছে এই নোসপিনের বক্স নিয়ে। যেটা ভালো লাগে সেটা পড়ে নিলেই তো হয় ঝামেলা শেষ। রিদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির মধ্যেই মুখ খুললো মায়া। ভুল শুধালো রিদের। মিহি কন্ঠে বললো…
—” নাকফুল পড়তে গেলে নাক ফুটাতে হয়। আমার তো নাক ফুটানো নেই। তাই আমি নাকফুল পড়তে পারছিনা। আপনি আমাকে নাক ফুটাতে সাহায্য করুন প্লিজ। আমাকে পার্লারের মহিলাদের কাছে নিয়ে চলুন। আমি নাক ফুটাবো। নাকফুল পড়বো নাকে।
মায়ার খাপছাড়া কথায় মূহুর্তেই রিদের কপালে বিরক্তির ভাজ পড়লো কয়েক গুণ। প্রচন্ড বিরক্তির গলা ঝেড়ে বললো…
—” নাটক করেন আমার সাথে। ফালতু সময় নিয়ে ঘুরি আমি আপনার জন্য। আমার খেয়ে-দেয়ে আর কোনো কাম নাই? এখন আপনাকে সাথে নিয়ে নিয়ে ঘুরতে হবে আমাকে? নাকফুলের বাল পড়ার দরকার নাই। যেটা যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক। কোনো এক্সট্রা নাটকের দরকার নেই আমার। যান! আপনি ভিতর যান।
রিদের কথায় কাজ হলো না। উল্টো বেঁকে বসলো মায়া। জেদ দেখালো শান্ত ভঙ্গিতে। গাল ফুলিয়ে বললো..
—” তাহলে আমি একা একা চলে যাব কিন্তু।
মায়ার বাঁকানো ভঙ্গিতে রাগান্বিত হলো রিদ। তারপরও মায়াকে কিছু বললো না। বরং বিরক্তি চোখে ফেলে আবারও একবার মায়াকে দেখে নিল। মায়ার গায়ে কাঁচা হলুদ দু-পিস পড়া। সেলোয়া সাদা। গায়ের বড় করে দুপাশে ওড়না টানা। দুহাতে কাচা হলুদ রেশমি চুড়ির ঝনঝন শব্দ। চুল গুলো সব হাত খোপা করে হলুদ ঝুমকোর কাটিতে আটকানো তাতে। গলায় রিদের দেওয়া বাসর রাতের সেই ছোট লকেটটি পড়া। মায়ার কাঁচা হলুদ শরীরে মধ্যে হলুদ রঙ্গের ড্রেসটি যেন মাত্রাতিক মোহিত করলো রিদকে। তারপরও রিদ নাহুশ হলো মায়ার বেশভূষা দেখে। মায়াকে এইভাবে নিয়ে যেতে চাচ্ছে না নিজের সাথে। তাই বিরক্তি নিয়ে বললো…
—” বোকরা কই আপনার?
—” বললাম তো বোকরা নেই আমার।
রিদ আগের নেয় কপাল কুঁচকে বিরক্তি কন্ঠে বললো…
—” কেন? আপনার বোকরা এখনো আসে নাই??
—” নাহ।
~~
অবস্থানটা রিদের অফিস রুমেই মায়ার। গালের দু’হাতে ভর দিকে ঝুঁকে পড়ে আছে সোফার টি-টেবিলে উপর। দৃষ্টি স্থির সামনে থাকা নোসপিনের বক্সের মধ্যে মায়ার। বিগত একটা ঘন্টা যাবত অস্থির দৃষ্টি বুলিয়ে যাচ্ছে মায়া পছন্দের নোসপিন খুঁজার অনুসন্ধানে। কোনো মতেই পছন্দ করতে পারছে না একটা নোসপিন পড়ার জন্য মায়া। রিদ ল্যাপটপে হাত চালিয়ে নিজের কাজ করে চলছে ব্যস্ততার সহিত। কিছুক্ষণের মধ্যে তার জরুরি মেটিং। আর তার জন্যই প্রজেক্টের ডিটেইল চেক করছে আর থেকে থেকে মায়াকে পযবেক্ষণ করছে ক্ষণে ক্ষণে। মায়ার নোসপিনের উপর ঝুকে পড়া বিষয়টি লক্ষ করলেও আপাতত রিদ সেদিকে মনোযোগী হতে চাচ্ছে না। সে নিজের কাজে ব্যস্ত। রিদের অফিস কক্ষে আরও একজনের উপস্থিত বহমান রয়েছে। কাচুমাচুম ভঙ্গিতে মায়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে পারদর্শী দক্ষতা সম্পূর্ণ মর্ডান পার্লাররিস্ট মহিলাটি। গায়ে সাদা কালো জিন্স-টপ জড়ানো। হাতে নোসপিন ফুটানোর ছোট মেশিনটি। মহিলাটিও বিগত সময় নিয়ে ভয়ার্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে কক্ষের একপাশে। কিন্তু মায়ার হেলদোল নেই। এতগুলো নোসপিন থেকে একটা নোসপিন পছন্দ করতে পারছে না সে নিজের জন্য। বিউটিশিয়ান মহিলাটি আহত হচ্ছিল বারবার মায়ার কান্ডে। কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারছে না রিদ ভয়ে। রিদ খান সম্পর্কে অবগত সে। তাই চুপ থেকে নিজের প্রাণ বাচানোর ফরজ মনে করছেন তিনি।
মায়া আরও কিছু সময় নিয়ে যখন নিজের জন্য নাকফুল পছন্দ করতে পারলো না, তখন নোসপিনের বক্স নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। তৎক্ষনাৎ হাজির হলো রিদের সামনে। রিদের সামনে ল্যাপটপের উপর নিজের নোসপিনের বক্সটি রেখে আবারও ঝুঁকে পড়লো রিদের সামনে। চিন্তিত ভঙ্গিতে বলে উঠলো রিদকে…
—” দেখুন না মিস্টার ভিলেন আমি একটা নাকফুলও পছন্দ করতে পারছি না? কি করি বলুন তো?
মায়া হঠাৎ কান্ডে থমথমে খেয়ে যায় রিদ। ব্যস্ত হাতদুটো থেমে গিয়ে তৎক্ষনাৎ মনোযোগ নষ্ট হলো হঠাৎ করে মায়ার রিদের সামনে ঝুঁকে পড়ায়। আকস্মিক ঘটনায় হঠাৎ বিষয়টি কি হলো বুঝতে রিদ কয়েক সেকেন্ড সময় নিলো। অতঃপর বিষয়টি বুঝতে পেরে রিদ রাগান্বিত চোখে মায়ার দিকে তাকাতেই, মূহুর্তেই চোখ দুটো শীতল হয়ে যায়, মায়ার উম্মত গলা, ঘাড় ও কানের নিচ চোখে পড়তেই। মায়া রিদের চেয়ারের পাশ দিয়ে ঝুঁকে পড়ে রইলো ল্যাপটপের সামনে থাকা নোসপিনের বক্সের উপর। রিদের পাষান্ড বুক কেঁপে উঠলো। পুনরায় অধৈর্য হলো মন। মায়াকে একটু করে ছুঁয়ে দেওয়ার জন্য। রিদ শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো মায়ার গলা, ঘাড়ের চারপাশে। রিদ আলতো হাত বাড়িয়ে মায়ার গালে স্পর্শ করতে চাইলো কিন্তু তার আগেই অধৈর্যের মুখ খুললো মায়া। নাকফুলের বক্সে মুখ ডুবিয়ে বললো….
—” আমাকে একটা নাকফুল পছন্দ করে দিন না মিস্টার ভিলেন। আমি পছন্দ করতে পারছি নাতো।
মায়া কথায় নিজের বাড়ন্ত হাতটা কি মনে করে গুটিয়ে নিল রিদ। অস্থিরতা নিশ্বাস টানলো নিজের মাঝে সে। মেয়েটি আশেপাশে থাকলে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তার। তাই মায়াকে দূরে সরানোর জন্য রিদ নিঃশব্দে কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে চোখ বুলালো নাকফুলের বক্সটির মধ্যে। স্থির দৃষ্টিতে রিদ খুঁজে খুঁজে মায়ার জন্য খুবই ছোট সুন্দর সাদা পাথরের মধ্যে নাকফুল পছন্দ করে দিল। মায়া রিদের দেওয়া নাকফুলটি নিয়ে খুশি হয়ে তৎক্ষনাৎ হাজির হলো বিউটিশিয়ান মেয়েটির সামনে। মেয়েটি মায়াকে নিজের সামনে বসিয়ে নাকফুলটি মেশিনের মধ্যে ভরে নিল দক্ষ সহিত। রিদ কপাল কুঁচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তাদের কর্মকাণ্ডের দিকে। বিউটিশিয়ান মেয়েটি আসলে মেশিন দিয়ে কি করবে মায়ার সাথে সেটা ঠিকঠাক বুঝতে পারছে না রিদ। মেয়েটি মায়ার বাম নাকের পাশে ছোট করে কলম দিয়ে মার্ক করলো। এবং দক্ষতার সহিত মেয়েটির হাতে থাকা মেশিনটি মায়ার নাকে উপর চালিয়ে চেপে ধরতেই মায়া ব্যথায় মৃদু চিৎকার “আহ” করতেই রিদ সামনের থেকে তৎক্ষনাৎ গলা ছেড়ে চেচিয়ে উঠলো মেয়েটিকে…
—” হেই!
সঙ্গে সঙ্গে রিদের ভয়ে মেয়েটির হাত তরতর করে কেঁপে উঠে মূহুর্তেই হাতে থাকা মেশিনটি অসাবধানতায় পড়লো মায়া পায়ে উপর। মায়া ব্যথায় পুনরায় আর্তনাদ করে উঠলো। রিদ উত্তেজনায় তাৎক্ষণিক চেয়ার ছেড়ে মায়ার বাহু টেনে দাঁড় করালো নিজের সামনের। কপাল চিন্তিত ভাজ ফেলে মায়ার নাকের এপাশ ওপাশের ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে বললো…
—” বলছি নাটক লাগানোর দরকার নাই নাকে। তারপরও লাগাইসো। আমার অবাধ্য হওয়াটা তোমার জন্য ফরজ কাজ হয়ে দাঁড়াছে আজকাল। দেখি দেখাও আমাকে! ইশ বেশি ব্যথা পাচ্ছো?
কথা গুলো বলতেই ব্যস্ততার চোখ বুলালো রিদ মায়ার নাকে। খুবই অল্প পরিমাণের রক্তও রিদের চোখে পড়লো মায়ার নাকের নাকফুলের চারপাশে। রিদ ব্যস্ত ভঙ্গিতে মায়ার দুগাল নিজের দু’হাতের ভাঁজে নিয়ে ব্যথাত্তুর কন্ঠে বলে…
—” উফ! রক্ত তো বের হচ্ছে নাক দিয়ে।
ইশ বেশি ব্যথা লাগছে! কষ্ট হচ্ছে বউ?
মায়ার চোখ মুখ লাল হলো হঠাৎ ব্যথায়। নাকফুল পড়ার ব্যথায় চোখ দুটো টইটম্বুর হলো নোনাজলে। টপ করে গাল গড়িয়ে পড়লো রিদের হাতে মাঝে। রিদ পুনরায় ব্যস্ত হলো মায়ার সামান্য ব্যথায়। অন্তত আদুরি সহিত রিদ মায়াকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে উঠলো…
—” না-আ কাঁদে না বউ। কাঁদে না। আমি ফুঁ দেয়। ব্যথা কমে যাবে তোমার।
বলতে বলতেই পরপর ধীরস্থে ফুঁ দিতে থাকলো মায়ার নাকের চারপাশে রিদ। বিউটিশিয়ান মেয়েটি চমকিত ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকলো রিদের কর্মকাণ্ডের দিকে। রিদ খানের মতো ব্যক্তি, যে কারও প্রতি এতটা দূর্বল হতে পারে, তা জানা ছিল না মেয়েটির। মেয়েটির বুঝলো রিদ খানের বিরক্তি, রাগের ভাঁজে ভাঁজেও মায়াকে নিয়ে দারুণ উত্তেজনা তার। যেটা নিখুঁত ভাবে প্রকাশ করে যে গ্যাংস্টার রিদ খানের কতটা জুড়ে দুর্বলতা এই ছোট মেয়েটি। যার শত শত মানুষের রক্ত জড়াতেও বিন্দুমাত্র ঘামের রেশ থাকে না তার কপালে। সেই রিদ খানের কতটা উত্তেজনা মাায়ার সামান্য একফোঁটা রক্ত নিয়ে। মেয়েটি মুগ্ধতা নিয়ে মায়াকে আবারও এক পলক চোখ বুলাতেই রিদের রাগান্বিত দৃষ্টি সম্মোহনী হলো সে। রিদ তিক্ততা ঝেড়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো…
—” গেট আউট ফ্রম হেয়ার!
মেয়েটি আর দাঁড়ালো না। প্রাণের ভয়ে তৎক্ষনাৎ পালালো রিদের অসিফ কক্ষ থেকে। মায়াকে সোফার টি-টেবিলে উপর বসিয়ে রিদ হাঁটু গেঁড়ে বসলো মায়ার সামনে। নিজের দু’হাতে মায়ার দুগাল অন্তত আদুরের সহিত চোখের পানি মুছে দিলো। মায়ার ব্যথাত্তুর পা-টা রাখলো নিজের উরুর উপর। মায়া চমকে উঠে নিজের পা সরিয়ে নিতে চাইলে রিদ পুনরায় মায়ার পা শক্ত করে টেনে ধরে। বিরক্তি চোখে রিদ মায়াকে এক পলক দেখে নিয়ে পুনরায় নিজের দৃষ্টি স্থির করে মায়ার ব্যথারত্তুর পায়ের পাতায় সে। যেখানটায় বিউটিশিয়ান মেয়েটির অসাবধানতা বশত নোসপিনের মেশিনটি ফেলে দিয়েছিল। রিদ মায়ার লাল হয়ে যাওয়া পা-টি দেখতে দেখতে বিরক্তি কন্ঠে বললো…
—” বড়দের কথা না শুনলে এমনই হয়। বালের একটা নাকফুলের জন্য দুই জায়গায় ব্যথা পেলে। না করেছি পড়ার দরকার নাই তারপরও কথা শুনো নাই আমার।
রিদের কথায় মায়া কান্না ভেজা কন্ঠে বললো…
—” আমি নাকফুল না পড়লে আপনার অমঙ্গল হতো। আম্মু বলে বউদের নাকফুল পড়তে হয় নাকি স্বামী মঙ্গলের জন্য।
—” ছেহ! ফালতু যতসব কুসংস্কার থার্ডক্লাস কথাবার্তা। তোমাকে বউ সাজতে কে বলছে? আমি বলছি আমার জন্য তুমি বউ বউ হয়ে চলো হ্যাঁ? আমি মঙ্গল-অমঙ্গল বুঝি না। যখন যেটা হবার তখন সেটা হবেই আমার সাথে। আর সেটাকেই নিয়তি বলে। তাছাড়া মরলে আমি মরবো। আপনি কেন নাক ফুটাতে গেলেন? এখন ব্যথাটা কে পাচ্ছে শুনি? আমি না আপনি?
রিদের মুখে মরার শব্দটা যেন কষ্টে দলা পাকিয়ে আসলো মায়ার গলায়। মূহুর্তেই পুনরায় টইটম্বুর হলো মায়ার চোখ দুটো। গাল বেয়ে পড়লোও দুই ফুটা নোনাজল। মায়া নিজের কান্নায় ঠোঁট বাকিয়ে বললো..
—” আপনি অনেক পাষাণ্ড মিস্টার ভিলেন।
চলিত….
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি গল্পের লিংক
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬