Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৫


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

৩৫
চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় নিজের বামহাতে মাথা চেপে ধরতেই হাতের ক্যানুলায় টান অনুভব করলো রিদ। বিরক্তিতে ভারি মাথায় কপাল কুঁচকায় সে। তৎক্ষনাৎ হাতের রক্ত উঠলো স্যালাইনের নল দিয়ে রিদের। কানে আসলো চারপাশ থেকে বেশ কিছু উৎসুক দারি কন্ঠের গুঞ্জন। রিদ বুঝলো না চারপাশের গুঞ্জনের শব্দটা। সটান হয়ে উঠে বসলো বেডের উপর। ভারি মাথা চেপে ধরে বিরক্তিতে চোখ মেলে তাকায় সামনে। মূহুর্তেই চোখে পড়লো বেশ কিছু সফল্য হাসি মুখ। সাদা এপ্রোন পরিহিত বেশ কিছু ডক্টর নামক লোকজন তাকে ঘিরে বসে আছে চারপাশে। রিদের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হলো নিজের চারপাশে এতো ডক্টর দেখে। ভারি মাথা ঝাঁকিয়ে মনে করার চেষ্টা করলো সে আসলে কোথায় আছে। কিন্তু এক মূহুর্তের জন্যও মনে করতে পারলো না কোনো কিছুই। বিরক্তির চোখ তুলে আবারও তাকায় সামনে দিকে রিদ। গাঢ় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরখ করলো নিজের চারপাশটা। বুঝতে পারলো তাঁর বর্তমান অবস্থান একটা অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর। এবং বিগত সময় ধরে সে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরই বেডে শুয়ে ছিল। বাকি ডক্টররাও তারই চিকিৎসা করছিল এতক্ষণ যাবত। রিদের মনে প্রশ্ন জাগলো কিন্তু কেন?? রিদ সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার আশায় নিজের মস্তিষ্কে চাপ দিলো, মনে করার চেষ্টা চালালো আসলে তার সাথে কি হয়েছিল?রিদ মনে করতে ব্যর্থ হলো। কিন্তু তক্ষুনি কানে আসলো পাশ থেকে কারও উৎসুক কন্ঠের স্বর। রিদকে উদ্দেশ্য করে পাশ থেকে একজন ডক্টর স্বস্তির কন্ঠে বলে উঠলো…

—” ইউ আর এ্যাবসল্যুটলী ফাইন নাউ মিস্টার খান। আপনি পুরোপুরি রিকভার হয়ে গেছেন। শরীর খানিকটা দুর্বল থাকলেও কিন্তু শরীরের কোনো প্রকার অবশিষ্ট বিষ নেই আপনার। একদিন রেস্ট নিলে বাকি দুর্বলতাটাও কেটে যাবে আপনার ধীরে ধীরে।

বয়স্ক ডক্টর লোকটির কথার যথার্থ অর্থ বুঝলো না রিদ। কপাল কুঁচকে প্রশ্নতুর দৃষ্টিতে তাকালো ডক্টরের দিকে। রিদের জ্ঞান ফিরেছে কথাটি কর্ণধার হতেই দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে আসলো আসিফ। রিদকে সুস্থ স্বাভাবিক দেখে অতি সন্তপর্ণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সে। এতক্ষণ জানটা আটকে ছিল তার রিদের জীবনের সেফটির বিষয়টি নিয়ে! কিন্তু আল্লাহ রহমতে রিদকে সুস্থ দেখে স্বস্তির হয় আসিফ। কিন্তু চেহারার চিন্তিত ভাবটা তক্ষুনো কমেনি বিন্দুমাত্র বরং বিদ্যমান ছিল কঠিন ভাবে, কোনো একটা বিষয় নিয়ে হয়তো। তাই সেই চিন্তিত চেহারায় এগিয়ে আসলো আসিফ রিদের দিকে, উত্তেজিত কন্ঠে জিজ্ঞেসা করলো…

—” ভাই! আপনি ঠিক আছেন??

রিদ এবারও বুঝলো না আসিফের কথার অর্থ কোনো কিছু। বরং বিরক্তি বাড়লো নিজের চারপাশে এতো মানুষজন দেখে। বিরক্তিতে হাতের স্যালাইনের পাইব টেনে খুলতে খুলতে তপ্ত মেজাজে বললো রিদ…

—” আমার আবার কি হবে?? আমি ঠিক আছি। এই নাটক লাগিয়েছিস কেন আমার হাতে?? খুলতে বল এই গুলা। ছেহ!

দ্রুততার সঙ্গে রিদকে বাঁধা দিয়ে বলে উঠে পাশ থেকে অন্যজন ডক্টর…

—” কি করছেন মিস্টার খান?? আপনি এখনো যথেষ্ট দুর্বল। ইউ নিড দিস স্যালাইন।

রিদ কথা শুনলো না ডক্টরের। বরং উগ্র মেজাজে নিজের হাতে লাগানো সকল যান্ত্রিক পাইব টেনে ফেলতে লাগলো। ছিঁড়তে লাগলো হাতে পেঁচানো সাদা কসটিবের প্যাচ গুলো। এতে বিভ্রান্ত হয় সকল ডক্টরা। ভয়ে কেউ এগিয়ে আসলো না রিদকে বাঁধা দিতে, আর না কেউ মুখে আওড়িয়ে কিছু বললো। আসিফ থমথমে খেয়ে যায় রিদের উগ্র মেজাজ দেখে। বুঝতে পারে৷ এই মূহুর্তে রিদের কোনো কিছুই মনে নেই নিজের পূর্ব পরিস্থিতিটা সম্পর্কে। তাই আসিফ রিদকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য থমথমে গলায় বললো…

—” ভাই আপনাকে সাপে কামড়িয়েছিল। আর তারই চিকিৎসা চলছে আপনার।

রিদের উগ্র মেজাজ থেমে যায়। এক মূহুর্তে জন্য মনে করতে পারলো না আসলে তাকে কখন সাপে কামড়িয়েছিল? রিদ চোখ তুলে তাকায় আসিফের দিকে প্রশ্নতুর দৃষ্টিতে। নিজের একটা ভ্রুঁ উচু করে আসিফকে প্রশ্ন করে বললো…

—” সাপে কামড়িয়েছিল আমায়? কখন??

—” জ্বিই ভাই বিকালে! কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে আপনার শরীরে তেমন একটা বিষ পাওয়া যায়নি। যেমন ধরেন পাচঁয়াংশের একাংশ বিষ আপনার শরীরের পাওয়া গেছে মাত্র। যাতে মৃত্যু ঝুঁকি ছিল না আপনার। কিন্তু আপনাকে উদ্ধার করার সময় আপনার পাশে আমরা বিষের বিষাক্ত রক্ত দেখেছিলাম পড়ে থাকতে রাস্তায়। ভাই? কেউ কি আপনার বিষাক্ত রক্ত মুখে চুষণ করে বের করেছিল নাকি বিকালে? আপনার সাথে কি আরও কেউ ছিল তখন??

রিদের কুঞ্জিত দৃষ্টি দেখে আসিফ দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে। বুঝতে পারে রিদকে কর্ড়া ঔষধের ডোজ দেওয়ার জন্য আপাতত সে কিছুই মনে করতে পারছে না। মস্তিষ্ক শিথিয়ে আছে এখনো। কিন্তু মিনিট খানিকটা সময় গেলেই তার নিজ থেকে সবকিছু মনে পড়ে যাবে একে একে। আসিফ রিদের প্রশ্নেতুর দৃষ্টি এরালো না। কিন্তু দমেও গেল না রিদকে প্রশ্ন করার থেকে। কারণ রিদকে দ্রুত সবকিছু মনে করাতে না পারলে উল্টো আসিফের জন্যই বড় ধরনের ঝড় নেমে আসবে কপালে। আসিফ চিন্তিত হলো। কপালে গাঢ় চিন্তিত ভাঁজ ফেলে পুনরায় প্রশ্ন করলো রিদকে। রিদের স্মৃতিচারণ করিয়ে স্বর্ণাভে বলে উঠলো আসিফ রিদকে….

—” ভাই! ভাবি কই? ভাবিকে আমরা কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা। আপনি কি ভাবিকে কোথাও রেখেছিলেন আপনাকে সাপে কামড়ানোর পরে??

কয়েক সেকেন্ড মন্ত থাকার মধ্যে দিয়েই হঠাৎই টনক নড়লো রিদের। প্রশ্নতুর দৃষ্টিতে ভর করলো একরাশ আতংক। ঝিমিয়ে থাকা রিদের মস্তিষ্ক এবার সটান হয়ে সচেতন হলো। আর সচেতন মস্তিষ্কেকে প্রতিধ্বনি হলো আসিফের এক বাক্য ‘ভাই ভাবি কই’। তৎক্ষনাৎ নিজেদের সাথে ঘটিত সকল বিষয়ের স্মৃতিচারণ হলো রিদের। বিকেলের এক্সিডেন্টের পর দুজন একসাথেই ছিল। বরং লাস্ট টাইম রিদ দেখেছিল মায়াকে তার কোলের উপর অজ্ঞান হয়ে পড়তে। তাহলে সে হেফাজতে হলে তার বউ কই যাবে? তার কোলেই তো ছিল তার বউ! রিদের ঝিমিয়ে থাকা মস্তিষ্কের রক্ত টগবগিয়ে উঠলো তাৎক্ষণিক। বুক কেঁপে উঠলো, মস্তিষ্ক গরম হলো। চোখের রং ও ধরণ দুটো পরিবর্তন হলো। ধর ফুরিত বুকে আতংকিত হয়ে বললো রিদ…

—” তোর ভাবি আমার সাথেই ছিল! আমার কোলের উপর বেহুশ অবস্থায় পড়েছিল?? আমার হাতের সাপের বিষ তোর ভাবিই চুষণ করেছিল বিকালে? তাহলে অজ্ঞান অবস্থায় আমাকে পেলে তোর ভাবি কই যাবে। সেও তো অজ্ঞান ছিল আমার কোলে।

এবার কথা ধরণ আসিফেরও পরিবর্তন হলো। উত্তেজিত কন্ঠে স্বরে বললো তৎক্ষনাৎ রিদকে….

—” কি বলছেন ভাই? আমরা কেউ তো ভাবিকে পাইনি? শুধু আপনাকে একা জঙ্গলের রাস্তায় গাড়ির সাথে হেলিয়ে থাকা অজ্ঞানরত অবস্থায় পেয়েছিলাম। আপনাকে উদ্ধার করার পর থেকেই চিকিৎসা চলছে। কিন্তু এতক্ষণ যাবত আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো ভাবিকে কোথায় সেইফলি রেখেছেন তাই এতটা গুরুত্ব দেয়নি এই বিষয়ে। কিন্তু আপনি তো বলছেন ভাবি আপ….

আসিফ সম্পূর্ণ কথা গুলো শেষ করতে পারলো না। তার আগেই ছোটখাটো তাণ্ডব হলো অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর। রিদের হাতে লাগানো স্যালাইনের পাইব ক্যানুলা ছিড়েখুঁড়ে গাড়ির ভিতর থেকে বের হয়ে আসে রিদ। উত্তেজিত ভঙ্গিতে চারপাশেটা পরখ করতেই চোখে পড়লো রাতের গভীরের অন্ধকারটুকু। তৎক্ষনাৎ নিজের মাথা চেপে ধরে খানিকটা ঝুঁকে ব্যর্থতায় মৃদু চিৎকার করে উঠলো রিদ। বেসামাল হয়ে বললো….

—” শিট! শিট! শিট! না জানি কতটা দেরি করে ফেলেছি আমি।
খানিকটা জোরে চিৎকার করে বললো…
—“শিট!
রিদকে উত্তেজিত দেখে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে আসে আসিফ। সে কিছু বলবে তার আগেই জড়ো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় রিদের।

—” আমার ফোন পাওয়ার কতটা সময় পর তুই এখানে উপস্থিত হয়েছিস উদ্ধার করতে??

—” ভাই চল্লিশ মিনিট পর! সাতটা হেলিকপ্টার করে এসেছিলাম আমরা সবাই। বাকি বডিগার্ডরা গাড়ি করে এসেছিল দুই ঘন্টার রাস্তা জার্নি করে। ডক্টররা সবাই এই এলাকারই ভাই। আমি আসার আগেই নিকটস্থ থানায় ও হসপিটালের ফোন করে তাদেকে পাঠিয়ে ছিলাম আপনাদেকে সেইফ করতে। তারা সবাই আমার আগেই এসেছিল আপনাদেরকে সেইফ করতে। কিন্তু তারা সবাই জানালো আপনাকে ছাড়া নাকি অন্য কাউকে পাইনি রাস্তায় আপনার পাশে ভাই। তাদের ভাষ্য মতে ভাবি তখন ছিল না আপনার সাথে। আপনি নাকি একা রাস্তা পড়েছিলেন অজ্ঞানরত অবস্থায় ভাই।

গরম মস্তিষ্কে দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করলো রিদ। পা থেকে মাথা অবধি শরীরের রগ গুলো ফুলে উঠলো তৎক্ষনাৎ। শিরা উপশিরা বয়ে যায় রিদের টগবগিয়ে উঠা রক্তের স্রোতধারা। তারপরও রিদ নিজেকে শান্ত সংযম রাখার চেষ্টা করলো। দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করে শান্ত কন্ঠে প্রশ্ন করলো আসিফকে রিদ….
—” আমার বউয়ের খোঁজ করেছিলিস তুই পরে??

রিদের লাল লাল হিংস্র চোখের দাবিতে দেবে গেল আসিফ। জিব্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে ভয়ার্ত কন্ঠে জড়তার নিয়ে বললো আসিফ…

—” না ভাই!
হিংস্রতার চোখ তুলে তাকায় আসিফের দিকে রিদ। অসম্ভব রকমের লাল হয়ে আসলো রিদের চোখ জোড়া। আসিফ ভয়ার্ত কন্ঠে পুনরায় শুধালো নিজের করা ভুলটা। অনুনয় সুরে বললো আসিফ রিদকে…

—” আসলে ভাই ঠিকঠাক বুঝতে পারছিলাম না কোনো কিছুই যে কি করবো। ভাবিকে আপনার পাশে না দেখে মনে করেছিলাম আপনি হয়তো ভাবিকে কোথাও সেইফলি রেখেছেন। কারণ আপনি তো সবসময় ভাবির সেফটি নিয়ে কেয়ারফুল থাকেন। তাই ভাবলাম এবারও হয়তো বা আপনি ভাবিকে কোথাও সেফলি লুকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু এখনো তো! সরি ভাই বুঝতে পারিনি বিষয়টি! তবে তারপরও সন্দেহ বশে আমাদের কিছু লোককে জঙ্গলে পাঠিয়েছি ভাবিকে খুঁজতে কিন্তু এখনো ভাবি কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি ভাই।

শান্ত শক্ত কন্ঠে রিদ পুনরায় প্রশ্ন করলো আসিফকে…

—” আমি কতক্ষণ অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিলাম?

—” জ্বিই ভাই! চার ঘন্টা।

রিদের পাষান্ড বুক তরতর করে কেঁপে উঠে জানান দিচ্ছে তার আপন মানুষকে হারানোর ভীতিটা। রিদ উত্তেজিত তাড়নায় মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখতে পারছে না। আর গরম মস্তিষ্কের তার বউকে খোঁজে পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠবে। রিদ নিজেকে শান্ত রাখার প্রয়াস চালালো। পরপর বুক ফুলিয়ে নিশ্বাস টেনে নিজেকে সংযম করতে চাইলো কিন্তু ব্যর্থ হলো। তারপরও উপর দিয়ে রিদকে দারুণ শক্ত ও কঠিন মনোভাব দেখালো আসিফের কাছে। রিদ শান্ত স্বরে আসিফকে বললো…

—” আমার গান দে।

আসিফ বুঝলো না রিদের হঠাৎ শক্ত হওয়া মনোভাবটা।

—” জ্বিই ভাই???

তেতে উঠে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো রিদ….
—” বন্দুক দে আমার..

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আসিফ রিদের হাতে বন্দুকটি তুলে দিতেই রিদ নিজের দক্ষ হাতে বন্দুকের ট্রিগার চেপে দেখে নিল। অনবরত রিদের বুক কেঁপে কেঁপে উঠছে তার বউয়ের জন্য। ইচ্ছা করছে দুনিয়ায় এই প্রান্তে থেকে ঐ প্রান্তে আগুন লাগিয়ে সবকিছু ধ্বংস করে দিতে নিশংস ভাবে। বিকাল প্রায় পাঁচটার দিকে সাপে কামড়িয়েছিল রিদকে এখন বাজে রাত নয়টা। মধ্যের এই চার ঘন্টা তার বউ নিখোঁজ। উফ!! না জানি কতটা দেরি করে ফেলেছে সে নিজের বউকে বাঁচাতে। টেনশনে রিদ ব্যাকুল হয়ে উঠলো। আসিফের কথায় রিদ এতটা নিশ্চিত বুঝতে পারছে যে মায়া কোনো জঙ্গলী পশুদের হাতে পড়েনি। বরং পড়েছে জঙ্গলের নেশাখোর বখাটে ছেলেদের হাতে। যদি মায়া কোনো জঙ্গলী পশুদের হাতে পড়তো তাহলে তাদের দুজনকেই ক্ষতি করতো। রিদকে অক্ষত সুস্থ অবস্থায় রেখে মায়াকে উঠিয়ে নিয়ে যেত না। বরং দু’জনকেই জঙ্গলী পশুরা বেহুশ অবস্থায় পেয়ে ছিড়েখুঁড়ে খেত। এর মানে এটাই দাঁড়ায় যে জঙ্গলের বসতি নেশাখোরের দলটি শুধু তার বউকে তার কোল হতে উঠিয়ে নিয়ে গেছে নিজেদের লালসা মেটানোর জন্য। কথাটি ভাবতেই রিদের শ্বাসনালী আটকে আসে উত্তেজনায় মায়াকে ঘিরে। রিদের ভারি বুকের সাথে সাথে বন্দুক চেপে ধরা হাতটাও তরতর করে কেঁপে উঠলো মূহুর্তেই। আসিফ দেখলো রিদের নীরব ভয়ার্ত উত্তেজনাটা। কিন্তু মুখ আওড়িয়ে কিছু বলার সাহস করতে পারলো না সে রিদকে। নিজেকে সংযম করে মস্তিষ্ক চলালো রিদ। নিজের তীক্ষ্ণ মাইন্ড কাজে লাগালো তৎক্ষনাৎ। মাত্রাতিক ঠান্ডা কন্ঠের স্বরে আসিফকে আদর্শ করে বলে উঠলো রিদ…

—” পুরো জঙ্গল ব্লক করে দে। এই এরিয়ার আর্মি হতে আমাদের যত লোকাল গুন্ডা আছে ওদের সবাইকে বল রিদ খান সরণ করেছে। আধাঘন্টা মধ্যে সবাইকে উপস্থিত দেখতে চাই আমার এই জঙ্গলে মধ্যে। পুরো জঙ্গল চেক আউট করা চাই আমার। জঙ্গলের ভিতর জায়গায় জায়গায় ক্যাম্প তৈরি কর। ছোট ছোট দলবেঁধে সবাইকে জঙ্গলে একত্রে পাঠাবি। সাথে নিজের আত্ম সুরক্ষার জন্য একটা করে টচ দিবি। এবং লাঠি, হকিস্টিক, অস্ত্র, ছুরি, যার যেটা হাতে পাবে সেটা নিয়েই যেন জঙ্গলে তল্লাটে প্রবেশ করে। কিন্তু শর্ত একটাই থাকবে! যে বা যারা আমার বউকে আমার কোল থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে তাদের অক্ষত জীবিত অবস্থায় আমার সামনে চাই। বাকিটা আমি দেখে নিব। বাট রাইট নাও! আই নিড মাই ওয়াইফ অ্যাট এনি কস্ট।

রিদ দাঁড়ালো না আর সোজা ঢুকে গেল জঙ্গলের রাস্তা ধরে। রিদের পিছন পিছন ছুটলো রিদের কিছু বডিগার্ডও একহাতে তাদের বন্দুক অন্যহাতে কর্ড়া পাওয়ারের টচ নিয়ে। রিদ এই ঘোর অন্ধকারে এতবড় জঙ্গলে মায়াকে কোথায় খুঁজবে তা জানা নেই শুধু এতটা জানে যেভাবেই হোক নিজের বউকে অক্ষত অবস্থায় চাই তার। নয়তো সে নিশ্বাস বিহীন ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে। রিদ একহাতে টচের আলোয় আলোকিত চারপাশ দেখতে দেখতে অন্যহাতে বন্দুক নিয়ে এগিয়ে গেলো গভীর জঙ্গলের ভিতর। রিদের পিছন পিছন ধরে আসা কয়েকজন বলিষ্ঠবান বডিগার্ডকে রিদ নিজের সাথে করে নিল না বরং তাদের অন্য রাস্তায় পাঠায় মায়াকে খোঁজতে দলবদ্ধ ভাবে। অক্ষাত রিদ জঙ্গলের গভীর রাস্তা ধরে একাই এগোলো বউকে খোঁজতে।

~~
রাত ১২ঃ০৭। পুরো জঙ্গল তীব্র আলোয় আলোকিত হয়ে আছে চারপাশে। গমগম করছে নির্জন নিশ্চলা জঙ্গলটা। জঙ্গলের মধ্যে জায়গায় জায়গায় আর্মি ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে মায়াকে খুজতে। সেই সাথে ট্রাক ভরতি ভরতি লোকাল গুন্ডা হতে এলাকার সাধারণ মানুষজনকেও আসিফ সংগ্রহ করেছে মায়াকে এই রাতে খুজতে। বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা দেওয়া হবে তাদের সবাইকে। কিন্তু বিগত তিন ঘন্টা যাবত বিরতিহীন ভাবে সবাই খুঁজে চলছে মায়াকে। কিন্তু কোথাও মায়ার ছিটাফোঁটা চিহ্ন পযন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। নিস্তব্ধ ঘুমন্ত জঙ্গলটা বিগত তিন ঘন্টায় যাবত গমগম করছে তুমুল শব্দে ও আলোয়। এতে করে জঙ্গলের পশু পাখিও ভয়ে বিরতিহীন ক্যাচম্যাচ শব্দ করে চলছে নিঘুম পরিবেশে ছুটাছুটি করতে করতে। এই রাতে ঘুমন্ত জঙ্গলের পশুদের বাড়িতে খানা দিলো প্রায় হাজারো ঊর্ধ্বে মানুষজন। প্রত্যেকের হাতে একটা করে টচ ও ধারালো অস্ত্র বা হকিস্টিক নিজের আত্ম সুরক্ষার জন্য জঙ্গলের হিংস্র পশুদের হতে বাঁচার জন্য।

ভায়ার্ত পাখি ও প্রাণীরা এক ডাল থেকে অন্য ডালে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটাছুটি করছে এতো মানুষের সমাগমে তাড়নায় ভয়ার্ত ভঙ্গিতে। কিন্তু প্রত্যেকটা মানুষ বিরতিহীন ভাবে ছুটে চলেছে মায়াকে খুজতে। কিন্তু বিগত তিন ঘন্টা ধরেই ফলাফল শূন্য। মায়াকে হন্তদন্ত হয়ে খোঁজেও কেউ কোথাও সামান্য পরিমাণ ক্লো পেল না মায়ার। প্রতিটা মানুষই হতাশ হচ্ছে! এতটা বুঝতে পারছে না হঠাৎ করে একটা মেয়ে মানুষ এই গভীর জঙ্গলে আচানক ভাবে কোথায় হওয়া হয়ে যাবে। মেয়েটি জঙ্গলে ভিতর থাকলে তো এতক্ষণে কারও না কারও চোখে তো পড়ে যাওয়া কথা। চারপাশ থেকে হতাশার গুঞ্জন বাড়লো। কিন্তু কেউ থেমে নেই। পথ চলা জারি রাখল সবাই। একনিষ্ঠ ভাবে এগিয়ে গেল গভীর জঙ্গলের তল্লাটে। রিদ বিন্দুমাত্র হতাশ হলো না কারোর হতাশতায়। বরং দক্ষ পা চালিয়ে এগিয়ে গেল চারপাশে মায়াকে খুঁজতে খুঁজতে। কিন্তু সেটাও বেশিক্ষণ টিকলো না নিজের ভয়ের তাড়নায় রিদের।

রিদ ক্রমশয় নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে নিজের উপর। বিগত সাত ঘন্টা ধরে তার বউ নিখোঁজ তাঁকে খোঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। তিন ঘন্টা ধরে সে এই বন জঙ্গলে মধ্যে বিরতিহীন ভাবে খোঁজে চলছে বউকে, তাও কোথাও বউকে খুঁজে পাচ্ছে না। কিন্তু কেন পাচ্ছে না তার বউকে সে? আচ্ছা এমনটা নয়তো যে তার বউকে যারা উঠিয়ে নিয়ে গেছে, তাঁরা আসলে এই জঙ্গলেই আসেনি। তার অন্য কোথাও চলে গেছে তার বউকে নিয়ে। কথা গুলো ভাবতে ভাবতে থেমে যায় রিদ। সচল মস্তিষ্ক মূহুর্তে অকেজো হয়ে পড়ে নিজের চিন্তা ভাবনাটা প্রহরে। রিদ ভাবতে পারলো না আর কিছুই। মায়াকে নিয়ে প্রচন্ড ভয়ে কারণে বুকে অসয্য ব্যথা অনুভব করলো রিদ। তৎক্ষনাৎ রিদ বসে পড়লো শক্তপোক্ত মোটা তাজা গাছের কানির্শ ঘেঁষে মাটিতে। নিজের উত্তেজনায় প্রচন্ড দূর্বল ও অসহায় মনে হচ্ছে রিদের নিজেকে। কি থেকে কি হয়ে গেলো হঠাৎ করে কিছু যেন বুঝে আসলো না রিদ। রিদ উত্তেজিত মন নিয়ে নিজের মাথা ঝুঁকে বসে শান্ত হওয়ার জন্য। বড় বড় নিশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত ও মন্ত রাখার প্রয়াস চালাই নীরবে সে। রিদের কিছুক্ষণ মন্ত হয়ে বসে থাকার মধ্য দিয়েই কানে আসলো কেউ একজনের চিৎকার স্বরের ডাক। পরপর দুবার একিই চিৎকারের ডাক কানে আসতে চকিত ভঙ্গিতে সামনে তাকায় রিদ। সচেতন মস্তিষ্কে কান খোলা রাখতেই পুনরায় চিৎকার করলো কেউ একজন। রিদ দ্রুততার সঙ্গে উঠতেই কেউ জোরে জোরে ডাকলো চারপাশে মানুষজনকে। রিদ তৎক্ষনাৎ শব্দের উৎস ধরে দ্রুত পায়ে হেঁটে এগালো সেদিকে। দুই মিনিট হেটে সামনে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ রিদের পা থেমে যায় কারও তীব্র গোঙানোর শব্দ শুনে। রিদ সতর্ক কানে সেই শব্দ শুনায় মনোযোগ করতেই বুঝতে পারলো এই গোঙরানোর কন্ঠে অধিকারী মানুষটি তার বউ। রিদ মনে মনে আল্লাহ নাম জপ্ত করে আওড়ালো বেশ কয়েক বার। ভয়ে রিদের কপাল বেয়ে দরদর ঘাম ছুটলো। কম্পিত বুকে মায়াকে চারপাশে চোখ বুলিয়ে খোঁজা চেষ্টা করলো আসলে মায়ার অবস্থানটা কোথায়। আশেপাশে কোথাও মায়াকে পাওয়া গেল না। রিদের চঞ্চল পা দুটো স্থির হলো। দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করে কান খাঁড়া করলো।

জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রিদ আশেপাশে সবাইকেও সতর্কের ইশারা করলো ‘ নড়াচড়া বন্ধ করে স্থির হয়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে শব্দ না করে। আশেপাশের সবাই রিদের কথা মতো স্থির হয়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়লো। কিন্তু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পযবেক্ষণ করলো চারপাশেটা। রিদ মাথা ঠান্ডা রেখে মায়ার গোঙরানো শব্দটা শুনার চেষ্টা করলো সতর্কতার সহিত। আর সেই শব্দের উৎস ধরে ধীরে ধীরে এগোলো সামনে। একটা জায়গায় এসে রিদের পা থেমে যায় কিন্তু মায়াকে আশেপাশে চোখ বুলিয়ে কোথাও পেল না সে। কিন্তু এখান থেকে মায়ার গোঙরানি শব্দটা এবার তীব্র থেকে তীব্র শুনা যাচ্ছে রিদের কানে। মনে হচ্ছে খুব কষ্টে ছটফট করছে তার নাবালিকা বউ। রিদ হাসফাস করলো। উত্তেজিত হলো দ্বিগুণ। কিন্তু তারপরও বুঝতে পারলো না আসলে মায়া কোথায় আছে? আর কোথায় থেকেই বা গোঙানির শব্দটা আসছে। রিদ পুনরায় নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো। কারণ উগ্র মস্তিষ্কের সে কিছুই বুঝতে পারছে না মায়া আসলে কোথায় আছে। রিদ উপর দিকে তাকিয়ে বুক ফুলিয়ে বার কয়েক শ্বাস টেনে নিজেকে শান্ত করলো। নিজেকে শান্ত করে চোখ নামিয়ে নিতেই বেখেয়ালি চোখ পড়লো পুনরায় উপরের দিকে। মোটাতাজা গাছের মগ ডালে সাদা ফ্লকের অল্প একটু অংশ বিশেষ দেখতেই টনক নড়লো রিদের। পুনরায় চট করে মাথা উঁচিয়ে সম্পূর্ণ দৃষ্টি ফেললো গাছের ডালে। মূহুর্তেই চোখে পড়লো মায়াকে অক্ষত অবস্থায় গাছের ডালে শুয়ে ছটফট করতে। রিদ তীব্র অস্থিরতা নিয়ে সেই গাছের ডালে মায়ার দিকে আলো তাক করতেই মূহুর্তে চোখ দুটো বিষন্নতায় চেয়ে যায় মায়ার সূচনীয় অবস্থা দেখে। তার বউ একা শুয়ে আছে যে তা নয়, সাথে রয়েছে অসংখ্য বানর ছানার দল। যারা মায়াকে চারদিক থেকে ঘিরে ল্যাপ্টে শুয়ে আছে আরাম পেয়ে। মায়ার পেট, কমড়, পা, এমনি গলা জড়িয়ে গালে সাথে গাল মিশিয়ে শুয়ে-বসে আছে বানর ছানার দলটি। রিদ চমকে উঠে। হাতে ইশারায় চারপাশে সবাইকে বুঝায় ‘গাছের ডালে পূণ আলো দিতে’ রিদের ইশারা অনুযায়ী সবাই একত্রে গাছের ডালে আলো দিতেই আলোকিত হয় চারপাশ। পূণ্য আলোয় স্পষ্ট হয় গাছের ডালে ডালে শুয়ে-বসে থাকা ছোট বড় অসংখ্য বানরের দলটি। আর তাদের বাচ্চা বানর ছানারায় মায়াকে ল্যাপ্টে শুয়ে আছে।

মায়াকে সুস্থ স্বাভাবিক দেখে রিদের জানে প্রাণ ফিরে এলো যেন এতক্ষণে। কম্পিত শরীরের চোখ বন্ধ করে বড় বড় নিশ্বাস টানলো। মনে মনে আল্লাহর অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করলো। পুনরায় চোখ তুলে তাকালো রিদ উপরে মায়ার দিকে। ততক্ষণে ছোট বড় সকল বানরের দলটির ঘুম ভেঙে যায় তীব্র আলো চোখে পড়াতেই। ক্যাচম্যাচ শব্দ করে এক ডাল থেকে অন্য ডালে ছুটে বেড়ায় বাকিদের সতর্ক বার্তা স্বরুপ ঘুম ভাঙ্গাতে। সঙ্গীদের চিৎকার চেচামেচিতে একে একে সকল বানরের ঘুম ভেঙ্গে যায় উপস্থিত মানুষদের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। বানর দলটি চট করে বুঝে ফেললো যে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ গুলো তাদের কাছে সুরক্ষিত থাকা মেয়ে মানুষটিকে নিতে এসেছে এতো রাতে। আর এতেই ঘোর বিপদ হয়ে দাঁড়ালো রিদের জন্য। তৎক্ষনাৎ বানরের দলটি তুমুল শোরগোল চিৎকার চেচামেচি ক্যাচম্যাচ শব্দ করে মায়ার হাত পা টেনে হেঁচড়ে আগলিয়ে নিয়ে যেতে লাগলো নিজেদের সাথে এক ডাল হতে অন্যডালে দলবেঁধে সবাই একত্রে। রিদ উত্তেজিত হলো মায়াকে এমন ভাবে টানা হেঁচড়া করার কারণে, বুঝতে পারলো এই বানর দলটিই বিকালে তাঁর কোল থেকে তার বউকে উঠিয়ে এনেছিল নিজের সাথে রাখার জন্য। তাই এতো সহজে মায়াকে ছাড়ানো যাবে না তাদের কাছ থেকে সেটাও ঠিক বুঝতে পারলো রিদ। রিদ কৌশল খুঁজলো মায়াকে ছাড়ানোর জন্য বানরের হাত থেকে কিন্তু ততক্ষণে বানরের দলটি মায়াকে টেনে হেঁচড়ে নিজেদের সাথে নিয়ে যাওয়ার সময় অসাবধানতার কারণে স্লিপ করলো মায়া। গাছের ডাল হতে মায়া উল্টে নিচে পড়তে যাবে তার আগেই উত্তেজনায় হয়ে তাৎক্ষণিক চিৎকার করে উঠলো রিদ….

—” হেই!

মায়া উল্টে নিচে পড়ার আগেই মায়ার একহাত আঁকড়ে ধরলো বেশ কিছু বয়স্ক বানর। রিদ স্বস্তির হলো মায়াকে নিচে পড়তে না দেখে। কারণ গাছে নিচে ঝোপঝাড়ে ঘিরা, যদি তার বউ সেখাটায় পড়ে তাহলে নিশ্চিত হাতে পায়ে প্রচন্ড ব্যথা পাবে। রিদ দ্রুত হাতের ইশারা করে সবাইকে বুঝালো ‘ গাছের ডাল হতে আলো নামিয়ে নিতে’ রিদের কথা অনুযায়ী সবাই গাছের ডাল হতে আলো নামিয়ে মাটির উপর ফেললো সেই আলো। কিন্তু তারপরও স্পষ্ট বুঝা গেল গাছের ডালের পরিবেশটা। রিদ পুনরায় চোখ আওড়ায় ঝুলন্ত মায়ার দিকে। চোখে পড়লো মায়ার বিধস্ত দুর্বল চেহারাটা। এবং মায়ার গায়ে রিদের মোটা জ্যাকেটটি জড়ানো থাকায় মায়ার দেহটা সুরক্ষিত থাকলো। কিন্তু সাদা কলেজ ড্রেসটিতে জায়গায় জায়গায় মাটি, কাদা ছিটকানো। রিদ বুঝতে পারলো বানরের দলটি মায়াকে উঠিয়ে আনার সময় টানা হেঁচড়া এমনটা হয়েছে মায়ার সাথে। কিন্তু তৎক্ষনাৎ রিদের বুক কেঁপে উঠলো মায়াকে দুর্বল অবস্থায় গোঙারাতে দেখে। রিদ কৌশল খোঁজলো মায়াকে বাঁচানোর জন্য চোখ আওড়িয়ে চারপাশে পযবেক্ষণ করে। কারণ হৈ হুল্লোড় বা উত্তেজিত হয়ে কোনো কিছু করলে হিতের বিপরীত গিয়ে তার মায়ায় কষ্ট পাবে এই বানর দলটির হাতে। কারণ চারপাশ থেকে কমপক্ষে হলেও চল্লিশ থেকে পঞ্চাশটা বানর ঝুলে-বসে আছে মায়াকে ঘিরে। এতো সহজে তার বউকে ছাড়বে না সেটা বানরের উত্তেজিত ভঙ্গি দেখেই বুঝে নিল রিদ। কিন্তু ততক্ষণে তুমুল ক্যাচম্যাচ শব্দ করে বানরের ছোট ছোট বাচ্চা ছানা গুলো লাফিয়ে লাফিয়ে মায়ার গায়ে, গলায় জড়িয়ে পড়ছিল, ঝুলন্ত মায়াকে নিজেদের কাছ থেকে যেতে দিবে না বলে। আর সেই দৃশ্য দেখে রিদ রাগে বিরক্তিতে কপাল কুঁচকায়। তার বউকে নিয়ে সবাই-ই টানাটানি করে! এতদিন মানুষ করতো আর এখন বনের পশুরাও সেই দলে শামিল হলো। উফ! বিয়েটা করেও শান্তি নাই তার। বাসর ঘরে তার বউ, তার সাথে এই রাত কাটাবে, তা না করে বনে জঙ্গলে বানরের সাথে জড়িয়ে ঘুমিয়ে তার বাসর রাত পার করছে, তার বেয়াদব বউ। রিদ মায়ার প্রতি বিরক্তি বোধ করলো। কিন্তু মায়া চোখ আওড়িয়ে দেখলো না রিদের বিরক্তি ভাবটা। কারণ মায়া নিজের দুর্বল নিস্তিয়ে যাওয়া শরীরে বারবার গোঙারাচ্ছিল পানি পানি বলে। মায়া হুঁশে ছিল তখনো। কিন্তু নিজের দুর্বলতায় আর বানরের প্রথম থেকেই টানা হেঁচড়ায় কারণে অনেকটায় নিস্তিয়ে পড়ে মায়ার শরীরময়। যারফলে মায়ার শরীরে অবশিষ্ট রা টুকু নেই জোর করার।

মায়া গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃদু নড়েচড়ে উঠে অদৌ অদৌ চোখ টেনে মেলে তাকানোর চেষ্টা করে নিচের দিকে। ঝাপসা চোখে দেখলো রিদকে নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে মায়া। মূহুর্তে যেন মায়ার ক্লান্তি মাখা ঠোঁটে একচিত্তে হাসি ফুটলো রিদকে সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। চোখ টেনে জোর করে তাকালো রিদের দিকে মায়া। অদৌ অদৌ কন্ঠে বললো…

—” আপনি এসেছেন??
মূহুর্তেই মায়া ছটফট করলো রিদের কাছে যাওয়া জন্য কিন্তু ছাড়া পেল না বানরের শক্ত থাবা থেকে। তাই রিদকে দেখে তৎক্ষনাৎ আবারও মুখ ফুটে গোঙরালো শব্দ করে কাতর বাণীতে। ছটফট করতে করতে বললো….

—” অ অ অ আমাকে নিয়ে যান আপনার কাছে। আমার ভয় করছে ভিষণ। আমি আপনার কাছে যাব।

মায়ার ভায়ার্ত বাণীর কথা গুলো কর্ণধার হলো রিদের। এতে যেন রিদ আরও একগুঁয়েমি দেখালো। বেঁকে বসলো সে মায়াকে সাথে করে নিবে না। একদমই না। যে বউ স্বামী কথা শুনে না, অবাধ্য হয়ে সাপের বিষ খায়, সেই বউকে তো সে কখনোই সাথে করে নিবে না। বরং অবাধ্য বউকে এই ভাবেই গাছে ঝুলিয়ে রাখার দরকার। বানর দলটি ঠিক কাজই করেছে তার বউয়ের সাথে। তার এই বেয়াদব বউয়ের এখানেই থাকা উচিত বানরের সাথে বংশবেধেঁ। তাহলেই বুঝবে স্বামী অবাধ্য হলে কি হয়! রিদ একগুঁয়েমি করে বললো মায়াকে…

—” নিব না আমি তোমাকে আমার সাথে। ঝুলে যাকো তুমি ঐ গাছের ডালেই। আমার এমন বেয়াদব বউয়ের দরকার নেই। আমি এক্ষুনি চলে যাব এখান থেকে।

পুনরায় ভয়ার্ত কন্ঠে চিৎকার করে উঠলো মায়া। ছটফট করে রিদকে উদ্দেশ্য করে বলে…

—” অ্যাহ এএ আমাকে নিয়ে যান। আমার ভয় করছে তো। প্লিজ প্লিজ! আমি আর অবাধ্য হবো না আপনার! সত্যি বলছি। আমাকে ফেলে যাবেন না প্লিজ প্লিজ।

রিদ অভিমানী কন্ঠে বললো…
—” পারবো না আমি।
—” প্লিজ! প্লিজ!

পাশ থেকে একঝাঁক বিষন্নতা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো রিদ মায়ার মান অভিমানের হিসাব-নিকাশের দিকে। উপস্থিত বাকি সদস্যরা বুঝতে পারলো না তাদের মূলত কাহিনিটা কি? এতক্ষণ যাবত যে রিদ খান বিরতিহীন ভাবে তাদেকে নাকে দড়ি দিয়ে এই গহীন অন্ধকার জঙ্গলে দৌড়ে উপর রাখলো এই মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য। অবশেষে এখন সেই মেয়েটিকেই সুস্থ অক্ষত অবস্থায় পেয়েও বলছে সে সাথে করে নিবে না মেয়েটিকে। বরং রেখে যাবে তাকে বানরের দলের সাথে। অথচ মেয়েটিকে না বাচিয়ে উল্টো রাগ দেখাচ্ছে তার সাথে। আসলে কি রাগ দেখাচ্ছে নাকি মান অভিমানের পাল্লা হালকা করছে রিদ খান নিজের বউয়ের সাথে? বুঝলো না উপস্থিত কেউই এই বিষয়টি। কিন্তু ততক্ষণে তাদের সবার ধ্যান ভাঙ্গে বিকট গুলির শব্দের। রিদ মায়ার সাথে কথা বলার মধ্যে দিয়েই হঠাৎ করে কৌশলে পরপর দুবার একিই জায়গায় শুট করে মায়ার ঝুলন্ত হাতের দিকে। যার ফলে আকস্মিক ঘটনায় গুলির বিকট শব্দে বয়স্ক বানর গুলো আতঙ্কিত হয়ে ছেড়ে দিল মায়ার হাতটি। রিদ মায়াকে দৌড়ে যেয়ে ধরতে ধরতে মায়া ছিটকে পরলো রিদের গায়ে। এতে করে রিদ নিজের তাল সামলাতে না পেরে দু’জন লুটিয়ে পড়লো মাটির উপর। কিন্তু মায়া আহত না হলেও রিদ পিঠে ব্যথা পেল খানিকটা। কিন্তু টু শব্দও করলো না।গম্ভীর থাকলো। উত্তেজনায় মায়া তৎক্ষনাৎ জ্ঞান হারালো রিদের বুকের উপর। রিদ ছাড়লো না মায়াকে। বরং নিজের কম্পিত হৃদপিন্ড শীতল করতে মায়াকে আরও চেপে ধরে রাখলো নিজের বুকের মধ্যে বেশ কয়েক সেকেন্ড। আজ রিদের পাষান্ড বুক কেঁপেছে তুমুল গতিতে। অবাধ্য বউকে হারানোর যন্ত্রণায় ছটফট করেছে কাতর ভাবে। একটা মূহুর্তের জন্য মনে হয়েছিল এই বুঝি সে তার অবাধ্য বউকে হারিয়ে ফেলেছে সারাজীবনের জন্য। রিদ অস্থিরতায় নিজের হাতের বাঁধন আরও শক্ত করলো। পিষ্ট করলো মায়াকে নিজের শক্ত বাহুর পিষিতে। কিন্তু তার মধ্যে দিয়ে চারপাশে গুঞ্জন শব্দে ধ্যান ভাঙ্গলো রিদের। তৎক্ষনাৎ রিদ মায়াকে নিয়ে সটান হয়ে উঠে বসলো ধীরস্থে। বানরের ক্যাচম্যাচ শব্দের মাথা তুলে এক পলক উপরে দিকে তাকিয়ে দ্রুত মায়াকে কোলে তুলে নেই সে। কারণ এই মূহুর্তে আবারও বিপদ হতে পারে তার বউকে নিয়ে। রিদের আশংকা মায়াকে নিয়ে বেশিক্ষণ এখানে থাকলে যেকোনো সময় বানরের দলটি পুনরায় হামলা করবে মায়াকে নিজেদের সাথে নিয়ে যাওয়া জন্য। তাই রিদ সবাইকে সতর্ক সংকেত দিয়ে মায়াকে নিয়ে দ্রুত বের হয়ে আসে গহীন জঙ্গল ছেড়ে।
~~
রাত ১ঃ১৩। পিটপিট করে নিজের চোখ খুললো মায়া। অপরিচিত জায়গায় নিজের অবস্থান দেখে ভয়ার্ত হবার আগেই পরিচিত মানুষটার মুখ দেখে স্বস্তির হয় মায়া। মায়া নিজেকে এম্বুলেন্সের ভিতর বেডে শুয়া অবস্থায় আবিষ্কার করলো। চোখ আওড়িয়ে আবারও তাকালো রিদের ক্লান্ত মাখা মুখটার দিকে। মায়ার বেডের পাশে সিটের মধ্যে গা এলিয়ে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে রিদ। তাঁর একটা হাত চোখের সামনে দেওয়া। মায়া রিদকে নিজের পাশে দেখে মুখ ফুটে কিছু বলতে চাইলো।

—” শুনছেন?

রিদ নিজের চোখের সামনে থেকে হাতটা সরিয়ে কপাল কুঁচকে তাকায় মায়ার দিকে। মায়ার মুখে নিজের জন্য নতুন শব্দ ‘শুনছেন’ বলাটা ঠিকঠাক বোধগম্য হলো না তার। মায়া রিদের এমন দৃষ্টি অপেক্ষা করে মিনমিন গলায় বললো…

—” পানি খাব আমি!

রিদ মায়াকে মোটেও পানি খাওয়ালো না। বরং ধুপ করে মায়াকে পাঁজর কোলে তুলে নিয়ে বের হয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর হতে। রাগে চোখে মুখে গম্ভীর্য্য ভাব টেনে মায়াকে নিয়ে উঠে বসলো হেলিকপ্টারের ভিতর রিদ। পিছনের একটা সিটে মায়াকে বসিয়ে সেও বসে পড়লো অন্যটাতে। আতঙ্কিত মায়া বুঝলো না রিদের হঠাৎ মনোভাবটা। কিন্তু ভয়ার্ত হলো প্রথমবারের মতো উড়ু হেলিকপ্টারে উঠতে দেখে। তাই তৎক্ষনাৎ মায়া ভয়ার্ত ভঙ্গিতে জড়সড় হয়ে রিদের দিকে চেপে যেতে চাইলেই মূহুর্তে উগ্র মেজাজে চেঁচাল রিদ। মায়াকে শাসিয়ে বললো…

—” কি সমস্যা? গায়ে পড়ছো কেন বারবার তুমি আমার। দূরে সরে বসো যাও।

মায়া গাল ফুলালো। কিন্তু বাঁধ্য মেয়ের ন্যায় রিদের কথা মতো দূরে সরে বসলো নিজের সিটের মধ্যে। কিন্তু তক্ষনো নিজের ভয়ার্ত ভাবটা কমলো না বাড়া ছাড়া। মায়া জড়োসড়ো হয়ে সিটের পাশের জানালা দিয়ে উঁকি মারলো রাস্তায়৷ মূহুর্তেই চোখে পড়লো চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ, আর্মি ও অন্যন্যা মানুষদের ভিড়। মায়া চমকে উঠে তৎক্ষনাৎ ঘাড় ঘুরিয়ে প্রশ্ন করলো রিদকে, আতঙ্কিত গলায় বললো…

—” আল্লাহ এতো আর্মি, পুলিশ কেন রাস্তায়?? কি হয়েছিল এখানে? আপনি কি আবারও মারামারি করেছিলেন এখানে এসে??

মায়ার কথায় বিরক্তি নিয়ে তপ্ত মেজাজে বলে উঠে রিদ…

—” হ্যা করেছি তো?

—” বলুন না প্লিজ? এতো আর্মি পুলিশ গাড়িঘোড়া মানুষজনের ভিড় কেন এখানে?

রিদ তেতে উঠে বলে…
—” আজ আমার বিয়ে ছিল বলে সেই আনন্দে বিমোহিত হয়ে রাস্তায় খারার বিতরণ করছিলাম আর্মি পুলিশ কাছে। পেয়েছ উত্তর! হ্যাপি নাও!

মায়া রিদের হঠাৎ রাগের কারণ ধরতে না পেরে গাল ফুলিয়ে বসে পড়ে চুপচাপ। কয়েক সেকেন্ড অতিবাহিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে আসলো আসিফ। মায়াকে এক পলক সুস্থ অবস্থায় দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো আসিফ। নিজের দৃষ্টি ঘুরিয়ে রিদকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে আসিফ…

—” ভাই! উপস্থিত সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে, তারা চলে যেতে। আপনি ভাবিকে নিয়ে চলে যেতেই তারাও চলে যাবে যার যার মতো করে নিজ গন্তব্যে। আর আমাদের বাকি বডিগার্ড গুলো, যারা গাড়ি করে এসেছিল তাদেরকে গাড়ি করেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকার উদ্দেশ্য কিছুক্ষণ আগেই। বাকি হেলিকপ্টার গুলোতে আমরা আসব আপনাদের পিছন পিছন। এখানে সবকাজ শেষ ভাই। তাই আপনি এখন ভাবিকে নিয়ে চলে যান ঢাকার উদ্দেশ্য।

গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর করলো রিদ…

—” ওকে ডান!
আসিফ চলে যেতেই হেলিকপ্টার পাখা ঘুরিয়ে উড়তে শুরু করলো মূহুর্তেই। রাউন্ড রাউন্ড চক্কর কাটতেই দুর্বল শরীরে উত্তেজিত হলো মায়া। কিন্তু তারপর রিদের পাশে ঘেঁষতে পারলো না ভয়ে। রিদ নিজের সিটে গা এলিয়ে বসে আছে পুনরায় চোখের সামনে হাত রেখে। মায়া আড়চোখে দেখলো রিদের শক্ত গম্ভীর মুখটা। কিন্তু তারপরও কিছু বলার সাহস পেল না সে। এই ভাবেই কিছুটা সময় মন্ত অবস্থায় পার হলো মায়ার। কিন্তু একটা সময় ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গলো মায়ারও। ভয়ে তটস্থ মায়ার এগিয়ে গেলো রিদের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে। ভয়ে জড়সড়ো মায়া রিদের হাতের নিচ নিয়ে মাথা ঢুকিয়ে নিজের জন্য জায়গায় করে নিল রিদের কোলের উপরে। রিদ মায়ার কাজে খানিকটা চমকালো। তবে নিজের রাগের বশে মায়াকে পুনরায় টেনে নিজের হতে সরিয়ে দিতে চাইলো। কিন্তু করতে পারলো না মায়ার জন্য। কারণ মায়া তৎক্ষনাৎ আঁকড়ে ধরলো রিদের শার্টের কলারের দুপাশ। গুটিগুটি হাতে মায়া রিদের বুকের শার্ট দুহাতে টেনে সরিয়ে উম্মত করলো রিদের বুক। রিদের খালি বুকের জায়গায় মাথা গজাতে গজাতে বললো…

—” আমি ভয় পাচ্ছি তো হেলিকপ্টারে চড়ে। আপনাকে জড়িয়ে ধরে থাকলে আমার ভয় করবে না। আপনি নড়াচড়া করবেন না প্লিজ। নাহলে আমি পড়ে যাব তো
হেলিকপ্টার থেকে।

রিদ মায়াকে আর বাঁধা দিল না। তবে রিদ বিরক্তি রেশ টেনে পুনরায় আগের ন্যায় শুয়ে পড়লো চোখে সামনে নিজের হাত দিয়ে। তিরতির মেজাজে বললো…

—” সরো আমার কোল থেকে তুমি। এমন বেয়াদব বউ আমার চাই না। আজ তোমার জন্য আমি অনেক কিছুই হারতে পারতাম। ভাগ্য আমার সহায় ছিল। তাই সবকিছু হারাতে হারাতেও পুনরায় ফিরে পেলাম। আজকে তুমি আমার অবাধ্য হয়ে বিষ পান করেছো! এতে আমি কখনোই ক্ষমা করবো না তোমাকে রিত। বিষ পান করার মাত্রাটা অন্তত কম ছিল বলে এই যাত্রায় তুমি বেচে গেছো। নয়তো অনেক কিছুই হতে পারতো আজ। পাওয়া না পাওয়া বিষাদময় যন্ত্রণায় ছটফট করতো কেউ। যার একমাত্র কারণ হতে তুমি। আর তার জন্যই আমি কখনো তোমাকে ক্ষমা করবো না। তুমি আমার কাছে অপরাধীনি হয়ে থাকবে সারাজীবন রিত।

মায়া রিদের কথা গুলো মনোযোগ সহকারে শুনলো। গুটি হাতে আরও ল্যাপ্টে গেলো রিদের বুকের সাথে মায়া। কিন্তু মায়ার গায়ে রিদের জ্যাকেটটি তক্ষুনো পরিহিত থাকায় বেশ একটা সুবিধা করতে পারলো না মায়া। তাই নিজের দুহাত রিদের বগলের নিচ দিয়ে গুলিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো রিদকে নিজের সাথে সে। রিদের উম্মত বুকের বামপাশে নিজের মাথা ঠেকিয়ে ধীর কন্ঠে রিদকে উদ্দেশ্য করে বললো….

—” স্বামী বাধ্য বউ হতে গিয়ে আজ আমিও অনেক কিছু হারাতে পারতাম মিস্টার ভিলেন! তখন আমার হারানোর দায় ফরাদিটা কে নিতো? আমার পাওয়া না পাওয়া গল্পটা অসম্পূর্ণ থেকে যেত মিস্টার ভিলেন! তার ছেড়ে বরং আমি নাহয় অপরাধীনি হয়ে রইলাম আপনার সারাজীবন।

রিদ বিরক্তি নিয়ে অভিমানের ভরাট কন্ঠের বললো…

—” আমার এমন আবেগি বউও চাই না। পছন্দ না মোটেও

(আজকে পার্টের কাহিনিটা গোছাতে আমার বিগত দুই দিন লেগেছে। অল্প অল্প লিখে থামতে হতো আমাকে। কারণ মাথার মধ্যে কাহিনিটা গুলিয়ে ফেলছিলাম তাই।
কাল গল্পের নেক্সট পার্ট ছোট করে হলেও দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। ধন্যবাদ সবাইকে)

চলিত….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply